সর্বপ্রথম কে কলকাতার ঔপন্যাসিকদের উপন্যাস নিয়ে টিভি সিরিয়াল কিংবা একক নাটক বানানো শুরু করেছিল সেটা মনে করতে পারছি না। তবে আফসানা মিমি-র কৃষ্ণচূড়া প্রডাকশনের 'কাছের মানুষ' সিরিয়ালটিই হয়তো বা প্রথম হতে পারে। সূচিত্রা ভট্টাচার্যের এ উপন্যাস নিয়ে সিরিয়াল শুরু হতে যাচ্ছে এটা প্রথম শুনতে পাই আমার প্রজাপতিকাল টেলিফিল্মের শুটিংয়ের সময়।

সর্বপ্রথম কে কলকাতার ঔপন্যাসিকদের উপন্যাস নিয়ে টিভি সিরিয়াল কিংবা একক নাটক বানানো শুরু করেছিল সেটা মনে করতে পারছি না। তবে আফসানা মিমি-র কৃষ্ণচূড়া প্রডাকশনের 'কাছের মানুষ' সিরিয়ালটিই হয়তো বা প্রথম হতে পারে। সূচিত্রা ভট্টাচার্যের এ উপন্যাস নিয়ে সিরিয়াল শুরু হতে যাচ্ছে এটা প্রথম শুনতে পাই আমার প্রজাপতিকাল টেলিফিল্মের শুটিংয়ের সময়। মেকাপম্যান রবীনের কাছে কাছের মানুষের এককপি দেখতে পেয়ে জানতে পারি মিমি আপা তাকে এই বইটি পড়তে বলেছেন যেন আর্টিস্টদের মেকাপ সম্পর্কে সে আগেভাগেই একটা ধারণা করতে পারে। জানি না মিমি আপা তার অন্য কোনো সিরিয়াল নিয়ে এতোটা সিরিয়াস ছিলেন কিনা অর্থাৎ বন্ধন নাটকের সময়ও কি তিনি তার মেকাপম্যানকে স্ক্রিপ্ট পড়তে দিয়েছিলেন কিনা জানতে পারিনি। কাছের মানুষ নিয়ে আগ্রহ ছিল। কারণ সানজিদা প্রীতি তাতে অভিনয় করেছিল, সৈনিক ক্যামেরা চালিয়েছিল। প্রীতি আমার সন্ধি নাটক করার পর ড্রিম ফ্যাক্টরির স্পর্শের বাইরে করেছিল। আমি ফাজলামো করে বলতাম, হায়রে প্রীতি, আমার সঙ্গে 'সন্ধি' করে 'স্পর্শের বাইরে' চলে গেলে, এখন আবার আরেকজনের 'কাছের মানুষ' হয়ে গেলে। কাছের মানুষ টিভিতে কয়েক পর্ব দেখেছি। কলকাতা ঢংয়ের সংলাপগুলো যতোই বাংলাদেশিকরণ করার চেষ্টা হোক না কেন সেগুলো জুৎসই হয়নি। একটা উদাহরণ দিই। অফিসে সেরে গৃহকত্রী বাসায় ফিরেছে। তিনি এখন চা খাবেন। স্বামীকে বলছেন, গৃহকত্রী : এই শুনছ। আমি চায়ের পানি চড়াচ্ছি। তোমার জন্যও করব? এ সংলাপটা আমার কানে খট করে লাগল। প্রচুর পরিমাণে কলকাতার উপন্যাস পড়ার ফলে আমি বুঝতে পারি এটা নিতান্তই সাদামাটা সংলাপ, কলকাতাবাসীদের জন্য। আমি হাজার চেষ্টা করেও মনে করতে পারিনি আমার এ বয়স পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশী কাউকে 'চায়ের পানি' বেশি করে চড়াবে কিনা জিজ্ঞেস করছে। বরং এমনটাই শুনেছি যে, গৃহকর্ত্রী : আমি চা খাব। তুমি খাবে? বানাব? শুনেছি কাছের মানুষকে বাংলাদেশিকরণ করা হয়েছিল কিছু কিছু শব্দ পরিবর্তন করে। যেমন, জানালার কপাট লাগিয়ে দাও না বলে জানালা লাগিয়ে দাও; বাতিটা নিভিয়ে দাও না বলে লাইটটা অফ করে দাও। পত্রপত্রিকায় আগেই পড়েছিলাম আর এই সেদিন বিডিনিউজে এই রিপোর্টটা পড়ে আরো বেশি হতাশ হয়েছি। এখন বাংলাদেশে বেশ জোরেসোরেই চলছে কলকাতার উপন্যাস নিয়ে টিভি সিরিয়াল বানানোর হিড়িক। আমি এর তীব্র বিরোধিতা করছি। রিপোর্টে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে যে বাংলাদেশে কি ভালো স্ক্রিপ্টের…

ঘটনার শুরু বেশ আগেই। ঢাকা শহরে সংখ্যালঘু কিছু মানুষের মাঝে নতুন উন্মাদনার নাম পর্বতারোহন। সম্মকভাবে ব্যাপারটাতে কারও তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও উৎসাহী মানুষের উপস্থিতি নিছক কম নয়। ২০০৩ সালের একেবারের শেষের দিকে এভারেস্ট নামটাকে কেন্দ্র করে আমাদের অনেক সভা সমিতি হল। সবাইকে জানিয়ে দেয়া হল আমরা মানে বাংলাদেশীরা পাহাড়ে যাওয়া শুরু করেছি।

প্রথম পর্ব / দ্বিতীয় পর্ব / তৃতীয় পর্ব -------------------- ঘটনার শুরু বেশ আগেই। ঢাকা শহরে সংখ্যালঘু কিছু মানুষের মাঝে নতুন উন্মাদনার নাম পর্বতারোহন। সম্মকভাবে ব্যাপারটাতে কারও তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও উৎসাহী মানুষের উপস্থিতি নিছক কম নয়। ২০০৩ সালের একেবারের শেষের দিকে এভারেস্ট নামটাকে কেন্দ্র করে আমাদের অনেক সভা সমিতি হল। সবাইকে জানিয়ে দেয়া হল আমরা মানে বাংলাদেশীরা পাহাড়ে যাওয়া শুরু করেছি। পাশাপাশি নেপাল কিংবা সমগোত্রীয় অঞ্চলগুলোতে আমাদের পদধূলি পড়তে থাকলো, যার নাম ট্রেকিং। দারুন উপভোগের নতুন অধ্যায়। ট্রেকিং যখন খানিকটা পোক্ত হলো কারও কারও মনে কিংবা মানসিকতায়, অভিযাত্রিক বৈভবকে আরও বাড়িয়ে তোলার জন্যই কিছু সংখ্যক মানুষ যাওয়া শুরু করলেন আরও উঁচুতে। যার নাম পর্বতারোহন। তার প্রেক্ষিতেই ভারতে পর্বতারোহন স্কুলে আমার মত অনেকেই গেছেন সময় সময়ে। এরই প্রভাবে বলিয়ান হয়ে আটকে গেলাম যে নেশায়, কখন কোথায় কোন্ পাহাড়ে যাব? এর সাথে মূখ্য কিংবা গৌন অনেক কিছুই গেল জড়িয়ে। পর্বতারোহন স্কুল এ পাঠ শেষ করে আমার মত অনেকেই আটকে গেলেন হিমালয় পর্বতমালার সর্ববৃহৎ ব্যপ্তি ভারত হিমালয়ের সৌন্দর্যে। মূলত সমগ্র হিমালয়ের বেশির ভাগ ভৌগলিক অবস্থান হলো ভারতে। আর সে কারনেই মনে হয়ে জগৎ বিখ্যাত অনেক পর্বতের অবস্থান এখানে। ২০০৩ এ মৌলিক পর্বতারোহন দীক্ষা শেষ করে যখন সবার মাঝে ব্যাপারটাকে বলা হলো, উৎসাহিত মানুষের অভাব হলো না তাল দেয়ার। কিন্তু কাজের মানুষ কই? মাঝে যাওয়া হলো বেশ, নানা পর্বতের পাদদেশে, কিংবা শৃঙ্গ খোঁজার আশায়। তবে কাংখিত অভিযানের তৃষ্ণা আটকে ছিল অনেক অনেক দিন। জল্পনা কল্পনার শুরু অনেক আগে থেকেই। তবে সময় আর সুযোগের জটিল মিশ্রনটা হলো এবার, ২০০৭ সালে। আন্তঃ উপমহাদেশীয় দেশগুলোর মধ্যে বিরাজমান শান্তিকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে, বাংলাদেশের অভিযাত্রিক সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ ভারতের নদীয়া জেলার মাউন্টেনার্স এসোসিয়েশান অব কৃষ্ণনগর ” শান্তির জন্য পর্বতারোহন” মূলনীতি নিয়ে রুবাল কাং পর্বতে অভিযানে যৌথ ভাবে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। মাস ব্যাপি এই পর্বতারোহন শুরু হয় ১৩ মে ২০০৭ এ পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার জেলা প্রশাসন ভবনে এক অনাড়ম্বর পতাকা বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। প্রথা অনুসারে দু'দেশের আরোহী দলের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি এবং দলনেতাদের হাতে পতাকা তুলে দেয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন কোলকাতাস্থ…

বাংলাদেশের সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন মিডিয়া বিগত কয়েক বছরের আপ্রাণ চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে কুশল বিনিময়ের আয়োজন করতে পেরেছেন। অবশ্য এই আয়োজনের মূল কৃতিত্ব ঠিক সুশীল সমাজ ও মিডিয়াকে দেয়া যায় না। বলতে গেলে, গত আঠারো বছর থেকে আমরা দেখে আসছি, পৃথিবীর একটি বিশেষ দেশে, একটি বিশেষ বাহিনীর বিশেষ একটি দিনে বিশেষ একটি ঘটনা ঘটে; আর সেই বিশেষ ঘটনাটি হলো, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সশস্ত্র দিবসে সেনাকুঞ্জে দেশটির দুই রাজনৈতিক নেতা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া পাশাপাশি বসেন, কখনও কথা বলেন, কখনও আবার কথা বলেন না। কথা যখন বলেন না তখন তারা সামনের দিকে এত মনযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকেন যে মনে হয় শেক্সপিয়রের কোনও নাটক দেখতে বসেছেন।

বাংলাদেশের সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন মিডিয়া বিগত কয়েক বছরের আপ্রাণ চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে কুশল বিনিময়ের আয়োজন করতে পেরেছেন। অবশ্য এই আয়োজনের মূল কৃতিত্ব ঠিক সুশীল সমাজ ও মিডিয়াকে দেয়া যায় না। বলতে গেলে, গত আঠারো বছর থেকে আমরা দেখে আসছি, পৃথিবীর একটি বিশেষ দেশে, একটি বিশেষ বাহিনীর বিশেষ একটি দিনে বিশেষ একটি ঘটনা ঘটে; আর সেই বিশেষ ঘটনাটি হলো, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সশস্ত্র দিবসে সেনাকুঞ্জে দেশটির দুই রাজনৈতিক নেতা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া পাশাপাশি বসেন, কখনও কথা বলেন, কখনও আবার কথা বলেন না। কথা যখন বলেন না তখন তারা সামনের দিকে এত মনযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকেন যে মনে হয় শেক্সপিয়রের কোনও নাটক দেখতে বসেছেন। দু'এক বছর অবশ্য এই ঘটনার ব্যতিক্রম ঘটেছে, কেউ হয়তো বিশেষ কোনও কারণে ওই অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি, কারও যাবার পথে হয়তো বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়েছে; কিন্তু সেগুলো উল্লেখ করার মতো কিছু নয়। শক্তি অনেক কিছুর ধাত্রী হিসেবে কাজ করে থাকে; শক্তিমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীই যে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার এই কুশলবিনিময়ের ধাত্রী হিসেবে কাজ করেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। নিশ্চয়ই এটি একটি বড় ঘটনা, আর তা কেবল সুশীল সমাজ ও মিডিয়ার সাফল্যের অর্থে নয়, রাজনৈতিক অর্থেও।ক্ষমতা নেয়ার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন; উদ্দেশ্যটি হলো, যে-দলই আগামী জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সরকার গঠন করুন না কেন, তাকে সুনির্দিষ্ট কিছু ইস্যু বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বিরোধী দল সে-ক্ষেত্রে তেমন কোনও তীব্র বাগড়া বসাতে পারবে না। আর এই ইস্যু বাস্তবায়নের কাজটি যাতে আরও নিপূণভাবে করা যায়, সেজন্যে তারা জাতীয় সরকার প্রসঙ্গটিকেও বার বার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। ২০০১ সালের আগে একই উদ্দেশ্য (দলনির্বিশেষে সুনির্দিষ্ট কর্পোরেট স্বার্থ বাস্তবায়ন) নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রীয়-স্বার্থের তথা সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের প্রতিনিধি জিমি কার্টার। কিন্তু ওই নির্বাচনের পর নির্বাচিত চারদলীয় সরকারের পক্ষে একমাত্র আদমজী পাটকলকে বিক্রি করার কাজটি ছাড়া আর কোনও বড় কর্পোরেট স্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এবার তাই আরও আটঘাট বেধে নেমেছে কর্পোরেট শক্তি। প্রায় দুই বছর ধরে তারা প্রধান রাজনৈতিক দলদুটিকে এ-উদ্দেশ্যে ঘোলাজলে হাবুডুবু খাইয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.