ঢাকা এখন গুজবের শহর। অনেক ধরণের আকাশকুসুম গুজব উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে বাতাসে। তারই একটি হল কথিত এক সেনা জেনারেলের একটি প্রচারণা যেটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ব্লগে এটিকে জনৈক সেনা জেনারেলের ইমেইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই আলোচনার সুবিধার্থে প্রচারণার লেখককে 'জেনারেল' হিসেবেই সম্বোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। ইমেইলটি আমার নজরে এসেছে বেশ কয়েকদিন আগেই। এক বন্ধু পাঠিয়েছিল। এ ধরণের 'অসাধারণ' প্রচারণাকে আমি সাধারণত গুরুত্বের সাথে নিইনা। পড়াটাকেও এমনকি মনে করি মূল্যবান সময়ের অপচয়। ধরেই নিয়েছিলাম এমন আকাশকুসুম তত্ত্বে অন্তত শিক্ষিত কোন মানুষের ভাবান্তর হবে না ...

[পিডিএফ ডাউনলোড করুন]

সিরিজের অন্যান্য পোস্ট:
চিন্তাঝড় ১: বিডিআর বিদ্রোহ — প্রথম প্রহর‌‌ — কী কারণে? কারা? ঠিক এখনই কেন?
চিন্তাঝড় ২ : পিলখানা গণহত্যা‌‌ — কারা, কেন, কীভাবে?

ঢাকা এখন গুজবের শহর। অনেক ধরণের আকাশকুসুম গুজব উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে বাতাসে। তারই একটি হলো কথিত এক সেনা জেনারেলের একটি প্রচারণা যেটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ব্লগে এটিকে জনৈক সেনা জেনারেলের ইমেইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই আলোচনার সুবিধার্থে প্রচারণার লেখককে ‘জেনারেল’ হিসেবেই সম্বোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। ইমেইলটি আমার নজরে এসেছে বেশ কয়েকদিন আগেই। এক বন্ধু পাঠিয়েছিল। এ ধরণের ‘অসাধারণ’ প্রচারণাকে আমি সাধারণত গুরুত্বের সাথে নিই না। পড়াটাকেও এমনকী মনে করি মূল্যবান সময়ের অপচয়। ধরেই নিয়েছিলাম এমন আকাশকুসুম তত্ত্বে অন্তত শিক্ষিত কোনো মানুষের ভাবান্তর হবে না। কারণ, ইতিপূর্বে এমনই উদ্ভট থিওরি প্রচার করা হয়েছে ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলার পর। বলা হয়েছিল শেখ হাসিনা নাকি নিজেই নাটকটি সাজিয়েছিলেন; নিজের চার পাশে ডজনখানেক বিধ্বংসী গ্রেনেড ফাটানো ছিল সে-নাটকের অংশ! সারা দেশব্যাপী যখন জঙ্গিরা সিরিজ বোমা হামলা করেছিল, তখন জোট সরকারের ক্ষমতাসীন শ্রেণীটি প্রচার চালিয়েছিল এটা নাকি ‘ভারতীয় হিন্দু জঙ্গিদের কাজ’! বাংলা ভাই যখন উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায় জীবন্ত মানুষদের কেটে পুড়িয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখছিল, জোট সরকারের মহাক্ষমতাধর খালেদা-নিজামীরা প্রায় দু’বছর ধরে দেশবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করে গেছেন ‘বাংলা ভাই এর আসলে কোনো অস্তিত্বই নেই, তিনি মিডিয়ার সৃষ্টি’! জেনারেল সাহেবের এই প্রচারণাটি পড়েও আমার তেমনই মনে হয়েছে প্রথমটায়। আমার বিশ্বাস ছিল, এত বেশী দুঃখ কষ্টের ঝড় এই জাতির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে যে আমরা ঠেকে না হলেও ঠকে নিশ্চয়ই কিছু-না-কিছু শিখেছি অতীত থেকে। তাই আমার বিশ্বাস ছিল, বাঙালির কাছে অন্তত এ ধরণের উদ্ভট প্রচারণা হালে পানি পাবে না। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে এই উদ্ভট তত্ত্বটিই এখন শেকড় গেড়ে বসতে শুরু করেছে কারো কারো মনে। এমনকী, আপাত দৃষ্টিতে বুদ্ধিমান যুক্তিবাদী কিছু মানুষও তত্ত্বটি খানিকটা যেন বিশ্বাসও করে ফেলেছেন এর মধ্যে।

আসলে যে-কোনো মিথ্যা প্রচারণার সুবিধাটি বোধহয় এই জায়গায়। আপনি এক চিমটি সত্যের সাথে এক মুঠো মিথ্যে মিশিয়ে তাকে প্রচারণার জোয়ারে ভাসিয়ে দিন, বারবার বলতে থাকুন, তত্ত্বের বিরুদ্ধে তত্ত্ব দাঁড় করান, এবং আরেকটু বুদ্ধিমান হলে সেটি ইংরেজি ভাষায় এবং ছাপার অক্ষরে লিখুন। আর তার সাথে যদি কিছু সাধারণ তথ্য যোগ করে তাকে ক্রমিক নম্বর দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই! ইংরেজিতে কি কেউ আর মিথ্যে বলে? তাও আবার সামরিক উর্দি পরে? এতেও যদি ব্যর্থ হন, তাহলে শেষ চেষ্টা হিসেবে এটিকে দু’টি রাজনৈতিক শক্তির লড়াই অথবা দুই নারীর চিরন্তন বিবাদ হিসেবে তুলে ধরুন। ভরসা রাখতে পারেন যে বেশির ভাগ মানুষই তিতিবিরক্ত হয়ে তখন বলবে ‘যা হয় হোক, এটা দু’জনের কামড়াকামড়ি, আমরা বাপু অতো রাজনীতি বুঝি না, বুঝতেও চাই না’। ফলতঃ যা হওয়ার তা‌ই হবে, সত্য চাপা পড়ে থাকবে, যেমনটি চাপা পড়ে থেকেছে ৩৮টি বছর ধরে। আর কবরের নিস্তব্ধতায় মৃত্যুর ওপার থেকে সুবিচার-বঞ্চিত শহীদদের আত্মা গুমরে কেঁদে যাবে, আমাদের তা শোনা হবে না কখনই; আমরাও জম্বি কিংবা পাপেট হয়ে জীবনের বাকি দিনগুলো পার করে দেবো। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও তাই অনুভব করছি এই প্রচারণাটির একটি ময়না তদন্ত হওয়া দরকার।

এই মুহূর্তে কয়েকটি বিষয়ই মূলতঃ সব আলোচনা ফোরামগুলোর বিতর্কের বিষয়:

(১) প্রধানমন্ত্রীর শক্তি প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল কিনা
(২) সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা হত্যাকারীদের সাহসী করেছে কিনা এবং এর সুযোগ নিয়ে তারা আরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কিনা
(৩) ঘটনার মোকাবেলায় অত্যধিক সময় নেয়া হয়েছে কিনা
(৪) সেনাবাহিনীর পিলখানায় ঢোকার জন্য সরকারের অনুমতির দরকার ছিল কিনা
(৫) সরকার নিজেই উদ্যোগ নিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে কিনা; অথবা ঘটনার মূল অপরাধীদের পালানোর সুযোগ করে দিয়েছে কিনা [জেনারেল সাহেবের প্রচারণাটি সেই লাইনেই, যেটির প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি]

মাঠ-গরম-করা প্রশ্নগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করবো পরের কোনো পোস্টে সময় পেলে। কিন্তু তার আগে বর্তমান পোস্টে আমি শুধু উপরের ৫ নম্বর বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করবো, উদ্দেশ্য-প্রণোদিত এ ইমেইল প্রচারণাটির সম্ভাব্য ক্ষতিকারক প্রভাব বিবেচনায়।

ক.
জেনারেল সাহেবের এই ইমেইলটির (প্রচারণাটির) কনটেন্টে যাওয়ার আগে এটির কিছু উপরি-বৈশিষ্ট্যে দ্রুত একটু নজর বুলিয়ে নেয়া যাক। প্রথমেই যেটি চোখে পড়ে তা হলো ইংরেজি ভাষার ব্যবহার। প্রচারণাটির শুরুর কয়েক অনুচ্ছেদের সাথে মাঝখানের অনুচ্ছেদের ইংরেজির মান এবং স্টাইলে কিছু পার্থক্য লক্ষ করা যায়। প্রথম অংশটি, হতাশাব্যঞ্জক হলেও সত্যি, ভুল ইংরেজিতে লেখা! অনেকটা যেন অভিধান সামনে নিয়ে বাংলা থেকে ইংরেজিতে আক্ষরিক অনুবাদ করা, ভাষার মূল টোন বা coherence-এর ব্যাপারে কোনো ধরণের সচেতনতা ছাড়াই। মধ্যভাগের ইংরেজি তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভিন্ন, অন্তত স্টাইলের দিক থেকে। শেষভাগে বেশ জোরে শোরে আল্লাহ্‌র নামে কিরা-কসম কাটার প্রবণতা (‘what were said in this mail in the name of Allah are true’!) লক্ষ করা যায়, অনেকটা জামাত শিবির হিজবুত তাহরীরের লিফলেটের মতো। উপসংহারে আমার অনুমান, প্রচারণা ইমেইলটি সম্ভবত একাধিক মানুষের মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

খ.
জেনারেল সাহেব বলেছেন:

ক্রম#১: Before 2002, only very average army officers were posted to BDR. Those officers used to pass time and wait for retirement. The scenario was changed in late 2002, when army started to pump in outstanding officers to BDR to shape up the national border and curb cross-border crime and smuggling.

জেনারেল সাহেবের ভাষায় ব্যাপারটি দাঁড়াল এরকম যে ২০০২-এর আগে (সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়) শুধুমাত্র অযোগ্য অফিসারদেরই বিডিআর-এ পোস্টিং দেয়া হতো। এবং, ২০০২-এর পরে (অর্থাৎ জোট সরকারের সময়) ভালো অফিসারদের সীমান্তে পোস্টিং দেয়া শুরু হয়। জানতে ইচ্ছে করে, এই তথ্যের উৎস কী? বাস্তবে কি সত্যিই তাই ঘটেছে? শেখ হাসিনা যখন সামরিক অফিসারদের সাথে সেনাকুঞ্জে বৈঠক করলেন, তখন প্রায় সব অফিসারই দুঃখ করেছিলেন কীভাবে দুই সরকারের আমলেই পোস্টিং প্রোমোশন বদলি রিক্রুটিং ইত্যাদি বিষয়ে দলীয়করণ হয়েছে (এখানে দেখুন সেনাকুঞ্জের সেই সভার অডিও রেকর্ড: ফাইল#৬)। অথচ, আমাদের জেনারেল সাহেব বোঝাতে চাইলেন জোট সরকারের আমলের সব নিয়োগই নাকি ভালো/যথার্থ হয়েছে। এর থেকে এই জেনারেলটি রাজনৈতিকভাবে কোন্ জোটের মুখপাত্র, সেটি বুঝতে বুদ্ধিমান পাঠকের কোনো অসুবিধা হয় কি? প্রসঙ্গত, এই সভাটিতে বেসামরিকদের মধ্যে কেবল শেখ হাসিনা এবং বেগম মতিয়া চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন; তারপরও গোপনীয় এই সভাটির অডিও রেকর্ড কারা প্রকাশ করলো (এবং কী উদ্দেশ্যে) এবং কেন বেছে বেছে কিছু খণ্ডিত অংশ প্রকাশ করলো সে বিষয়ে প্রশ্ন করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিক বোধ কি আমাদের আছে? পাঠকই মনস্থির করুন। সে প্রসঙ্গে এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন:

How can the PM trust the army again with national security when her confidential conversations with the best and brightest of the army are being leaked out to the public causing serious breach of national security by letting our enemies know about the discord and showing a perception of vulnerability in the national army currently? (এখানে)

গ.
জেনারেল সাহেব দাবি করেছেন (আবারও কোনো সূত্রের উল্লেখ ছাড়া):

ক্রম#১: So, to guard our beloved land, army started pumping very good officers into BDR. Before 2002, the BDR jawans were very rich through the earning of smuggling. Their sepoys and naiks and havilders had buildings and house that even officers can only dream of. After 2002, smuggling and its sharing by BDR jawans started coming down.

অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন: জোট সরকারের সময় সীমান্তে চোরাচালান ইত্যাদি কমে গিয়েছিল। এই ‘অসাধারণ’ তত্ত্বের পক্ষে কী প্রমাণ তিনি দাখিল করলেন? তাঁর ভাষায় ‘Capture of smuggling figures, if you can manage, will rightly prove that’। এখানে ভুল ইংরেজিতে অস্পষ্ট ভাষায় জেনারেল সাহেব যেটি বোঝাতে চেয়েছেন সেটি সম্ভবত এই যে, ধরা-পড়া চোরাকারবারীর সংখ্যা (যদি কেউ খুঁজে বের করতে পারে!) তার উপরোক্ত দাবিকে সমর্থন করে! প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে — সংখ্যাগুলো তিনি নিজে খুঁজে পেয়েছেন তো? পেলে জনগণকে সেটি কবে জানাবেন?

যেটা উল্লেখ করা জরুরি এখানে, তা হলো, ষড়যন্ত্রকারীদের দলীয় এজেন্ডার গড্ডলিকা প্রবাহে ভাসতে ভাসতে জেনারেল সাহেব একটি অদ্ভুত কাণ্ড করে বসেছেন। তিনি বুঝে কিংবা না বুঝেই জনগণকে জানানোর চেষ্টা করেছেন যে, বিডিআর-এ সেনাবাহিনী থেকে প্রেষণে পাঠানো অফিসাররা অত্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ এবং অযোগ্য। (যদিও তিনি ২০০২-এর আগের এবং পরের অফিসারদের মধ্যে একটি ক্ষীণ পার্থক্য টানার চেষ্টা করেছেন)। একটু ব্যাখ্যা করে বলি। আমরা জানি, বিডিআর এর জওয়ান এবং তাদের ডিএডি-রা সেনা অফিসারদের সরাসরি কমান্ডে কাজ করেন। সুতরাং, বিডিআর সদস্যরা যদি দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকে, তার মানে দাঁড়ায় — সে দুর্নীতিতে সেনা কর্মকর্তারাও দোসর। আর ঘুষ ও দুর্নীতির সাধারণ নিয়ম হলো যে যত বড় অফিসার তার বখরা ততো বেশি। সেই হিসেবে, জেনারেল সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী জওয়ানরা যদি একটি বাড়ি বানায়, তাহলে অফিসারদের একাধিক বাড়ি বানানোর কথা। তাঁর আরেকটি অভিযোগও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জেনারেল সাহেবের কথা সত্যি হয়ে থাকলে সেনাবাহিনীতে অযোগ্য এবং অদক্ষ অফিসারেরও তাহলে কমতি নেই। এটি আমাদের জন্যও ‘নতুন খবর’। তাহলে কি এটাই ধরে নিতে হবে যে মিলিটারি একাডেমি থেকে নিম্ন যোগ্যতাসম্পন্ন অফিসাররাও কমিশন পাচ্ছেন বা পেয়েছেন? কিংবা, সরকারী খরচে পরবর্তীকালে গরীব এই রাষ্ট্রটির পক্ষ থেকে যেসব ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়, তারও একাংশ কি তাহলে অপচয় করা হচ্ছে অযোগ্য এইসব অফিসারদের পেছনে?

জেনারেল সাহেবের উত্থাপনকৃত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তাই আমার জানার আগ্রহ হচ্ছে, জোট সরকারের আমলে (যখন নাকি তার ভাষায় সবকিছু ঠিকঠাক ছিল) ‘২০০২ এর আগ পর্যন্ত সীমান্তে নিয়োগকৃত অফিসারদের’ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভেতর কী কী আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল? আমার ধারণা, জনস্বার্থ এবং স্বচ্ছতার লক্ষ্যে দেশবাসীও সেটি জানতে চায় এখন। যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে তেমন পদক্ষেপ না নেয়া হয়ে থাকে জোট শাসনামলে, তাহলে তা বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতি-লালন সম্বন্ধে কি অনুসিদ্ধান্ত দাঁড় করায় জনগণের সামনে? কিংবা এই কথিত জেনারেলের রাজনৈতিক সম্পৃক্তি সম্বন্ধেই-বা কী সত্য উম্মোচিত হয় আমাদের সামনে?

আমার এও জানার কৌতুহল হচ্ছে: জেনারেল সাহেব যে ঢালাওভাবে সেনাবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অফিসারদের (২০০২-পূর্ববর্তী অফিসারদের) দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে কালিমা লেপনের চেষ্টা করলেন, সেটাকে আমাদের প্রফেশনাল এবং দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন অন্যান্য অফিসাররা কীভাবে দেখবেন? এসব অভিযোগ তো আমার না, কিংবা মিডিয়ারও না, স্বয়ং জেনারেল সাহেবের। তিনিই সেনাবাহিনীর অফিসারদের বিরুদ্ধে গুরুতর এই সব রটনা করছেন হঠাৎ জনপ্রিয়তা লাভকারী ইমেইলটির মাধ্যমে। এবং সেনাবাহিনীর অনেককে দেখছি সেটি (বুঝে বা না বুঝে) স্বতোপ্রণোদিত হয়ে সর্বত্র বিলি করে বেড়াতে। আমাকে কেন এটি খণ্ডন করতে হচ্ছে আজ? তারাই বরং খণ্ডন করুক এসব অভিযোগ এবং আমাদের জানাক এই বস্তাপচা প্রচারণাটি আসলে কতটা আমলযোগ্য!

ঘ.
তিনি আরও বলেছেন:

ক্রম#২: Whenever there is an encounter with BSF, always we are the winner . . . as long as army officers lead BDR, BSF will never win any single battle, they will always be in the loser’s end and India will not be able to pump in drugs, fake currency and other harmful things into Bangladesh. The DADs of BDR are the worst losers. They are educated officers but can’t do anything because of army officers.

এখানে তিনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যে ইঙ্গিতটি দিতে চেয়েছেন তা হলো এই: পিলখানা ঘটনার পেছনে ‘ভারত দায়ী’। বিএনপি-জামাতী-রাজাকার-আলবদরদের বহু ব্যবহারে জীর্ণ অনেক পুরনো একটি কায়দা এটি। এক্ষেত্রে (তাঁর উল্লেখ-কৃত) চোরাচালান প্রসঙ্গে একটি বিষয় আমাদের বোধহয় মনে রাখা দরকার। তা হলো, চোরাচালানীতে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র নিজে। কারণ, এর ফলে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয় কোটি কোটি টাকার ট্যারিফ (tariff) থেকে। এই কথাটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেমন সত্য, ভারতের ক্ষেত্রেও তেমনি সত্য। কাজেই, সীমান্তে চোরাচালানকে নিষ্কণ্টক করতে গণতান্ত্রিক ভারত সরকারের এত বেশি উৎসাহী হওয়ার কোনো কারণ তো দেখি না। ভারী ভারী তত্ত্ব না আউড়েও শুধু কাণ্ডজ্ঞান দিয়েও যে কেউ এই ব্যাপারটি বুঝতে পারবেন। এক্ষেত্রে এমনটিও হতে পারে যে তিনি শুধু BSF কে দায়ী করতে চেয়েছেন (বিডিআর এর ডিএডি-দের সহযোগী দেখিয়ে), পুরো ভারত সরকারকে নয়। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়। ভিন্ন দেশের মাটিতে এসে বিএসএফ এতো বড় একটা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেললো? আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছিল তখন?

ভারতকে জড়িত করার এই অপচেষ্টার সবচাইতে দুর্বল অংশটি হলো:

১) রাজনৈতিকভাবে ভারতের সাথে বন্ধুভাবাপন্ন একটি সরকার এখন বাংলাদেশের ক্ষমতায়। এই সরকারের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ট্রানজিট ইত্যাদির মাধ্যমে বৈধ ভাবেই কয়েক হাজার গুণ বেশি অর্থ পুরো পাঁচ বছর ধরে তারা উপার্জন করতে পারবেন, যদি সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে। সেখানে নিজেদের মূল্যবান ট্যারিফ বিসর্জন দিয়ে বিডিআর এবং তাদের নিজেদের বিএসএফ জওয়ানদের বাড়ি গাড়ি করে দেয়ার জন্য তারা হঠাৎ এত উতলা হয়ে উঠবেন কেন যে তার জন্য তারা এমনকি এতো বড় মাপের একটি হত্যাকাণ্ড ঘটাতেও পিছপা হবেন না? আমরা সবাই জানি ভারত সরকার এখন ট্রানজিটের পক্ষে। বিডিআর এর প্রয়াত ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ নিজেও ট্রানজিট এবং ট্রানশিপমেন্টের পক্ষে ছিলেন (ডিফেন্স স্টাফ কলেজে দেয়া তাঁর এই প্রবন্ধটি পড়ুন)। আমাদের বর্তমান সরকারও এমন পদক্ষেপের বিরোধী নয়। সকল পক্ষ যেখানে রাজি, সেখানে ভারত সরকার বৈধ পথে না এগিয়ে এমন একটি আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারির ঝুঁকি নেবে কেন? আমার পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন যে সেনাবাহিনীর বুদ্ধিমান অফিসারদের এবং দেশবাসীকে এসব ছেলে-ভুলানো গল্প বলে ভোলানো সম্ভব আজকাল!

২) এই গোষ্ঠীটি কেন দেশবাসীকে বারবার ভারতীয় জুজু দেখানোর চেষ্টা করেন, সে বিষয়ে আমার একটি থিওরি আছে। শক্তিশালী ভারত রাষ্ট্রকে দায়ী করার সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হলো, আমরা চাইলেও তাদের বিচার করতে পারবো না। কারণ, এভাবে যদি কোনো রাষ্ট্রের বিচারই করা যেত তাহলে আজকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনের সরকার প্রধানরা থাকতেন আফগানিস্তান এবং ইরাকের কাঠগড়ায়। আর ভারত জুজুকে সামনে নিয়ে আসার আরেকটি বড় সুবিধা হলো: এক সময় অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের ভিড়ে পুরো বিষয়টিই হারিয়ে যাবে, আর মূল অপরাধীরা চিরদিনই থেকে যাবেন আড়ালে। কী চমৎকার! ভারত-বিদ্বেষও ছড়ানো গেল, নিজেদেরও রক্ষা করা গেল অপকর্মের দায়ে দণ্ডিত হবার হাত থেকে।

৩) এই গোষ্ঠীটির নাড়ীর টান যেই দিকে সেই পাকিস্তানের ব্যাপারটিই লক্ষ করুন। আমাদের দেশের এই গোষ্ঠীটি (এই জেনারেল যার অনুসারী বলে সন্দেহ হচ্ছে এখন) কিন্তু কখনো কোনো অপকর্মের জন্যই এমনকি ভুল করেও কখনো পাকিস্তান, ISI বা ধর্মীয় মৌলবাদী কোনো গোষ্ঠীর দিকে আঙুল তোলেন না, যাদের কিনা সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল ‘৭১ আর ‘৭৫-এ বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে চক্রান্তমূলক প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে (এখানে, এখানে এবং এখানে দেখুন)। আমাদের জেনারেল সাহেবও, তাঁর এই দীর্ঘ ইমেইলটির এক জায়গাতেও, অন্তত সম্ভাবনার খাতিরে হলেও, সে প্রশ্নটি একটি বারের জন্যেও তোলেননি। কেন? এই দেশে নিরীহ নিরস্ত্র নারী পুরুষদের গণ হারে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের ইতিহাসটি (১৯৭১) কোন্ গোষ্ঠীটি ধারণ করে? ভারত? নাকি পাকিস্তান আর তাদের দোসর রাজাকার আল‌-বদর জঙ্গিরা?

ঙ.
জেনারেল সাহেব দাবি করেছেন:

ক্রম#৫: RAB arrives at Pilkhana gate at about 10am and ready to move in. Home Ministry said a stubborn “No”.
Troops of Mirpur Cantt and Dhaka Cantt arrives at Pilkhana by 11:30am. They seek permission to go in. Again a big “No”

শুনতে চটকদার “No” এবং “big NO” দিয়ে প্রচারক সাহেব ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন বোঝা গেল না। সিদ্ধান্তগত একটি “yes” কিংবা একটি “no”-এর পেছনে সময় এবং পরিস্থিতি ভেদে অনেক রকম কারণ থাকতে পারে, ব্যাখ্যা থাকতে পারে। সেসব হতে পারে ‘যৌক্তিক’, ‘সম্ভাব্য’ থেকে শুরু করে পুরোপুরি ‘অযৌক্তিক’ ‘অসম্ভাব্য’, ‘উদ্ভট’, এবং ‘মতলবী’। মানুষ ভেদে এবং তাদের যৌক্তিক বিচারের ক্ষমতা ভেদে একেকজন তার একেকটি পছন্দ করে নেন। কেউ গ্রহণ করেন সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাটিকে, আবার কেউ করেন সবচেয়ে উদ্ভটটিকে। কে কেমন ব্যাখ্যায় ভর দিতে চাইছেন তা থেকে সে মানুষটির সম্বন্ধেও অনেক বিষয়ই স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন: তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ (কিংবা সেটির অভাব), বহুদিনের লালন করা অন্তর্গত গোঁড়ামি (prejudice), সুযোগসন্ধানী মনোভাব, ছিদ্রান্বেষণের প্রবণতা, ক্ষোভকে পুঁজি-করা ষড়যন্ত্রের দ্বিতীয় ভাগের প্রতি vulnerability/susceptibility, নিজেদের বিচার বুদ্ধি বিষয়ে অত্যন্ত উঁচু ধারণা (‘আমরাই সবচেয়ে ভাল বুঝি’ ধরণের সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স), একইসাথে জনপ্রতিনিধিদের ইনফেরিওর মনে করা (সেনাকুঞ্জের সভায় ১৫ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কিছু সেনা কর্মকর্তার সংযমহীন আচরণ যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ) ইত্যাদি। এটি তেমনই একটি ঘটনা যা থেকে প্রচারক জেনারেল মহোদয় সম্বন্ধে আমরাও অনেক কিছু জানতে পারছি!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন সামরিক আক্রমণের প্রশ্নে বারেবারেই ‘না’ বলেছেন সেই বিষয়ে তিনি বেশ কয়েকবারই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত সেনা অফিসার থেকে শুরু করে সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের অনেকেই পরিস্থিতির আলোকে সে সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন। সব পন্থার সাথে সব সমর বিশেষজ্ঞরা যে একমত হবেন, এমনটা আশা করাও বোধ হয় বালকসুলভ। তার এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এইটুকু বলবো যে এটি এদেশের সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী, বিদেশী কূটনৈতিক মহল সহ সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি জামাতে ইসলামীও প্রথম ক’দিন এই সিদ্ধান্তকে সমর্থনই জানিয়েছিল (লিন্ক) পরে হাওয়া বুঝে মত পাল্টানোর আগে! এ বিষয়ে RAB এবং সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক tactical capability, তাদের প্রস্তুতি এবং রিসোর্স এর অভাব, এই মাপের পরিস্থিতি মোকাবেলায় পূর্ব অভিজ্ঞতার অভাব, viable ট্যাকটিকেল অপারেশন পরিকল্পনার জন্য যথেষ্ট সময়ের অভাব, অবশিষ্ট জিম্মি অফিসারদের প্রাণহানির সম্ভাবনা, মানব-ঢাল হিসেবে তাদের পরিবার এবং সাধারণ বিডিআর জওয়ানদের ঢাল হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা, আশে পাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানির সম্ভাবনা, সশস্ত্র বিদ্রোহকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত — ইত্যাদি অনেক কারণ থাকতে পারে, এবং ছিল। সমর অভিজ্ঞ জেনারেল সাহেবকে সেটা বুঝিয়ে বলতে হচ্ছে বলে কিছুটা অস্বস্তিই বোধ করছি। যে সেনাবাহিনীর এতগুলো গোয়েন্দা সংস্থা থাকার পরও এই মাপের ইন্টেলিজেন্স ফেইলিওর হয়, সেই সেনাবাহিনীকে শহরময় ট্যান্ক, এপিসি (যেসব এমনকী তাদের হাতের কাছেও ছিলনা) ট্রুপ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে দেয়ার আগে যে-কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকার দু’বার ভাববেন, এটাই তো যৌক্তিক। আমরা জনগণও সরকারের কাছে সেই প্রজ্ঞাই প্রত্যাশা করি। পিলখানার ভেতর ও বাইরের নাগরিকদের জীবন রক্ষার দায়িত্ব যেমন সরকারের রয়েছে, তেমনি সরকারের ওপর ১৫ কোটি মানুষের পক্ষে গণতন্ত্র রক্ষারও গুরু দায়িত্ব (আমানত) রয়েছে। অত্যন্ত ঘোলাটে পরিস্থিতির মাঝে (এত বড় ইন্টেলিজেন্স ফেইলিওর যার সাক্ষাৎ প্রমাণ) গণতান্ত্রিক সরকার যদি আরেকটি ‘৭৫ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি উম্মোচন করতো নিজেদের অর্বাচীনতা দিয়ে, আমরা জনগণ কি তাদের কোন দিন ক্ষমা করতাম? তেমনি, সেনা অভিযানের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি হলে সেটিও কি ক্ষমাযোগ্য হতো? এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আমার পরবর্তী পোস্ট “পিলখানা গণহত্যা: চিন্তাঝড় ৪ ‌‌– বিতর্কের ময়না তদন্ত” এর জন্য তোলা থাকলো। তাই পুনরাবৃত্তি এড়াতে সেই দিকে এখন যাচ্ছি না।

সাধারণ ক্ষমা ঘোষণায় এবং সময় ক্ষেপনের ফলে বিডিআর বিদ্রোহীরা যদি বেপরোয়া হয়ে আরো বেশী সংখ্যক খুন খারাবি করেই থাকতো (জেনারেল সাহেবের ভাষ্য অনুযায়ী), তাহলে এত জন অফিসার এবং নারী পুরুষ ও শিশু সেখান থেকে জীবিত বের হলেন কিভাবে? এঁরা তো এই জওয়ানদের হাতের নাগালেই ছিলেন! অন্যদেরকে খুঁজে খুঁজে মারা হল, এঁদের কেন মারা হলো না? বুলেট ফুরিয়ে গিয়েছিল বলে? নাকি হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল এঁদের বাঁচিয়ে রেখে এখনকার তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা যাতে করে জীবিত অফিসারদের সাহায্য নিয়ে হত্যাকারীদের এবং তাদের কর্মকান্ডের বিস্তারিত বিবরণ নথিভুক্ত করতে সুবিধে হয়!! জেনারেল সাহেব কি তাই বোঝাতে চাইলেন?

উপরে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করলাম, আমার বিশ্বাস জেনারেল সাহেব নিজেও তা বিলক্ষণ জানেন। তবুও জেনে বুঝে তিনি সরকারের “না” সিদ্ধান্তটিতে ঠিক কি ধরণের রং চড়াতে চাচ্ছেন, সেটিই আসলে মূল প্রশ্ন। প্রচারণাটিতে এই পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের সাথে নব নির্বাচিত সরকারকে জড়িত করার একটি সুষ্পষ্ট প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। সরকারের বিরুদ্ধে অপবাদমূলক এই থিওরীতে তিনটি বড় বড় ফাঁক রয়ে গেছে:

১) যখন এই ঘটনা ঘটে তখন এই সরকার তার দু’মাসও পুরো করেনি। এখনো এই সরকার বিভিন্ন দফতর এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বগুলো বুঝে নিতেই ব্যস্ত। এমন এক অবস্থায়, সরকারের যখন নিজেরই পায়ের নিচের মাটি শক্ত হয়নি, তখন তারা কেন এমন একটি ভয়াবহ জাতীয় সংকট সৃষ্টি করার ঝুঁকি নেবে? তাও কিনা সেনাবাহিনীর এতগুলো অফিসারকে হত্যার মাধ্যমে পুরো প্রতিরক্ষা বাহিনীকে চরমভাবে উত্তেজিত করার ঝুঁকি নিয়ে? আর সরকারের কি কোনভাবে জানার সুযোগ ছিল যে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আত্মীয় পরিজনদের হত্যা এবং নিপীড়নের খবর পেয়ে হঠকারী কোন অভ্যুত্থানের পথে পা বাড়াবে না?

২) সেনা বাহিনী এবং সীমান্ত রক্ষী বিডিআর-কে ছেঁটে ফেলা বা দুর্বল করাই যদি এই হত্যাযজ্ঞ নাটকের মূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে (যে থিওরিটি কিছু কিছু অতি বুদ্ধিমান বর্তমানে প্রচার করছে), তবে সেই ষড়যন্ত্র কি সরকারের এভাবেই বাস্তবায়ন করার দরকার হয়? মনে রাখতে হবে বর্তমান সরকার নিরন্কুশ জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। আইনগতভাবে তার হাতে এখন এমন ক্ষমতা রয়েছে যার বলে এই সরকারের জনপ্রতিনিধিরাই চাইলে খোদ সংবিধানও পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন, কোন ধরণের আইনী বাধা ছাড়াই। বিডিআর আর সেনাবাহিনীকে কিংবা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যদি দুর্বল করাই সরকারের উদ্দেশ্য হয় তবে তা বাস্তবায়নের জন্য বৈধ আরও হাজারটা উপায় আছে। বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে, অফিসার ছাটাই করে, বদলী করে ইত্যাদি উপায়ে তা খুব সহজেই কোন ধরণের সন্দেহের জন্ম না দিয়েই করা যেতে পারে। এবং সেভাবে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সরকারের হাতে এখনো রয়েছে পুরো পাঁচটি বছর। এত উপায় হাতে থাকতে সরকার কেন নিজেদের জন্য এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং স্থুল পথে পা বাড়াবে?

৩) যত সতর্কভাবেই করা হোক না কেন সব অপরাধই কোন না কোন সূত্র রেখে যায়। সঠিক তদন্তে সে সব বেরিয়ে আসে। আর এত বড় মাপের একটি অপরাধ, যেটি দিনের আলোতে পনের কোটি মানুষ এবং মিডিয়ার সামনে কয়েক ডজন (এমনকি কয়েক হাজারও বলা যেতে পারে) অপরাধীর যোগসাজশে করা হয়ে থাকে, তার সব সূত্র কি কারও পক্ষেই মুছে ফেলা সম্ভব? আমরা সবাই জানি, তা সম্ভব না। তদন্তে এর সমস্ত সূত্র ধরা পড়তে বাধ্য। যেটি উল্লেখ্য এখানে তা হল, গত মাত্র ৫০ দিন ছাড়া আইন শৃঙ্খলা এবং বিভিন্ন তদন্ত সংস্থাগুলো গত ৭ (সাত) বছর ছিল অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির নিয়ন্ত্রণে যাঁরা একে নিজেদের পছন্দের লোকজন দিয়ে ঢেলে সাজিয়েছিলেন একেবারে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত। ৭ বছরের মধ্যে প্রথম ৫ বছর এই সংস্থাগুলো সাজানো হয়েছে জোট (বিএনপি) সরকারের নির্দেশে, আর শেষ ২ বছর হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্দেশে। তদন্তকারী সমস্ত সংগঠনের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত যেখানে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা সাজানো, সেখানে এমন একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধে এই সরকার নিজেকে কেন জড়িত করতে চাইবে যেখানে তদন্ত প্রক্রিয়ার সব স্তরের ওপর তাদের নিরন্কুশ নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে?

চ.
তিনি বলেছেন:

ক্রম#৫:Govt sends nanok and others and they enter courageously into BDR Pilkhana and safely come back and they are not held hostage. Night comes. sahara and nanok enter BDR and all lights are off. sahara visits families of army officers without nanok as seen on TV channels through BTV footage. She does not, we repeat DOES NOT meet any army officer of BDR.

অস্ত্রধারী জওয়ানদের সাথে আলোচনা করতে সাহারা খাতুন নিরস্ত্রভাবে ঢুকেছিলেন। যখন টানটান উত্তেজিত সশস্ত্র এই বাহিনীটির সাথে দর কষাকষি চলছে (যাদের কব্জায় রয়েছে কয়েক’শ নারী পুরুষ), তখন সাহারা খাতুনের কি উচিত হতো অফিসারদের দেখতে যাওয়ার আবদার ধরা? জেনারেল সাহেব কি এটাই বলতে চাইছেন? তার পরেও তিনি যত জনকে পেরেছেন বাড়ী বাড়ী গিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন ভোর রাত পর্যন্ত।

ছ.
তিনি আরও বলেছেন:

ক্রম#৫: THIS WAS BECAUSE AT THAT TIME BDR WAS COMPLETING THE TOTAL KILLING OF ALIVE OFFICERS AND THIER FAMILIES UNDER THE EYES OF NANOK AND MASS GRAVES WERE BEING PREPARED. Please refer to the Ntv exclusive with major Mokarram on 28th evening. He said that he heard the voice of home minister entering into the kote when he was surrounded by BDR gunmen.

তাই যদি সত্যি হবে, তাহলে মেজর মোকাররম নিজে বেঁচে ফিরলেন কিভাবে? কি উদ্ভট এই জেনারেলের প্রচারণা! এ বিষয়ে এখানে এবং এখানে দেখুন। জেনারেল সাহেব বলছেন হত্যা, কবর খোদাই ইত্যাদি নাকি ঘটেছে নানক আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর চোখের সামনে! কি হাস্যকর কথা! যদি তাঁরা অপরাধীই হবেন, তবে যত দ্রুত সম্ভব ঘটনাস্থল ত্যাগ না করে তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকবেন কেন? গণহত্যা এবং কবর খোঁড়া তদারকীর জন্য? সেটি করার জন্য বিদ্রোহীদের মধ্যে কি লোকের অভাব পড়েছিল? ঘটনার হোতা হিসেবে নিজেরা জড়িত হয়েও (জেনারেল সাহেবের ভাষ্য অনুযায়ী) scene এ থাকতে চাইবেন কেন? প্রবল ক্ষমতাধর একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী (পাঁচ বছরে ক্ষমতায় থেকে যাঁরা অনেক কিছুই পেতে পারেন) তাদের মন্ত্রীত্ব, জীবন এবং স্বাধীনতা বিপন্ন করে এমন একটি কাজ কেন করবেন বোকার মতো? বিডিআর বিএসএফ জওয়ানদের (জেনারেল সাহেবের উপরোক্ত যুক্তি অনুযায়ী) বাড়ী গাড়ি করে দেয়ার জন্য? আইজি নূর মোহাম্মদ সাহেবও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন ঘটনাস্থলে। তাহলে জেনারেল সাহেব কি বোঝাতে চাইছেন আইজি সাহেবও এই হত্যাকান্ড, কবর খোদাই এবং হত্যাকারীদের পলায়ন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত, অথবা নিদেন পক্ষে এতে তাঁর মৌন সমর্থন ছিল! (যদিও আমরা জানি তার নিজের কন্যার স্বামী এই হত্যাকান্ডের প্রথম শিকারদের একজন)!

জ.
তিনি বলেছেন (আবারও, কোন সূত্র বা তথ্য প্রমাণ ছাড়াই):

ক্রম#৫: NON-MILITARY AMBULANCES ENTER AND LEAVE PILKHANA A NUMBER OF TIMES AND TAKES AWAY SO MANY DEAD BODIES…BUT THE TOTAL STILL REMAINS 7. Only 5-7 other bodies appear from canal behind BDR naturally floating. IT WAS BECAUSE ABOUT 32 KILLERS WERE TAKEN AWAY BY THOSE AMBULANCES.

জেনারেল সাহেব নিজেই অভিযোগ করেছেন উপরের একটি পয়েন্টে যে হাজার হাজার বিডিআর সদস্য এরই মধ্যে পালিয়ে গেছে। রেকর্ডকৃত সেনাকুঞ্জ টেপের ভাষ্য অনুযায়ী ৭০০০-৯০০০ বিডিআর জওয়ান উপস্থিত ছিলেন পিলখানায়। ৫ নম্বর গেট এবং বিভিন্ন স্থানের কাঁটাতার টপকে হত্যাকারীরা এবং বেশীর ভাগ বিডিআর জওয়ানের নির্বিঘ্নে পালানোর অভিযোগ উঠেছে। যেখানে হাজার হাজার বিডিআর সদস্য কোন রকম ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে সপরিবারে নির্বিঘ্নে সহজেই পালিয়ে যেতে পারেন অন্যান্য পথ দিয়ে, সেখানে নন-মিলিটারী এ্যাম্বুলেন্সে চড়ে সমস্ত মিডিয়ার তীক্ষ্ণ নজরদারীর ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষের সামনে দিয়ে ৩২ জন মূল হত্যাকারীকে পালিয়ে যেতে হবে কেন? তাও আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সক্রিয় তত্ত্বাবধানে? অন্যান্যদের সাথে মিলে গিয়ে ৫ নম্বর গেট দিয়ে পালাতে কোন অসুবিধে ছিল কি? আর ‘৩২ জন হত্যাকারী’ – এই সংখ্যাটি জেনারেল সাহেব কোথা থেকে জানলেন? কেমন করে জানলেন? হত্যাকারীরা পালিয়েছিল কিনা, তাদের পালাতে দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল কিনা, অপরাধী আটক মূল উদ্দেশ্য ছিল নাকি রক্তপাত এড়ানো মূল উদ্দেশ্য ছিল, সেনা অভিযান চালালে আসল হত্যাকারীদের আদৌ জীবিত ধরতে পারার কোন সম্ভাবনা ছিল কিনা – সে সব বিষয় নিয়ে হাজারটা বিতর্ক হতে পারে। তদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের পক্ষে কোন সিদ্ধান্তে আসাই কঠিন। প্রসঙ্গত প্রশ্ন করা যেতে পারে, হত্যাকারীদের জীবিত পালাতে দিয়েও (জেনারেল সাহেবের অভিযোগ অনুযায়ী) তদন্তের কি তেমন একটা ক্ষতি হয়েছে এখন পর্যন্ত? এ ক’দিনে তদন্ত এবং গ্রেফতারের যে সব দ্রুত অগ্রগতির খবর আমরা পাচ্ছি তাতে কি মনে হচ্ছে যে হত্যাকারীরা পালিয়েও বেঁচেছে? কিংবা, মূল ষড়যন্ত্রকারীদের ধরা কি এখনো অসম্ভব? এখানে, এখানে এবং এখানে দেখুন।

ঝ.
এর পর তিনি বলেছেন:

ক্রম#৫: Nanok in a media briefing in front of Pilkhana declares that “It was a big conspiracy” and lac lac crore taka were distributed in Pilkhana.” DEAR MEDIA, HE WAS RIGHT. BECAUSE EACH DAD WORKING AT PILKHANA GOT TK 25 LAC between 22 and 24th February, distributed by nanok’s men.

মনে রাখতে হবে জেনারেল সাহেব তার এই ইমেইলটি লিখেছিলেন বেশ কিছুদিন আগে। তখনো বিষয়টির প্রাথমিক তদন্তও তেমনভাবে শুরু হয়নি। সেইরকম এক সময়ে ২৫ লাখ টাকার এই সুনির্দিষ্ট অংকটির কথা জেনারেল সাহেব কোথা থেকে জানলেন? কিভাবে জানলেন? যেভাবেই জেনে থাকুন, দেরী না করে তার উচিত ছিল এসব তথ্য ইন্টারনেটে দেয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের দেয়া। তাতে উপকার হতো তদন্তের, যদি তিনি আদৌ তা চেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে মূল তদন্তে ভরসা না থাকলে তিনি অন্তত সেনাবাহিনীর নিজস্ব তদন্ত কমিটির কাছে হলেও তো এই ‘অসাধারণ’ তথ্যটি দিতে পারতেন!

ঞ.
তিনি শেষের দিকে বলেছেন:

ক্রম#৭: BCS officers in BDR, and no officer from army, would ensure that another Rakhkhi Bahini could be in the making.

জেনারেল সাহেব, দয়া করে নতুন কিছু ভেবে বের করুন প্লীজ। মনে করবেন না দেশের সব মানুষের বুদ্ধি হাঁটুতে থাকে। উপরের ঙ দেখুন।

উপসংহার:
এই সিরিজে আমার আগের পোস্টটিতে ঘটনার সন্দেহভাজন কারা হতে পারেন সেটি তদন্তের একটি সূত্র হিসেবে অগ্রীম ইঙ্গিত দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম এই বলে:

ঘটনার জন্য দায়ী মূল ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবেই এখন দুশ্চিন্তার প্রহর গুনছেন। কারণ, তাদের পরিকল্পনা মত ঘটনা এগোয়নি, অন্তত এখনো তাই মনে হচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করার আরেকটি আপাত সহজ উপায় আছে। তারা হয়তো এখন জোর চেষ্টা করবেন এ ঘটনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট তৃতীয় শক্তির দিকে জাতির নজর ফেরানোর . . . অবান্তর গুজব ছড়িয়ে।

কখনো ভাবিনি সে সন্দেহ এত দ্রুত বাস্তবতায় রূপ নেবে।

সাধারণ মানুষ হিসেবে সেনাবাহিনীর এত সব জটিল বিষয় আশয় বুঝি না। তবে গবেষণার পদ্ধতিশাস্ত্রের একটি cardinal rule এর কথা জানি। তা হল: উপস্থাপিত কোনো তথ্যমালায় এবং সেই সবের ভিত্তিতে সাজানো বিশ্লেষণে যদি কোন সুস্পষ্ট মিথ্যাচার ধরা পড়ে তবে তা পুরো থিসিটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। সে অর্থে, কথিত জেনারেল সাহেবের প্রচারিত ইমেইলটির ব্যাপারে এত কিছু তুলে ধরবার পরও কেউ যদি তাতেই বিশ্বাস স্থাপন করতে চায় এবং তাকে “নিখাদ সত্য” (হ্যাঁ পাঠক, বিচিত্র হলেও সত্যি, এমন অভিধাও কেউ কেউ যুক্ত করেছেন বস্তাপচা এই প্রচারণাটির পক্ষে) বলতে চান, তবে সেটি তাদের অভিরুচি। আমি কেবল দুঃখিত হবো তাদের অযৌক্তিকতা, prejudice, চিন্তার অস্বচ্ছতা এবং আষাঢ়ে গল্পে বিশ্বাস স্থাপনের অসীম ক্ষমতা এবং আগ্রহ দেখে।

শেষ করার আগে, কথিত এই জেনারেল সাহেবকে কয়েকটি উপদেশ দেবার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। প্রথমত: মিথ্যাচার যদি করতেই হয়, তবে তাকে অনুরোধ করবো আল্লাহ-খোদার নাম টেনে এনে কিরা-কসম কেটে তিনি যেন দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে আর অপমানিত না করেন। শুনেছি ধর্মে আছে যে – মোনাফেক চেনার অন্যতম উপায় হচ্ছে সে কথায় কথায় আল্লাহর নামে কসম কাটে। এমনকি খ্রীষ্ট ধর্মেও নাকি বলা আছে যে – Thou shalt not take the Lord’s name in vainদ্বিতীয়ত: জেনারেল সাহেব যেহেতু তার এই অসাধারণ তত্ত্বটি দেশের সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, সেহেতু এটি ইংরেজীর পরিবর্তে বাংলায় লিখলে মনে হয় অনেক বেশী কার্যকর হতো। অন্তত তাতে ভিন্ন ভাষায় লিখতে গিয়ে তিনি ভাষাগত যে লজ্জাজনক ভুলগুলো করেছেন, তা দেখে আমাদের হয়তো (একজন জেনারেলের ভাষা এবং intellect এর মান দেখে) এমন বিব্রত হতে হতো না। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষকের কথাটি মনে পড়ে যাচ্ছে – আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনী, তার পর ইংরেজী শিক্ষার পত্তন! আশা করি জেনারেল সাহেব তার পরবর্তী প্রচার-প্রচারণার সময় বিষয়টি মনে রাখবেন।

===========

এই পোস্টটি আরো তিনটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানকার আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে দেখুন:

১) ক্যাডেট কলেজ ব্লগ
২) সামহোয়ার ইন ব্লগ
৩) আমার ব্লগ

রায়হান রশিদ

জন্ম চট্টগ্রাম শহরে। পড়াশোনা চট্টগ্রাম, নটিংহ্যাম, এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমান আবাস যুক্তরাজ্য। ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধসমূহের বিচার প্রক্রিয়াকে সহায়তা প্রদান, এবং ১৯৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের দাবীতে সক্রিয় নেটওয়ার্ক 'ইনটারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম' (ICSF) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি।

৭৯ comments

Have your say

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.