ঢাকার বিরক্তির প্রথম আঁচ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের উপরই পড়বে।[...]

ঢাকার বিরক্তির প্রথম আঁচ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের উপরই পড়বে। আঞ্চলিক রাজনীতির সার্বক্ষণিক দোলাচাল কোথাও কাউকে এগিয়ে নেয় না। বাহবাই সব নয়। সমাধানসূত্র বের করার বড় চাপটা এখন পশ্চিমবঙ্গকেই সামলাতে হবে। বড় দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতকে বুঝতে হবে। সুযোগের সমাধানসূত্র বের করতেই হবে। রবীন্দ্রনাথের ১৫০ বা আজমির যাওয়ার ভাল ব্যবস্থা করে দিয়ে কিছু হবে না। এসব মানুষের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের কোনো কাজে লাগে না। মমতা যেভাবে চাপ সৃষ্টি করলেন, ঠিক সেভাবেই চাপমুক্ত করতে যদি পারেন -- তাহলেই বলতে হবে তিনি সফল হয়েছেন। তা যদি তিনি করতে না পারেন, তাহলে এই আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার দায় তাকেই নিতে হবে। মমতাকে বুঝতে হবে ঢাকা বাংলায় কথা বলে ঠিকই কিন্তু ঢাকা বিশ্বদৃষ্টিতে দিল্লির সমপর্যায়ের -- ঢাকার সাথে যেকোনো ব্যর্থতা আঞ্চলিকতায় পর্যবসিত হবে না -- নিঃসন্দেহে সেটা মমতার আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা হিসাবেই বিবেচিত হবে। ততক্ষণ আশাবাদী আছি, যতক্ষণ পর্যন্ত মমতা একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানসূত্র বের করতে না পারছেন। আর যদি সমাধানসূত্র তিনি একেবারেই বের করতে না পারেন -- তাহলে ভারতের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী সময়মতো ট্রেনে উঠতে পারেননি বলেই ভবিষ্যতে প্রতীয়মান হবে।

মুক্তাঙ্গন-এ উপরোক্ত শিরোনামের নিয়মিত এই সিরিজটিতে থাকছে দেশী বিদেশী পত্রপত্রিকা, ব্লগ ও গবেষণাপত্র থেকে পাঠক সুপারিশকৃত ওয়েবলিন্কের তালিকা। কী ধরণের বিষয়বস্তুর উপর লিন্ক সুপারিশ করা যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম, মানদণ্ড বা সময়কাল নেই। পুরো ইন্টারনেট থেকে যা কিছু গুরত্বপূর্ণ, জরুরি, মজার বা আগ্রহোদ্দীপক মনে করবেন পাঠকরা, তা-ই তাঁরা মন্তব্য আকারে উল্লেখ করতে পারেন এখানে। ধন্যবাদ।

আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ; গত দু'দিন ধরেই একটি প্রশ্ন মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে : শহীদ মিনার কি ঈদের নামাজ পড়ার স্থান? [...]

আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ; গত দু'দিন ধরেই একটি প্রশ্ন মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে : শহীদ মিনার কি ঈদের নামাজ পড়ার স্থান? বেহাল মহাসড়কের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের অপসারণ দাবি করে 'ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী জনতা' গত বুধবারে (২৪ আগস্ট) যে-কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তার সারমর্মের সঙ্গে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কোনো দূরত্ব নেই। যদিও এই দাবিসমূহ আরো সুনির্দিষ্ট হতে পারত; যেমন, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগের দাবিও এখানে যুক্ত হতে পারত। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কর্মসূচির মাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসক থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সামরিক জান্তা হোসেইন মুহম্মদ এরশাদ সহিংস উপায়ে যে-কাজটি করতে পারেননি, সৈয়দ আবুল মকসুদের নেতৃত্বে 'ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী জনতা' অহিংস উপায়ে ঠিক সেই কাজটিই করতে চলেছেন -- তাঁরা শহীদ মিনারের মতো সেক্যুলার জনদাবি আদায় ও শ্রদ্ধানিবেদনের সম্মিলনস্থানটিকে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপনের স্থানে পরিণত করতে চলেছেন। এর ভবিষ্যৎ কী তা কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি? আমরা আশা করব, এই কর্মসূচি পালনের স্থান পরিবর্তন করা হবে। শহীদ মিনারকে ধর্মপরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলনের স্থান হিসেবেই দেখতে চাই, ধর্মীয় উদ্‌যাপনের স্থান হিসেবে নয়।

নিকট অতীতে কারো মৃত্যু আমাকে এতটা বিষণ্ণ করেনি। মৃত্যু আমাদের সবারই স্বাভাবিক পরিণতি, কিন্তু তারেক মাসুদ মারা গেলেন তাঁর কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার বহু আগেই। [...]

নিকট অতীতে কারো মৃত্যু আমাকে এতটা বিষণ্ণ করেনি। মৃত্যু আমাদের সবারই স্বাভাবিক পরিণতি, কিন্তু তারেক মাসুদ মারা গেলেন তাঁর কাজ শেষ হওয়ার বহু আগেই। আর্ট ফিল্ম কপচানো চলচ্চিত্রকর্মীর তো অভাব নেই আমাদের, অভাব আছে কাজের লোকের। তারেক মাসুদ রক্ষণশীল মাদ্রাসায় পড়েছেন, ‘ক্লাসিক’ পড়ে বড় হননি। সেখান থেকে নিউইয়র্কে গিয়ে ফিল্ম বানিয়ে ফেললেন, ফালতু abstract ফিল্ম নয়, কাজের ফিল্ম। ৭১-এ ‘জয় বাংলা’ বলা সাধারণ মানুষের ছবি, শরণার্থী শিবিরের ছবি, লুঙ্গি পরা মুক্তিযোদ্ধার ছবি। অন্যের তোলা raw ফিল্ম edit করে মুক্তির গান, কোন মৌলিক সৃষ্টিশীল কাজ নয়, কিন্তু কাজের কাজ। আমরা যারা ৭১-এর পরে জন্ম নিয়েছি তারা দেড় ঘণ্টাতেই বুঝে ফেললাম কী অসাধারণ স্বপ্নময় ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়টা। তারেক মাসুদ মাটির ময়না তৈরি করেছেন বহু পরিশ্রমে, ছবি তৈরির পরিশ্রম তো আছেই, তার চেয়েও বেশি পরিশ্রম গবেষণাতে। ৭১-এর ঠিক আগের বাংলাদেশের ডিটেল ফুটিয়ে তোলা হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ব্যাপার। সাহিত্য-নির্ভর ছবি তো নয়, ইতিহাস-নির্ভর ছবি, এমন ছবি তৈরি সব দেশেই কঠিন, বাংলাদেশে তো আরও কঠিন। কাগজের ফুল-এর প্রেক্ষাপট আরও জটিল (৪০-এর দশকের বাংলাদেশ)। দু-চারটা ফরাসি আর রুশ ছবি দেখে আর কিছু বই পড়ে এসব ছবি তৈরি করা যায় না, দেশের প্রতি, দেশের ইতিহাসের প্রতি নাড়ির টান আর আসুরিক পরিশ্রমের ক্ষমতা থাকলেই এমন ছবি তৈরি করা যায়। আমাদের দেশ জীবননান্দের ‘রূপসী বাংলা’ নয়, আবার ‘মধ্যপন্থী মুসলিম’ দেশও নয়, আমাদের দেশ ‘জয় বাংলা’ আর ‘ইনশাআল্লাহ্’র দেশ। আমাদের ইতিহাসের নিজস্ব dynamics আছে, সেটা আমরা ছাড়া আর কেউ বুঝবে না। ৪৭-এর চাষা আর জেলের পূর্ব বাংলা মাত্র ২৪ বছরের মধ্যে আধুনিক জাতিরাষ্ট্র তৈরি করে ফেলল, কী করে এই magic সম্ভব হল? কলকাতার বুদ্ধিজীবীরা এখনো বাংলাদেশ বলতে ৪০-এর দশকের ‘নাদের আলীর’ পূর্ববঙ্গই বোঝেন, পশ্চিমারাও বাংলাদেশের কিছুই বোঝেন না (বন্যা, গ্রামীণ ব্যাংক, ইসলাম ইত্যাদি মিলিয়ে একটা কিম্ভুতকিমাকার ধারণা তাঁদের আছে)। তারেক মাসুদ নিজে বাবার আদেশে পশ্চাৎপদ মাদ্রাসায় পড়েছেন, আবার মুক্তিযুদ্ধের পরে সেই বাবাই ভুল বুঝতে পেরে তাঁকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে এনেছেন। তাঁর নিজের জীবনই আমাদের বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ। নিজের চোখে যেভাবে তিনি বাংলাদেশকে দেখেছেন সেভাবেই ছবি তৈরি করেছেন। ৭১-এর বাংলাদেশ, ৬০-এর দশকের বাংলাদেশ, আধুনিক বাংলাদেশ, শুধু শিল্পসম্মত ছবি নয়,…

সবার আগে সরকারকে পার্বত্য শান্তিচুক্তিতে গতি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে সরকার শুধু কথা নয় কাজও করতে চায় এবং সরকার আদিবাসী/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিতর্কে অযথা সময় নষ্ট না করে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সব নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের সাথে তার সম্পর্কের সম্পূর্ণ কুসংস্কারহীন বিনির্মাণ চায়।[...]

আদিবাসী/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিতর্কে অযথা সময় নষ্ট করছেন সবাই। দীপু মনি যেরকম 'আদিবাসী' ব্যানারের পেছনে হেঁটেছেন এবং 'আদিবাসী' স্বার্থ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তেমনি রাজা দেবাশীষ রায়ও 'আদিবাসী সাংস্কৃতিক উৎসব ২০০৫'-এর উদ্বোধন করতে গিয়ে বলেছিলেন, 'উপজাতি '(ইংরেজি শব্দটা খুঁজে বের করতে হবে, ইংরেজরা নিশ্চয় উপজাতি বলেননি তাদের বলা কোনো ইংরেজি শব্দের এভাবে অনুবাদ করা হয়েছে) শব্দটি বৃটিশ উপনিবেশিক শব্দ। এই শব্দ ব্যবহারের মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতি বৈষম্যের ইঙ্গিত রয়েছে। তাই 'আদিবাসী' বা 'স্বতন্ত্র জাতিসত্তা' বা 'জাতিগোষ্ঠী' শব্দগুলো ব্যবহার করা উচিত।[৮৯ পৃষ্টা, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সংস্কৃতি, সেড, প্রকাশকাল ২০০৭] বইয়ের নামটিও খেয়াল করতে হবে। আমরা দেখেশুনে এরকম সিদ্ধান্ত নিতেই পারি আমাদের লেখালেখি বক্তৃতায় প্রচলিত আদিবাসী শব্দটিকেই ব্যবহার করলাম। আর চুক্তি, বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাগজে পত্রে ও সরকারি বেসরকারি নথিতে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ব্যবহার করলাম। এসব বিতর্ক ফেলে আমাদের সবার সময় নিয়ে পড়া উচিত C169 Indigenous and Tribal Peoples Convention, 1989 Convention concerning Indigenous and Tribal Peoples in Independent Countries (Note: Date of coming into force: 05:09:1991.) -- ৪৪টি আর্টিকেলে বিভক্ত এই দলিলটি আদিবাসী এবং ট্রাইবালরা(এই শব্দটিকে বাংলায় বলছি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা জাতিসত্তা)যারা বিভিন্ন স্বাধীন দেশে বসবাস করছে তাদের অধিকারের স্বীকৃতি। এপর্যন্ত এই কনভেনশন অনুমোদন করেছে মাত্র ২২টি দেশ (আমাদের অঞ্চল থেকে শুধু নেপাল), শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেয়নি কেউ, এখনো কেউ এই কনভেনশনের বাস্তব প্রয়োগের ঘোষণা দেয়নি এবং কেউ এই কনভেনশন প্রত্যাখ্যানও করেনি। C169 Indigenous and Tribal Peoples Convention, 1989 Convention concerning Indigenous and Tribal Peoples in Independent Countries (Note: Date of coming into force: 05:09:1991.) Convention:C169 Place:Geneva Session of the Conference:76 Date of adoption:27:06:1989 Subject classification: Indigenous and Tribal Peoples Subject: Indigenous and Tribal Peoples See the ratifications for this Convention Display the document in: French Spanish Status: Up-to-date instrument This Convention was adopted after 1985 and is considered up to date. The General Conference of the International Labour Organisation, Having been convened at Geneva by the Governing Body of the International Labour Office, and having met in its 76th Session on 7 June 1989, and Noting the international standards contained in the…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.