মুক্তাঙ্গন ব্লগে পিলখানা ট্র্যাজেডি ও গণহত্যার প্রথম দিনেই আমরা পেয়েছি রায়হান রশিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা,- যা ঘটনার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও আশঙ্কা তুলে ধরেছিল। ঘটনা-পরম্পরায় লেখাটি আরও পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত হয়েছে এবং তাঁর প্রশ্ন ও আশঙ্কাগুলি আরও ইঙ্গিতময় হয়ে উঠেছে। অনেকেই এতে মন্তব্য করেছেন ও করবেন। বলা ভালো, এ লেখাটিও সেরকম মন্তব্যের পর্যায়ভুক্ত, রায়হান রশিদের চিন্তাঝড়েরই প্রতিক্রিয়া ও অনুষঙ্গ। অবশ্য রায়হান রশিদের প্রথম প্রতিবেদনেই আমি একটি প্রতিক্রিয়া যুক্ত করেছিলাম। তখনও আমরা বেশ অন্ধকারে ছিলাম, তাই সে-প্রতিক্রিয়ার সূত্র ছিল এক অর্থে মিডিয়াপ্রভাবিত। সেখানে আমার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘এই ঘটনা সামরিক বাহিনী ও বিডিআর-এর মধ্যে যে নীরব দ্বন্দ্ব ছিল তাকে আরও সুস্পষ্ট করলো’। কিন্তু ঘটনাটি ষড়যন্ত্রের পর্যায়ভুক্ত হওয়ার কারণে এখন এ নীরব দ্বন্দ্বগুলিকে হয়তো অনেকেই আমলে নেবেন না। কেউ কেউ ব্লগে বিষয়টিকে ‘শ্রেণীসংগ্রাম’ বলে উল্লেখ করায় আমি বিস্ময়বোধক চিহ্ন ব্যবহার করেছিলাম তখন, রায়হান রশিদ, নীড়সন্ধানী এবং আরও দু'একজন এ ব্যাপারে মন্তব্য করেছিলেন আরও স্পষ্টভাবে (একজন আমাকে জানালেন, যে বা যারা বিষয়টিকে শ্রেণীসংগ্রাম বলে উল্লেখ করেছিলেন, তাদের কাউকে না কি এখন আবার সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ অধিদপ্তরের ভাষ্য লিখতে দেখা যাচ্ছে!)। প্রতিক্রিয়াটিতে আমি আরও লিখেছিলাম, ‘...অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করাও মূল কারণ হতে পারে -- যাতে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের অসন্তোষকে পুঁজি করা হয়েছে’। এখন বিষয়টি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট, এর লক্ষ্য ছিল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। তাই যে-দাবিগুলিকে প্রচারণায় নিয়ে এসে এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, সেই দাবিগুলি সম্পর্কে আমাদের স্বচ্ছ হওয়া দরকার। এখন যেমনটি দেখা যাচ্ছে, -- অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্য থেকে দাবিগুলি তোলা হয়েছিল বলে এসব দাবিগুলিকে অনেকে অচ্ছুৎ ভাবতে শুরু করেছেন এবং তা ধামাচাপা পড়তে শুরু করেছে -- দাবিগুলির এরকম পরিণতি আমি আশা করি না। দাবিগুলির ন্যায্যতা ও অন্যায্যতা আমাদের অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার। প্রসঙ্গত বলি, এইসব দাবিদাওয়া সম্পর্কে আমারও পরিষ্কার ধারণা নেই। ছাড়া-ছাড়াভাবে এবং মিডিয়ার কল্যাণে যে-সব দফা কানে এসেছে সেগুলি হলো, বিডিআর-এ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ বন্ধ, শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বিডিআর সদস্যদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা এবং অপারেশন ডালভাত কর্মসূচিতে দুর্নীতিপ্রসঙ্গ। এর মধ্যে, গতকাল সংঘটিত হয়েছে পাকিস্তানে আর এক জঘন্য ঘটনা। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট টিমের খেলোয়ারদের ওপর চলেছে আক্রমণ। নিহত হয়েছেন ছয়জন…
টিভিতে দেখলাম ডিএডি তৌহিদকে 'গ্রেপ্তার' করা হয়েছে। ব্যাপক 'জিজ্ঞাসাবাদ' শেষে তাদের নিয়ে আসা হয়েছে মিডিয়ার সামনে, মুখ চেপে ধরে। দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কারন শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে ফিরে এসে এই ডিএডি তৌহিদ যে আত্মমর্যাদার সাথে মিডিয়ার সাথে সাক্ষ্যাৎকার দিয়েছিলেন, তাতে তাকে দেখে আর যাই হোক খুনের পরিকল্পনাকারী মনে হয়নি। নিতান্তই বলির পাঁঠা এরা, এ আমার বিনীত মত। ঐ মিডিয়া 'প্রেজেন্টেশনের' সময় কোন কোন চ্যানেলে আরেকজন বিডিআর অফিসারকে দেখা যাচ্ছিলো বিলাপ করতে। প্রেজেন্টেশন শেষে যখন তাদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো হঠাৎ সেই নাম না জানা বিলাপকারী চিৎকার করে বলে উঠলো... 'ডিএডি তৌহিদ তো আত্মসমর্পন করেছেন, তাঁকে গ্রেফতার করা যায় কিভাবে?' মূহুর্তেই পাশে থাকা কালোপোশাকী রেব তার মুখ চেপে ধরাটা দেখে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেলো। ঐ লোকগুলোর কথা ভেবে নয়, তদন্ত আর বিচারের নামে যে প্রহসন শুরু হয়েছে, এতে কতো মানুষের আহাজারি বাড়বে ভেবে। গত দিনদিন ধরে মাঠে বসে থাকা লোকগুলোর মানবেতর অবস্থা ভেবে। গাছের কান্ড ধরে অজানা আশঙ্কা নিয়ে প্রিয়জনের সাথে মোবাইলে কাঁদতে থাকা নাম না জানা সীমান্তের অতন্দ্র এক প্রহরীকে দেখে। একই সাথে চ্যানেল পালে জলপাই প্রেমে গদগদ তেল চুপচুপে স্কিটগুলো, লাল-সবুজ আর তলোয়ার-ছাপা পতাকা পটভুমিকায় সেনাকুঞ্জ প্রেস ব্রিফিং, জবুথবু স্বৈরাচারী বুড়ো এরশাদের আলগা মাত্বরী, দুদিন পর পর চুলের ফ্যাশনের মতো মতামত বদল করা বিরোধী নেত্রী, বিচিত্র সেলুকাসের দেশে সংসদে বসে থাকা যুদ্ধাপরাধী সাকাচৌ-টার হায়েনা হাসি, ইত্যাদি ইত্যাদি, আমার মধ্যে এক ধরনের বিবমিষাও এনে দেয়। বসে থাকি সেই মন খারাপ করা ঘিনঘিনে অনুভূতিটা পেটে ধরে।
সারাদেশে বিডিআর জওয়ানদের বিদ্রোহের নামে উচ্ছৃঙ্খলতা সত্যিই এক নারকীয় তান্ডব ছিল। সেদিন আমি মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের পাশে এক বন্ধুর বাসায় ছিলাম। দুপুরের দিকে আমার এক বন্ধু মোবাইল করে বলে যে, 'ঝিগাতলার দিকে গন্ডগোল হচ্ছে'। তখনও আমরা স্পষ্ট কিছু বুঝিনি (আমি এবং আমার বন্ধু যার বাসায় আমি ছিলাম) এবং প্রায় রওনা দেবো এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন ছুটাছুটি করতে শুরু করল। একে একে সবাই বলাবলি শুরু করল 'বিডিআর আর আর্মিতে মারামারি লাগছে'। তারপর বাসায় ফিরলাম। ফিরে এসে টিভি ছাড়লাম। দেখলাম সত্যিই এক যুদ্ধক্ষেত্র..!! বিকেলে মা ফোন করে আমাকে যা জানালো তার একটি গুছালো বিবরণ নিচে দিলাম: ১৪ রাইফেল ব্যাটালিয়ন বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে অবস্থানরত। এই ব্যাটালিয়ন বা বিডিআর ক্যাম্পের ভিতরে দুটি স্কুল। একটি প্রাইমারি, নাম 'শহীদ নূর মোহাম্মদ প্রাথমিক বিদ্যালয়'। অপরটি উচ্চ বিদ্যালয়, নাম 'রাইফেলস উচ্চ বিদ্যালয়'। দুটি স্কুলই প্রতিষ্ঠিত হয় ১২ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন এর হাতে। তারপর সেখানে ব্যাটালিয়ন পরিবর্তিত হতে হতে বর্তমানে ১৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন। এতোসব বলছি কারণ- সেদিন বুধবার বিডিআর জওয়ানদের বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর জওয়ানরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাইফেলস্ স্কুলসহ প্রাইমারি স্কুলটি ছুটি দেয়া হয়। বাচ্চারা ছুটোছুটি করে ফেরার সময় এক আদিবাসী মনিপুরি শিক্ষার্থী যে রাইফেলস স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে তার ফ্রক (স্কুল ড্রেস) ফুটো করে এক বুলেট বেরিয়ে যায়। ভাগ্যিস তার কিছু হয়নি। যদি হতো..? শিক্ষার্থীর নাম 'লাইতোঞ্জম ফেন্ডো'। এটি তার ডাকনাম, স্কুলে ব্যবহৃত সঠিক নামটি এখনো জানা হয়নি। সে শিক্ষার্থী বাসায় ফেরার পর নাকি সারারাত জ্বর ছিলো গায়ে। সাথে উদ্বেগ উৎকন্ঠাসহ মা-বাবার চোখে ঘুম হারাম হওয়া এক রাত.. এখন সুপ্রিয় পাঠক বলেন তো, জওয়ানদের এমন বিদ্রোহের ফলে এই যে কোমলমতি শিশুরা যারা স্কুলে লেখাপড়া শিখতে যায়, যারা নিষ্পাপ, যারা কোনদিন কারো কোনো ক্ষতি করেনি তারা কেনো এমন বিদ্রোহের শিকার হবে..? :: স্কুলে ব্যবহৃত সঠিক নামটি জানামাত্র লেখাটিকে আপগ্রেড করা হবে ::
ঘটনার প্রথম প্রহরেই আমরা দ্রুত কিছু বিষয়ে অগ্রিম ইঙ্গিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম (এখানে)। এবার এ বিষয়গুলো নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করা দরকার। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য এবং কিছু আনুমানিক বিশ্লেষণকে ভিত্তি করে দ্রুত লিখছি [...]
[পোস্টের শিরোনাম ঈষৎ বদলে নেয়া হল] ঘটনার প্রথম প্রহরেই আমরা দ্রুত কিছু বিষয়ে অগ্রিম ইঙ্গিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম (এখানে)। এবার এ বিষয়গুলো নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করা দরকার। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য এবং কিছু আনুমানিক বিশ্লেষণকে ভিত্তি করে দ্রুত লিখছি: ১. সাম্প্রতিক সময়ে এমন কী ঘটেছে যা এ ধরণের সশস্ত্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে? সাম্প্রতিক সময়ের দুটো ঘটনায় এর কিছু উত্তর মিলতে পারে। (ক) উপমহাদেশে আন্তঃদেশীয় জঙ্গিবাদের উত্থান ইস্যুকে সামনে রেখে সার্ক টাস্ক ফোর্সের উদ্যোগ এবং তাতে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার এবং সক্রিয় উদ্যোগ। এ নিয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের মধ্যে কিছু আলাপ-আলোচনার খবর ইতোমধ্যেই পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সরকারকে অস্থিতিশীল কিংবা বদল করার মাধ্যমে উদ্যোগটিকে অচল করা এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে। (খ) আওয়ামী লীগ সরকার জাতির বহুদিনকার দাবি ১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। এটি ছিল তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। কেবল প্রতিশ্রুতিতেই তা থেমে থাকেনি। ইতোমধ্যে সংসদে এ সংক্রান্ত পদক্ষেপকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব পাশ হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও তা
নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারের উদ্যোগে। সুতরাং এটা এখন স্পষ্ট যে, সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই সব উদ্যোগে দেশের ভেতরের একটি শ্রেণীর শঙ্কিত বোধ করার কথা। তাদের পক্ষে পুরো উদ্যোগকে বিপথগামী বা (চরম জাতীয় সংকট তৈরির মাধ্যমে) নস্যাৎ করার পরিকল্পনা করা অসম্ভব নয়। যুদ্ধাপরাধী শুধু দেশের ভেতরেই নেই, দেশের বাইরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন কর্মকর্তার মধ্যেও রয়েছে। সুতরাং এ ঘটনায় বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি মদদ থাকাও বিচিত্র নয়। ২. কী অর্জন করতে চেয়েছিল সশস্ত্র আক্রমণকারীরা? এতে এখন আর কোন সন্দেহ নেই যে, এমন মাপের হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সরকারকে পুরোপুরি অস্থিতিশীল করে দেয়া এবং দেশের মধ্যে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করা। এর ব্যাপ্তির সাথে কেবল ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১-এর বুদ্ধিজীবী হত্যা কিংবা ১৯৭৫-এর ঘটনাবলিরই তুলনা করা যায়। কিন্তু কেন? প্রথম দৃষ্টিতে মনে হয়েছে দাবি আদায়, কিন্তু এখন আমরা নিঃসন্দেহ যে সেটি ছিল cover বা front, যা নীড়সন্ধানীর মন্তব্যেও উঠে এসেছে। এর উত্তর খুঁজতে হবে হত্যাকাণ্ড এবং অরাজকতার সংখ্যার মধ্যে নয়। খুঁজতে হবে হত্যাকাণ্ডের ও অরাজকতার ধরণ এবং ঘটনাপ্রবাহের…
পরিকল্পিতভাবে দ্রব্যমূল্যস্ফীতি - বিডিআর নিয়ন্ত্রিত 'অপারেশন ডালভাত' - উঁচু পর্যায়ে অফিসারদের সেখান থেকে আখের গোছানোর অভিযোগ - সেই সাথে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের বেতন ভাতা ইত্যাদি নিয়ে দীর্ঘকালীন বঞ্চনাপ্রসূত ক্ষোভ - পিলখানা ক্যাম্পে গোলাগুলি - ঘটনাস্থলে সেনা বাহিনী মোতায়েন - সেনা বাহিনী বিডিআর মুখোমুখি - জিম্মি উর্ধ্বতন অফিসাররা - হতাহতের সংখ্যা অনিশ্চিত - সমঝোতা আলোচনা - দাবী দাওয়া বিবেচনার এবং তা পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস - অস্ত্র সমর্পনের আহ্বান - সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা - অস্ত্র সমর্পন - আটকে পড়া নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে . . .
[পোস্টের শিরোনাম ঈষৎ বদলে নেয়া হল] পরিকল্পিতভাবে দ্রব্যমূল্যস্ফীতি - বিডিআর নিয়ন্ত্রিত 'অপারেশন ডালভাত' - উঁচু পর্যায়ে অফিসারদের সেখান থেকে আখের গোছানোর অভিযোগ - সেই সাথে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি নিয়ে দীর্ঘকালীন বঞ্চনাপ্রসূত ক্ষোভ - পিলখানা ক্যাম্পে গোলাগুলি - ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী মোতায়েন - সেনাবাহিনী বিডিআর মুখোমুখি - জিম্মি ঊর্ধ্বতন অফিসাররা - হতাহতের সংখ্যা অনিশ্চিত - সমঝোতা আলোচনা - দাবি-দাওয়া বিবেচনার এবং তা পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস - অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান - সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা - অস্ত্র সমর্পণ - আটকে পড়া নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে - পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা পিলখানায় প্রবেশ করে দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন - মৃতদেহের তন্ন তন্ন অনুসন্ধান চলছে . . . জরুরী: উপরের ঘটনাক্রমের আপডেট ছাড়া এই পোস্টটি মূলতঃ লেখা হয়েছে ঘটনার প্রথম প্রহরে। জরুরী তথ্য-সীমাবদ্ধতা ছিল এটি লেখার সময়। তাই পাঠকের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে সেটি আমলে নেয়ার জন্য। ঘটনার সাম্প্রতিকতা বিবেচনায় এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। সবাই মিলে এসব প্রশ্নের পাশাপাশি আরও নতুন সব প্রশ্ন তুলে আনার এবং সে সবের উত্তর খোঁজায় মনোনিবেশের সময় এখন। [কোনো সুনির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করা হয়নি এখানে] - ব্যারাক এলাকায় যেসব নারী, শিশু এবং বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়েছেন, তাঁদের অবস্থা কী? - আহত এবং অসুস্থরা কি পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন? - ঘটনার অন্তরালে অন্য কোনো ঘটনা নেই তো? - পরিকল্পিত না স্বতঃস্ফূর্ত? - ঠিক আজই এখনই কেন এই বিদ্রোহ? - তিন বছর বা ছয় মাস আগে নয় কেন? - এটি অন্য কোনো ঘটনা থেকে জনতার মনোযোগ সরানোর প্রয়াস নয় তো (দেশ যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা ভাবছে)? - '৭৫-এ এমনই এক সিপাহি বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাধারণ সিপাহিদের বঞ্চনাকে সামনে তুলে ধরে, যা পরবর্তীকালে জেনারেল জিয়ার উত্থান, কর্নেল তাহের এবং মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল; তেমন কিছুরই পুনরাবৃত্তি হবে না তো? - যেসব বিডিআর সদস্যকে ঘটনার জন্য ঢালাও সাধারণভাবে ক্ষমা করেছে সরকার, সেটি (সাধারণ ক্ষমা) ভবিষ্যতে ঠিকভাবে মানা হবে তো? নাকি ঘটনা কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলেই তারা সম্মুখীন হবেন প্রতিশোধমূলক হয়রানি এবং নির্যাতনের? - সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা ছাড়া অন্য কি কি বিকল্প পথ খোলা ছিল…
