Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর আইন ও আইনের ভাষা মুক্তিপ্রাপ্ত দাস একিওন চেয়েছেন তাঁর পুত্র আইন পড়ুক যাতে সেটা তার জীবিকার সহায়ক হয়। তাঁর এতোটা উচ্চাশা ছিল না যে নিজের পুত্রকে একজন বাগ্মী এবং অন্যের পক্ষ নিয়ে লড়াই করা একজন মানুষ হিসেবে কল্পনা করবেন, কিন্তু তাকে আইন সম্পর্কে খানিকটা জানতেই হতো। এই দিক থেকে তিনি সম্ভবত ঠিক ছিলেন। রোমক জগতে আইন ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। সিভিল সার্ভেন্টদের অনেকটা সময় কেটে যেত নানান বিষয়ে অভিমত প্রদানে, আর এই বিষয়টা নিশ্চিত করতে যে লোকে যেন আইন মেনে চলে। যারা আইন ভাঙত তাদের সঙ্গে খুব নির্দয় আচরণ করা হতো, তবে আইন আবার মানুষকে সহিংসতা ও স্বেচ্ছাচারিতা থেকে রক্ষা-ও করত। আইনের চোখে মানুষ সমান ছিল না। উল্টো, আইন একেবারে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিত কে কার ওপর খবরদারী করবে, কতটা করবে সে-সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দাসমালিকদের ছিল একচ্ছত্র ক্ষমতা, এমনকি নিজ দাসদের খুন করার-ও অধিকার ছিল তাঁদের। অবশ্য সেই একচ্ছত্র ক্ষমতারও কিছু সীমা ছিল: বাড়াবাড়ি রকমের নিষ্ঠুরতার কারণে যে-দাস পালিয়ে যেতেন তাঁকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য করা সম্ভব ছিল মালিককে; কাজেই একথা বলা যেতে পারে যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইন দাসদের-ও সুরক্ষা দিত। রোমের সমাজ ছিল খুবই পিতৃতান্ত্রিক, এবং পরিবারের কর্তা বা, ‘pater familiae’ পরিবারের সব সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, কিছু কিছু ক্ষেত্র ছাড়া। যেমন, তাঁর স্ত্রীর অর্থ-কড়ির ব্যাপারে কোনো কথা বলার অধিকার ছিল না তাঁর, এবং আইনগতভাবেই স্ত্রীর টাকা-পয়সা ছিল স্বামীর টাকা-পয়সা থেকে আলাদা। মানুষের অধিকার এবং বাধ্যবাধকতাগুলোর স্বরূপ কেমন ছিল এই নিয়মগুলো তার উদাহরণ। অবশ্যই নিয়ম-কানুন আরো মেলা ছিল, কেনা-বেচার নিয়ম, বাদ-বিসংবাদ-ক্ষয়ক্ষতি আর অতি অবশ্য-ই অপরাধ ও শাস্তি বিষয়ক নিয়ম-কানুন। কার্যকর যে-কোনো সমাজে এধরনের নিয়ম-কানুন থাকতেই হয়, কিন্তু রোমকরা তাদের আগের (এবং পরের-ও বটে) যে-কোনো সমাজের চাইতে বেশি সময় বিনিয়োগ করেছিল স্বচ্ছ, পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধি-নিষেধ তৈরি আর সেগুলো যাতে কাজ করে তা নিশ্চিত করতে। সেই সঙ্গে তারা তাদের আইন-কানুন ও বিধি-নিষেধের পেছনের নীতি বা যুক্তি নিয়েও লেখালেখি করেছে অনেক, এবং বলা যেতে পারে তারাই…
|| আইন ও আইনের ভাষা || মুক্তিপ্রাপ্ত দাস একিওন চেয়েছেন তাঁর পুত্র আইন পড়ুক যাতে সেটা তার জীবিকার সহায়ক হয়। তাঁর এতোটা উচ্চাশা ছিল না যে নিজের পুত্রকে একজন বাগ্মী এবং অন্যের পক্ষ নিয়ে লড়াই করা একজন মানুষ হিসেবে কল্পনা করবেন, কিন্তু তাকে আইন সম্পর্কে খানিকটা জানতেই হতো। এই দিক থেকে তিনি সম্ভবত ঠিক ছিলেন। রোমক জগতে আইন ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। [. . .]
