আমি হেরে গেছি। এ শুধু আমিই জানি। আমাকে হারালে তোমাদের আর কোনো সম্ভাবনা নেই। অনেক স্বপ্ন ছিল, ক্ষমতা হারিয়ে স্বপ্নগুলো সব চুরমার হয়ে গেল। সেদিন থেকে আমি অমানবিক জীবনযাপন করছি। স্বামী ছিল এক বিক্ষিপ্ত আত্মা, তাকে কখনো আপন ভাবতে পারিনি। জড়িয়ে পড়েছিলাম কিন্তু সবসময় নিজেকে আলাদা রেখেছি।[...]

আমি হেরে গেছি। এ শুধু আমিই জানি। আমাকে হারালে তোমাদের আর কোনো সম্ভাবনা নেই। অনেক স্বপ্ন ছিল, ক্ষমতা হারিয়ে স্বপ্নগুলো সব চুরমার হয়ে গেল। সেদিন থেকে আমি অমানবিক জীবনযাপন করছি। স্বামী ছিল এক বিক্ষিপ্ত আত্মা, তাকে কখনো আপন ভাবতে পারিনি। জড়িয়ে পড়েছিলাম কিন্তু সবসময় নিজেকে আলাদা রেখেছি। আমার ছেলে দুটো আমাকে আরো নিঃসঙ্গ করে দিয়েছে। কতবার ভেবেছি সবকিছু ছেড়ে কোথাও চলে যাব। নিজের মা-বাবা-ভাই-বোন এরা হয়ে উঠল আরো বৈরী। আমার কোনো মূল্যই নেই ওদের কাছে — আমার মূল্য শুধু আমি ক্ষমতার বৃত্তে থাকব। থেকেছিও, কিন্তু কিছুই পাইনি। থাকি সেনানিবাসে, কারণ শুধু এ নিবাসটিকেই আমি আপন করে পেয়েছিলাম। আমার এ থাকার জায়গাটি আমার খুব পছন্দ। এখানেই দেশের কেন্দ্র। আমি কেন্দ্রের ভাষা ও যোগাযোগ বুঝি। এই আমার নিজের কাজ। আমার কাজকে আমি মূল্য দিই, আমার কাজ আমার কাছে অনেক বড়। সবার কাছেই নিজের কাজই সবচেয়ে বড়। প্রতিটি মানুষ তার দক্ষতার জায়গাটিকে ভালোবাসে, আগলে রাখে। এরশাদের সাথে আমার রফা হয়েছিল। থাকার জায়গাটি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে আর সব দাবী ছেড়ে দেব। কারণ আমি জানতাম এখান থেকে আমি অনেক কিছুকেই আমার নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারব। এরশাদ অনেক কিছুই বোঝে, কিন্তু বুদ্ধিমান নারীর বুদ্ধির গভীরতা সে বুঝতে পারে না। ছিল তো জিয়ার ‘স্ক্রিপ্ট রাইটার’, তার বুদ্ধিই বা কতটুকু। জিয়া মারা যাবার পর আমি ঠিক জায়গাতেই ছিলাম, আমার কাজের জায়গায় ছিলাম। ওখানে ছিলাম বলেই এমন দাপটের সঙ্গে ফিরে আসতে পেরেছিলাম। আজো সেনানিবাসে আমার সঙ্গে খেলতে পারে এমন কেউ জন্ম নেয়নি। কিছুটা সমস্যা হয়েছিল — এক এগারো যাকে বলা হয়, সেই থেকে। কিন্তু ওরাও আমাকে এখান থেকে বের করে দিতে পারেনি। কারণ কারো অতো মুরোদ নেই, একজন অঘোষিত ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আশঙ্কাহীন সেনাপ্রধানকে সেনানিবাস থেকে কে বের করবে। আমি আছি আমি থাকব। এখান থেকে কেউ আমাকে তাড়াতে পারবে না। জিয়ার একটা ঘোড়ারোগ ছিল — পায়ে মাথায় ছিল আর্মি, কিন্তু উঠতে বসতে ভাল লাগত বুদ্ধিজীবিদের সাথে! তারেক জিয়ার মধ্যেও ওই ঘোড়ারোগ প্রবল। জিয়া তো মরেই গেল, তারেক জিয়া বিএনপিকে ডুবিয়ে এখন দেশের বাইরে বসে আছে আর এখন দেশে দ্রুত ফিরে এসে বিএনপিকে সে ধ্বংস…

১৯৭২ : আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদগণকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল — জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হবে। ১৯৭৮ : আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদগণকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল — সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচারের সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হবে। আমাদের মুক্তিসংগ্রামকে ১৯৭৮-এর সামরিক প্রজ্ঞাপন নতুন আলোতে দেখতে চেয়েছেন, এবং আমাদের জন্য প্রযোজ্য করেছেন। সামরিক শক্তি বলছেন জাতীয় স্বাধীনতার যুদ্ধ। হ্যাঁ, আর কিছু নয় স্রেফ একটি যুদ্ধ। আপনি যেই হোন সামরিক শক্তি চায় আপনি সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখবেন। আল্লাহর আবির্ভাব হওয়াতে ধর্মনিরপেক্ষতার মৃত্যু হয়েছে। তাতে একথা প্রমানিত হয়েছে আপনি যে ধর্মেরই হোন সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকলে সামরিক শক্তি আপনাকে সাদরে গ্রহণ করবেন এবং প্রকারান্তরে আল্লাহর পথে আপনার ধর্মনিরপেক্ষতা কবুল হয়ে যাবে। আপনার সাথে সামরিক শক্তি দুটি বিষয়ে একমত পোষণ করছেন, কারণ আপনার জাতীয়তাবাদ আর গণতন্ত্রের সমস্ত দায়িত্ব সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের ওপর ন্যাস্ত হয়েছে। পৃথিবীর একমাত্র সামরিক শক্তি যেখানে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হয়েছে, তার কাছ থেকে সমাজতন্ত্রের অর্থাৎ না জেনে কেন আপনারা সর্বশক্তিমান আল্লাহর সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবেন।

লেফটেনেন্ট জেনারেল গোলাম জিলানি খান, এক বিখ্যাত পাকিস্তানি সেনা ব্যক্তিত্ব, যিনি ১৯৭১-১৯৭৮ পর্যন্ত পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ১৯৭৭-এ তাঁর বাংলাদেশ সফরের কিছু দিন পরই সেবছরের নভেম্বরে জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করলেন ডিএফআই [..]

লেফটেনেন্ট জেনারেল গোলাম জিলানি খান, এক বিখ্যাত পাকিস্তানি সেনা ব্যক্তিত্ব, যিনি ১৯৭১-১৯৭৮ পর্যন্ত পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ১৯৭৭-এ তার বাংলাদেশ সফরের কিছু দিন পরই সেবছরের নভেম্বরে জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করলেন ডিএফআই ( ডিরেক্টরেট অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স), যার নাম পরে কিছুটা পরিবর্তন করে রাখা হয় ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স)। প্রাথমিকভাবে এই সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সব অফিসারের প্রশিক্ষণ হতো আইএসআই-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে, এবং এখনো পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের ট্রেনিং হয় পাকিস্তান, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে। এর পুরো মডেলটাই পাকিস্তানি আইএসআই দ্বারা প্রবর্তিত এবং আইএসআই-এর মতোই ডিজিএফআই-ও জন্মের পর থেকেই দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংগঠন। জন্মের পরপরই তাদের প্রধান কাজ ছিল জিয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তোলা এবং উনিশশ আটাত্তরেই তারা সফলভাবে কাজটি সম্পন্ন করে, এবং শুরু হয় বিএনপির পদযাত্রা। এরপর জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এরশাদের আগমনে তার জন্যও যখন দরকার হয় একটি রাজনৈতিক দল তখনই তাদের হাতে তৈরি হয় দ্বিতীয় রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু ডিজিএফআই সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে ২০০৭-২০০৮ আর্মি শাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এসময়ে ওদের মাইনাস টু থিওরি, আসলে ছিল কৌশলে হাসিনাকে ধ্বংস করা, যেপথে ২১ আগস্টে বোমা হামলা, সেপথেই সামরিক গোয়েন্দা চাপে হাসিনাকে অর্ধমৃত করা, বোমায় যে কান গেছে, সেকানের চিকিৎসা তাকে পেতে হয়েছে অর্ধেক প্রাণ বন্ধক রেখে। তাই হাসিনা এখন অর্ধেক লোকচক্ষুর অন্তরালে, আর রাজনৈতিক দাবিহীন এই গণতন্ত্র, বলতে পারি আমাদের রাজনীতি মৃত, তবুও বাস্তবকে কিছুটা ভুলে বলছি অর্ধমৃত। আমাদের রাজনীতির পথ চলা কঠিন করতেই যাদের জন্ম, তারা এই বত্রিশ বছরে অনেক শক্তিশালী হয়েছে, তাদের হাতে গড়া দুটি দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টি আছে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, সিন্ডিকেটের সুতোও তারেক জিয়ার হাত থেকে তারা কেড়ে নিতে পেরেছে, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে আবদ্ধ করতে পেরেছে, আর পাকিস্তান আছে এদের অন্তরে বাইরে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ও মায়ানমার এখন চাইছে ডিজিএফআই-য়ের ওপর নিজের নিজের কিছু কর্তৃত্ব। অন্তরের পাকিস্তানকে কিছু করতে পারুক না পারুক বাইরের পাকিস্তানকে যদি কিছুটা মুছে ফেলা যায়—এই হলো ভারতের লক্ষ্য। পূর্ব দিগন্তের সূর্য চাইলে সব ভারতের হলে তো হবে না, চীনেরও তো অনেক কিছু হতে হবে, তাই…

বাঙালির কাছে বাংলা এখনো পুরোপুরি ‘শ্রদ্ধেয়’ হয়ে ওঠে নি। আড়াই শতাব্দি আগে তারা শ্রদ্ধা করেছে ফরাসিকে, গত দু-শো বছর ধ’রে শ্রদ্ধা ক’রে আসছে ইংরেজিকে : দুটিই সাম্রাজ্যবাদী রাজভাষা, যা বাঙালির কাছে আভিজাত্যের প্রতীক। বাঙলা শুধুই গ্লানি সঞ্চার করে [..]

বাঙালির কাছে বাংলা এখনো পুরোপুরি ‘শ্রদ্ধেয়’ হয়ে ওঠে নি। আড়াই শতাব্দি আগে তারা শ্রদ্ধা করেছে ফরাসিকে, গত দু-শো বছর ধ’রে শ্রদ্ধা ক’রে আসছে ইংরেজিকে : দুটিই সাম্রাজ্যবাদী রাজভাষা, যা বাঙালির কাছে আভিজাত্যের প্রতীক। বাংলা শুধুই গ্লানি সঞ্চার করে। তাই আমাদেরকে বাংলা বলার সাথে চোস্ত কিছু ইংরেজি না মেশালে বলায় ভাব আসে না। তাই বাংলাদেশ জুড়ে পালে পালে প্রসবিত হয় উপনিবেশিক জন্তুদের উত্তরাধিকার চমৎকার খচ্চরগণ, যারা ভুল বাংলা ও ভুল ইংরেজি মিশিয়ে এক ধরনের বিকট অশ্লীল বমিজাগানো ভাষার জন্ম দিয়েছে। যাদের মুখের মধ্যে এমন একটা কিছু ঢুকে আছে, যে মুখ-জিহবা সহজে নাড়াচাড়া করা যায় না। যারা হেয়ার জেলে আমির খান সেজে ভাষাকেন্দ্রিক আধিপত্য প্রয়োগের সম্পর্ককে জারী রেখে বহুজাতিক কর্পোরেশনের খেদমদগার মিডিয়া প্রভু নির্মিত গোলামির সংস্কৃতিকে বয়ে বেড়ায় রক্তে। চেতনায়। মাতৃভাষায়। আমাদের একুশ আর একাত্তর, আমাদের সমগ্র স্বপ্ন আর বিশ্বাস আজ বেহাত হয়ে গেছে। যে ভাষার স্বপ্নে আর অহংকারে আমরা আমাদের মগজ আর জমিনকে স্বাধীন করেছিলাম, সে ভাষার সর্বত্র আজ বিকৃতির অনপনেয় কালিমা। মিডিয়া দানবদের কর্পোরেট ধান্দাবাজি আর গোলকায়ন মোড়কে পুঁজি-মুনাফার উপনিবেশ আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে এফ এম রেডিও, ডিজুস কালচার। তাই আমাদের শুনতে হয় : ডিয়ার লিইসোনার্স, আপনাড়া শুনছেন ড়েডিও ...ওক্কে, শুরু হলো একটি নতুন দিন। আর এই সঙ্গে তোমাদের যাদেড় হ্যাপি বার্থ ডে তাদেড় উইশ করে নিচ্ছি...ভেরি ভেরি ভেরি হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ। আর টেলিভিশনের পর্দায় একজন নাটক নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী (আলোকিত খচ্চর প্রজন্মের প্রতিভূ) যখন লেখেন, --পুলা না মাইয়া হইছে দেইখা আইতে এ্যাত সময় লাগল? ‌--উস্তাদ আজান তো পরে নাই। --আজান না পড়ুক। পুলা না মাইয়া বাচ্চাডার উপর-নিচে দেইখা আইলেই ত হয়। ...তখন বমি পায় আমাদের। লজ্জায় ঘৃণায় নতমুখ হতে হতে একবিন্দু হয়ে যায় আমাদের শহীদ মিনার ! মানুষকে শিতি করার যে বাহাদুরি বুলি দিয়ে মিডিয়া তার মতাদর্শিক ও বাণিজ্যিক ফিকিরকে প্রতিনিয়ত আগ্রাসী করে তুলেছে, তার ধরণধারণ, যাবতীয় অশ্লীল প্রকল্পসমূহের গোছা ধরে টান মারার সময় এসেছে। তাই আমরাও সচেষ্ট হই প্রতিনিয়ত চালাকবাক্স (সুশোভিত নাম টেলিভিশন) তার পর্দায় ঝুলিয়ে রাখা জগাখিচুড়ি মার্কা কিম্ভুতকিমাকার ভুলে ভরা বিকট এক ভাষা, যাকে ভাষাবোদ্ধাদের কেউ কেউ আদর করে ‘বাংলিশ’ বলে ডাকেন, তার…

গার্মেন্টস-মালিকদের বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে! গত শনিবার টঙ্গী শিল্প এলাকায় ২ জন (মতান্তরে ৪ জন) শ্রমিকের নিহত হওয়ার ঘটনা সেই ষড়যন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ! বিজিএমইএ-র কর্তারা বলেছেন নাশকতা, যার অর্থ করলে দাঁড়ায় শ্রমিকেরাই এই নাশকতার জন্ম দিয়েছে [...]

তিন রাউণ্ড গুলি খেলে তেইশজন মরে যায় লোকে এত বজ্জাত হয়েছে! স্কুলের যে ছেলেগুলি চৌকাঠেই ধ্বসে গেল অবশ্যই তারা ছিল সমাজবিরোধী। ওদিকে তাকিয়ে দেখো ধোয়া তুলসীপাতা উলটেও পারে না খেতে ভাজা মাছটি আহা অসহায় আত্মরক্ষা ছাড়া আর কিছুই জানে না বুলেটেরা দার্শনিক চোখ শুধু আকাশের তারা বটে দেখে মাঝে মাঝে। পুলিশ কখনো কোনো অন্যায় করে না তারা যতক্ষণ আমার পুলিশ। শঙ্খ ঘোষ, 'ন্যায়-অন্যায় জানিনে' গার্মেন্টস-মালিকদের বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে! গত শনিবার টঙ্গী শিল্প এলাকায় ২ জন (মতান্তরে ৪ জন) শ্রমিকের নিহত হওয়ার ঘটনা সেই ষড়যন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ! বিজিএমইএ-র কর্তারা বলেছেন নাশকতা, যার অর্থ করলে দাঁড়ায় শ্রমিকেরাই এই নাশকতার জন্ম দিয়েছে। তারা ভয়াবহ পরিকল্পনা আর ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পেয়েছেন। কোনো-কোনো পত্রিকার মতে দুই মাস, শ্রমিকদের দাবি ছয় মাস বেতন পাননি তারা। গত শুক্রবারও গার্মেন্টসটিতে রাত অবধি তারা কাজ করেছেন। শ্রমিকদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, ১০ নভেম্বরের মধ্যে সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। তাই বেতন না পেয়েও তারা রাস্তায় নামেননি। বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেননি। কিন্তু গত শনিবার কারখানার গেটে এসে শ্রমিকেরা যখন জানতে পারলেন গার্মেন্টস বন্ধ, তখন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন তারা। মালিকেরা আগেই পুলিশকে জানিয়ে রেখেছিল। কেবল শ্রমিকেরা জানতেন না কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বেশ দায়িত্বের সাথেই গার্মেন্টসটি পাহারা দিয়েছে। শ্রমিকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে -- এ-কথা তো জানাই ছিল। কিন্তু তা-ই বলে গুলি খেয়ে মরবে! বিজিএমইএ-র নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে নাশকতার অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেছেন, আইন মেনেই কারখানা লে-অফ করা হয়েছে। তাদের আইন অনুযায়ী লে-অফের আগে শ্রমিকদের জানানোর প্রয়োজন পড়ে না। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, এদেশের আইন গার্মেন্টস-মালিকদের যা খুশি তা-ই করার অধিকার দিয়েছে। আর সেটা যাতে তারা নির্বিঘ্নে করতে পারেন, সেজন্য রাষ্ট্রের পুলিশ, বিচার বিভাগ, সান্ত্রী-সেপাই, আমলা-কামলা সব, সবাই তাদের সেবায় নিয়োজিত। তাই হুট করে এভাবে শ্রমিকদের মরে যাওয়ার ঘটনায় সকল পক্ষই যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পাবে, তা আর বিচিত্র কী! দৈনিক পত্রিকাগুলোতে চোখ বোলালে মনে হয়, এসব ঘটনায় শ্রমিকেরা কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙে, কারখানায় আগুন দেয়। যে-কোনো শ্রমিক-সংঘর্ষের সংবাদ পাঠ করলে শ্রমিকদের একটা নৈরাজ্যকর চেহারা পাঠকের মনে স্পষ্ট হয়। গত শনিবারের ঘটনাও…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.