১৯৭১-এ সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধগুলোর বিচারের গতি ত্বরান্বিত হোক, বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বিস্তৃত হোক, এটা সম্ভবত শুধু আসামীপক্ষ ছাড়া আর বাকি সকলেরই চাওয়া। এই বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার বিষয়টি মাথায় রেখে নানা ধরণের প্রস্তাব ও সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তেমনই একটি প্রস্তাব ছিল পৃথক এবং নতুন ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠা করা। নাগরিক সমাজের একাংশের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার এই বছরের শুরুতে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠা করেছে, যা প্রথম ট্রাইবুনালের পাশাপাশি কাজ করছে। দ্বিতীয় ট্রাইবুনাল গঠনের পরিকল্পনাটি যখন সরকারের বিবেচনাধীন ছিল, তখনই আইসিএসএফ-এর পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছিল এভাবে পৃথক একটি ট্রাইবুনাল (দ্বিতীয় ট্রাইবুনাল) প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সমস্যাগুলো। এর পরিবর্তে আইসিএসএফ এর পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল – ‘পৃথক ট্রাইবুনাল’ গঠন না করে বিদ্যমান ট্রাইবুনালের আওতায় প্রয়োজন একাধিক ‘বেঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করা। সাথে আরও কিছু পন্থা সুপারিশ করা হয়েছিল যেগুলোর মাধ্যমে বিদ্যমান ট্রাইবুনাল ব্যবস্থার মধ্যে থেকেও বিচারে কালক্ষেপণের যে-কোনো চেষ্টাকে প্রতিহত করা সম্ভব হবে। কারণ, অহেতুক কালক্ষেপণের বিষয়গুলো একটি ট্রাইবুনাল হলে সেখানে যেমন ঘটতে পারে (এবং ঘটেছেও), সেটা একাধিক ট্রাইবুনাল হলেও সেখানেও সমানভাবে হতে পারে এবং হচ্ছেও। এই সমস্যাগুলোকে বিবেচনা করে, সেগুলোকে সরাসরি মোকাবিলার কথা মনে রেখেই, গতকাল (৬ জুলাই ২০১২) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ তার আদেশের মাধ্যমে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত এবং পদ্ধতিগত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছে। ট্রাইবুনাল ঘোষণা করেছে যে এখন থেকে প্রথম ট্রাইবুনালে সাক্ষীদের জবানবন্দী এবং জেরার সময় নির্দিষ্টভাবে বেঁধে দেয়া হবে, এবং মামলার প্রসিকিউশন এবং আসামীপক্ষের আইনজীবীদের সেই বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই সাক্ষীর জবানবন্দী এবং জেরার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। [সূত্র: http://bit.ly/OFmKAd] প্রথম ট্রাইবুনালের এই সুচিন্তিত সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এর দরকার ছিল। কারণ, গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা লক্ষ করেছি – ট্রাইবুনালে প্রতিটি সাক্ষীর ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনের জবানবন্দী গ্রহণে সময় ব্যয় হচ্ছিল গড়ে ১-২ দিন। অন্যদিকে আসামীপক্ষের আইনজীবীরা যখন সেই সাক্ষীদের জেরা করছিলেন, সেখানেও গড়ে প্রতিটি সাক্ষীর জেরায় ব্যয় হচ্ছিল ৩-৫ দিন। অর্থাৎ, জেরা এবং জবানবন্দী মিলিয়ে প্রতিটি সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণে ব্যয় হচ্ছিল গড়ে কমপক্ষে ৩-৬ দিন। এটা নিশ্চয়ই কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন পড়বে না যে, কোনো একটি মামলায় যদি ৬০ জন সাক্ষী থাকে তাহলে কেবল সাক্ষ্যগ্রহণেই সেখানে খরচ হয়ে যাবে প্রায় ৩৬০ দিন…
গতকাল (৬ জুলাই ২০১২) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ তার আদেশের মাধ্যমে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত এবং পদ্ধতিগত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছে। [...]

১৯৭১-এর ইতিহাস আমাদের অজানা নয়। সারা দেশের মানুষের মনেও কোনো সন্দেহ নেই সেখানে অপরাধী পক্ষ এবং অপরাধী ব্যক্তিরা আসলে কারা। কিন্তু এই জানাটাই শেষ কথা নয়। আমাদের এই জানা, এবং ইতিহাসের এই সত্যকে আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করাটাও সমান জরুরি।। [...]