আমরা অবিলম্বে ব্লগারদের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি, সেই সঙ্গে ‘ধর্মীয় অনুভূতি’র নামে যে-কোনো ধরণের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা আমাদের মুক্তচিন্তার চর্চা থেকে একটুও পিছু হটব না, মুক্তচিন্তার চর্চা অব্যাহত থাকবে, নিরন্তর চলবে।

গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে আমাদের এখন মনে হচ্ছে, দেশের ব্লগার-লেখকরা শুধু জঙ্গি-উগ্রপন্থীদের দিক থেকে হত্যার শিকার নয়, সরকারি দলের একাংশ ও সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকেও প্রত্যাখানের শিকার হতে চলেছেন। গত সাড়ে পাঁচ মাসে চারজন ব্লগারকে একের পর এক খুন করা হয়েছে, যে তালিকার সর্বশেষ সংযোজন নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়। এর কোনোটির তদন্তের ক্ষেত্রেই অগ্রগতি হয়নি, বরং নিলয় হত্যাকাণ্ডের পর সংবাদ সম্মেলনে উল্টো ব্লগারদের উদ্দেশ্যে পুলিশের আইজিপি বলেছেন, ‘যাঁরা মুক্তমনা লেখক, তাঁদের কাছে অনুরোধ, আমরা যেন সীমা লঙ্ঘন না করি। এমন কিছু লেখা উচিত নয়, যেখানে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে, বিশ্বাসে আঘাত হানে।’ পাশাপাশি আওয়ামী ওলামা লীগ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে, ‘ধর্ম অবমাননাকারীদের’ মৃত্যুদণ্ড প্রদানের বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, সরকারের কর্তাব্যক্তিরা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে তালগোল পাকানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রথম কথা, ব্লগার নিলয়কে হত্যা করা হয়েছে দিনে দুপুরে বাসায় ঢুকে। অন্যান্য ব্লগারদের বাসায় ঢুকে না হলেও হত্যা করা হয়েছে উন্মুক্ত স্থানে, জনসমক্ষে; এমনকি লেখক-ব্লগার ড. অভিজিৎ রায়ের ক্ষেত্রে পুলিশ ঘটনাস্থলেই ছিল। নিলয় গত মে মাসে থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করার চেষ্টা চালিয়েছেন। ব্যর্থ হয়ে তা নিয়ে ফেসবুকে বিস্তর মন্তব্য লিখেছেন। বেশ কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সরকার অনলাইনের সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে মনিটরিং করে থাকে এবং সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে কোনো বিরূপ মন্তব্য করা হলে সঙ্গে সঙ্গে তা তাদের নজরদারির আওতায় নেয়। এটি অবিশ্বাস্য যে, নিলয়ের মন্তব্য তাদের চোখ এড়িয়ে গেছে। অথচ কোনো ধরণের আভ্যন্তরীন বিভাগীয় তদন্ত না করেই আইজিপি বলছেন, 'জিডি না নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি'। বোঝাই যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের ব্যর্থতা ও কর্তব্যে-অবহেলা ঢাকার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দ্বিতীয় কথা, দেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিরুদ্ধে যে আইন রয়েছে, সে সম্পর্কে শুধু ব্লগাররাই নন, অনেকেই সচেতন। কেননা ব্লগারদের পূর্বে থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার অজুহাতে হেনস্তা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ, যার শিকার হতে হয়েছে একসময় এমনকি আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। যদিও মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি এত ঠুনকো নয় যে, তা…

এটা আমার ব্যক্তিগত ব্লগে ঢাকায় বাসায় ঢুকে ব্লগার হত্যার পর আমার আজকের দিনলিপি হিসেবে লেখা। এই অকিঞ্চিৎকর কথাগুলো আবার কমিনিউটি ব্লগেও তুলে দিলাম। আমরা বলি আরকি, এক সময় সব ঠিক হয়ে যায় – ঠিক হয়ে যায় না, রক্তক্ষরণটা যেখানে হওয়ার সেখানে হতেই থাকে, আজো আরো একজন ব্লগারকে কুপিয়ে মারা হল, বাসায় ঢুকে কয়েকজন মিলে জুমার নামাজের পরে – আমি কিছু জানি না কেন আমাদের পরিবার আমাদের সমাজ আমাদের সরকার আমাদের রাষ্ট্র বলতে পারে না এভাবে যারা খুন করে তাদের খুঁজে বের করতে হবে নিশ্চিহ্ন করতে হবে – তা না, আমাদের পরিবার আমাদের সমাজ আমাদের সরকার আমাদের রাষ্ট্র বলে যাকে কোপানো হয়েছে সে নাস্তিক আমরা তার পাশে দাঁড়িয়ে সহানুভূতিটুকুও দেখাতে পারি না – তারচেয়ে, বলতে পারি এসব লেখার কী দরকার, এসব লিখলে তো কোপাতেই পারে। এই পরিবার এই সমাজ এই সরকার এই রাষ্ট্র আমার, কিন্তু এই পরিবার এই সমাজ এই সরকার এই রাষ্ট্র আমাকে তার মনে করে না – এরচেয়ে বড় অসহায়তা আর কী আছে, এরচেয়ে বড় নৃশংসতা আর কী আছে – কোন ঠিকানায় অভিযোগ জানাব, কোন ঠিকানায় আঘাতের আতঙ্কের কথা জানিয়ে চিঠি লিখব – আমাদের কেউ নেই – ওই যারা বিশ্বজুড়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বলে তারাও আমাদের কিছুই না বুঝে তাদের হিসাব নিয়ে চলে – বড় দুঃসহ এই বাংলাদেশ বুদ্ধিজীবিতার উত্তর এখানে হত্যা হত্যা হত্যা হত্যা, আমরা বেঁচে থাকি তারপরও এখানে ওখানে এদিকে ওদিকে কারণ বুদ্ধিজীবিতা ছাড়া আমরা আর কিছু শিখিনি।

  অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীর ১৯৭১ সালের অপকর্ম নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন লিখবেন সাহসী সাংবাদিক। সেই লেখার কারণে আক্রমণের শিকার হবেন তিনি, তার অঙ্গহানি ঘটবে। সে অন্যায়ের না হবে তদন্ত, না হবে বিচার! দেশে পাঁচ পাঁচটা বছর ধরে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলতে থাকবে। রাঘব বোয়াল রাজাকার থেকে শুরু করে অলিগলির ছিঁচকে রাজাকার দু'একজনেরও বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে, রীতিমতো দেশ আর দুনিয়া কাঁপিয়ে। সেখানে কারও হবে ফাঁসী, কারও হবে জেল। কিন্তু সেই একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে নিয়ে না আলোচনা হবে মিডিয়ায়, না খোলা হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তের কোনো ফাইল। এবং এমনটাই হতে থাকবে। কারণ, ততোদিনে সেই চিহ্নিত অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীর এমনকি সামাজিক আত্মীয়তার বন্ধন তৈরী হয়ে গেছে রাজনৈতিক সরকারের কেন্দ্রীয় বলয়ের প্রভাবশালীদের সাথে! সেই খুঁটির জোরে রাজাকার সাহেব মহাসমারোহে ঢাক ঢোল পিটিয়ে দেশে আসবেন, পাঁচ তারা হোটেলে তার সম্বর্ধনা হবে, তাকে নিয়ে আলোচনা হবে, কিছু কুলাঙ্গার নির্বোধও জুটে যাবে তার গুনগান গাইবার! ১৪ বছর আগে সেই যে এক সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছিলেন - তার পর আর কিছু ঘটেনি, ঘটবে না। কারণ, তার উপর সব দায় চাপিয়ে দিয়ে আমরাও একটা পুরো জাতি ততোদিনে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে চলে গেছি। সেই সাংবাদিককেই অগত্যা এবারও আবার কলম তুলে নিতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। কারণ একটাও মানুষের মতো মানুষ নেই কোথাও প্রতিবাদ করবার মতো। লিখবার জন্য শুধু সেই সাংবাদিকের জীবনই আবার নতুন করে বিপন্ন হবে, সরাসরি জীবননাশের হুমকি ঝুলবে তার সামনে। যেন এর মাধ্যমে এই বার্তাটুকু সবার কাছে পৌঁছে দেয়া - প্রভাবশালী সরকারী আত্মীয় যে সব যুদ্ধাপরাধী - তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখিয়েছো - তাহলে তুমি তো মরবেই, তোমার পরিবারকেও বাঁচতে দেয়া হবে না। আর হুমকিদাতাদের স্রেফ মর্জির কারণে দৈবাত যদি এখনো বেঁচেও থাকো, তাহলেও মৃত্যুর খাঁড়া তোমার মাথার উপর ঝুলতে থাকবে সবসময় - সেটা নিয়েই জীবনযাপন করতে হবে তোমাকে এবং তোমাদের মতো আর সবাইকে! এসব যখন চলতে থাকবে তখন সামাজিক নেটওয়ার্কে, ফেসবুকে - আমাদের দিবারাত্র বকবক করার মতো বিষয়ের কোনো অভাব পড়বে না। শুধু এই ইস্যুতে কাজ করবার মতো সময় হবে না আমাদের বেশীর ভাগেরই। এখানে "আমরা" মানে তারা যারা নিজেদের তথাকথিত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক ইত্যাদি বলে দাবী…

সাহিত্যচর্চায় ও প্রকাশনায় প্রতিভা ও সুরুচির স্বাক্ষর রেখেও শওকত ওসমান চৌধুরী যবনিকার আড়ালেই থেকে গেলেন আজীবন। [...]

রিমঝিম একটি কৈশোরক সংকলন; সম্পাদক ও প্রকাশক : শওকত ওসমান চৌধুরী, প্রকাশকাল : শ্রাবণ ১৩৭৭। সিগনেট প্রেস লি.-এ মুদ্রিত এই বর্ষাযাপিত সংকলন প্রকাশিত হয় ১৯, শেরে বাঙলা ছাত্রাবাস, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম থেকে। বৃষ্টিস্নাত শিউলিফুলে খচিত মনোরম প্রচ্ছদটি এঁকেছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সবিহ্-উল আলম। মূল্য : পঞ্চাশ পয়সা। সে-সময়ের (১৯৭০) প্রেক্ষিতে এরকম রুচিশীল ও সুচিন্তিত সাহিত্যসংকলনের প্রকাশ অভিনন্দনযোগ্য, বলা যায়। সূচিপত্রে চোখ বোলালেই বোঝা যাবে, ষাট-সত্তরের দশকে বিকাশমান এমনকী প্রখ্যাত অনেকেরই রচনা পরম যত্নে ধারণ করে আছে প্রায় তিন ফর্মার এই সংকলন―চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত হলেও এটি আঞ্চলিকতা বা গোষ্ঠীবদ্ধতার চর্চা করেনি; লেখকতালিকা দেখা যাক : নজরুল আব্বাস, দিলওয়ার, শেখ তোফাজ্জল হোসেন, সালেহ আহমদ, আলী ইমাম, শাহাদত হোসেন বুলবুল, মসউদ-উশ-শহীদ, মোসতাফা মহিউদ্দীন খসরু, খালেক বিন জয়েনউদ্দিন, মোরশেদ শফিউল হাসান, সিরাজুল উসলাম, প্রণত বড়ুয়া, বখতেয়ার হোসেন, আবদুল হাদী, শফিকুল ইসলাম, শামসুল করিম কয়েস, ইফতেখার হোসেন, ওয়াহিদুজ্জামান, মাহমুদ হক, রণজিৎ বরণ দেব, রোকেয়া খাতুন রুবী, শওকত ওসমান চৌধুরী, হাফিজউদ্দিন আহমদ, আলী আহসান কাজল, তানজিমা হক, মাসুদুজ্জামান। ভূজপুর ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন বাংলার শিক্ষক ও গবেষক চৌধুরী আহমদ ছফাকে (১৯৩০-২০০৮) একটি স্বাক্ষরিত রিমঝিম উপহার দিয়েছিলেন সম্পাদক শওকত ওসমান চৌধুরী। তিনি ছিলেন চৌধুরী আহমদ ছফার ছাত্র ও জ্ঞাতিসূত্রে ভ্রাতুষ্পুত্র। পরলোকগত মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী ও নুরনাহার বেগমের জ্যেষ্ঠ সন্তান শওকত ওসমান চৌধুরীর জন্ম চট্টগ্রামের ভূজপুর থানার আজিমপুর গ্রামে। চৌধুরী আহমদ ছফার মুখেই শুনেছি, ইংরেজি সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র শওকত ওসমান চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংক-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উচ্চতর পদে কর্মরত ছিলেন, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত এবং ঢাকানিবাসী। ছাত্রাবস্থায় সাহিত্যচর্চায় যুক্ত থাকলেও পরবর্তীকালে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে যান লেখালেখির জগৎ থেকে, অন্তত তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে দেখা যায় না কোথাও। নিজ গ্রামের সঙ্গেও বোধহয় তাঁর যোগাযোগ নেই দীর্ঘদিন ধরে। ভূজপুরেরই সন্তান অধ্যাপক রণজিৎ বরণ দেব ছিলেন শওকত ওসমান চৌধুরীর সহপাঠী; রিমঝিম-এ তাঁর একটি ছড়া তো আছেই, প্রকাশনা-সহযোগীদের মধ্যেও তিনি অন্যতম। আজিমপুর গ্রামের একটি দীর্ঘ সাহিত্যিক-ঐতিহাসিক পটভূমি আছে। কালান্তরসাহিত্যে ফটিকছড়ির এক বিস্মৃত অধ্যায় (২০০১) গবেষণাগ্রন্থ ও বিষণ্ন বিকেল (২০০৬) কাব্যের স্রষ্টা চৌধুরী আহমদ ছফা ছাড়াও কবি ও জমিদার কাজী হাসমত আলী (জন্ম : ১৮৩২) বিদ্বৎসমাজে সুপ্রসিদ্ধ; তাঁর প্রকাশিত কাহিনিকাব্য চিনফগপুর সাহা (রচনাকাল : ১৮৫০) আবিষ্কার করেন…

আলেক্সিস সিপ্রাসকে গ্রিসের মানুষ বেছে নিয়েছিলেন বোধ হয় এ কারণে যে, তিনি একজন বামপন্থী। তাঁরা হয়তো ভেবেছিলেন, ২০০৮ সাল থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গ্রিসে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, একজন বামপন্থীর নেতৃত্বে গঠিত সরকারই পারবে তা সামাল দিতে [....]

আলেক্সিস সিপ্রাসকে গ্রিসের মানুষ বেছে নিয়েছিলেন বোধ হয় এ কারণে যে, তিনি একজন বামপন্থী। তাঁরা হয়তো ভেবেছিলেন, ২০০৮ সাল থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গ্রিসে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, একজন বামপন্থীর নেতৃত্বে গঠিত সরকারই পারবে তা সামাল দিতে। এরই ধারাবাহিকতায় জুনের শেষ সপ্তাহে সিপ্রাস যে গণভোটের ডাক দিয়েছিলেন, তাতেও গ্রিসের জনগণ ভোট দিয়েছিলেন ত্রৈকা তথা ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর না করার পক্ষে। জোসেফ স্টিগলিজ ও পল ক্রুগম্যানের মতো অর্থনীতিবিদরাও গ্রিসের নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন, তাঁদের নিজস্ব মুদ্রা দ্রাখমা আবারো চালু করে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে গ্রিসের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তুলতে। কিন্তু সেসব করতে গেলে ইউরোর পিছুটান ঝেড়ে ফেলতে হতো গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপ্রাসকে, যা করার সাহস ছিল না তাঁর। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে তাই তৃতীয়বারের মতো গ্রিসকে তার ঋণসংকট থেকে উদ্ধার করার নামে আরো ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিতে সক্ষম হয়েছে ইউরোজোন। ইউরো ব্যবহারকারী ১৯টি রাষ্ট্রের জয় হয়েছে, জয় হয়েছে গ্রিসের অস্বাভাবিক ধনীদের। ব্রাসেলসে এমন একটি চুক্তি হয়েছে, যা সবাইকে মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯১৯ সালের কথা—ভার্সাইয়ের কথা। প্রথম মহাযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর পুরো ইউরোপ তাদের বাধ্য করেছিল ভার্সাই চুক্তি করতে। যার ফলে পরবর্তী সময়ে অনিবার্য হয়ে উঠেছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ। ব্রাসেলস চুক্তি যদি সত্যিই বাস্তবায়ন হয়, তা হলে অবশ্যম্ভাবীভাবেই গভীর এক সংকটের দিকে ইউরোপ এগিয়ে যাবে। দ্য গার্ডিয়ানে একজন মন্তব্য করেছেন, ভার্সাইয়ের ওই চুক্তির চেয়েও অবমাননাকর নতুন এই চুক্তি। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যান এ চুক্তিকে অভিহিত করেছেন ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ’ হিসেবে। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও এই চুক্তি হওয়ার মাস দেড়েক আগে নিউ স্টেটসম্যানে গ্রিসের অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রসাধনায় কোনো লাভ হবে কি না, তা নিয়ে নিবন্ধ লিখেছিলেন। তাতে তিনি বিরোধিতা করেছেন চাপিয়ে দেওয়া এই কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচির। প্রসঙ্গত, তিনি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন ১৯১৯ সালের ৫ জুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লয়েড জর্জকে উদ্দেশ করে লর্ড ম্যানিয়ার্ড কেইন্সের একটি উদ্ধৃতি, যার মাধ্যমে অর্থনীতিবিদ কেইন্স নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন প্রথম মহাযুদ্ধের পরে সম্পাদিত ভার্সাই শান্তিচুক্তির দৃশ্যপট থেকে। কেননা কেইন্সের মতে, কৃচ্ছ্রসাধনার মধ্য দিয়ে এ ধরনের সংকটের সমাধান করা যায় না; বরং তা আরো ঘনীভূত হয়। পরে তিনি এ প্রসঙ্গে একটি…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.