বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চার মূল স্তম্ভের একটি হচ্ছে ধর্ম নিরপেক্ষতা। এই “নিরপেক্ষতা” নিয়ে কয়েকটি ভুল ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছে গত ৫৪ বছরে। এগুলো মোটা দাগে পাঁচ প্রকার: ১) ধর্ম নিরপেক্ষতা বলতে ধর্ম নিয়ে ব্যবসায় করা একটি পক্ষ সবসময় এটাকে ধর্মহীনতা বলতে চেয়েছে, এবং আওয়ামী লীগকে নাস্তিকদের দল হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ২) ধর্মের গুরুত্ব বুঝতে সচরাচর বাংলাদেশকে ৯০ কিংবা ৯৫% মুসলমানের দেশ বলে অন্য ধর্মের লোক বিশেষ করে হিন্দুদের উপর একটা মানসিক চাপ তৈরি করা হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে সেই একই পাকিস্তান-পন্থী উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী। ৩) ধর্মকে ব্যবহার করে মসজিদ মাদ্রাসার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, হজ্জের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য সহ তুর্কি এবং অন্যান্য মুসলিম দেশে “আদম” ব্যবসার রাস্তা তৈরি, যাকাত-সদকার টাকা নিজেদের মতাদর্শের অনুসারীদের মধ্যে ভাগ করা এবং বিদেশে পাচার করা, এবং ইসলামিক ব্যাঙ্কিং এর মাধ্যমে নিজেদের মতাদর্শের লোকদের ব্যবসায় কার্যক্রম প্রসারিত করেছে জামাতে ইসলামি এবং সমমনা ধর্ম-ভিত্তিক দল। ৪) ইসলাম ধর্ম থেকে আলাদা করার জন্যই হিন্দু-প্রধান দেশ ভারত বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হতে সাহায্য করেছে। ৫) নারীর কাজ ঘরের মধ্যে। সামাজিক কাজে নারীর অংশগ্রহণের

কোনো সুযোগ নেই। নারী নেতৃত্ব ততক্ষণই ভালো যতক্ষণ এটাকে ব্যবহার করে (রাজনৈতিক) ফায়দা আদায় করা যায়। ধর্মের ব্যবহার করেই ৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশের সংবিধানে সংযোজন এবং ধর্ম-ভিত্তিক দলগুলোকে “রাষ্ট্রদ্রোহিতা” সত্ত্বেও বাংলাদেশে রাজনীতির অনুমতি দেয়া হয়। সাথে সাথে আওয়ামী লীগকে শুধু ইসলাম ধর্মবিরোধীই না, বরং সকল ধর্মের বিপক্ষে একটা নাস্তিক শক্তি হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এই আওয়ামী লীগ ধর্মীয় নিপরপেক্ষতা পুরোপুরি ধরে রাখতে না পারলেও, বাংলাদেশী মুসলমানদের উপকারে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। নারীর ক্ষমতায়নে সবচেয়ে বেশি কাজ করা শেখ হাসিনাকে জুলাইয়ের রেজিম পরিবর্তনে নারী বিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আসুন কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করি। (সব ভুল আমার। কোনো তথ্য সংযোজন করা দরকার মনে করলে আমাকে পাঠাবেন। ইচ্ছা করেই ৫০০ এর অধিক মসজিদ প্রকল্পের তথ্য সংযোজন করা হয়নি।) আওয়ামী লীগ নিজেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নীতি নির্ধারণে তারা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান দেওয়া এবং নারীর অধিকার ও শিক্ষায় প্রগতিশীল সংস্কার – এই দুয়ের মধ্যে এক জটিল ভারসাম্য বজায় রাখে। ১. বঙ্গবন্ধু…

বাংলাদেশে সদ্য জনপরিসরে উন্মোচিত “বাংলাদেশ সনদ” আন্দোলনের অঙ্গীকারনামায় “সমাজতন্ত্র” শব্দটির অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এতদিন বিতর্ক জারী ছিল, এখন আচমকা বিজ্ঞ জনসমাজ সমাজতন্ত্র বিষয়ে উদ্যোক্তাদের নিয়ত কি সে প্রশ্ন করছেন । কেউ এটিকে আকস্মিক বিয়োজন ধরে নিয়েছেন। কেউ আবার এটির অনুল্লেখ আদর্শিক বিচ্যুতি বলেও মনে করছেন। যা স্বাভাবিক। কিন্তু এই অনুল্লেখ একটি বড়ো কাজ করে ফেলেছে। আচমকা জনপরিসরে চলমান মুমূর্ষু গণতন্ত্রকে নিয়ে ভাবছে না, তার চেয়ে বেশি ”সমাজতন্ত্র” ধারণাটি নিয়ে মানুষ নাড়াচাড়া শুরু করেছে। https://www.bangladeshcharter.org/our-journey/ এ প্রসঙ্গে বাংলার গত শতাব্দীর ইতিহাস নিয়েও একটু নাড়াচাড়া করা যাক। কি বলেন? ইতিহাস কি জানায় আমাদের? ইতিহাসের তথ্য উপাত্ত জানায় যে—সমাজতন্ত্র এই বাংলায় হঠাৎ নাজেল হওয়া কোনো চেতনা নয়। এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, শ্রেণীগত বাস্তবতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা এক চেতনা, যা বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম একটি মূলনীতি। ভুললে চলবে না যে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যূদয়ের অন্যতম কারণ।১৯৬০-এর দশকের পূর্ব-পাকিস্তান ছিল গভীরভাবে অসাম্য চর্চার এক রাষ্ট্র। সে রাষ্ট্রের সমাজ ছিল আশরাফ-আতরাফ, উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণ, এ জাতীয় নানা স্তরে বিভক্ত। এর মধ্যে

জনসাধারণের বিপুল অংশ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন কৃষিসমাজের জনগণ। আশরাফ মুসলমান চালিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় মদদে গভীর থেকে গভীরতর করে তোলা অসাম্যের ছোবলে সমাজ ক্ষত-বিক্ষত ছিল। একদিকে পাকিস্তানের পশ্চিম অংশকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও পুঁজি সঞ্চিত হচ্ছিল। পুঁজি আসতো পূর্বাঞ্চল থেকে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চল, অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব-বাংলার কৃষক, শ্রমিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর কাঠামোগত বঞ্চনা ক্রমে তীব্র হয়ে উঠছিল। পাট, কৃষি ও শ্রমশক্তি থেকে উৎপন্ন সম্পদ চলে যেত কেন্দ্রের ( পশ্চিমাঞ্চলের) দিকে। কিন্তু বিনিয়োগ ও উন্নয়ন আসতো না পূর্ব-বাংলায়। এই বাস্তবতায় “শ্রেণী” কোনো তাত্ত্বিক শব্দ ছিল না—এটি ছিল বাংলার জনগণের প্রাত্যহিক জীবনের অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি এই প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের হাল ধরে ছিলেন যে নেতৃত্ব, তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলায় যিনি স্বদেশের জনগণের ”বঙ্গবন্ধু” ডাকের ভেতর দিয়ে বিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তার দলীয় ৬ দফা কেবলমাত্র সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল না। এর ভেতরে ছিল অর্থনৈতিক ক্ষমতার পুনর্বণ্টনের দাবি। রাজস্ব, মুদ্রানীতি, বাণিজ্য—সবকিছুর ওপর আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন। অর্থাৎ, এক ধরণের অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা তিনি ভেবেছেন, যা সরাসরি…

আগের সংকটগুলো ক্ষমতা বদলের লড়াই ছিল; ২০২৪ হলো রাষ্ট্র, ইতিহাস ও নাগরিক স্মৃতিকে নতুন করে লেখার চেষ্টা। বাংলাদেশের ইতিহাসে বহুবার সরকার বদলেছে, আন্দোলন হয়েছে, ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টেছে। কিন্তু ২০২৪ সাল সেই তালিকায় আরেকটি সংখ্যা নয়। এটি এমন এক সময়, যখন রাষ্ট্র শুধু শাসক বদলাতে নয়—নিজের স্মৃতি, আইন এবং নাগরিক পরিচয় বদলে পিচিয়ে যেতে উদ্যত হয়েছে। এই মুহূর্তে প্রশ্নটি আর কে ক্ষমতায় থাকবে, তা নয়; প্রশ্নটি হলো— ১৯৭১ এ জনযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা তিরিশ লাখ শহীদের ত্যাগের মাধ্যমে অর্জন করেছি বাংলাদেশ। এ অর্জন ধর্মের কলকাঠি দিয়ে কোটি কোটি মানুষের জীবন পর্যুদস্ত করার ১৯৪৭ এর অপ-প্রয়াসের বিরুদ্ধে, দ্বিজাতি-তত্ত্বের মাধ্যমে মানুষকে ধর্মে ভাগ করে নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে, সমানাধিকারের পথে, সাম্যের পথে, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে বাংলার জনপদকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, এবং বিশ্ব দরবারে মহতী জাতিরূপে স্থান করে দেয়ার কর্মযজ্ঞের পক্ষে। তাই প্রশ্ন কোন্ ধরণের রাষ্ট্র টিকে থাকবে? মুক্তিযুদ্ধের চৈতন্যবাহী জনগণের ও তাদের নেতৃত্বের ঐক্য এই প্রশ্নের সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।

বাংলাদেশে জোট রাজনীতির সূচনা স্বাধীনতার পরপরই, ১৯৭২ সালে। তবে স্বাধীনতার প্রথম দশকে গঠিত রাজনৈতিক জোটগুলো রাষ্ট্রক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। জোট রাজনীতির বাস্তব ও কার্যকর রূপ স্পষ্টভাবে দেখা যায় মূলতঃ জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের সময় থেকে। ১৯৮৮ সালের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৮-দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭-দলীয় জোট, বাম দলগুলোর নেতৃত্বে ৫-দলীয় জোট এবং জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে আন্দোলনকে বেগবান করে তোলে। একই সময়ে ছাত্রসমাজ ২২-দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই সম্মিলিত আন্দোলনের চাপে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এলেও গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের রূপরেখা বাস্তবায়নে তারা আগ্রহ দেখায়নি। বরং কয়েকটি উপ-নির্বাচন সরকারি ছত্রছায়ায় এতটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে যে ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জীবন রক্ষার্থে এলাকা ত্যাগে বাধ্য হন। এর পরিণতিতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে প্রায় সব রাজনৈতিক দল আবারও আন্দোলনে নামে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে

‘জনতার মঞ্চ’ ব্যানারে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠে। জাতীয় পার্টি ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ এবং জামায়াতে ইসলামী ‘কেয়ারটেকার মঞ্চ’ গঠন করে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত দেড় মাসের মাথায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপি সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সরকারের শেষের দিকে ১৯৯৯ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চার দলীয় জোট গঠিত হয় ( বিএনপি , জাতীয় পার্টি , জামায়াতে ইসলামী , এবং ইসলামী ঐক্যজোট )। তবে কিছুদিনের মধ্যে এরশাদের জাতীয় পার্টি চার দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেলে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটা অংশ চার দলীয় জোটে থেকে যায় । ঐ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বা বাম দলগুলোর নেতৃত্বে তেমন কার্যকরি কোন জোট না থাকার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং একই সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে। পরিণতিতে রাষ্ট্র ও সমাজ এক গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা…

গত ২১শে জুলাই, ২০২৫ বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের মানব সম্পদ বিভাগ-২ থেকে ইস্যু হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক তাঁর সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিশেষত: নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যে পোশাক ও আচরণ বিধি জারি করেছিলেন তা বিভিন্ন নারী অধিকার কর্মী ও গোষ্ঠি, মানবাধিকার কর্মী বা গোষ্ঠি, মূলধারা ও বিকল্প ধারার সমাজ মাধ্যমে তুমুল প্রতিবাদের পর বাতিল করা হয়েছে।

Dress Code Bangladesh Bank and Iran Revolution

গত ২১শে জুলাই, ২০২৫ বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের মানব সম্পদ বিভাগ-২ থেকে ইস্যু হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক তাঁর সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিশেষত: নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যে পোশাক ও আচরণ বিধি জারি করেছিলেন তা বিভিন্ন নারী অধিকার কর্মী ও গোষ্ঠি, মানবাধিকার কর্মী বা গোষ্ঠি, মূলধারা ও বিকল্প ধারার সমাজ মাধ্যমে তুমুল প্রতিবাদের পর বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে শঙ্কিত হয়ে পড়ে । গত জুলাইয়ে যে ‘বাম’রা বাংলাদেশ কখনোই ইরাণ বা আফগানিস্থান হবে না’ এসব বলেছেন বা শার্ট-ট্রাউজার পরা নারী বোরখা পরা নারীর হাত ধরে একই সাথে ‘ফ্যাসিবাদী সরকারকে হঠানোর আন্দোলনে ‘বৈচিত্র্য-র পোস্টার কার্ড হয়েছেন, সেই শার্ট-ট্রাউজার পরা নারীরা এখন কেমন আছেন?  না- বাংলাদেশে অবশ্যই এখনো পুরোপুরি ইরাণ বা আফগানিস্থানের মত কিছু হয়নি। কিন্তÍ, যে হারে ঢাকার মূল সড়ক থেকে অলি-গলিতে জামাতের পোস্টার ছেয়ে যাচ্ছে, তাতে খানিকটা ভয় পাওয়া অমূলক নয়।  বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের ঐ বিধিতে মেয়েদের জন্য শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ সহ শালীন পোশাক পরা এবং ছোট হাতা, লং ড্রেস, লেগিংস এবং উজ্জ্বল রঙের ঝলমলে পোশাকের পাশাপাশি ছেলেদের

জন্য জিন্স এবং গ্যাবার্ডিন প্যান্টও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বলে কি? ছেলেদের জন্যও নিষিদ্ধ? তা-ও জিন্স? সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো ‘হিজাব-ও যেন খুব উজ্জ্বল বা রঙচঙে না হয়, সে কথা এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল। ঠিক আজকের ইরাণে ‘গুড হিজাব’ এবং ‘ব্যাড হিজাব-এর মত। বাইশের মেয়ে মাহসার কয়েকটি চুল তার স্কার্ফের ভেতর থেকে বের হয়ে এসেছিল বলে সেটা ছিল ‘ব্যাড হিজাব।‘ বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের প্রজ্ঞাপনে মেয়েদের অসমতল বা চপ্পল পরা তথা হাই হিল পরার বিরুদ্ধে বলা হয়। কর্মজীবী ক’জন নারী  হিল পরে রোজ অফিসে যেতে পারেন? স্বাস্থ্যগত সুবিধা ও কাজের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অধিকাংশ নারীই আজকাল অসমতল জুতোই পরেন।   যাক- আপাতত: বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের প্রজ্ঞাপন বাতিল হয়েছে। কিন্তÍ এই লেখাটিতে ইরাণে ইসলামী বিপ্লবের আগে-পরে- যে ‘বাম নারীরা ‘একনায়ক শাহে-র বিরুদ্ধে খোমেনীকে সমর্থন দিয়েছিলেন, সেই ‘একনায়ক শাহ’ নারীমুক্তির জন্য কি কি করেছিলেন এবং ইরাণ বিপ্লবের পরে ‘বাম উদারপন্থী নারীÕদের কাঙ্খিত খোমেনী সরকার তাদের জন্য কি করলো, সেটাই গ্রথিত হয়েছে।   মুশতাক আবু মুনাফ তাঁর Women’s Dress in Iran: From the Islamic Sitr to the Political Hijab প্রবন্ধে  জানাচ্ছেন…

তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন মহান নেতা, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ছাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ইতিহাসের সত্যের সাথে প্রতারণা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে ইতিহাস বিকৃতির এক উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা শারমিন আহমদ বিভিন্ন বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। কখনও তিনি সরাসরি দাবি করছেন, কখনও সন্দেহজনক উৎস থেকে উদ্ধৃতি টেনে প্রমাণ করতে চাইছেন—মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নাকি অতিরঞ্জিত।

Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and Tajuddin Ahmed

কেন এই সম্পাদকীয় লেখা জরুরি হয়ে উঠলো? তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন মহান নেতা, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ছাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ইতিহাসের সত্যের সাথে প্রতারণা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে ইতিহাস বিকৃতির এক উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা শারমিন আহমদ বিভিন্ন বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। কখনও তিনি সরাসরি দাবি করছেন, কখনও সন্দেহজনক উৎস থেকে উদ্ধৃতি টেনে প্রমাণ করতে চাইছেন—মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নাকি অতিরঞ্জিত। এই প্রচেষ্টা শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয়, তাজউদ্দীন আহমদকেও একটি ভুল প্রেক্ষাপটে দাঁড় করায়, যা ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবমাননাকর। এসব দাবি তথ্যবিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর স্থান অপরিহার্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত, এবং তা অস্বীকার করা মানে স্বাধীনতার দীর্ঘ লড়াইয়ের মূল চেতনাকেই অস্বীকার করা। তাই এ লেখা একপ্রকার দায়বদ্ধতা—জাতির গৌরবময় ইতিহাস রক্ষা ও সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস। এই সম্পাদকীয় কোনোভাবেই তাজউদ্দীন আহমদের অবদান অস্বীকার করে না; বরং তাঁকেও তাঁর যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করেই ইতিহাসের বিকৃতি রোধ করতে চায়। তাজউদ্দীন আহমদ আজ বেঁচে থাকলে, ইতিহাস বিকৃতির এই প্রবণতার বিরুদ্ধেই তিনিও সোচ্চার

হতেন। মুক্তাঙ্গন ………… বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতার লড়াই ছিল না — ছিল নেতৃত্ব, ত্যাগ ও আস্থার এক অভূতপূর্ব সমবায়। সেই ইতিহাসে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী, কামরুজ্জামান অবিসংবাদিত নাম। কিন্তু তাঁদের নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ, দুঃখজনকভাবে, এই সত্যটিই বিকৃত করার চেষ্টা চলছে।  কোনো সন্দেহই নেই যে তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন একজন মহান নেতা, যেমন ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই চার নেতার মধ্যকার দৃঢ় বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের প্রতি বাংলাদেশের নাগরিক মাত্রেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার প্রশ্ন রয়েছে। তবে এই নির্ভেজাল কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সময় বিস্মৃত হলে চলবে না যে এই চার মহান নেতার নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শুধু এই চার নেতার গুরু ছিলেন না, তিনি ছিলেন বঙ্গোপসাগর বিধৌত বদ্বীপে বসবাসকারী সকল মুক্তিকামী মানুষের কান্ডারী। তাই আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে সকলের অবদান ছাপিয়ে বঙ্গবন্ধু ঋজু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন যা কখনোই ম্রিয়মান হবার নয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বল্গাহীনভাবে ‘অস্বীকৃতির সংস্কৃতি’ চলছে, যা শুধুমাত্র একজন…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.