পিগমীরা জগতের অন্যতম সংস্কৃতিবান মানুষ। তাঁরা এক চমৎকার জীবন যাপন করেন, যে জীবন পবিত্রতার।

পিগমী পিগমীরা জগতের অন্যতম সংস্কৃতিবান মানুষ। তাঁরা এক চমৎকার জীবন যাপন করেন, যে জীবন পবিত্রতার। তাঁরা কর্মব্যস্ত ও উৎপাদনশীল মানুষই শুধু নন, সুখী ও স্বাস্থ্যবান মানুষও বটে। তাঁরা আমাদের মত আলসার, ক্যান্সার ও হৃদরোগে জর্জরিত নন। তাঁরা মানসিক অসুস্থতা ও মনোরোগের অভিযোগও করেন না। তাঁরা অস্তিত্ব রক্ষার কলা ও কৌশল আয়ত্তকরণে পরিপূর্ণভাবে নিয়োজিত। আধুনিক অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি, জ্ঞানবিজ্ঞান ও কারিগরিবিদ্যা ছাড়াই তাঁরা দিব্যি প্রকৃতির সঙ্গে, নিজের ও ইশ্বরের সঙ্গে পরিপূর্ণ একাত্মতার জীবন যাপন করেন। তাঁরা জানেন যে আধুনিক মানুষের আবিষ্কারসমূহ তাঁদের সমাজে প্রযুক্ত হলে তাঁরা নিজেদের জন্য যে নিখুঁত ভারসাম্য অর্জন করেছেন তা ব্যাহত হবে, তাই তাঁরা বাইরের সাহায্য নিতে অস্বীকার করেন, যা আমার বিবেচনায় দারুণ একটা ব্যাপার। কালো আফ্রিকীদের জন্যও তাঁদের কোন শ্রদ্ধা নেই কেননা তারা শাদা মানুষদের দাসত্ব মেনে নিয়েছে। পিগমীরা সম্পূর্ণ স্বনির্ভর জাতি যা নিয়ে নিঃসন্দেহে আমরা গর্ব করতে পারি। আমাদের মত বামনাকার আমেরিকানদের যদি তাঁদের অবস্থায় বাস করতে হত তাহলে আমরা একদিনেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতাম। আমরা চীৎকার চ্যাঁচামেচি করে সাহায্যর জন্য কান্নাকাটি করতাম। তারপরও আমরা গর্ব করে বলি আমরা কত সভ্য, স্বাধীন, স্বনির্ভর ও অগ্রসর জাতি! আপনারা যদি আদিম মানুষদের জীবন নিয়ে অধ্যয়ন করেন তাহলে দেখবেন আমাদের কারিগরী অর্জন ও অগ্রসরতার কারণে কতটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছি। যাদেরকে সে বর্বর বলে তাদের কাছ থেকে অনেক শেখার রয়েছে তথাকথিত আধুনিক মানুষদের। আমরা পৃথিবীর চল্লিশ শতাংশেরও বেশি সম্পদ ধ্বংস করে ফেলেছি এবং এর কোন শেষও দেখা যাচ্ছে না। এইভাবে একদিন যখন সব সম্পদ নিঃশেষিত হয়ে যাবে তখন আমাদেরকে এই আদিম মানুষদের কাছে গিয়েই নিতে হবে প্রাণধারণের শিক্ষা। ঘাসের শেষ ডগাটি পর্যন্ত খেয়ে শেষ করে ফেলার আগে আমাদের এই পিগমীদের জীবনকে অধ্যয়ন করা উচিৎ। আমাদের বেঁচে থাকার চাবিকাঠি এই মানুষগুলোর হাতেই, যাঁরা তিল থেকে তালের জন্ম দিতে জানেন এবং জানেন কী করে স্বল্পতম সম্পদ নিয়েও পরিপূর্ণ সুখী হতে পারা যায়। জাপানীরা জাপানী নারীদের কথা আমি বহুবার বলেছি। আমি ফিরে ফিরে তাদের প্রশংসা করেছি। কিন্তু আমাকে বলতেই হবে যে জাপানী পুরুষেরা হচ্ছে নিকৃষ্টতম। জাপানী পুরুষদের ওপর আমার কোন বিশ্বাস নেই। তারা খুবই অশ্লীল ও চাষাড়ে হতে পারে, অথচ মুখে তাদের চিরকালীন…

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এর মফিদুল হক বর্ণনা করছেন ঐতিহাসিক এই প্রথম দিনের চাক্ষুস অভিজ্ঞতা ...। চালু হয়ে গেল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কার্যক্রম, আমি বিস্ফারিত চোখে রুদ্ধশ্বাস হয়ে দেখছিলাম ইতিহাসের এই অপরূপ উদ্ভাবন[....]

মফিদুল হক লিখেছেন প্রথমদিনের চাক্ষুস অভিজ্ঞতা। ২৬ জুলাই সোমবার ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সকাল সাড়ে দশটায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকক্ষে প্রবেশ করলেন তিন বিজ্ঞ বিচারক। আইনজীবী, কৌসুলী, আদালত কর্মকর্তা, দর্শক, সাংবাদিক সকলে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানালো বিচারপতিদের। আসন গ্রহণ করবার পর তিন সদস্যের প্যানেলের প্রধান বিচারপতি নাজমুল হক ট্রাইবুন্যালের প্রধান কৌসুলীকে তাঁর বক্তব্য পেশ করতে বললেন। প্রবীণ আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপু তাঁর নির্ধারিত স্থানে উঠে গিয়ে বক্তব্য প্রদান শুরু করলেন। চালু হয়ে গেল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কার্যক্রম, আমি বিস্ফারিত চোখে রুদ্ধশ্বাস হয়ে দেখছিলাম ইতিহাসের এই অপরূপ উদ্ভাবন। বাংলাদেশে একাত্তর সালে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের সংহারক বাহিনী গঠন করে যারা ঘৃণ্য অপরাধ কর্ম করেছে তাদের চারজন নিজামী, মুজাহিদ, কামরুজ্জামান ও কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগের মাত্রা মেলে ধরতে লাগলেন গোলাম আরিফ টিপু। ইউর লর্ডশিপ, বলে গোড়াতে এক সংক্ষিপ্ত বাক্যে তিনি স্মরণ করলেন সেই সমস্ত মহান শহীদদের যাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমার আপনার সবার প্রিয় বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এই সূচনা বিশাল এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রা সূচিত করলো। এই যাত্রা বিচারহীনতা থেকে বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে, সত্য ও ন্যায়ের বিজয় নিশ্চিত করবার দিকে। বিচার যখন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো, দাঁড়িয়ে উপস্থিত সবাই সম্মান জানালেন বিচারপতি ও আদালতকে, তখন মনে হচ্ছিল শতবর্ষী লাটভবনে স্থাপিত বিচারশালায় উপস্থিতজনেরা কেবল নয় গোটা বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষ উঠে দাঁড়িয়েছে একত্রে, যে যেখানে রয়েছে সবাই যেন দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাচ্ছে আদালতকে। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে নব-নির্বাচিত সংসদ সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় - গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা যত বলবানই হোক, আন্তর্জাতিক চাপ ও সমর্থনে অপরাধীরা সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের নাগালের বাইরে চলে গেলেও বিচারের দাবির বাইরে তারা কখনো যেতে পারবে না। সঙ্গতভাবেই গণহত্যার মূল হোতা পাকিস্তানি শাসক ও সামরিক গোষ্ঠী ছিল আইনের প্রধান লক্ষ্য, সেই সাথে ছিল তাদের সহযোগী ও তাদের দ্বারা লেলিয়ে দেয়া হন্তারক বাহিনী হিসেবে ধর্মান্ধ মৌলবাদী দেশীয় গোষ্ঠীর সম-অপরাধমূলক ভূমিকার বিচার অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে রক্তস্নাত জাতি ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর যাত্রা শুরু করেছিল সেই চেতনা এবং মাহাত্ম্য ১৯৭৩ সালে গৃহীত এই আইনের পরতে পরতে মিশে আছে। তারপর বইয়ে দেয়া হলো কত…

জামায়াত-শিবির আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে,- ঠিক এরকম আশঙ্কাই জেগেছিল যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবি ক্রমাগত জোরদার হওয়ার ঘটনা থেকে; এখন দেখা যাচ্ছে গ্রেফতার হওয়ার আগে-আগে জামাত নেতা কামারুজ্জামানও ওরকমই বলে গেছে[....]

এক. জামায়াত-শিবির আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে,- ঠিক এরকম আশঙ্কাই জেগেছিল যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবি ক্রমাগত জোরদার হওয়ার ঘটনা থেকে; এখন দেখা যাচ্ছে গ্রেফতার হওয়ার আগে-আগে জামাত নেতা কামারুজ্জামানও ওরকমই বলে গেছে, দলের কর্মীদের প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে পরোক্ষে ওরকম এক নির্দেশই রেখে গেছে। ক্রিশ্চিয়ান সাইন্স মনিটর পত্রিকার সঙ্গে ওই আলাপচারিতায় কামারুজ্জামান বলেছে, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্যে তারা আইনি পন্থাই অবলম্বন করবে, তবে সরকার যদি তাদের হয়রানি করে তা হলে বলা যায় না, তরুণ অনুসারীরা চরমপন্থা বেছে নিতে পারে। কামরুজ্জামান আরও বলেছে, এরকম স্পর্শকাতর ইস্যুতে অপেক্ষাকৃত তরুণদের নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। এমনও হতে পারে যে, এদের অনেকে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে পারে। অবশ্য ক্রিশ্চিয়ান সাইন্স মনিটরের কাছে কামারুজ্জামান এরকম আশঙ্কা প্রকাশের অনেক আগে থেকেই আমরা দেখে আসছি, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ আন্ডারগ্রাউন্ডের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। জেএমবির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক খুবই সুস্পষ্ট। মুক্তিযুদ্ধে গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, কাদের মোল্লারা খুনি হওয়ার দীক্ষা নিয়েছিল; আর উত্তরসূরি শিবিরপ্রজন্মের জন্যে তারা রগকাটার প্রশিক্ষণই যথেষ্ট নয় জেনে উন্মুক্ত করেছিল জেএমবি। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিংবা আওয়ামী লীগের কোনও কোনও নেতা যতই শিবিরপ্রজন্মকে ছবক দিন না কেন, তোমরা তো বাবা যুদ্ধাপরাধী নও, তোমরা কেন, এইসব যুদ্ধাপরাধীদের দায় নিতে যাবে- এসবই বিফলে যাবে; কেননা যুদ্ধাপরাধীরা তাদের মতো করেই প্রস্তুত করেছে তাদের পরবর্তী বাহিনীকে। কামারুজ্জামানের এই কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যারা চান, তাদের কাজের পরিধি আরও বেড়ে গেছে। কামারুজ্জামান গ্রেফতারের আগে ঘোষণা দিয়ে গেল, আচানক হামলা হবে, একাত্তরের মতোই; আবারও আমাদের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিভাবান দেশপ্রেমিক মানুষগুলিকে রাতের অন্ধকারে অথবা দিনের আলোতেই গুপ্ত হামলা চালিয়ে হত্যা করা হবে, যুদ্ধাপরাধী পালের গোদাগুলিতে বাঁচানোর জন্যে তাদের চেলারা মাটির নিচে চলে গেলেও যতটুকু করা সম্ভব সব টুকুই করবে। তাই এদের যদি আমরা থামাতে চাই, আমাদেরও সঠিক প্রস্তুতি নিতে হবে। শান্তির ললিত বাণী কখনো কখনো ব্যর্থ পরিহাস হয়ে ওঠে, আমাদের বোধহয় আমরা অচিরেই সেরকম এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। দেখা যাচ্ছে, মুখে জামায়াতে ইসলামী যতই বলুক না কেন- যুদ্ধাপরাধী ইস্যু নিয়ে সরকার রাজনীতি করছে, আসলে সবচেয়ে বেশি রাজনীতি তারাই করেছে, তাই সব রকম রাজনৈতিক প্রস্তুতিই তাদের নেয়া হয়ে গেছে। এমনকি ভূ-গর্ভে গিয়ে রাজনীতি করার মতো যাবতীয় প্রস্তুতিও…

নরমান মেইলার একজন নেশা-ধরানো, মজার মানুষ। ইস্পাতের ফাঁদের মত মন তাঁর।

ওয়াল্ট হুইটম্যান আমার বন্ধু অ্যাবে রাটনার আর আমি যখন আমাদের আমেরিকাব্যাপী এয়ারকন্ডিশন্ড নাইটমেয়ার যাত্রা শুরু করি তখন আমরা ছিলাম লং আইল্যান্ড-এ, ওয়াল্ট হুইটম্যান যে খামারে জন্মেছিলেন সেটা থেকে খুব একটা দূরে নয়। আমরা ঠিক করি যাত্রা শুরু করার আগে তাঁর জন্মস্থানের পাশ দিয়ে গিয়ে আমাদের শ্রদ্ধা জানাবো। কথামত তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা গাড়ির গতি কমিয়ে মাথার টুপি খুলে নিই, তারপর দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে, মৃদু হেসে আমাদের অভিযান শুরু করি। আমার আমেরিকা পুনরাবিষ্কারযাত্রাটি এভাবে শুরু করাটাকেই সবচেয়ে সমীচীন বলে মনে হয়েছিল, এটা শুধু ওয়াল্ট হুইটম্যান হাড়েমজ্জায় একজন খাঁটি আমেরিকান ছিলেন বলেই নয়, গণতন্ত্রের প্রথম ও শেষ প্রতিভূ, একজন জনগণনন্দিত প্রকৃত জনগণের মানুষ, জনগণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ মানুষ ছিলেন বলেও। আমি হুইটম্যানকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম লেখক বলে মনে করি, এমনকি ইউরোপের যে-কোন শ্রেষ্ঠতমর চেয়েও শ্রেষ্ঠ । লীভ্স্ অভ গ্রাস একটি সত্যিকারের মাস্টারপীস, আত্মার সংগীতবিশেষ। তাঁর কবিতা সং অভ মাইসেল্ফ-এ স্বাধীনতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। এই মানুষটির তাঁর নিজের ও নিজের লেখার ওপর এতটাই বিশ্বাস ও আস্থা ছিল যে তিনি গেরস্থালি সামগ্রীর ফেরিঅলার মত দরজায় দরজায় ঘুরে তাঁর কবিতা ফেরি করতেন। আমি যখন প্রথম লেখা শুরু করি তখন তাঁর সাহসই ছিল আমার আত্মপ্রকাশের প্রেরণার উৎস। তিনি তাঁর জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছিলেন যে অনাহার ও জীবনসংগ্রামও গৌরবময় হয়ে উঠতে পারে যদি আপনি এর কাছে পরাজিত না হন। হুইটম্যানকে প্রায়শই সমকামী বলা হয়ে থাকে কিন্তু পুরুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল স্রেফ ভ্রাতৃসুলভ, তা কখনোই যৌনতাময় ছিল না। যৌনতার জগৎ থেকে তা অনেক উর্ধ্বে ছিল। তাঁর ছিল এক অদ্ভূত বিকিরণী ক্ষমতা, ভালোবাসার ও দান করার ক্ষমতা ছিল তাঁর এক কথায় সীমাহীন। তিনি ছিলেন একজন উল্লসিত মহাজাগতিক সত্তা- মানুষের কী হওয়া উচিৎ, কীভাবে চিন্তা করা ও বাঁচা উচিৎ তার সুন্দরতম দৃষ্টান্তবিশেষ। নুট হামসুন/এজরা পাউন্ড দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে নুট হামসুন ও এজরা পাউন্ড দুজনকেই উন্মাদাশ্রমে যেতে হয়েছিল তাঁদের কিছু মন্তব্যের কারণে। তাঁদেরকে হয়তবা জেলেই যেতে হতো, যদি না তাঁরা বৃদ্ধ এবং সম্মানিত লেখক হতেন। নুট হামসুন সবসময় তাঁর বইয়ে নরওয়েবাসীদের নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করতেন, ঠিক আমি যেরকম আমার বইয়ে মার্কিনিদের নিয়ে হাসি তামাশা করে থাকি। তিনি…

তাহলে অক্টোপাসের ক্ষেত্রে নিশ্চয় আরো বড় কোনো বাণিজ্য পেছনে আছে। ইউরোপে এই 'মিডিয়া কভারেজ' কী শুধু এমনি এমনি হচ্ছে![...]

সিদ্ধান্ত নিতে হবে -- খেলা দেখব না ভবিষ্যদ্বাণী শুনব। গত কয়েকদিন থেকে অক্টোপাস নিয়ে যা হচ্ছে তা বড় বেশি হচ্ছে। কোথাও এর অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে, অবশ্যই সেউদ্দেশ্য টাকা কামানোর সাথে জড়িত। ওই যে পাখির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গণনা করেন যে মুনিয়া পান সিঙ্গাপুরে, তার কয়েকটি ফুটবল ম্যাচে ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাওয়ায় যে তার আয় বেড়ে গেছে, সে সহজ হিসাবটা খুব সহজে চোখে দেখছি। তাহলে অক্টোপাসের ক্ষেত্রে নিশ্চয় আরো বড় কোনো বাণিজ্য পেছনে আছে। ইউরোপে এই 'মিডিয়া কভারেজ' কী শুধু এমনি এমনি হচ্ছে! সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে খেলা দেখার। বেশির ভাগ দর্শক খেয়ালই করেননি, কী কৌশলে বলের দখল রেখে গতিকে স্তব্ধ করে দিল স্পেন। কিন্তু তারপরও গোল পেতে তার কষ্ট হচ্ছিল, কারণ স্পেনের কোনো গোলদাতাই সে অর্থে 'ক্লিনিক্যাল' নন, এবারের স্পেনের অসাধারণ খেলোয়াড় পেদ্রো ও পিকে, ভিয়া নন। আর ওই খেলায় অপ্রতিরোধ্য গতির জার্মান এমন মুষড়ে পড়ল কেন? তারা বলের দখল নিয়ে তার গতি বাড়িয়ে দিয়ে স্পেনকে কাবু করতে পারেনি। প্রথমত এই তরুণ দলে সে অভিজ্ঞতার অভাব ছিল আর দ্বিতীয়ত এবারের জার্মান দলের সবচেয়ে অসাধারণ খেলোয়াড় মুলারের অনুপস্থিতি, -- শোয়াইনস্টাইগার, ওৎসিল ও মুলার, যেকোনো একজনকে হারালেই এই জার্মানির আক্রমণ ভোঁতা হবেই। জার্মান তরুণ দল তাদের আরো আরো আক্রমণভাগে এমন খেলোয়াড় চাই। তাহলেই স্পেনের 'অগতির গতি' আর তাদের এতো সহজে কাবু করতে পারবে না। আশা করি ফাইনালটা, আমরা একটা ফুটবল ফাইনাল হিসাবেই দেখব। ভবিষ্যদ্বাণীর খেল্ না দেখে বিশ্বকাপ ২০১০-এর শেষ খেলা হিসাবে দেখব। গতি নিয়ে, বলের দখল নিয়ে, খেলার কৌশল নিয়ে দুদল আমাদের কী দেখায় তা দেখব। সেসাথে কেউ অপকৌশলে খেলা জেতার চেষ্টা করে কিনা তাও দেখব। বিশেষ করে আমার আঙ্গুল 'রবেন'- এর দিকে তোলা থাকবেই কারণ আমি নিশ্চিত, সুযোগ পেলেই সে অপকৌশলের আশ্রয় নেবেই।

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.