|| লাতিন থেকে রোমান্স ভাষাসমূহ || ৫ম শতকে রোমক সাম্রাজ্যের সমস্ত লাতিনভাষী মানুষ বড় বড় সব পরিবর্তনের মুখোমুখি হলো। সীমান্ত থেকে দলে দলে আসতে থাকল নানান জার্মানিক উপজাতি [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর লাতিন থেকে রোমান্স ভাষাসমূহ ৫ম শতকে রোমক সাম্রাজ্যের সমস্ত লাতিনভাষী মানুষ বড় বড় সব পরিবর্তনের মুখোমুখি হলো। সীমান্ত থেকে দলে দলে আসতে থাকল নানান জার্মানিক উপজাতি, এবং কেবল লুঠতরাজ আর ধ্বংসলীলায় সন্তুষ্ট না থেকে তারা পুরানো সাম্রাজ্যের এলাকার পর এলাকায় পাকাপাকিভাবে থেকে গেল, সেখানের  ক্ষমতা দখল করে নিল। অল্প কয়েক দশকের মধ্যেই সাম্রাজ্যের কর্তৃত্ব আর তা ফলাবার উপায়গুলো উধাও হয়ে গেল। এবং ৪৭৬ খৃষ্টাব্দে সাম্রাজ্যের পশ্চিম অংশের শেষ সম্রাট রোমুলাস অগাস্তুলুস সিংহাসনচ্যুত হলেন। তাঁর কোনো উত্তরাধিকারীও ছিল না। হঠাৎ করেই দেখা গেল শাসকরা সব জার্মান, রোমক নন। সময়টা বৈপ্লবিক-ই ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নাই, কিন্তু ভাষার ওপর এই আগ্রাসনগুলো ঠিক ততোটা প্রবল ছিল না যতোটা মনে হওয়া স্বাভাবিক। ফ্র্যাঙ্ক, ভ্যান্ডাল, বার্গান্ডীয়, গথ, লম্বার্ড আর অন্যান্য জার্মানিক দলগুলো স্বাভাবিকভাবেই তাদের ভাষা নিয়েই এসেছিল, যেগুলো সবই ছিল জার্মানিক ভাষা পরিবারভুক্ত — তার মধ্যে আধুনিক ভাষা ইংরেজি, জার্মান, ওলন্দাজ, আর স্ক্যান্ডিনেভীয় ভাষাসমূহও ছিল। হানাদারদের একটা ভাষা, ভিসিগথিক, বাইবেলের একটা অনুবাদের কারণে — যেটাকে তথাকথিত গথিক বা রুপোলি বাইবেল বলা হয় — বেশ পরিচিত। আর সেটি এখনো সংরক্ষিত আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে রোমক সাম্রাজ্যের অন্যান্য জার্মানিক ভাষা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানি না আমরা, কারণ কোনো টেক্সট বা উৎকীর্ণ লিপি সংরক্ষণ করা হয়নি বা যায়নি। তবে ভিসিগথিক সহ সেগুলোর মধ্যে একটা যে সাধারণ বিষয় আমরা দেখতে পাই তা হলো সেগুলোর সব-ই অল্প কিছুদিনের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। খুব বেশি  জার্মানিকভাষী সম্ভবত ছিল-ও না, আর তারা ভূখণ্ডের ক্ষমতা ও মালিকানা দখল করলেও তাদের আশেপাশে কিন্তু লাতিনভাষী জনগণই ছিল, এবং কয়েক প্রজন্ম পরই শাসকরা সেই ভাষায় কথা বলতে লাগল যে ভাষায় তাদের প্রজারা কথা বলে। একটা বড় ব্যতিক্রম ছিল, অবশ্যই, ইংল্যান্ড আক্রমণ। এঙ্গল, স্যাকসন, আর বিশেষ করে (উত্তর ডেনমার্ক-এর অংশ বিশেষ) জাটল্যান্ড থেকে আগত জুটসহ অন্যান্য দলগুলো শুধু যে পূর্বের অধিবাসীদের জয় করেই নিল তা নয়, তাদের নিজেদের জার্মানিক ভাষাও শিগগিরই সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষায় পরিণত হলো। কথ্য ভাষা হিসেবে লাতিন টিকতে পারল না। অবশ্য…

যুক্তিবাদী বিশ্বদৃষ্টির সাথে অন্ধ বিশ্বাসপ্রবণদের দ্বন্দ্বের সর্বশেষ শহিদ অভিজিৎ রায়। অভিজিৎদের মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর হয়ে চলেছে কয়েক দশক ধরে। অথচ বাংলাদেশের কথা ছিল তার সবটুকু শক্তি দিয়ে সেক্যুলার মুক্তচিন্তার পরিবেশ গড়ে তোলার [. . .]

এক. আমেরিকা-প্রবাসী ড. অভিজিৎ রায় (জন্ম ১৯৭১) এবার বাংলাদেশে এসেছিলেন অমর একুশের বইমেলায় যোগ দিতে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামপন্থী আততায়ীরা তাঁকে বইমেলা সংলগ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। আততায়ীদের আক্রমণে অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যিনি নিজেও একজন ব্লগার এবং লেখিকা; ‘বিবর্তনের পথ ধরে’ (২০০৭) গ্রন্থটি তাঁরই। কাছাকাছি স্থানেই এই ফেব্রুয়ারি মাসেই এক দশক আগে (২০০৪) মুক্তচিন্তার আরেক পথিকৃৎ অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের উপরও ঠিক এভাবেই আক্রমণ করেছিল ইসলামপন্থী জঙ্গিরা। ছোটবেলা থেকে অভিজিতের বেড়ে ওঠা এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই। বিদেশে ডক্টরেট করতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ তাঁর পড়াশোনা। সে বুয়েট ক্যাম্পাসও অদূরেই। আমেরিকায় একটি কোম্পানিতে কর্মরত প্রকৌশলী অভিজিৎ। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি অভিজিৎ শুধু লিখেছেন। প্রচুর লিখেছেন। ব্লগ থেকে শুরু করে গবেষণা নিবন্ধ, মতামত কলাম থেকে শুরু করে বই। একক এবং দ্বৈত প্রকাশনা মিলিয়ে ড. অভিজিৎ রায়ের প্রকাশিত বইগুলো হলো: ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’ (২০০৫), ‘মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজে’ (২০০৭), ‘স্বতন্ত্র ভাবনা: মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি’ (২০০৮), ‘সমকামিতা: বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান’ (২০১০), ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ (২০১১), ‘ভালোবাসা কারে কয়’ (২০১২), ‘বিশ্বাস ও দর্শন’ (২০১২), ‘শূন্য থেকে মহাবিশ্ব’ (২০১৪) এবং ‘ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো: এক রবি-বিদেশিনীর খোঁজে’(২০১৫)। অভিজিৎ রায়ের পিতা পদার্থবিজ্ঞানের পণ্ডিত অধ্যাপক অজয় রায়, বর্তমানে অবসরে। তরুণ বয়সে অজয় রায় নিজে সরাসরি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। এর পর সারা জীবন জ্ঞান সাধনা, এবং শিক্ষকতার মহান ব্রত নিয়ে মানুষ গড়ার পাশাপাশি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেছেন প্রগতিশীল-সেক্যুলার-বৈষম্যহীন মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়ার কাজে। তাই, সন্তানহারা পিতার কাছেও এই দেশটির জবাবদিহিতার মুহূর্ত এটা। দুই. অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডে পুরো দেশ এখনও স্তম্ভিত। সামাজিক মিডিয়াসহ পুরো বাংলা ব্লগমণ্ডল প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে, অভিজিৎ রায়ের লেখাগুলো সর্বশক্তিতে পুনঃপ্রচারে নেমেছে অনেকগুলো প্ল্যাটফর্ম। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে, আর দেশের বাইরে লন্ডন, টরন্টো, নিউইয়র্ক, বার্লিন, সিডনি-তে মানব-বন্ধন থেকে শুরু করে অসংখ্য প্রতিবাদ সমাবেশ হয়ে গেছে গত কয়েক দিনে। অনলাইন আর অফলাইন এর প্রতিবাদে বারবার হ্যাশট্যাগে উঠে এসেছে: 'JeSuisAvijit', 'আমিই অভিজিৎ', 'আমরা অভিজিৎ'। সুষ্ঠু তদন্ত আর বিচারের পাশাপশি মুক্তচিন্তার অনুসারীদের নিরাপত্তার দাবিই এ মুহূর্তে মুখ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই অভিজিৎ রায়ের স্মৃতিস্তম্ভ দাবি নিয়েও এগিয়ে এসেছে সেক্টর কমান্ডার'স ফোরাম। ইতিমধ্যে হত্যার উস্কানিদাতা এক জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে। তদন্ত চলছে। আমেরিকা থেকে এফবিআই-এর একটি তদন্ত…

“এখন আমাদের দাবি, যে করেই হোক খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করুক। আমি মনে করি না যে, শুধুমাত্র খুনিদের ধরাটাই যথেষ্ট। আমি সরকারের প্রতি সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য আবেদন জানাই, সেই সাথে লেখক-হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় না আনার যে আইনি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা বন্ধ করার দাবি জানাই।” — রাফিদা আহমেদ বন্যা

সেন্টার ফর ইন্‌কোয়াইরি-র ওয়েবসাইটে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ড. অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজ্ঞান-লেখক রাফিদা আহমেদ বন্যার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। বাংলা কমিউনিটি ব্লগ এলায়েন্স-এর পক্ষ থেকে তাঁর এই বিবৃতির বাংলা অনুবাদ এখানে সংকলিত হলো ফরিদ আহমেদের অনুবাদে, মুক্তমনা-র সৌজন্যে। . . . রাফিদা আহমেদ বন্যার বিবৃতি : আমার স্বামী অভিজিৎ রায় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ নিয়ে লেখালেখি করতেন, তিনি ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামুখর ছিলেন। শুধুমাত্র এই কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। গত ছাব্বিশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনাকীর্ণ ক্যাম্পাসে আমরা দুজনে হামলার শিকার হই। অভিজিৎকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আমি কোনোক্রমে বেঁচে যাই। তাঁর স্ত্রী, একই ধারার লেখক এবং একজন মুক্তচিন্তক হিসাবে, আমি এই পৈশাচিক সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা করি। ঐতিহাসিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হচ্ছে সকল প্রগতিশীল আন্দোলনের কেন্দ্রভূমি। অভিজিৎ নিজেও এই ক্যাম্পাসেই বেড়ে উঠেছেন। মৃত্যুর হুমকি থাকা সত্ত্বেও আমরা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারি নি যে, এরকম একটা জঘন্য অপরাধ এখানে সংঘটিত হতে পারে। এই অপরাধ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিলো না, ছিলো বাক স্বাধীনতা এবং মানবতার বিরুদ্ধে। আমি আর অভিজিৎ যখন নৃশংসভাবে আক্রান্ত হচ্ছি, স্থানীয় পুলিশ খুব কাছেই নিষ্ক্রিয়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলো। এখন আমাদের দাবি, যে করেই হোক খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করুক। আমি মনে করি না যে, শুধুমাত্র খুনিদের ধরাটাই যথেষ্ট। আমি সরকারের প্রতি সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য আবেদন জানাই, সেই সাথে লেখক-হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় না আনার যে আইনি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা বন্ধ করার দাবি জানাই। আমি যে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে তার প্রতি সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আমাদের সাথে এক হয়ে সুবিচার দাবি করার আহ্বান জানাচ্ছি। আরো পড়ুন/শুনুন : বিবিসিকে দেয়া বন্যার ইংরেজি সাক্ষাৎকার : এখানে। বিবিসি বাংলাকে দেয়া বন্যার বাংলা সাক্ষাৎকার : এখানে।  

|| রোমপরবর্তী ইউরোপ || পশ্চিমে রোমক সাম্রাজ্য কেন অস্ত গেল তা কেউ জানে না। পঞ্চম শতক শুরুর কয়েক দশকের মধ্যেই লাতিনভাষী অঞ্চলটি এক সম্রাটের অধীন একটি সাম্রাজ্য থেকে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে পরিণত হলো, যেসব রাষ্ট্রের বেশিরভাগ-ই চলে গেল জার্মানিক রাজাদের হাতে। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর ২য় পর্ব লাতিন ও ইউরোপ . . . রোমপরবর্তী ইউরোপ পশ্চিমে রোমক সাম্রাজ্য কেন অস্ত গেল তা কেউ জানে না। পঞ্চম শতক শুরুর কয়েক দশকের মধ্যেই লাতিনভাষী অঞ্চলটি এক সম্রাটের অধীন একটি সাম্রাজ্য থেকে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে পরিণত হলো, যেসব রাষ্ট্রের বেশিরভাগ-ই চলে গেল জার্মানিক রাজাদের হাতে। নিঃসন্দেহে, সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তা না হলে নানান জার্মানিক দলের পক্ষে সেটাকে এতো সহজে টুকরো টুকরো করে নিজেদের কব্জায় নেয়া সম্ভব হতো না; তবে সেই দুর্বলতার কারণ নিয়ে ইতিহাসবেত্তারা এখনো বাহাস চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক গবেষণা বিশেষ করে এই বিষয়টার দিকে তর্জনী তুলছে যে জার্মানরা এসে পৌঁছবার আগে আগে সাম্রাজ্যের জনসংখ্যা সম্ভবত কমে গিয়েছিল ঝপ করে, কিন্তু তারপরে-ও এটা কেউ বলতে পারছেন না তা কেন হবে। আগেই যেসব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল, বা, রোমক সাম্রাজ্যের বাইরে যেসব রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল সেগুলোর চাইতে খুব একটা ভিন্ন ছিল না নতুন রাষ্ট্রগুলো। যতোই সময় যেতে থাকল ততোই প্রাক্তন সাম্রাজ্য আর সনাতনভাবে যেগুলোকে বর্বরদের বাসস্থান বলে ধরে নেয়া হতো এই দুইয়ের মধ্যে তফাত ঘুচে যেতে থাকল সমাজ ও সংস্কৃতির দিক থেকে। এই পরিবর্তনগুলোর কারণ ছিল প্রধানত দুটো। এক, রোমক সমাজকে বিশিষ্টতাদানকারী উপাদানগুলোর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া। বিশালায়তন, দক্ষভাবে পরিচালিত সেনাবাহিনী ভেঙে দেয়া হয়েছিল, যেমনটি করা হয়েছিল সেটার ভিত্তিস্বরূপ সিভিল সার্ভেন্ট আর কর সংগ্রাহকদের নিয়ে তৈরি ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও। লোকজনের মাথায় করের বোঝা আর রইল না, কিন্তু তার মানে হলো, সামরিক সুরক্ষাও আর পেলো না তারা। ব্যবসা-বাণিজ্য আর যোগাযোগ কমে এলো পালাক্রমে, লোকজন শহর থেকে বেরিয়ে পড়ল, আর সেসব শহরের কোনো কোনোটি পরিণত হলো নেহাতই ধংসস্তূপে। বেশিরভাগ মানুষ-ই এখন গ্রামাঞ্চলে বাস করতে লাগল, আশেপাশের জগতের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ আর রইল না বললেই চলে। এভাবে অবস্থাটা হয়ে দাঁড়াল ঠিক তেমন যেমনটা ছিল সেই সব অঞ্চলে যেগুলো কখনোই সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। দুই, গোটা পশ্চিম এবং উত্তর ইউরোপ ধীরে ধীরে একই ধর্ম গ্রহণ করল। খৃষ্টধর্ম প্রায় ঠিক একই গতিতে শক্তিশালী হতে শুরু করল যে-গতিতে রোমক সাম্রাজ্য শুরু…

|| খৃষ্টধর্ম : বিপজ্জনক সম্প্রদায় থেকে রাষ্ট্রধর্ম || ত্যাসিতাস তাঁর ‘Annals’-এ ৬৪ খৃষ্টাব্দে — সম্রাট নিরোর রাজত্বকালে — রোমে সংঘটিত হওয়া এক প্রবল অগ্নিকাণ্ডের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর জোরেশোরে গুজব রটল যে কাজটা বিশেষ কোনো এক অগ্নিসংযোগকারীর, এমনকি তা খোদ সম্রাটের-ও হতে পারে। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর খৃষ্টধর্ম : বিপজ্জনক সম্প্রদায় থেকে রাষ্ট্রধর্ম ত্যাসিতাস তাঁর ‘Annals’-এ ৬৪ খৃষ্টাব্দে — সম্রাট নিরোর রাজত্বকালে — রোমে সংঘটিত হওয়া এক প্রবল অগ্নিকাণ্ডের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর জোরেশোরে গুজব রটল যে কাজটা বিশেষ কোনো এক অগ্নিসংযোগকারীর, এমনকি তা খোদ সম্রাটের-ও হতে পারে। এই গুজবগুলোকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য নিরো এমন একটি দলের ওপর দোষ চাপালেন যারা আগে থেকেই অজনপ্রিয়, এবং যাদেরকে লোকে ‘Christiani’ বলত, কারণ, ত্যাসিতাস বলছেন : Auctor nóminis eius Christus Tiberio imperitante per procuratórem Pontium Pilatum supplício adfectus erat খৃষ্ট — যার কাছ থেকে ওই নামটা (অর্থাৎ, খৃষ্টান) এসেছে, তাঁকে প্রকিউরেটর পন্টিয়াস পাইলেট তাইবেরিয়াসের রাজত্বকালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন। খৃষ্ট বা খৃষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে একেবারে গোড়ার দিকের কিছু উল্লেখের অন্যতম এটা। সম্ভবত যিশুখৃষ্টের মৃত্যুর তিরিশ বছর পরেও রোমে খৃষ্টানরা বাস করছিল। ত্যাসিতাসের কোনো সহানুভূতি ছিল না তাদের ধর্মের শিক্ষার ব্যাপারে, যেটাকে তিনি বলছেন ‘exitiábilis superstítio’, বা, ‘এক ক্ষতিকর কুসংস্কার’। ত্যাসিতাস আমাদের জানাচ্ছেন, খৃষ্টানদের ধরে ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠুর সব উপায়ে মেরে ফেলা হতো : যেমন, জীবন্ত মশাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো তাদের। লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যেতে বাধ্য করা হলো তাদের, কিন্তু তারপরেও ঠিক যাকে বলে অদৃশ্য হয়ে গেল না তারা। এ-ঘটনার পঞ্চাশ বছরেরও কম সময় পর কনিষ্ঠ প্লিনি — আধুনিক তুরস্কের বিথিনিয়ার প্রশাসক — সম্রাট ত্রাজান-এর কাছে পত্র লিখে জানতে চাইলেন লোকে খৃষ্টান বলে অভিযুক্ত হলে তাঁর করণীয় কি? মনে হয় এ-ধরনের অনেক ঘটনা অনেকই ঘটতো, আর প্লিনির ইচ্ছেটা ছিল অনেকটা এরকম যে তাদেরকে হুট করে মেরে না ফেলে অনুতাপের সুযোগ দেয়া বরং ভালো। সম্রাট সহমত প্রকাশ করলেন, কিন্তু তাঁর কাছে মনে হলো ব্যাপারগুলোকে এতো খুঁটিয়ে দেখার কিছু নেই, বরং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তা প্রমাণ হয়েছে তাদেরকে সাজা দিয়ে ফেললেই ল্যাঠা চুকে যায়। খৃষ্টধর্মের প্রসার অব্যাহত রইল, এবং রাষ্ট্রের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বহাল থাকলেও তা যে খুব নিয়মিতভাবে ঘটত তা নয়, আর এর অল্প কিছুদিন আগে থেকে খৃষ্টানরা লাতিন লিখতে শুরু করেছিল।…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.