১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাদের মোল্লার রায় শুনতে শুনতে মনে হয়েছিল, এর চেয়ে বড় সংবাদ আর কী-ইবা হতে পারে; কিন্তু দিনের শেষে এসে দেখলাম, তার চেয়েও বড় সংবাদ হলো, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে এ দেশের নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে দেয়া গণসংবর্ধনা ও সেখানে প্রদত্ত বক্তৃতাসমূহ।...

১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাদের মোল্লার রায় শুনতে শুনতে মনে হয়েছিল, এর চেয়ে বড় সংবাদ আর কী-ইবা হতে পারে; কিন্তু দিনের শেষে এসে দেখলাম, তার চেয়েও বড় সংবাদ হলো, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে এ দেশের নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে দেয়া গণসংবর্ধনা ও সেখানে প্রদত্ত বক্তৃতাসমূহ।
মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদ নামের এ সংগঠনটি এমন একটি সংগঠন, ড. ইউনূসের চারপাশে সমবেত মুক্তিযোদ্ধারা এমন সব মুক্তিযোদ্ধা, সকালে কাদের মোল্লার ফাসির সংবাদ শোনার পরও যাদের চোখেমুখে কোনও উচ্ছ্বাস জমে না, যারা একবারও শ্লোগান দিয়ে যুদ্ধাপরাধী বিচারের প্রত্যয় ঘোষণা করে না এবং যাদের আয়োজিত গণসংবর্ধনার অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে ‘প্রধানমন্ত্রীর মানসিক সুস্থতার জন্যে ডক্টর ও ডাক্তার সাহেবদের দোয়া মাহফিল’! গত ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল এমন একটি দিন, যেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠানে বা কোনও আলোচনা সভায় ঘুরেফিরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একজন যুদ্ধাপরাধীর আন্তর্জাতিক অপরাধের চূড়ান্ত বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ার এবং সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া স্বস্তির কথা উচ্চারিত হওয়ার কথা। কিন্তু ড. ইউনূস থেকে শুরু করে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিটি বক্তা ও প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাই সে কথা ভুলে বসে ছিলেন। যেদিনটিতে ওই গণসংবর্ধনা দেয়া হয়েছে সেদিনটি আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ-১৯৬২ সালের ওই দিনটিতে গণবিরোধী শরীফ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্ররা রক্ত দিয়েছিল। কাদের মোল্লার মতো যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি পাওয়ার বিষয়টি যাদের কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে, শিক্ষা দিবসের কথাও যে তারা ভুলে থাকবেন, সেটিই স্বাভাবিক। অতীত যাদের কাছে টিস্যু পেপারের মতো বর্জ্য পদার্থ, তাদের দিয়ে বাণিজ্য ভালো জমতে পারে, কিন্তু মানুষের, রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি হতে পারে না।
তা হলে কী আলোচনা হয়েছে এ অনুষ্ঠানে? সে প্রসঙ্গে যাওয়ার একবার দেখে নেয়া যাক, কারা এ অনুষ্ঠানে ছিলেন বা বক্তৃতা রেখেছেন। এ অনুষ্ঠানে ছিলেন
১. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
২. ড. কামাল হোসেন
৩. ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
৪. ড. আসিফ নজরুল
৫. শমসের মবিন চৌধুরী
মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আইন উদ্দিন (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল) বীর প্রতীক, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, সংগঠনের মহাসচিব সাদেক খান প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আর যেতে পারেননি। তিনি থাকলে এ ‘দোয়া মাহফিল’ হয়তো আরও খানিকক্ষণ দীর্ঘায়িত হতে পারত।
না, কাদের মোল্লার বিচার বা যুদ্ধাপরাধীর বিচার নয়, এই সমাবেশে ড. ইউনূস ও তার স্তাবকেরা বার বার নিজেদের অতৃপ্তির কথাই তুলে ধরেছেন। ড. ইউনূস থেকে শুরু করে সবাই যুদ্ধাপরাধী বিচারের প্রসঙ্গে নীরবতা দেখিয়েছেন, সরব ছিলেন ‘মানী লোকের মান রাখার’ প্রশ্নে- সরকার ড. ইউনূস-এর মতো গুণীর সম্মান দিতে পারেনি তো কী হয়েছে? ড. কামালের মতো অব্যবহৃত রাজনীতিক তো আছেন! তেনারা সরকারের চেয়েও ‘গ্রহণযোগ্য’ শক্তি! ড. ইউনূসের বিশ্বস্ত ভাবমূর্তি রক্ষাকারী দৈনিক প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যাচ্ছে, আয়োজক মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা (শুধু কৃতজ্ঞতা নয়, গভীর কৃতজ্ঞতা) জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘আপনারা মুক্তিযোদ্ধারা জাতির ইতিহাসের নায়ক। আপনাদের দেওয়া সম্মানে আমি আপ্লুত।… মুক্তিযোদ্ধারা জাতিগতভাবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল। দূর করেছিল মনের সব বাধা। কিন্তু এখন আবারও আমরা অনৈক্যের রাজনীতিতে ভাগ হয়ে গিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধারা পারেন আবার ঐক্যবদ্ধ করতে। কারোর ইচ্ছা-অনিচ্ছার কাছে আমরা নিজেদের ও আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দিতে পারি না।’
আমরাও সেরকমই মনে করি ড. ইউনূস- কারও ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ভর করে না। কিন্তু কথা যখন তুলেছেন, তখন এসব প্রশ্নের উত্তরও আপনাকে দিতে হবে- মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করা জাতিকে অনৈক্যের রাজনীতিতে ভাগ করেছে কে? কে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারী বাহিনী গঠনকারী যুদ্ধাপরাধীগুলোকে রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার দিয়েছে এবং এর মধ্যে দিয়ে অপচেষ্টা চালিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের অবনত করার? কথা যদি বলতেই চান ইউনূস পরিষ্কার করে বলুন। এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্যে দিয়ে কি মুক্তিযোদ্ধারা অনৈক্যের রাজনীতিতে বিভক্ত সেই জাতিকেই ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে না? আপনি কি দেখেননি, শাহবাগের প্রান্তরে তরুণদের আহ্বানে সমবেত হয়েছিল নানা ভাগে বিভক্ত সেই জাতি? না কি আপনার মনে হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অবনত করে, দালাল যুদ্ধাপরাধীদের জেল থেকে বের করে দিয়ে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার নীল নকশাকে উস্কে দিয়ে ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান যে কথিত ঐক্য-সংহতির ধারা চালু করেছিল পরাস্ত রাজাকার-দালাল-যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে, সেটিই ছিল ঐক্যবদ্ধ হওয়া সঠিক পথ? আপনাকে সংবর্ধনাপ্রদানকারীদের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ সব বিএনপিপন্থীদেরও দেখা যাচ্ছে। কাজেই এরকম ধারণা করা অস্বাভাবিক নয় যে, জিয়াউর রহমানের ঐক্য ও সংহতির পথকেই আপনি ড. ইউনূস সঠিক বলে মনে করছেন- যা আসলে রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের, ধর্মবাদী রাজনীতিকদের বৈধতা ও স্বীকৃতি দেয়ার পথ। তাদের পথ মুক্তিযোদ্ধাদের পথ নয় এবং এই কথাটিও এতদিন গলা উঁচিয়ে বলতে দেয়া হয়নি। আজ তারা সে কথাটি বলার সুযোগ পাচ্ছে বলেই কি ড. ইউনূসদের মনে হচ্ছে, মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়েছে অনৈক্যের রাজনীতিতে?
মুক্তিযোদ্ধাদের সকলেই আমাদের সম্পদ ও গৌরব, তারা সবাই আমাদের চোখে সমান। কিন্তু দাপ্তরিক প্রয়োজনেই কিছু পদবিভাজন হয়ে থাকে, দায়িত্ব বিভাজন হয়ে থাকে এবং কাজের প্রয়োজনে এসব বিভাজন অপরিহার্যও বটে। ড. ইউনূসকে যে মুক্তিযোদ্ধারা সংবর্ধনা দিয়েছেন, তারা যদি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গড়ে ওঠা অধিক পরিচিত সংগঠনগুলোকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এ সংবর্ধনা দিতেন, তা হলে এ সংবর্ধনা একটি গ্রহণযোগ্য রূপ পেত। কিন্তু ড. ইউনূস অনেকের গ্রহণযোগ্যতা চান না, তিনি গ্রহণযোগ্যতা চান তার স্তাবকদের কাছ থেকে; তিনি যদি প্রচারসর্বস্ব মানুষ না হতেন, তা হলে বরং অনন্তকাল অপেক্ষা করতেন, তবু এমন একটি ভূঁইফোড় সংগঠনের কাছ থেকে সংবর্ধনা নিতে যেতেন না, যার নাম কেউ জানে না। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি থেকে পরিষ্কার, এ সংগঠনের জন্মই হয়তো বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ আয়োজন করার জন্যে, যেমন এবার ড. ইউনূসকে সংবর্ধনা দিতে- কেননা ড. ইউনূসের এখন রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার মতো প্লাটফর্ম দরকার। এবং ড. ইউনূস রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ চায় সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন।’ কিন্তু এটি তো খণ্ডিত বক্তব্য ড. ইউনূস, কেননা মানুষ এ-ও চায়, নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করবে এবং আগামীতে সরকার গঠন করবে, তারা কতকগুলি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে, যেমন যুদ্ধাপরাধীর বিচার, শিক্ষানীতি, পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, নারীনীতি ইত্যাদি। আপনার কাছে সৎ প্রার্থীর সংজ্ঞা অন্যরকম হতে পারে, কিন্তু এ দেশের অগণিত মানুষ মনে করে সৎ প্রার্থীর মধ্যে এসব আদর্শও থাকতে হবে। তা হলে? যে বা যেসব দল এসব অব্যাহত রাখতে চায় না, তাদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রশ্নটি আপনার কাছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ড. ইউনূস? গ্রামীণ ব্যাংকে আপনার মাতব্বরি অব্যাহত রাখার জন্যে? গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ তাদের না দিয়ে সে সব টাকা অন্য একাউন্টে হস্তান্তর করার মধ্যে দিয়ে আলাদা সব গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান নিজের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলার যে অনৈতিক ও বেআইনি গর্হিত অপরাধ আপনি করে চলেছিলেন, তা অব্যাহত রাখার জন্যে? আপনার ভাগ্য ভালো ড. ইউনূস, একটা নোবেল পুরস্কার পাওয়ার রাস্তা সময়মতো তৈরি করতে পেরেছেন, পুরস্কার পেয়ে সারা বিশ্বে গুণী ব্যক্তি হয়ে বসেছেন, নইলে এসব অপরাধে এতদিনে আপনাকে কারাগারে পচতে হতো। অনেক আগে থেকেই এবং সুনির্দিষ্টভাবে ২০০৬ সালের পর থেকে আমাদের সুযোগ হয়েছে আপনার ইচ্ছা-অনিচ্ছাগুলো নানাভাবে দেখার। যারা বলেন, আপনার দৃষ্টি অনেক দূরে, তারা আসলে বুঝেও না বোঝার ভান করেন যে, দূরের আকাশের দিকে নয়, আপনার শ্যেণ দৃষ্টি গরিব মানুষের পকেটের দিকে। কী করে সে পকেট থেকে শেষ পয়সাটিও নিংড়ে আনা যায়, সেটিই আপনি ভালো বোঝেন। আপনি অবশ্যই জ্ঞানী ব্যক্তি ড. ইউনূস। পুঁজিবাদী অর্থনীতির নিরিখে, আপনি ড. ইউনূস, নিঃসন্দেহে সারা পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যতাত্ত্বিক। এবং আমি নিশ্চিত, কার্ল মার্কস জীবিত থাকলে আপনার কার্যক্রমকে সর্বতোভাবে গুরুত্বই দিতেন- যে গুরুত্ব সত্যিকার অর্থে এ দেশের বামপন্থী অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে তো বটেই, ডানপন্থীদের কাছ থেকেও আপনি পাচ্ছেন না। তবে বিশ্বের পুঁজিতান্ত্রিক মোড়লরা আপনাকে ঠিকই বুঝতে পেরেছে এবং তাই আপনার রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করছেন। একটি দেশে, যে দেশের মানুষের গড়পড়তা মাথাপিছু আয় এই কয়েক বছর আগেও ছিল একেবারে নিচের দেশের সারিতে, সে দেশের সঞ্চয়হীন নামহীন গোত্রহীন মানুষদের কাছ থেকেও অর্থ বা পুঁজি সঞ্চয়ণের একটি কার্যকর পন্থা বের করতে সক্ষম হয়েছেন ড. ইউনূস এবং বছরের পর বছর সফলভাবে সে পন্থা প্রয়োগ করে দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। এতে গরিবদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটেনি বটে, কিন্তু তাদের অর্থকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের পথ খুলে গেছে। ড. ইউনূসের দেখানো পথ অনুসরণ করে আফ্রিকা বা এশিয়ার দেশগুলো তো বটেই, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও চেষ্টা করছে নিজেদের দেশের মধ্যম-নিম্ন শ্রেণির মানুষদের টাকাকে পুঁজি হিসেবে হাতিয়ে নেয়ার।
ড. ইউনূস এবং তার মতো নেতৃত্বসম্পন্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-এনজিও-ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক সংগঠনগুলো দারিদ্র নির্মূল করতে গিয়ে টার্গেট গ্রুপ করে গ্রামের নারীদের-কেননা তারা জানেন, পুরুষদের মতো নারীরা ক্ষমতায়িত নয়, তাদের শ্রমবাজার গতিশীল নয়, তারা দ্রুত স্থানান্তরিত হতে পারে না, তারা ঘরে থাকতে বাধ্য হয় এবং তাই তাদের নিয়ে টার্গেট গ্রুপ গড়লে বা তাদের ঋণ দিলে নিংড়ে নেয়ার প্রক্রিয়াটি সচল রাখা যাবে। বাংলাদেশে কিংবা পৃথিবীতে (আখতার হামিদের ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা বাদ দিলে) এমন কোনও ক্ষুদ্র ঋণভিত্তিক গ্রুপ কি দেখাতে পারবেন যেটি পুরুষদের নিয়ে গড়ে উঠেছে? দরিদ্র পুরুষ কি নেই? কিন্তু নারীর ক্ষমতায়নের মুলো ঝুলিয়ে তাদের নিয়েই কেবল এ ধরণের গ্রুপ গড়ে তোলে ক্ষুদ্র ঋণদাতারা। কেননা ড. ইউনূসরা জানেন, পুরুষদের শ্রমবাজার অপেক্ষাকৃত গতিশীল, ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পারলে তারা এক প্রান্তর থেকে অন্য প্রান্তরে চলে যেতে পারে এবং ঘরের চাল খুলে নিয়ে ঋণের কিস্তি আদায়ের পন্থা তাদের ক্ষেত্রে তেমন কোনও কাজ দেবে না।
ড. ইউনূসকে নিয়ে এত কথা বলতে হচ্ছে, কেননা তিনি চলমান রাজনীতিতে এমন এক নাটের গুরু হিসেবে উদিত হতে চাইছেন, যার উত্থানে নাগরিক সমাজ এবং কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের সুবিধা হলেও, বাজী ধরে বলা যায়, এ দেশের সামাজিক সূচকগুলো ভবিষ্যতে নিম্নগামী হবে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিঅংশগুলি চূড়ান্ত অর্থে ক্ষতিগ্রস্তই হবে। তখন মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির গতি অব্যাহত থাকতে পারে, কিন্তু মানুষে মানুষে আয়বৈষম্যের হার বেড়ে চলবে। আর এ সবের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো, রাজনৈতিকভাবে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আমরা একটি পশ্চাৎপদ দেশে পরিণত হব, আবারও ধর্মবাদী জঙ্গি রাজনীতি ফিরে আসবে।
কেউ ভাবতে পারেন, বলতেও পারেন, তা হলে কি ড. ইউনূসকে সেরকম রাজনীতির বাহক? না। সেরকম না, কিন্তু তিনি তার কর্পোরেট অবস্থানের স্বার্থে যে পথে এগুচ্ছেন তা এ ধরণের রাজনীতির উত্থানের পরিসরকে বিস্তৃত করছে। তাকে বুঝতে হবে, আমরাও শান্তি চাই, বিভক্তি চাই না; কিন্তু এ রাষ্ট্র যে নৈতিকতার মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠেছে তাকে অস্বীকার করে শান্তি আসবে না এবং বিভক্তিও দূর হবে না। এবং বাস্তবতা হলো যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে, ধর্মবাদী রাজনীতিকে স্বীকৃতি দিয়ে যারা রাজনীতি করছে তারাই এ বিভক্তিকে ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ড. ইউনূসকে এখনও বিবেচনা করছে শেখ হাসিনার নোবেল না পাওয়ার ঈর্ষা থেকে, তারা এখনও বুঝতে পারছে না, এমনকি বামপন্থীরাও এ ব্যাপারটি আমলে নিচ্ছেন না যে, বাস্তবে ড. ইউনূস এ রাষ্ট্র-রাজনীতির অনেক বড় প্রতিপক্ষ, নিষ্ঠুর সত্য হলো তিনিই হলেন এ দেশের নতুন জিয়াউর রহমান। ডানপন্থীরা বেশ ভাল করেই বুঝতে পারছেন, তাদের এখন নতুন একজন জিয়াউর রহমান দরকার- কিন্তু তারেক রহমানের পক্ষে সম্ভব নয় সেই জিয়াউর রহমান হওয়া; জিয়াউর রহমানের মতো নিখুঁতভাবে চোখে কালো চশমা পরা শিখতে পারেননি তারেক রহমান; এবং ইতিমধ্যেই তিনি এমন সব কথা বলে ফেলেছেন, যা তার জঙ্গিপ্রীতি প্রমাণের জন্যে যথেষ্ট। জিয়াউর রহমান নিখুঁতভাবে ধর্মবাদী রাজনীতিকদের সঙ্গে পার্থক্যের যে কথিত দেয়ালটি দৃশ্যমান করে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন, তারেক রহমান তা গুঁড়িয়ে ফেলেছেন এবং তার ঐতিহাসিক প্রয়োজন তাই চূড়ান্ত অর্থে ফুরিয়ে গেছে। ড. ইউনূসকে তাই এখন ইচ্ছায় হোক, আর অনিচ্ছায় হোক শ্রেণি ও সময়ের দাবিতেই ওই শূন্যতা পূরণ করার জন্যে এগিয়ে যেতে হবে। ইউনূসের এই ঐতিহাসিক অনিবার্যতা আওয়ামী লীগ আমলে নিচ্ছে না, ইউনূসকে তারা বিবেচনা করছে শেখ হাসিনার নোবেল পুরষ্কার না পাওয়ার ঈর্ষা দিয়ে। এ কারণে আওয়ামী লীগ সরকার ইউনূসের অনিয়মগুলিকে উপস্থাপন করছে এলোমেলোভাবে, বিচ্ছিন্নভাবে। যার ফলে বরং নতুন নতুন প্রশ্নই বাড়ছে। আওয়ামী লীগ ড. ইউনূসকে ঘায়েল করতে চাইছে সমকামিদের সমর্থক আখ্যা দিয়ে; কিন্তু খালেদা জিয়াকে যেমন ধর্মনিষ্ঠ নন বলে কারও কাছ থেকে সমর্থন পাওয়া যাবে না, তেমনি ইউনূসকেও সমকামিদের সমর্থক বা রক্ষক আখ্যা দিয়ে কারও সমর্থন আদায় করা যাবে না (এবং এ ইস্যুটিকে বাজারে রাজনৈতিক ইস্যু করে তোলাও অসুস্থতা)। বরং ড. ইউনূসের বিরোধিতা করতে হবে রাজনৈতিকতার নিরিখেই।
ড. ইউনূসের পাশে দাঁড়িয়েছেন ড. কামাল হোসেন। একদা আওয়ামী লীগে তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করা হয়। কিন্তু এখন তো তিনি আওয়ামী লীগে নেই, উপেক্ষিত হওয়ারও সুযোগ নেই, নিজের কদর কতটা তিনি তৈরি করতে পেরেছেন জনগণের কাছে? জনগণের কাছে দূরে থাক, রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকদের কাছে? গম্ভীর মুখে তিনি দেখে চলেছেন, তার মতো আইনজীবীকে ছাড়াই এগিয়ে চলেছে যুদ্ধাপরাধী বিচারের কাজ, বিজয় আসছে সমুদ্র সীমা নির্ধারণের মামলায়। উপেক্ষিত হওয়ার যে বোধ তার মনে তৈরি হয়েছে, আমরা যদি বলি, সেই বোধ থেকে তিনিই এখন প্রতিহিংসার রাজনীতি করছেন, তা হলে তা কি একেবারে অন্যায্য হবে? সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের সমালোচনা করে চলেছেন এবং একবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে তিরস্কৃতও হয়েছেন। কে এই ডেভিড বার্গম্যান? ড. কামাল হোসেনদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী? তার ওই অপসাংবাদিকতা কি প্রতিহিংসার রাজনীতির অংশ নয়? এবং এও এক জটিল রহস্য যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার পরও মুক্তিযুদ্ধের বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা প্রদানের তালিকায় ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস (আইসিজে) সংগঠনটির নাম ঢুকে যায়! এ দেশে কারা এ সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে?
ড. ইউনূসের পাশে দাঁড়ানো আরেক ব্যক্তি জাফরুল্লাহ চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভূমিকা আমাদের প্রেরণা যোগায়, উদ্দীপিত করে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাস্থ্যের অধিকার জনগণের দুয়ারে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা, নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, স্বাধীন বাংলাদেশে এসব করতে গিয়ে তিনি সোজা পথে না গিয়ে বাঁকা পথে হেঁটেছেন, মানুষ যখন সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, তিনি তখন তার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন। যদিও তার বন্ধুভাগ্য ভালো- বন্ধু সম্পাদক, সাংবাদিক শাহাদাত চৌধুরী বার বার সাপ্তাহিক বিচিত্রায় তাঁকে নিয়ে প্রচ্ছদকাহিনী ছেপে তার ইতিবাচক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করেছেন। এরশাদের ওপর ভর করেছিলেন তিনি, এরশাদের কী হয়েছে জানা আছে আমাদের; এবার ভর করেছেন ইউনূসের ওপর, অনুমান করি ইউনূসের কী হতে পারে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাজ করতেন এমন ২/১ জন নারীর কাছ থেকে শুনেছি, কর্মী কর্মকর্তা কিংবা ডাক্তার যিনিই হোন না কেন কপালে টিপ পরলেই তিনি সে নারীর ওপর ক্ষেপে ওঠেন, বিশ্রী অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন; এমন একজন অসুস্থ সংস্কৃতিসম্পন্ন ব্যক্তি নারীদের দিয়ে গাড়িড্রাইভিং-এর কাজ করালেই আমরা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠব, নারীর ক্ষমতায়ন হিসেবে ভাবব? মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরীকেও ওইদিনের অনুষ্ঠানে কাদের মোল্লার রায় নিয়ে কোনও ধরণের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। অবশ্য তিনি ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রাস্তার নাম ফেলানী সড়ক করার দাবি জানাতে ভোলেননি। পরে শুনেছি, কয়েকদিন আগে মাহমুদুর রহমান মান্নার টকশোতে বসে তিনি মাহফুজউল্লাহদের সঙ্গে মিলে এই রায়ের দুর্বলতাগুলো উন্মোচনের জন্যে অনেক কসরত করেছেন। মাহফুজউল্লাহরা একসময় একাত্তরের ঘাতক-দালালদের ক্ষমা করে দিয়েছেন, এরকম সব কথা বলে শেখ মুজিবুর রহমানের পিণ্ডি চটকাতেন এবং ওদের বিচার দাবি করতেন; আর এখন শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন, এরকম যুক্তি দেখিয়ে তাদের বিচারের বিরোধিতা করছেন! আর আমাদের মিডিয়াগুলো কী ভীষণ দায়িত্বশীল- তারা আবার এইসব কথাবার্তা সারা দেশের মানুষকে শোনানোর গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছেন! ইউনূসের গণসংবর্ধনার দিন জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কথা বলার ভঙ্গি দেখুন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমি যথেষ্ট সম্মান করি। তিনি অনেক কিছু হারিয়েছেন। এর ওপর ১৬ কোটি মানুষের চাপ সহ্য করছেন। তাই হয়তো উনার মানসিক অবস্থা ভালো নেই।’ প্রধানমন্ত্রীর মানসিক অবস্থা নিয়ে কেবল তিনিই নন, ড. কামাল আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানসিক সুস্থতা কামনা করে সবাইকে দোয়া করার আহ্বান রাখেন ওইদিনের অনুষ্ঠানে।
আপনারা প্রতিহিংসার রাজনীতির কথা বলেন? দেখেন, প্রতিহিংসা কাকে বলে! একজন ব্যক্তিকে ‘পাগল’ ‘পাগল’ বলে ‘পাগল’ বানানোর খেলায় তারা মেতে উঠেছেন।
আরও একজনের কথা না বললেই নয়। তিনি এই অনুষ্ঠানে ছিলেন না, কিন্তু তিনিও আরেক পালের গোদা। তার নাম মাহমুদুর রহমান মান্না। অনেকদিন হলোই তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, দেশের মানুষ দুই নেত্রীর ওপর বিরক্ত। কিন্তু তিনি কি জানেন, তার ওপর দেশের মানুষ আরও বিরক্ত? এ দেশের দুই-দুইটি জনপ্রিয় বড় দলকে ভাঙার জন্যে এ দেশের ইতিহাস তাকে চিরকাল মনে রাখবে। ১৯৮০ সালে যখন বেসামরিক লেবাসচাপানো সামরিকজান্তা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজনীতি ও শাসনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও জাসদসহ বিভিন্ন দল ঐক্যজোট গড়ে তুলেছে, তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, বিভিন্ন জায়গায় জোটের জনসভায় চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগ ও জাসদের কর্মীদের মধ্যে মারামারি লাগিয়েও যখন সে আন্দোলনকে থামানো যাচ্ছে না, তখন জাসদের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে কাজে লাগিয়ে ‘আওয়ামী লীগ ও জাসদের ঐক্য হতে পারে না’ এই খেলো তত্ত্বকে সে বিতর্কের এক নম্বরে নিয়ে এসে ছাত্রনেতা হওয়া সত্বেও জাতীয় রাজনীতিতে মাহমুদুর রহমান মান্না আলোচিত হয়ে ওঠেন; এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সপক্ষের প্রথম ঐক্যজোটে ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদে ভাঙন ধরাতে সক্ষম হন। তারপর কয়েক বছর যেতে না যেতেই নিজের ব্যক্তিগত দুর্বলতা ঢাকতে (আমি এ লেখার পাঠকদের কাছে অনুরোধ করব, ঘটনাটি জানা থাকলেও তারা যেন মন্তব্য অংশে সেটির উল্লেখ না করেন) পার্টির তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিতর্কগুলোকে বড় করে তুলে ভাঙন ঘটান তখনকার নতুন অথচ সংঘবদ্ধ দল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলে। তাতেও তার ব্যক্তিগত জীবনের দুর্বলতাটির সুরাহা না হওয়ায় এক পর্যায়ে নিজেও একটি নতুন দল গঠন করেন মির্জা সুলতান রাজাকে নিয়ে। ব্যক্তিগত জীবনের ওই পর্ব নিষ্পন্ন হওয়ার পর তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগে। বার বার তিনি নিজের অবস্থান করেছেন, কর্মীদের বিভ্রান্ত করেছেন। হয়তো ওই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেসবের খানিকটা যৌক্তিকতাও ছিল- কিন্তু পার্টিভাঙনের মতো ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তিনি নিজের ব্যক্তিআকাঙ্ক্ষা ও মোহকেই পরিপূরণ করেছেন। তাকে উপহাস করার জন্যে অতীতের এসব ঘটনা আমরা মনে করছি না। আমরা কেবল চাইছি, ভবিষ্যতে যেন তার অতীতের পুনরাবৃত্তি না ঘটে-দিনের শেষে যেন আমরা আবিষ্কার না করি, যা তিনি করছেন তা ব্যক্তিস্বার্থেই করছেন। তার ভবিষ্যত অতীতের চেয়ে সুন্দর হোক, এটিই আমরা চাই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তিনি যে পথে হাঁটছেন, তা অতীতের পথের মতোই। তিনি ইদানিং বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়ার অযৌক্তিক সমালোচনাও করছেন। কাদের মোল্লার চূড়ান্ত রায় হওয়ার পর তার পরিচালিত টকশোতেও এর প্রতিফলন ঘটতে দেখা যাচ্ছে।
ড. ইউনূসকে নিয়ে কথা শুরু করেছিলাম। কিন্তু দেখাই যাচ্ছে, তিনি এবং তার মতো আরও অনেকে যে রাজনৈতিক ঐক্যের পথে হাঁটছেন, যে সংহতির কথা বলছেন তা কোন রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থে কাজ করছে বা করবে। এ লেখা শেষ করতে চাই, এদুয়ার্দো গ্যালিয়ানোর একটি কথা দিয়ে : ‘মিলটন ফ্রিডম্যানের তত্ত্বগুলো তাকে দিয়েছিল নোবেল প্রাইজ; আর তারা চিলিকে দিয়েছিল জেনারেল পিনোচেট’; এখনই আমরা সবাই যথাযথ ভূমিকা না নিলে হয়তো অচিরেই গ্যালিয়ানোর এ কথাগুলোই একটু ঘুরিয়ে আমাদের লিখতে হবে, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকাগুলো তাকে দিয়েছিল নোবেল প্রাইজ, তাকে দিয়েছিল কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল, প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম; আর সেগুলো আমাদের বাংলাদেশকে দিয়েছিল … … …।’

অবিশ্রুত

সেইসব দিন স্মরণে,- যখন কলামিস্টরা ছদ্মনামে লিখতেন; এমন নয় যে তাদের সাহসের অভাব ছিল, তারপরও তারা নামটিকে অনুক্ত রাখতেন। হতে পারে তাৎক্ষণিক ঝড়-ঝাপটার হাত থেকে বাঁচতেই তারা এরকম করতেন। আবার এ-ও হতে পারে, সাহসকেও বিনয়-ভুষণে সজ্জিত করেছিলেন তারা। আমারও খুব ইচ্ছে দেখার, নামহীন গোত্রহীন হলে মানুষ তাকে কী চোখে দেখে... কাঙালের কথা বাসী হলে কাঙালকে কি মানুষ আদৌ মনে করে!

3
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
মোহাম্মদ মুনিম
সদস্য

এই অনুষ্ঠানে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বঙ্গবন্ধু বিষয়ক উক্তিটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, “মুজিব ভাই বেঁচে থাকলে অধ্যাপক ইউনুস নোবেল পুরস্কার নিয়ে ফেরার সময় তাঁকে অভিনন্দন জানানোর জন্য বিমানবন্দরে উপস্থিত হতেন। বুকে জড়িয়ে ধরে বলতেন, “ইউনুস, তুই আমার বুকটা বড় (করে) দিয়েছিস।” বেশ কয়েক মাস আগে একাত্তর টিভিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন “বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে (যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে) বলতেন, আমি এদের ক্ষমা করে দিয়েছি, আমি এই বিচারে তোমাদের সাথে নাই।” বিবিসির প্রাক্তন সাংবাদিক সেরাজুর রহমান, যিনি আজকাল দাবী করছেন বঙ্গবন্ধু তাঁকে কলকাতা থাকার সময়েই চিনতেন (বঙ্গবন্ধু কলকাতা স্থায়ীভাবে ছেড়ে আসেন ১৯৪৮ সালে, তখন সেরাজুর রহমানের বয়স ছিল ১৩ বছর), তিনিও আমার দেশে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

শুধু শেখ হাসিনা নয়, যারাই ইউনূসের বিরুদ্ধে কথা বলে তারা সবাই মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত এটাই ছিল কামাল হোসেনের কথা — সেঅর্থে আপনি অবিশ্রুত, আমি এবং আমাদের মতো সবাই মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত আর ইউনূসের কথা ছিল, নির্দলীয় সরকারের দাবি জোর করে আদায় করা হবে

Hussainmahfuz
অতিথি
Hussainmahfuz

ড. ইউনূসকে নিয়ে কথা শুরু করেছিলাম। কিন্তু দেখাই যাচ্ছে, তিনি এবং তার মতো আরও অনেকে যে রাজনৈতিক ঐক্যের পথে হাঁটছেন, যে সংহতির কথা বলছেন তা কোন রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থে কাজ করছে বা করবে- ‍
হয়ত ঠিকই বলেছেন। দেখা যাক পা‍‍ন িকোন দিকে গড়ায়।

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.