১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে আল-জাজিরায় গোলাম আযমের গ্রেফতার এবং বিচার নিয়ে প্রচারিত এক বিতর্কিত সংবাদ প্রতিবেদনকে ঘিরে দেশী বিদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এবং মূলত সাংবাদিকদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে নতুন কিছু বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের নাগরিক সমাজের দুটি অংশের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিপরীত প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বহুল-আলোচিত এই প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক অপরাধগুলোর বিচারের বিষয়ে আল-জাজিরা ঘরানার সাংবাদিকতাকে আরেকটু ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে এই লেখায়। [...]

[এই লেখাটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছে ‘সাপ্তাহিক ২০০০’ পত্রিকার স্বাধীনতা দিবস (২০১২) সংখ্যায়]

আজ থেকে দু’বছর আগে ২০১০ সালের স্বাধীনতা দিবসকে সাক্ষী রেখে শুরু হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ১৯৭১-এ সংঘটিত অপরাধ সমূহের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার যাত্রা। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে, বিচারকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, প্রসিকিউশন টিম গঠন করা হয়েছে, তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়েছে। গত দু’বছরের মধ্যে গোলাম আযমসহ আট জন আসামীর প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রও জমা দেয়া হয়ে গেছে; আসামী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত চার্জ গঠন করে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণও শুরু হয়ে গেছে। এই বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতির সাথে সাথে একদিকে যেমন অবসান ঘটছে ১৯৭১-এ সংঘটিত অপরাধগুলোকে ঘিরে প্রায় দীর্ঘ চার দশক বিস্তৃত বিচারহীনতার এক অন্ধকার অধ্যায়ের, তেমনি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রতি পদে বাধাগ্রস্ত করার, বিতর্কিত করার, প্রশ্নবিদ্ধ করার তৎপরতাগুলোও চলছে সমান জোরের সাথে। বিতর্কের এই নতুন ফ্রন্টগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে মিডিয়া, উইকিপিডিয়ার মতো উম্মুক্ত বিশ্বকোষ, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং ফোরামগুলোকেও।

লক্ষণীয় হল, এই সব প্রচারণার ক্ষেত্রে কি দেশী কি বিদেশী মিডিয়া, কেউই কিন্তু কারও থেকে পিছিয়ে নেই। যেমন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দায়ের হয় ১২ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে। অথচ, তার দু’দিনের মাথায়, ১৪ ডিসেম্বর, দেশের সমস্ত টিভি মিডিয়ার উপস্থিতিতে গোলাম আযম সংবাদ সম্মেলন করেন এবং তা দেশের প্রধান টিভি চ্যানেলগুলোতে ফলাও করে সময় দিয়ে প্রচারও করা হয়। আসামী গোলাম আযমের মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্যের ব্যাপারে মিডিয়ার আগ্রহ থাকতেই পারে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত একজন আসামী এভাবে মিডিয়ার সামনে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন কি না, কিংবা সংবাদমাধ্যমগুলোরও সে বিষয়ে কোন দায় দায়িত্ব আছে কি না — সেই সব বিষয়ও ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।

এবার আসুন চোখ ফেরাই বিদেশী সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার দিকে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্বখ্যাত এই টিভি চ্যানেলে গোলাম আযমের গ্রেফতার এবং বিচার নিয়ে প্রচারিত হয় বিতর্কিত এক সংবাদ প্রতিবেদন। ২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড দীর্ঘ এই প্রতিবেদনকে ঘিরে আবার দেশী বিদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এবং মূলত সাংবাদিকদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে নতুন কিছু বিতর্কেরও সৃষ্টি হতে আমরা দেখেছি। আমাদের নাগরিক সমাজের একাংশ মিডিয়াতে আল-জাজিরার প্রতিবেদনটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট, উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে নাগরিক সমাজেরই আরেক অংশ আল-জাজিরার এই প্রতিবেদনকে মনে করছেন যুক্তিযুক্ত, যথার্থ এবং ভারসাম্যপূর্ণ। দ্বিতীয়োক্ত দলটির মধ্যে কেউ কেউ আবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনটিকে ঘিরে মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়াকে ব্যবহার করছেন বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার বেগতিক দশা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে, যদিও পুরো বিরোধটিই চলছে আসলে মিডিয়া এবং নাগরিক সমাজেরই দু’টো অংশের মধ্যে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনের প্রকৃত উদ্দেশ্য আসলে কী ছিল তার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খোঁজা এই লেখার উদ্দেশ্য না। বরং আলোচিত প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক অপরাধগুলোর বিচারের বিষয়ে আল-জাজিরা ঘরানার সাংবাদিকতাকে আরেকটু ভালভাবে বোঝার চেষ্টা থেকেই এই লেখা।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনটি যাঁরা দেখেননি, তাঁরা হয়তো জানতে আগ্রহী হবেন যে এই প্রতিবেদনটির শুরুতেই প্রতিবেদক নিকোলাস হক বলছেন — গোলাম আযম নাকি “হাঁটতে পারেন না, চোখে দেখেন না, কানেও শুনতে পারেন না”। অথচ আমরা ‘দৈনিক সংগ্রাম’-এর রিপোর্টেই (২৮ জানুয়ারী) দেখতে পাই গোলাম আযমের স্ত্রী সৈয়দা আফিফা আযম দাবি করছেন কীভাবে তার স্বামী ‘আট তলা ভবন থেকে পায়ে হেঁটে নীচে নেমে’ গাড়িতে উঠে ট্রাইবুনালে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। মাত্র দু’তিন সপ্তাহের ব্যবধানে এমন কী ঘটলো যার কারণে হঠাৎ আল-জাজিরার সাংবাদিক আসামী গোলাম আযমকে চলৎশক্তিহীন ধরে নিলেন? আদালত প্রাঙ্গণে কাউকে হুইল চেয়ারে বসা দেখলেই কি তেমন উপসংহারে আসা যায় নাকি আসা উচিত? আল-জাজিরার গোলাম আযম “চোখে দেখতে পান না”, নিকোলাস হকের দাবি। অথচ গ্রেফতার হওয়ার মাত্র ক’দিন আগেকার বিভিন্ন মিডিয়া ফুটেজে আমরা দেখতে পাই নিজ এলাকায় তিনি কারও সাহায্য ছাড়াই দিব্যি হেঁটে বেড়াচ্ছেন। সে-সব ফুটেজ এখনো ইউটিউবে রয়েছে, এবং সেখানে তাঁকে দেখে মনে হয় না তিনি চোখের গুরুতর কোনো সমস্যায় ভুগছেন। দাবি করা হচ্ছে গোলাম আযম নাকি “কানে শুনতে পান না”, অথচ উপরে উল্লেখ করা ১৪ ডিসেম্বরের সংবাদ সম্মেলনটির ফুটেজ একটু লক্ষ করলেই আমরা দেখতে পাই কীভাবে সম্মেলন কক্ষের শেষ প্রান্ত থেকে ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্নগুলোও গোলাম আযম শুনতে পাচ্ছেন এবং কারও সাহায্য ছাড়াই সেগুলো বুঝে উত্তরও দিতে পারছেন। আল-জাজিরার জামায়াতে ইসলামী, নিকোলাস হকের ভাষ্যে, “বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল”, অথচ বিগত তিনটি নির্বাচনের ফলাফলে তাঁর এই দাবির প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই না। মাত্র আড়াই মিনিটের একটি প্রতিবেদনে মাত্র তিরিশ সেকেন্ড যেতে না যেতেই এতগুলো সাধারণ তথ্যগত বিভ্রাট এই প্রতিবেদনটিতে, যা একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কাছে একেবারেই আশা করা যায় না।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল-এর ‘স্বেচ্ছাচারমূলক আটক’ বা Arbitrary Detention সংক্রান্ত ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’ আসামী পক্ষের আইনজীবীদের দরখাস্তের ভিত্তিতে একটি সমালোচনামূলক রিপোর্ট প্রদান করে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জাতিসংঘের রিপোর্টটিরই জের ধরে জানানো হচ্ছে কীভাবে জাতিসংঘের উক্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ ট্রাইবুনালে বর্তমানে বিচারাধীন আসামীদের আটক রাখা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন এখানে যে বিষয়টি উল্লেখ করতে ভুলে গেছে তা হল — গোলাম আযমের গ্রেফতার বা আটক বিষয়ে কিন্তু উক্ত রিপোর্টে একেবারেই কোনো সংশয় প্রকাশ করা হয়নি, এমনকি গোলাম আযমের কোনো উল্লেখই নেই জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের এই রিপোর্টটিতে। জেল হাজতে আসামীদের বিচারপূর্বকালীন সময়ে আটক রাখা (pre-trial detention) নিয়েই যেখানে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের রিপোর্ট, সেখানে আশ্চর্যের বিষয় হল আল-জাজিরা তার প্রতিবেদনে একবারের জন্যও বলেনি যে, আসামী গোলাম আযম তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের পুরো সময়টুকুতেই (১৫ জুলাই ২০১০–৩১ অক্টোবর ২০১১), এমনকি তার কিছুকাল পরও ছিলেন একেবারে মুক্ত। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে ১১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে, অর্থাৎ তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইবুনাল যখন আমলে নেন কেবলমাত্র তার পরই। অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এসব তথ্য স্থান পায়নি আল-জাজিরার প্রতিবেদনে, যা এই প্রতিবেদনটির ক্ষেত্রে তাদের সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনটিতে আসামী গোলাম আযমের পক্ষে দু’জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। তাঁদের একজন হলেন তাঁর ছেলে আজমী আযম, ১৯৭১-এ যাঁর বয়স ছিল ১২ বছর। ড্রয়িং রুমের নিবিড়তায় সোফায় বসে পারিবারিক ফটো অ্যালবামের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে তিনি দাবি করছেন ১৯৭১ সালে তাঁর বাবা গোলাম আযম নাকি কোনো অপরাধে লিপ্ত ছিলেন না। এর পরে আসামীর পক্ষে সাক্ষাৎকার দেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, আসামীর আইনী সহায়তা টিমের প্রধান। আসামীর পক্ষে বলা এই দু’জনের বিপরীতে প্রতিবেদনটিতে কেবলমাত্র আইনমন্ত্রীর মন্তব্য নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে নিতান্তই যদি কারও সাক্ষাৎকার নিতে হতো, তবে স্বাভাবিকভাবেই তিনি হতে পারতেন প্রসিকিউশন টিমের কেউ একজন যিনি গোলাম আযমের মামলা পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট, অথবা এমনকি তদন্ত দলের কেউ যিনি গোলামের মামলাটির তদন্তের সাথে যুক্ত। কিংবা ট্রাইবুনালের রেজিস্ট্রার হতে পারতেন যথার্থ ব্যক্তি, কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কার্যবিধি অনুযায়ী তিনিই হলেন ট্রাইবুনালের প্রকৃত মুখপাত্র। এঁদের কাউকেই আমরা আল-জাজিরার প্রতিবেদনে দেখতে পাই না। প্রতিবেদনটিতে সাক্ষাৎকার গ্রহণে এই অসমতা এবং ভারসাম্যহীনতাটুকু চোখে পড়বার মতো।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনভাবে এক পক্ষের (সাধারণত আসামী পক্ষের) বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়ে রিপোর্ট করার ঘটনা আল-জাজিরার ক্ষেত্রে এবারই কিন্তু প্রথম নয়। ইতঃপূর্বে, গত বছর ৩০ অক্টোবর আল-জাজিরা তাদের বিশ্ব-সংবাদের স্লটে স্টিভেন কে’র (যিনি জামায়াতের ব্রিটিশ আইনজীবীদের একজন) প্রায় তিন মিনিট ব্যাপী একক সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে, যেখানে স্টিভেন কে বিশ্ববাসীকে অন্যান্য বিভ্রান্তিকর তথ্যের পাশাপাশি এ-কথা জানাচ্ছেন যে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার নাকি কোনো গ্রহণযোগ্যতাই নেই, আসামীদেরও সুবিচার পাওয়ার নাকি কোনো সম্ভাবনাই নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব একতরফা অভিযোগের জবাব বা প্রত্যুত্তর দিতে পারবেন এমন কাউকেই ডাকা হয়নি স্টুডিওতে। আবার একই বছর ১৫ আগস্ট আল-জাজিরা তাদের বিশ্ব-সংবাদের স্লটে জামাত নিযুক্ত অপর ব্রিটিশ আইনজীবী টোবি ক্যাডম্যানের প্রায় ৪ মিনিট ব্যাপী একক সাক্ষাৎকার বিশ্বব্যাপী প্রচার করে। সেখানেও ক্যাডম্যানের একতরফা অভিযোগগুলোর প্রত্যুত্তর দিতে পারবেন এমন কাউকে ডাকার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষ। অথচ, ক্যাডম্যান এবং স্টিভেন কে দু’জনের একতরফা বক্তব্যেরই যুক্তিসঙ্গত জবাব ছিল, কিন্তু আল-জাজিরার মনে হয়নি সেগুলো বিশ্ববাসীকে জানানোর প্রয়োজন আছে! সবচেয়ে বড় কথা, এই দু’জনের কাউকেই “স্বাধীন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ” হিসেবে ধরে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ তারা দু’জনই হলেন জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করা দু’জন আইনজীবী যাঁদের নিয়োগই করা হয়েছে আসামীদের হয়ে কথা বলবার জন্য। এই দু’টো সাক্ষাৎকারই এমন একটি বিষয়বস্তু নিয়ে যেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরাটা সাংবাদিকতার যে-কোনো সাধারণ মানদণ্ডের অংশ হওয়ার কথা ছিল! কী জানি, বিদেশী সাংবাদিকেরা যখন বাংলাদেশের বিষয় নিয়ে কোনো কিছু প্রচার করেন, তখন হয়তো তাঁদের এই সাধারণ মানদণ্ডগুলো মানার কোনো প্রয়োজন তাঁরা বোধ করেন না!

আল-জাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটির কথাতেই আবার ফিরে আসি। প্রতিবেদক নিকোলাস হক তাঁর প্রতিবেদনের উপসংহার টানছেন এই ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে যে — এই বিচার প্রক্রিয়া নাকি দেশকে রাজনৈতিকভাবে আরও বেশী অস্থিতিশীল একটি পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। ইদানীং লক্ষ করেছি, সুযোগ পেলেই বিদেশীরা এই জাতীয় অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণী করে ফেলছেন। এই তো ক’দিন আগেই বিরুদ্ধমত-সহিষ্ণুতা বিষয়ে বলতে গিয়ে আসামী পক্ষের আইনজীবী টোবি ক্যাডমান বলা নেই কওয়া নেই আচমকা টুইটারে ‘দুর্দান্ত’ (!) এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দিয়ে বসলেন। তিনি বলে ফেললেন, বাংলাদেশ নাকি তার অতীতের কম্যুনিস্ট শাসনামলের পরিস্থিতির দিকেই ফিরে যাচ্ছে! আমাদের এই দেশটিতে অতীতে কখনো “কম্যুনিস্ট শাসন” ছিল, এই তথ্যটি বলাই বাহুল্য, আমার জন্য একেবারেই নতুন। ক্যাডম্যান সাহেব এই তথ্য কোথায় পেলেন কে জানে!

১৯৭১-এ সংঘটিত অপরাধগুলোর জন্য অভিযুক্ত আসামীদের বিচার করা হলে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে এই জাতীয় কথাগুলো গত দু’বছরে কিছু বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে আমরা বারবার উঠে আসতে দেখেছি। যেমন, ২০১০ সালের জুলাই মাসে আসামী কামরুজ্জামান গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, অনেকটা যেন পশ্চিমের কোনো এক বিশেষ মহলকে শোনাতেই, শাসানিমূলক বিবৃতি দিয়ে কামরুজ্জামান জানিয়ে দেন যে — ‘তিনি আইনি পন্থাতেই মামলা লড়তে চান, কিন্তু শেষ বিচারে চরমপন্থী নাশকতার পথই হয়তো বেছে নেবে তার দলের অপেক্ষাকৃত তরুণ সদস্যরা, যারা প্রয়োজনে আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে হলেও প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন’ (ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর, ১৪ জুলাই ২০১০)। এখানে কামরুজ্জামানের বক্তব্যের প্রকৃতি বোঝা সত্যিই মুশকিল। এটা কি গ্রেফতারের আগে নেতার পক্ষ থেকে দলের তরুণদেরকে দেয়া শেষবারের মতো নির্দেশমূলক রূপরেখা? নাকি দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো? নাকি সুক্ষভাবে পৃথিবীব্যাপী (মূলত পশ্চিমা বিশ্বের কাছে) এই বার্তা পোঁছে দেয়া যে তাদের মতো তথাকথিত “মডারেট মুসলিম” নেতাদের (দ্র.: ইঙ্গমার্কিনদের কাছে জামায়াতে ইসলামী মডারেট মুসলিম দল হিসেবেই পরিচিত) বিচার করা হলে বা শাস্তি দেয়া হলে তার দলের পক্ষে কিন্তু আর “মডারেট” থাকা সম্ভব হবে না? কারণ তখন তাদের দলের তরুণরা উগ্রপন্থা অবলম্বন করে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলেও যেতে পারে। অর্থাৎ, তখন দেশের ভেতর আল-কায়েদা বা তালেবানি স্টাইলে কার্যক্রম শুরু হয়ে গেলে কারোই আর কিছু করার থাকবে না।

এই জাতীয় হুমকিগুলোর একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক আছে, আর তা হল — এমন কোনো পশ্চিমা শক্তি নেই যারা এ জাতীয় হুমকিকে হালকাভাবে নেবেন। কারণ, তারা “মডারেট মুসলিম”দের সাথে লেনদেনে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ, আর তাদের আরও বেশি পছন্দ হল এই সব “মডারেট”দের যত দিন সম্ভব মডারেট হিসেবেই রেখে দেয়া। আজ যদি পছন্দের এই সব মডারেটরাও আচমকা উগ্রপন্থার দিকে হাঁটা দেয়, তাহলে তা ৯/১১-পরবর্তী “সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের” পৃথিবীতে সকল পক্ষের জন্যই “অসুবিধাজনক”, ব্যয়বহুল তো বটেই। ঠিক একই ধরণের বক্তব্যের প্রতিফলনই আমরা দেখতে পাই আল-জাজিরার প্রতিবেদনেও। যেন তাঁরা পরোক্ষভাবে এটাই বলতে চাইছেন যে, বিচার করলে যেহেতু আরও অস্থিতিশীলতার জন্ম হতে পারে, সেহেতু সকল পক্ষের মধ্যে শান্তি বজায় রাখাই শ্রেয়। এবং সেই লক্ষ্যে বিচার না করাটাই হল সহজতর শর্টকাট, কিংবা বিচার করলেও এই সব মডারেট ইসলামী দলগুলোর নেতাদের (এমনকি তারা যদি ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীও হন) কোনোভাবে বাদ দিয়ে বিচার করাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ! লক্ষণীয় হল, এই সব পশ্চিমা পাণ্ডাদের কেউই আজকাল আর প্রকাশ্যে এসব অপরাধের বিচারের বিরোধিতা হয়তো করেন না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে বিচার সংক্রান্ত কিছু অলিখিত প্রেসক্রিপশন তাঁরা দেবেন না। এসব ক্ষেত্রে পশ্চিমা পাণ্ডাদের অন্তর্নিহিত বাণীটি কিন্তু আমাদের বুঝতে কোনো অসুবিধে হয় না, আর তা হল — বিচার করা যাবে, কিন্তু সেটা করতে হবে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বাদ দিয়ে। অনেকটা ডিম না ভেঙেই ওমলেট বানানোর কায়দা রপ্ত করার মতো!

শুরুতেই লিখেছি, আল-জাজিরার সমর্থকের অভাব নেই। এই সমর্থকদের অনেকেই এই সংবাদ মাধ্যমটির মোহে পড়ে আছেন গত দশকের ইরাক-আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় থেকে, যখন বুশ-ব্লেয়ারদের বশংবদ মিডিয়ার বিপরীতে আল-জাজিরা ছিল অনেকটা দক্ষিণের খোলা জানালার মতো। আর হালে গজিয়ে ওঠা সমর্থকরা যে ঠিক কী কারণে আল-জাজিরা ঘরানার সাংবাদিকতার ভক্ত হয়ে উঠেছেন তা তাঁরাই ভাল বলতে পারবেন। এই তো সেদিন ‘ওপেন ডেমোক্রেসি’ ম্যাগাজিনে নিজেকে মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে এক লেখিকা এমন পক্ষপাতমূলকভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারাধীন আসামীদের নিয়ে লিখলেন যে এটা আর বুঝতে কারোরই অসুবিধে হয় না যে তিনি আসলে কোন রাজনীতির প্রত্যক্ষ সমর্থক। মজার ব্যাপার হল, তিনিও আল-জাজিরার একনিষ্ঠ সমর্থকদের একজন। নিজের মুগ্ধ সমর্থনের সপক্ষে তিনি ফিরিস্তি দিলেন — এই সংবাদ মাধ্যমটি আজ পর্যন্ত কোন্ কোন্ উৎস থেকে কী কী পুরস্কার লাভ করেছে ‘আকাশ ছোঁয়া দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বীকৃতি’ (লেখিকার ভাষায়) হিসেবে।

দিন কিন্তু বদলেছে, আল-জাজিরাও এখন আর আগের সেই আল-জাজিরা নেই। এখন তথাকথিত ‘আরব বসন্তের’ বার্তা সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেয়ার নামে আল-জাজিরা যে দরকার হলে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের (যার মূল কথা হল ‘আরব বসন্ত’-কে যেভাবেই হোক কেবল ইতিবাচক আলোকে তুলে ধরা) বা মালিকপক্ষের স্বার্থের বিপরীতে সকল সংবাদ এবং প্রতিবেদন দিব্যি চেপে যায়, ভেতরকার সে-সব খবরও এখন ফাঁস হচ্ছে ধীরে ধীরে। এই তো সেদিনও আলী হাশেমের মতো স্বনামধন্য এক আল-জাজিরা সাংবাদিক পদত্যাগ করলেন প্রতিষ্ঠানটির পক্ষপাতদূষ্ট ‘সংবাদ প্রচার নীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে। আলী হাশেম অভিযোগ করেছেন — আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিরিয়ার আসাদ-বিরোধী আন্দোলনের খবরগুলোর মধ্যে আন্দোলনটি কিভাবে বহিরাগত (মূলত: অন্যান্য দেশের ইসলামপন্থীরা) শক্তির সহায়তায় সামরিকায়িত হয়ে উঠছিল সে সব খবর কীভাবে বেমালুম চেপে গিয়ে দিনের পর দিন বিশ্ববাসীকে আন্দোলনকারীদের পক্ষে শুধু একপেশে খবরই পরিবেশন করা হয়েছে। এদিকে গত ২০ মার্চ, মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ অনেকটা বাধ্য হয়েই সিরিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আসাদ-বিরোধীদের অপকর্মের এক বিশাল খতিয়ান তাদের রিপোর্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। এই সব অপকর্মের মধ্যে রয়েছে — আসাদ-সমর্থকদের (এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের), শিয়াদের, আলাওয়িদের হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ইত্যাদি।

আর হিউম্যান রাইটস ওয়াচেরও ‘বাধ্য হয়ে’ এই রিপোর্টটি করতে হয়েছে বলার পেছনে কারণটি হল — মাত্র এই ক’দিন আগেও এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কেনেথ রথ আরব বসন্তের সকল বিপ্লবীর একনিষ্ঠ এক গুণমুগ্ধ ভক্ত ছিলেন, যার প্রমাণ মেলে প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রকাশনায়। সেন্টার ফর সেক্যুলার স্পেসসহ আরও বহু সংগঠন কেনেথ রথ-এর এই দায়িত্বহীন অবস্থানের সমালোচনাও করেছেন, এমনকি রথের অবস্থানের প্রতিবাদে স্বাক্ষরগ্রহণ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। যেটা বলতে চাচ্ছি তা হল — কেনেথ রথের মতো গুণমুগ্ধ সমর্থকদেরও যেখানে সিরিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারী পক্ষের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে হয়েছে, সেখানে নিজেদের ভেতরকার পক্ষপাতমূলক নানা সমীকরণে অনড় থেকেছে আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষ। আলী হাশেমের মতোই একই অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির তিউনিসিয়া, লিবিয়া, বাহরাইন, মিশর এবং সিরিয়ার আরও অনেক সাংবাদিকের। এই যখন আল-জাজিরার নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার সত্যিকার অবস্থা, তখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কিংবা গোলাম আযমকে নিয়ে প্রতিবেদনে আল-জাজিরার নাম দেখে আমাদের ধরে নেয়ার কোনোই কারণ নেই যে প্রতিষ্ঠানটি সব ধরণের পক্ষপাতের সম্ভাবনার ঊর্ধ্বে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হবে, লক্ষ লক্ষ মানুষের অনেকেই সেই প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিচারের কথা প্রথমবারের মতো জানবেন। এই প্রতিবেদন যাঁরা দেখবেন, তাঁদের সিংহভাগের জানা নেই — ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মাটিতে কী ধরণের অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তাঁদের জানা নেই ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিম পরিবারগুলোর কথা, তাঁদের জানা নেই আসামী গোলাম আযম ঠিক কী ধরণের রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন। আল-জাজিরার একতরফা, ভারসাম্যহীন, অপেশাদার এবং দায়িত্বহীন এই প্রতিবেদন থেকেই তাঁরা গোলাম আযম সম্বন্ধে যা জানার তা জানবেন, নিজেদের মতো করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এবং এর বিচার প্রক্রিয়া সম্বন্ধে ধারণা গড়ে তুলবেন। তাতে আল-জাজিরার, এর অন্ধ সমর্থকদের বা এর দর্শকদের কিছুই যাবে আসবে না, যাবে আসবে কেবল এই বিচার প্রক্রিয়ার এবং ভিকটিম পরিবারদের, যাঁরা দীর্ঘ ৪১ বছর এই বিচারের জন্য প্রতীক্ষায় থেকেছেন।

রায়হান রশিদ

জন্ম চট্টগ্রাম শহরে। পড়াশোনা চট্টগ্রাম, নটিংহ্যাম, এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমান আবাস যুক্তরাজ্য। ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধসমূহের বিচার প্রক্রিয়াকে সহায়তা প্রদান, এবং ১৯৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের দাবীতে সক্রিয় নেটওয়ার্ক 'ইনটারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম' (ICSF) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি।

২ comments

  1. মাসুদ করিম - ৩১ মার্চ ২০১২ (১১:৩৪ অপরাহ্ণ)

    ১.

    গোলাম আযম নাকি “হাঁটতে পারেন না, চোখে দেখেন না, কানেও শুনতে পারেন না”। অথচ আমরা ‘দৈনিক সংগ্রাম’-এর রিপোর্টেই (২৮ জানুয়ারী) দেখতে পাই গোলাম আযমের স্ত্রী সৈয়দা আফিফা আযম দাবি করছেন কীভাবে তার স্বামী ‘আট তলা ভবন থেকে পায়ে হেঁটে নীচে নেমে’ গাড়িতে উঠে ট্রাইবুনালে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন।

    এখানে সৈয়দা আফিফা আযমকে আমি কাগজে কলমে আরেকবার ধন্যবাদ জানাচ্ছি, প্রথম ধন্যবাদটা জানিয়েছিলাম টিভি মারফত যখন তার এই ভাষ্যের কথা শুনেছিলাম। এই একটি জায়গায় গোলাম আযমের প্রতি নিজের ভালবাসার গুণেই হয়ত তিনি সত্য কথা অকপটে বলেন, সাকা চোধুরীর স্ত্রী ফাকা চৌধুরীর চেয়ে নিজেকে অনেক উপরের আসনে বসিয়েছেন।

    ২.

    তিনি বলে ফেললেন, বাংলাদেশ নাকি তার অতীতের কম্যুনিস্ট শাসনামলের পরিস্থিতির দিকেই ফিরে যাচ্ছে! আমাদের এই দেশটিতে অতীতে কখনো “কম্যুনিস্ট শাসন” ছিল, এই তথ্যটি বলাই বাহুল্য, আমার জন্য একেবারেই নতুন। ক্যাডম্যান সাহেব এই তথ্য কোথায় পেলেন কে জানে!

    এটা পড়তে গিয়ে ইউনূস প্রসঙ্গে বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ জগদীশ ভগবতী যে বলেছিলেন

    Unfortunately, Bangladesh’s most influential economists, and hence the country’s policies, remain mired in the growth-killing socialist economics that they learned at Cambridge and the London School of Economics a half-century ago.

    তার কথা মনে পড়ল। হ্যাঁ, বাংলাদেশ নিয়ে বলতে গেলে বিশিষ্ট পশ্চিমা জ্ঞানীরা এই ‘কমিউনিস্ট’ শাসন ‘সমাজতান্ত্রিক’ অর্থনীতি এগুলো আলটপকা বলে ফেলেন, নাকি উদ্দেশ্যমূলকভাবে আজেবাজে কথা বলেন, নাকি পৃথিবীতে শুধু ‘বাংলাদেশ’ নিয়ে লিখতে পূর্বাপর সত্যাসত্য না ভেবেই প্রাণ খুলে যা খুশি তা লেখা যায় — বলা যায়?

  2. Nashir - ৯ এপ্রিল ২০১২ (৫:২৫ অপরাহ্ণ)

    আমি মনে করি সংঘটিত অপরাধগুলোর দ্রুত বিচার হওয়া উচিত।

Have your say

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.