ওয়ার ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিচার না হওয়া অপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাদের 'মিডিয়া আর্কাইভ' এ ক্ষেত্রে সবচে বেশি তথ্যসমৃদ্ধ। সম্প্রতি তাদের মিডিয়া আর্কাইভে যোগ হয়েছে দুর্লভ একটি প্রামান্যচিত্র। ১৯৯৫ সালে ব্রিটেনের চ্যানেল ফোরে প্রচারিত হয় 'ওয়ার ক্রাইমস ফাইল: ডিসপ্যাচেস' নামের একটি অসাধারন বর্ননা। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে থেকে পালিয়ে আসা কথিত যুদ্ধাপরাধী কয়েকজন রাজাকার/আলবদর কিভাবে ব্রিটেনে বাসা গেড়েছে, ধর্মের ব্যবসা ফেঁদেছে, তা নিজের চোখেই দেখুন। চ্যানেল ফোর এই ডকুমেন্টারি তৈরির পর পরেই চৌধুরী মঈনূদ্দীন তরফ থেকে এক আইনী হুমকির মুখে পড়ে। সুরাহা হয় এই শর্তে যে চ্যানেল ফোর এই তথ্যচিত্র পুনঃ প্রচার করতে পারবে না। সত্যকে চাপা দেবার এই পুরোনো হাতিয়ার আজো ব্যবহার করে যাচ্ছে রাজাকার চক্র। এখানে তাদেরই মুখোশ খুলে দেয়া হলো।। যুগপৎ প্রকাশ: সচলায়তন, আমারব্লগ, মুক্তমনা, সামহোয়ার-ইন
চিত্রশিল্পীদের বিষয়ে আমার কিছু স্থির পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার আছে।[...]
চিত্রশিল্পীরা চিত্রশিল্পীদের বিষয়ে আমার কিছু স্থির পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার আছে। এ-কথা সত্য সঙ্গীত-রচয়িতাদের ব্যাপারেও। যেসব শিল্পীকে গণ্য করা হয় তালিকার সবচেয়ে ওপরের বলে তাদেরকেই আমার কাছে সবচে কম আকর্ষণীয় মনে হয়, যেমন লেনার্দো দা ভিঞ্চি, মিকেলেঞ্জেলো, রেমব্রান্ট প্রমুখ। অল্প কজনের নাম বলি, আমার ভালো লাগে রেনোয়া, ভ্যান গঘ, মাতিস্, স্যুরা, গগ্যাঁ, হিয়েরোনিমাস বশ্, ব্র্যুগেল, ভ্যান আইক প্রমুখের কাজ। অনেক সময় এদের চাইতেও কম নামী ও অচেনা অজানা সৌখিন শিল্পীদের কাজও আমার বেশি ভালো লাগে। আমি রেনোয়াকে পূজা করি। ছবি আঁকার প্রতি তাঁর ভালোবাসা এত তীব্র ছিল যে তুলির প্রথম টান দেবার আগে তিনি শূন্য ক্যানভাসে চুমু খেতেন। আমি এটাকেই বলি ভালেবাসা! তাঁর আঁকা নারীচিত্রগুলো ছিল অত্যন্ত স্বাদু, যেন মাংসের জয়গান। আমি ভ্যান গঘকেও শ্রদ্ধা করি, যেমনটা করি বিখ্যাত চেলোবাদক পাবলো কাসালকে। তিনি একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন যিনি জানতেন ভালোবাসা কাকে বলে। নারীদের প্রতি তাঁর মনোভাৰ এত শ্রদ্ধাভরা ছিল যে তিনি একটি গরীব মেয়েকে বিয়ে করে বসেন যেন তার যত্নআত্তি করতে পারেন, যতটা না ভালোবাসা তার চেয়েও বেশি তার প্রতি দরদ ও উদ্বগের কারণে। তাঁর কাজে এক ধরনের আলোর উদ্ভাস লক্ষ্য করি আমরা যদিও তাঁর নিজের জীবন ছিল নানাকারণে একটি ট্র্যাজেডি বিশেষ। হিয়েরোনিমাস বশ্ সমস্ত শিল্পীর মধ্যে ছিলেন সবচেয়ে রাহসিক ধরনের। তাঁর কাজ তীব্র রকম উর্বর ও অত্যাশ্চর্য কল্পনার ফসল। তিনি তাঁর কল্পনা ও স্বপ্নের দানবীয় উপাদানসমূহ দ্বারা আচ্ছন্ন ছিলেন, আবার একইসঙ্গে তাঁর দানব ও দৈত্যরা দেবতার মত পাখা মেলতেও পারতো। তাঁর দৃষ্টি ছিল অদ্ভুত ও সুন্দর। বয়োজ্যেষ্ঠ ব্র্যুগেল কৃষকজীবনের ছবিগুলোতে তাঁর সময়ের আত্মাটিকে ধরতে পেরেছিলেন। তিনি তাঁর বাসনাময়তাকে বর্ণনা করেছেন। বাঁচা, কাজ করা, খাওয়া, পান করা, নাচা ও হুল্লোড় এটাই ছিল তাঁর ছবির মূল উপজীব্য। বিষয়ের প্রতি তুমুল উৎসাহ তাঁর পরিশীলন ও কৌশলের খামতিকে পুষিয়ে দেয়। আমার বিবেচনায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চিত্রকর্ম হচ্ছে বেলজিয়াম-এর ঘেন্ট শহরে রক্ষিত ভ্যান আইকের অ্যাডোরেশন অভ দ্য ল্যাম্ব। পৃথিবীর চোখে আমি হচ্ছি একজন অধার্মিক মানুষ আর আমি কিনা এই অতিধার্মিক একটি ছবির প্রেমে পড়েছি! এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন চিত্রটির ঠিক কোন বিষয়টা আমাকে এরকম আপ্লুত করে। হয়তবা এ ছবির ক্যানভাস থেকে যে অনুভূতিটুকু বিচ্ছুরিত হয় সেটা অপূর্ব…
মানবতার প্রথম দ্যাশ আফ্রিকা[...]
মানবতার প্রথম দ্যাশ আফ্রিকা, ডেসমন্ড টুটু, আজ আমাদের সবাইকে মানবতার দ্যাশের বাড়ি আফ্রিকায় স্বাগত জানালেন, বললেন, আমরা সবাই আফ্রিকান, হ্যাঁ সত্যিই, আমরা সবাই আফ্রিকান। ত্রাস ও আঘাতের জগত থেকে শান্তিতে, শান্তির দিকে, শান্তির কাছে আমাদের প্রত্যাগমন ঘটুক, শান্তি ও ভালবাসায় -- আমাদের অবস্থান দৃঢ় হোক : টুটু ও ম্যান্ডেলার আহবান আমাদের কাছে। বিশ্বকাপ। বিশ্বশান্তি। আমরা এখন দ্যাশের বাড়ি, আমরা সবাই আফ্রিকান। বিশ্বকাপ ২০১০, কিক-অফ কৃষ্ণ ত্রয়োদশী চট্টগ্রাম
আমি যখন পারী-তে থাকতাম তখন একদিন বিনা নোটিশে ব্লাইজ সেন্দ্রা এসে হাজির [...]
ব্লাইজ সেন্দ্রা আমি যখন পারী-তে থাকতাম তখন একদিন বিনা নোটিশে ব্লাইজ সেন্দ্রা এসে হাজির। "মঁসিয় সেন্দ্রা" এই বলে আমি তাঁকে অভ্যর্থনা করি। "না" তিনি মাথা নেড়ে বলেন "আপনার কছে মঁসিয় কক্ষনো নয়, স্রেফ সেন্দ্রা!" আমার জন্য এটা খুব সম্মানের বিষয় ছিল যখন তিনি একটা ফরাসি ম্যাগাজিনে ট্রপিক অফ ক্যান্সার বইখানার প্রথম আলোচনা লেখেন। এর শিরোনামটা আমার এখনো মনে আছে 'আন এক্রিভাঁ নুজ এ নে', 'আমাদের মাঝে এক লেখকের জন্ম হয়েছে।", যা আমাকে পৃথিবীর শিখরে তুলে দেয়। আমরা দুজনই দুজনের সম্পর্কে কিছু না কিছু লিখেছি। ফরাসি পাঠককে তাঁর অস্তিত্ব বিষয়ে সচেতন করার জন্য আমিও অংশত দায়ী। অদ্ভুত ব্যাপার, এই অসাধারণ লেখকের দুর্দান্ত বইগুলো ব্যাপকভাবে পঠিত হয় নি। তাঁর দেশবাসী তাঁকে কঠিন মানুষ বলে গণ্য করতো। আমি তাঁকে দেখিয়েছি একজন সংস্কৃতিবান মানুষ হিসাবে যদিও তিনি সাহিত্যকে ঘৃণা করতেন। তিনি ফরাসি সাহিত্যজগতের প্রতি ন্যূনতম আত্মীয়তা অনুভব করতেন না। তিনি ছিলেন একজন সম্পূর্ণ স্বশিক্ষিত মানুষ যিনি চোদ্দ পনেরো বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন বাড়ির মূল্যবান সামগ্রীসমূহের যতটা সম্ভব চুরি করে- রূপার বাসনকোসন, গয়নাগাঁটি, যা কিছু পকেটে ভরতে পেরেছিলেন। তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেছিলেন যে তিনি তাঁর পারিবারিক উত্তরাধিকার ভাণ্ডার লুট করে ভেগেছিলেন। বন্ধকির দোকানে সবকিছু বিক্রি করে তিনি যে টাকা পেয়েছিলেন তা দিয়ে ট্রান্স সাইবেরিয়ান-এর টিকিট কেটে তিনি সাইবেরিয়া থেকে বেজিং চলে গেলেন। বেজিং-এ নেমে তিনি একটা বড় হোটেলের বয়লার রুমে ফার্নেসে কয়লা ঠেলার কাজ নিলেন। অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের খাতিরে আর রোমাঞ্চের তাড়নায় তিনি নানারকম লোমহর্ষক কাজ করেছিলেন। প্রথম মহাযুদ্ধের সময় তিনি হাতে গুলির আঘাত লেগে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি নিজেকে আরো একগাদা রোগীর সঙ্গে মেঝেতে শায়িত দেখতে পান ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে। তিনি তখন উপলব্ধি করলেন তিনি নিজেই যদি নিজেকে সাহায্য না করেন তাহলে রক্তক্ষরণেই মারা যাবেন। তিনি কোনমতে উঠে দাঁড়িয়ে কোমরবন্ধ থেকে পিস্তলখানি বার করে সোজা অপারেশন রুমে চলে যান। অপারেশনরত ডাক্তারের কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে তিনি বলেন "ঠিক আছে, এর পরেই আমি, তা না হলে আপনি জানে বাঁচবেন না।" তিনি জানতেন তাঁকে প্রাণে বাঁচতে হলে এরকম সাংঘাতিক কিছু একটাই করতে হবে, যদিও ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছিল কেন না তাঁর…
গত ৩০ মে 'আমাদের সময়' পত্রিকায় একটি অদ্ভুত খবর প্রকাশিত হয়েছে। এও কি সম্ভব যে সরকারের আইন বিষয়ক 'বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টাগণ' ১৯৭৩ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রণীত মূল ইনডেমনিটি আইনটির অস্তিত্বের ব্যাপারে অবগত নন? বিশ্বাস করা কঠিন, কিন্তু কিছুই অসম্ভব না। নাকি এই আইনটির উদ্দেশ্য হল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নতুন এক শ্রেনীর ব্যক্তিবর্গকে দায়মুক্তি প্রদান?
গত ৩০ মে আমাদের সময় পত্রিকায় একটি অদ্ভুত খবর প্রকাশিত হয়েছে (মিডিয়া আর্কাইভে আপলোডকৃত)। খবরে প্রকাশ, আইন বিচার এবং সংসদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটি একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে যার লক্ষ্য হবে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা সংঘটিত সব ফৌজদারী অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি। শুধু মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বা প্রয়োজনে সংঘটিত অপরাধগুলোই এই দায়মুক্তির আওতায় পড়বে। পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী: প্রায় ৪০ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অপরাধের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধকালীন সম্মুখ সমরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কিংবা এদেশীয় রাজাকারদের হত্যা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়াসহ যেসব অনিবার্য কাজ করতে হয়েছে এবং প্রচলিত আইনে যা অপরাধ তার দায় থেকে মুক্তি দিয়ে এ আইন প্রণীত হবে। জাতীয় সংসদের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ আইনসহ সংবিধানের বিভিন্ন বিধান কার্যকর করতে আরও প্রায় চল্লিশটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আইন কমিশনকে এসব আইনের খসড়া তৈরি করে সংসদীয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। আইন কমিশন ইতিমধ্যেই এসব আইনের খসড়া তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয়নি বলেই জামায়াত এখন ওই সময়ের কর্মকা ের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার চাওয়ার সাহস দেখায়। এ আইন অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। রিপোর্টটিতে দেখা যাচ্ছে আইন কমিশনও ইতোমধ্যেই এই নতুন ইনডেমনিটি আইনটির খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। প্রকাশিত খবরটি যে কারণে অদ্ভুত তা হল, আজ থেকে প্রায় ৩৭ বছর আগেই এই সুনির্দিষ্ট বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একটি আইন প্রণীত হয়েছিল, যা এখনো বলবত। আইনটির নাম: The Bangladesh National Liberation Struggle (Indemnity) Order 1973 (P.O. No. 16 of 1973)। ১৯৭৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী তারিখে প্রণীত এই আইনটিকে ১ মার্চ ১৯৭১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ পর্যন্ত পুরো সময়টির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য করা হয়েছে। সবার সুবিধার্থে ১৯৭৩ সালের সংক্ষিপ্ত এই আইনটির পুরোটাই এখানে উদ্ধৃত হল: WHEREAS it is expedient to provide for indemnity to persons in the service of the Republic and to other persons in respect of act done in connection with the national liberation struggle, the maintenance or restoration of order; NOW, THEREFORE, in…
