গত ৯ই অক্টোবর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে চে তারুণ্যের প্রতীক হয়ে আছে আমাদের মাঝে [..]

আরনেস্তো চে গুয়েভারা। সংক্ষেপে 'চে'...। 'চে' হচ্ছে বিপ্লবের প্রতিশব্দ। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যে বলতে পারে, " কাপুরুষ, মারো গুলি, তোমাদের গুলিতে মরবে শুধু মানুষটি "। গত ৯ই অক্টোবর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে চে তারুণ্যের প্রতীক হয়ে আছে আমাদের মাঝে। ৪৩ বছর আগে বলিভিয়ার সরকার সিআইএ-র সহয়োগিতায় যে চে-কে বলিভিয়ার জঙ্গলে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল, সেই চে-র আদর্শের একবিন্দুও মৃত্যু ঘটেনি। ... চে যেন ডেকে বলছে, "বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই করো"। চে আজীবন বেঁচে থাকবে কবিতায়, টি-শার্টে, পুঁজিবাদের আতঙ্ক হিসাবে। চে হচ্ছে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। সবার অন্তরে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে চে বেঁচে থাকবে আমাদের মাঝে আজীবন। চে-র স্বপ্ন বাস্তবায়িত হোক।... বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।

কানাডা সফররত বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস কানাডা সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছেন, বাংলাদেশের জন্য কানাডা সরকারের বরাদ্ধকৃত ঋণের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ যেন তার "সামাজিক ব্যবসা" খাতে দেওয়া হয়[..]

কানাডা সফররত বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস কানাডা সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছেন, বাংলাদেশের জন্য কানাডা সরকারের বরাদ্ধকৃত ঋণের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ যেন তার "সামাজিক ব্যবসা" খাতে দেওয়া হয়। ডঃ ইউনুস কানাডা সরকারকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন যে, বরাদ্ধকৃত অর্থ ঠিক কি খাতে ব্যয় হচ্ছে, তা না জেনে কিংবা বরাদ্ধকৃত অর্থ আর কোন দিনই ফেরত পাওয়া যাবেনা, তা নিশ্চিত জেনেও বাংলাদেশ সরকারকে অর্থ বরাদ্ধ দেওয়ার চেয়ে তাঁর তথাকথিত " সামাজিক ব্যবসায় " অর্থ বরাদ্ধ দিলে তা থেকে একটি ভাল ফল পাওয়া যাবে। ডঃ ইউনুসের মত বিশ্ব পরিচিত দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত একজন নোবেল বিজয়ী যোদ্ধার কাছে সরকার ও আমরা সাধারণ জনগনের প্রত্যাশা অনেক বেশী। তিনি দেশ, সরকার ও জাতির প্রতিনিধিত্বকারী একজন হয়েও নিজের সেই কর্পোরেট বাণিজ্যকে বেগবান করার প্রত্যয়ে একটি দাতা রাষ্ট্রের কাছে ঋণ গ্রহীতা দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে কিভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যভাবে উপস্থাপন করলেন, তা আমার বোধগম্য নয়। ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস যে সামাজিক ব্যবসার কথা বলেন, তা আমি যেমন বুঝিনা, বাংলাদেশের অনেক বড় বড় অর্থনীতিবিদরাও বোঝেন না বলে আমি জানি। আমি যতটুকু বুঝি, বৈদেশিক সাহায্য রাষ্ট্রের কাছে দেওয়ায়ই সবচেয়ে উত্তম। এসব সাহায্য দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষিসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অনগ্রসর খাতসমূহে ব্যয় হবে । সাধারণত কোন দেশের নীতি বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই সব বৈদেশিক অনুদান ও ঋণ সাহায্য আমাদের মত দেশে এসে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত এসব সাহায্য আমাদের অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা বাড়ায়। এসব সাহায্য যত বর্জন করা যায় ততই দেশের জন্য মঙ্গল। বৈদেশিক সাহায্য ব্যক্তির সামাজিক বাণিজ্য খাতে দিয়ে জনগনের কি লাভ হবে ? তাছাড়া একটি দাতা রাষ্ট্রকে এই ধরনের প্রস্তাব দিয়ে রাষ্ট্রকে ছোট করার কোন অধিকার ডঃ ইউনুসের নেই । ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস গ্রামীন ব্যাংক, গ্রামীনফোনসহ বিভিন্ন ব্যবসাকে যে সামাজিক ব্যবসা বলে অভিহিত করেন সেগুলো দারিদ্রতা হ্রাসে কতটুকু ভূমিকা রেখেছে ? ডঃ ইউনুস-এর কথিত সামাজিক ব্যবসা হচ্ছে বহুজাতিক পূঁজির ছদ্মবেশী বাজার । কানাডা সরকারকে দেওয়া তার প্রস্তাবের অর্থ দাড়ায়, এদেশে বহজাতিক পূঁজিকে আমন্ত্রন জানানো । এতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি কিছুই নেই। তাই, ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের প্রতি আমার জিজ্ঞাসা : বৈদেশিক ঋণের টাকায় সামাজিক বাণিজ্য, নাকি ছদ্মবেশী বহুজাতিক পূঁজির বাজার তৈরী করবেন ?

হঠাৎ করেই ইসলামের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র (!!!) হয়ে উদয় হওয়া তথাকথিত ইসলামিক স্কলার ভারতীয় নাগরিক ডা.জাকির নায়েক নাকি আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন[..]

সচলায়তনের একটা পোস্ট থেকে জানলাম যে, জাকির নায়েক ১২ দিনের এক সফরে বাংলাদেশ আসছেন আগামী ৩০ নভেম্বর। হঠাৎ করেই ইসলামের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র (!!!) হয়ে উদয় হওয়া তথাকথিত ইসলামিক স্কলার ভারতীয় নাগরিক ডা.জাকির নায়েক নাকি আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। নিজের মালিকানাধীন পিস টিভির কল্যাণে সারা বিশ্বে নিজেকে পরিচিত করে তোলা এই লোক একজন চিকিৎসক হলেও পেশায় তিনি একজন ধর্মজীবি। ধর্ম বেচে খান। এতদিন ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ালেও এই প্রথম তাঁর মনে পড়েছে বাড়ির পাশে মুসলিম দেশ বাংলাদেশের কথা। আমার মতে, বাংলাদেশ সফরের জন্য এ সময়টা বেছে নেয়ার পিছনে জাকির নায়েকের বিশেষ উদ্দশ্য আছে। আমি জানি না, কার বা কাদের আমন্ত্রণে তিনি এদেশে আসছেন নাকি তার নিজের প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন এর নিজস্ব উদ্যোগেই এখানে আসছেন। যে ভাবে আসুন না কেন, তিনি যে এদেশে এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিরোধী প্রচারণাটা আরেকটু উস্কে দেয়া এবং ধর্মভীরু সরল মানুষদের তার মিথ্যা কথার চাটুকারী ফাদে ফেলে বোকা বানানো ছাড়া আর কিছুই করবেন না, তা স্পষ্ট। জাকির নায়েক ইসলাম সম্পর্কে অত্যন্ত কনফিডেন্টলি ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা বলে যান একেবারে রেফারেন্স সহ। আর আমরা আমজনতা তা দেখে ভাবি, আহা! মানুষটা কত জ্ঞানী। একেবারে ইসলামের ত্রাণকর্তা! কিন্তু তার দেয়া রেফারেন্স গুলো নিয়ে একটু স্টাডি করলেই বুঝবেন, অধিকাংশই ভুল। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত জনতাকে বোকা বানানোর জন্য তিনি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এসব রেফারেন্স দিয়ে থাকেন। এ সংক্রান্ত অজস্র প্রমাণ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে আছে। আগ্রহীরা একটা সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন ভিডিও সহ এসব প্রমাণ। বিশ্বে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো, সন্ত্রাসবাদ উস্কে দেয়া সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত জাকির নায়েক। ব্রিটেন এবং কানাডা ইতিমধ্যেই তাদের দেশে জাকির নায়েকের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমেরিকার ইসলামিক শরীয়ত বোর্ড তার বিরুদ্ধে ২০ টিরও বেশি ফতোয়া দিয়েছে। ভারতের দেওবন্ধ থেকেও তার বিরুদ্ধে শত শত ফতোয়া দেয়া হয়েছে। ভারতের মওলানা ইরফান তাকে কাফের বলে রায় দিয়েছেন। অথচ কোন ধরনের শিক্ষাগত ইসলামিক জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও উল্টো জাকির নায়েক নিজেই সারা বিশ্বে নানা রকম মনগড়া ইসলামিক ফতোয়া দিয়ে বেড়াচ্ছেন। অপেক্ষায় আছি, দেখি এই ভন্ড বাংলাদেশে এসে কি কি ফতোয়া দিয়ে যায়!!!

গত কয়েকমাস ধরে কিছু মানুষের সাথে আলাপ করে একরকম হতাশাবোধ করছি[..]

গত কয়েকমাস ধরে কিছু মানুষের সাথে আলাপ করে একরকম হতাশাবোধ করছি। এদেশের অন্ততঃ অর্ধেক মানুষ আওয়ামীলীগের কট্টর বিরোধী এবং বিএনপির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থক। কাউকে ছোট করার জন্য বলা নয়, আমার ধারনা বিএনপি সমর্থক মাত্রই খানিকটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। জামাতের সাথে বিএনপির জোট হবার পর থেকেই এরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে চিন্তিত মাত্রার উদাসীন। এই উদাসীন মানবগোষ্ঠীর অধিকাংশ জামাতের ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধ নিয়ে মোটেও বিচলিত নয়। কারণ খালেদা জিয়ার অভিধানে যুদ্ধাপরাধ শব্দটি নেই। তাই এরাও এদের অভিধান থেকে মুছে দিয়েছে। কেবল আওয়ামী বিরোধীতার কারণে এরা নিজেদের রেখেছে ঘৃনিত যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক কাতারে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে কিছু সংখ্যক মানুষ ভারতের ষড়যন্ত্র মনে করতো। দেশকে কেটে ভাগ করার ষড়যন্ত্র মনে করতো। পাকিস্তানীরা সেই মানুষগুলোকেও যখন কচুকাটা করতে বাদ রাখলো না, তখন বুঝেছিল পাকিস্তানী হানাদার কখনো সভ্য মানুষের বন্ধু হতে পারে না। এই মানুষগুলোর জন্যও কি সেরকম ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে?

অক্টোবরের ৩০ তারিখে (২০০৯) আমার প্রদর্শনীর উদ্বোধন। মক ভাইয়ের অনুরোধে কয়েকদিন আগেই চলে আসা। ডিসপ্লে এবং ফ্রেমিং-এর ব্যাপারে যেন আমার মতামত পাওয়া যায়। [...]

প্রদর্শনী হংকং-এ অক্টোবরের ৩০ তারিখে (২০০৯) আমার প্রদর্শনীর উদ্বোধন। মক ভাইয়ের অনুরোধে কয়েকদিন আগেই চলে আসা। ডিসপ্লে এবং ফ্রেমিং-এর ব্যাপারে যেন আমার মতামত পাওয়া যায়। সিসিসিডি-র কর্মী উইলসন প্রদর্শনীর সমন্বয়ক। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পেরোনো টগবগে তরুণ। প্রতিদিন সকালে সেই আপলেইছাও থেকে শাকিপমেই চলে আসি প্রদর্শনীর জায়গায়। আর উইলসনের সাথে হাতে হাত রেখে প্রাক-প্রদর্শনী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হই। যেমন ফ্রেমিং, ছবি ঝোলানো, ট্যাগ তৈরি ইত্যাদি। নিউবার্গ গ্যালারির কর্ণধার মিশালের সাথে এরমধ্যে একদিন দেখা হয়েছে, খুবই ব্যস্ত। তবে মিশালের স্বামী মাইকল আমাকে বেশ সময় দিলেন। মাইকল দিলখোলা সজ্জন মানুষ। গ্যালারির সেক্রেটারি লিজা-ও আমাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল। ডিসপ্লের ব্যাপারে লিজা বেশ অভিজ্ঞ; অনেকগুলো ছবি নিজেই ঝুলিয়ে ফেলল। মক ভাইয়ের অফিস একই ক্যাম্পাসের চার তলায় হওয়ায় সকালে এসে ওখানেই জড়ো হই, পরে নীচে চলে আসি গ্যালারিতে টুকিটাকি কাজ সারতে। এই চত্বরেরই আট তলায় হংকং ওপেন প্রিন্ট শপের অফিস কাম স্টুডিও। এখানেও আমার কিছু কাজ প্রদর্শিত হবে; আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশের ছাপচিত্রের উপর একটি বক্তৃতার, সেই সাথে আমার ছাপচিত্র নিয়ে একটি ডেমনস্ট্রেশনও হবে। প্রিন্ট শপের অফিসে গিয়ে পরিচিত হয়ে এলাম। মিস ইউং নামের একজন এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে আছেন, তিনি আমাকে সবকিছু ঘুরিয়ে দেখালেন। আমার বক্তৃতা এবং ডেমনস্ট্রেশনের জন্য কী কী জিনিস লাগবে তার একটা লিস্ট দিয়ে এলাম। এর মধ্যে একদিন গিয়ে হংকং-এর বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রধান আসুদ ভাইয়ের সাথে দেখা করে আসলাম। বাংলাদেশ কনস্যুলেট আমার প্রদর্শনীর সহ-আয়োজক। আসুদ ভাই বেশ মাইডিয়ার টাইপের মানুষ। উনার দিক থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পেলাম। আমার প্রদর্শনীর বিষয়টি হংকং-এর বাঙালিদের মধ্যে ভালো প্রচার পেয়েছে বলেও জানালেন। দেখতে দেখতে তিরিশ তারিখ চলে এল -- সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। প্রদর্শনীর উদ্বোধন সন্ধ্যা সাতটায়, আমরা বেশ আগেভাগেই গ্যালারিতে চলে গেলাম। গ্যালারির কর্ণধার মিশালে আজ বেশ আগেই হাজির, সাথে মাইকল এবং লিজা। গ্যালারিতে চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা। সিসিসিডি-র কর্মীরা সবাই উপস্থিত। আপ্যায়নের আয়োজনে ব্যস্ত। থরে থরে সাজানো আছে নানা ধরনের স্ন্যাকস, এর মধ্যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হচ্ছে নিউরোকান (সেদ্ধ গরুর মাংসের শুঁটকি), যা চীনাদের খুব প্রিয়। সিসিসিডি-র কর্মী এলিজা ম্যাকাও গিয়ে কিনে এনেছে। ম্যাকাও-এর নিউরোকান নাকি খুবই উপাদেয়। গ্যালারির বাইরে একটি খোলা চত্বরের মতো আছে, সেখনে টেবিলে সাজানো আছে নানা…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.