গত ২১শে জুলাই, ২০২৫ বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের মানব সম্পদ বিভাগ-২ থেকে ইস্যু হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক তাঁর সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিশেষত: নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যে পোশাক ও আচরণ বিধি জারি করেছিলেন তা বিভিন্ন নারী অধিকার কর্মী ও গোষ্ঠি, মানবাধিকার কর্মী বা গোষ্ঠি, মূলধারা ও বিকল্প ধারার সমাজ মাধ্যমে তুমুল প্রতিবাদের পর বাতিল করা হয়েছে।

Dress Code Bangladesh Bank and Iran Revolution

গত ২১শে জুলাই, ২০২৫ বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের মানব সম্পদ বিভাগ-২ থেকে ইস্যু হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক তাঁর সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিশেষত: নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যে পোশাক ও আচরণ বিধি জারি করেছিলেন তা বিভিন্ন নারী অধিকার কর্মী ও গোষ্ঠি, মানবাধিকার কর্মী বা গোষ্ঠি, মূলধারা ও বিকল্প ধারার সমাজ মাধ্যমে তুমুল প্রতিবাদের পর বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে শঙ্কিত হয়ে পড়ে । গত জুলাইয়ে যে ‘বাম’রা বাংলাদেশ কখনোই ইরাণ বা আফগানিস্থান হবে না’ এসব বলেছেন বা শার্ট-ট্রাউজার পরা নারী বোরখা পরা নারীর হাত ধরে একই সাথে ‘ফ্যাসিবাদী সরকারকে হঠানোর আন্দোলনে ‘বৈচিত্র্য-র পোস্টার কার্ড হয়েছেন, সেই শার্ট-ট্রাউজার পরা নারীরা এখন কেমন আছেন?  না- বাংলাদেশে অবশ্যই এখনো পুরোপুরি ইরাণ বা আফগানিস্থানের মত কিছু হয়নি। কিন্তÍ, যে হারে ঢাকার মূল সড়ক থেকে অলি-গলিতে জামাতের পোস্টার ছেয়ে যাচ্ছে, তাতে খানিকটা ভয় পাওয়া অমূলক নয়।  বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের ঐ বিধিতে মেয়েদের জন্য শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ সহ শালীন পোশাক পরা এবং ছোট হাতা, লং ড্রেস, লেগিংস এবং উজ্জ্বল রঙের ঝলমলে পোশাকের পাশাপাশি ছেলেদের

জন্য জিন্স এবং গ্যাবার্ডিন প্যান্টও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বলে কি? ছেলেদের জন্যও নিষিদ্ধ? তা-ও জিন্স? সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো ‘হিজাব-ও যেন খুব উজ্জ্বল বা রঙচঙে না হয়, সে কথা এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল। ঠিক আজকের ইরাণে ‘গুড হিজাব’ এবং ‘ব্যাড হিজাব-এর মত। বাইশের মেয়ে মাহসার কয়েকটি চুল তার স্কার্ফের ভেতর থেকে বের হয়ে এসেছিল বলে সেটা ছিল ‘ব্যাড হিজাব।‘ বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের প্রজ্ঞাপনে মেয়েদের অসমতল বা চপ্পল পরা তথা হাই হিল পরার বিরুদ্ধে বলা হয়। কর্মজীবী ক’জন নারী  হিল পরে রোজ অফিসে যেতে পারেন? স্বাস্থ্যগত সুবিধা ও কাজের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অধিকাংশ নারীই আজকাল অসমতল জুতোই পরেন।   যাক- আপাতত: বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের প্রজ্ঞাপন বাতিল হয়েছে। কিন্তÍ এই লেখাটিতে ইরাণে ইসলামী বিপ্লবের আগে-পরে- যে ‘বাম নারীরা ‘একনায়ক শাহে-র বিরুদ্ধে খোমেনীকে সমর্থন দিয়েছিলেন, সেই ‘একনায়ক শাহ’ নারীমুক্তির জন্য কি কি করেছিলেন এবং ইরাণ বিপ্লবের পরে ‘বাম উদারপন্থী নারীÕদের কাঙ্খিত খোমেনী সরকার তাদের জন্য কি করলো, সেটাই গ্রথিত হয়েছে।   মুশতাক আবু মুনাফ তাঁর Women’s Dress in Iran: From the Islamic Sitr to the Political Hijab প্রবন্ধে  জানাচ্ছেন…

৫ আগস্ট ২০২৪-এ বাংলাদেশের তথাকথিত "গণ-অভ্যুত্থানে" ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্রটি রাজনৈতিক ভাষায় যতটা নাটকীয়, বিশ্লেষণে ততটাই বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতা-বিচ্যূত। এটি ইতিহাস ও সংবিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে, যা পক্ষপাতদুষ্ট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের স্বার্থে রচিত। কেন? বলছেন জাহানারা নূরী।

অবৈধ জুলাই সনদ

অধ্যায় এক.  রাষ্ট্র ও জনজীবন-যাপনের ধারা উন্নয়নের নানা দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় রাষ্ট্রকে টিকে থাকতে হলে ব্যক্তি অধিকার ও বৈপ্লবিক ধ্বংসযজ্ঞের চেয়ে  রাষ্ট্র, আইন ও শৃঙ্ক্ষলা প্রাধান্য পায় । একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র কাঠামোই প্রকৃত মানবাধিকার রক্ষার শর্ত। যে কোনো বিপ্লবই যদি রাষ্ট্রের ভিত নাড়িয়ে দেয়, তা সভ্যতা, জনপদের জীবন ও নিরাপত্তার পরিপন্থী।   যে কারণে ৫ আগস্ট ২০২৪-এ বাংলাদেশের তথাকথিত "গণ-অভ্যুত্থানে" ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্রটি রাজনৈতিক ভাষায় যতটা নাটকীয়, বিশ্লেষণে ততটাই বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতা-বিচ্যূত। এটি ইতিহাস ও সংবিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে, যা পক্ষপাতদুষ্ট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের স্বার্থে রচিত। রাষ্ট্রীয় ও আইনগত যুক্তির আলোকে এই ঘোষণাপত্রের মূল দাবিগুলো বিশ্লেষণ করা যাক।   ধারা ১-২:   ঘোষণাপত্রটি স্বাধীনতার ইতিহাস পুনর্লিখনের উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে, যাতে মনে হয় ১৯৭১ সালের যুদ্ধের নেতৃত্ব ও সংগঠকদের ভূমিকা ম্লান করে জনতার স্পন্টেনিয়াস লড়াইকে কেন্দ্র করে একটি রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার বয়ান বলা যায়। এটি প্রকৃত ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণমানুষের দীর্ঘ আন্দোলন, রক্তপাত, লড়াই এবং স্বাধীনতার পথে সচেতন উত্থান,  রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও

সামরিক প্রতিরোধের সমন্বয়ের ফসল—এটি কোনো নেতা-শূন্য লুকোনো- ছাপানো গণপ্রতিরোধ নয়।  ধারা ৩-৪:   ১৯৭২ সংবিধান ও বাকশাল নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে এতে নিন্দনীয় একটা ভূমিকা পালন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধান ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় এমন কি বিশ্বে ও গৃহীত প্রশংসিত অন্যতম প্রগতিশীল একটি দলিল, যেখানে মৌলিক অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। একে "কাঠামোগতভাবে দুর্বল" বলা রাজনৈতিক অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়। বাকশাল ব্যবস্থা নিয়ে একপাক্ষিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তকে কেবলমাত্র ক্ষমতা লোভের ফলাফল হিসেবে তুলে ধরা হয়। এই বয়ান শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার আগে থেকেই, যার পেছনে ছিল তৎকালীন দেশে নৈরাজ্য, দুর্নীতি ও বারবার সামরিক ষড়যন্ত্র।  ধারা ৫-৭:   গণতন্ত্রের ইতিহাসকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান ও ১/১১-কে যথেচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সংবিধানিক ধারাবাহিকতাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই সনদ দিয়ে বাংলাদেশের জনগনের স্বাধীনতা ও জাতির গণতান্ত্রিক চেতনাকে চূড়ান্ত অপমান করা হয়েছে। সংবিধানের পরিবর্তন জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই সম্ভব, কোনো মুখোশধারী গোষ্ঠীর বা নির্বকারত্বের চেহানার ধারী…

তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন মহান নেতা, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ছাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ইতিহাসের সত্যের সাথে প্রতারণা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে ইতিহাস বিকৃতির এক উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা শারমিন আহমদ বিভিন্ন বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। কখনও তিনি সরাসরি দাবি করছেন, কখনও সন্দেহজনক উৎস থেকে উদ্ধৃতি টেনে প্রমাণ করতে চাইছেন—মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নাকি অতিরঞ্জিত।

Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and Tajuddin Ahmed

কেন এই সম্পাদকীয় লেখা জরুরি হয়ে উঠলো? তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন মহান নেতা, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ছাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ইতিহাসের সত্যের সাথে প্রতারণা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে ইতিহাস বিকৃতির এক উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা শারমিন আহমদ বিভিন্ন বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। কখনও তিনি সরাসরি দাবি করছেন, কখনও সন্দেহজনক উৎস থেকে উদ্ধৃতি টেনে প্রমাণ করতে চাইছেন—মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নাকি অতিরঞ্জিত। এই প্রচেষ্টা শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয়, তাজউদ্দীন আহমদকেও একটি ভুল প্রেক্ষাপটে দাঁড় করায়, যা ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবমাননাকর। এসব দাবি তথ্যবিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর স্থান অপরিহার্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত, এবং তা অস্বীকার করা মানে স্বাধীনতার দীর্ঘ লড়াইয়ের মূল চেতনাকেই অস্বীকার করা। তাই এ লেখা একপ্রকার দায়বদ্ধতা—জাতির গৌরবময় ইতিহাস রক্ষা ও সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস। এই সম্পাদকীয় কোনোভাবেই তাজউদ্দীন আহমদের অবদান অস্বীকার করে না; বরং তাঁকেও তাঁর যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করেই ইতিহাসের বিকৃতি রোধ করতে চায়। তাজউদ্দীন আহমদ আজ বেঁচে থাকলে, ইতিহাস বিকৃতির এই প্রবণতার বিরুদ্ধেই তিনিও সোচ্চার

হতেন। মুক্তাঙ্গন ………… বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতার লড়াই ছিল না — ছিল নেতৃত্ব, ত্যাগ ও আস্থার এক অভূতপূর্ব সমবায়। সেই ইতিহাসে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী, কামরুজ্জামান অবিসংবাদিত নাম। কিন্তু তাঁদের নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ, দুঃখজনকভাবে, এই সত্যটিই বিকৃত করার চেষ্টা চলছে।  কোনো সন্দেহই নেই যে তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন একজন মহান নেতা, যেমন ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই চার নেতার মধ্যকার দৃঢ় বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের প্রতি বাংলাদেশের নাগরিক মাত্রেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার প্রশ্ন রয়েছে। তবে এই নির্ভেজাল কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সময় বিস্মৃত হলে চলবে না যে এই চার মহান নেতার নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শুধু এই চার নেতার গুরু ছিলেন না, তিনি ছিলেন বঙ্গোপসাগর বিধৌত বদ্বীপে বসবাসকারী সকল মুক্তিকামী মানুষের কান্ডারী। তাই আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে সকলের অবদান ছাপিয়ে বঙ্গবন্ধু ঋজু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন যা কখনোই ম্রিয়মান হবার নয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বল্গাহীনভাবে ‘অস্বীকৃতির সংস্কৃতি’ চলছে, যা শুধুমাত্র একজন…

যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি 'পড়ে' না—নেমে আসে। সেই নামার পথ ও পদ্ধতিতেই লুকিয়ে থাকে পাইলটের দক্ষতা ও প্রস্তুতির সত্যিকারের পরীক্ষা। অনেক প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এই দূর্ঘটনার ক্ষেত্রে যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা সামলাতে না পারার দায় শুধুই কি এক নবীন পাইলটের অনভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাবের ওপর দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা যাবে? 

Air Force Jet Crashes in a Bangladesh School, Credit: The Hindu

গত দু’দিন ধরে মাইলস্টোন স্কুলের ট্র্যাজেডি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেক বিশ্লেষণ ঘুরছে, যার অধিকাংশই জল্পনা-কল্পনা ও প্রযুক্তিগত অজ্ঞতার ফসল। সেই কারণেই এই লেখা—একটি তথ্যভিত্তিক ও পেশাগত বিশ্লেষণ। শুরুতেই আসুন এ সংক্রান্ত প্রচারিত মিথগুলো ভাঙা যাক। মিথ ১. পাইলট মাইলস্টোনের মাঠে অবতরণ করতে চেয়েছিলেন। এটি একেবারেই ভুল ও হাস্যকর ধারণা। যুদ্ধবিমান অবতরণের জন্য ১ কিমি লম্বা মাঠও যথেষ্ট নয়। তদুপরি, মাইলস্টোনের মাত্র ১ কিমি পশ্চিমে তুরাগ নদীর ওপারে অনেক খোলা জায়গা ছিল। মিথ ২. ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ট্রেনিং কেন? যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষণ সাধারণত শহরের বাইরে হয়। কিন্তু উড্ডয়ন ও অবতরণ তো রানওয়ে থেকেই করতে হয়, যা প্রায়শঃই শহরের কাছেই থাকে। মিথ ৩. বিমানটি ছিল খুব পুরোনো ও ‘জংধরা’। এটিও বিভ্রান্তিকর। ঘাতক F-7 BGI হলো F-7 সিরিজের একটি কাস্টম ভেরিয়েন্ট যুদ্ধবিমান যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য  প্রস্তুত করা হয় । এটি সম্পূর্ণ ট্রেনিং ক্ষমতায়নের ও তারপর কম্ব্যাট মিশনের জন্য যথার্থ। ২০০৬-২০০৮ এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এটি ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করে।  F-7 B।I এর বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একটি পূর্ণ একক আসনের যুদ্ধবিমান। শুধুমাত্র  পাইলটদের লাস্ট ফেজ

ট্রেনিং এর চূড়ান্ত কালে এটি ব্যবহার করা যায়।  নিয়ম অনুযায়ী যেকোন বিমানের প্রতিটি যন্ত্রাংশ নির্ধারিত সময়/ঘণ্টা শেষে বদলানো হয়। না বদলালে বিমান ‘এয়ারওয়ার্দি’ থাকে না। তাই ফিটনেস পাস থাকলে  বিমানের বয়স কতো হলো তা গুরুত্বহীন। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকান এয়ারফোর্স এখনো ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত T-35 Talon প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করে। তা এখনও ওড়ার উপযোগী। মিথ ৪. রানওয়ের পাশে উঁচু বিল্ডিং কেন? নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতা এ প্রশ্নের জন্ম দেয় বটে, তবে স্মরণ রাখা জরুরি যে বিমানটি একটি দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়। উঁচু ভবন এ ঘটনায় সরাসরি দায়ী নয়। এবার প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা যাক।   ISPR জানায়, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির দুপুর ১:০৬-এ তেজগাঁও বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেন। এটি ছিল তাঁর প্রথম সলো ফ্লাইট—অর্থাৎ প্রশিক্ষক ছাড়া এককভাবে বিমান চালানো। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই তিনি যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানান এবং ঘাঁটিতে ফিরতে গিয়ে বিমানটি ভূপাতিত হয়। একজন নতুন পাইলটকে সলো ফ্লাইট বা একা বিমান চালনার অনুমতি দেয়া হয় তখনই যখন তিনি মোটামুটিভাবে একটা বিমান উড্ডয়ন করতে পারেন‚ পথ খুঁজে নেয়া বা নেভিগেশনের ন্যূনতম  পারদর্শীতা দেখাতে পারেন…

বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্ম-চরিত-এ বৃটিশ আমলে বা পাকিস্থান আমলের শুরুতেও যে মধুমতীর কথা পড়া যায়, সেখানে একসময় স্টীমারও চলতো। আজ সেই মধুমতী বড় শান্ত, শীর্ণ ও মৃদু। তবু এই শান্ত মধুমতী পাড়ের মানুষগুলোই দেখালো কিভাবে রুখে দাঁড়াতে হয়। 'জ্বলি ন উধিম কিত্তেই (রুখে দাঁড়াবো না কেন)’?

The article has compared the recent situation of Bangladesh with Ragnarok.

Ragnarok in Bangladesh

 গত বছরের জুলাই থেকেই বাংলাদেশ যেন এক অবর্ণনীয় ’রাগনারোক’-এর ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। নর্স পুরাণে বা উত্তর মেরুর স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণের আগে তাদের বহু  দেব-দেবীর ধর্মীয় পুরাণে ব্যবহৃত এই শব্দটির অর্থ হলো ‘চূড়ান্ত ধ্বংস’ বা ‘প্রলয়কাল।’ এ এমন এক ভয়ানক বিধ্বংসী সময় যখন নর্স পুরাণের সব বড় দেব-দেবী (ওদিন, থর, তির, ফ্রেইর, হিমদাল এবং লোকি) পরষ্পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়বেন এবং ক্রমাগত প্রাকৃতিক দূর্যোগের মুখোমুখি হবে পৃথিবী। প্রথমে পুরো পৃথিবী পুড়ে যাবে এবং তারপর মাতা ধরিত্রী তলিয়ে যাবে জলের অতলে। তেরো শতকের নর্স সাহিত্যে বর্ণিত এই 'প্রলয়কাল’ বা ‘রাগনারোক’ সম্পর্কে বলা হচ্ছে:   ‘ভাইয়েরা যুদ্ধ করবে পরষ্পর,  হত্যা করবে একে অন্যকে আহা-  বোনের সন্তানেরা টুটাবে জ্ঞাতি-বন্ধন,  কুঠারযুগ, তরবারী যুগ-  ঢাল ভেঙে টুকরো টুকরো   বাতাসের যুগ, একটি নেকড়ে যুগ-   গোটা পৃথিবী হঠকারী হবার আগে   কোন মানুষেরই দয়া মায়া থাকবে না অন্য কারো প্রতি।‘    সম্ভবত: ৫৩৫-৫৩৬ অব্দে গোটা উত্তর ইউরোপে তাপমাত্রা ভয়াবহ কমে আসার সময়টি এই পুরাণকথায় বর্ণিত। ৬৫০ অব্দে নর্ডিক দেশগুলোয় সূচীত এক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেখানে নর্ডিক তাম্র যুগের শেষ

হয়। এই জলবায়ু পরিবর্তনের আগে নর্ডিক দেশগুলোয় জলবায়ু তুলনামূলক উত্তপ্ত এবং আরামদায়ক ছিল। প্রাচীন নর্স ভাষায় ‘ফিম্বুল উইন্টার' অর্থ তাই ভয়াবহ শীত। এই নিষ্করুণ শীতে নেমে আসবে অনি:শেষ রক্তক্ষয়ী আর ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ। নর্স পুরাণে এই সময়কে 'টোয়াইলাইট অফ দ্য গডস’ বা 'দেবতাদের গোধূলি ক্ষণ’-ও বলা হয়। উনিশ শতকে বিখ্যাত জার্মান সুরকার রিচার্ড ওয়াগনারের 'গটডের ডামেরাঙ’ সিম্ফনী এই 'রাগনারোক’-এর ধ্বংসলীলাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত, দূর্ভাগ্যজনক ভাবে হিটলার যাকে রণসঙ্গীত বানিয়েছিলেন।   বাংলায় প্রবল শীত নেই। কিন্ত  আছে মুষলধারে বর্ষণ। নেপোলিয়ন রাশিয়ার 'জেনারেল উইন্টারে’-র সাথে যুদ্ধে পারেননি আর পাকবাহিনী হেরে গেছিলো আমাদের 'জেনারেল মনসুন'-এর কাছে। অথচ, বাঙ্গালীর অনাদিকালের ভালবাসার এই শ্রাবণ মাসেই গত বছর মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিরোধী এক চক্র আপাত: মেষ চর্ম পরিধান করে তাদের নেকড়ের দাঁত-নখ লুকিয়ে এক ভয়ানক প্রলয়যজ্ঞে মাতে। আমরা পারিনি। ট্রয়ের ঘোড়ার ভেতর ঢুকে পড়া গ্রীক সৈন্যদের চাতুরীর কাছে যেমন পতন হয়েছিল এক সুপ্রাচীন সভ্যতার, আমরা তেমন ভাবেই হেরে গেছি। সেই দানবীয়, পাশব শক্তি ক্ষমতায় এসেই জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা বদল, শত শত হত্যা, রাষ্ট্রীয় নানা অবকাঠামো ধ্বংস,…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.