১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাদের মোল্লার রায় শুনতে শুনতে মনে হয়েছিল, এর চেয়ে বড় সংবাদ আর কী-ইবা হতে পারে; কিন্তু দিনের শেষে এসে দেখলাম, তার চেয়েও বড় সংবাদ হলো, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে এ দেশের নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে দেয়া গণসংবর্ধনা ও সেখানে প্রদত্ত বক্তৃতাসমূহ।...

১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাদের মোল্লার রায় শুনতে শুনতে মনে হয়েছিল, এর চেয়ে বড় সংবাদ আর কী-ইবা হতে পারে; কিন্তু দিনের শেষে এসে দেখলাম, তার চেয়েও বড় সংবাদ হলো, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে এ দেশের নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে দেয়া গণসংবর্ধনা ও সেখানে প্রদত্ত বক্তৃতাসমূহ। মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদ নামের এ সংগঠনটি এমন একটি সংগঠন, ড. ইউনূসের চারপাশে সমবেত মুক্তিযোদ্ধারা এমন সব মুক্তিযোদ্ধা, সকালে কাদের মোল্লার ফাসির সংবাদ শোনার পরও যাদের চোখেমুখে কোনও উচ্ছ্বাস জমে না, যারা একবারও শ্লোগান দিয়ে যুদ্ধাপরাধী বিচারের প্রত্যয় ঘোষণা করে না এবং যাদের আয়োজিত গণসংবর্ধনার অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে ‘প্রধানমন্ত্রীর মানসিক সুস্থতার জন্যে ডক্টর ও ডাক্তার সাহেবদের দোয়া মাহফিল’! গত ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল এমন একটি দিন, যেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠানে বা কোনও আলোচনা সভায় ঘুরেফিরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একজন যুদ্ধাপরাধীর আন্তর্জাতিক অপরাধের চূড়ান্ত বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ার এবং সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া স্বস্তির কথা উচ্চারিত হওয়ার কথা। কিন্তু ড. ইউনূস থেকে শুরু করে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিটি বক্তা ও প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাই সে কথা ভুলে বসে ছিলেন। যেদিনটিতে ওই গণসংবর্ধনা দেয়া হয়েছে সেদিনটি আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ-১৯৬২ সালের ওই দিনটিতে গণবিরোধী শরীফ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্ররা রক্ত দিয়েছিল। কাদের মোল্লার মতো যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি পাওয়ার বিষয়টি যাদের কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে, শিক্ষা দিবসের কথাও যে তারা ভুলে থাকবেন, সেটিই স্বাভাবিক। অতীত যাদের কাছে টিস্যু পেপারের মতো বর্জ্য পদার্থ, তাদের দিয়ে বাণিজ্য ভালো জমতে পারে, কিন্তু মানুষের, রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি হতে পারে না। তা হলে কী আলোচনা হয়েছে এ অনুষ্ঠানে? সে প্রসঙ্গে যাওয়ার একবার দেখে নেয়া যাক, কারা এ অনুষ্ঠানে ছিলেন বা বক্তৃতা রেখেছেন। এ অনুষ্ঠানে ছিলেন ১. ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২. ড. কামাল হোসেন ৩. ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ৪. ড. আসিফ নজরুল ৫. শমসের মবিন চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আইন উদ্দিন (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল) বীর প্রতীক, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, সংগঠনের মহাসচিব সাদেক খান প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আর যেতে…

ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস (আইসিজে) নামের একটি বেশ ডাকসাইটে পুরোনো সংগঠনও তাদের বিবৃতি দিয়েছে অবশেষে। 'মিরপুরের কসাই' কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডাদেশে তারা ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। বলেছে এই রায় এবং শাস্তি নাকি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এই সংগঠনটিই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ১৯৭২ সালে The Events in East Pakistan, 1971, A Legal Study নামে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিশাল রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। আসুন এই সংগঠনটিকে একটু চিনি।

ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস (আইসিজে) নামের একটি বেশ ডাকসাইটে পুরোনো সংগঠনও তাদের বিবৃতি দিয়েছে অবশেষে (লিন্ক: http://bit.ly/19ls9Dk)। 'মিরপুরের কসাই' কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডাদেশে তারা ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। বলেছে এই রায় এবং শাস্তি নাকি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। বক্তব্যের পক্ষে জাতিসংঘের একটি দলিলের রেফারেন্সও তারা দিয়েছে, বাংলাদেশ যেটির পক্ষ। বলার অপেক্ষা রাখে না -- রেফারেন্সটি ভুল, সেখানে যে বিধানটির উল্লেখ করা হয়েছে সেটির ব্যাখ্যাও ভুল। কেন এবং কিভাবে ভুল সে আলোচনায় এখন যাচ্ছি না, কারণ সে বিষয়ে একটি পৃথক লেখা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে শীঘ্রই। বরং আসুন এই সংগঠনটিকে একটু চিনি। আইসিজে নামের এই সংগঠনটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ১৯৭২ সালে একটি বিশাল রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। শিরোনাম ছিল: The Events in East Pakistan, 1971, A Legal Study। বুঝে না বুঝে, কিংবা ভালভাবে না পড়েই অনেককে দেখেছি এই রিপোর্টটিকেই মহার্ঘ্য কিছু একটা বলে ধরে নিতে। এক পর্যায়ে তো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতৃস্থানীয় মানুষদের মধ্যেই উক্ত রিপোর্টটি নিয়ে বিভ্রান্তি এমনই এক পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে মুক্তিযুদ্ধের বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা প্রদানের সরকারের যে উদ্যোগ সেখানকার তালিকাতেও কিভাবে কারা যেন আইসিজে-র নামটিও ঢুকিয়ে দিয়েছিল -- বন্ধু সংগঠন হিসেবে! বিষয়টি তখন জানতে পারার সাথে সাথেই আইসিএসএফ (International Crimes Strategy Forum) এর পক্ষ থেকে একটি জরুরী মেমো লিখে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সবার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল (মেমোটি এই লিন্ক থেকে পড়ে নেয়া যাবে: bit.ly/hFAcrS। সময়োচিত সে পদক্ষেপের ফলে একটা বড়ো ধরণের বিব্রতকর ঘটনা এড়ানো গিয়েছিল সে যাত্রায়। যা বলছিলাম। আইসিজে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সেই ১৯৭২ সালেই তাদের রিপোর্টে কি বলেছিল জানতে চান? তাহলে শুনুন, অনেকগুলোর মধ্যে মাত্র অল্প কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি: (১) ইতিহাস বিকৃতি : ১৯৭১-এ গণহত্যার কথা আইসিজে স্বীকার করেছে ঠিকই, কিন্তু পাকবাহিনীর সুপরিকল্পিত বাঙালী নিধনযজ্ঞের সাথে বিচ্ছিন্ন আকারে ঘটিত বিহারীদের হত্যার পার্থক্য করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল আইসিজে। মুক্তিযোদ্ধাদের এবং সেইসাথে মুজিবনগর সরকারকেও একরকম দায়ী করে বসেছিল এই সংগঠনটি। আইসিজে-র ভাষায় -- দু'পক্ষই অপরাধ করেছে। (২) আন্তর্জাতিক আইনের অপব্যাখ্যা: ঠিক এখনকার মতোই তখনও তারা ঝোলা থেকে বের করেছিল আন্তর্জাতিক আইনের কিছু বিধান। আর সে সব বিধানকে কেন্দ্র করে ফতোয়া দিয়েছিল - আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার আওয়ামী…

বইটি পড়ে ইস্তক শৈশবে বিচরণ করছি । দক্ষিণের বারান্দা । লেখক, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতি, মোহনলাল গঙ্গোপাদ্যায় । একজন আত্মীয়াকে দিয়েছিলাম পড়তে, বললেন, শিশুদের জন্যে লেখা মনে হলো । একটু অবাক হলাম । শৈশবের কথা লিখলেই সেটা কি শিশুদের? নাকি আমরা বুড়ো হয়ে শৈশবে ফিরতে ভুলে গেছি! অবনীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচয় সকলকার মত, ক্ষীরের পুতুল, বুড়ো আংলা, রাজকাহিনী বা নালক পড়ে, ছোট বয়েসেই । আমার বুড়ো প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ আমাকে মার্জনা করুন, কিন্তু অবনীন্দ্রনাথের হাতে বাংলা কিশোর-সাহিত্যের শতদল সম্পূর্ণ বিকশিত হয়েছে বলে মনে হয় | কিশোরদের মন ধরতে তিনি বেশি সক্ষম, অন্য তত্কালীন লেখকের চেয়ে । তারপর আরো লেখক এসে তুলি ধরেছেন, শব্দ দিয়ে ছবি এঁকেছেন, তবে গোড়ার কাজটা অনেকটাই তাঁর। ভাষার স্বচ্ছতা, সাম্পান-ঋজুতা, মিষ্টি স্বকীয়তা, বৈঠকী ইনফরমাল চাল, শব্দ দিয়ে ছবি আঁকা, এই সব নিয়ে কৈশোরক স্রোতস্বিনী থেকে সর্বহৃদয়-গ্রাহ্য সমুদ্রে পৌঁছেছেন অবন ঠাকুর । তাঁর সেই প্রিয় পাঁচ নম্বর বাড়ি, (জোড়াসাঁকোর পাশের বাড়ি) তাঁর জীবন নিয়ে কৌতুহল ছিল খুব । বইটি anecdotes এ ভরা, কিন্তু তার ভেতর থেকে সম্পূর্ণ মানুষটাকে চোখের সামনে পেতে একটুও অসুবিধে হয় না । স্মৃতিমেদুর বাড়িটি তাঁদের, যেদিন বিক্রি করে দিয়ে চলে যেতে হলো, সেইদিন সেই ঘটনায় অনুরণিত হয়ে নাতি মোহনলাল তার গভীর ও অমূল্য স্মৃতির খনি থেকে তাঁর শৈশব কৈশোর ও প্রথম তারুণ্য বিজড়িত সেই বাড়িটি, এবং বাড়িতে যাঁরা ছিলেন সেই তিন ভাই - অবনীন্দ্র, সমরেন্দ্র ও গগনেন্দ্রর স্মৃতিময় খনিজ উদ্ধার করেছেন । রীতিমত ঝরঝরে স্ফটিক-গদ্যে । শৈশবে কি কি করেছিলেন, তাই শুধু দেখা হয় না, শৈশব বিকশিত হতে হলে কেমন মানুষের দরকার আশেপাশে, তারও একটা ছোটখাটো দৃষ্টান্ত বোধ হয় পাওয়া যায়। অবনীন্দ্রনাথ যে অবনীন্দ্রনাথ, এ কথা ভুলে গিয়েই পাঠকের বেশি আনন্দ; নাতির সঙ্গে 'স্বপ্ন-মোড়কে' স্বপ্ন লিখে হাতেলেখা একটি পত্রিকা চালু করতে উত্সাহ দিচ্ছেন, নিজে লিখছেন, পাথর কোড়াচ্ছেন, যাত্রা পালা লিখছেন, যাত্রায় সবাইকে ঢুকিয়ে নিয়ে উত্সাহ দিচ্ছেন, বাগানে জাপানি মালিকে দিয়ে বনসাই করাচ্ছেন, ভাঙ্গা পাথরবাটি দিয়ে চমত্কার ভাস্কর্য বানিয়ে ফেলছেন, আরব্য রজনীর গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে ছবি আঁকছেন, বাগানে বিদেশী পাখি আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করছেন, তাদের ছেড়ে দিচ্ছেন -- যেন তারা পাঁচ নম্বরের বাগান আলো করে থাকে, লবন…

না হলে ক্রিয়া থাকবে পদ থাকবে না [...]

আমার এক পঞ্চাশোর্ধ বন্ধু কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের পর সুশীলদের বাতচিত নেই কেন বলাতে তিনি বললেন, সুশীল = কোথায় গেল আমি বললাম এই তো বিপদে ফেললেন এখন তাহলে গানটা কিভাবে গাইব > আমার জীবনের এত হাসি, এত খুশি সুশীল? এভাবে? তিনি বললেন বাংলার তো কিছুই জান না দেখছি, বাংলার ক্রিয়াপদ চলে জুড়ে জুড়ে, হড়কালে কেন? গাইতে হবে > আমার জীবনের এত হাসি, এত খুশি সুশীল হল [কোথায় গেল হল] ?! তিনি বললেন তোমরা কেমন যেন ভয় পাও, বাংলা ক্রিয়াপদ বোঝ না, সুশীলরাও বোঝে না, ওদের মতো হয়ো না, জুড়ে জুড়ে চল, না হলে ক্রিয়া থাকবে পদ থাকবে না।

অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাত্কার শুনছিলাম । সম্প্রতি তাঁর 'এম্পায়ার ট্রিলজি' উপন্যাসের প্রথমটি পড়েছি । অমিতাভ ঘোষের সঙ্গে পাঠক হিসেবে আমাদের পরিচয় বেশ কিছু দিনের, আর নির্দ্বিধায় বুঝতে পারি, এই বইটি আমাদের এই লেখককে আবার নতুন করে চিনতে, শ্রদ্ধা করতে শেখায় । এমন কি লেখকের বিপুল প্রতিভার উপযুক্ত আধার যেন এই বই-এর 'প্যানোরমিক' ক্যানভাসে পাই। ইতিহাসের পাতা খুলে যায় তাঁর লেখায় | ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি অজানা, অদেখা, অলব্ধ ছবি চোখের সামনে খাপ খুলে উপস্থিত হয় । বিষয়টি বেশ ছড়ানো । আইবিস -- একটি ব্রিটিশ বেনিয়া জাহাজ ; এর গতিপথ ধরে, বিচিত্র মানুষের জীবনের জঙ্গমতা জড়িয়ে, উত্তুঙ্গ জীবনের তাপে, চাপে, ভঙ্গুরতায়, এক চলমান, বিস্ফারিত চালচিত্র । যার সুতো ধরে রাখে ভারতকে ব্যবহার করে, ব্রিটিশদের ঊনবিংশ শতকের আফিম ও শ্রম ব্যবসা । আইবিস কে কেন্দ্র করে লিখিত এই উপন্যাসে তিনটি ভাগ দেখা যায় - ১) স্থলে ২) নদীপথে এবং ৩) সমুদ্রে । মূল বিষয়টি যদিও নাম থেকেই আমরা আগে জেনে নিয়েছি; অষ্টাদশ শতাব্দীতে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বদৌলতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তার পায় -- এবং খুব দ্রুত, চীনে আফিম ব্যবসা শুরু করে। ভারতেই শুরু হয় সেই আফিম চাষ । এই আফিমের মুনাফা তত্কালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ১৫% বা তার বেশি ছিল -- উপন্যাসের বাইরেও এই সম্পর্কে যত্সামান্য পড়াশুনো করেই তা বুঝতে পারা যায় । বিষয়টি যেহেতু ইতিহাস-পাঠ্যপুস্তকে কখনো উঠে আসেনি, অমিতাভ ঘোষ ব্যাপারটিকে (তাঁর অন্যান্য বই এর মতই) গভীর ও উপর্যুপরি অনুসন্ধান করে তুলে এনেছেন কঠিন বাস্তবের রেখায় । আফিমের এই ব্যবসায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যে লাভ করছিল, তা একক ভাবে আর অন্য কোনো ব্যবসা থেকে করতে পারেনি । বিনিময়ে তারা চীনের রেশম, রুপো, আর চা আমদানী করছিল । কিন্তু এই অবাধ মুনাফায় বাধ সাধছিলো চীন - বলা উচিত সাধারণ মানুষ । নেশা হিসেবে এই ভয়ংকর জিনিসটির আমদানী কিন্তু স্বয়ং ব্রিটেনে খুব সন্তর্পনে, খেয়ালের সঙ্গে, সীমাবদ্ধতা রেখে করা হত। কিন্তু উপমহাদেশে আফিমের ব্যবহার ও প্রচার ছিল অবাধ। ওষুধ হিসেবে বা চিকিত্সা শাস্ত্রের বাইরে এর ব্যবহার সাধারণ মানুষের চেতনার ওপর এক ভয়াল থাবার মত এসে পড়েছিল। আফিম শ্রমিকদের জীবন ছিল দুর্বিষহ। গল্পে এক জায়গায় এই কারখানার যুতসই বর্ণনা…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.