সেনাবাহিনী বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা নিতে পারে- গত ২১ ডিসেম্বর এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ফরেন পলিসির অনলাইন সংস্করণে, জোসেফ অলচিনের ‘দ্য মিডলাইফ ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। অথচ ২০১২ সালের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাই হলো, একটি সামরিক ক্যু-এর অপচেষ্টাকে নসাৎ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। ভবিষ্যতে সত্যিই কি এমন কিছু ঘটবে?[...]

সেনাবাহিনী বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা নিতে পারে- গত ২১ ডিসেম্বর এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ফরেন পলিসির অনলাইন সংস্করণে, জোসেফ অলচিনের ‘দ্য মিডলাইফ ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। অথচ ২০১২ সালের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাই হলো, একটি সামরিক ক্যু-এর অপচেষ্টাকে নসাৎ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। ভবিষ্যতে সত্যিই কি এমন কিছু ঘটবে? বাংলাদেশের রাজনীতিকে যেসব ঘটনা, সংশয় ও গুঞ্জন অস্বচ্ছ করে রেখেছে, রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের অন্ধকারে রেখেছে, সেসবের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন এই গুঞ্জনভিত্তিক প্রতিবেদন। আর সে প্রতিবেদনটি প্রকাশ পেয়েছে ফরেন পলিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বি-মাসিক পত্রিকার ওয়েবসাইটে। এ রকম একটি নয়, অসংখ্য গুঞ্জন ও অপপ্রচার অস্বচ্ছ ও অস্পষ্ট করে রেখেছে আমাদের রাজনীতিকে। দিন আনি দিন খাই মানুষদের কাছে এখন তাই একটি বড় প্রশ্ন, আমাদের এ রাজনীতির গন্তব্য কোথায়? রাজনীতি নিঃসন্দেহে গতিশীল ও প্রবহমান, কিন্তু তার তো একটি গতিমুখ থাকে, লক্ষ্য থাকে। কিন্তু তেমন কিছু কি আছে চলমান রাজনীতির? অনেক উত্তর দেয়া যাবে এই প্রশ্নের, কিন্তু পরক্ষণেই আমরা দেখতে পাব, সেসব উত্তরও প্রশ্ন হয়ে ছুটে আসছে আমাদের দিকে। এই রাজনীতি কি চায় আমাদের গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে যেতে? তা হলে সাংবিধানিকভাবে সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ হলেও এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কেন নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে জাতীয় সংসদকে? এই রাজনীতি কি চায় আমাদের জীবনযাপনের নিরাপত্তাব্যূহ তৈরি করতে? তা হলে কেন বিশ্বজিতের মতো জীবন ঝরে যায় রাজপথে? এই রাজনীতি কি চায় আমাদের ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতা দিতে? সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন উঠবে, আমাদের রাষ্ট্র কি আদৌ বোঝে ব্যক্তির স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা? আর আমরাইবা কতটুকু প্রস্তুত রয়েছি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যক্তির ও বাকস্বাধীনতার অনুশীলন করতে? এই রাজনীতি কি চায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে? তা হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কেন এত সমালোচনা, কেনইবা এত ষড়যন্ত্র? এই রাজনীতি কি চায় সবার অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে? তা হলে কেন তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে, কর্মসূচিতে কোনো প্রতিফলন নেই সেসবের? প্রধান রাজনৈতিক কোনো দল একটি হরতালও কি করেছে খাদ্য সঙ্কট কিংবা দ্রব্যমূল্যের ক্রমবৃদ্ধি নিয়ে? এ রকম অনেক প্রশ্নই আমরা করতে পারি। আর সেসবের উত্তরের জের ধরে আমাদের মনে দেখা দেয় আরো অজস্র প্রশ্ন। যদিও এক অর্থে বলতে গেলে, এসব প্রশ্ন এবং উত্তরও হয়তো অর্থহীন; কেননা যেসব রাজনৈতিক দল…

দ্য ট্রায়াল অব দ্য বার্থ অব আ নেশন -- সোজা বাংলায় বলতে গেলে একটি রাষ্ট্রের জন্মবিচার; লন্ডন থেকে প্রকাশিত ইকোনমিস্ট-এর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল এটি। ইকোনমিস্ট কি তাদের এই শিরোনাম বুঝেশুনে দিয়েছে? জানা নেই আমাদের। তবে বুঝে হোক আর না-বুঝে হোক, ইকোনমিস্ট একটি নির্মম সত্যই বলে বসেছে, বাংলাদেশে এখন চূড়ান্ত অর্থে এই রাষ্ট্রের জন্মের বিচারকাজ চলছে। [...]

যুদ্ধাপরাধী বিচারের রাজনীতি ৪ দ্য ট্রায়াল অব দ্য বার্থ অব আ নেশন -- সোজা বাংলায় বলতে গেলে একটি রাষ্ট্রের জন্মবিচার; লন্ডন থেকে প্রকাশিত ইকোনমিস্ট-এর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল এটি। ইকোনমিস্ট কি তাদের এই শিরোনাম বুঝেশুনে দিয়েছে? জানা নেই আমাদের। তবে বুঝে হোক আর না-বুঝে হোক, ইকোনমিস্ট একটি নির্মম সত্যই বলে বসেছে, বাংলাদেশে এখন চূড়ান্ত অর্থে এই রাষ্ট্রের জন্মের বিচারকাজ চলছে। এই জনপদের মানুষ তখন চেয়েছিল পাকিস্তানের সামরিক শাসন ও দ্বিজাতিতত্ত্বভিত্তিক রাষ্ট্রের বাইরে এসে গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে। অন্যদিকে, এরকম রাষ্ট্র যাতে মুক্তিকামীরা প্রতিষ্ঠা করতে না পারে সেজন্যে বিরোধীরা সবরকম সহিংস পথ বেছে নিয়েছিল। ইকোনমিস্টের শিরোনাম তাই পুরোপুরি ইঙ্গিতময় : এই রাষ্ট্রে কি তারা আইনের উর্ধ্বে থাকবে, যারা একদিন এই রাষ্ট্রের জন্ম ঠেকানোর জন্যে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে সব কিছু করেছে? ওরাই করবে রাষ্ট্র পরিচালনা যারা একাত্তরে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করেছে একটি রাষ্ট্রের জন্মযন্ত্রণা? আর এর বিপরীতে তাদের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবে ন্যায় বিচার, যারা একদিন এই রাষ্ট্রের জন্যে স্বজন হারিয়েছে, ধর্ষণের শিকার হয়েছে আর পালিয়ে থেকে জীবন বাঁচিয়েছে? না কি বাংলাদেশ একাত্তরের সেইসব পরিবারের জন্যে ন্যায় বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রমাণ করবে, যারা ম্যাসাকারের শিকার হওয়ার মধ্যে দিয়ে খুব সরল সিধা এই সত্য তুলে ধরেছিল যে, তাদের আকাঙ্ক্ষিত নতুন একটি রাষ্ট্রের জন্মের জন্যে যে কোনও পরিণতি বরণ করতে রাজি তারা? যেমনটি বলেছিলেন খান সারওয়ার মুরশিদ একাত্তরের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের শপথবাণীর একটি বাক্য হিসেবে : ‘আমরা অঙ্গীকার করছি স্বাধীনতার জন্য জীবন সম্পদ সব দেব।’ আজ হয়তো অনেকে কথাটি মানতে রাজি হবেন না, কিন্তু ভবিষ্যত প্রমাণ করবে, এই প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্যে দিয়ে ইকোনমিস্ট পৃথিবীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে দাঁড়িয়ে জঘন্য কালো একটি অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে মিশন নিয়ে ইকোনমিস্ট এখন মাঠে নেমেছে সে মিশনকে বৈধতা দিতে তারা মীমাংসিত বিষয়কেও অমীমাংসিত করে তোলার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। যেমন, প্রতিবেদনের প্রথম পরিচ্ছেদেই তারা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা উল্লেখ করতে গিয়ে জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা তিন লাখ থেকে বর্তমান সরকারের দাবি অনুযায়ী ত্রিশ লাখের মধ্যে একটা কিছু হবে। যুদ্ধাপরাধীদের…

গত ৩১ জানুয়ারি ২০১২, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দক্ষিণ এশীয় ডেলিগেশনে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়ের করা আসামী পক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগসমূহ খণ্ডন করে ট্রাইবুনালের প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট জেয়াদ-আল-মালুম, যা এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রেকর্ডের অংশ হিসেবে বিবেচিত। এখানে তাঁর বক্তব্যের বঙ্গানুবাদ।

গত ৩১ জানুয়ারি ২০১২, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দক্ষিণ এশীয় ডেলিগেশন বাংলাদেশে বর্তমানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল নিয়ে সকল পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল -- বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিচারে অভিযুক্তের অধিকার কতটুকু সংরক্ষিত হচ্ছে। এই বিষয়ে আসামী পক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পূর্বেই ট্রাইবুনালের প্রক্রিয়াকে সমালোচনা করে বিস্তারিত আইনি ব্রিফ জমা দেয়া হয়। ৩১ তারিখে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শুনানির লক্ষ্য ছিল ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়ের করা আসামী পক্ষের আইনজীবীদের এই সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই। আসামী পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে টোবি ক্যাডম্যান বক্তব্য রাখেন। বিপরীতে ট্রাইবুনালের প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট জেয়াদ-আল-মালুম, যা এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রেকর্ডের অংশ হিসেবে বিবেচিত। তাঁর বক্তব্যে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কীভাবে তদন্ত ও বিচারের উন্নত মানদণ্ডের নীতিসমুহ পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করে তা বর্ণনা করেন।মূল ইংরেজিতে দেয়া বক্তব্যটি প্রথম প্রকাশিত হয় আইসিএসএফ এর ব্লগে যা থেকে আইসিএসএফ অনুবাদ টিমের সদস্যবৃন্দ বাংলায় অনুবাদ করেছেন। যুদ্ধাপরাধীরা এবং তাদের সমর্থনকারী দলগুলোর প্রতিনিয়ত বিচারের মান নিয়ে করা মিথ্যাচারে যাঁরা বিচার ব্যবস্থা নিয়ে সংশয়ী এবং একই সাথে যাঁরা পুরো পক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেতে চান লেখাটি তাঁদের কাজে লাগবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ডেলিগেশনের সামনে পুরো শুনানিটিতে সকল পক্ষের বক্তব্য নীচের এই ভিডিও থেকেও দেখে নেয়া যাবে: --------------------------------------------------- বাংলাদেশ বিষয়ক সভা: যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে মতবিনিময় দক্ষিণ এশীয় দেশসমূহের সম্পর্কবিষয়ক কমিটি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ৩১ জানুয়ারি ২০১২ কক্ষ ১ই-২, আলতেইরো স্পিনেল্লি ভবন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ব্রাসেলস বক্তব্য - এডভোকেট জেয়াদ-আল-মালুম, প্রসিকিউটর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ________________________ ইয়োরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টের সন্মানিত সদস্যবৃন্দ, ভদ্রমহিলা এবং ভদ্রমহোদয়গণ:   ১. প্রথমেই ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, দক্ষিণ এশীয় ডেলিগেশনের সদস্যবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ করে দেবার জন্য। বাংলাদেশে সংঘটিত ১৯৭১ সালের অপরাধসমূহের বিচারের দাবীকে সবসময় সমর্থন জানিয়ে আসার জন্যও আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি ইয়োরোপীয় পার্লামেন্টে ইতঃপূর্বে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা, বিশেষ করে ২০০৫ সালে যখন আপনারা ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারের সন্মুখীন করার দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।   ২. এছাড়াও ধন্যবাদ জানাই ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ (ICDB) এবং বাংলাদেশ সাপোর্ট…

[...] খুন-ধর্ষণের বিচার হতেই হবে, সেটাই কি ইসলাম নয়? সেটা তখনই “ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র” হয় যখন খুনী ধর্ষকেরা ইসলামের মালিকানা হাতিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে। অপরাধীরা চিরকাল ‘‘ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র”, “কোরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র” এসব বাহানায় নিজেদের শুধু রক্ষাই করেনি বরং প্রতিপক্ষকে হেনস্থা ও হত্যা করেছে। কারবালায় শিশু-নারী সহ ইমাম হুসেইন (রা.)-কে নৃশংসভাবে হত্যার আগে ‘‘ইসলাম রক্ষা”র হুজুগ এরাই তুলেছিল। ‘‘ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র” চীৎকারে এরাই কাবার দেয়াল ভেঙে তার চাদর আগুনে পুড়িয়েছিল, হজরত জুবায়েরকে কাবার ভেতরে হত্যা করেছিল। আজ গণহত্যা ও গণধর্ষণের মত মারাত্মক অপরাধের বিচার বানচাল করতেও এরা ইসলামকে হাতিয়ার করার চেষ্টা করছে । [...]

‘‘অথচ ক’দিন আগে গো-আযমকে দেখলাম হেঁটে মসজিদে যেতে যেতে টিভি ক্যামেরায় কথা বলছে” -- শরিফ এ. কাফি উল্লাসে ফেটে পড়েছে জাতি। অবশেষে বিচারের লাঠি একাত্তরের গণহত্যাকারী গণধর্ষণকারীদের তাড়া করেছে । যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামাতের তখনকার আমীর গোলাম আজম ও কিছু কেন্দ্রীয় নেতাদের বিচার চলছে। জামাত ও তার সহযোগীরা দাবী করছে এ বিচার নাকি ইসলাম ধ্বংসের ষড়যন্ত্র। কী নির্লজ্জ মিথ্যা কথা! খুন-ধর্ষণের বিচার হতেই হবে, সেটাই কি ইসলাম নয়? সেটা তখনই “ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র” হয় যখন খুনী ধর্ষকেরা ইসলামের মালিকানা হাতিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে। সেজন্যই নিজামী চটগ্রামের এক বক্তৃতায় বলেছিল জামাতের সমালোচনা করা নাকি ইসলামের সমালোচনা করা। স্পর্ধা দেখুন!! ওদের ভয়ংকর ইসলামি ব্যাখ্যাই ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র যা আসলে মৌদুদিবাদ। সেজন্যই মৌদুদী'র উত্থানকালে ভারতবর্ষের বহু মওলানা তাঁকে কাফের বলেছেন, দজ্জাল বলেছেন। সৌদি পেট্রোডলার আর অপরাজনীতির ষড়যন্ত্র না হলে এই অপশক্তির মৃত্যু তখনই হত। বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতি না হলে তাদের কোথাও জায়গা হত না, চেহারায় জনগণের ঘৃণার থুথু নিয়েই মরতে হত। এদের কারণেই রসুল বলেছেন: ‘‘উম্মতের জন্য আমার সর্বাপেক্ষা গভীর উদ্বেগ পথভ্রষ্টকারী ইমামদের নিয়া” -- সহি ইবনে মাজাহ ৫ খণ্ড ৩৯৫২। অপরাধীরা চিরকাল ‘‘ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র”, “কোরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র” এসব বাহানায় নিজেদের শুধু রক্ষাই করেনি বরং প্রতিপক্ষকে হেনস্থা ও হত্যা করেছে। কারবালায় শিশু-নারী সহ ইমাম হুসেইন (রা.)-কে নৃশংসভাবে হত্যার আগে ‘‘ইসলাম রক্ষা”র হুজুগ এরাই তুলেছিল। ‘‘ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র” চীৎকারে এরাই কাবার দেয়াল ভেঙে তার চাদর আগুনে পুড়িয়েছিল, হজরত জুবায়েরকে কাবার ভেতরে হত্যা করেছিল। “কোরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র” চীৎকারে এরাই ইমাম বুখারীকে আমৃত্যু নির্বাসনে পাঠিয়েছে, ইবনে খালদুনের মত "ইতিহাস বিজ্ঞানের পিতা"কে দেশে দেশে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে, বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানীর মত দরবেশকে "কাফের" ফতোয়া দিয়েছে। এরা একাত্তরের ঘাতক, এরা ধর্মদস্যু, এরা আমেরিকা-ইউরোপ যেখানেই পালিয়েছে, আলখাল্লা-দাড়ি-টুপি পরে ইসলামি সংগঠনে ঢুকে পড়েছে। লন্ডনের আবু সাঈদ, মইনুদ্দীন, নিউ ইয়র্কের আশরাফ তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আজ গণহত্যা ও গণধর্ষণের মত মারাত্মক অপরাধের বিচার বানচাল করতেও এরা ইসলামকে হাতিয়ার করার চেষ্টা করছে । ইসলামের ধ্বজাধারী এই ধর্মদস্যুরা মিথ্যের পর মিথ্যেও বলে চলেছে। অথচ কোরান কতবার বলেছে সত্য গোপন না করতে, মিথ্যা থেকে দূরে থাকতে -- (বাকারা ১০, ৪২ ও ২৮৩, মায়েদা…

...২০১২-এর ১১ জানুয়ারিও হয়তো ২০০৭ সালের পুরানো চেহারায় ফিরে যেতে পারত। এ ধরণের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটানোর মূল ধাত্রী বলে যাদের মনে করা হয় তাদের উৎসাহিত করার চেষ্টাও হয়েছে নানাভাবে। ‘সামরিক বাহিনীর মেধাবী কর্মকর্তারা গুম খুনের শিকার হচ্ছেন’, রাজনৈতিক অঙ্গনের এরকম বক্তব্যে ও লিফলেটে সেনাবাহিনীতে ভীতি-অসন্তোষ এবং বিক্ষোভ দেখা দেয়া অস্বাভাবিক ছিল না। নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরিরের পক্ষ থেকে তো সেনাবাহিনীর প্রতি সরাসরি বর্তমান সরকারকে অপসারণের আহ্বানই রাখা হয়েছিল। ...

একটি ক্রান্তিদিনই বলা যায় বোধকরি এবারের ১১ জানুয়ারিকে। এ দিনে আমাদের মনে হয় ২০০৭ সালের কথা, সামরিক বাহিনীশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উত্থানের কথা। সামরিকতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে দিয়েই সম্ভব রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের পথ বন্ধ করা-এরকম একটি পাকিস্তানবাদী, সামরিকতান্ত্রিক ধারণা ফিরে আসতে শুরু করে ওই ১১ জানুয়ারি থেকে। এবং এ ধারণার পালে বাতাস যোগাতে থাকেন সুশীল নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীরা। সেই অর্থে, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সুশীলতন্ত্র ও সামরিকতন্ত্রের গাঁটছড়া বাঁধার দিবসও বটে। ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারিও একইভাবে আলোচিত হয়ে উঠেছে। জনগণ দেখেছে, এদিন একদিকে গোলাম আযম গ্রেফতার হচ্ছেন, অন্যদিকে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে যাচ্ছেন, একইসঙ্গে আবার বিএনপি বিবৃতি দিয়ে জানাচ্ছে, সরকার ‘আইএসপিআরকে দিয়ে উস্কানি দিচ্ছে (প্রথম আলো, ২৯ পৌষ ১৪১৮)।’ রাজনীতির এরকম বড় বড় ঘটনাগুলির বাইরে ওইদিন দেখা গেছে, সিআইডি অভিযোগপত্র দিচ্ছে আওয়ামী লীগের কর্মী ইব্রাহিম আহমেদ খুনের মামলায় ভোলা-৩ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ নূরন্নবী চৌধুরী শাওনকে বাদ দিয়ে। সাক্ষী করা হয়েছেন নূরন্নবী শাওনকে (প্রথম আলো, ২৯ পৌষ ১৪১৮)। এখন জানা যাচ্ছে, এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার খন্দকার মোঃ আবদুল হালিম বিয়ে করেছেন এমপি শাওনের আপন মামাতো বোনকে (মানবজমিন, ১ মাঘ ১৪১৮)। নারায়নগঞ্জে এইদিন ‘যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ কমিটি’র নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে (প্রথম আলো, ২৯ পৌষ ১৪১৮) সরকার আমাদের আবারও নিশ্চিত করেছে, গণতন্ত্র আর সরকারি গণতন্ত্র দু’ রকম গণতন্ত্র, সরকারি গণতন্ত্রে নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন জায়েজ করা আছে। অনেকেই হয়তো একমত হবেন না, তবে মনে হচ্ছে, এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল আইএসপিআর’এর বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি’র বিবৃতিটি। এ বিবৃতি থেকে মনে হওয়া স্বাভাবিক, বাংলাদেশের প্র্রধান বিরোধী দল বিএনপি সামরিক বাহিনীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা মনে করে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে থাকায় আইএসপিআর’কে বিরোধী দলীয় নেত্রীর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা মনে করছেন, বেসামরিক পর্যায়ে যেমন গুম খুন চলছে, সামরিক সামরিক কর্মকর্তারাও তেমনি গুম হয়ে যাচ্ছেন (প্রথম আলো, ২৭ পৌষ ১৪১৮)। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিএনপি’র এ অভিযোগ খুবই স্পর্শকাতর অভিযোগ। সামরিক বাহিনীতে কারও বিরুদ্ধে কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে সে অপরাধ বিচারের জন্যে বাহিনীটির নিজস্ব আইন আছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার এ অভিযোগ…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.