৬০০০ ভাষার মধ্যে ২৪৯৮টিই বিপন্ন। পাঁচ রকমের বিপন্নতায় ভাগ করা হয়েছে বিপন্ন ভাষাগুলোকে। বিপন্ন (শিশুরা এ ভাষায় কথা বলে, কিন্তু সব সময় সব জায়গায় বলে না) ৬০৭টি, নিশ্চিত ভাবে বিপন্ন (মাতৃভাষা হিসেবে শিশুরা ঘরে আর ভাষাটি শেখে না) ৬৩২টি, ভয়াবহ ভাবে বিপন্ন (দাদা-দাদিরা বা বুড়ো প্রজন্ম এ ভাষায় কথা বলে, বাবা-মারা বা তাদের প্রজন্ম সে ভাষা বুঝতে পারে, কিন্তু নিজেদের মধ্যে তারা এ ভাষায় কথা বলে না এবং শিশুদেরও ভাষাটি আর শেখায় না) ৫০২টি, চূড়ান্ত বিপন্ন ( বুড়ো প্রজন্মই শুধু ভাষাটি ব্যবহার করে, কিন্তু তাদের মধ্যেও অনেকেই ভাষাটি ভুলে গেছে এবং যারা জানে তারাও সব সময় সে ভাষায় কথা বলে না) ৫৩৮টি ও অবলুপ্ত ( কেউই আর ভাষাটিতে কথা বলে না) ২১৯টি। বাংলাদেশে পাঁচটি ভাষাকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ককবরক, বিষ্ণুপ্রিয়-মণিপুরী, কুরুক্স –এই তিনটি বিপন্ন, বম নিশ্চিত ভাবে বিপন্ন এবং সাক ভয়াবহ ভাবে বিপন্ন। ১৯৬টি বিপন্ন ভাষা নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারত, তার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৯২), ব্রাজিল(১৯০), ইন্দোনেশিয়া (১৪৭) ও মেক্সিকো (১৪৪)। ভয়াবহ ভাবে বিপন্ন, মাত্র ২৯০০০ ভাষাভাষী নিয়ে বিপন্ন ভাষা, এভেন্কি। সে ভাষায় লেখা একটি কবিতার ইংরেজি অনুবাদ পেয়েছি ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে। If I forget my native speech, And the songs that my people sing What use are my eyes and ears? What use is my mouth? If I forget the smell of the earth And do not serve it well What use are my hands? Why am I living in the world? How can I believe the foolish idea That my language is weak and poor If my mother’s last words Were in Evenki? -- Alitet Nemtushkin, Evenki poet এই পোস্টের সব তথ্যই সংগৃহীত হয়েছে ইউনেস্কোর ওয়েবসাইট থেকে। ২০০৮ এর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কো প্রকাশ করেছে ‘বিপন্ন ভাষা’র মানচিত্রের নতুন সংস্করণ। অষ্ট্রেলিয়ার ভাষাবিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার মোসলের সম্পাদনায় সারা পৃথিবীর ৩০ জন ভাষাতত্ত্ববিদের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এ বারের মানচিত্র। মানচিত্রটি দেখুন ও বিষয়টি আরো বিস্তারিত জানুন।
পরিকল্পিতভাবে দ্রব্যমূল্যস্ফীতি - বিডিআর নিয়ন্ত্রিত 'অপারেশন ডালভাত' - উঁচু পর্যায়ে অফিসারদের সেখান থেকে আখের গোছানোর অভিযোগ - সেই সাথে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের বেতন ভাতা ইত্যাদি নিয়ে দীর্ঘকালীন বঞ্চনাপ্রসূত ক্ষোভ - পিলখানা ক্যাম্পে গোলাগুলি - ঘটনাস্থলে সেনা বাহিনী মোতায়েন - সেনা বাহিনী বিডিআর মুখোমুখি - জিম্মি উর্ধ্বতন অফিসাররা - হতাহতের সংখ্যা অনিশ্চিত - সমঝোতা আলোচনা - দাবী দাওয়া বিবেচনার এবং তা পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস - অস্ত্র সমর্পনের আহ্বান - সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা - অস্ত্র সমর্পন - আটকে পড়া নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে . . .
[পোস্টের শিরোনাম ঈষৎ বদলে নেয়া হল] পরিকল্পিতভাবে দ্রব্যমূল্যস্ফীতি - বিডিআর নিয়ন্ত্রিত 'অপারেশন ডালভাত' - উঁচু পর্যায়ে অফিসারদের সেখান থেকে আখের গোছানোর অভিযোগ - সেই সাথে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি নিয়ে দীর্ঘকালীন বঞ্চনাপ্রসূত ক্ষোভ - পিলখানা ক্যাম্পে গোলাগুলি - ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী মোতায়েন - সেনাবাহিনী বিডিআর মুখোমুখি - জিম্মি ঊর্ধ্বতন অফিসাররা - হতাহতের সংখ্যা অনিশ্চিত - সমঝোতা আলোচনা - দাবি-দাওয়া বিবেচনার এবং তা পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস - অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান - সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা - অস্ত্র সমর্পণ - আটকে পড়া নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে - পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা পিলখানায় প্রবেশ করে দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন - মৃতদেহের তন্ন তন্ন অনুসন্ধান চলছে . . . জরুরী: উপরের ঘটনাক্রমের আপডেট ছাড়া এই পোস্টটি মূলতঃ লেখা হয়েছে ঘটনার প্রথম প্রহরে। জরুরী তথ্য-সীমাবদ্ধতা ছিল এটি লেখার সময়। তাই পাঠকের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে সেটি আমলে নেয়ার জন্য। ঘটনার সাম্প্রতিকতা বিবেচনায় এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। সবাই মিলে এসব প্রশ্নের পাশাপাশি আরও নতুন সব প্রশ্ন তুলে আনার এবং সে সবের উত্তর খোঁজায় মনোনিবেশের সময় এখন। [কোনো সুনির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করা হয়নি এখানে] - ব্যারাক এলাকায় যেসব নারী, শিশু এবং বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়েছেন, তাঁদের অবস্থা কী? - আহত এবং অসুস্থরা কি পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন? - ঘটনার অন্তরালে অন্য কোনো ঘটনা নেই তো? - পরিকল্পিত না স্বতঃস্ফূর্ত? - ঠিক আজই এখনই কেন এই বিদ্রোহ? - তিন বছর বা ছয় মাস আগে নয় কেন? - এটি অন্য কোনো ঘটনা থেকে জনতার মনোযোগ সরানোর প্রয়াস নয় তো (দেশ যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা ভাবছে)? - '৭৫-এ এমনই এক সিপাহি বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাধারণ সিপাহিদের বঞ্চনাকে সামনে তুলে ধরে, যা পরবর্তীকালে জেনারেল জিয়ার উত্থান, কর্নেল তাহের এবং মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল; তেমন কিছুরই পুনরাবৃত্তি হবে না তো? - যেসব বিডিআর সদস্যকে ঘটনার জন্য ঢালাও সাধারণভাবে ক্ষমা করেছে সরকার, সেটি (সাধারণ ক্ষমা) ভবিষ্যতে ঠিকভাবে মানা হবে তো? নাকি ঘটনা কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলেই তারা সম্মুখীন হবেন প্রতিশোধমূলক হয়রানি এবং নির্যাতনের? - সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা ছাড়া অন্য কি কি বিকল্প পথ খোলা ছিল…
ভাষা আন্দোলনের প্রথম বার্ষিকীতে, ১৯৫৩ সালে, শান্তিনিকেতনে দুই বাংলার সাহিত্যিকদের নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল সাহিত্যমেলা। কয়েকদিন-ব্যাপী ওই সাহিত্যমেলা আয়োজনের মধ্য দিয়েই প্রথম একুশে উদ্যাপিত হয়েছিল। প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি সহ তারই সানুপুঙ্খ বিবরণ।
নরেশ গুহ-র তাতার ঘেরা সমুদ্র (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের ‘ফাল্গুন ১৩৫৯’ নামের কবিতাটি পড়ছিলাম। তার এক জায়গায় কবি লিখেছেন : কেমন, বলিনি? দ্যাখো, বসন্ত ফোটায় গাছে ফুল। (ধন্যবাদ গৌরী দত্ত, শ্রীনিমাই চট্টোপাধ্যায়।) তিপ্পান্ন সালেও আজো ফাল্গুন কী রঙ্গ দেখায় বিশ্বাস হ’তো না যদি না-দেখতুম জ্বলন্ত শিমুল বীরভূমে অজয়তীরে (সাক্ষী থাকে অম্লানকুসুম; -- সাক্ষী থাকে আরো এক অধ্যাপক, মাথাজোড়া টাক, সারা রাস্তা ভদ্রলোক, বাপরে বাপ, কী বকবকুম! কিন্তু এবে পরচর্চা থাক।) ৩ তাহলে ফাল্গুনে দেখছি – আরে, তাই তো, সত্যি যে পলাশ! এতো লাল? ওই কি রঙ্গন? পৌঁছলাম শান্তিনিকেতন। অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে পড়বে যে ১৯৫৩ সালের বসন্তে শান্তিনিকেতনে সাহিত্যমেলার আয়োজন করা হয়েছিল। আর তার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বভারতীর দুই শিক্ষার্থী -- নিমাই চট্টোপাধ্যায় আর গৌরী দত্ত; আবু সয়ীদ আইয়ুবের সহধর্মিণী হবার সুবাদে পরবর্তীকালে যিনি গৌরী আইয়ুব নামে পরিচিত হয়েছিলেন। বছর কয়েক আগে তিনি প্রয়াত হয়েছেন; তবে যতদূর জানি নিমাই চট্টোপাধ্যায় এখনো বেঁচে আছেন। কয়েকদিন-ব্যাপী সেই সাহিত্যমেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যে প্রথমবারের মতো একুশে উদ্যাপিত হয়েছিল তা হয়তো সবার জানা নেই। বোলপুর থেকে প্রকাশিত 'পাক্ষিক ১৪০০ সাহিত্য' পত্রিকার '২১ ফেব্রুয়ারি বিশেষ সংখ্যা'য় (বৈশাখ ১৪০৬) ছাপা হয়েছিল নিমাই চট্টোপাধ্যায়ের একটি সাক্ষাৎকার (১৫ মার্চ ১৯৯৯)। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি জানাচ্ছেন : আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-র ইতিহাস আজ দুনিয়ার কোনো বাঙালির কাছেই অজানা নেই। ১৯৫২-র একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্যে যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁদের আমরা প্রতি বছরই ওই তারিখে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসার সঙ্গে স্মরণ করি। কিন্তু যে-কথাটা আজ প্রায় কেউই মনে রাখেনি সেটা হল কি পরের বছর ১৯৫৩-র একুশে ফেব্রুয়ারি সেই ঘটনার প্রথম স্মরণ বার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই শান্তিনিকেতনে; এমনকি শান্তিনিকেতনের বর্তমান কর্তৃপক্ষও সে-কথা জানেন না [...]। ১৯৫৩-র একুশে ফেব্রুয়ারি অন্নদাশঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে গৌরী দত্ত ও আমি শান্তিকিকেতনে যে সাহিত্যমেলার আয়োজন করি সেটাই ছিল বিভাগোত্তর দুই বাংলার সাহিত্যিক সমাজের সর্বপ্রথম মিলনোৎসব; সেই অনুষ্ঠানেই, শান্তিনিকেতনের সংগীতভবন মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাজী মোতাহার হোসেন প্রথম বলেছিলেন : "আমাদের মুখের ভাষা যদি ওরা কেড়ে নেয় আমরা তাহলে পাকিস্তান ছেড়ে দিতেও কুণ্ঠা বোধ করব না।" তার বেশ কয়েক বছর পরে স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়, এবং একুশে ফেব্রুয়ারি অনিবার্যভাবেই বাংলাদেশের বর্ষপঞ্জির…
দীর্ঘদিন পর, সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে নির্মাণ-এর পঞ্চম সংখ্যা। নির্মাণ ওয়েবজিন-এর সাইটটি চালু হলে ১৯৯৫ থেকে ২০০৯-এর মধ্যে প্রকাশিত পাঁচটি সংখ্যাই আর্কাইভে তুলে দেয়া হবে। আপাতত এবারের সংখ্যার সম্পাদকীয়টি মুক্তাঙ্গন-এ তুলে দেয়া হলো। এ সংখ্যার প্রচ্ছদ এঁকেছেন মনসুর উল করিম, উৎসর্গপত্রে ব্যবহৃত সিদ্ধেশ্বর সেনের প্রতিকৃতি এঁকেছেন গৌতম পাল। সংখ্যাটি পড়ার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই।

দীর্ঘদিন পর, সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে নির্মাণ-এর পঞ্চম সংখ্যা। নির্মাণ ওয়েবজিন-এর সাইটটি চালু হলে ১৯৯৫ থেকে ২০০৯-এর মধ্যে প্রকাশিত পাঁচটি সংখ্যাই আর্কাইভে তুলে দেয়া হবে। আপাতত এবারের সংখ্যার সম্পাদকীয়টি মুক্তাঙ্গন-এ তুলে দেয়া হলো। এ সংখ্যার প্রচ্ছদ এঁকেছেন মনসুর উল করিম, উৎসর্গপত্রে ব্যবহৃত সিদ্ধেশ্বর সেনের প্রতিকৃতি এঁকেছেন গৌতম পাল। সংখ্যাটি পড়ার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই। . . . স ম্পা দ কী য় কয়েক মাস আগে সুযোগ হয়েছিল মোহাম্মদ রফিকের অনেকগুলি নতুন কবিতা একসঙ্গে পড়ার। পড়ার নয় কেবল, শোনারও। শুধু কবিতা নিয়ে একটি ছোট সংখ্যা করার কথা তখনই প্রথম ভেবেছিলাম। তারপর থেকে তাঁর প্রতিটি সদ্য-লেখা কবিতাই দূরভাষে শোনার বা পত্রযোগে পড়ার এক দুর্লভ সুযোগ তৈরি হয়ে গেল। সংখ্যাটির পরিকল্পনা আরো একটু পাকা হবার পর যোগাযোগ করা গেল শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে। প্রায় একযুগ আগে নির্মাণ-এর তৃতীয় সংখ্যার জন্য তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম আমরা। এবারে তাঁর সাম্প্রতিক কয়েকটি ও সেই সঙ্গে অগ্রন্থিত আরো কয়েকটি কবিতা পাওয়া গেল! শেষের গুচ্ছটি পেয়েছি সুতপা ভট্টাচার্যের সংগ্রহ থেকে; সঙ্গে রইল তাঁরই লেখা একটি ছোট্ট ভূমিকা। আমাদের জন্য সমস্ত ক্ষতের মুখে পলি নিয়ে একটি প্রবন্ধও তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। শঙ্খ ঘোষের লেখা বিষয়ে তাঁর প্রবন্ধগুলি সংকলিত হয়েছে গাঢ় শঙ্খের খোঁজে বইতে। আর মোহাম্মদ রফিকের নোনাঝাউ নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে লিখেছেন সনৎকুমার সাহা। এ চারজনের লেখা নিয়েই, পূর্বঘোষিত অনুবাদ সংখ্যা ও ননী ভৌমিক সংখ্যার আগেই, প্রকাশিত হচ্ছে নির্মাণ-এর এবারের সংখ্যাটি। এবারের নির্মাণ আমাদের অন্যতম প্রিয় কবি সিদ্ধেশ্বর সেনের স্মৃতির উদ্দেশে নিবেদিত হলো। এ পত্রিকার একটি সংখ্যা তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁকে উৎসর্গ করার ইচ্ছেটা অপূর্ণই থেকে গেল। ঠিক তিন বছর আগে কলকাতা বইমেলায় প্রতিক্ষণ-এর স্টলে তাঁর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের দিনটি এবং পরে তাঁর বেচুলাল রোডের সরকারি আবাসনে বেশ কিছুটা সময় কাটানোর স্মৃতি আজ বারে বারে মনে পড়ছে। ননী ভৌমিক সংখ্যার জন্য তাঁর যে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তার পুরোটা ধারকযন্ত্রে ধরে রাখা যায়নি। কলকাতায় গিয়ে সে-সাক্ষাৎকার সম্পূর্ণ করে নেওয়ারও সুযোগ রইল না আর। সিদ্ধেশ্বর সেন তাঁর বিখ্যাত দীর্ঘ কবিতা ‘আমার মা-কে’ স্মৃতি থেকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেন, সেই সঙ্গে বর্ণনা করেছিলেন কবিতাটির বিস্তৃত পটভূমি। তাঁর সেই মন্থর মন্দ্রিত কণ্ঠস্বর আজও কানে বাজে। আর মনে পড়ে…
একুশে ফেব্রুয়ারী আসলেই আলোচনা সভা-সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ও শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পনসহ নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। কিন্তু বাংলা ভাষা শহীদদের চেতনা-সংগ্রাম-স্বপ্ন-ল্ক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না [...]
ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য রক্তদান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। মায়ের ভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ১৯৪৮ সালে এ দেশের ছাত্র সমাজ মহান ভাষা আন্দোলনের সূচনা করে। ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে ছাত্রদের জীবনদানের মধ্য দিয়ে এ দেশের ছাত্র সমাজের গৌরবময় রক্তাক্ত ইতিহাস সৃষ্টি হয়। '৫২-এর ছাত্র আন্দোলন এদেশের বাঙালী জাতির মুক্তি সংগ্রামের আকাঙ্খাকে জাগ্রত করে। একুশে ফেব্রুয়ারী আসলেই আলোচনা সভা-সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ও শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পনসহ নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। কিন্তু বাংলা ভাষা শহীদদের চেতনা-সংগ্রাম-স্বপ্ন-ল্ক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। আমরা সকলেই জানি, একুশে ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশব্যাপী পালনের খবর পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হবে। অথচ একুশে ফেব্রুয়ারী তথা বাংলা ভাষা আন্দোলন ও ভাষা শহীদ দিবসের ৫৭ বছর পূর্ণ হলেও ইংরেজীসহ ভিন্ন ভাষায় রচিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের মৌলিক গ্রন্থসমূহ বাংলায় অনুবাদ ও প্রকাশের ব্যবস্থা করার দাবী অদ্যাবধি উপেক্ষিত। ভাষা আন্দোলন তো বটেই, '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১১ দফা, '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮২-'৯০ সময়কালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ছাত্র সমাজের রক্তস্নাত ১০ দফা ও '৯০-এ মহান গণঅভ্যুত্থানসহ এ পর্যন্ত সকল গণ-আন্দোলনে প্রায় সকল বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল ও শক্তি যে দাবীটি জানিয়ে আসছে, যা এখনো জনগণের প থেকে উত্থাপিত হচ্ছে তা হলো, শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হতে হবে মাতৃভাষা বাংলা এবং ইংরেজীসহ ভিন্ন ভাষায় রচিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের মৌলিক গ্রন্থসমূহ জরুরী ভিত্তিতে বাংলায় অনুবাদ ও প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমান ১৪ দলীয় মহাজোট সরকারের কাছে জনগণের পক্ষ থেকে আমরা উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য। ৫৭ বছর আগে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনের সূচনা, বুকের রক্ত ঢেলে জাতিকে রুখে দাঁড়াবার সাহসে উজ্জীবিত করেছিল যারা, সেই ভাষা শহীদদের স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালিত হবে। '৫২-এর ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার মধ্যে সীমিত থাকেনি, ভাষাভিত্তিক চেতনায় জাতি ক্রমে ঐক্যবদ্ধ ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছে। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শোষণ-শাসনের শিকল ছিঁড়ে মুক্তিকামী মানুষ একুশের চেতনার পথ ধরেই একাত্তরে রক্তাক্ত মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জন করেছে মহান স্বাধীনতা। গৌরবোজ্জ্বল এই দিবসের অনন্যতা বিষয়ে জাতির গর্ব আরো বেড়ে গেছে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা…
