দেশীয় সাহিত্য বিকাশের অন্তরায় সমূহের বিচার

যখন কালের বর্জ্যস্রোতে ভেসে যায় মানুষ, পুরোদেশ যখন ডুবে যেতে থাকে ডুবন্ত কোনো জাহাজের মত তখন স্রোতের ভেতর ডুবে যাওয়াই যেন এদেশের সাহিত্যিকদেরও নিয়তি। তেমনি নিয়তিকেই বরণ করে নিয়েছে এ দেশীয় সাহিত্যিক সম্প্রদায়। এদেশের প্রত্যেক সাহিত্য সেবিরাই এখন সাহিত্যের শত্রু [..]

সাহিত্য এমন এক কাণ্ড যার কোনো সীমানা নাই। বলা ভাল সীমানা মানে না। কারণ সাহিত্য হচ্ছে সবচে মৌলিক প্রার্থনা। কোথাকার এক হোমার তাঁর প্রভাব আজও বিদ্যমান। ওমর খৈয়ম, হফিজ, কিটস, ইএটস, এলিয়ট, কভাফির কবিতার প্রভাব আজও দেখা যায় রবীন্দ্রনাথে, জীবনানন্দে। কারণ সাহিত্যের ব্যাপ্তি জগতের সকল বস্তুর ভেতর বিদ্যমান। ভাবের হাত ধরে ভাব ছড়িয়ে পড়ে নিরন্তর অভাবের সীমানাহীনতায়।

কিন্তু যখন কালের বর্জ্যস্রোতে ভেসে যায় মানুষ, পুরোদেশ যখন ডুবে যেতে থাকে ডুবন্ত কোনো জাহাজের মত তখন স্রোতের ভেতর ডুবে যাওয়াই যেন এদেশের সাহিত্যিকদেরও নিয়তি। তেমনি নিয়তিকেই বরণ করে নিয়েছে এ দেশীয় সাহিত্যিক সম্প্রদায়। এদেশের প্রত্যেক সাহিত্য সেবিরাই এখন সাহিত্যের শত্রু। তারা সকলে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে কীভাবে বাংলাদেশী সাহিত্যকে সংকীর্ণ থেকে আরো সংকীর্ণ, স্থূল থেকে আরো স্থূলত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। এ অবস্থার জন্য শুধু লেখককুলের ওপর দোষারোপ করলে একচোখে দেখা হবে। আরো দায়ী ভাগ পরবর্তী যোগ-বিয়োগ।

এ ব্যাপার নিয়ে কোনো তর্কই হতে পারে না যে বাংলাদেশীরা পঁয়ত্রিশ বছরের এক মেরুদন্ডহীন জাতি। ব্রিটিশরা চলে যাবার পর এই জাতির ভেতর এমন একজন মানুষও জন্মাননি যাকে ঐতিহাসিক অনুকরণীয় চরিত্র বলা যেতে পারে। তাদের বড়জোর গ্যাংস্টার ও বিদেশীদের এজেন্ট বলা যায়। এরা সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম সবকিছুকেই বিকৃত করেছে। এদের কোনো সংস্কৃতি ছিল না। এখনো নাই। তলাকার কালো রাজনীতির প্রভাব পড়েছে সবখানে দুরারোগ্য রোগের উপসর্গ হয়ে। সবখানে একটা অদৃশ্য ক্ষুদ্র স্বার্থপরতার জাল টানা আছে। এদেশের সাহিত্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মত কোনো ছোট কাগজের আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। যে কারণে তারা প্রতিষ্ঠিত ধনী প্রকাশনাগুলোকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের মত স্বাধীন কাজ করে যেতে পারছে। ষাটের দশকের সাহিত্য পত্রিকা কন্ঠস্বর সম্পর্কে পত্রিকাটির সম্পাদক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ গর্ব করে বলেন তিনি এদেশের সাহিত্যে নতুন একটি যুগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ষাটের এই পত্রিকাটিতে যারা লিখত তারা সবাই আজ তারকা। এ কথাটি সত্য কন্ঠস্বরে যারাই লিখত সবাই আজ তারকা, কেউ লেখক হননি। সকলেই প্রায় মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রেম নিবেদন করার বাণী লেখা অনেক সহজ করে দিয়েছেন। এদের উপর মূলত প্রভাব পড়েছিল কলকাতার পঞ্চাশের লেখক গোষ্ঠীর। তাদের ওপর ছিল আমেরিকান বিট জেনারেশনের। পঞ্চাশের দশকে কলকাতায় বিট গোষ্ঠীর হোতা গীন্সবার্গ এলে তাদের অপ্রাতিষ্ঠানিক ধারাটার প্রভাব পড়ে পঞ্চাশের লেখকদের ওপর। গীন্সবার্গকে যথাযতভাবে গ্রহণ করতে পারলে না হয় কথা ছিল। সাহিত্যে এবং চালচলনে গীন্সবার্গের প্রধান বৈশিষ্ঠ্য ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে চুড়ান্ত নাজেহাল করা। ধনতন্ত্রের পালিশ করা আত্মাহীন মার্কিন মুলুকের অহংকারী অন্তসারশূন্যতাকে খুলে দেখানোই ছিল তাদের লক্ষ্য। তারা ছিল ভোগের বস্তিতে নিঃশ্বাস নিতে না পারা প্রজন্ম। কিন্তু কলকাতার সংকটসংকুল নিম্নমধ্যবিত্ত কবিরা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিট জেনারেশনকে অনুকরণ করতে গিয়ে নিজেদেরকে লক্ষ্যহীন স্থুলতায় নিক্ষেপ করলো। বেশ্যাদের তিরিশেই গ্রহণ করেছিল আধুনিকেরা। পঞ্চাশীরা যে কোনো বয়সের যে কোনো নারীকে এমনকি মা মেয়েকেও একসাথে ভোগ করবার স্বপ্ন দেখতে থাকে সারাদিন। এবং এই গোষ্ঠীটি এতবেশি প্রচার পেয়েছিল যে পরবর্তী একযুগ এরা রাজত্ব করল শতশত রিম কাগজে। পুরো একযুগ মহান সাহিত্যের ধারেকাছেও যেতে পারলনা পাঠক। ঠিক এই গোষ্ঠীটির প্রভাব পড়েছিল এই কন্ঠস্বর পত্রিকায়। সেটা কন্ঠস্বর পত্রিকার প্রথম সংখ্যার ইশতেহারটা পড়লে বুঝা যায়। এরা লিটল ম্যাগাজিন করবার ধারাটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে যায়।

এরপর থেকে এদেশে লিটল ম্যাগাজিন করে আত্মহারা, স্বমেহী লোকজন। তারা ছোট কাগজ করে দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য পাতার সাংবাদিকদের অপাঠ্য না-কবিতা ছাপানোর জন্য। ঘনিষ্ঠতার সূত্রে যেন তার একটা কবিতা ঐসব পত্রিকার রঙ্গিণ বিজ্ঞাপনের পাশে ছাপানো হয়। আর অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে কজনের টাকায় ওই ছোট কাগজ ছাপা হয় তাদের নিজেদের তোয়াজ তোষণে ভরা। এসব গ্রাম্য মানসিকতার অ্যামিবা লেখকেরা এত অল্পে তুষ্ট যে তারা মনে করে যেখানে কালোবাজারী কালোচশমাধারী পেশাদার খুনী ও উচ্চবিলাসী সিনেমা নাটুকে বেশ্যাদের ছবি ছাপা হয়, তার পাশে তার একটা লেখা ছাপানো মানে জীবন ধন্য হয়ে গেল। আর বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব মহাপণ্ডিতেরা সাহিত্য পাতাগুলোতে সাংবাদিকতা করে তাদের নামে কিছু লেখা সাহিত্যপরিপন্থী কাজ হবে। এদের সাহিত্যের প্রতি কোনো কমিটমেন্ট নাই, দরকারও নাই তাদের। কারণ তাদের ছলনা সম্পর্কে তারা জ্ঞাত।

এক পত্রিকার এরকমই এক প্রাণীকে একবার বলতে শুনেছিলাম। রিলকের ‘সরলা ইরিন্দিরা’ (Innocent Eréndira) বইটা নাকি তার ভাল লেগেছিল। তাকে আর বইটার লেখকের নাম বলা হয়নি। আরেকজনকে দেখেছিলাম ভাগযোগ করে নবাগত এক কবিকে বোঝাচ্ছেন কবিতা হচ্ছে আসলে চার মাত্রার খেলা। প্রাণীগুলো আবার নিজেদের মনে করে এজরা পাউন্ড, এলিয়ট, বুদ্ধদেব, সুধীন ইত্যাদির মত সম্পাদক। কয় অক্ষরে অরবৃত্ত হয় এটাই হচ্ছে এদের কবিতা মাপার মাপকাঠি। গল্পকে তারা মনে করে মানিক, তারাশংকরের মত কিনা যেন পৃথিবীতে আর কোনো ইতালো কালভিনো, বোর্হেস, পিটার বিকসেল, রমানাথ রায় গল্প লিখেন নি। প্রত্যহ একটা দৈনিকের সাহিত্য পাতায় যা ছাপা হয় তার বৃহদাংশজুড়ে থাকে কপট সাহিত্য সম্পাদকের আত্মীয়-স্বজন,ভাই-বেরাদর, শ্যালক, তাদের নিয়মিত হাজিরা দেনাঅলা পা’চাটা সরীসৃপদের।

দৈনিক পত্রিকা হচ্ছে দৈনিক পত্রিকা। সারাদিনের খুন ধর্ষণ ও যাবতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপনে ভরা। সে সাহিত্যের কাছে দায়বদ্ধ নয়। ব্যবসাই তার লক্ষ্য। যেটা এদেশের প্রথম শ্রেণীর পত্রিকাগুলোর অন্যান্য ব্যবসাবাণিজ্য প্রসারের তোড়জোড় দেখলে বুঝা যায়। কিংবা সুক্ষমাথার দূর্ণীতিবাজ ব্যবসায়ীরা নিজেদের কালোটাকা সাদা করবার জন্য এই সব পত্রিকা করেছ। যেনতেনভাবে পৃষ্ঠা ভরানোই হচ্ছে তার কাজ। দেশের সাহিত্যের মেরুদণ্ড কীরকম নড়বড়ে হলে, কী রকম প্রতিশ্রুতিশীলতার অভাব হলে একটা দেশের সকল লেখকরাই এই দৈনিকের পাতাগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এ এক বিরাট প্রশ্ন।

পুঁজির ক্ষমতা আছে সে মুহ’র্তেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যেতে পারে। তাই এই স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, মূর্খামির জঘন্য প্রভাব পড়ে মফস্বলে। যেখানে ভাল বই পৌছেনা। আর এসব সাহিত্য পাতায় লেখাটেকা দেখে লোকজন ভাবে যে এগুলোই বুঝি সাহিত্য। এবং নামগুলোর দিকে তাকিয়ে তারা ভাবে এরাই বুঝি সাহিত্যিক। ঢাকায় যাদের লেখা ছাপা হয় তারা ছাড়া এসব লেখা অন্য কেউ দেখে কিনা সন্দেহ প্রকাশ করি।
পাকিস্তান আমল হতে এদেশে এমন পনেরটা বইও ছাপা হয় নাই যেগুলো পড়ে শেলফে সংরক্ষণ করা যায় পরবর্তীতে পড়ার জন্য । একাত্তর পরবর্তী এদেশে যারাই ক্ষমতা পেয়েছে গণগ্রন্থাগার গুলোকে ব্যবহার করেছে অশিতি আমলা ও প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রী পদবাচ্যের আত্মীয়-স্বজনদের অপাঠ্য হজ্বে যাবার স্মৃতি, জিয়ার দর্শন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন জাতীয় আবর্জনা রাখবার ডাষ্টবিন হিসাবে। আর এসব বই সরকারী টাকায় ছাপানো সরকারী টাকায় কেনা।

কবিতার অবস্থা সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে কবিতাহীন দানোয় পাওয়া এক ঘোরের ভেতর তাদের বাস। তাদের কবিতার ভেতর কবিতা ছাড়া সব আছে। আর যে গল্পগুলো এখন এখানে ছাপা হচ্ছে তাদের ফর্ম হচ্ছে মান্ধাত্বার মায়ের আমলের। তাদের অভিজ্ঞতা একটা কুনোব্যাঙের চাইতেও কম। তবু হরদম মেলা আসলে অন্ধ দানবের মত রিমরিম কাগজে এসব … ছেপে বেচঁতে আসে বটতলার বাজারে। দৈনিক পত্রিকাগুলো সের দরে তারকা বানায় ও বেঁচে। এটা তাদের একধরনের পত্রিকা কাটতি ব্যবসায়। আর এসব প্রাণীগুলো তারকা হবার আশায় সবকিছু জলাঞ্জলি দিতে পারে মায় আত্মা পর্যন্ত। আদর্শহীনতাই এখানে আদর্শে পরিণত হয়েছে।

আদর্শ বলতে এখানে কোনো দার্শনিক বা ধর্মীয় চিন্তাধারাকে বুঝানো হচ্ছে না। সাহিত্যের একটা নিজস্ব আদর্শবোধ আছে। যা জগতের তাবত মতবাদের ঊর্ধ্বে ও তাবত মতবাদের চাইতে সত্য। কারণ সত্য উচ্চারণ ছাড়া সাহিত্যের আর কোনো কাজ নাই। সাহিত্যের আদর্শ জগতের শ্রেয় আদর্শ। একজন সৎ সাহিত্যিক ত্রিকালদর্শী। যে কারণে লু স্যুন ডাক্তারী ছেড়ে লিখতে আসে। যে কোনো ধর্মপ্রণেতার চাইতেও তিনি মহৎ।
এ বড় আজব দেশ। গ্রামদেশ থেকে কবিতা লিখতে আসা একটা শাদা ছেলে চক্রে পড়ে পরিণত হয় হাস্যকর ভাঁড়ে অথবা আত্মাহীন বেশ্যার দালালে। এসব হতে চেয়েছিলাম লেখকদের সবসময় দেখা মিলবে দৈনিক পত্রিকাগুলোর সাহিত্যপাতার সাংবাদিকদের পশ্চাতে।

কিছুদিন শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদকে তারকা বানিয়ে খুব বিক্রি করেছে দৈনিক পত্রিকাগুলো। সন্দেহ নাই একসময় ভাল কয়েকটা কবিতা লেখার চেষ্টা করেছিলেন শামসুর রাহমান। কিন্তু শেষের দিকে শামসুর রাহমানের ভিমরতি হয়েছিল। বাজারের ফর্দ, ঔষধের স্লিপ থেকে শুরু করে যা-তা কবিতার নামে চালিয়ে অচিরেই একটা নিকৃষ্ট ভাঁড় ও বিরক্তিকর চরিত্রে পরিণত করেন নিজেকে। তাঁর শত্রুরা আর তোশামোদ কারীরা হয়তো তাঁকে এসব পরামর্শ দিয়ে থাকবে। এই শামসুর রাহমান মরার পরও ভূতের মত প্রত্যহ উদয় হয় এইসব আবর্জনাময় দৈনিকের সাহিত্যপাতায়। এদের অধিকাংশই শামসুরের দ্বারা পত্রিকায় সাংবাদিকতা প্রাপ্ত। সাহিত্যপাতার এসব কেঁচো সম্প্রদায় বাস করে গর্তে। শামসুর রাহমান খুব রুচিহীন ট্রাডিশনাল লোক ছিলেন। রবার্ট ফ্রস্টের মত মহৎ কবিকে তিনি বাংলাভাষায় একেবারে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। সেটা রবার্ট ফ্রস্টের মুল কবিতাগুলোর সাথে শামসুরের অনুদিত কবিতাগুলো মিলিয়ে পড়লে বুঝতে পারা যায়। তার অনুদিত ফ্রস্টের কবিতাগুলো পড়লে মনে হয় এদেশীয় চতুর্থ শ্রেণীর কবিরাও ফ্রস্টের চাইতে ভাল লেখে। তিনি পশ্চিমবঙ্গীয় আধুনিকদের অনুকরণে এসব করেছিলেন।

আর আল মাহমুদকে তো রীতিমত ভণ্ডপীর উপাধি দেয়া যেতে পারে। আত্মার গরিমাহীন যৌন উপোসী এই লোক কবিতার দোহাই দিয়ে জীবন সুদ্ধ চালিয়াতি করেছে। বাংলাদেশের প্রত্যেক গুণ্ডাপাণ্ডা, আর্মি স্বৈরাচার সরকারের পা-চাটা সে। তার কবিতা- গল্প- উপন্যাস পদবাচ্য পড়লে মনে হয় আদি রসাত্মক লেখক শ্রী রসময়গুপ্তই একমাত্র তার সমকক্ষ লেখক। নারীদেহকে তার মত এত নোংরা ও বিকৃতভাবে অন্য কোনো কলমধারী ব্যবহার করে নাই। ঐতিহ্য প্রকাশিত একটি সাক্ষাতকারের বইয়ে তিনি বলেছেন এখন নাকি কবিদের ধর্ষণ করার সময় এসেছে। এই বিকৃত মানুষটাই আবার ইসলামী সংস্কৃতির জিগির তোলে আর আত্মপ্রচারকালে রসিয়ে রসিয়ে বলে তারা নাকি আরব থেকে এসেছে। এদেশীয় মুসলমানদের ভেতর অনেক হীনম্মন্যতার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তারা অধিকাংশই মনে করে যে তারা মহম্মদের বংশধর, তারা এসেছে আরব থেকে। কিন্তু যে কেউ নৃবিজ্ঞান না ঘেটেই চেহারা দেখেই বলে দিতে পারে মাহমুদ মঙ্গোলিয়ান প্রজাতির লোক। তার চেহারায় মঙ্গোলিয়ানদের ছাপ স্পষ্ট।

কবিতা হচ্ছে একই জীবনের অন্যরকম উৎসার এটা গভীরভাবে অনুভব করবার সময় এদের কারো হয়েছে বলে মনে হয় না। উনিশ শতক, পশ্চিমবঙ্গের দলিত গোষ্ঠী ও এদেশীয় গুটিকয় সাহিত্যিকদের বাদ দিলে এদেশীয় সাহিত্য এখনো শিশুসাহিত্য। একটা পয়ত্রিশ বছর বয়সী স্বাধীন দেশের সাহিত্যে যে পরিমাণ অগ্রগতি হওয়া উচিত ছিল তা তো হলইনা। একাত্তরের মত একটা এপিক ওয়ার যার শেকড় বায়ান্ন পর্যন্ত বিস্তৃত তা নিয়ে একটা মহৎ উপন্যাস পর্যন্ত লেখা হলনা। একাত্তর সম্পর্কে জানতে গেলে আমাদের একমাত্র সহায় মেজর(অব:)দের অপাঠ্য স্মৃতি কথা।

এদেশে সাহিত্য এখনো ফটকাবাজ তালিবাজ ও বটতলায় সীমাবদ্ধ। সন্দেহ নাই এ সাহিত্যকে উপরতলায় তথা আর্ন্তজাতিক মহৎ সাহিত্যের কাতারে নিয়ে যাওয়া সাহিত্যিকদের আরেকটি দায়িত্ব। যার কারণে বৈদেশিক ভাষা থেকে প্রচুর অনুবাদ হওয়া দরকার। কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ অনুবাদকই ছোটলোক। অনুবাদ ক্ষেত্রে তাদের জালিয়াতি আতংকিত হবার মত। তাদের অনূদিত বইটি হাতে নিলে লজ্জা হয়। দেখা যায় বইটির সামনে পিছনে ফ্ল্যাপে অনুবাদকের নাম, ছবি, জীবনী ইত্যাদি ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। অনেক সময় অনুবাদকদের এসব অপকর্মের দুর্গন্ধে মূল লেখককে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।

কবীর চৌধুরীর মত অশীতিপর বৃদ্ধ অনুবাদকও এইসব অপকর্ম করেন নিয়মিত। আত্মপ্রচারের হীনমন্যতাবোধ, ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখার শিশুসুলভ যৌনবাসনা এখনো আমরা পরিহার করতে পারি নাই। যেন মূল লেখকরা আমাদের বোন জামাই অথবা কাকা লাগে। ফলে হাতে নেয়ার পর মনে হয় এইরকম হীনমন্য এক লোকের অনুবাদ আর কী পড়ব। পড়ার রুচিটাই নষ্ট হয়ে যায়। আর কিছু অনুবাদক আছে আরো অসৎ ও দুর্নীতিবাজ। অর্ধেক লেখা বাদ দিয়ে বইটি ছেপে দেয়। যেন তাড়াহুড়ো করে ইতিহাসে স্থান করে নেয়া যায়। আর এসব ’হতে চেয়েছিলাম’ লেখকদের আবর্জনার স্তুপ ছেপে চলে বাংলাবাজার ও শাহবাগের প্রকাশকদল। অধিকাংশ প্রকাশকরা অশিক্ষিত। প্রকাশকদের মধ্যে শিক্ষিত মার্জিত লোক নাই বললেই চলে। কারণ এরা চাকরী করতো প্রেসে, বাইণ্ডিংখানায়। সহজে দুইপয়সা কামানোই হচ্ছে এসব জীবদের জীবনের ব্রত। একবার বাংলাবাজারের এক নামকরা প্রকাশকের কথা শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করছিলেন বড় পত্রিকার সাংবাদিক নয়, কলেজে পড়ায় না সে কী করে লেখক হতে পারে। তার ধারণা এ দুই পেশার লোক ছাড়া অন্য কেউ লেখক হতে পারে না। এরা আবার বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত। তারা ছাপে অন্য পেশার কন্ট্রাকটরের শালার বউয়ের ছোট ভাইদের কবিতার বই।

সুবিধা পেলে সাহিত্য সুদ্ধ পাইকারি বিক্রি করতেও তাদের বাধবে না। এইরকম একটা গুমোট হত্যাচক্রের ভেতর কখনোই মহৎ কবি সাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করতে পারে বলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

29
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
অলকেশ মিত্র
অতিথি
অলকেশ মিত্র

একাত্তরের মত একটা এপিক ওয়ার যার শেকড় বায়ান্ন পর্যন্ত বিস্তৃত তা নিয়ে একটা মহৎ উপন্যাস পর্যন্ত লেখা হলনা। একাত্তর সম্পর্কে জানতে গেলে আমাদের একমাত্র সহায় মেজর(অব:)দের অপাঠ্য স্মৃতি কথা।

আপনার এই ক্ষেদোক্তির সাথে সহমত পোষন করতেই হচ্ছে। শামসুর রাহমান সম্পর্কে ইতিপূর্বে এই ব্লগের শুরুর দিকে আরো কিছু বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। এখানে এবং এখানে দেখুন। এ বিষয়ে আপনার আরো শাণিত আলোচনার অপেক্ষায় থাকলাম। আপনাকে অভিনন্দন।

রেজাউল করিম সুমন
সদস্য

১ পাকিস্তান আমল হতে এদেশে এমন পনেরটা বইও ছাপা হয় নাই যেগুলো পড়ে শেলফে সংরক্ষণ করা যায় পরবর্তীতে পড়ার জন্য। সত্যিই তো, আবার ফিরে পড়ার মতো বই আমাদের খুব বেশি নেই। আপনার বিবেচনায় কোন বইগুলো সংরক্ষণযোগ্য তা জানালে উপকৃত হব। ‘দেশীয় সাহিত্য বিকাশের অন্তরায় সমূহ’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবার সম্ভাবনা সামান্যই, কিন্তু এ বন্ধ্যা (?) সময়ে আমাদের হাতে-গোনা ভালো বইগুলো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আরো বেশি জরুরি। ২ উনিশ শতক, পশ্চিমবঙ্গের দলিত গোষ্ঠী ও এদেশীয় গুটিকয় সাহিত্যিকদের বাদ দিলে এদেশীয় সাহিত্য এখনো শিশুসাহিত্য। ‘শিশুসাহিত্য’ অভিধায় নিশ্চয়ই অপরিণত সাহিত্যকেই চিহ্নিত করতে চাইছেন এখানে? ভারতের মহারাষ্ট্র ও অন্যান্য অঞ্চলের ‘দলিত… বাকিটুকু পড়ুন »

কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর
সদস্য

এ ব্যাপার নিয়ে কোনো তর্কই হতে পারে না যে বাংলাদেশীরা পঁয়ত্রিশ বছরের এক মেরুদন্ডহীন জাতি। ব্রিটিশরা চলে যাবার পর এই জাতির ভেতর এমন একজন মানুষও জন্মাননি যাকে ঐতিহাসিক অনুকরণীয় চরিত্র বলা যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের ভিতর দিয়ে জনমানসের ভিতর যে প্রগতিশীল দ্রোহের বিস্তার হতে থাকে, বামপন্থী নানান সংগঠনের বিস্তার ঘটতে থাকে, স্বাধীনতার পরবর্তীকালের নানান অপশাসনের প্রতিবাদমুখর হয়; তাঁরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন_ তার সবকিছুকে এভাবে অস্বীকার করা কি যুক্তিযুক্ত হয়? বুর্জোয়া শাসনের এই যুগে সব আলোকিত মানুষকে কি দেখা যায়? কর্পোরেট পুঁজির এই কালে নানান চটকদার মিডিয়া কি তাদের স্বার্থ আর রূপ-রসের বাইরে যায়? মগজে স্বার্থের কারফিউ জারি রাখলে প্রকৃত সত্যকে কিভাবে চেনা… বাকিটুকু পড়ুন »

অবিশ্রুত
সদস্য

পাঠক হিসেবে আমি খুবই নিম্নমানের, মাতৃভাষাতেই দক্ষতা নেই, অন্য ভাষায় তো আরও নেই। যা পড়েছি মোটামুটি বাংলাতেই। তাই বাংলাদেশের সাহিত্যিকদের ১৫টাও বার বার পড়ার মতো বই নেই, এই কথাটা একেবারেই মানতে পারছি না। যে-প্রসঙ্গ এখানে উঠানো হয়েছে, দেশীয় সাহিত্য বিকাশের অন্তরায়, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বলাই বাহুল্য, বিষয়টি নিয়ে এখানে তেমন কিছুই লেখা হয়নি। হুমায়ুন আজাদীয় ভঙ্গিতে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। সাধারণীকরণের প্রবণতা এ লেখাতে এত প্রকট যে, কারও কাছে মনে হতে পারে শামসুর রাহমান, কবির চৌধুরী, কয়েকজন প্রকাশক আর দৈনিকের সাহিত্য পাতাগুলিই বোধহয় এখানকার সাহিত্য বিকাশের প্রতিবন্ধক। কবি সমর সেনের মনে হয়েছিল, তাঁর কবিতায় পুনরাবৃত্তি আসছে, তাই… বাকিটুকু পড়ুন »

কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর
সদস্য

জাহেদ সরওয়ারকে শুভেচ্ছা।

মগজে স্বার্থের কারফিউ জারি রাখলে প্রকৃত সত্যকে কিভাবে চেনা যাবে?

উপরের উদ্ধৃতিতে সংবাদপত্রের সামাজিক-রাজনৈতিক বদমাইশিকেই বোঝাতে চাইছি।
স্বাধীনতা সংগ্রামের পর উল্লেখযোগ্য চরিত্র হিসাবে উল্লেখ করতে চাই কর্নেল তাহের, সিরাজ শিকদার, তাজউদ্দীন আহমদ-এর নাম।
সাহিত্যের ক্ষেত্রে ইলিয়াস, সাইদ আতিকুল্লাহ (গল্প, কবিতা উভয় ক্ষেত্রে), আবুল হাসান, রুদ্র, শহিদুল জহির, মামুন হুসাইন, সেলিম মোরশেদ, মাসুদ খান, মজনু শাহ, মাহবুব মোর্শেদ প্রমুখের নাম।
আর স্বাধীনতার পর ১৫টি ভালো বইও আমরা পাইনি? আমাদের শিল্প-সাহিত্যেকে এত খাটো বোধ হয় করা যায় না।

মনজুরাউল
সদস্য

লেখাটির আলোচনায় এসে বেশ সমস্যায়ই পড়তে হলো! মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যগুলোর প্রকরণ দেখে মূল লেখা বিশ্লেষণের আর ইচ্ছা রইল না। যদিও এধরণের জনবিচ্ছিন্ন সাহিত্যালোচনার কোন কার্যকারণ আছে বলেও দেখি না। যে সৃষ্টি নিজের এবং নিজের চারপাশের বিষয়বস্তু আর নিজের বা নিজেদের গোষ্ঠিগত গন্ডির ভেতরেই ঘুরপাক খেতে থাকে তার সাথে মানুষের জীবন-যাপনের কোন সম্পর্কই যখন দৃশ্যমান হয়না তা নিয়ে অর্থহীন তর্ক হতে পারে, কিন্তু সৃষ্টিশীল কিছু নৈব নৈব চ। দৃষ্টি আকর্ষিত হলো “মুখোশ” আর “চুলকানি” শব্দ ব্যবহারে। এই শব্দ ব্যবহারে মোটেই জাত গেল বলে চিৎকার করছিনা কিন্তু। তবে ছদ্ম নাম ব্যবহার যদি চুলকানির উদ্রেগ করে এবং সেই চুলকানি যদি আর কোন কিছুতেই নিরাময় না… বাকিটুকু পড়ুন »

শাহেদ সাইফুল্লাহ
অতিথি
শাহেদ সাইফুল্লাহ

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের মন্তব্য অবলোকন থাকি বিদেশে। জাহেদ সরওয়ারের মতে হতে চেয়েছিলাম লেখক বলা যায়। পৃথিবীর যেখানে থাকি সেখানে এই সময়ের লেখকদের বইপত্র খুব একটা পাই না বললে অত্তু্যক্তি হয় না। ফলে বাংলাব্লগ আর বাংলাপত্রিকার সাময়িকী দেখে যতটুকু আচ করা যায়। জনাব কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের অনুকরণীয় মানুষ ও সফল সাহিত্যিকদের নাম বলতে গিয়ে যাদের নাম বলেছেন। রাজনীতির ক্ষেত্রে কর্নেল তাহের, সিরাজ শিকদার, তাজউদ্দীন আহমদ,বদরুদ্দীন উমর, টিপু বিশ্বাস সাহিত্যের ক্ষেত্রে ইলিয়াস, সাইদ আতিকুল্লাহ (গল্প, কবিতা উভয় ক্ষেত্রে), আবুল হাসান, রুদ্র, শহিদুল জহির, মামুন হুসাইন, সেলিম মোরশেদ, মাসুদ খান, মজনু শাহ, মাহবুব মোর্শেদ, আহমদ শরীফ, আরজ আলী মাতুব্বর, হুমায়ুন আজাদ, হরিপদ দত্ত, আনু… বাকিটুকু পড়ুন »

মনজুরাউল
সদস্য

জনাব শাহেদ সাইফুল্লাহ। রায়হান রশীদ সাহেবের এই কথাটা মানতে পারলাম না। ব্লগমন্ডলে যারা ছদ্মনামে লেখে তারা সবাইকি রাজনৈতিক কলামিস্ট! আমারতো ধারনা ছিল অন্যরকম। ফাজলামো করার জন্যই অধিকাংশ লোকজন ছদ্মনাম গ্রহণ করে। এবং এর প্রমাণও আছে ভুরিভুরি। একজন স্পষ্টবাদি রাজনৈতিক বক্তা নিজের নাম গোপন করে নাকি। কী কী শব্দ মুক্তাঙ্গনে ব্যবহার করা যাবেনা তার একটা সূচী অথবা মুক্তাঙ্গন ভাষা ব্যবহারের নিয়মাবলী নামে একটা ব্যাকরণ করলে সবচাইতে ভাল হয়। যেটা প্রথম আলো, নয়া দিগন্ত অথবা অন্যান্য পত্রিকা করছে। রায়হান সাহেবের কথা বলার আভাসে মনে হল মুক্তাঙ্গন বুর্জোয়াদের ড্রয়িংরুম। মুখোশ আর চুলকানি এতো জীবনের অপরিহার্য ব্যবহার্য শব্দ এ গুলো ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে… বাকিটুকু পড়ুন »

সৈকত আচার্য
সদস্য

@শাহেদ সাইফুল্লাহ (কিংবা যেই হউন আপনি) @জাহেদ সরওয়ার =১= প্রথমেই শাহেদ সাইফুল্লাহকে অভিনন্দন জানাতে হচ্ছে ইন্টারনেটে জীবনের প্রথম মন্তব্যটি লিখবার জন্য, তাও প্রথম চেষ্টাতেই একেবারে বিশুদ্ধ বাংলা হরফে, তাও জাহেদ সরওয়ারেরই পোস্টে, জাহেদ সরওয়ারের মন্তব্যকেই সমর্থন জানাতে!! পুরো ইন্টারনেট ঘেঁটে “শাহেদ সাইফুল্লাহ” নামের অধীনে আর কোনো মন্তব্য, লেখা বা কোন ধরণের এন্ট্রিই খুঁজে পাওয়া গেল না (এখানে গুগলসার্চের ফলাফল)। সুতরাং ধরেই নিতে হচ্ছে এমন চোখা মন্তব্যকারী কোন বিশেষ প্রক্রিয়ায় ইন্টারনেটে সবার দৃষ্টি বাঁচিয়ে চলছিলেন এতদিন! =২= আর কেউ এই কাকতালীয় মিলটি লক্ষ্য করেছেন কি না জানি না, উপরে জাহেদ সরওয়ারের মন্তব্য এবং সেটির পক্ষ নিয়ে শাহেদ সাইফুল্লাহ’র মন্তব্য দুটোতেই একই… বাকিটুকু পড়ুন »

tinos
সদস্য

@ জাহেদ সরওয়ার, মুক্তাঙ্গনে আমরা (অর্থাৎ, এখানকার সব ব্লগার) সবাই মিলে সুনির্দিষ্ট কিছু মূল্যবোধ, কিছু ইস্যুর প্রতি কমিটমেন্ট এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতিকে অবলম্বন করে সিরিয়াস কাজের পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। এর সবটাতে যে আমরা সবসময় সফল হচ্ছি তা নয়, কিন্তু আমাদের দিক থেকে আন্তরিকতা এবং স্বচ্ছতায় কখনো কোন ঘাটতি ছিল না। সব ধরণের মালিকানা-স্বত্বের ধারণার বিপরীতে বাংলাদেশের এটিই সম্ভবত একমাত্র ব্লগ যেখানে ব্লগাররাই ওয়ার্কগ্রুপের অংশ হিসেবে এখানকার প্রতিটি নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, প্রতিটি নিয়ম প্রণয়ন এবং পরিবর্তন করেন, আর সে সবের বাস্তবায়ন করেন মনোনীত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। ব্যান হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি নিজেও এই ওয়ার্কগ্রুপেরই সদস্য ছিলেন। ব্লগার সৈকত আচার্যের… বাকিটুকু পড়ুন »

কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর
সদস্য

জাহেদ সরওয়ার ব্যাপারে মুক্তাঙ্গনের অনেক বিষয়ের সাথেই ঐক্যমত পোষণ করা যায়। তবে নিম্নোক্ত মতামত বা সি্দ্ধান্ত সম্পর্কে আমি ভিন্নমত পোষণ করছি। বলা কঠিন, দুর্বল বক্তব্যের এই পোস্টটির বিষয়ে প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তর এড়াতেই হয়তো আপনি লাইন ধরে এখানকার মন্তব্যকারী প্রত্যেক ব্লগারকে ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছেন। আমার মতামত সম্পর্কে জাহেদ সরওয়ার আমাকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আক্রমণ করেছেন বলে আমার মনে হয়নি। সেই সাথে মুক্তাঙ্গন মডারেটরগণ আপনার সার্বিক রেকর্ড পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তেও একাত্ম হয়েছেন যে এ ধরণের সন্দেহবাতিকগ্রস্ত, যুক্তিজ্ঞানবিবর্জিত, বিনয়জ্ঞানরহিত, চিন্তায় দুর্বল, উগ্র-মস্তিষ্ক, কলহপ্রবণ এবং আত্মম্ভরী ব্লগারের কোন প্রয়োজন নেই মুক্তাঙ্গন এর। আচ্ছা, এখন যদি জাহেদ সরওয়ার মুক্তাঙ্গনের সি্দ্ধান্তের বিষয়ে আপিল করতে… বাকিটুকু পড়ুন »

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.