দর্শন, মহাকাব্য, জ্যামিতি ও থিয়েটারেরও আগে ছিল ক্রীড়ার সৌসাম্য।[...]

দর্শন, মহাকাব্য, জ্যামিতি ও থিয়েটারেরও আগে ছিল ক্রীড়ার সৌসাম্য। আমিও প্রবলভাবে ক্রীড়ার প্রতি শারীরিক গতি কৌশলের প্রতিযোগিতার প্রতি তীব্র মানসিক স্ফূর্তির প্রতি অনুপ্রেরণা বোধ করি। অপ্রতিরোধ্য কিন্তু স্বল্পায়ু গ্রিক সভ্যতার চেয়ে সুন্দর আর কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না। আর অলিম্পিক সেই সভ্যতার এক অনন্য সংগঠন। আমি তার তন্নিষ্ট দর্শক। গণতন্ত্র শিল্পবিপ্লব বিশ্বযুদ্ধ সমাজতান্ত্রিকবিপ্লব ঠাণ্ডাযুদ্ধ বিশ্বায়ন অপ্রতিরোধ্য উৎপাদনের অলিম্পিক এবার দুর্যোগ অর্থনীতির অলিম্পিকের যুগে প্রবেশ করল, সেযুগের শুরু হল শিল্পবিপ্লবের চিমনিসঙ্কুল লন্ডন থেকে। সামনের অলিম্পিকগুলোর আয়োজনে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব পাবে, এই বিশাল অর্থযজ্ঞ দুর্যোগ অর্থনীতি কতটুকু সইতে পারবে, তাই ভাবতে হবে সবার আগে। এমনকি এই লন্ডন অলিম্পিক শেষ হলে ইংল্যান্ডকেও করতে হবে প্রচুর ঝুঁকির হিসাব কিতাব। কিন্তু আমরা কি উপভোগ করব না শারীরিক গতি কৌশলের প্রতিযোগিতার প্রতি তীব্র মানসিক স্ফূর্তি? অবশ্যই করব, নানাভাবে করব, আগামী কয়েকদিন আটকে থাকব স্পোর্টসের দার্শনিক মহাকাব্যিক জ্যামিতিক থিয়েট্রিক্যাল উদ্ভাসনের জগতে।

[...] আমার কাজটাও বেশ মজার। সাইকেল চালাবার সময় রাস্তার পাশে যখন কোনো প্লাস্টিকে তৈরি ময়লা দেখি তা আমার ফোনের অ্যাপ দিয়ে আমার ওয়েবে পাঠিয়ে দিই। আমরা দুই জন। আমাদের সাইকলেটা একটা ট্যানডেম। [...]

বহু দিন হলো কিছু লেখা হয়নি। তবে আমার ঘোরাঘুরি থেমে থাকেনি। এর মাঝে যাওয়া হয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। মজার ব্যাপার হলো আজ আমার ১৭তম দিন সাইকেল চালানোর। আমি সিয়াটল থেকে রওনা হয়েছিলাম ১১ জুলাই আর এখন পৌঁছেছি মনটনা-র এলডার নামের একটা জায়াগায়। আজ পশ্চিম ইয়োলোস্টোনে চলে যাব। আমার কাজটাও বেশ মজার। সাইকেল চালাবার সময় রাস্তার পাশে যখন কোনো প্লাস্টিকে তৈরি ময়লা দেখি তা আমার ফোনের অ্যাপ দিয়ে আমার ওয়েবে পাঠিয়ে দিই। আমরা দুই জন। আমাদের সাইকলেটা একটা ট্যানডেম। আমাদের ওয়েব সাইট http://www.trashmaniac.com. যে-কোনো পাঠক আমাদের ছবি যে-কোনো জায়াগায় প্রকাশ করতে পারবেন শুধুমাত্র যদি দয়া করে ওয়েব-এর ঠিকানাটা জুড়ে দেন। যাত্রার বিবরণ লেখার চেষ্টা করছি। আশা করি শিগগিরই পোস্ট করতে পারব। তবে তার আগে মাঝে মাঝে ছবি প্রকাশ করাটা অনেক সহজ হবে।

বাচ্চাদের স্কুলের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে, সরকারী কর্মচারীদের একদিনের বেতনের টাকা দিয়ে, আমদানীতে সারচার্জ বসিয়ে, এডিপি কাটছাট করে........(আরো অনেক খাত থেকে) পদ্মাসেতুর জন্য তহবিল যোগাড় করার রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে রীতিমত বিশ্বযুদ্ধের হুংকার দেয়া শুরু হয়েছিল ২৯শে জুনের পর থেকে। নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু হবে। এই আশ্বাসে আশায় বুক বেধেছিল দেশবাসী। ভেবেছিল কষ্ট হলেও এবার বিশ্বব্যাংক মহাজনের খবরদারী থেকে রক্ষা পেল দেশ। একটা সেতু করার পয়সা নিশ্চয়ই যোগাড় হবে আমাদের। কিন্তু মাস না যেতেই সব হুংকারের চার্জ শেষ? এখন আবারো ভিক্ষা চেয়ে চিঠি? ইজ্জতের কিছু বাকী আছে আর? এই বক্তৃতা শোনার পর এই খবর পড়তে কেমন লাগে? মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী, পদ্মা সেতুর ব্যাপারে আপনাদের ভারসাম্যহীন অবস্থানের কারণে জাতি আপনাদের উপর কতোটা আস্থাহীন হয়ে পড়ছে, আপনারা কি জানেন? ইআরডি থেকে বিশ্বব্যাংকে পাঠানো চিঠিটা কি আপনাকে দেখানো হয়নি? কেন আপনি এখনো গর্ব করে বলে যাচ্ছেন "আবুলের মতো দেশপ্রেমিক আছে বলেই....." ....মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী, আমাদের বড় লজ্জা লাগে এসব উচ্চারণ করতে! আপনি সরকার প্রধান, আপনার মন্ত্রীদের অভিভাবক নন। এসব কথা আবুলের বাকী সহকর্মীরা বললে ততটা খারাপ লাগে না। কিন্তু খোদ সরকার প্রধানের মুখে এসব কথা একেবারে বেমানান। আমরা জানি আপনার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব আবুলদের রক্ষা করার চেয়ে আরো অনেক গুরুতর। আজকের পত্রিকার বিশ্বব্যাংকে চিঠি দেবার খবরটা পড়ে কয়েকটা প্রশ্ন জেগেছে মনে- -এত হম্বিতম্বি করে শেষমেষ বিশ্বব্যাংকের কাছে আত্মসমর্পণ করলো সরকার? এখন দেশের ভাব কই মূর্তি কই? -সরকার যদি আগে থেকে জানতো বিশ্বব্যাংক ছাড়া সেতু হবে না, তবে ওইসব হুংকার দিয়ে কার উপকার করলো? -নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব থাকলে কিংবা নিজের সামর্থ্যের উপর আস্থা না থাকলে দেশ পরিচালনায় আপনাদের যোগ্যতার ভিত্তি কি? -কেন একটা সেতুপ্রকল্পের মতো বিষয়ে স্বয়ং সরকারপ্রধানকেই হাটে মাঠে চটকদার বক্তৃতা দিয়ে বেড়াতে হয়? আমি জানি বাংলাদেশের মতো দেশে এসব প্রশ্নের কোন উত্তর হয় না। তবু প্রশ্নদের থামিয়ে রাখা যায় না।

সামাজিক-যোগাযোগ সাইটের মাধ্যমে লগ-ইন/নিবন্ধন সুবিধা, বর্ধিত প্রোফাইল-তথ্য পাতা, এবং দ্রুততর মন্তব্য-প্রদান সুবিধার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিবর্তন করা হয়েছে সাইটে। কোনো ত্রুটি বা bug যদি আপনাদের চোখে পড়ে তবে তা দয়া করে এই পোস্টের নিচে মন্তব্যাকারে লিখে জানান। আপনাদের সুচিন্তিত মতামত এবং পরামর্শ সাইটটির ব্যবহার সহজতর করতে আমাদের সহায়তা করবে।

মুক্তাঙ্গন ব্লগসাইটে সম্প্রতি যে কারিগরি সংযোজনগুলো করা হয়েছে সেগুলো হল: ১. বিকল্প লগ-ইন/রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি: সামাজিক যোগাযোগ সাইট (যেমন: ফেসবুক, টুইটার, লিনক্ড-ইন) এবং অন্যান্য আইডি (যেমন: গুগল) ব্যবহার করে সাইটে নিবন্ধন এবং লগ-ইন এর সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। যাদের মুক্তাঙ্গনে কোনো একাউন্ট নেই, তারাও এই আইডিগুলো ব্যবহার করে সাইটে লগ-ইন করলে তাদের নামে এই ব্লগে 'সাবস্ক্রাইবার' পর্যায়ের নতুন একটি একাউন্ট তৈরী হয়ে যাবে। সাইটে নিবন্ধন সবার জন্য উন্মুক্ত। আর যাদের আগে থেকেই মুক্তাঙ্গনে একাউন্ট রয়েছে, তারাও তাদের বর্তমান লগ-ইন তথ্য ব্যবহার করে সাইটে প্রবেশ করে স্ব স্ব প্রোফাইলে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর সাথে লগ-ইন তথ্য বিষয়ক সংযোগ স্থাপন করে নিতে পারবেন। একবার সবগুলো আইডি এবং লগ-ইন তথ্য সংযুক্ত হয়ে গেলে এর পর সরাসরি ফেসবুক-টুইটার-গুগল ইত্যাদি সাইটের লগ-ইন তথ্য ব্যবহার করে সরাসরি সাইটে প্রবেশ করা যাবে। ২. ব্লগার প্রোফাইলে আরও তথ্য সংযুক্তির সুবিধা: সাইটের প্রোফাইল অংশে নতুন আরও তথ্য সংযুক্ত করার সুবিধা যুক্ত হয়েছে, যাতে ফ্রন্ট-এন্ডে লেখক/ব্যবহারকারীর 'সংক্ষিপ্ত পরিচিতি' অংশে এখন থেকে উক্ত ব্যবহারকারীর ফেসবুক-টুইটার এবং অন্যান্য সাইটে একাউন্টগুলোর লিংক এর ব্যাপারে তথ্য প্রদর্শিত হয়। ফলে উক্ত ব্যবহারকারীকে ফেসবুক-টুইটার ইত্যাদি সামাজজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতেও 'অনুসরণ' করা সহজতর হবে। যাদের ইতোমধ্যেই মুক্তাঙ্গনে একাউন্ট রয়েছে, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে নিজের প্রোফাইল পাতায় গিয়ে ফেসবুক-টুইটার একাউন্ট সংক্রান্ত আপনার তথ্যগুলো সেখানে যথাস্থানে সংযুক্ত করবার। যেমন: -- টুইটারের ঘরে আপনি বসাবেন: http://www.twitter.com/(your twitter user ID) [বন্ধনী বাদ দিয়ে] -- ফেসবুকের ঘরে আপনি বসাবেন: http://www.facebook.com/(your facebook user ID) [বন্ধনী বাদ দিয়ে] -- গুগল‌+ এর ঘরে আপনি বসাবেন: https://plus.google.com/(your profile number) [বন্ধনী বাদ দিয়ে। নম্বরটি আপনার গুগল প্লাস এর প্রোফাইল থেকে দেখে নিন] ৩. মন্তব্য প্যানেলে উন্নয়ন সাধন: মন্তব্য আরও দ্রুত সাবমিট হওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে পেজ রিলোড ছাড়াই মন্তব্য পেশ করা সম্ভব হয়। এই নতুন ফিচার এবং সংযোজনগুলোর প্রতি ধাপেই আমরা বেশ কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জের সম্মূখীন হয়েছি। কিন্তু সে সবের প্রতিটির সমাধানে পাশে পেয়েছি প্রোগ্রামার সাইফুর রহমান মিশুকে, যিনি বর্তমানে সুইডেনে কর্মরত আছেন। মুক্তাঙ্গন এর পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, মিশু। ব্যবহারকারীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ/আহ্বান এই ফিচারগুলো যুক্ত করার সময় আমরা চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব ত্রুটিমুক্তভাবে তা…

আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত আসামীর বয়স কোনো বিষয় না। পার হয়ে যাওয়া দশকের দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না অপরাধের দায় থেকে। অপরাধে সম্পৃক্তি (complicity)-ও গুরুতর অপরাধ, এবং বিচারযোগ্য অপরাধ।

লাজলো সাতারির বয়স এখন ৯৭ বছর, অবশেষে তাকে খুঁজে পাওয়া গেল বুদাপেস্ট শহরে। এতদিন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন কুখ্যাত এই নাজি যুদ্ধাপরাধী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাঙ্গেরীর কাস্সা শহরে ইহুদীদের জন্য তৈরী ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলো এই লাজলো একজন পুলিশ কমান্ডার হিসেবে। সেখান থেকে কম পক্ষে ১৬০০০ ইহুদীকে অসউইৎজ 'মৃত্যু ক্যাম্পে' পাঠানোতে এই লাজলোর ভূমিকা ছিল, যে কারণে এখন তার বিরুদ্ধে অপরাধে সম্পৃক্তির (complicity) অভিযোগ আনা হতে পারে। লাজলোর এখন বিচার হওয়ার জোর সম্ভাবনা, ছয় (৬) দশক পেরিয়ে গেছে, তারপরও। কয়েকটি বিষয় লক্ষনীয় এখানে। এক: লাজলোর বয়স; দুই: লাজলোর অপরাধের ধরণ। প্রসঙ্গতঃ লাজলো যে অপরাধের কারণে বিচারের সম্মুখীন হবেন, ঠিক সেই একই ধরণের অপরাধে আসামী গোলাম আযমের বিচার ইতোমধ্যেই হচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতে। অপরাধটির নাম হল সম্পৃক্তি (complicity)। কিসে সম্পৃক্তি? আইনে উল্লেখিত বিভিন্ন ধরণের আন্তর্জাতিক অপরাধে "সম্পৃক্তি"। অবশ্য গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৬ টি ভিন্ন অভিযোগের একটি হল এই "সম্পৃক্তি", অর্থাত তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগের বিচার চলছে। লাজলোর বিচারের কথাবার্তা শুরু হয়েছে যখন তার বয়স ৯৭ বছর। আর অন্যদিকে, যখন বিচার শুরু হয়, তখন গোলাম আযমের বয়স ছিল ৮৯ বছর। গোলাম আযমের আইনজীবিরা তার বার্ধক্যের অজুহাত দেখিয়ে জামিনের আবেদন করেছিল। সে আবেদন মঞ্জুর হয়নি। কারণ, যেখানে আসামীর বিরুদ্ধে “আন্তর্জাতিক অপরাধ”-এর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সেখানে আসামীর বয়স কিংবা কোনো স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা জামিনের পক্ষে যুক্তি হতে পারে না। [এই পোস্টে বিস্তারিত] আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে গোলাম আযমের চেয়ে আরও বেশি বয়সের আসামীকেও “আন্তর্জাতিক অপরাধের” বিচারকালে জামিন দেয়া হয়নি। উদাহরণ হিসেবে ৯১ বছর বয়স্ক নাৎসি যুদ্ধাপরাধী জন দেমইয়ানযুক (John Demjanjuk) -এর বিচারের ঘটনাটি উল্লেখ করা যেতে পারে — গোলাম আযমের জামিনের শুনানির সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকেও দেমইয়ানযুক এর মামলাটি উল্লেখ করা হয়েছে। দেমইয়ানযুকের ক্ষেত্রে ঘটনা কি ছিল? আসুন জেনে নিই। আমেরিকা-নিবাসী ইউক্রেনীয় দেমইয়ানযুকের বিরুদ্ধে মিউনিখের এক আদালতের অভিযোগ ছিল — তিনি ১৯৪৩ সালে ইউক্রেনের এক নাৎসি মৃত্যুশিবিরে প্রায় ২৭,০০০ ইহুদি নিধনে সহযোগিতা করেছিলেন। ২০০৯ সালে জার্মানির আদালত দেমইয়ানযুক-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। একই বছর তাঁকে বিচারের জন্য আমেরিকা থেকে জার্মানিতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো বিচারকালীন সময়টুকুতেই তাঁকে স্টাডেলহেইম জেলখানার মেডিকেল ইউনিটে…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.