|| ত্যাসিতাস, সম্রাটগণ ও ব্রিটেন || সালুস্ত আর লিভি, যাঁদের নাম আগেই বলা হয়েছে, তাঁরা ছিলেন বিখ্যাত ইতিহাসবেত্তা। তবে সবচাইতে খ্যাতিমান ছিলেন সম্ভবত ত্যাসিতাস। আনুমানিক ৫৬ খৃষ্টাব্দের দিকে জন্ম তাঁর, মৃত্যু ১১৭-র পর। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর   ত্যাসিতাস, সম্রাটগণ ও ব্রিটেন সালুস্ত আর লিভি, যাঁদের নাম আগেই বলা হয়েছে, তাঁরা ছিলেন বিখ্যাত ইতিহাসবেত্তা। তবে সবচাইতে খ্যাতিমান ছিলেন সম্ভবত ত্যাসিতাস। আনুমানিক ৫৬ খৃষ্টাব্দের দিকে জন্ম তাঁর, মৃত্যু ১১৭-র পর। ১৪ খৃষ্টাব্দে সম্রাট অগাস্টাসের মৃত্যুর পর থেকে যাঁরা সম্রাট হয়েছিলেন তাঁদের জীবনী লিখেছিলেন তিনি, থেমেছেন ৯৬ খৃষ্টাব্দে দমিতিয়ানের মৃত্যু পর্যন্ত এসে। তার মানে, ত্যাসিতাস তাঁর জীবনের সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে কাজ করেছেন। তবে তাঁর রচনার খানিক অংশই কেবল আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। ত্যাসিতাস বলছেন ‘sine ira et studio’ বা, ‘কোনো ক্রোধ বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই’ লিখেছেন তিনি। ইতিহাসবিদদের কিভাবে লেখা উচিত তা বোঝাতে গিয়ে আজও এই কথাটা উদ্ধৃত করা হয়। খোদ ত্যাসিতাসকে অবশ্য ‘studium’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করা যাবে না (এই প্রসঙ্গে কথাটার মানে ‘কাউকে অন্যায্য সুবিধা প্রদান করা’), কারণ কারো সম্পর্কে তিনি ভালো কিছু বলেননি বললেই চলে। বিশেষ করে, সম্রাটদের তাঁর বড়ই না-পছন্দ। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ছিলেন সমাজের উচ্চাসনে আসীন একজন সফল মানুষ, এবং তাঁর জন্ম যে পরিবারে সেখান থেকে অনেকেই সিনেটর পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সম্রাট দমিতিয়ানের আমলে ব্যক্তিগত দমন-পীড়নের শিকার হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় তাঁর, এবং প্রায়ই তাঁর মুখ থেকে মুক্তি বা স্বাধীনতার কথা শুনি আমরা, যদিও সে-স্বাধীনতা বলতে তিনি প্রধানত সম্রাটের হস্তক্ষেপ ছাড়া সিনেটের সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতাকেই বুঝিয়েছেন, প্রাচীনকালে যে-হস্তক্ষেপ সম্রাটগণ হরহামেশাই করতেন। বেশিরভাগ রোমক লেখকই রক্ষণশীল, তবে ত্যাসিতাসকে প্রতিক্রিয়াশীল বলাটাই সঙ্গত হবে। উত্তরকালের কাছে যে তাইবেরিয়াস, ক্লদিয়াস ও নিরো সহ কিছু সম্রাটের ছবি অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে আছে ত্যাসিতাসই সেসব ছবির স্রষ্টা। অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে সেসব চিত্র এঁকেছেন তিনি, সঙ্গে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর বর্ণনাও দিয়েছেন বটে, কিন্তু প্রধান কুশীলবদের ব্যক্তিত্ব এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যেন তাঁরা উপন্যাসের চরিত্র। তাইবেরিয়াসের রাজত্বকালের বর্ণনার শুরুতে তিনি বলছেন কিভাবে আগ্রিপিনা — যিনি ত্যাসিতাসের এক ভ্রাতুষ্পুত্রকে বিয়ে করেছিলেন — রাইন-এ এক সামরিক সংকটকালে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলেছিলেন। তারপর তিনি বলছেন, ‘Id Tiberii animum altius penetravit’, অর্থাৎ, ‘আর সেটা গভীরভাবে দাগ কেটেছিল তাইবেরিয়াসের মনে’ (আক্ষরিক অর্থে, ‘আর সেটা গভীরভাবে ঢুকে…

শেখ ওঁদের অভ্যর্থনা জানিয়ে বসালেন। এক এক করে পরিচয়ের পালা। সন্তোষদা বললেন, আমার বাড়ি ফরিদপুরের রাজবাড়ি। প্রবোধ সান্যাল বললেন, আমার বাড়ি ফরিদপুরে ছিল। নীরেন চক্রবর্তীও বললেন, আমার বাড়ি ছিল ফরিদপুর। শেখ বললেন, আমার বাড়ি কোথায় জানেন? বাংলাদেশে। [...]

১৯৭২ সাল। স্বাধীন দেশের প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ছাত্রলীগের আমন্ত্রণে ঢাকা এসেছেন কলকাতার সাহিত্যিক-সঙ্গীতশিল্পী-চলচ্চিত্রকার-সাংবাদিকগণ। এই সারস্বত পরিভ্রমণের একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন সাংবাদিক পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মাসিক উল্টোরথ (বর্ষ ২১, সংখ্যা ১, চৈত্র, ১৮৯৪ শকাব্দ, মার্চ, ১৯৭২) পত্রিকায় ‘ঢাকার ডায়েরি’ (আখ্যাপত্রে অবশ্য ‘ঢাকা ডায়েরি’ মুদ্রিত) শিরোনামে। একই সংখ্যায় চলচ্চিত্রসাংবাদিক বিমল চক্রবর্তীও লিখেছেন ‘ঢাকা থেকে লিখছি’ নামে চিঠির আঙ্গিকে আরেকটি প্রতিবেদন; অসমাপ্ত এই প্রতিবেদনে স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের চলচ্চিত্রজগতের খানিকটা পরিচয় দিয়ে শেষাংশে তিনি লিখেছেন: বিকাশদা, আজ একুশে ফেব্রুয়ারী, মনের আবেগে কত কথাই তো এই চিঠিতে লিখে চলেছি। কলম আমার কিছুতেই থামতে চাইছে না। আজ আবার এই ঢাকায় বসেই স্বনামধন্য সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। তাও আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ধানমুণ্ডির বাসভবনে। সত্যজিৎবাবুর সঙ্গে আরো অনেকে এলেন। শহীদ দিবসে ঢাকার ছাত্রলীগ যাঁদের নিয়ন্ত্রিত [নিমন্ত্রিত?] করে এনেছিলেন তাঁরা প্রত্যেকে। নিয়ন্ত্রিতদের মধ্যে শুধু একজন ঢাকায় আসতে পারেন নি। তিনি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। নির্ধারিত এই তারিখে কলকাতায় তার পারিবারিক কাজ ছিল বলে আসতে পারেন নি। আর সবাই এসেছেন। শ্যামল মিত্র, অমল মুখার্জী, সুমিত্রা মুখার্জী, বরুণ বক্সী ও আমাদের টুলু দাস। ওদের সঙ্গে করে নিয়ে এলেন ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম সেলিম। সেলিম আবার বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে, এই তথ্য বঙ্গবন্ধুকে সেলিমের সম্বোধন থেকেই বুঝলাম―‘মামা, গান শুনবেন?’ শেখ সাহেবের সরল স্বীকারোক্তি, ‘কেন শুনব না? গানই যদি না শুনতে ইচ্ছে করে তবে তো আমি ইয়াহিয়া খান হয়ে যাব।’ একটুখানি হাসির গুঞ্জরণ। একে একে প্রত্যেকে একটি করে গান শোনালেন বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু সবার প্রশংসাতেই সমান পঞ্চমুখ। শ্যামল মিত্রকেই দেখলাম সবচেয়ে বেশী কথা বলতে। সত্যজিৎবাবু একরকম চুপচাপই ছিলেন। ফটোগ্রাফার টুলু দাস সত্যজিৎবাবুর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আলাদা ছবি তুলতে চাইলেন। শেখসাহেব জবাব দিলেন, ‘আলাদা কেন, সবাই আসুন, গ্রুপ ছবি তুলি।’ তারপর চায়ের পালা। বঙ্গবন্ধু নিজের হাতে সকলকে চা পরিবেশন করলেন। চায়ের আসরে ছাত্রলীগ সদস্য ও বাংলাদেশের নামী কণ্ঠশিল্পী অ্যাপেল মামুদ শেখসাহেবকে বললেন, ‘জানেন, পশ্চিম বাংলার এঁরা স্বাধীনতা সংগ্রামের এই ন’মাস আমাদের জন্যে অনেক করেছেন।’ শেখসাহেব সোজাসুজি জবাব দিলেন, ‘আমি সব জানি। ওরা তোমাদের জন্যে যা করেছে সেই ঋণ তোমরা পিঠের চামড়া দিয়েও শোধ করতে পারবে না।’ শুনে অবাক হলাম। একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই…

সারাবিশ্বের সব মিলিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে প্রায় ৭,০০০ ভাষা ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ইন্টারনেটে খুব কম ভাষারই সরব এবং বলিষ্ঠ অস্তিত্ব আছে। প্রকাশিত এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, টুইটারে প্রায় ৮৫% টুইট প্রকাশিত হয় আটটি ভাষা ব্যবহার করে। সে গবেষণায় অনুযায়ী অনলাইনে সাংস্কৃতিক ও বৈচিত্র্যগত দিক থেকে বিভিন্ন ভাষার ব্যবহারের এবং উপস্থিতির দিকগুলো উঠে এসেছে। বিভিন্ন ভাষাভাষীরা এখন অনলাইনে নিজেদের ভাষাকে তুলে ধরতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। বিষয়টিকে সবার মাঝে তুলে ধরতে, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে, এবং নিজেদের কার্যক্রমগুলোকেও তুলে ধরতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাইজিং ভয়েস, লিভিং টাংস ইন্সটিটিউট, এনডেন্জার্ড ল্যাংগুয়েজ প্রজেক্ট, এবং ইন্ডিজেনাস টুইটস - এর সহযোগিতায় বড় আকারে “‪#‎মাতৃভাষা‬'য় টুইট করুন” ক্যাম্পেইনটি শুরু হয়েছে। অনলাইনে নেয়া এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের ভাষাগত ও সাংস্কৃতি বৈচিত্র, বিশেষ করে আদিবাসী, সংখ্যালঘু, ঐতিহ্য এবং বিপন্ন ভাষাগুলোর কথা তুলে ধরার একটা পরিসর তৈরী হবে। পাশাপাশি ইন্টারনেটে ভাষাগুলোর অবস্থান এবং উপস্থিতির বিষয়গুলোও সবাই জানতে পারবেন। যে দেশের ইতিহাসের অংশ মহান ২১ ফ্রেব্রুয়ারী, সে দেশের মানুষ হিসেবে আমাদের কি এই উদ্যোগকে সর্বতোভাবে সাহায্য করা উচিত না? এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়া খুবই সহজ। বিস্তারিত জানতে নিচের এই লিন্কটি ক্লিক করুন: http://bn.globalvoicesonline.org/2015/02/20/47454/ আমরা 'মুক্তাঙ্গন: নির্মাণ ব্লগ' থেকে এই উদ্যোগকে সমর্থন জানাচ্ছি। আপনিও যোগ দিন। এবারের ২১ ফেব্রুয়ারীতে টুইটার ভরে উঠুক বাংলাভাষাভাষীদের কলরবে। টুইটারে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সর্বত্র ব্যবহার করুন : #মাতৃভাষা বা ‪#‎MotherLanguage‬

|| আইন ও আইনের ভাষা || মুক্তিপ্রাপ্ত দাস একিওন চেয়েছেন তাঁর পুত্র আইন পড়ুক যাতে সেটা তার জীবিকার সহায়ক হয়। তাঁর এতোটা উচ্চাশা ছিল না যে নিজের পুত্রকে একজন বাগ্মী এবং অন্যের পক্ষ নিয়ে লড়াই করা একজন মানুষ হিসেবে কল্পনা করবেন, কিন্তু তাকে আইন সম্পর্কে খানিকটা জানতেই হতো। এই দিক থেকে তিনি সম্ভবত ঠিক ছিলেন। রোমক জগতে আইন ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর আইন ও আইনের ভাষা মুক্তিপ্রাপ্ত দাস একিওন চেয়েছেন তাঁর পুত্র আইন পড়ুক যাতে সেটা তার জীবিকার সহায়ক হয়। তাঁর এতোটা উচ্চাশা ছিল না যে নিজের পুত্রকে একজন বাগ্মী এবং অন্যের পক্ষ নিয়ে লড়াই করা একজন মানুষ হিসেবে কল্পনা করবেন, কিন্তু তাকে আইন সম্পর্কে খানিকটা জানতেই হতো। এই দিক থেকে তিনি সম্ভবত ঠিক ছিলেন। রোমক জগতে আইন ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। সিভিল সার্ভেন্টদের অনেকটা সময় কেটে যেত নানান বিষয়ে অভিমত প্রদানে, আর এই বিষয়টা নিশ্চিত করতে যে লোকে যেন আইন মেনে চলে। যারা আইন ভাঙত তাদের সঙ্গে খুব নির্দয় আচরণ করা হতো, তবে আইন আবার মানুষকে সহিংসতা ও স্বেচ্ছাচারিতা থেকে রক্ষা-ও করত। আইনের চোখে মানুষ সমান ছিল না। উল্টো, আইন একেবারে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিত কে কার ওপর খবরদারী করবে, কতটা করবে সে-সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দাসমালিকদের ছিল একচ্ছত্র ক্ষমতা, এমনকি নিজ দাসদের খুন করার-ও অধিকার ছিল তাঁদের। অবশ্য সেই একচ্ছত্র ক্ষমতারও কিছু সীমা ছিল: বাড়াবাড়ি রকমের নিষ্ঠুরতার কারণে যে-দাস পালিয়ে যেতেন তাঁকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য করা সম্ভব ছিল মালিককে; কাজেই একথা বলা যেতে পারে যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইন দাসদের-ও সুরক্ষা দিত। রোমের সমাজ ছিল খুবই পিতৃতান্ত্রিক, এবং পরিবারের কর্তা বা, ‘pater familiae’ পরিবারের সব সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, কিছু কিছু ক্ষেত্র ছাড়া। যেমন, তাঁর স্ত্রীর অর্থ-কড়ির ব্যাপারে কোনো কথা বলার অধিকার ছিল না তাঁর, এবং আইনগতভাবেই স্ত্রীর টাকা-পয়সা ছিল স্বামীর টাকা-পয়সা থেকে আলাদা। মানুষের অধিকার এবং বাধ্যবাধকতাগুলোর স্বরূপ কেমন ছিল এই নিয়মগুলো তার উদাহরণ। অবশ্যই নিয়ম-কানুন আরো মেলা ছিল, কেনা-বেচার নিয়ম, বাদ-বিসংবাদ-ক্ষয়ক্ষতি আর অতি অবশ্য-ই অপরাধ ও শাস্তি বিষয়ক নিয়ম-কানুন। কার্যকর যে-কোনো সমাজে এধরনের নিয়ম-কানুন থাকতেই হয়, কিন্তু রোমকরা তাদের আগের (এবং পরের-ও বটে) যে-কোনো সমাজের চাইতে বেশি সময় বিনিয়োগ করেছিল স্বচ্ছ, পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধি-নিষেধ তৈরি আর সেগুলো যাতে কাজ করে তা নিশ্চিত করতে। সেই সঙ্গে তারা তাদের আইন-কানুন ও বিধি-নিষেধের পেছনের নীতি বা যুক্তি নিয়েও লেখালেখি করেছে অনেক, এবং বলা যেতে পারে তারাই…

কুইনাইন-আবিষ্কারের তারিখ কারও মনে আছে কি? না থাকলেও ক্ষতি নেই কোনও, আজ ছাত্রহিতৈষী শিক্ষক কাজেম আলী মাস্টারের মৃত্যুদিবসে (১২ ফেব্রুয়ারি) অন্তত তাঁকে স্মরণ করা যাক একবার।

মোমেনের জবানবন্দী, মফিজন বা কোরবাণী-র মতো সংবেদনশীল গল্পের স্রষ্টা মাহবুব-উল আলম (১৮৯৮-১৯৮১) ইতিহাসমগ্ন ছিলেন আমৃত্যু। খণ্ডে-খণ্ডে তিনি যে-চট্টগ্রামের ইতিহাস (১৯৬৭) লিপিবদ্ধ করেছেন তার সপ্তম বা শেষ খণ্ডের ভূমিকায় বলেছেন : ‘চট্টগ্রামের ইতিহাস’-এর শেষ (সপ্তম) খণ্ডে ‘আমরা কতিপয় বিশিষ্ট পরিবার, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আন্দোলন’-এর বিবরণ লিপিবদ্ধ করিতেছি। ইহার ফলে নিজেদের ইতিহাস জানিয়া লইয়া আত্ম-সম্বিৎ লাভে চট্টগ্রামবাসীদের সাহায্য হইবে, ইহাই আমাদের আশা। অধুনাবিলুপ্ত বইটির পৃষ্ঠাসজ্জা একটু অভিনব : ধারাবাহিকভাবে পৃষ্ঠাঙ্ক না দিয়ে প্রত্যেক অধ্যায়কে অ্যালবামের মতো সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে পরবর্তীকালে নতুন-নতুন তথ্য যুক্ত করে নিতে পারেন ইতিহাসসন্ধানীরা, যদিও লেখকের সে-ইচ্ছে অপূর্ণই থেকে গেছে আজও। চট্টগ্রামের অনেক প্রসিদ্ধ পরিবারের সতথ্য বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন লেখক প্রায় নিঃসঙ্গ পরিশ্রমে; তথ্যবিশ্লেষণে হয়তো-বা সর্বত্র ইতিহাসপদ্ধতি অনুসৃত হয়নি, এমনকী বিভ্রান্তিও থাকতে পারে কোথাও-কোথাও, কিন্তু লেখকের কলম যে কাঠখোট্টা ছিল না তা স্বীকার করতেই হয়। বইটির দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের নাম ‘শেখ-এ-চাট্‌গাম কাযেম আলী’। কাজেম আলী হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ শিক্ষাব্রতী কাজেম আলী (১৮৫২-১৯২৬) সম্পর্কে মাহবুব-উল আলম লিখছেন : কাযেম আলী কিরূপে তাঁহার স্কুলে একটা পারিবারিক আবহাওয়া বজায় রাখিতেন সে সম্বন্ধে ঐ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ভূপেন্দ্র কুমার রক্ষিত বলেন : তিনি প্রতিদিন স্কুলে আসিতেন না। তখন ১৯১৭ সাল। একদিন হঠাৎ স্কুলে আসিলেন। সে দিন আমাদের ইংরেজী-শিক্ষক স্কুলে আসেন নাই। তিনি বলিলেন : পড়া আমিই নিব। আমরা ভয়ে তটস্থ হইয়া গেলাম। পড়া ছিল ‘আলেকজাণ্ডার য়্যাণ্ড দি রবার।’ তিনি আমাদের ইংরেজীতে প্রশ্ন করিলেন : ফিলিপ কে ছিলেন? আমি ফস্ করিয়া উত্তর দিলাম : কিং অব ইণ্ডিয়া। তিনি ধমক দিয়া আবৃত্তি করিলেন : অব্ ইণ্ডিয়া? আমি থতমত খাইয়া শুদ্ধ করিলাম : কিং অব ম্যাসেডন। তিনি খপ্ করিয়া আমার একখানি হাত ধরিয়া ফেলিলেন। অতঃপর গর্জন করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন : প্রথমে ইণ্ডিয়া বলেছিলে কেন? কিন্তু ইতিমধ্যে তিনি অনুভব করিলেন, আমার হাত বেশ গরম। তখন বলিলেন : তুমিত ম্যালেরিয়ায় ভুগ্‌ছ মনে হচ্ছে। অতঃপর শার্ট তুলিয়া পেটে হাত দিয়া বলিলেন : এই যে পিলে বেশ বড় হয়েছে। অতঃপর এইরূপ কথোপকথন হইল : : তুমি কার ছেলে? : আমার বাবার নাম যোগেশ চন্দ্র রক্ষিৎ। : কি করেন? : কলেক্টরীর কর্মচারী। : তুমি ছুটির আগে লাইব্রেরীতে আমার সঙ্গে…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.