এই বিচার, এই ট্রাইবুনাল আমি আজকে দিনের পর দিন দেখছি। এই বিচারের বিভিন্ন বিষয় আমি অত্যন্ত সুক্ষ্ণ ভাবে বুঝবার চেষ্টা করছি বিভিন্ন ভাবেই। আপনারা সকলেই জেনে থাকবেন এই বিচারকে বন্ধ করবার জন্য আজ তিনটা বছর এই জামাত, ডিফেন্স কাউন্সিল এরা কি পরিমাণ চেষ্টা করে গিয়েছে। সেই চেষ্টার অংশই হচ্ছে আজকের এই হ্যাকিং এর নোংরামি। আমি শীঘ্রই একটা বিশদ লেখা লিখব এই ট্রাইবুনালের পেছনের সকল ষড়যন্ত্র নিয়ে। একটা একটা করে মুখোশ খুলব। অনেক কথাই বলিনি এতদিন। অনেক কথাই গোপন রেখেছি। কিন্তু আজকে আর চুপ করে থাকার সময় নেই। আজকে দেখাবার সময় এসেছে যে, কি করে জামাতীরা প্রতিটি দিনি, প্রতিটি সপ্তাহে এই বিচারকে বাঁধা দেবার জন্য অর্থ ব্যয় করেছে, কাজ করেছে। আওয়ামীলীগের কত কাছের লোকও এই পুরো ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত, দেশের কত নাম করা আইনজীবি, তাদের সাঙ্গ পাঙ্গ কিংবা তাদের মেয়ের জামাইদেরও এরা লেলিয়ে দিয়েছে এই বিচারের বিরুদ্ধে। মিলিয়ন মিলিয়ণ ডলারের এই ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন আমাদেরই করতে হবে। [...]

মাহমুদুর রহমানের "আমার দেশ" পত্রিকা আজকে ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান ও বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম এবং বিশ্বের অন্যতম খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ জনাব ডক্টর আহমেদ জিয়াউদ্দিনের একটি ব্যাক্তিগত স্কাইপির আলাপ ট্রান্সক্রিপ্ট আকারে তাদের পত্রিকায় ছেপেছে এবং এদেরই সাঙ্গ-পাঙ্গ রা সেসব ইউটিউবে ছড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে তারা আরেকজন আইন বিশেষজ্ঞ জনাব রায়হান রশীদেরও নাম উল্লেখ করেছে তাদের রিপোর্টে। জামাত ঠিক কতটুকু নোংরা ও ইতর হতে পারে এটি কেবল তারই একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বেশ কিছুদিন আমি কাজ করেছি "আই স্পাই" নামে একটি প্রতিষ্ঠানের একজন সেলস এসিস্টেন্ট হিসেবে। এরা তাদের স্টোরে ডিটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট সহ বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিং, বাগিং, ইত্যাদি ডিভাইস বিক্রি করে। যেখান থেকে আমার একটা ধারনা আছে যে এই স্কাইপি কনভারসেশন হ্যাক করা কিংবা এই জাতীয় ঘটনা ঘটাবার জন্য কি কি ইকুইপমেন্ট ব্যাবহার করা যেতে পারে এবং এসব করবার জন্য কি পরিমাণ স্কিলড লোকজন প্রয়োজন। ইউটিউব কনভারসেশন শুনে আমি যেটা ক্লিয়ারলি বুঝলাম যে মাননীয় বিচারপতির বাসায় জামাত ও তাদের ভাড়া করা গোয়েন্দারা ডিভাইস বসিয়েছে। এবং আমার ধারনা মতে, শুধু এক জায়গায় না, উনার বাসার প্রতি রুমেই তারা এই ডিভাইস বসিয়েছে এবং এই ডিভাইস বসিয়েই তারা আসলে উনার বলা সকল কথা রেকর্ড করে তা আবার প্রকাশ করে নোংরামির চূড়ান্ত করেছে। এদিকে একটা কথাও বলে রাখা ভালো যে, শুধু যে উনার স্কাইপি কনভারসেশন হ্যাক করেছে তা না, সূত্র মতে উনার ইমেইল আইডিও হ্যাক করা হয়েছে। একজন সিটিং বিচারপতি এবং এত সফিস্টিকেটেড একটা ট্রাইবুনালের বিচারপতির বাসায় এই অত্যাধুনিক বাগস, ডিভাইস, ইকুইমেন্ট বসালো জামাতীরা এবং তারা আজকে গর্ব সহকারে তা বাজারে ছেড়েছে। আমরা কি একটা মগের মুল্লুকে বসবাস করি? আমরা কি একটি ফেইল্ড স্টেইটস এর বাসিন্দা? এই হ্যাকিং এর মাধ্যমে কি হয়েছে? ১) বিচারপতির ব্যাক্তিগত প্রাইভেসীকে ক্ষুন্ন করা হোলো। ২) বিচারপতির ইমেইল, কম্পিউটারে থাকা সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করা হোলো। ৩) সাক্ষীদের নানাবিধ ডিটেইলস নিশ্চয়ই বিচারপতির কাছে ছিলো, সেগুলোও চুরি হয়ে গিয়ে সেসব সাক্ষীদের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে গেলো। ৪) পুরো ট্রাইবুনালের সকল তথ্যকে পাচারের মাধ্যমে পুরো বিচার ব্যাবস্থাকেই এখন এক ধরনের হুমকির মুখে ছেড়ে দিলো। ৫) এটা পরিষ্কার হোলো যে, এরা অনেক আগে থেকেই এইসব…

মানব ইতিহাসের হাতে গোনা জঘন্যতম অপরাধ, গণহত্যা আর জাতিনিধনের একটি হয়েও - প্রায় অগোচরেই থেকে গেছে বাংলাদশে ১৯৭১ এ সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধগুলো। বিশ্বমানবতা গুমরে কেঁদেছে, আইনের মর্যাদা পদে পদে হয়েছে অপমানিত। আরো শুনবেন? জঘন্য সে সব অপরাধীরা ধীরে ধীরে হয়েছে পূনর্বাসিত, প্রতিনিয়ত বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে মানবতা আর ন্যায়বিচারকে।[...]

কিছু অন্যায় ব্যক্তিগত, ক্ষতি করে ব্যক্তি মানুষের। কিছু অন্যায় গোষ্ঠীগত, কোনো নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী যার শিকার। কিন্তু কিছু অন্যায় সমগ্র মানবতার জন্য গ্লানিকর, সমগ্র পৃথিবীকে লজ্জায় ডুবিয়ে দেয় - নাড়া দিয়ে যায় বিশ্ব বিবেককে। সে অপরাধগুলো এড়িয়ে যাওয়া যায় না কোনো মানবিক স্বাভাবিকতায়। কিন্তু এরচেয়েও গ্লানিকর, এরচেয়েও লজ্জাষ্কর ঘটনাও ঘটতে পারে- যদি কিনা এই জঘন্য অপরাধ রয়ে যায় বিচারহীন, ক্ষতিগ্রস্থরা বঞ্চিত হয় ন্যায়বিচার থেকে। এই পৃথিবীর বুকেই এমনটি ঘটেছে, ঘটছে। মানব ইতিহাসের হাতে গোনা জঘন্যতম অপরাধ, গণহত্যা আর জাতিনিধনের একটি হয়েও - প্রায় অগোচরেই থেকে গেছে বাংলাদশে ১৯৭১ এ সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধগুলো। বিশ্বমানবতা গুমরে কেঁদেছে, আইনের মর্যাদা পদে পদে হয়েছে অপমানিত। আরো শুনবেন? জঘন্য সে সব অপরাধীরা ধীরে ধীরে হয়েছে পূনর্বাসিত, প্রতিনিয়ত বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে মানবতা আর ন্যায়বিচারকে। কিন্তু আর কতদিন? অবিচারের ওপর ন্যায়বিচারের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ অনেকটা দেরিতে হলেও দৃপ্ত হয়ে উঠেছে। জেগেছে মানুষ, ঘুরে দাঁড়িয়েছে গ্লানিকর দীর্ঘ ক'টা দশকের পরে। বাঙালি জাতি কাঁধে তুলে নিয়েছে আজ বিশ্ব মানবতার শ্রেষ্ঠত্বের পতাকা। সত্যিকার অর্থেই ন্যায়বিচারের এক পরম ব্রত নিয়ে এগিয়ে চলেছে 'আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল', বাংলাদেশ। কোনো অন্ধ প্রতিশোধ-আকাঙ্ক্ষা হয়ে নয়, বরঞ্চ মানব ইতিহাসকে পূনর্বার কালিমামুক্ত করবার পরম শপথ হিসেবে। কেউ সে যাত্রায় সাথে থাকুক বা না থাকুক, জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যাবোই এই সুবিচার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে। পৃথিবীর প্রতি যে উজ্বল অঙ্গীকার নিয়ে জন্মেছিলো বাংলাদেশ নামক রক্তস্নাত রাষ্ট্রটি, দীর্ঘ যাত্রা পথে বহু হোঁচট খেয়েও আবারো মাথা উঁচু করে সে এগিয়ে চলেছে। অন্যায় আর বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে মুছে দিতে এগিয়ে চলেছে বিশ্ব মানবের শ্রেষ্ঠত্বের যাত্রা- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল, বাংলাদেশ। জানতে চান সেই আলোকযাত্রার বিস্তারণ? কেমন দেখতে সেটা? হ্যাঁ, ঠিক আপনার জন্যই আগামী ১৪ই ডিসেম্বর লন্ডনে ICSF (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম) এর আয়োজনে চেষ্টা করা হবে সেই গৌরব যাত্রার একটি ছবি আঁকবার। INTERNATIONAL CRIMES TRIBUNALS IN BANGLADESH - JUSTICE IN PERSPECTIVE শীর্ষক সভাটির বিস্তারিত দেখুন এখানে- সময়ঃ ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, সন্ধ্যা ৬:০০ টা। স্থানঃ Lecture theatre: V211 SOAS, University of London Vernon Square Campus Penton Rise London, WC1X 9EW উল্লেখ্য, সভায় আসন সংখ্যা সীমিত এবং অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ আমন্ত্রণ ও নিবন্ধন সাপেক্ষ। নিবন্ধনের তথ্যাদি- নিবন্ধন…

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে গত ২১ নভেম্বর রোম সংবিধির আওতাধীন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি)-এর রাষ্ট্রপক্ষসমূহের সম্মেলনের (Assembly of States Parties) অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (আইসিটি)-এর ওপর একটি বিশেষ অধিবেশন আয়োজিত হয়। মূলত দেশীয় আইনের প্রক্রিয়ায় দেশীয় ট্রাইবুনালে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের উদাহরণ হিসেবেই আইসিটি বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই আগ্রহ। [...]

নেদারল্যান্ডস-এর হেগ শহরে গত ২১ নভেম্বর রোম সংবিধি-এর আওতাধীন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি)-এর রাষ্ট্রপক্ষসমূহের সম্মেলনের (Assembly of States Parties) অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (আইসিটি)-এর ওপর বিশেষ একটি অধিবেশন আয়োজিত হয়। মূলত দেশীয় আইনের প্রক্রিয়ায় দেশীয় ট্রাইবুনালে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের উদাহরণ হিসেবেই আইসিটি বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই আগ্রহ। এখানে উল্লেখ্য, রোম সংবিধি কেবল এ-ধরনের দেশীয় বিচারের উদ্যোগের অনুমোদনই করে না, উৎসাহিতও করে। রোমভিত্তিক সংগঠন “নো পিস উইদাউট জাস্টিস (NPWJ)”-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অধিবেশনে আইসিটি-র বিচার প্রক্রিয়া এবং এর সহায়ক কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত পক্ষসমূহের মধ্যে নির্ধারিত বক্তা হিসেবে প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউশনের প্রতিনিধি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম তারেক, আসামী পক্ষের নিযুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ব্যারিস্টার টোবি ক্যাডম্যান, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস বার কাউন্সিল মানবাধিকার কমিটির প্রতিনিধি মিস সোনা জলি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন এবং বিচার প্রক্রিয়ার সহায়ক নাগরিক জোট ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ)-এর সদস্য রায়হান রশিদ। এছাড়াও এই বিচার বিষয়ে সচেতন বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পলিসি ইনস্টিটিউট-এর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এধরনের মুখোমুখি আলোচনায় উপস্থিত সকল ডেলিগেটদের সাথে সরাসরি মত বিনিময়কারীদের মধ্যে আরও ছিলেন আরিফুর রহমান, নিঝুম মজুমদার এবং খান মুহম্মদ। ‘নো পিস উইদাউট জাস্টিস’ এর মহাসচিব নিকোলো ফিগা তালামানকা-র দক্ষ সঞ্চালনায় আয়োজিত এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ট্রাইবুনালের বিচারের সাথে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন আইনগত ও তাত্ত্বিক বিষয়াদি, প্রচলিত বিভ্রান্তিগুলো, বিচারের বর্তমান পর্যায়ের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ এবং বিচার প্রক্রিয়ার নানান দিক উঠে আসে প্রাণবন্ত এই আলোচনায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত অপরাধের আসল শিকার কে, কারা ক্ষতিগ্রস্ত আইসিএসএফ-এর পক্ষ থেকে তা তুলে ধরা হয়। মুখোমুখি এই আলোচনার সূচনাতেই ১৯৭১-এর সকল শহীদ এবং নির্যাতিতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মরণে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এর পরপরই সভা চেয়ারম্যানের অনুরোধক্রমে আইসিটি-র প্রসিকিউটর জনাব সাইফুল ইসলাম তারেক এই বিচারের নানা দিক নিয়ে বলতে গিয়ে আইসিটি-র গঠন, আইন, এই আইনের নানা দিক, সাক্ষী সুরক্ষা, অভিযুক্তদের সুরক্ষা ও নানাবিধ সুবিধা, এই বিচারের স্বচ্ছতার দিকগুলো বিভিন্ন উদাহরণ ও আলোচনার মাধ্যমে সভাতে সকলকে জানান। এই সভাতে আসামি পক্ষের আইনজীবীর পক্ষে বলতে গিয়ে টোবি ক্যাডম্যান ১৯৭১ এর অপরাধসমূহের বিচারহীনতা নিরসনে সুষ্ঠু ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার…

মস্কোতে ছিলাম দুই দশকের অধিককাল। দেখা হয়েছে সমাজতন্ত্রের সুদিন, গর্বাচ্যোভের পেরেস্ত্রোইকা ও গ্লাসনস্ত, ইয়েলৎসিনের প্রতিবিপ্লব ও সমাজতন্ত্রের পতন, পুতিনের পুঁজিতন্ত্র। তার পরও যাতায়াত ছিল। এবার এলাম অনেক দিন পর। আমার ভালো লাগার শহরটিকে এখন আর চিনতে পারি না। [...]

মস্কোতে ছিলাম দুই দশকের অধিককাল। দেখা হয়েছে সমাজতন্ত্রের সুদিন, গর্বাচ্যোভের পেরেস্ত্রোইকা ও গ্লাসনস্ত, ইয়েলৎসিনের প্রতিবিপ্লব ও সমাজতন্ত্রের পতন, পুতিনের পুঁজিতন্ত্র। তার পরও যাতায়াত ছিল। এবার এলাম অনেক দিন পর। আমার ভালো লাগার শহরটিকে এখন আর চিনতে পারি না। নতুন নতুন ফ্ল্যাট বাড়ি, অসংখ্য প্রাইভেট কার, বিদেশি পণ্যে ঠাসা দোকানপাট, সর্বত্র মানি এক্সচেঞ্জ, অতিশয় কর্মব্যস্ত মানুষ, ঝলমলে বাগান, বিশ্বের সেরা রাজধানীগুলোর সঙ্গে তুলনীয়। আমার মুগ্ধ হওয়ার কথা কিন্তু এক অদ্ভুত অস্বস্তি আমাকে তাড়া করে। কিছুতেই ভুলতে পারি না যে, অক্টোবর মহাবিপ্লব লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, ভেঙে গেছে দুনিয়াজোড়া মেহনতি মানুষের স্বপ্ন। সন্দেহ নেই, যা ঘটেছে তার একটা ইতিহাস আছে। সমাজতন্ত্রের রুশি মডেল ইউরোপ কখনো গ্রহণ করেনি -- সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা তো নয়ই, কমিউনিস্টরাও না। স্মরণ করা যেতে পারে, রোজা লুক্সেমবুর্গের সঙ্গে লেনিনের বিতর্কের কথা। রোজা জার্মানির জন্য ‘সর্বহারার একনায়কত্ব’ অনুমোদন করেননি, চেয়েছেন গণতন্ত্র। এই মতধারা সমাজতন্ত্রের পতন পর্যন্ত ইউরোপে অব্যাহত থেকেছে। ইতালি ও ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে রাশিয়ার মতানৈক্যের টানাপোড়েন চলেছে ক্রমাগত। পূর্ব ইউরোপের নবজাত সমাজতন্ত্রী দেশগুলোর ক্ষেত্রেও কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। রাশিয়া সেইসব ‘বিদ্রোহ’ দমন করেছে বল প্রয়োগের মাধ্যমে। আর তাতে বিনষ্ট হয়েছে সমাজতন্ত্রের নতুন কোনো টেকসই মডেল উদ্ভবের সম্ভাবনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের জন্য তৈরি মার্কিন পুনর্গঠন পরিকল্পনায় সংগত কারণেই রাশিয়া শরিক হতে পারেনি, অধিকন্তু আত্মরক্ষার জন্য পরমাণু অস্ত্রসজ্জা নির্মাণের দুর্ভর বোঝা বইতে বাধ্য হয়েছে। এতে রাশিয়া সামরিক পরাশক্তি হতে পেরেছে, কিন্তু জনগণের চাহিদামতো ভোগ্যপণ্য উৎপাদনে সফল হয়নি। সেই সঙ্গে ছিল অতিকেন্দ্রীকৃত শাসনব্যবস্থা, স্বাধীন মতামত প্রকাশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও অবাধ চলাচলে প্রতিবন্ধসহ নানা দমনমূলক দুর্ভোগ। উন্নত পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বে তখন বইছে উন্নয়নের জোয়ার, উদ্ভব ঘটেছে কল্যাণ রাষ্ট্রের, সর্বত্র সচ্ছলতার আবহ। রুশিরা স্বভাবতই তাতে আকৃষ্ট হয়েছে, নিজেদের বঞ্চিত ভেবেছে। এ পরিস্থিতিতে তৃতীয় বিশ্বের মুক্তিসংগ্রামে রাশিয়ার উদার সাহায্যকে তারা সুনজরে দেখেনি এবং শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান যুদ্ধের রক্তক্ষরণ তাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়ে থাকবে। মনে পড়ে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে রাশিয়ার অবদান নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে আমার এক রুশি বন্ধুর মন্তব্য: ‘তোমার দেশে বিপ্লব মানে আমাদের আরও ভোগান্তি, দোকানে আরও লম্বা লাইন।’ উল্লেখ্য, তৃতীয় বিশ্বে ‘অপুঁজিবাদী উন্নয়ন’ বাস্তবায়নে রাশিয়া যে বিপুল সহায়তা জুগিয়েছিল তার সবই জলাঞ্জলি গেছে। পুঁজিতন্ত্রের নিদান…

নাফিস অপরাধী নাকি নির্দোষ, তা এই প্রবন্ধের বিষয় নয়, আদালতেই তা নির্ধারিত হবে। আমি একটু ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছি। একটা প্রশ্ন বরাবরই আমাকে উদ্বিগ্ন করে। কেন এই সব তরুণ যুবকরা কেন সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিচ্ছে, কখনোবা হয়ে উঠছে আত্মঘাতী? ঘটনা তো একটা দুটো নয়, সারা বিশ্ব জুড়েই ঘটে চলেছে শত শত। আমেরিকায় ২০০১ সালে ৯/১১ এর তাণ্ডবলীলা শেষ হতে না হতেই ২০০৫ সালে লন্ডনের পাতাল রেলে ঘটেছিল ৭/৭ এর ঘটনা। নাফিসের তরুণ বয়স দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। [...]

[ডিসক্লেইমার – নাফিস নামটি প্রবন্ধে বেশ কয়েকবার ব্যবহৃত হলেও তিনি এ প্রবন্ধের মূল বিষয় নন। নাফিসকে অপরাধী ভেবে না নিয়ে পুরো বিষয়টিকে অর্থাৎ উগ্র বিশ্বাসের উৎসের ব্যবচ্ছেদ করাই হবে এই প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য। নাফিস যদি আমেরিকার আদালতে নিজেকে নিরপরাধী প্রমাণ করে বেড়িয়ে আসতে পারেন, তবে তার চেয়ে সুখকর বিষয় আমার জন্য, আমাদের জন্য আর কিছুই হতে পারে না। এটি ঘটলে সবচেয়ে খুশি হব আমিই।  আমেরিকায় অবস্থিত প্রবাসী বাঙালিরাও শঙ্কামুক্ত হতে পারবেন। নাফিস নয়, বরং নাফিস, করিম, সাবেত, অনিরুদ্ধ যেই হোক না কেন, তরুণদের বিশ্বাস-নির্ভরতা কীভাবে এবং কেন উগ্রবাদী রূপ নিয়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি করে, কিংবা করতে পারে, সেটা বিশ্লেষণ করাই এ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য। নাফিসের ঘটনাটি ঘটার পর পরই এ বিষয়ে এ কটি ব্লগ লেখার চিন্তা করলেও পরে বিবিধ কারণে বিলম্ব ঘটে।  নির্মাণ ব্লগে অনেকদিন ধরেই কিছু লেখা হয় না, এ চিন্তা থেকেই লেখাটা এখানে দেয়া।  লেখাটির কিছু উদাহরণ ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ বইটি থেকে নেয়া।]   কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস নামে এক একুশ বছরের এক যুবক যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গ্রেফতার হয়েছেন - এটি  গত সপ্তাহগুলোতে পত্র-পত্রিকার আলোচিত খবর ছিল। নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও এফবিআই। অনেক মিডিয়ায় আবার এও বলা হয়েছে যে ২০০১ সালে ৯/১১ এর ঘটনার পর এটাই নাকি আমেরিকায় সবচেয়ে বড় ‘টেরোরিস্ট প্লট’। আমাদের জন্য এটি উদ্বেগের, কারণ এই প্লটের মূল উদ্যোক্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে একজন বাংলাদেশীকে। সন্দেহভাজনের তালিকায় বাংলাদেশের নাম উঠে আসায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। নাফিসের এই ঘটনা অবশ্য বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে সারা বিশ্ব জুড়েই নানা ধরনের সন্ত্রাসবাদ, আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং ‘সুইসাইড টেরোরিজম’এর মাধ্যমে নির্বিচারে হত্যা এবং আতংক তৈরি ধর্মীয় উগ্রপন্থী দলগুলোর জন্য খুব জনপ্রিয় একটা পদ্ধতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর  আল-কায়দার ১৯ জন সন্ত্রাসী চারটি যাত্রীবাহী বিমান দখল করে নেয়। তারপর বিমানগুলো কব্জা করে আমেরিকার বৃহৎ দুটি স্থাপনার ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছিল। নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনে ঐ হামলা চালানো…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.