Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর ব্রিটেনে লাতিন অষ্টম শতকে ইংল্যান্ডই ছিল লাতিন ভাষায় শিক্ষা ও বিদ্যাবত্তার দিক থেকে সবচাইতে এগিয়ে। খানিক আগেই আমরা বিডি, গোটা খৃষ্টধর্মীয় পরম্পরা নিয়ে রচিত তাঁর ইতিহাস, ও বনিফেস (Boniface)-এর ধর্ম প্রচারমূলক কাজের কথা বলেছি। কিন্তু তার চাইতেও বিখ্যাত লাতিনবেত্তা ছিলেন ইয়র্কের এলকুইন, যিনি, আমরা দেখেছি, নিজদেশ ত্যাগী হয়ে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে চলে যান এবং শার্লামেনের নানান কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত মশহুর ছিলেন এলকুইন, এবং নতুন সাম্রাজ্যে তাঁর ভূমিকা ছিল অনেকটা শিক্ষামন্ত্রীর মতো। এলকুইন যখন প্রবল উদ্যমে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে লাতিন বিদ্যাচর্চা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, ওদিকে তখন তাঁর নিজ দেশে গুরুতর সমস্যা শুরু হয়েছে। এলকুইন মারা যান ৮০৪ খৃষ্টাব্দে, এবং তার অল্প কয়েক বছর আগে, ৭৯৩ সালে নর্দাম্বারল্যান্ড-এর লিন্ডিস্ফার্ন মঠের বিরুদ্ধে ভয়ংকর আক্রমণ চালিয়েছিল ভাইকিংরা। নবম ও দশম শতকে এলো স্ক্যান্ডিনেভীয় যোদ্ধাদের তরফ থেকে আরো অসংখ্য আঘাত, সত্যি বলতে, আরো বড় পরিসরের হামলা। মঠ আর গির্জাগুলোই ছিল হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু। তার মানে হলো, অন্য আরো কিছু জিনিসের সঙ্গে সঙ্গে, যেসব স্থানে লাতিন শেখানো হতো, লেখা হতো, তার বেশিরভাগেরই কোনো অস্তিত্ব রইল না। লাতিনচর্চার এক বিরাট ঐতিহ্য প্রায় বেমালুম অদৃশ্য হয়ে গেল। একশ বছর পরে মনে হলো লোকজন বোধহয় লাতিন জানতই না বলতে গেলে। মহান আলফ্রেড (রাজত্বকাল ৮৭১ থেকে ৮৯৯ খৃ.) লিখেছেন, লাতিনে লেখা একটা চিঠি ইংরেজিতে অনুবাদ করতে পারে এমন লোক হাম্বার (Humber)-এর দক্ষিণে প্রায় ছিলই না বলতে গেলে, এমনকি নদীটার উত্তরেও না। তবে আলফ্রেড নিজে যথেষ্ট করেছেন এই অবস্থা উত্তরণে। প্রথমত, একজন শাসকের অধীনে গোটা ইংল্যান্ডকে নিয়ে আসার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন তিনি, আর তাতে করে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার একটা দীর্ঘ সময়ের অবসান ঘটে। দ্বিতীয়ত, তিনি শিক্ষায় বিশ্বাস করতেন, তাঁর রাজ্যে জ্ঞানের প্রসারের জন্যা সাধ্যমত সব কিছু করেছেন। একথা সত্য যে, লিখিত ভাষা হিসেবে লাতিনের বদলে ইংরেজির বিস্তারই লক্ষ্য ছিল তাঁর, কিন্তু তাঁর প্রধান কীর্তি ছিল লাতিন থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ অনুবাদ করানো, বিশেষ করে যাজক সম্প্রদায়ের ব্যবহারের জন্য নানান…
|| ব্রিটেনে লাতিন || ১০৬৬ সালের পর ব্রিটেনের ভাষাগত অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে। সেই বছরটির আগে কথ্য এবং লিখিত ভাষা হিসেবে ইংরেজি ব্যবহৃত হতো, এবং লাতিন-ই ছিল সেটির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু এরপরই সুবিধাবঞ্চিতদের মুখের বা কথ্য ভাষা হিসেবে পিছু হঠে গেল ইংরেজি। শাসকশ্রেণী কথা বলত ফরাসি ভাষায়। [. . .]
