চিনি ৬৫, চাল ৫৪, সয়াবিন তেল ১০৫ টাকা... রাতে বাসায় ফিরে গৃহকর্ত্রীর ঘোষণা শুনে চুপ করে বসে রইলাম [..]

চিনি ৬৫, চাল ৫৪, সয়াবিন তেল ১০৫ টাকা... রাতে বাসায় ফিরে গৃহকর্ত্রীর ঘোষণা শুনে চুপ করে বসে রইলাম। অনেকদিন মুদি দোকানের বাজারপাতির খোঁজ করি না। কাজীর দেউড়ী বাজারের একটা দোকান থেকে জিনিসপত্র পাঠিয়ে দেয় ফোন করলে। যখন যা লাগে ফোনে বলে দেয়া হয়, ওরা বাসায় পৌঁছে দেয়। একটা আরামদায়ক হোম সার্ভিস। দামাদামির তেমন অবকাশ নেই, দাম একটু বেশী দিতে হলেও মেনে নেই, কারণ সময়ের টানাটানি বেশী আমার। এই ব্যবস্থায় বাজারে জিনিসপত্রের দাম কিরকম ওঠানামা করছে আমার জানা থাকে না। আমি সংসারে মাসের বাজেট দিয়েই খালাস। কিন্তু কাল রাতে দামগুলো শোনার পর থেকে আমার কেমন যেন হাঁসফাঁস লাগছে। গলার টাইতে গিট্টু পড়লে যেমন অস্বস্তি, ঠিক তেমন। এই মাসের বাজেটে টান পড়বে নিশ্চিত। আবার ভাবি আমার মতো মোটামুটি সচ্ছল মানুষের যদি এই গিট্টু লাগে, যারা প্রান্তিক আয়ের মানুষ কিংবা তারও বহু নীচে যাদের বসবাস, তাদের কি অবস্থা? তাদের হাঁসফাঁসের শব্দ কি আমাদের কানে আসে না? পেটের দায় বড় দায়। পেটের দায়ে বাজারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশী। অথচ এই বাজার নিয়ে কোথাও তেমন উচ্চবাচ্য দেখি না। যতটা দেখি পেটের সাথে সম্পর্কহীন ইস্যু নিয়ে। দেশে বিদ্যুতের সংকট কাটছে না, গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে, অপরাধ বেড়ে গেছে, শেয়ারবাজারে কঠিন ধস, যে-কোন সময় আসবে ভূমিকম্পের ধস, একের পর এক নানান শঙ্কায় দেশটা কাবু। অথচ যাদের এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর কথা তাদের বদলে ঘামছে কোথাকার আবুল হোসেনের মাথা। তাদের মাথা ঘামে না, কারণ তাদের বাজারে যেতে হয় না, বাজার তাদের কাছে চলে আসে। বাড়ী ফেরার পর তাদের বউরা দোকানের লিস্টি নিয়ে আসে না। মানিব্যাগের টাকা বারবার গুনে দেখতে হয় না আর কদিন চলবে এই কটা নোট দিয়ে। গায়ে ফু দিয়ে রাজনীতির ময়দানে মাগনা লেকচার তাড়িয়ে বেড়ায় ধনবান নেতারা। অথচ এই ব্যাটারাই ক্ষমতায় যাবার জন্য মানুষকে হাজারো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয় নির্বাচনের সময়। মানুষ কি সেসব ভুলে যায়? গোল্ডফিশ মেমোরির জাতিটা এই সব দুষ্ট রাজনৈতিক দলকে পাঁচ বছরে একবার 'শিক্ষা' দিয়েই গণতান্ত্রিকভাবে তৃপ্ত। তারপর 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস' বাণী শুনে বাড়ী ফিরে দ্বিগুণ দামের বেগুন আর তিনগুণ দামের পেঁয়াজের ভর্তা খেয়ে ভাতঘুম যায় দুপুরবেলা। বাহ শান্তি। এবার বোকার মতো দুটো…

অভিযুক্তদের নাম তো বাজারে সবাই জানে, এই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার অনেক আগে থেকেই বাজার জানে কারা কারসাজি করেছে – তদন্তের মধ্য দিয়ে তো তাদের করসাজির কৌশলগুলোর চালচলন আমরা জানতে পেরেছি মাত্র।[...]

মুহিত প্রথমেই বললেন, ইউনিপের জন্য শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। তারপর শেখ হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান বললেন, শেয়ার ধসের কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের যে-আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তাতে তাদের প্রতি তার কোনো সহানূভুতি নেই – না জেনে না শুনে তারা শেয়ার ব্যবসা করতে এসেছে কেন? এরপর সংসদে শেখ হাসিনা বললেন তিনি শেয়ার ব্যবসা করেন না কাজেই এ ব্যবসার সব তিনি বোঝেন না তবে তিনি অনুরোধ করেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যেন ভাল শেয়ার কম দামে বিক্রি না করেন – ধরে রাখেন – বাজার ভাল হলে ভাল দামে শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন। এখন গত বৃহষ্পতিবার শেয়ার কেলেঙ্কারির রিপোর্ট মুহিতের কাছে পেশ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মুহিত বলেছিলেন, অভিযুক্তদের অপরাধের প্রমাণ পাওয়া না পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হবে না – এটা বাদ দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। কিন্তু অভিযুক্তদের নাম তো বাজারে সবাই জানে, এই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার অনেক আগে থেকেই বাজার জানে কারা কারসাজি করেছে – তদন্তের মধ্য দিয়ে তো তাদের করসাজির কৌশলগুলোর চালচলন আমরা জানতে পেরেছি মাত্র। প্লেসমেন্ট শেয়ার, বুকবিল্ডিং, ব্যাংকের স্পন্সর শেয়ার হোল্ডারদের অতিমূল্যায়িত বাজারে অনেক শেয়ার বিক্রি করে দেয়া, মার্চেন্ট ব্যাংকিং-এর নামে ব্যাংকগুলোর একবোরেই অনিয়ন্ত্রিত শেয়ার ব্যবসা। সবই জানা ছিল, রিপোর্ট পেশ হওয়ার পর একটাই নতুন শব্দ আমার ভাণ্ডারে যোগ হয়েছে সেটা হল 'Omnibus Account' – আমরা ভেবেছিলাম সব বিনিয়োগকারী তার বিও একাউন্টেই তার শেয়ার ব্যবসার সব লেনদেন করেন – কিন্তু এখন জানতে পারলাম বড় বড় ব্যবসায়ীরা তা করেন না – তারা তাদের লেনদেনকে অস্বচ্ছ রাখতে মার্চেন্ট ব্যাংক বা শেয়ার ব্রোকার কোম্পানির 'Omnibus Account'-এ বড় বড় লেনদেন করেন। যাদের নাম অর্থমন্ত্রী জানতে দিতে আপাতত চাচ্ছিলেন না, তাদের নাম রিপোর্টের আগে যেমন সবাই জানত এখন রিপোর্টের পরে আরো ভাল করে জানে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর কাজ আরো অনেক বড় – তাকে আরো বেশি কথা বলা উচিত 'সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন' কীভাবে চলবে, দেশে 'ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ' হবে কি না এসব নিয়ে পরিকল্পনা তৈরির প্রথমিক কাজ শুরু করে দেয়া। আর তার যদি মনে হয় তার একার দ্বারা এই কাজ করা সম্ভব নয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে বলা তাকে সহায়তা দিতে – অর্থমন্ত্রণালয়ের জন্য একটা উপদেষ্টা পরিষদ গড়ে দিতে, যে-পরিষদে…

এই লেখাটা লিখব না লিখব না বহুদিন ভেবেছি। কাছের মানুষরা ভয় দেখিয়েছেন কাকের মতন একতাবদ্ধ সাহিত্যিক দুর্বৃত্তদের। কিন্তু বারবার মনে হয়েছে যে, লেখা উচিত। [...]

এই লেখাটা লিখব না লিখব না বহুদিন ভেবেছি। কাছের মানুষরা ভয় দেখিয়েছেন কাকের মতন একতাবদ্ধ সাহিত্যিক দুর্বৃত্তদের। কিন্তু বারবার মনে হয়েছে যে, লেখা উচিত। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমার প্রথম বই কনফেশন বক্সের ভিতর। অটাম-দিনের গান প্রকাশিত হয়। বইটার মূলগল্পের কেন্দ্রে আছে একটি পরিবার, আজহারউদ্দিন আহমেদের পরিবার। আজহারউদ্দিনের স্ত্রীর নাম ফরহাত বানু। মেয়ে ঈশরাত বানু। ছেলে রঞ্জু। ঈশরাতের আরেকটি বোন আছে, তার নাম রওনক। রঞ্জুর একটি অজ্ঞাতনামা প্রেমিকা ছিল, তার ছদ্মনাম ক্রতু। রওনক বাদে এঁরা প্রত্যেকে স্মৃতিচারণ করেন। কেউ ডায়েরি লিখে। কেউ স্বগতঃভাষণে। কেউ চিঠিতে। এঁদের দৈনন্দিন জীবনে প্রেম-গ্লানি-প্রতারণা-প্রিয়বিয়োগের শোক এইসবই উপস্থিত। নিজের কাছে অবমুক্ত হবার সময় এঁরা প্রত্যেকে দেখতে পান এঁদের নিজস্ব স্খলন-পতন-ত্রুটি, এঁদের জীবনে ভালবাসা পাবার জন্যে অন্তিম হাহাকার। ব্যক্তিগত বেদনা ভুলতে আপাতঃস্বাভাবিক এইসব মানুষ প্রতিহিংসার আশ্রয়ও নেন, যেন তাতে স্থায়ী-শোক উপশমের উপায় আছে। এই বইটিতে আমার ভাষাব্যবহারের একটি উদ্দেশ্য ছিল ভাষাভাষীদের আলাদা করে দেয়া। যাতে প্রতিটি চরিত্রের জন্যে ভাষাও একটি চারিত্র হয়ে দাঁড়ায়। শুধু সাধু-চলিত নয়, পরিভাষা এবং বিদেশী শব্দও আলাদা করে বসিয়েছিলাম আমি। এক এক করে। অদ্যাবধি আমার জানামতে বইটার দু’খানা রিভিউ হয়েছে, একটি মশিউল আলমের করা (প্রথম আলো-তে) আরেকটা সালাহ্ উদ্দিন শুভ্রের করা, সাময়িকী ডট কম-এ। প্রথম রিভিউটির কোনো কপি আমার কাছে নাই। তবে মনে আছে, মশিউল আলম লিখেছিলেন -- 'বইয়ের নামে ইংরেজি কেন? তার মানে কি লেখক বাংলা ভাল জানেন না?' (এই সম্পাদ্য উনি শেষ অব্দি শেষ করেছেন এইমত যে, লেখকের বই পড়ে তাঁর মনে হয়েছে লেখক বাংলা ভালই জানেন।) মজার বিষয় হচ্ছে একইসময় আরেকটি বইয়ের রিভিউ হয়েছে, আমার বইয়ের রিভিউয়ের পাশেই, একইসময়-একসাথে, সে বইটির নাম ফেস বাই ফেস, লেখক মাহবুব মোর্শেদ। তাঁকে প্রশ্ন সইতে হয়নি কেন তাঁর বইয়ের নাম পুরোটাই ইংরেজিতে (এবং বলতে নেই এবইয়ের নাম ইংরেজিতেও অর্থহীন, আমি একাধিক ইংরেজিভাষীর সাথে এই 'পান'-এর যথাযোগ্যতা নিয়ে আলাপ করেছি, তাঁরাও পাননি। তবে আমি মনে করি বইয়ের নাম বিষয়ে লেখকের সার্বভৌমত্ব আছে, তিনি রাখতেই পারেন।), তিনিও কি বাংলা জানেন না? নাকি উপযুক্ত শব্দাবলির অভাবে দ্রুত ইংরেজির সহায়তা নেয়ার অভ্যাস (মশিউল আলম এই অভ্যাসের কথা লিখেছেন প্রথমেই)? ফেস বাই ফেস-এর রিভিউয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজেও এরকম কোনো প্রশ্ন…

নিচ্ছে দিচ্ছে করছে চাই [...]

একটু + নিচ্ছে একটু - দিচ্ছে একটু × করছে একটু ÷ করছে, দেখি, কারো কোনো উদ্বেগ নেই। কিন্তু যখনই = অধিকার চাই তখনি তেড়ে আসে উগ্র আপত্তি।

যারা বস্তুগত শক্তির সাহায্যে ক্ষমতাশালী জাতি গড়তে চায় তারা ইতিহাস জানে না ও সভ্যতাকেও বুঝতে পারেনি। নিছক শক্তির উপর নির্ভরতা বর্বরতার লক্ষণ, যারা তার উপর নির্ভর করেছিল তারা হয় ধ্বংস হয়েছে অথবা বর্বরই থেকে গিয়েছে।[...]

সোনা, অহিফেন আর যৌনসঙ্গী এই তিনের প্রতি ছিল চীনাদের আকর্ষণ – প্রবীণ চীনের সেই আকর্ষণের বস্তুতান্ত্রিকতা ও গণমানুষের উপর অনিঃশেষ শোষণের বিরুদ্ধে নবীন চীন রুখে দাঁড়িয়েছিল – তাদের সাম্যবাদী বস্তুতান্ত্রিকতার পরিকল্পনায় প্রধান বাহন ছিল শিল্পমুখী যন্ত্রশক্তি – এদুয়ের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের আদর্শবাদ বা আধ্যাত্মবাদ মোটেই সুবিধা করতে পারেনি – তাই ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের চীন ভ্রমণ ব্যর্থ না হলেও নবীন চীনের কাছে অপমানিত হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পিকিং-এ যেখানেই বক্তৃতা দিতে গেছেন তিনি, তার বিরুদ্ধে চীনের নতুন যুগের ছোকরারা চীনা ভাষায় মুদ্রিত প্রচারপত্র বিলি করেছিল। রবীন্দ্রনাথ যাদেরকে চীনের ছোকরা বলেছিলেন তারা কারা – অবশ্যই ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থকেরা – যাদের মধ্যে তখন চল্লিশোর্ধ বিখ্যাত চীনা সাহিত্যিক লু স্যুনও ছিলেন। এই বস্তুবাদীদের কার্যকলাপে রবীন্দ্রনাথ এতই বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন যে শেষ পর্যন্ত সফর অসমাপ্ত রেখেই তিনি পিকিং ত্যাগ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল তাদের – রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন চীনের সভ্যতার গুণকীর্তন করেছিলেন, আধ্যাত্মবাদী ব্রহ্মধর্ম ও উপনিষদের বাণী প্রচার করেছিলেন, বৌদ্ধধর্মের সূত্রে ভারত-চীন সেতুবন্ধের কথা বলেছিলেন, চীনের প্রগতিশীল সহিংসতাকে গান্ধীর অহিংস নীতি অনুসরণের

পরামর্শ দিয়েছিলেন আর বস্তুবাদী বিপ্লবের যন্ত্রনির্ভর শিল্পের দৈত্যের বিপরীতে মানুষের মধ্যে দেবতার আকাঙ্ক্ষায় উচ্চতর স্বর্গ লাভের চূড়ান্ত মানবিক উৎকর্ষের কথা বলেছিলেন। তিনি চীনের তরুণদের উদ্দেশ্যে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছিলেন যারা বস্তুগত শক্তির সাহায্যে ক্ষমতাশালী জাতি গড়তে চায় তারা ইতিহাস জানে না ও সভ্যতাকেও বুঝতে পারেনি। নিছক শক্তির উপর নির্ভরতা বর্বরতার লক্ষণ, যারা তার উপর নির্ভর করেছিল তারা হয় ধ্বংস হয়েছে অথবা বর্বরই থেকে গিয়েছে। এরকমের উচ্চারণের বিরুদ্ধে চীনের যুবকেরা চীনা ভাষায় চিৎকার করে বলেছিল, পরাধীন দেশের দাস ফিরে যাও – আমরা দর্শন চাই না, বস্তুবাদ চাই। কেন তার বিরুদ্ধে এইসব বিরোধিতামূলক প্রচারপত্র, প্ল্যাকার্ড, চিৎকার? রবীন্দ্রনাথ জানার চেষ্টা করেছিলেন এবং জেনেও ছিলেন। কিন্তু তিনি তার উপলব্ধিতে স্থিতধী ছিলেন – আত্মিক শক্তির উচ্চতায় তিনি বিশ্বাসী ছিলেন – তিনি বারবার আধ্যাত্মিক সভ্যতা ও বিজ্ঞানের পথে পার্থিব উন্নতির সমন্বয় ঘটানোর পথেই মানুষের মুক্তির আদর্শবাদে নিমগ্ন ছিলেন। এই সীমাহীন দূরত্ব চীনের বিপ্লবী যুবশক্তির কাছে রবীন্দ্রনাথকে ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ পরিচয়ে পর্যবসিত করেছিল। এ তো গেল আধ্যাত্মবাদ ও বস্তবাদে অটল বিশ্বাসের কারণে দুপক্ষের সংঘাতের জ্বলন্ত দিক। কিন্তু এটাও তো জানতে…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.