লোকটা ডাকাত সর্দার, ময়মনসিংহ অঞ্চলের একদার যাত্রার হিরো। শেষ তাকে দেখি ঢাকা জেলখানার হাজতিদের ওয়ার্ডের পাহারার দায়িত্বে। আমরা তার অধীন ছিলাম। তার প্রাণে গান ছিল এবং তার যাবজ্জীবন হয়েছিল। ডাকু রমজানের জন্যই রাতটা মা‍ঝেমধ্যে রঙ্গিন হয়। অ্যালুমিনিয়ামের থালায় আঙুল ঠুকে গান গাওয়া ছিল তার রাতের মেরাজ। চোখ বন্ধ করে গাইতে গাইতে সে লুপ্ত হতো নিজের মধ্যে। কোনোদিন সে গাইতো মৈমনসিংহ গীতিকার 'আলোমতি ফুলকুমার' থেকে, 'রাজার ফুল বাগানে যাই, একটু হাঁটিয়া বেড়াই....আমার মনে শান্তি নাই।' গাইতো, 'বন্ধু থাকো, বন্ধু থাকো, বন্ধু থাকো আমার সনে বন্ধু থাকো ও বন্ধু থাকো বন্ধু থাকো তোমার ঢংয়ে।' আবার কোনোদিন গাইতো এই বিষন্ন ব্যালাড, 'যে আমারে আদর করে রে, নাম রাইখ্যাছে আদরিণী আমি কী তার আদর জানি-ই-ই-ই...' যার অর্থ আমার নাম, ‍তার নাম কী তা আমি জানি? আত্মপ্রেমে 'আমি' মাত হয়ে থাকি, কিন্তু আমার 'আত্ম' কী তা কি আমি জানি? তাহলে কার জন্য 'আমি' প্রাণপাত করি? একদা ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের ৩২ নং খাতা ওয়ার্ডের সর্দার রমজান ডাকাত এই সমস্যায় জাগ্রত হতো; আমি আজ সেই সমস্যায় লুপ্ত।

ব্রাইটনে লেবার পার্টির কনফারেন্স কাঁপিয়ে গেলেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক। গাজায় যুদ্ধাপরাধের সুস্পষ্ট অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করার আবেদন করেছিলেন ব্রিটেনের কয়েক আইনজীবী। ১৬ জন প্যালেস্টাইনির পক্ষ থেকে এই আইনজীবীরা গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মামলা করে আবেদন জানিয়েছিলেন, এহুদ বারাকের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবার জন্যে। হা হতোষ্মী, ওই আবেদন নামঞ্জুর করেছে ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত [...]

ব্রাইটনে লেবার পার্টির কনফারেন্স কাঁপিয়ে গেলেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক। গাজায় যুদ্ধাপরাধের সুস্পষ্ট অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করার আবেদন করেছিলেন ব্রিটেনের কয়েক আইনজীবী। ১৬ জন প্যালেস্টাইনির পক্ষ থেকে এই আইনজীবীরা গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মামলা করে আবেদন জানিয়েছিলেন, এহুদ বারাকের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবার জন্যে। হা হতোষ্মী, ওই আবেদন নামঞ্জুর করেছে ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। আমরা জানতে পারছি, বিচারক নাকি তার রায়ে বলেছেন, একটি দেশের ক্ষমতাসীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে এহুদ বারাক যোগ্যতা রাখেন যে-কোনও মামলা থেকে কূটনৈতিক অব্যাহতি পাওয়ার। আসলে বিচারকের হাতে রায়ের এ তূণ তুলে দিয়েছেন ব্রিটেনে বসবাসরত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত রন প্রোসর, ২৯ সেপ্টেম্বর যিনি খুবই তৎপর ছিলেন ব্রিটিশ ফরেন অফিসে এবং বার বার দাবি করছিলেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পৃথিবীর কোথাও কোনও ক্ষমতাসীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি কিংবা গ্রেফতার করার একটিও দৃষ্টান্ত নেই। রন প্রোসরের ব্যাখায় অথবা চাপে শেষ পর্যন্ত তুষ্ট হয়েছে ব্রিটেনের ফরেন অফিস। মামলার আবেদন নাকচ হয়ে গেছে। সদম্ভে ব্রাইটনে দু’দিন ব্যাপী লেবার পার্টির সম্মেলনে যোগদান শেষে ইসরাইলে ফিরে গেছেন তিনি। ‘লেবার ফ্রেইন্ডস অব ইসরাইলের’ একজন এই এহুদ বারাক, যার পদধূলিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এবং আবারও ঘোষণা দিয়েছেন, ইসরাইলের প্রতি তার এবং তার দল আগের মতোই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; ইহদি লবির প্রতি তার আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছে এই স্তুতিতে, এলএফআই (লেবার ফ্রেইন্ডস অব ইসরাইল) ব্রিটেনের সবচেয়ে সফল ক্যাম্পেইনিং সংগঠনগুলির অন্যতম। এখানেই শেষ নয়, ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই, চ্যালায় ধরে গামছা’, ওই ‘গামছা’ ধরেছেন ফরেইন অফিস মিনিস্টার ইভান লুইস, এই সজ্জন ব্যক্তিটি বলেছেন, ওই সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী একেবারে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে কথা বলেছেন! অথচ দিনের শুরুতেও ২৯ সেপ্টেম্বর আমাদের জানা ছিল, এহুদ বারাকের এই সফর কূটনৈতিক নয়, ডিপ্লোম্যাটিক ইম্যুনিটি নেই তার এবং তাই তিনি ব্রিটিশ আইনের আওতায় পড়বেন এই সফরকালে। কিন্তু মামলার রায় ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জানানো হয়, তার এ সফরের কূটনৈতিক পরিসর রয়েছে! ব্রিটেনে একটি আইন আছে, যে-আইনের বলে এখানে অন্য কোনও দেশের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগেও যে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার রয়েছে। গাজায় নির্বিচার গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের সাক্ষী ওই ১৬জন প্যালেস্টাইনি নাগরিকের প্রত্যাশা ছিল, এই আইনটির যথাযথ প্রয়োগ ঘটবে এবং…

যেসব গরুকে নাম ধরে ডাকা হয় নামহীন গরুর চাইতে তারা বেশি দুধ দেয় -- এমন গবেষণা উপস্থাপন করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের ক্যাথরিন ডগলাস এবং পিটার রওলিনসন। কেবল এ দু'জনই নয়, অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানার জন্য দশটি ক্যাটাগরিতে ঘোষিত হয়েছে ২০০৯ সালের নোবেল পুরস্কার। এর মধ্যে মাথা লক্ষ্য করে নয় বরং মাথার ওপর দিয়ে বোতল ছুঁড়ে মারার পরামর্শ দেয়ার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার যেমন দেয়া হয়েছে, তেমনি সর্বোচ্চ ৫০টি জরিমানার টিকিট লেখার জন্য দেয়া হয়েছে সাহিত্যে নোবেল। [...]

যেসব গরুকে নাম ধরে ডাকা হয় নামহীন গরুর চাইতে তারা বেশি দুধ দেয় -- এমন গবেষণা উপস্থাপন করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের ক্যাথরিন ডগলাস এবং পিটার রওলিনসন। কেবল এ দু'জনই নয়, অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানার জন্য দশটি ক্যাটাগরিতে ঘোষিত হয়েছে ২০০৯ সালের নোবেল পুরস্কার। এর মধ্যে মাথা লক্ষ্য করে নয় বরং মাথার ওপর দিয়ে বোতল ছুঁড়ে মারার পরামর্শ দেয়ার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার যেমন দেয়া হয়েছে, তেমনি সর্বোচ্চ ৫০টি জরিমানার টিকিট লেখার জন্য দেয়া হয়েছে সাহিত্যে নোবেল। অবাক হওয়ার মতো খবর হলেও এই ঘটনা পুরোপুরি সত্যি। তবে এই নোবেল পুরস্কার সুইডিশ একাডেমি ঘোষণা করে না। আইজি নোবেল নামের মজার এই পুরস্কার দেয়া হয় একটি বিজ্ঞান বিষয়ক হাসির পত্রিকা এআইআর-এর পক্ষ থেকে। তবে পুরস্কার প্রদানের স্থান যেনতেন নয়। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার-হলে এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অভিনব আবিষ্কারকদের হাতে আইজি নোবেল তুলে দেন খ্যাতনামা নোবেল বিজয়ীরা। এই পুরস্কারের মূল স্লোগান হলো : 'প্রথমে মানুষকে হাসতে দিন, তারপর চিন্তা করার সুযোগ দিন'। ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসে এই পুরস্কার ঘোষিত হয়ে আসছে। পশু চিকিৎসা, শান্তি, জীববিজ্ঞান, চিকিৎসা, অর্থনীতি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, জনস্বাস্থ্য এবং গণিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। আইজি নোবেল -- এই নামের মধ্যেও রয়েছে কৌতুক। আইজি শব্দটি ইংরেজি ignobel শব্দের সংক্ষেপিত রূপ। এর অর্থ হল তলানি বা নিচু। অপরদিকে ডায়নামাইটের আবিষ্কারক এবং নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেলের নামও এর সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে যাঁরা আইজি নোবেল জয় করেছেন নীচে তাঁদের তালিকা ও কীর্তির কথা তুলে ধরা হলো : পশু চিকিৎসা : যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসলের ক্যাথরিন ডগলাস ও পিটার রওলিনসন এই বিভাগে নোবেল পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখানো হয়েছে : নামওয়ালা গরু নামহীন গরুর চাইতে বেশি দুধ দেয়। শান্তি : সুইজারল্যান্ডের বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক মাথা লক্ষ্য করে বিয়ারের বোতল না ছুঁড়ে মাথার ওপর দিয়ে ছোঁড়ার পরামর্শ দিয়ে জিতে নিয়েছেন শান্তি পুরস্কার। এঁরা হলেন স্টেফান বোলিগার, স্টিফেন রস, লার্‌স্ ওস্‌টার্‌হেল্‌বেগ, মিশেল থালি এবং বিট কেনুবুয়েল। জীব বিজ্ঞান : জাপানের সাগামিহারায় অবস্থিত কিটাসাতো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিন বিভাগের ফুমিআকি তাগুচি, সং গউফুউ এবং ঝাং গুয়াংলেই জীববিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন। এঁরা…

মুক্তাঙ্গন-এ উপরোক্ত শিরোনামের নিয়মিত এই সিরিজটিতে থাকছে দেশী বিদেশী পত্রপত্রিকা, ব্লগ ও গবেষণাপত্র থেকে পাঠক সুপারিশকৃত ওয়েবলিংকের তালিকা। কী ধরণের বিষয়বস্তুর উপর লিংক সুপারিশ করা যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম, মানদণ্ড বা সময়কাল নেই। পুরো ইন্টারনেট থেকে যা কিছু গুরত্বপূর্ণ, জরুরি, মজার বা আগ্রহোদ্দীপক মনে করবেন পাঠকরা, তা-ই তাঁরা মন্তব্য আকারে উল্লেখ করতে পারেন এখানে। ধন্যবাদ।

হবি কমিউনিস্ট, ইউরোপে আজকাল অনেক বামপন্থীকে, এনামেই ডাকে অনেকে। এরা কী করেন? সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, নানা রকম ফোরাম, মানবন্ধন, এসব অপেক্ষাকৃত ‘সাদাকলার’ কার্যক্রমের সাথেই এদের যত যোগসাজশ। কী আছে এদের? স্টাইল, এক অসাধারণ বামপন্থী জীবনযাপনের লাইফস্টাইল আয়ত্বে আছে এদের, আছে নিশ্চিত জীবিকা এবং পার্টিকে দেয়ার মতো অপর্যাপ্ত সময়, আর এক যাযাবরপ্রথা — বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের সহজলভ্যতার যুগে একে ব্যবহারে খুবই সচেতন এরা। এই হবি কমিউনিস্টরা শিল্পোন্নত ইউরোপীয় দেশগুলোর সোসালিস্ট ও কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে উঠেছে এখন। ইউরোপে মধ্য-বাম রাজনীতি বা সোসালিস্ট রাজনীতির অবসান হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন, এবং ইউরোপীয় রাজনীতির প্রধান তিন দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিতে এবং আরো বড় পরিসর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে সোসালিস্ট দলগুলোর ভরাডুবি এই আশঙ্কাকে অনেকটুকু বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। আর ইউরোপের বাম রাজনীতির এই দুরাবস্থার অনেকগুলো কারণের মধ্যে দলের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে হবি কমিউনিস্টদের প্রাদুর্ভাবকেও অনেকে দায়ী করছেন। লাতিন আমেরিকা ও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে হবি কমিউনিস্টদের প্রাদুর্ভাব না হলেও এখানে যে এদের অস্তিত্ব নেই তা ঠিক নয়। আমাদের দেশেও বাম রাজনৈতিক দলগুলোতে এরকম অনেক সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা আছেন যাদেরকে সহজেই হবি কমিউনিস্ট ডাকা যেতে পারে।

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.