বাংলাদেশে সদ্য জনপরিসরে উন্মোচিত “বাংলাদেশ সনদ” আন্দোলনের অঙ্গীকারনামায় “সমাজতন্ত্র” শব্দটির অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এতদিন বিতর্ক জারী ছিল, এখন আচমকা বিজ্ঞ জনসমাজ সমাজতন্ত্র বিষয়ে উদ্যোক্তাদের নিয়ত কি সে প্রশ্ন করছেন । কেউ এটিকে আকস্মিক বিয়োজন ধরে নিয়েছেন। কেউ আবার এটির অনুল্লেখ আদর্শিক বিচ্যুতি বলেও মনে করছেন। যা স্বাভাবিক। কিন্তু এই অনুল্লেখ একটি বড়ো কাজ করে ফেলেছে। আচমকা জনপরিসরে চলমান মুমূর্ষু গণতন্ত্রকে নিয়ে ভাবছে না, তার চেয়ে বেশি ”সমাজতন্ত্র” ধারণাটি নিয়ে মানুষ নাড়াচাড়া শুরু করেছে। https://www.bangladeshcharter.org/our-journey/ এ প্রসঙ্গে বাংলার গত শতাব্দীর ইতিহাস নিয়েও একটু নাড়াচাড়া করা যাক। কি বলেন? ইতিহাস কি জানায় আমাদের? ইতিহাসের তথ্য উপাত্ত জানায় যে—সমাজতন্ত্র এই বাংলায় হঠাৎ নাজেল হওয়া কোনো চেতনা নয়। এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, শ্রেণীগত বাস্তবতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা এক চেতনা, যা বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম একটি মূলনীতি। ভুললে চলবে না যে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যূদয়ের অন্যতম কারণ।১৯৬০-এর দশকের পূর্ব-পাকিস্তান ছিল গভীরভাবে অসাম্য চর্চার এক রাষ্ট্র। সে রাষ্ট্রের সমাজ ছিল আশরাফ-আতরাফ, উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণ, এ জাতীয় নানা স্তরে বিভক্ত। এর মধ্যে

জনসাধারণের বিপুল অংশ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন কৃষিসমাজের জনগণ। আশরাফ মুসলমান চালিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় মদদে গভীর থেকে গভীরতর করে তোলা অসাম্যের ছোবলে সমাজ ক্ষত-বিক্ষত ছিল। একদিকে পাকিস্তানের পশ্চিম অংশকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও পুঁজি সঞ্চিত হচ্ছিল। পুঁজি আসতো পূর্বাঞ্চল থেকে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চল, অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব-বাংলার কৃষক, শ্রমিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর কাঠামোগত বঞ্চনা ক্রমে তীব্র হয়ে উঠছিল। পাট, কৃষি ও শ্রমশক্তি থেকে উৎপন্ন সম্পদ চলে যেত কেন্দ্রের ( পশ্চিমাঞ্চলের) দিকে। কিন্তু বিনিয়োগ ও উন্নয়ন আসতো না পূর্ব-বাংলায়। এই বাস্তবতায় “শ্রেণী” কোনো তাত্ত্বিক শব্দ ছিল না—এটি ছিল বাংলার জনগণের প্রাত্যহিক জীবনের অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি এই প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের হাল ধরে ছিলেন যে নেতৃত্ব, তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলায় যিনি স্বদেশের জনগণের ”বঙ্গবন্ধু” ডাকের ভেতর দিয়ে বিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তার দলীয় ৬ দফা কেবলমাত্র সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল না। এর ভেতরে ছিল অর্থনৈতিক ক্ষমতার পুনর্বণ্টনের দাবি। রাজস্ব, মুদ্রানীতি, বাণিজ্য—সবকিছুর ওপর আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন। অর্থাৎ, এক ধরণের অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা তিনি ভেবেছেন, যা সরাসরি…

ঐতিহাসিক মে দিবসের আলোচনায় অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস শ্রমিকদের নিয়ে নানা গালভরা গল্প শুনিয়েছে। কিন্তু গত আট মাসে তার অসাংবিধানিক শাসনামলেই কল-কারখানা বন্ধ হওয়ায় লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়েছেন, বেতন-ভাতার দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় গুলিতে নিহত হয়েছেন। শ্রমিক আন্দোলন দমনের জন্য শ্রমিক নেতাদের আইন-বহির্ভূতভাবে আটক করা হয়েছে। বোনাস তো দূরের কথা, ঈদের আগে ন্যায্য বেতনটুকুও পাননি হাজার হাজার শ্রমিক। আর ইউনূস মে দিবসের গান শুনিয়ে তার তল্পিবাহক বুদ্ধিজীবীদের শেখাচ্ছে, কীভাবে প্রভুর দালালি করে যেতে হয়।

লেখাটি যখন লিখছি, তখনও ক্যালেন্ডারের পাতায় এপ্রিল মাসের শেষ দিনের শেষপ্রহর—পহেলা মে এখনও আসেনি। কিন্তু ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের কর্পোরেট গণমাধ্যমগুলোতে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের নানা বক্তব্য-বিজ্ঞাপন-কর্মসূচীর হৈ-হুল্লুড় চলছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ঝুলানো হয়েছে মহান মে দিবসের গরম গরম ব্যানার। ওয়েবসাইটে ঢুকলেই অবৈধ ইউনূস সরকারের আমলে শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশের মতো ব্যানারটি ঝুলে থাকে। তার পাশেই কানছোঁয়া হাসির ঠ্যালায় চোখ বুজে যাওয়া প্রধান উপদেষ্টা—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছবি; তার নিচেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের বেশ একটা সিনেম্যাটিক ক্লোজ পোর্ট্রেট। নিচে স্ক্রল যাচ্ছে—“শ্রমিক মালিক এক হয়ে, গড়বো এদেশ নতুন করে।”1 এরই মধ্যে টানা তিনদিনের ছুটির আমেজে মো মো করছে আমাদের নাগরিক সমাজের ভদ্রলোকের ড্রয়িংরুম—কেউ কেউ হয়তো বেশ জমানো একটি ট্যুর প্ল্যানও সেরে নিয়েছেন ক্যালেন্ডার দেখে। ফেসবুকে কয়েকটি ট্র্যাভেল গ্রুপের পেইজ ঘুরে দেখলাম—তিনদিনের ছুটিতে “মে দিবসের আকর্ষণীয় অফারে” কক্সবাজার, সিলেট কিংবা হাওড়ে বেড়ানোর বেশ তুলতুলে প্যাকেজ আইটেনারি ঘুরছে। আর এই ছুটির ছন্দে রাজনৈতিক ঘষাঘষিতে উৎসাহী হয়ে উঠেছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো—খবরে প্রকাশ, রাজধানীতে পর পর তিনদিনে ৪ দলের সমাবেশ2। ভাগ্যিস

১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে নির্বিচারে শ্রমিক হত্যা হয়েছিল, নাহলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এমন Heyday কোথায় পেত? বোঝাই যাচ্ছে, বেশ একটা উদযাপন ভাব নিয়ে ইউনূস সরকার এবারের মে দিবস পালনে বদ্ধপরিকর হয়েছে। বিয়ের পর প্রথমবার বেড়াতে যাওয়ার মতো ইউনূস সরকারের প্রথমবার মে দিবস উদযাপন। নিশ্চয়ই আগামীকাল সংবাদপত্রে প্রধান উপদেষ্টার বেশ কিছু সরকারি বাণী প্রচারিত হবে। সরকারি আয়োজনে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা বিষয়ক বেশ কিছু দরকারি কথা বলবে আমাদের নোবেলবাবু। আমাদের নাতিশীতোষ্ণ মিডিয়া সেগুলো প্রচার করবে অক্ষরে অক্ষরে—একেবারে মেপে: একটু বেশিও নয়, একটু কমও নয়—কম-বেশি হলেই কিন্তু সাংবাদিকের চাকরি যাবে3। এসব ঝা চকচকে ঘটনাবলীর মধ্যে অবশ্য জানা যাবে না, গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান থাকাকালীন ড. ইউনূস যে শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ দেয়নি—তার কী হলো; জানা যাবে না, ১০১ জন শ্রমিকের যে চাকুরি স্থায়ী করা হয়নি4—তাঁরা এখন কেমন আছেন? অবশ্য সেই মামলা এখন আর নেই—ক্ষমতা গ্রহণের আগের দিন (৭ আগস্ট ২০২৪) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ড বাতিল করে5 সাফসুতরো সাজার মেকাপ নিয়েই মসনদে বসেছে…

বইটির সম্পদ হল ত্রয়োদশ অধ্যায় Engagement with the National Struggle থেকে সপ্তদশ অধ্যায় Fulfilment: The Liberation of Bangladesh যেখানে আইয়ুব যুগের অবসান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম ইংরেজি নববর্ষ যাপন পর্যন্ত এক বুদ্ধিজীবী মুক্তিযোদ্ধা রেহমান সোবহানের কথা সবিস্তারে বলা হয়েছে [...]

পুরনো বইপ্রস্থ বইপ্রস্থ ২৫ আগস্ট ২০০৯ বইপ্রস্থ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ বইপ্রস্থ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১০ বইপ্রস্থ ২৬ জুন ২০১২ বইপ্রস্থ ২৩ এপ্রিল ২০১৩ বইপ্রস্থ ১৮ নভেম্বর ২০১৩ বইপ্রস্থ ১১ মে ২০১৪ বইপ্রস্থ ৫ নভেম্বর ২০১৫ বইপ্রস্থ ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ বইপ্রস্থ ১২ মার্চ ২০১৬ বইপ্রস্থ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ স্বাধীনতা অর্জনের স্মৃতি UNTRANQUIL RECOLLECTIONS, The Years of Fulfilment ।। Rehman Sobhan ।। প্রকাশক : SAGE India ।। মূল্য : ভারতীয় টাকা ৮৯৫ (হার্ডকভার) ও ৪৫০ (পেপারব্যাক) চৈতন্য ও বঙ্গভঙ্গ বিষয়ে পড়তে থাকা বেশ কয়েকটি বই ফেলে রেখেই গত বছরের একটা তাজা ইংরেজি বই নিয়ে পড়তে বসে গেলাম, বইটি পড়া শেষ করতে পারব কিনা জানা ছিল না, কারণ আজকাল অনেক বই পড়তে শুরু করে আর শেষ করা হয় না, এবং তুলনামূলকভাবে এটা ইংরেজি বইয়ের সাথেই বেশি হয়, ফলে বইটি শেষ করার আগ পর্যন্ত একটা অস্বস্তি ছিল কারণ বইটি পড়তে শুরু করার পরপরই মনে হয়েছিল বইটি নিয়ে একটা 'বইপ্রস্থ' লিখব এবং যদিও এটা সম্ভব বইটি পুরো না পড়েও কিছু একটা লেখা তারপরও যেহেতু এখনো পর্যন্ত কোনো বই পুরো না পড়ে একটাও 'বইপ্রস্থ' লিখিনি তাই বইটি পড়ে শেষ করতে পেরে আমি 'বইপ্রস্থ' লিখতে বসে গেছি, যদিও আমার ডান হাতটি সাম্প্রতিক এক দুর্বৃত্তায়নের শিকার হয়ে এখনো লেখার উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি। রেহমান সোবহান সবদিক থেকেই একজন অভিজাত ব্যক্তি, তার শিক্ষার পরিসরটা ভারত পাকিস্তান ইংল্যান্ড জুড়ে যেখাতে বয়েছে সেটাও তার পরবর্তী জীবনের একটা ছক তার আয়ত্তাধীন করেছে, এবং বইটি পড়তে পড়তে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করা নেই এরকম একজন মানুষের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক গুরুত্বে অভিষিক্ত হওয়াকে আমার খুব চমকপ্রদ কাহিনি মনে হয়েছে, সেসাথে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের প্রেক্ষাপট মিলে এই চমকপ্রদ কাহিনিকে অসাধারণের পর্যায়ে নিয়ে গেছে, এবং তার জীবনের তাৎপর্য ওই অর্থে আরো বেড়ে গেছে যখন পাঠক শুরুতেই জেনেছেন তিনি একজন উর্দুভাষী আর বাংলাদেশের সন্তান নন তিনি ১৯৫৭ সালে ঢাকায় অধিবাস শুরু করেছিলেন। যেকারণে রেহমান সোবহান সবচেয়ে পরিচিত 'দুই অর্থনীতি' ও '৬ দফা' এদুটি প্রসঙ্গে সাধারণ জ্ঞান অর্জনের জন্যও এই বইটিই আমি পড়তে বলব, অনেকে অবশ্যই এদুটি বিষয়ে তার প্রবন্ধ ও সাংবাদিক রচনা পড়বেন কিন্তু আমি নিজে সেসবের চেয়ে তার এই আত্মস্মৃতি…

বাংলাদেশে বইয়ের দোকান ও বইয়ের প্রকাশক আছে। সংখ্যায় কম বা মানে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে কিন্তু বইয়ের দোকান ও বইয়ের প্রকাশনা এখানে মোটেই অপরিচিত বা বিলুপ্ত কোনো উদ্যোগ নয়। বাংলাদেশে বইয়ের পরিবেশনা একটা ভাল ব্যবসাই ছিল কিন্তু এব্যবসাটা কেন বিলুপ্ত উদ্যোগের তালিকায় চলে গেল আমার জানা নেই [...]

বাংলাদেশে বইয়ের দোকান ও বইয়ের প্রকাশক আছে। সংখ্যায় কম বা মানে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে কিন্তু বইয়ের দোকান ও বইয়ের প্রকাশনা এখানে মোটেই অপরিচিত বা বিলুপ্ত কোনো উদ্যোগ নয়। বাংলাদেশে বইয়ের পরিবেশনা একটা ভাল ব্যবসাই ছিল কিন্তু এব্যবসাটা কেন বিলুপ্ত উদ্যোগের তালিকায় চলে গেল আমার জানা নেই – যদিও আমার মতে বইয়ের পরিবেশনা ব্যবসা ছাড়া বইয়ের প্রকাশনা ব্যবসা ও বইয়ের দোকানের ব্যবসা ঠিকমতো চলার কথা নয়, এবং বইয়ের বাজারের দিকে ভাল করে তাকালে আমরা দেখতে পাব তা ঠিকঠাক চলছেও না। বই প্রকাশনার ব্যবসায়ী যদি হয় পণ্যের উৎপাদক এবং বইয়ের দোকানের ব্যবসায়ী যদি হয় উৎপাদিত পণ্যের বিক্রেতা তাহলে উৎপাদিত পণ্য উৎপাদকের কাছ থেকে বিত্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়ার সরবরাহকারী হল বইয়ের পরিবেশনার ব্যবসায়ী। এখন এই সরবরাহকারী যখন বিলুপ্তের পথে চলে গেছে ফলে বইয়ের সরবরাহের ব্যবসার যে সক্ষমতার জায়গা ছিল তাও অবলুপ্ত হয়েছে, অর্থাৎ উৎপাদিত বই বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করার দক্ষতার শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম, ধরুন, খুব চলে এরকম ভোগ্যপণ্যের সরবরাহকারীরা বিলুপ্ত হয়ে গেলে কিন্তু খুব চলে এরকম ভোগ্যপণ্যের উৎপাদক ও বিক্রেতা রয়ে গেল, আমি নিশ্চিত, আপনি সাবান টুথপেস্ট আর নিয়মিত ব্যবহার না করে কিভাবে চলা যায় সেই উপায়ই খুঁজবেন কারণ উৎপাদক ও বিক্রেতার মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করার কাজে নিয়োজিত পরিবেশকের অনুপস্থিতিতে পণ্য সরবরাহের সক্ষমতার যে ঘাটতি তৈরি হবে তাতে আপনি হাতের কাছে সাবান টুথপেস্টের যে বহর দেখতে পেতেন তা আর দেখতে পাবেন না। এখন এই বই পরিবেশকের বিলুপ্তিতে তাই ঘটেছে আর এখন এই বই পরিবেশক গোষ্ঠীকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে না পারলে বইয়ের বাজারে ওই সামান্য সংখ্যক বই ছাপিয়ে তা বিক্রির ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার এই চক্র থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। এবং এর ফলে বই লিখে জীবিকা উপার্জনের সম্ভাবনা কোনোদিনই বাস্তবতার মুখ দেখবে না। কাজেই বইয়ের বাজারকে যদি সত্যিই জাতীয় উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে হয় তাহলে বই পরিবেশনার বিলুপ্ত ব্যবসাকে আবার চালু করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু আমি এখন বই সম্পাদকের কথা যদি বলতে চাই, আমি বলব বাংলাদেশে এটা সম্পূর্ণভাবে অপরিচিত একটা পেশা। বই সম্পাদক কী করে? এটা বলার চেয়ে যদি আপনি এটা ভাবেন, একজন পত্রিকা সম্পাদক কী করে? তাহলে সম্ভবত পুরো…

এক দুরারোগ্য অভ্যাসবশত কোনো কিছু না বুঝেও ধুপধাপ কোনো কোনো বই পড়ে ফেলতে পারি, তেমনি হাতে পাওয়ার ৬/৭ দিনের মধ্যেই পড়ে ফেললাম কৌশিক বসুর সাম্প্রতিক বই অ্যান ইকোনোমিস্ট ইন দ্য রিয়েল ওয়ার্ল্ড : দ্য আর্ট অফ পলিসিম্যাকিং ইন ইন্ডিয়া।[..]

পুরনো বইপ্রস্থ বইপ্রস্থ ২৫ আগস্ট ২০০৯ বইপ্রস্থ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ বইপ্রস্থ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১০ বইপ্রস্থ ২৬ জুন ২০১২ বইপ্রস্থ ২৩ এপ্রিল ২০১৩ বইপ্রস্থ ১৮ নভেম্বর ২০১৩ বইপ্রস্থ ১১ মে ২০১৪ বইপ্রস্থ ৫ নভেম্বর ২০১৫ বইপ্রস্থ ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ অর্থনীতিরব্যর্থনীতিঅব্যর্থনীতিসমাজনীতিরাজনীতিসংস্কৃতি An Economist in the Real World : The Art of Policymaking in India ।। Kaushik Basu ।। প্রকাশক : Penguin Viking ।। মূল্য : 599 ভারতীয় টাকা এক দুরারোগ্য অভ্যাসবশত কোনো কিছু না বুঝেও ধুপধাপ কোনো কোনো বই পড়ে ফেলতে পারি, তেমনি হাতে পাওয়ার ৬/৭ দিনের মধ্যেই পড়ে ফেললাম কৌশিক বসুর সাম্প্রতিক বই অ্যান ইকোনোমিস্ট ইন দ্য রিয়েল ওয়ার্ল্ড : দ্য আর্ট অফ পলিসিম্যাকিং ইন ইন্ডিয়া। কৌশিক বসু মনমোহন সিংয়ের দ্বিতীয় টার্মে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন প্রায় তিন বছরের মতো সময়কাল জুড়ে, আমার সাথেও সেসময়েই পরিচয় কৌশিক বসুর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত তার এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের সুবাদে, সে সাক্ষাৎকারের মূল বিষয় ছিল ভারতের ক্রমবর্ধমান ভ্রষ্টাচার যাকে আমরা অতিপ্রচলিত ‘ভুল’ দুর্নীতি শব্দ দিয়ে corruption এর বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করছি, সেসাক্ষাৎকারেই তার এই প্রস্তাব আমার ভাল লেগেছিল যে ‘অপমানমূলক ঘুষ (harassment bribery)’ দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে ঘুষ দাতাকে আইন করে নির্দোষ ঘোষণা করে ভারতের বিকট দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটা জরুরি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে যেখানে ভারতীয় প্রচলিত আইনে দাতা ও গ্রহীতা দুজনেই অপরাধী, এই বইয়েও অষ্টম পরিচ্ছেদে এনিয়ে বিশদ আলোচনা আছে, আমার মতে আমাদের সবারই এপরিচ্ছেদটি পড়ে দেখা উচিত, বাংলাদেশেও আমার মতে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কৌশিক বসুর এই প্রস্তাবটি ভেবে দেখা উচিত। Let me present the gist of this idea. In India ordinary citizens and, at times, even large corporations are asked to pay a bribe for something to which they have legal entitlement. I had called these ''harassment bribes.'' Say a woman has filed her tax return properly and it turns out that the Income Tax Department owes her some money. It is not uncommon for a critical employee of the department to ask for some money before he releases the reimbursement. To give another example: a person has imported…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.