তফসীর ও সাঈদী, মাইকিং শুরু হয়ে গেছে চট্টগ্রামে। সরকার যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিদেশভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে, তাহলে একজন যুদ্ধাপরাধীর প্রকাশ্য সমাবেশে তফসীরে কেন নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে না ? আরো পরিধি বাড়িয়ে কেন পারে না চিহ্নিত সব যুদ্ধাপরাধীর প্রকাশ্য যে কোনো সমাবেশে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে ? সরকারের তা পারা উচিত এবং এই নিগ্রহের মধ্য দিয়ে এদের কোণঠাসা করা উচিত। আর এভাবেই ধীরে ধীরে তাদের বিচারও ত্বরান্বিত করা হোক। আর চট্টগ্রামের মানুষ আর কত নিজেদের অপমান সহ্য করবে! এবারের দুজন জামাত সাংসদ চট্টগ্রামের, আবার সাঈদীর তফসীরের ঘাঁটিই বা কেন হবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের নাগরিক ও ধর্মপ্রাণ মানুষ কেন পারে না যুদ্ধাপরাধীর তফসীর বর্জন করতে? কোরানের তফসীরে সাঈদীর চেয়ে যোগ্য কেউ কি জন্মায়নি চট্টগ্রামে বা বাংলাদেশে? সরকারের দিক থেকে হোক নিষেধাজ্ঞার প্রতিরোধ, সাধারণ মানুষ করুক যুদ্ধাপরাধীর প্রকাশ্য তফসীর ও সমাবেশ বর্জন, এভাবেই শুধু সম্ভব যুদ্ধাপরাধীদের একঘরে করা। আর এ আমাদের সমাজের প্রাচীন ধারা, অপরাধীকে একঘরে করো। আর নতুন ধারাও জারি হয়ে যাক পাশাপশি বিশেষ ট্রাইবুনালে যুদ্ধাপরাধীর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়ে যাক।
বিডিআর-এর বর্তমান মহাপরিচালক বিডিআর-এর নাম ও পোষাক পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। এখনো এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির কাছ থেকে কোনো মতামত এখনো জানা যায়নি। মহাপরিচালকের যুক্তি পিলখানার ঘটনায় বিডিআর ও এর পোষাকের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু যে ঘটনাটিকে আমরা অনেক আগেই জঙ্গিহানা বলেছি তার সাথে কেনো বিডিআর-এর ভাবমূর্তি গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে ? হ্যাঁ দৃশ্যমাধ্যমগুলোতে ঘটনার সময়ের বিডিআর-এর ছবি ও দৃশ্য মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, জঙ্গিরা ও বহিরাগতরা এবং বিডিআর-এর আভ্যন্তরীন জঙ্গি অংশ বিডিআর-এর পোষাক পরেই অ্যাকশনে ছিল, সেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দূর করতে বিডিআর-এর পোষাক পরিবর্তনই যথেষ্ট। বিডিআর শুধু পিলখানা হত্যাযজ্ঞেরই প্রতিনিধিত্ব করে না। বিডিআর মুক্তিযুদ্ধের অপরিসীম সাহস ও আত্নত্যাগেরও প্রতীক। সত্যিকার অর্থে তারা মুক্তিযুদ্ধের আনসাংগ হিরো। সামরিক বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর কথা যত বলা হয়েছে আমাদের প্যারামিলিটারি ও পুলিসের কথা কিন্তু সেভাবে কখনো বলা হয়নি। বিডিআর আমাদের সীমান্ত রক্ষায়ও যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে এসেছে স্বাধীনতার পর থেকেই। বিডিআর-কে বিপথে চালিত করার জন্য কাউকে যদি সবচেয়ে বেশি দায়ী করতে হয় তাহলে ২০০১-২০০৬ এর জঙ্গি সরকারকেই দায়ী করতে হয়। ওই সরকারের দায়িত্বহীন নিয়োগ বিডিআর-এর মধ্যে আত্মঘাতী শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল। সেই অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের সশস্ত্র সব বাহিনীতেই হয়েছে। পিলখানার মতো ঘটনা বাংলাদেশের যে কোনো বাহিনীতেই ঘটতে পারে, তাই বলে কি আমরা সে রকম কিছু ঘটলেই অনবরত সব সশস্ত্র বাহিনীর নাম পরিবর্তন করতে থাকব ? বিডিআর-এর নাম পরিবর্তন মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। বড় জোর পোষাকের পরিবর্তন ঘটিয়ে ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা অনেক বেশি প্রতীকী ও কার্যকর হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে পরিবর্তন আনতে হবে সাধারণ জওয়ানদের যথার্থ দাবী-দাওয়াগুলো মিটিয়ে সরকার যে বিডিআর বান্ধব তার সংকেত বিডিআর-এর প্রত্যেকটি সদস্যের কাছে পৌঁছানো। সেনাবহিনীর কর্তৃত্ব এখনই খর্ব করা যাবে না কিন্তু দিনে দিনে খর্ব করা হবে এবং সে লক্ষ্যে এখনই কাজ শুরু করা হবে সেই প্রতিশ্রুতি বিডিআর-কে দেয়া।
স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সালাম। কে এই ঘোষক জিয়া ? সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বন্দী দশা থেকে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসা জিয়া ? কে এই বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, তারপর বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ? তাকে যেভাবে বর্ণনা করা হয় সচরাচর তাতে তাকে এক অলৌকিক চরিত্র ছাড়া কিছুই মনে হয় না [...]
স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও লাল সালাম। কে এই ঘোষক জিয়া? সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসা জিয়া? কে এই বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, তারপর বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি? তাকে যেভাবে বর্ণনা করা হয় সচরাচর তাতে তাকে এক অলৌকিক চরিত্র ছাড়া কিছুই মনে হয় না। যখন কোথাও কেউ নেই বাঙালি হতবুদ্ধি তখন রেডিওতে ভেসে আসে এক অলৌকিক কণ্ঠস্বর, বাঙালি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, দেশ স্বাধীন হয়ে যায়। তারপর তৎকালীন রাজনীতিবিদরা জিয়ার অর্জন চুরি করে নিয়ে যায়, যেমনটি রাজনীতিবিদরা সবসময়ই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্জন চুরি করেন, কিন্তু বেশিদিন ধরে রাখতে পারেন না, তাই ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে আবার জিয়ার আর্বিভাব হয় সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে; তারপর আবার রাজনীতিবিদরা জিয়ার অর্জন চুরি করে নিয়ে যায়, এরপর তার সহ্যের বাঁধ ভেঙে যায়—তাকে বাধ্য হয়েই কঠোর হতে হয়, তিনি হন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। তারপর ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ জিয়াকে হতে হয় বাংলাদেশের ৮ম রাষ্ট্রপতি। “This is Shadhin Bangla Betar Kendro. I, Major Ziaur Rahman, on behalf of Bangobondhu Sheikh
Mujibur Rahman, hereby declare that the independent People's Republic of Bangladesh has been established. I have taken command as the temporary Head of the Republic. I call upon all Bengalis to rise against the attack by the West Pakistani Army. We shall fight to the last to free our Motherland. By the grace of Allah, victory is ours.” ২৭ মার্চ ১৯৭১-এ বলা সেই অযাচিত ‘Head of the Republic’-ই হলেন ১৯৭৭-এ এসে, আরেক অযাচিত পন্থায়; কিন্তু যাই হোক না কেন, তার প্রতিটিই আর্বিভাব, এবং প্রতিটিই চমকপ্রদ। কিন্তু কী তার কীর্তি? ইতিহাসের জায়গাটা কোথায় তার? শুধু ঘটনাচক্র নয় যা, তার চেয়ে বড় কিছু, তার যুগান্তকারী কর্মকাণ্ড, যার জন্য জিয়া আজো প্রাসঙ্গিক। কীর্তিগুলো তাহলে একে একে বলি। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশে জামাতের রাজনীতির অনুমতি প্রদান, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম’-এর অনুপ্রবেশ ঘটানো। এবং এ তিনটি কীর্তি তাকে উপমহাদেশে জিন্নাহ্র পরে সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী মুসলিম নেতায় পরিণত করেছে। এবং আজো বাংলাদেশের মুসলমানেরা ‘বাংলাদেশীরা’ তাকে মনে করে তাদের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে, তার উত্তরাধিকার…
২০০৭, ২০০৮ ও ২০০৯, এই তিন বছর আমি রাস্তায় ৭ই মার্চের ভাষণ বাজাতে শুনিনি। ২০০৭ ও ২০০৮ বুঝলাম, কিন্তু কেন ২০০৯-এ ও শুনলাম না, বুঝতে পারছি না। রাস্তায় কি আর কখনো ৭ই মার্চের ভাষণ বাজবে না? এমন স্বতঃস্ফূর্ত তুঙ্গ ভাষণ, বাংলা ভাষার সে কী জোর, বাংলাদেশের সে কী অভ্যুত্থান, সে কী দীপ্ত ঘোষণা স্বাধীনতার। বাংলাদেশের বাঙালী যদি এ ভাষণ না শোনে, তার যেমন বাংলা জানা সম্পন্ন হবে না, তেমনি শুরুই হবে না বাংলাদেশকে ভালোবাসা। আমি এখানে পুরো ভাষণটি টাইপ করছি [...]
২০০৭, ২০০৮ ও ২০০৯, এই তিন বছর আমি রাস্তায় ৭ই মার্চের ভাষণ বাজাতে শুনিনি। ২০০৭ ও ২০০৮ বুঝলাম, কিন্তু কেন ২০০৯-এ ও শুনলাম না, বুঝতে পারছি না। রাস্তায় কি আর কখনো ৭ই মার্চের ভাষণ বাজবে না? এমন স্বতঃস্ফূর্ত তুঙ্গ ভাষণ, বাংলা ভাষার সে কী জোর, বাংলাদেশের সে কী অভ্যুত্থান, সে কী দীপ্ত ঘোষণা স্বাধীনতার। বাংলাদেশের বাঙালী যদি এ ভাষণ না শোনে, তার যেমন বাংলা জানা সম্পন্ন হবে না, তেমনি শুরুই হবে না বাংলাদেশকে ভালোবাসা। আমি এখানে পুরো ভাষণটি টাইপ করছি, যদিও আমার টাইপ স্পিড এক কচ্ছপ চলা। আর আমার একটি অনুরোধ আছে, কেউ যদি পুরো ভাষণটির (না পাওয়া গেলে আংশিক) অডিও তুলে দিতে পারতেন সাইটে খুব ভালো হতো। আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সকলে জানেন এবং বোঝেন আমরা জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ অধিকার চায়। কী অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে ও আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরী করব এবং এদেশের ইতিহাসকে গড়ে তুলব। এদেশের মানুষ অর্থনীতিক, রাজনীতিক ও সাংষ্কৃতিক মুক্তি পাবেন। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলছি বাংলাদেশের করুণ ইতিহাস, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। এই রক্তের ইতিহাস মুমূর্ষু মানুষের করুণ আর্তনাদ—এদেশের ইতিহাস, এদেশের মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে আমরা রক্ত দিয়েছি।১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারিনি। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খাঁ মার্শাল-ল জারি করে ১০ বছর আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে আয়ুব খাঁর পতনের পরে ইয়াহিয়া এলেন। ইয়াহিয়া খান সাহেব বললেন দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন— আমরা মেনে নিলাম। তারপর অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আমাদের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দিন। তিনি আমার কথা রাখলেন না। রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে সভা হবে। আমি বললাম, এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করব— এমনকি এও পর্যন্ত…
ঢাকা এখন গুজবের শহর। অনেক ধরণের আকাশকুসুম গুজব উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে বাতাসে। তারই একটি হল কথিত এক সেনা জেনারেলের একটি প্রচারণা যেটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ব্লগে এটিকে জনৈক সেনা জেনারেলের ইমেইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই আলোচনার সুবিধার্থে প্রচারণার লেখককে 'জেনারেল' হিসেবেই সম্বোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। ইমেইলটি আমার নজরে এসেছে বেশ কয়েকদিন আগেই। এক বন্ধু পাঠিয়েছিল। এ ধরণের 'অসাধারণ' প্রচারণাকে আমি সাধারণত গুরুত্বের সাথে নিইনা। পড়াটাকেও এমনকি মনে করি মূল্যবান সময়ের অপচয়। ধরেই নিয়েছিলাম এমন আকাশকুসুম তত্ত্বে অন্তত শিক্ষিত কোন মানুষের ভাবান্তর হবে না ...
সিরিজের অন্যান্য পোস্ট: --চিন্তাঝড় ১: বিডিআর বিদ্রোহ — প্রথম প্রহর — কী কারণে? কারা? ঠিক এখনই কেন? --চিন্তাঝড় ২ : পিলখানা হত্যাযজ্ঞ — কারা, কেন, কীভাবে? ঢাকা এখন গুজবের শহর। অনেক ধরণের আকাশকুসুম গুজব উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে বাতাসে। তারই একটি হলো কথিত এক সেনা জেনারেলের একটি প্রচারণা যেটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ব্লগে এটিকে জনৈক সেনা জেনারেলের ইমেইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই আলোচনার সুবিধার্থে প্রচারণার লেখককে 'জেনারেল' হিসেবেই সম্বোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। ইমেইলটি আমার নজরে এসেছে বেশ কয়েকদিন আগেই। এক বন্ধু পাঠিয়েছিল। এ ধরণের 'অসাধারণ' প্রচারণাকে আমি সাধারণত গুরুত্বের সাথে নিই না। পড়াটাকেও এমনকী মনে করি মূল্যবান সময়ের অপচয়। ধরেই নিয়েছিলাম এমন আকাশকুসুম তত্ত্বে অন্তত শিক্ষিত কোনো মানুষের ভাবান্তর হবে না। কারণ, ইতিপূর্বে এমনই উদ্ভট থিওরি প্রচার করা হয়েছে ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলার পর। বলা হয়েছিল শেখ হাসিনা নাকি নিজেই নাটকটি সাজিয়েছিলেন; নিজের চার পাশে ডজনখানেক বিধ্বংসী গ্রেনেড ফাটানো ছিল সে-নাটকের অংশ! সারা দেশব্যাপী যখন জঙ্গিরা সিরিজ বোমা হামলা করেছিল, তখন জোট
সরকারের ক্ষমতাসীন শ্রেণীটি প্রচার চালিয়েছিল এটা নাকি 'ভারতীয় হিন্দু জঙ্গিদের কাজ'! বাংলা ভাই যখন উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায় জীবন্ত মানুষদের কেটে পুড়িয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখছিল, জোট সরকারের মহাক্ষমতাধর খালেদা-নিজামীরা প্রায় দু'বছর ধরে দেশবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করে গেছেন 'বাংলা ভাই এর আসলে কোনো অস্তিত্বই নেই, তিনি মিডিয়ার সৃষ্টি'! জেনারেল সাহেবের এই প্রচারণাটি পড়েও আমার তেমনই মনে হয়েছে প্রথমটায়। আমার বিশ্বাস ছিল, এত বেশী দুঃখ কষ্টের ঝড় এই জাতির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে যে আমরা ঠেকে না হলেও ঠকে নিশ্চয়ই কিছু-না-কিছু শিখেছি অতীত থেকে। তাই আমার বিশ্বাস ছিল, বাঙালির কাছে অন্তত এ ধরণের উদ্ভট প্রচারণা হালে পানি পাবে না। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে এই উদ্ভট তত্ত্বটিই এখন শেকড় গেড়ে বসতে শুরু করেছে কারো কারো মনে। এমনকী, আপাত দৃষ্টিতে বুদ্ধিমান যুক্তিবাদী কিছু মানুষও তত্ত্বটি খানিকটা যেন বিশ্বাসও করে ফেলেছেন এর মধ্যে। আসলে যে-কোনো মিথ্যা প্রচারণার সুবিধাটি বোধহয় এই জায়গায়। আপনি এক চিমটি সত্যের সাথে এক মুঠো মিথ্যে মিশিয়ে তাকে প্রচারণার জোয়ারে ভাসিয়ে দিন, বারবার বলতে থাকুন, তত্ত্বের বিরুদ্ধে তত্ত্ব দাঁড় করান, এবং আরেকটু…
