বাংলাদেশে জোট রাজনীতির সূচনা স্বাধীনতার পরপরই, ১৯৭২ সালে। তবে স্বাধীনতার প্রথম দশকে গঠিত রাজনৈতিক জোটগুলো রাষ্ট্রক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। জোট রাজনীতির বাস্তব ও কার্যকর রূপ স্পষ্টভাবে দেখা যায় মূলতঃ জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের সময় থেকে।
১৯৮৮ সালের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৮–দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭–দলীয় জোট, বাম দলগুলোর নেতৃত্বে ৫–দলীয় জোট এবং জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে আন্দোলনকে বেগবান করে তোলে। একই সময়ে ছাত্রসমাজ ২২–দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই সম্মিলিত আন্দোলনের চাপে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এলেও গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের রূপরেখা বাস্তবায়নে তারা আগ্রহ দেখায়নি। বরং কয়েকটি উপ-নির্বাচন সরকারি ছত্রছায়ায় এতটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে যে ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জীবন রক্ষার্থে এলাকা ত্যাগে বাধ্য হন। এর পরিণতিতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে প্রায় সব রাজনৈতিক দল আবারও আন্দোলনে নামে।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ‘জনতার মঞ্চ’ ব্যানারে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠে। জাতীয় পার্টি ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ এবং জামায়াতে ইসলামী ‘কেয়ারটেকার মঞ্চ’ গঠন করে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত দেড় মাসের মাথায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপি সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সরকারের শেষের দিকে ১৯৯৯ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চার দলীয় জোট গঠিত হয় ( বিএনপি , জাতীয় পার্টি , জামায়াতে ইসলামী , এবং ইসলামী ঐক্যজোট )। তবে কিছুদিনের মধ্যে এরশাদের জাতীয় পার্টি চার দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেলে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটা অংশ চার দলীয় জোটে থেকে যায় ।
ঐ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বা বাম দলগুলোর নেতৃত্বে তেমন কার্যকরি কোন জোট না থাকার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি–জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং একই সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে। পরিণতিতে রাষ্ট্র ও সমাজ এক গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে।
এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও ১৯৭২ সালের সংবিধানের চেতনায় বিশ্বাসী একটি আদর্শিক জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। আওয়ামী লীগ এবং বাম দলগুলোকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শসমূহকে অন্যতম নৈতিক চেতনা রূপে ধারণ করে যে সব দল ও গোষ্ঠী, তাদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি আদর্শিক জোট গঠনের কথাবার্তা চলতে থাকে ।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর নৃশংস গ্রেনেড হামলার পর এই উদ্যোগ আরও ত্বরান্বিত হয়। যার ফলে বাম দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১১–দলীয় জোট গঠিত হয়।
এই জোটের অংশীদার দলগুলো ছিল সিপিবি , ওয়ার্কার্স পার্টি , গণফোরাম , সাম্যবাদী দল , বাসদ (খালেক), বাসদ ( মাহবুব), গণতন্ত্রী পার্টি , গণ আজাদী লীগ ,কমিউনিস্ট কেন্দ্র , গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি , ও শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল । ১১ –দলীয় জোটে না থেকেও জাসদ (ইনু ) বিশেষ করে এর সভাপতি জনাব হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একটি বৃহত্তর আদর্শিক জোট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন । সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০০৫ সালে এই ১১–দলীয় বাম জোটের সাথে আওয়ামী লীগের ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু হলে সিপিবি , বাসদের দুই অংশ এবং শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল জোট থেকে বেরিয়ে যায় । জোটের বাকি সাতটি দল আওয়ামী লীগের সাথে আদর্শিক জোট গঠনে এগিয়ে যায় । তাদের সাথে যুক্ত হয় জাসদ ( ইনু ) যা পরবর্তীতে ভাগ হয়ে জাসদ (ইনু), এবং জাসদ ( আম্বিয়া ) দুই দল হয় । এই গ্রুপে আরও যুক্ত হয় ন্যাপ ( মুজাফ্ফর ), জাতীয় পার্টি ( মুনজু ), তরিকত ফেডারেশন এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল । এক সময় গণফোরামও জোট ছেড়ে চলে যায় । এই ভাবে দলের সংখ্য়া সময়ে সময়ে কম বেশি হয়ে এক সময় তা ১৪ –দলীয় জোট হিসেবেই স্থায় িহয় এবং আজ পর্যন্ত বলবৎ আছে ।
মুক্তিযুদ্ধ , বংগবন্ধু , ৭২ এর সংবিধান , অসম্প্রদায়িক চেতনা সহ ২৩ দফার উপর ভিত্তি করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই ১৪ –দলীয় জোট একটি আদর্শিক জোট হিসেবে ২০০৫ সালে গঠিত হয়েই বিএনপি –জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে । ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ –দলীয় জোট জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টিকে নিয়ে মহাজোট গঠন করে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে ।
২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে, বিশেষ করে শেষ কয়েক বছরে, শরিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক নিয়ে মান–অভিমানের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে উঠে এলেও আদর্শিক জোট কাঠামোটি কার্যত অটুট ছিল।
https://bangla.bdnews24.com/politics/19eff43d5926
কিন্তু ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপট আগের সব রাজনৈতিক সংকট থেকে গুণগতভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগের সংকটগুলো মূলতঃ ছিল ক্ষমতা বদলের লড়াই; ২০২৪ হলো বাংলাদেশ রাষ্ট্র, ইতিহাস ও নাগরিক স্মৃতিকে নতুন করে লেখার অপপ্রয়াস।
এই সময়টিকে যথার্থভাবে চিহ্নিত করতে গেলে বলা যায় — এটি একটি পাল্টা–রাষ্ট্র (counter-state) প্রতিষ্ঠার সময়, যখন জাতীর যৌথ মহাকালীন স্মৃতি ও ১৯৭১ এ জন্ম নেয়া রাষ্ট্রীয় সংবিধানের অধীনস্ত যাবতীয় আইনের বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরু হয়েছে এক তঞ্চকতামূলক সামাজিক প্রতিবাদের মাধ্যমে। এ সময় যে যুদ্ধ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে তাতে শত্রু সরাসরি কোনো ওপেন দ্বৈরথ আহ্বান করে নি। শত্রু বাংলাদেশের দূর্বল জনগণ, যারা মায়ার বশ, স্নেহময়, তাদের আবেগকে ব্যবহার করে তাদের সন্তানকে হত্যা করে তাদের রাজপথে রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির কাজে লাগিয়েছে, সরকার পতন গটিয়ে রাষ্ট্রের যাবতীয় প্রতিষ্ঠান দখল করেছে। এরপর জনগণের নিরাপত্তারক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে করায়ত্ত্ব করে নিষ্ক্রিয় করার পর নিজেদের ইসলামিক মিলিশিয়াকে মবের ভূমিকায় নামিয়ে হত্যা, ধ্বংস, বলাৎকার ধর্ষন ও গণভাবে অসম্মানের মাধ্যমে যা তারা প্রতিষ্ঠা করেছে গত সতের মাস মাৎস্যন্যায় এবং গণনীরবতার যুগের সূচনা মাত্র। একই সাথে তারা রাষ্ট্রের ও জাতির এমন কি এ অঞ্চলের সুফী ইসলামের ইতিহাস মুছে ফেলার মাধ্যমে রাষ্ট্র পুণর্গঠনের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী চাত্র শিবির ও বিএনপির নেতৃত্বে তাদের ইসলামী এ্যালায়েন্স আয়োজিত তথাকথিত কোটা আন্দোলন ক্রমান্বয়ে চেহারা বদলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়, যার মূল টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে গঠিত সরকার, সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, চৌদ্দদলীয় কেবিনেট এবং সংশ্লিষ্ট যাবতীয় ইতিহাস। এই বদল ১০ জুলাই থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কালানুক্রমে একটু পিছিয়ে গিয়ে ২০১৩তে আলোকপাত করলে দেখা যায় ২০১৩ সালের ১লা আগস্ট বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে জামায়াতে ইসলামী দলের গঠনতন্ত্রের কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক হওয়ায় আদালত জামায়েতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে রায় ঘোষণা দেয় । জামাতে ইসলামী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে উচ্চতর আদালত তা খারিজ করে দেয় । ফলে ঐ রায়ের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে গিয়েছিল । এরই প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সাথে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছিল । ২০১৮ সালে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হলেও দল হিসেবে জামায়েতে ইসলামীর কার্যক্রম তখনও চালু ছিল ।
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের সর্বশেষ বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী দলকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই মোতাবেক সরকারকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহবান জানানো হয়েছিল ।
২০২৪ সালের সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, বঙ্গবন্ধুর বাসভবন, ভাস্কর্য ও সাংস্কৃতিক চিহ্ন ধ্বংসের ধারাবাহিক অপচেষ্টা চলতে থাকে। সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের ওপর নিপীড়ন নেমে আসে। যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটিকেই আন্তর্জাতিক মান উপেক্ষা করে আইন বদলে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদেরই লেখায় ও কথায় লিপিবদ্ধ হচ্ছে।
বাংলাদেশের এই যে চলমান সংকট, তা কেবল রাজনৈতিক নয়; এটি আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং ঐতিহাসিক সত্যের ও রাষ্ট্র রূপে বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। আইন এখানে ন্যায়বিচারের মাধ্যম না হয়ে ক্ষমতার অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে, আর ভয় ও দমন–পীড়নের মাধ্যমে সমাজকে নানা ভাগে বিভক্ত করে, বিচ্ছিন্ন করে নীরব রাখার অপচেষ্টা চলছে।
এমন এক ক্রান্তিলগ্নে ১৪–দলীয় আদর্শিক ঐক্যকে আরও সুসংহত করার কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে ১৪ দলের বাইরেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রিত করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলাই আজ সময়ের দাবি। কারণ ইতিহাস বলে—যখন স্মৃতি, আইন ও নাগরিক কণ্ঠ একসঙ্গে আক্রান্ত হয়, তখন নীরবতা আর নিরপেক্ষতা কোনোটি–ই নিরাপদ থাকে না।

পরিশেষে সংক্ষেপে বলতে গেলে স্মরণ রাখা আমাদের কর্তব্য যে, অগের রাজনৈতিক সংকটগুলো মূলত ক্ষমতা পরিবর্তন, নির্বাচন বা শাসনব্যবস্থা ঘিরে আবর্তিত হলেও ২০২৪ সালের সংকট ভিন্ন মাত্রার এবং বহুমুখী। এটি কেবল একটি সরকার পতনের ষড়যন্ত্র নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধকে মুছে ফেলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এবং বাঙ্গালী জাতির হাজার বছরের পরিচয় নিশ্চিহ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস, যা স্থানীয় দেশীয় শত্রুরা, বহির্বিশ্বের সুযোগসন্ধানীদের সহায়তায় বাস্তবায়ন করছে। বিগত সতের মাসে আইন রক্ষার পরিবর্তে আইনকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হয়ে চলেছে। যে ভূক্তভোগী তাকেই অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে।মানুষের মন থেকে জাতির সকল মহতি অর্জনের স্মৃতি মুছে ফেলার পাশাপাশি সেসব ঐতিহাসিক বিষয়কে মিথ্যে প্রতিপন্ন করার সার্বিক প্রয়াস দৃশ্যমান রয়েছে। ভীতিকর সন্ত্রাস-তাড়িত পরিবেশ তৈরি করে সমাজকে নীরব করা হয়েছে। এই সময়টিকে তাই শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, বরং রাষ্ট্র ও ইতিহাসের বিলুপ্তির লক্ষ্যে তৈরী করা এক গভীর সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
১৪–দলীয় আদর্শিক জোটের রূপরেখা কেবল একটি রাজনৈতিক সমীকরণ নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে পাওয়া বিশ্বাস ও মূল্যবোধসমূহ, ১৯৭২ সালের সংবিধান, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সাংবিধানিক গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কেন্দ্রে রেখে জাতিগত উত্থান এবং এগিয়ে চলার এক নীতিগত প্রতিশ্রুতি। এই জোটের শক্তি এর সংখ্যায় নয়, বরং এর আদর্শিক ভিত্তিতে—যেখানে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হবে ধর্ম, পরিচয় বা শক্তির রাজনীতির পরিবর্তে নাগরিক অধিকার, আইনের শাসন, জাতিয়তাবাদ, সমতা ও বহুত্ববাদ। বর্তমান সংকটে এই জোটের কার্যকর ও আত্মসমালোচনামূলক পুনর্গঠন কেবল একটি রাজনৈতিক বিকল্প নয়, বরং রাষ্ট্রকে সহিংসতা, প্রতিশোধ ও স্মৃতিবিনাশের চক্র থেকে রক্ষা করার একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ নির্দেশক বলা যেতে পারে। ১৪ দলের ও এর বাইরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য সক্রিয় হয়ে ওঠা এখন অত্যন্ত জরুরী।
ড: আবদুল আউয়াল
সাবেক উপাচার্য (সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)
সিলেট
Former Vice-Chancellor
Sylhet Agricultural University, Bangladesh. Former Visiting Professor, University of Toronto
