বিএনপির গায়ের জোর, মা চোর ছেলে চোর। ২০০১-২০০৬ সময়কালের বিএনপিকে নিয়ে যদি এমন কথা বলি, তবে ২০০৭-২০০৮ সময়কালের বিএনপির জন্য বলতে হয় — বিএনপির ধানের শীষ, জিয়াউর রহমানের দিন শেষ। কিন্তু ভোট বিএনপির অনেক, এই ভোট পেতে বিএনপির হয়তো সামনেও কোনো অসুবিধা হবে না। তাহলে বিএনপি কি রাজপথে নেমে এই সরকার ফেলে দিতে পারবে ২০১৪-এর আগে, না কি বিএনপি ২০১৪-এর নির্বাচন জিতে আবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে পারবে? কিন্তু রাজপথে নামতে কি পারবে বিএনপি, দলটাকে গুছাতে কি পারবে বিএনপি? আমার মনে হয় না। আমার মনে হয় হাজার চেষ্টা করেও আর বিএনপি তার হারানো জায়গায় ফিরে আসতে পারবে না। কিছু অতি কাল্পনিক ঘটনা যদি ঘটে যায়। -- খালেদা জিয়া নিজেই সেনানিবাস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। -- জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা অবৈধ ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। -- জিয়া হত্যার বিচার চাই রাজপথে মিছিল করে বিএনপি। -- ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে কালিমালিপ্ত করেছে জিয়াউর রহমান, আমি আর তার আদর্শে বিশ্বাসী নই খালেদা জিয়া এ মর্মে পত্রিকায় বিবৃতি দিলেন। জিয়াউর রহমানের সাথে মৃত্যুপর বিবাহবিচ্ছেদ মামলা নথিবদ্ধ করেন খালেদা জিয়া। -- তারেক কোকো আর আমার সন্তান নয়। শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ নতুন একটি টিম নিয়ে সরকার ও দল চালাচ্ছেন। ব্যর্থতা-সফলতা সৃষ্টিশীল মানুষেরই দুটি অনিবার্য অবস্থান। তাই শেখ হাসিনার এই কাজ আগ্রহ উদ্দীপক। খালেদা জিয়া এক অমোঘ বন্ধনে শেখ হাসিনার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন, চারিদিকের মানুষ তাদের জড়িয়ে রেখেছেন। কাজেই এবার খালেদা জিয়ার কিছু করার পালা। এই কাল্পনিক পঞ্চশীল গ্রহণ করে যদি নতুন দলের নামকরণ তাকে বিএনপি (খালেদা) করতেও হয়, তাই তার করা উচিত। আর এই কাল্পনিক পন্থা গৃহীত না হয়ে, বিএনপি যদি আগের মতোই চলে, তবে একটি উগ্র জাতীয়তাবাদী দলের ভাগ্যে ভবিষ্যতে যা ঘটবে, তার ঘোষিত মৃত্যুর ক্রমপঞ্জি লেখা হচ্ছে কোথাও, যা পরবর্তীতে একে একে গোচরে আসবে আমাদের।
হবি কমিউনিস্ট, ইউরোপে আজকাল অনেক বামপন্থীকে, এনামেই ডাকে অনেকে। এরা কী করেন? সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, নানা রকম ফোরাম, মানবন্ধন, এসব অপেক্ষাকৃত ‘সাদাকলার’ কার্যক্রমের সাথেই এদের যত যোগসাজশ। কী আছে এদের? স্টাইল, এক অসাধারণ বামপন্থী জীবনযাপনের লাইফস্টাইল আয়ত্বে আছে এদের, আছে নিশ্চিত জীবিকা এবং পার্টিকে দেয়ার মতো অপর্যাপ্ত সময়, আর এক যাযাবরপ্রথা — বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের সহজলভ্যতার যুগে একে ব্যবহারে খুবই সচেতন এরা। এই হবি কমিউনিস্টরা শিল্পোন্নত ইউরোপীয় দেশগুলোর সোসালিস্ট ও কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে উঠেছে এখন। ইউরোপে মধ্য-বাম রাজনীতি বা সোসালিস্ট রাজনীতির অবসান হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন, এবং ইউরোপীয় রাজনীতির প্রধান তিন দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিতে এবং আরো বড় পরিসর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে সোসালিস্ট দলগুলোর ভরাডুবি এই আশঙ্কাকে অনেকটুকু বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। আর ইউরোপের বাম রাজনীতির এই দুরাবস্থার অনেকগুলো কারণের মধ্যে দলের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে হবি কমিউনিস্টদের প্রাদুর্ভাবকেও অনেকে দায়ী করছেন। লাতিন আমেরিকা ও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে হবি কমিউনিস্টদের প্রাদুর্ভাব না হলেও এখানে যে এদের অস্তিত্ব নেই তা ঠিক নয়। আমাদের দেশেও বাম রাজনৈতিক দলগুলোতে এরকম অনেক সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা আছেন যাদেরকে সহজেই হবি কমিউনিস্ট ডাকা যেতে পারে।
আমার ছেলে এটা মোটেই ঠিক কাজ করেনি, তারেক জিয়ার সাথে তার পার্থক্যের উত্তরে শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা তুলে সে ঠিক কাজ করেনি, আমাকে খালেদা জিয়ার সাথে তুলনা করতে সারা পৃথিবী যেভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং এখনো যে ব্যস্ততার কোনো শেষ নেই — কই, আমি তো কোনোদিন সে তুলনার উত্তরে শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা তুলিনি। তুলিনি কারণ এ তো সবাই দেখতে পায়, একথা বলে যার শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই তার কোনো ক্ষতি হয় না, ক্ষতিটা হয় যার সেটা আছে। ওবামা জ্ঞানী মানুষ, বুশ, সারাপৃথিবী জানে ছিলেন আমেরিকার সবচেয়ে স্টুপিড প্রেসিডেন্ট। কিন্তু সেই জ্ঞানী মানুষ দিয়ে এখনো তো তেমন কিছু হল না, আগের বুশের বাহিনী ও তার ঘটানো সব কার্যকলাপের রিপেয়ারিং করেই যদি তার জীবন কাটে, তার এই জ্ঞান শুধু সুন্দর করে কথা বলার কাজেই যদি ব্যয় হয়, তাহলে পৃথিবীর কোন কাজটাই বা এগোবে। এবারের জলবায়ু সম্মেলনেও তাই হল, সেই পুরনো সব কথা, উষ্ণায়ন কমানো হবে, কমাতেই হবে। কিন্তু আমার দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে যেখানে ১০৫২ জন লোকের বসবাস, সেখানে উষ্ণায়নের থাবায় শুধু একশ বর্গকিলোমিটার সাগরের পেটে গেলেই আমার দেশের এক লাখ লোক হবে শরণার্থী, আমি একটি তলানির দেশের প্রধানমন্ত্রী, আমি তো এখনো আমার নিজের দেশের ওপর সমুদ্রের এই আগ্রাসন নিয়ে গবেষণার করবার জন্য একটা মাল্টিডিসিপ্লিনারি পরিষদই গঠন করতে পারলাম না, আর এটা করা ছাড়া আমি বা আমার দেশের সরকার তার যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় ও প্রতিকারের কী ব্যবস্থা করবে? কিন্তু জাতিসংঘ বলছে, তেমন দেশের গবেষণার জন্যই তো আমরা আছি, আমরা চলে আসব, ফান্ড আসবে, আর ফান্ডের খরচ করাটাই হবে আমাদের কাজ, আপনি শুধু ভাউচারে স্বাক্ষর করার লোক তৈরি রাখুন, তাদের কে কত পাবে, আপনার কত লাগবে এসব ঠিক করে রাখুন। আপনাদের ইচ্ছাপত্রের সাথে আমাদের ইচ্ছাপত্র মিলিয়ে আমরা কাজ শুরু করে দেব। হ্যাঁ, সবকিছু সেভাবেই হবে — কিন্তু দুর্নীতির দায়ে আমাদের ইচ্ছাপত্রগুলোই শুধু প্রকাশিত হবে, তাদেরগুলো নয়। আমার বাবার একটা কথা সবসময় শোনা যায়, চাটার দল, কিন্তু এরা এখন আর শুধু চাটে না, এরা এখন খায়, আমার চারপাশে এখন জমিখোর, নদীখোর, শেয়ারখোর, খাদ্যখোরের আড্ডা। বাংলাদেশে এখন একটা কথা উঠেছে উন্নয়নভাবনার সাথে জলবায়ুর ভাবনাও ভাবতে হবে। আমার…
রমাদান করিম মুবারাক। হিলারির মুখে এই রমজানের শুভেচ্ছা, যা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধিবাসীরা রোজার সময় একজন আরেক জনকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য বলেন, শুধু এটুকু শুনতে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আটলান্টিক উপকূলে পাড়ি জমালেন? মুসলিম এলিটরা এবং তাদের দেখাদেখি মুসলিম এলিটদের হাতে রাখতে চায় এমন সব রাজনৈতিক ব্যবসায়িক শক্তির কাছে ‘ইফতার পার্টি’ এক ভয়ংকর মার্কেটিং টুল-এ পরিণত হয়েছে। সেই ইফতার পার্টির দাওয়াতে স্বাভাবিকভাবেই গদগদ হয়ে আমেরিকা উপস্থিত হয়ে ছিলেন দীপু মনি, আশা ছিল এমন কোনো আশার আলো নিয়ে ফিরবেন, আর তা তুলে দেবেন তার নেত্রীর হাতে, যিনি ইদের পরে যাচ্ছেন আমেরিকায়, তিনি কি যাচ্ছেন ওবামার ইদ পুনর্মিলনী উৎসবে যোগ দিতে? জানি না, আমেরিকা এখন যে রকম মুসলিম বান্ধব হয়ে উঠছে, তাতে এরকম অনুষ্ঠান আয়োজনের গুজব হয়তো মোটেই ভিত্তিহীন নয়। দীপু মনিকে হিলারি কী দিলেন? ‘টিফা’, হ্যাঁ বাংলাদেশ নিয়ে আমেরিকা এর চেয়ে বেশি, আগেও ভাবেনি, এখনো ভাবে না। হ্যাঁ, ইফতার পার্টিতে যা কিছু মনে হয়েছিল গভীর, হিলারিকে মনে হয়েছিল, যেন তিনি মুসলিম, ফিৎরায় (সাহায্য) ভরে দেবেন উপস্থিত সব মুসলিম এলিটকে, যে এসেছে তার কাছে যা চাইতে, কিন্তু সেই অতলান্তিক ইফতার থেকে বেরিয়ে চারিদিক শূন্য দেখলেন দীপু মনি, মনে হল আর জীবনেও এমন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না, এই অনুষ্ঠানগুলো মন দুর্বল করে দেয়, মনে হয় সব দেবে এরা—আমরা যা চাই, মনে হয় নিঃশর্তেই দেবে, যেমন নামাজের মোনাজাতে অনেকের মনে হয়, কিন্তু রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে, পরীক্ষার আগের রাতের মতোই সবকিছু কঠিন মনে হয়। কী যে বলব দেশে গিয়ে, হিলারির সাথে সংবাদ সম্মেলনের পর, মনে হল ইফতার পার্টি থেকে কত ভিন্ন এই মানুষটি, আর আমি তখনও অতলান্তিক ইফতার পার্টিতে, তাকিয়ে আছি, কখন আসবে ফিৎরার ঘোষণা, শুধু ‘টিফা’ আমার আর ভালো লাগে না।
তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ, বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে। কেন এই হরতাল, এবং ইদের পুজোর লম্বা ছুটির আগে যে সপ্তাহটি শেষ পূর্ণ কর্মসপ্তাহ তার দ্বিতীয়দিনের অর্ধেক হরতালের মতো বহুপরীক্ষিত স্বতঃস্ফূর্ততাহীন কর্মসূচী দিতে জাতীয় কমিটিকে কারা প্ররোচিত করেছে? আমরা প্ররোচনাকারীদের মধ্যে যাদের নাম দেখতে পাচ্ছি তারা হল: বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, গণসংহতি আন্দোলনসহ কয়েকটি বামন রাজনৈতিক সংগঠন। কী এদের জনভিত্তি যে জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনকে হরতালের মতো একটি নষ্ট কর্মসূচী দিয়ে জনগণের কাছে হাসির পাত্র হচ্ছেন? অবশ্য উল্লেখিত প্রত্যেকটি বামন রাজনৈতিক দলের শিষ্যনেতৃত্ব এমনই হাস্যকর তাদের কাছ থেকে এরচেয়ে বেশি কিছু আশা করাই ভুল হবে। আমাদের আশা সরকারের দিকে হরতালের মতো একটা জনক্ষতিকর ব্যয়বহুল পঁচাডিম ছোঁড়ার এই সিদ্ধান্ত থেকে আপনারা সরে আসুন, অন্তত এই বামন সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদলের কাছে আহ্বান: আপনাদের হাস্যকর শীর্ষনেতৃত্বকে একটু সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চাপপ্রয়োগ করুন, আন্দোলনে থাকুন কিন্তু হরতাল পরিহার করুন। আর রাজনীতি করতে হলে মানুষের মনোভাবটা বুঝতে হয় সবার আগে, আপনাদের আগে আপনাদের দৃষ্টিতে বুর্জোয়া জুটি চোরডাকাত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যেরকম সর্দিকাশির মতো হরতাল করে গণআন্দোলনের এই মানবিক অস্ত্রটিকে পুরোপুরি ধারহীন করে গেছেন—তারাও ইদের আগের সপ্তাহে এরকম হরতাল ডাকতেন না, আর আপনারা মানুষের মনোভাবের পুরো বিপরীতে যে হরতাল ডাকলেন—এতে আপনাদের বিপ্লবী রাজনীতি আরো একবার প্রমাণ করল, যে কথা শুনলে ঘোড়াও হাসবে সেধরনের কথার প্রতি আপনাদের রক্তের প্রবল টানে হয়তো কোনোদিনই ভাটা পড়বে না।
