নরমান মেইলার একজন নেশা-ধরানো, মজার মানুষ। ইস্পাতের ফাঁদের মত মন তাঁর।

ওয়াল্ট হুইটম্যান আমার বন্ধু অ্যাবে রাটনার আর আমি যখন আমাদের আমেরিকাব্যাপী এয়ারকন্ডিশন্ড নাইটমেয়ার যাত্রা শুরু করি তখন আমরা ছিলাম লং আইল্যান্ড-এ, ওয়াল্ট হুইটম্যান যে খামারে জন্মেছিলেন সেটা থেকে খুব একটা দূরে নয়। আমরা ঠিক করি যাত্রা শুরু করার আগে তাঁর জন্মস্থানের পাশ দিয়ে গিয়ে আমাদের শ্রদ্ধা জানাবো। কথামত তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা গাড়ির গতি কমিয়ে মাথার টুপি খুলে নিই, তারপর দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে, মৃদু হেসে আমাদের অভিযান শুরু করি। আমার আমেরিকা পুনরাবিষ্কারযাত্রাটি এভাবে শুরু করাটাকেই সবচেয়ে সমীচীন বলে মনে হয়েছিল, এটা শুধু ওয়াল্ট হুইটম্যান হাড়েমজ্জায় একজন খাঁটি আমেরিকান ছিলেন বলেই নয়, গণতন্ত্রের প্রথম ও শেষ প্রতিভূ, একজন জনগণনন্দিত প্রকৃত জনগণের মানুষ, জনগণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ মানুষ ছিলেন বলেও। আমি হুইটম্যানকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম লেখক বলে মনে করি, এমনকি ইউরোপের যে-কোন শ্রেষ্ঠতমর চেয়েও শ্রেষ্ঠ । লীভ্স্ অভ গ্রাস একটি সত্যিকারের মাস্টারপীস, আত্মার সংগীতবিশেষ। তাঁর কবিতা সং অভ মাইসেল্ফ-এ স্বাধীনতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। এই মানুষটির তাঁর নিজের ও নিজের লেখার ওপর এতটাই বিশ্বাস ও আস্থা ছিল যে তিনি গেরস্থালি সামগ্রীর ফেরিঅলার মত দরজায় দরজায় ঘুরে তাঁর কবিতা ফেরি করতেন। আমি যখন প্রথম লেখা শুরু করি তখন তাঁর সাহসই ছিল আমার আত্মপ্রকাশের প্রেরণার উৎস। তিনি তাঁর জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছিলেন যে অনাহার ও জীবনসংগ্রামও গৌরবময় হয়ে উঠতে পারে যদি আপনি এর কাছে পরাজিত না হন। হুইটম্যানকে প্রায়শই সমকামী বলা হয়ে থাকে কিন্তু পুরুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল স্রেফ ভ্রাতৃসুলভ, তা কখনোই যৌনতাময় ছিল না। যৌনতার জগৎ থেকে তা অনেক উর্ধ্বে ছিল। তাঁর ছিল এক অদ্ভূত বিকিরণী ক্ষমতা, ভালোবাসার ও দান করার ক্ষমতা ছিল তাঁর এক কথায় সীমাহীন। তিনি ছিলেন একজন উল্লসিত মহাজাগতিক সত্তা- মানুষের কী হওয়া উচিৎ, কীভাবে চিন্তা করা ও বাঁচা উচিৎ তার সুন্দরতম দৃষ্টান্তবিশেষ। নুট হামসুন/এজরা পাউন্ড দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে নুট হামসুন ও এজরা পাউন্ড দুজনকেই উন্মাদাশ্রমে যেতে হয়েছিল তাঁদের কিছু মন্তব্যের কারণে। তাঁদেরকে হয়তবা জেলেই যেতে হতো, যদি না তাঁরা বৃদ্ধ এবং সম্মানিত লেখক হতেন। নুট হামসুন সবসময় তাঁর বইয়ে নরওয়েবাসীদের নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করতেন, ঠিক আমি যেরকম আমার বইয়ে মার্কিনিদের নিয়ে হাসি তামাশা করে থাকি। তিনি…

তাহলে অক্টোপাসের ক্ষেত্রে নিশ্চয় আরো বড় কোনো বাণিজ্য পেছনে আছে। ইউরোপে এই 'মিডিয়া কভারেজ' কী শুধু এমনি এমনি হচ্ছে![...]

সিদ্ধান্ত নিতে হবে -- খেলা দেখব না ভবিষ্যদ্বাণী শুনব। গত কয়েকদিন থেকে অক্টোপাস নিয়ে যা হচ্ছে তা বড় বেশি হচ্ছে। কোথাও এর অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে, অবশ্যই সেউদ্দেশ্য টাকা কামানোর সাথে জড়িত। ওই যে পাখির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গণনা করেন যে মুনিয়া পান সিঙ্গাপুরে, তার কয়েকটি ফুটবল ম্যাচে ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাওয়ায় যে তার আয় বেড়ে গেছে, সে সহজ হিসাবটা খুব সহজে চোখে দেখছি। তাহলে অক্টোপাসের ক্ষেত্রে নিশ্চয় আরো বড় কোনো বাণিজ্য পেছনে আছে। ইউরোপে এই 'মিডিয়া কভারেজ' কী শুধু এমনি এমনি হচ্ছে! সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে খেলা দেখার। বেশির ভাগ দর্শক খেয়ালই করেননি, কী কৌশলে বলের দখল রেখে গতিকে স্তব্ধ করে দিল স্পেন। কিন্তু তারপরও গোল পেতে তার কষ্ট হচ্ছিল, কারণ স্পেনের কোনো গোলদাতাই সে অর্থে 'ক্লিনিক্যাল' নন, এবারের স্পেনের অসাধারণ খেলোয়াড় পেদ্রো ও পিকে, ভিয়া নন। আর ওই খেলায় অপ্রতিরোধ্য গতির জার্মান এমন মুষড়ে পড়ল কেন? তারা বলের দখল নিয়ে তার গতি বাড়িয়ে দিয়ে স্পেনকে কাবু করতে পারেনি। প্রথমত এই তরুণ দলে সে অভিজ্ঞতার অভাব ছিল আর দ্বিতীয়ত এবারের জার্মান দলের সবচেয়ে অসাধারণ খেলোয়াড় মুলারের অনুপস্থিতি, -- শোয়াইনস্টাইগার, ওৎসিল ও মুলার, যেকোনো একজনকে হারালেই এই জার্মানির আক্রমণ ভোঁতা হবেই। জার্মান তরুণ দল তাদের আরো আরো আক্রমণভাগে এমন খেলোয়াড় চাই। তাহলেই স্পেনের 'অগতির গতি' আর তাদের এতো সহজে কাবু করতে পারবে না। আশা করি ফাইনালটা, আমরা একটা ফুটবল ফাইনাল হিসাবেই দেখব। ভবিষ্যদ্বাণীর খেল্ না দেখে বিশ্বকাপ ২০১০-এর শেষ খেলা হিসাবে দেখব। গতি নিয়ে, বলের দখল নিয়ে, খেলার কৌশল নিয়ে দুদল আমাদের কী দেখায় তা দেখব। সেসাথে কেউ অপকৌশলে খেলা জেতার চেষ্টা করে কিনা তাও দেখব। বিশেষ করে আমার আঙ্গুল 'রবেন'- এর দিকে তোলা থাকবেই কারণ আমি নিশ্চিত, সুযোগ পেলেই সে অপকৌশলের আশ্রয় নেবেই।

বাংলাদেশকে যদি রাজনৈতিক মুসলমানের মন শাসন করে তবে সেই হারের মধ্যে বেঁচে থাকার ঔদ্ধত্য দেখিয়ে যেতেই হবে যতদিন বেঁচে থাকবে বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতির পথের সংস্কৃতি।[...]

তার পা পেছনে। দেশ সারা পৃথিবী। অর্থনীতি, প্রতিদিনের প্রয়োজনে মুক্তবাজারের বিনিয়োগ ব্যবসা লভ্যাংশ তার খুবই পছন্দের । প্রযুক্তি, আল্লাহ ও সৎমানুষের শাসনে তার বিশ্বাস। তাকে ঘিরেই জেহাদি জঙ্গির কাছ থেকে ফিরতে চায় – ভারত, চীন, ইউরোপ, রাশিয়া ও আমেরিকা। এই চাওয়ার সাথে বাংলাদেশকে মেলানো যায় না। তুরস্ক, মালেশিয়া, সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্যের তেলওয়ালা দেশগুলো, মিশর, মরক্কো, আলজিরিয়া, মধ্য এশিয়ার দরিদ্র দেশগুলো, সুদান, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া… এরকম আরো আরো মুসলিম দেশের কোনো একটির সাথে বাংলাদেশের কোনো মিল নেই। কিন্তু কোনো মিল না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে যদি রাজনৈতিক মুসলমানের মন শাসন করে তবে সেই হারের মধ্যে বেঁচে থাকার ঔদ্ধত্য দেখিয়ে যেতেই হবে যতদিন বেঁচে থাকবে বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতির পথের সংস্কৃতি। জামাতের মধ্যে এবং আরো বড় করে দেখলে বিএনপির মধ্যে ও আরো দুঃখজনক রূপটি দেখতে হলে আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজনৈতিক মুসলমানের মনের অস্তিত্ব কড়িকোমলে প্রোথিত। আমাদের কোনো সম্ভাবনা নেই – এই রাজনৈতিক ইসলামের ‘মেইনস্ট্রিম’ আমাদের মধ্যে আছেই – সেই পথের সবকিছু আমাদের দেশে তৈরি হয়েই আছে। চারপাশের এই ‘মেইনস্ট্রিম’কে যখন দেখি, তখন সবচেয়ে করুণ যেছবি দেখি তা হল মানচিত্র ভূগোল বলে যে কিছু আছে – ইতিহাস তো বাদই দিলাম, কারণ কারো কারো মতে তাতো মৃত – তা মনেই হয় না। একেক জন আল্লাহ প্রেরিত বঙ্গসন্তান, আর এতোই বেশি তিনি এঅঞ্চলে পাঠিয়েছেন, যাদের আবার তার ইচ্ছায় কৈশোরযৌবনকালে নারীপুরুষনির্বিশেষে পাচারবাস ঘটে। কিন্তু এরাই সব ভুলে কথিত অকথিত কোরান ও সুন্নার আলোকে সর্বঘটে আল্লার শাসন কায়েম করতে চাইছে। এদের মধ্যে জেহাদি যারা তাদের এখন সরিয়ে নেয়া হয়েছে ‘মেইনস্ট্রিম’এর রাজনীতির নামে ও অর্থনৈতিক শক্তিতে এবং ইসলামিক ন্যায়ের ইউটোপিয়ায় এখন এরা ‘আশরাফুল মাকলুকাত’ বা ইসলামি ‘হোমো সেপিয়েন্স’ হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশে যদি একটি কাজ করা যায়, যদি যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা যায়, যদি সত্যিই তা সম্ভব হয়, তাহলে এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক মুসলমানের মনে একটা বড় ধরনের আঘাত আমরা হানতে পারব। সেআঘাত শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বরাজনীতিতেও তার প্রভাব ফেলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের সাথে পৃথিবীর আর কোনো মুসলমান দেশকে কেউ মেলাতে পারবে না, সেই দেশ বেতাল হয়েও যদি রাজনৈতিক মুসলমানের মনে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের…

মুক্তাঙ্গন-এ উপরোক্ত শিরোনামের নিয়মিত এই সিরিজটিতে থাকছে দেশী বিদেশী পত্রপত্রিকা, ব্লগ ও গবেষণাপত্র থেকে পাঠক সুপারিশকৃত ওয়েবলিংকের তালিকা। কী ধরণের বিষয়বস্তুর উপর লিংক সুপারিশ করা যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম, মানদণ্ড বা সময়কাল নেই। পুরো ইন্টারনেট থেকে যা কিছু গুরত্বপূর্ণ, জরুরি, মজার বা আগ্রহোদ্দীপক মনে করবেন পাঠকরা, তা-ই তাঁরা মন্তব্য আকারে উল্লেখ করতে পারেন এখানে। ধন্যবাদ।

সিমেনোঁ আমাদের সময়ের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প-বলিয়ে। আঁদ্রে জিদ তাঁকে আরেক বালজাক বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জর্জ সিমেনোঁ সিমেনোঁ আমাদের সময়ের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প-বলিয়ে। আঁদ্রে জিদ তাঁকে আরেক বালজাক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জন্মেছিলেন বেলজিয়ামে, জীবনের বড় একটা অংশ কাটিয়েছেন ফ্রান্সে, আর বিত্তশালী হবার পর একখানা প্রাসাদ ক্রয় করে চলে যান সুইৎজারল্যান্ডে। আমি যখনই তাঁর কথা ভাবি, আমার মনে ভেসে ওঠে আমারই কল্পনার ফসল একটি খুব হাস্যোদ্রেককারী ছবি। আমার সুইৎজারল্যান্ড ভ্রমণের সময় তাঁর মুখে শোনা একটা কথা থেকেই অবশ্য এর উৎপত্তি। তিনি বলেছিলেন লেখার সময় তাঁর পেচ্ছাপের বেগ এলে তিনি লেখার টেবিল ছেড়ে উঠে গাড়িতে চেপে মাইলখানেক দূরে চলে যেতেন। সেখানে রাস্তার ধারে থেমে চোখের সামনে চমৎকার কোন দৃশ্য রেখে তিনি তার প্রিয় ওক গাছটির ওপর নিজেকে ভারমুক্ত করতেন। সিমেনোঁ ছিলেন একজন প্রকৃত ভদ্রলোক, যিনি সবসময়ই পরিপাটি করে পোশাক পরে থাকতেন। আমি তাকে কল্পনা করি তিনি রোল্স্ রয়েস বা এমনি কোন দামি গাড়ি পেছনে রেখে, পিনস্ট্রাইপের থ্রিপীস স্যুট পরে, পায়ে ঝকঝকে পালিশ করো জুতো, গ্লাভস্-পরা হাতে নুনু ধরে গাছের গায়ে জল ছাড়ছেন। জানি আমি অতিশয়োক্তি করছি, কিন্তু এই ছবিটা আমি কিছুতেই মাথা থেকে বিদায় করতে পারি না। লেখক ও মানুষ হিসাবে সিমেনোঁ একজন দুর্লভ প্রাণী। এমন একজন লেখক যিনি তিনশত পৃষ্ঠার একটা আস্ত উপন্যাস লিখে ফেলতে পারেন স্রেফ দশ-বারো দিনে। তিনি একটা জায়গা সম্পর্কে গভীরভাবে গবেষণা করেন। তিনি সে বিষয়ে বই, পত্রপত্রিকা, টেলিফোন ডিরেক্টরি, খবরের কাগজ কিনে পড়েন, সে অঞ্চলের বিশেষ বাকভঙ্গিগুলো রপ্ত করা থেকে শুরু করে সব বিষয়েই খোঁজখবর নেন। তিনি একটা জায়গার এমন খুঁটিনাটি বর্ণনা দেন যে আপনি নিশ্চিত হবেন যে তিনি সেখানে যুগযুগ ধরে বাস করেছেন। তিনি এমন জাতের লেখক যে তাঁর লেখা না পড়ে থাকতে চাইবেন না আপনি। যুবা বয়স খেকেই তিনি লেখার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি খুব কুখ্যাত একটা জায়গায় ঘর ভাড়া নেন যেখানে একদা ভিক্টর য়ুগো থাকতেন। সে-বাড়ির ভাড়া দেবার পয়সা ছিল না, তাঁর ব্যাংক একাউন্ট সবসময় থাকতো বিয়োগাত্মক, কিন্তু কী এক অদ্ভুত কারণে তাঁর যখনই টাকা লাগতো সেটা তখন তাঁর অ্যাকাউন্টে ঠিকই জমা থাকতো। একদিন তিনি ব্যাংক কেরানিকে জিজ্ঞাসা করেন "আচ্ছা বলেন তো, আমি জানি আমি সবসময়ই ব্যাংকের কাছে টাকা ধারি, কিন্তু প্রয়োজনে সবসময়ই আমার অ্যাকাউন্টে টাকা থাকে।…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.