১৬৯৫ সালের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ। লোহিত সাগরের এক আগ্নেয় দ্বীপে মরুভূমির গরমে/ তপ্ত লু হাওয়া বইছে। সেই দ্বীপের খাঁড়িতে ছিপ ফেলে স্থির বসে আছে অদ্ভুত এক শিকারী। লোহিত সাগরের দক্ষিণ অংশটা যেখানে আরব সাগরের সাথে মিশেছে ঠিক সেই প্রণালীতে ইয়েমেন আর জিবুতির উপকূল মুখোমুখি দাঁড়ানো। প্রণালীটির নাম বাবেল মান্দেব। ওই প্রণালীর ইয়েমেনের প্রান্ত থেকে দুই পা বাড়ালে পেরিম(Perim) নামক কাঁকড়া চেহারার খটখটে একটি আগ্নেয় দ্বীপ আছে। সেই দ্বীপের এক খাঁড়িতে ওঁত পেতে বসে থাকা শিকারীর নাম 'ফেন্সি'(Fency)।

১৬৯৫ সালের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ। লোহিত সাগরের এক আগ্নেয় দ্বীপে মরুভূমির গরমে/ তপ্ত লু হাওয়া বইছে। সেই দ্বীপের খাঁড়িতে ছিপ ফেলে স্থির বসে আছে অদ্ভুত এক শিকারী। লোহিত সাগরের দক্ষিণ অংশটা যেখানে আরব সাগরের সাথে মিশেছে ঠিক সেই প্রণালীতে ইয়েমেন আর জিবুতির উপকূল মুখোমুখি দাঁড়ানো। প্রণালীটির নাম বাবেল মান্দেব। ওই প্রণালীর ইয়েমেনের প্রান্ত থেকে দুই পা বাড়ালে পেরিম(Perim) নামক কাঁকড়া চেহারার খটখটে একটি আগ্নেয় দ্বীপ আছে। সেই দ্বীপের এক খাঁড়িতে ওঁত পেতে বসে থাকা শিকারীর নাম 'ফেন্সি'(Fancy)। ফেন্সি, ১৫০ জলদস্যু সমৃদ্ধ ৪৬ কামানের শক্তিসম্পন্ন অতুলনীয় দ্রুতগতির একটি ইংলিশ জাহাজ। শিকারের অপেক্ষায় ফেন্সির সাথে আছে আরো পাঁচটি জলদস্যু জাহাজ- ‘অ্যামিটি’, ‘পোর্টসমাউথ এডভেঞ্চার’, ‘ডলফিন’, ‘পার্ল’ এবং ‘সুসানা’। ছয় জাহাজের মোট জলদস্যু সংখ্যা ৪৪০ জন। এই বিশাল বাহিনী যে শিকারের জন্য অপেক্ষা করছে সেটি আরো বেশী শক্তিশালী। এত শক্তিশালী শিকারকে কব্জা করার চেষ্টাকে অতি দুঃসাহসী কাজ বলা যায়। এই ভারত মহাসাগরে জাহাজ ডাকাতির ঘটনা শতবর্ষ পুরোনো। শত শত জাহাজ শিকার করেছে ভিন মহাদেশ থেকে আগত জলদস্যুরা। কিন্তু আজকের শিকারটি অতীতে ঘটে যাওয়া

সকল শিকার অভিযানের চেয়ে আলাদা। এমনকি পৃথিবীতে ইতিপূর্বে যতগুলো জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে তার সবগুলোর মধ্যে এই ঘটনা নজিরবিহীন। এত বড় শক্তিশালী শিকারকে ইতিপূর্বে কেউ টার্গেট করেনি। এ যেন এক গণ্ডা শেয়ালের সিংহ শিকার প্রচেষ্টা। যাদের জন্য এমন দুঃসাহসী পরিকল্পনা করে ওঁত পেতে আছে তারাও একা নয়। ওখানে আছে ২৫ জাহাজের বিশাল এক বহর। হজ্জযাত্রী নিয়ে আরবের মক্কা নগরী থেকে রওনা দিয়েছে ভারতের উদ্দেশ্যে। লোহিত সাগর পেরিয়ে সুরাট বন্দরের দিকে যাত্রা করবে। সেই বহরের সবচেয়ে শক্তিশালী জাহাজটি ১৬০০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘গঞ্জ-ই-সাওয়াই’ (Ganj-i-Sawai)। যার নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য আছে ৮০টি শক্তিশালী কামান এবং ৪০০ জন বন্দুকধারী সৈন্য। বহরের মধ্যে এই জাহাজটি সবচেয়ে অভিজাত। এটি সবচেয়ে বেশী যাত্রী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। জাহাজে যাত্রীর সংখ্যা ৬০০ জন যার বড় একটা অংশ নারী। সেই জাহাজের প্রতিরক্ষার জন্য সাথে আছে ৬০০ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি সশস্ত্র জাহাজ ‘ফতেহ মোহাম্মদ’। ফতেহ মোহাম্মদের সাথে লড়তে পারে তেমন জাহাজও ভারত মহাসাগরে বিরল ছিল। এটা আরবের হজ্জ মৌসুম। এই মৌসুমে লোহিত সাগর দিয়ে প্রতি বছরই হজ্জযাত্রী নিয়ে আসা যাওয়া করে অনেক…

অপব্যবহারের ভয়ে এখনই এত কাতর কেন হয়ে পড়লেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বুঝতে পারছি না, তার চেয়ে বরং সাজিদ আলী হাওলাদারের গবেষণার মানকে তো বেঞ্চমার্ক হিসেবে ব্যবহার করে বলা যেত সাজিদ আলী হাওলাদারের মানের গবেষক হলেই একমাত্র মাস্টার্স না থাকলেও কাউকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া যাবে।

আজই দৈনিক সমকালের শেষের পাতায় একটা খবর দেখলাম সকালে এ কেমন নিয়োগ নীতিমালা, সেখানে বলা হচ্ছে ড. সাজিদ আলী হাওলাদার। ২০১১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী থাকাকালে ফেজারভারিয়া আসমতি নামের সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির একটি ব্যাঙ আবিস্কার করেন এ তরুণ। বিশ্বের সরীসৃপ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে তাই মিলেছে সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানীর খেতাব। ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অধ্যাপক ইয়োহা মারিলা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাজিদের কৃতিত্বে আকৃষ্ট হয়ে মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) বাদ দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে তাকে নিয়ে নেন। ফলে বয়স ৩০ পেরোনোর আগেই সাজিদ পিএইচডি সম্পন্ন করেন। দেশকে সমৃদ্ধ করতে নিজেকে নিয়োজিত করতে চেয়েছেন গবেষণায়। আর এজন্য তার পছন্দ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে। তাই আবেদন করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে। তবে শিক্ষক নিয়োগের আবেদনের শর্ত হিসেবে মাস্টার্স না থাকায় তাকে ডাকাই হয়নি মৌখিক পরীক্ষায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনে এমন শর্তের কারণে গবেষণার সুযোগ চাপা পড়ায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এটুকু পড়েই আমি বুঝলাম এই সাজিদ আলী হাওলাদারের কথা তো আমি 'আজকের লিন্ক'এ আগেও কয়েক বার শেয়ার করেছি এই ব্যাঙ গবেষকের কথা আমি তো ভুলে যাইনি, তাহলে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন তার গবেষণার কথা ভুলে শুধু তার মাস্টার্স না করার অজুহাত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সমকালকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী বলছেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের যেসব নীতিমালা রয়েছে, তার মধ্যে কোনো একটি পূরণ করতে না পারলে ওই প্রার্থীকে আমরা মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকতে পারি না। প্রার্থীর আবেদনের যোগ্যতার শর্ত পূরণ হয়েছে কি-না, তা প্ল্যানিং কমিটি যাচাই করে দেখে। যাচাই শেষে পুনরায় রেজিস্ট্রার অফিসে পাঠায়। সেখানে কোনো যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়েছে কি-না, পুনরায় যাচাই করা হয়। পরে যারা আবেদনের শর্ত পূরণ করেছে, তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। সাজিদের হয়তো কোনো শর্ত পূরণ হয়নি, তাই তাকে ডাকা হয়নি। তবে এ ধরনের প্রার্থীকে নেওয়ার জন্য যদি নিয়ম করা হয়, তবে তার অপব্যবহার হওয়ার শঙ্কা থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অপব্যবহারের ভয়ে এখনই এত কাতর কেন হয়ে পড়লেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বুঝতে পারছি না, তার চেয়ে বরং সাজিদ আলী হাওলাদারের গবেষণার মানকে তো বেঞ্চমার্ক হিসেবে ব্যবহার করে বলা যেত সাজিদ আলী হাওলাদারের মানের…

একুশ শতকের এই সময়ে ২০১৯ সালে, কলকাতা ও চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে শক্তি-সামর্থ্যে নিঃসন্দেহে কলকাতা অনেক এগিয়ে। কিন্তু ৩৩৩ বছর আগে জব চার্নকের সামনে ছিল বিপরীত চিত্র। তাই সে সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চট্টগ্রাম অভিযান পরিকল্পনায় তিনি সায় দিতে সাহস করেননি। তবু ১৬৮৬ ও ১৬৮৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গোঁয়ার্তুমি করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছিল। যে অভিযান লজ্জাজনকভাবে ব্যর্থ হওয়ার ফলে কলকাতা নগরের জন্ম প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল।[...]

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চট্টগ্রাম অভিযান (১৬৮৬-৮৮) প্রবল প্রতাপশালী আরাকানি শক্তির কাছ থেকে ১৬৬৬ সালে যখন চট্টগ্রাম শহর অধিকার করেন, তখন শায়েস্তা খান কল্পনাও করেননি, মাত্র দুই দশক পর এই শহরের প্রতি নজর পড়বে নতুন এক বিদেশী শক্তি ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির। বাংলা তখন ভারতবর্ষের সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রদেশ। শাহ সুজার সুবেদারিত্বের সময় এ প্রদেশের সাথে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের অধিকার পেয়েছিল কোম্পানি। সেই সুবিধাটি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল শায়েস্তা খানের আমলে। হুগলি বন্দরে সৃষ্ট একটি বিবাদের জের ধরে লন্ডনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সদর দপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, মোগলদের কাছ থেকে একটি শহর কেড়ে নিয়ে সেখানে বানানো হবে শ্রেষ্ঠতম ইংরেজ বাণিজ্যনগরী। নগরীটির নাম চট্টগ্রাম। একুশ শতকের এই সময়ে ২০১৯ সালে, কলকাতা ও চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে শক্তি-সামর্থ্যে নিঃসন্দেহে কলকাতা অনেক এগিয়ে। কিন্তু ৩৩৩ বছর আগে জব চার্নকের সামনে ছিল বিপরীত চিত্র। তাই সে সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চট্টগ্রাম অভিযান পরিকল্পনায় তিনি সায় দিতে সাহস করেননি। তবু ১৬৮৬ ও ১৬৮৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গোঁয়ার্তুমি করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছিল। যে অভিযান লজ্জাজনকভাবে ব্যর্থ হওয়ার ফলে

কলকাতা নগরের জন্ম প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল। ইতিহাসের ছোট্ট কোনায় এখনো খুব তুচ্ছ আকারে Child’s War নামে সেই যুদ্ধটির উল্লেখ আছে। ভারতবর্ষে মোগলদের বিরুদ্ধে সেটা ছিল প্রথম যুদ্ধযাত্রা। সেদিন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চট্টগ্রাম আগ্রাসন যদি সফল হতো এবং ইংরেজরা যদি চট্টগ্রাম দখল করতে সক্ষম হতো, তাহলে আজ কলকাতা নামের কোনো নগরীর অস্তিত্বই থাকত না। জব চার্নক হয়তো কলকাতার বদলে চট্টগ্রামের গভর্নর হিসেবে যাত্রা করতেন। এ যুগের কলকাতা বা চট্টগ্রামবাসী সম্ভবত ইংরেজের সেই চট্টগ্রাম অভিযানের ঘটনা জানে না। জানে না, কেননা পরবর্তীকালে ইতিহাসের ওই পর্বটিকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছিল। ইংরেজদের অতীত কেলেঙ্কারিগুলো আমাদের সমকালীন ইতিহাসে খুব অল্পই টিকে আছে। কলকাতার ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হলেও সেই ঘটনাটি এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার কলকাতার ইতিহাস অংশেও রাখা হয়নি। বরং সেখানে বলা হয়েছে Charnock had previously had disputes with officials of the Mughal Empire at the river port of Hugli (Hooghly) and had been obliged to leave, after which he attempted unsuccessfully to establish himself at other places down the river. শুনে আশ্চর্য হবেন যে ব্রিটানিকার…

"তোমরা ভাত খেয়ে খেয়ে কী ফুটবল খেলবে?" শুধু বাংলাদেশের ফুটবল নয়, পুরো বাংলাদেশের ইতিহাসের ৪৭-৭১ পর্বকে এই ছোট একটি বাক্যেই বেঁধে ফেলা যায় বোধহয়।

"তোমরা ভাত খেয়ে খেয়ে কী ফুটবল খেলবে?" শুধু বাংলাদেশের ফুটবল নয়, পুরো বাংলাদেশের ইতিহাসের ৪৭-৭১ পর্বকে এই ছোট একটি বাক্যেই বেঁধে ফেলা যায় বোধহয়। আরেক ফুটবলার মেজর জেনারেল নূরুন্নবী, আরেকটু খোলাসা করে বললেন, পাকিস্তান ফুটবল দলে কখনোই এক দুজনের বেশী বাঙ্গালীর জায়গা হয়নি, পূর্ব পাকিস্তানের খেলাধুলার বিস্তারে সরকারী ফান্ডিং ছিল না বললেই চলে। কিন্তু "তোমরা ভাত খেয়ে খেয়ে কী ফুটবল খেলবে?" জাকারিয়া পিন্টুর এই এক বাক্যে পুরো পাকিস্তান আমলের শোষণ, বঞ্চনা, জাতিগত বিদ্বেষ পুরোটাই উঠে আসে। ভাত খেয়ে খেয়ে ফুটবল খেলা চলে না, ক্রিকেট হয় না, যুদ্ধ করা যায় না, যোগ্য প্রশাসক হওয়া যায় না, কিছুই করা যায় না। কিন্তু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে দেখা গেলো, ভাত খেয়ে খেয়েই সর্বাধুনিক অস্ত্র সজ্জিত লাখখানেক সৈন্যের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে হারিয়ে দেওয়া যায়। ১৯৭১ সালের পরপর ভাত খাওয়া এই জাতি কিস্যু করতে পারবে না, দেশি বিদেশি অনেক কুতুবই এমন কথা বলেছেন। কিন্তু ৭১ এর পরে এই অনেকগুলো বছর বাদে পেছনে ফিরে দেখা যাচ্ছে ভাত খেয়ে খেয়ে অনেক কিছুই অর্জন করা হয়েছে, জাতি হিসাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে ভাত খাওয়াটা কোন বাধা হবে না বলেই মনে হচ্ছে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল কোন সাধারণ দল নয়, 'খেলার সাথে রাজনীতি' মেশানো দল। কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের নেতৃবৃন্দ তাঁদের অসামান্য দূরদর্শিতার কারণে যুদ্ধকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ফুটবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের পরিকল্পনা করেন। শুধু জনমতই নয়, ফুটবল খেলে যুদ্ধের জন্য টাকাও জোগাড় করতে হবে। ভারতে চলে আসা খেলোয়াড়রা তো বটেই, ঢাকায় থেকে যাওয়া খেলোয়াড়দেরও উদ্বুদ্ধ করে নিয়ে আসা হয়। কাজী সালাউদ্দিন, বাংলাদেশের একমাত্র সুপারস্টার ফুটবলার, ৭১ এ কিশোর বয়সী ছিলেন, তিনি নিজের উদ্যোগেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারতে গিয়ে এই দলে যোগ দেন। https://www.youtube.com/watch?v=8AGtkIfjrFI স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল বিষয়ক এই তথ্যচিত্রটির অন্যতম নির্মাতা জনাব আবু নঈম মাহতাব মোর্শেদ এবং সঙ্গীত পরিচালক জনাব আলমগীর কবির আমার বাল্যবন্ধু। তাঁরা কোনরকম ধারাভাষ্য ছাড়া শুধুমাত্র সাক্ষাৎকার, মুক্তিযুদ্ধের কিছু স্টক ফুটেজ আর স্থিরচিত্র ব্যবহার করে মাত্র বিশ মিনিটের মাঝে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যেভাবে তুলে এনেছেন, সেটা বেশ বাহাদুরির ব্যাপার। "তোমরা ভাত খেয়ে খেয়ে কী ফুটবল খেলবে?" অথবা "ওরা যদি…

সব মুছে গেলেও ইতিহাসের একটি খাতায় জাহাজটির নাম রয়ে গেছে। নামটি তুলে রেখেছিলেন চট্টগ্রামের ইতিহাস গবেষক আবদুল হক চৌধুরী তার ‘বন্দর শহর চট্টগ্রাম’ গ্রন্থে। সেও অনেক দিন আগের কথা। [...]

জাহাজটিকে এ শহরের সবাই ভুলে গেছে। ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। সে তো আজকের কথা নয়। এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে দুটো আস্ত শতাব্দী। কত ওলটপালট হয়ে গেছে পৃথিবীর সমাজ-ভূগোল-ইতিহাসে। চট্টগ্রামে নির্মিত এমন আরো কত শত জাহাজ সাগর-মহাসাগর দিয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে, তার হিসাব কেউ রাখেনি। এ জাহাজও তেমনি তলিয়ে গেছে স্মৃতির অতলে। এমনকি যারা জাহাজটি নির্মাণ করেছিলেন, সেই কারিগররাও বিস্মৃত। যে নির্জন বনভূমি বৃক্ষ দান করেছিল জাহাজটি নির্মাণের জন্য, সেটিও হয়তো এতদিনে রূপান্তর হয়েছে জনবহুল নগরে। সব মুছে গেলেও ইতিহাসের একটি খাতায় জাহাজটির নাম রয়ে গেছে। নামটি তুলে রেখেছিলেন চট্টগ্রামের ইতিহাস গবেষক আবদুল হক চৌধুরী তার ‘বন্দর শহর চট্টগ্রাম’ গ্রন্থে। সেও অনেক দিন আগের কথা। কয়েক দিন আগে ইতিহাস পাঠে নিমগ্ন এক পাঠকের চোখ আটকে গেল তার বইয়ের ৫২ পৃষ্ঠার একটি অংশে। প্রাচীন একটি জাহাজের নাম ও সামান্য দুটো তথ্য আছে সেখানে। তথ্যটি হলো, ১৮১৮ সালে জার্মান সরকার চট্টগ্রাম থেকে একটি জাহাজ নির্মাণ করিয়ে নিয়েছিল। জাহাজটির নাম ডয়েচলান্ড। জার্মানির কোনো এক জাদুঘরে এখনো জাহাজটি বর্তমান। এই ‘বর্তমান’ থাকার তথ্যটিই

পাঠকের দৃষ্টি কাড়ে। কোন বিশেষ গুরুত্বের কারণে জাহাজটি এতকাল সংরক্ষণ করা হয়েছিল? পাঠক জানে, জাহাজ নির্মাণে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হাজার বছরের। কিন্তু সে জাহাজগুলো কেমন ছিল, ধরন-ধারণ কিছুই জানা নেই। এ শহরের কোথাও তার কোনো নিদর্শনও নেই। অন্য কোথাও আছে বলে শোনা যায়নি। কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে সবকিছুই। ইতিহাস পুস্তকের কিছু নীরস বিবরণ ছাড়া এর অস্তিত্ব কোথাও মেলে না। তাই এ জাহাজের বর্তমান থাকার খবরটি পাঠকের কৌতূহলকে উসকে দিল প্রবলভাবে। তথ্যটি যাচাই করা দরকার। সত্যি সত্যি যদি ওই জাহাজ জার্মানির কোনো জাদুঘরে থেকে থাকে, তাহলে এর হদিস বের করা অসম্ভব হবে না। কিন্তু কেবল একটা নামকে সম্বল করে কতদূর যাওয়া যাবে? কোন সে জাদুঘর, কোথায় তার ঠিকানা? জার্মানি তো ছোটখাটো কোনো দেশ নয়। এতদূর থেকে তার হদিস বের করা কতটুকু সম্ভব? তবু একটা জেদ চেপে যায়। অনুসন্ধান শুরু হয়। দিনের পর দিন অনুসন্ধান চালানোর পর একটু একটু আলোর আভাস দেখা দিতে থাকে এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। প্রথম তথ্যটি হলো, জাহাজটির জন্ম হয়েছিল অন্য একটি নাম নিয়ে। সুতরাং সেই নাম…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.