বাংলাদেশে সদ্য জনপরিসরে উন্মোচিত “বাংলাদেশ সনদ” আন্দোলনের অঙ্গীকারনামায় “সমাজতন্ত্র” শব্দটির অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এতদিন বিতর্ক জারী ছিল, এখন আচমকা বিজ্ঞ জনসমাজ সমাজতন্ত্র বিষয়ে উদ্যোক্তাদের নিয়ত কি সে প্রশ্ন করছেন । কেউ এটিকে আকস্মিক বিয়োজন ধরে নিয়েছেন। কেউ আবার এটির অনুল্লেখ আদর্শিক বিচ্যুতি বলেও মনে করছেন। যা স্বাভাবিক। কিন্তু এই অনুল্লেখ একটি বড়ো কাজ করে ফেলেছে। আচমকা জনপরিসরে চলমান মুমূর্ষু গণতন্ত্রকে নিয়ে ভাবছে না, তার চেয়ে বেশি ”সমাজতন্ত্র” ধারণাটি নিয়ে মানুষ নাড়াচাড়া শুরু করেছে। https://www.bangladeshcharter.org/our-journey/ এ প্রসঙ্গে বাংলার গত শতাব্দীর ইতিহাস নিয়েও একটু নাড়াচাড়া করা যাক। কি বলেন? ইতিহাস কি জানায় আমাদের? ইতিহাসের তথ্য উপাত্ত জানায় যে—সমাজতন্ত্র এই বাংলায় হঠাৎ নাজেল হওয়া কোনো চেতনা নয়। এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, শ্রেণীগত বাস্তবতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা এক চেতনা, যা বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম একটি মূলনীতি। ভুললে চলবে না যে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যূদয়ের অন্যতম কারণ।১৯৬০-এর দশকের পূর্ব-পাকিস্তান ছিল গভীরভাবে অসাম্য চর্চার এক রাষ্ট্র। সে রাষ্ট্রের সমাজ ছিল আশরাফ-আতরাফ, উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণ, এ জাতীয় নানা স্তরে বিভক্ত। এর মধ্যে

জনসাধারণের বিপুল অংশ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন কৃষিসমাজের জনগণ। আশরাফ মুসলমান চালিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় মদদে গভীর থেকে গভীরতর করে তোলা অসাম্যের ছোবলে সমাজ ক্ষত-বিক্ষত ছিল। একদিকে পাকিস্তানের পশ্চিম অংশকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও পুঁজি সঞ্চিত হচ্ছিল। পুঁজি আসতো পূর্বাঞ্চল থেকে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চল, অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব-বাংলার কৃষক, শ্রমিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর কাঠামোগত বঞ্চনা ক্রমে তীব্র হয়ে উঠছিল। পাট, কৃষি ও শ্রমশক্তি থেকে উৎপন্ন সম্পদ চলে যেত কেন্দ্রের ( পশ্চিমাঞ্চলের) দিকে। কিন্তু বিনিয়োগ ও উন্নয়ন আসতো না পূর্ব-বাংলায়। এই বাস্তবতায় “শ্রেণী” কোনো তাত্ত্বিক শব্দ ছিল না—এটি ছিল বাংলার জনগণের প্রাত্যহিক জীবনের অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি এই প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের হাল ধরে ছিলেন যে নেতৃত্ব, তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলায় যিনি স্বদেশের জনগণের ”বঙ্গবন্ধু” ডাকের ভেতর দিয়ে বিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তার দলীয় ৬ দফা কেবলমাত্র সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল না। এর ভেতরে ছিল অর্থনৈতিক ক্ষমতার পুনর্বণ্টনের দাবি। রাজস্ব, মুদ্রানীতি, বাণিজ্য—সবকিছুর ওপর আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন। অর্থাৎ, এক ধরণের অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা তিনি ভেবেছেন, যা সরাসরি…

ফেব্রুয়ারী ২০২৬ এর গণভোট অত্যন্ত অনিশ্চিত অবস্থা তৈরী করেছে এবং এ আয়োজনের পেছনে রয়েছে জুলাই সনদ ও ১৯৭১-এর মহতী জনযুদ্ধ থেকে জাত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র বিরোধী গোষ্ঠীসমূহের আগামী পরিকল্পনা। রাষ্ট্রের কাঠামো বদলানো, রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক দিক নির্ধারণ করা বা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া সাধারণত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেটের মধ্যে পড়ে না। গণভোটের মাধ্যমে এ জাতীয় বড় ধরণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার নিতে যাচ্ছে জামায়াত ও তার নিয়োগপ্রাপ্ত মুহাম্মদ ইউনুস। এ ধরণের পদক্ষেপ গৃহীত হবে সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করে। বিশ্বের উদাহরণ থেকে বলা যায়, এ ধরণের আয়োজন সরকারের ও রাষ্ট্রের জন্য এক বা একাধিক ঝুঁকি তৈরি করে—বিশেষ করে যখন সংসদ অনুপস্থিত বা দূর্বল থাকে (বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৭ ও ১১)। ঠিক এই সীমাটিই অতিক্রম করেছে মুহাম্মদ ইউনুস ও তার পাপেট সরকার। গণভোটে হাঁ দেয়ার অর্থ সাংবিধানিক সীমা অতিক্রমে তার অনৈতিক ও বেআইনী পদক্ষেপগুলোকে দায়মুক্তি দেয়ার সুযোগ। তা এক কূ-দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এ সরকারকে এসব পদক্ষেপগ্রহণে ছাড় দেয়ার মানে, এরপর যে কেউ তার একক সিদ্ধান্তে সংবিধান, রাষ্ট্র ও দেশ নিয়ে ’যা খুশী, তাই’ করতে পারবে। রাষ্ট্রবিরোধী চক্র দেশের সার্বভৌমত্ব বিলিয়ে দিতে পারবে, গণতান্ত্রিক দেশের সংবিধান ধ্বংসের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-কাঠামোর মৌলিক চরিত্র সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশ কি এ ঝুঁকি নিতে চায়?  

বাংলাদেশ পর্ব এক. বাংলাদেশে এখন “গণভোট” শব্দটি শুনতে কারু কারু কাছে আকর্ষণীয় বোধ হতে পারে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা, চরম অবিশ্বাস, মাসের পর মাস ক্রমাবনতির দিকে যেতে থাকা অর্থনৈতিক অচলাবস্থা এবং কষ্ট-ক্লান্তির মধ্যে গণভোটকে কেউ কেউ হয়তো এক ধরণের শর্টকাট সমাধান হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এ ভাবনাটি ভুল। এই মুহূর্তে গণভোট সমস্যার সমাধান নয়, সমস্যাকে আরো জটিল ও ঘণীভূত করার পায়তাড়া। এ কথা গণ্য—গণভোট গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। কিন্তু সব গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সব পরিস্থিতিতে কার্যকর হয় না। ইতিহাস বলছে, বিভক্ত সমাজে, দুর্বল প্রতিষ্ঠানে, আর অনির্বাচিত শাসনের অধীনে গণভোট প্রায়ই নতুন সংকট তৈরি করে (IDEA, 2022)। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারীতে যে “গণভোট“ সংঘটনের তোড়জোড় চলছে, তা ভালো না খারাপ সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায় দেশের বিরাজমান বাস্তবতায় গণভোট একটি Worst case Scenario. গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও গণভোটের কার্যকারিতা, যে বিষয়েই কথা বলুন না কেন, প্রেক্ষাপটই সবকিছু নির্ধারণ করে। দুই. কীভাবে এটি Worst case Scenario? পাঁচটি দিক থেকে বিচার করা যায় যে আগামী গণভোট গোটা দুনিয়ার গণভোটের ইতিহাস বিচারে একটি মন্দতম পদক্ষেপ। শুরু করা যাক এই মৌলিক প্রশ্ন

দিয়ে—কে গণভোট আয়োজন করছে , কোন ক্ষমতাবলে এবং জনগণের সাথে তার কি সম্পর্ক? গণভোট আয়োজন করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার এক ধরণের ট্রানজিশনাল বা ক্ষমতার পালাবদলকালের সহায়ক সরকার। এ সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরী করা যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করে নির্বাচন সুসম্পন্ন করতে পারে। অন্য কথায়, এ সরকার মাঠ তৈরী করবে, সব খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং নিরপেক্ষ থাকবে। রাষ্ট্রের কাঠামো বদলানো, রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক দিক নির্ধারণ করা বা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেটের মধ্যে পড়ে না। গণভোটের মাধ্যমে বড় ধরণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করে। এটা সরকারের ও রাষ্ট্রের জন্য এক বা একাধিক ঝুঁকি তৈরি করে—বিশেষ করে যখন সংসদ অনুপস্থিত বা দূর্বল থাকে (বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৭ ও ১১)। ঠিক এই সীমাটিই অতিক্রম করেছেন মুহাম্মদ ইউনুস ও তার পাপেট সরকার। গণভোটে হাঁ দেয়ার অর্থ সাংবিধানিক সীমা অতিক্রমে তার অনৈতিক ও বেআইনী পদক্ষেপগুলোকে দায়মুক্তি দেয়া।…

সাধারণ জনগণের বিশেষ করে তরুণ সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে। সেই নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর মহাজোট সরকার শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করে Į যাদের অধিকাংশই ছিলেন জামায়েতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। অন্য দলেরও দুএকজন ছিলেন। সেই থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি তাদের আক্রোশ নতুন করে শুরু হল। তাদের ধারণা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে অন্য কেউ এ ধরনের বিচার করার সাহস পেত না। কথাটা একবারে অমূলক নয়। কারণ ফাসির রায় কার্যকর না করার জন্য খোদ আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা রায় কার্যকর করায় অবিচল ছিলেন। এ জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি জামাত সমর্থিত বর্তমান সরকারের ও আইসিটি কুশীলবদের আক্রোশের মাত্রাটা সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ নিয়েও নানা বিতর্ক। যে মৃত্যু সংখ্যাকে ঘিরে এই বিচারের প্রহসন সেটিও তো ক্রমে অসত্য হিসেবে উদঘাটিত হলো। কিন্তু আইসিটি সেই মিথ্যে তথ্যেরে ওপর ভিত্তি করেই রায় প্রদান করলো।

এক.বাংলাদেশে ড: মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ।আর যেভাবে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে তার কোন বৈধতাই নেই। সুতরাং রায় কি হল তা নিয়ে আলোচনা অনর্থক। তবুও প্রশ্ন, কেন এত তড়িঘড়ি করে কোন নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই এ ভাবে ফাসির রায় ঘোষণা করা হল? যারা এই রায় ঘোষণা করেছেন তারাও জানেন নিয়মকানুন মেনে এই রায় ঘোষণা করা হয় নাই। তবে কেন? এর অন্যতম প্রধান কারণ—প্রতিহিংসা, আক্রোশ এবং জিঘাংসা। কিসের এই জিঘাংসা? সেটা জানতে আলোচনাটা শুরু করতে হবে একটু পিছন থেকেই।নব্বই দশক থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারটি বেশ জোরেশোরেই আলোচনায় আসতে থাকে, বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে।উল্লেখ্য যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে জামায়েতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, মুসলিম লীগ এবং পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি(পিডিপি) সরাসরি পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে সমর্থন এবং সহযোগিতা করে। জামায়েতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ (বর্তমান নাম ইসলামী ছাত্র শিবির) ক্যাডার ভিত্তিক আলবদর বাহিনী গঠন করে পাকিস্তানী জান্তার সাথে সরাসরি যুদ্ধের সময় হত্যা ও নির্যাতনে জড়িত ছিল। রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিলেন জামায়েতে ইসলামী নেতা মৌলানা একেএম ইউসুফ যিনি

যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী (আপিল শুনানি চলছিল) হয়েও কিছুদিন আগে বেকসুর খালাস পেয়ে জেল থেকে মুক্তি পান।এমতাবস্থায় নিজ দলের এবং সাধারণ জনগণের বিশেষ করে তরুণ সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে। সেই নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর মহাজোট সরকার শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করে Į যাদের অধিকাংশই ছিলেন জামায়েতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। অন্য দলেরও দুএকজন ছিলেন। সেই থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি তাদের আক্রোশ নতুন করে শুরু হল। তাদের ধারণা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে অন্য কেউ এ ধরনের বিচার করার সাহস পেত না। কথাটা একবারে অমূলক নয়। কারণ ফাসির রায় কার্যকর না করার জন্য খোদ আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা রায় কার্যকর করায় অবিচল ছিলেন। এ জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি আক্রোশের মাত্রাটা সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক চেতনার একজন অন্যতম অগ্রদূত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ ও লালন করার বিশ্বস্ত প্রহরী। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার দৃঢ়তা ও দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত। তদুপরি…

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাংবাদিক নির্যাতনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন ঘটেছে। শুধু পদ্ধতিগত পরিবর্তনই নয়, সংখ্যার বিচারেও ইউনূসের শাসনামলে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বিগত ১০ বছরের তুলনায় অনেক বেশি। আওয়ামী লীগের তিন মেয়াদের মোট ১৫ বছরের শাসনামলের মধ্যে শেষ ১০ বছরে ঘটে যাওয়া সাংবাদিক নির্যাতনের প্রাপ্ত ডাটা সাথে ইউনূসের অবৈধ সরকারের মাত্র নয় মাসের ডাটার তুলনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ২০১৩-২০২৪ এর জুলাই পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই)। এই সময়ে ৩১৮টি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যখন অবৈধ ইউনূস সরকার ক্ষমতা দখল করলো, তখন ২০২৪ সালের পরবর্তী পাঁচমাসে (আগস্ট-ডিসেম্বর) সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৬৭১টি—অর্থাৎ পূর্ববর্তী সাত মাসের দ্বিগুণেরও বেশি।

মিডিয়া শিক্ষা আয় তোর প্রশ্নটা শুনি, আয় দেখি গলা টিপে ধরে, দেখি কত বাকস্বাধীনতা আছে তোর মিডিয়ার ঘরে। কত দিকে ন্যারেটিভ পাল্টে, কত কথা দিয়েছি যে চাপা, মিডিয়ার যা তা করা প্রশ্নে, সবকিছু বের হচ্ছে ফাঁপা। মন তোর কোন দেশে থাকে রে, কেন তুই ভুলে যাস কথা— দেখিস না আর সব মিডিয়া, লিটনের ফ্ল্যাটে যায় একা। টোল খাওয়া ছাতাপড়া মাথাটা, টুপি দিয়ে ঢেকে রাখি বিলকুল, সংবাদ প্রকাশের দায়েতে, জেলখানা সব আজ হাউসফুল। কাৎ হয়ে কান ধরে দাঁড়া, দীপ্ত কী এটিএন চ্যানেল আই জুলাইয়ের ঝোল খেয়ে ঝুলে যা, আমি আর ফ্যাসিজম ভাই ভাই। মিডিয়াকে বাঁশ দেওয়া সেরে, নোবেলের গোলাখানি চুষিয়ে, মানবিক করিডোরে গান গাই, প্রেসক্লাব দেখে দাঁত কেলিয়ে। (সুকুমার রায়ের বিজ্ঞান শিক্ষা ছড়া অবলম্বনে) https://www.youtube.com/watch?v=T620MV7VM0g “জান ও জবানের স্বাধীনতা” এনে “দায় ও দরদের রাজনীতি” প্রতিষ্ঠার ছবক দেওয়া ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন মিডিয়ার সামান্য দুয়েকটি সহজ-সরল প্রশ্নও সহ্য করতে পারছে না। গত নয় মাসে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কর্তৃত্ববাদের চূড়ান্ত নজির আমরা দেখেছি। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে জেল-জুলুম আর মিথ্যা মামলা তো আছেই, সেই

সাথে চলেছে একের পর এক গণমাধ্যমগুলোর মালিকানা দখলের মহড়া। সরকারের সৃষ্ট মব দিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে নিজেদের লোক নিয়োগ, ইচ্ছেমতো সাংবাদিক ছাটাই, দেশের সার্বিক দুঃসহ পরিস্থিতি চাপা দিতে নির্লজ্জ মিডিয়া-সেন্সর এবং সবশেষে গত ২৮ এপ্রিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে শুধুমাত্র প্রশ্ন করার অপরাধে দীপ্ত টেলিভিশন, এটিএন বাংলা ও চ্যানেল আই—তিনটি বেসরকারি চ্যানেলের সাংবাদিককে ২৯ এপ্রিল জোরপূর্বক চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে1। শুধু তাই নয়, ইউনূস সরকারের চাপে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ত টিভি তাদের সংবাদ কার্যক্রমও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ2। গত ৫ আগস্টের পর থেকে সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশের একটি প্রাত্যহিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। একে তো ড. ইউনূস ক্ষমতা দখলের পরই দেশের গণমাধ্যমগুলোতে নেমে এসেছে শকুনের নীরবতা। সারাদেশে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামাত-শিবির ও তাদের দোসরদের এবং সমন্বয়ক সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের নির্বিচার সন্ত্রাসের কোনো সংবাদই আমরা দেশের গণমাধ্যমে দেখতে পাই না। এমনকি দেশজুড়ে ৫ আগস্টের পর থেকে নারীর বিরুদ্ধে যে ভয়ানক সন্ত্রাস শুরু হয়েছে, সে সম্পর্কেও গণমাধ্যমগুলোতে কোনো সংবাদ বা ফলো-আপ নিউজ নেই। ‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ নিজেই এখন অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু হয়ে গেছে। সমন্বয়ক…

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বরাবর দাবি করে আসছে যে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমন করা হচ্ছে। আর বর্তমান সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে বলছে যে, সংগঠনটি যাদের কথা বলছে তারা ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে নয়, তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে অপরাধের শিকার হচ্ছেন। এই প্রবন্ধে রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে টার্গেট করা ব্যক্তির সঙ্গে যখন ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে টার্গেট করা ব্যক্তির তুলনা করা হয়েছে এবং সরকারের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, সেটি খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গত ৩০ জানুয়ারি তারিখে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ১৭৪টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৩টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরপরই, বর্তমান ইউনূস সরকার তাদের প্রতিক্রিয়ায়, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গুজব ও ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে। তাদের দাবি, হত্যার শিকার ব্যক্তিদের কাউকেই তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হত্যা করা হয়নি, বরং এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে- রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জমি বিরোধ বা সাধারণ অপরাধ রয়েছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সাথে না নিয়ে, এমনকি কোনরকম তদন্ত ছাড়াই সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদনটি নাকচ করে দেওয়া হয়। যদিও বর্তমান ইউনূস সরকারের এই প্রতিক্রিয়ায় বিষ্মিত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই, কেননা ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারের এ ধরনের দ্বায়িত্বহীন আচরণে দেশবাসী অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। আর তাদের এ ধরনের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এটিই প্রমাণ করে যে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোনও

অভিযোগের ক্ষেত্রেই তারা ‘প্রথমেই অস্বীকার ও খারিজ’ করার নীতি গ্রহণ করেছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ।      গত ডিসেম্বরে বর্তমান প্রেস সচিব বা আরও স্পষ্ট করে বললে,সরকারের ‘মুখপাত্র’, একইভাবে অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করেছিলেন। উদ্বেগজনক হলেও সত্য, সরকারের এ ধরনের দায়িত্বহীন প্রতিক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীকে ভারতের দালাল কিংবা দেশটির সহানুভূতি বা মনোযোগ আকর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে কয়েকজন ইউটিউবারকে (যেমন টু সেন্ট পডকাস্ট), মদদ জুগিয়েছে। এই বাস্তবতায় বৃহৎ পরিসরে যে প্রশ্ন মনে উঁকি দেয় তা হলো, একটি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর সেটি রাজনৈতিক নাকি ধর্ম-ভিত্তিক অপরাধ সেটি আসলে কীসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়? গত ৮ আগস্টের পর থেকেই বর্তমান ইউনূস সরকার ক্রমাগত যুক্তি দিয়ে যাচ্ছে, দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বেশিরভাগই ঘটছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য। আর তাদের এই ঠুনকো যুক্তিতে মনে হয় যেন, রাজনৈতিক কারণে কাউকে হত্যা করা কোনও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না!   রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের পেছনের অনুপ্রেরণা ও উদ্দেশ্য প্রকৃতপক্ষে আলাদা, যদিও সেগুলো কখনো কখনো একটি অপরটিকে প্রভাবিত…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.