এটিও অনেক পুরানো লেখা, যখন ছাত্র আমি- সেই ফাল্গুন ১৩৯৬-এ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯০-এ, আর ছাপা হয়েছিল বৈশম্পায়ন নামের এক ছোট কাগজের প্রথম সংখ্যায় মার্চ ১৯৯০-এ। কিন্তু এখনও এটি আমার একটি প্রিয় লেখা, এখন এর অনেক দুর্বলতা বুঝতে পারার পরেও... হয়তো তার একটি অন্যতম কারণ, আমার বন্ধুদের এ লেখাটা খুব ভালো লেগেছিল আর মাহমুদুল হকেরও ভাল লেগেছিল। এরও বছর চারেক পরে মাহমুদুল হকের সঙ্গে পরিচয় হয় আমার, খোলা রাজপথে, নির্মুল কমিটির এক কর্মসূচি চলার সময় . . . অন্যান্যদের মতো, আরও স্পষ্ট করে বললে, মাহমুদুল হক কারও মতোই ‘কিছু একটা তো করছি’ ভেবে আত্মহারা হন নি। হাসান আজিজুল হকও ‘অবশেষে তাঁর ক্ষমতার বেদী থেকে সরে দাঁড়াবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন’ দেখে ১৯৭৫-এ অসীম সাহা রীতিমতো আতংকিত হয়েছিলেন (এদেশের গল্প : পূর্ণতা অপূর্ণতা/ অসীম সাহা; কণ্ঠস্বর, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৭৫) এবং পাঠকরুচির মৃত্যু না ঘটলে অনায়াসেই অনুমান করা যায় যে গত ১৯৮৯-এ ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ পড়ে নিঃসন্দেহে অসীম সাহা অপঘাতে মারা গেছেন। প্রসঙ্গটি উত্থাপন অপরিহার্য এ কারণে যে লেখার ক্ষমতা অবশিষ্ট নেই এটি উচ্চকিত করে জানানোর জন্যে সমর সেনের পন্থা কোনও সাহিত্যিকই পছন্দ করেন নি। বরং পূর্বনির্মিত ইমেজকে পুঁজি করে তারা অভ্যাসবশে লিখে গেছেন এবং এখনও লিখছেন; আর পাঠকও এমন রুচিহীন, অনুসন্ধিৎসুহীন যে ‘রাজা, তোর কাপড় কোথায়’ বলার কৌতূহলও নেই। সে তুলনায়, মাহমুদুল হক অনেক সাহসী, সমর সেনের কাছাকাছি, অনেকদিন হলো নীরব তিনি। কেন নীরব এই প্রশ্নের উত্তরে সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ‘বাল্যশিক্ষা পড়ছি...’। তাঁর লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে প্রাইমারি স্কুলে। আমাদের বাড়িতে ছিল অনেক পুরানো পত্রপত্রিকা। বোধহয় ইঁচড়ে পাকা হবো এই ভয়েই আমাদের মেজো ভাই ঝুলকালি, ধুলোবালি ঝেড়েমুছে তা থেকে খুঁজে খুঁজে নির্দিষ্ট কিছু পত্রপত্রিকা বের করে দেন। উত্তরাধিকার সূত্রে আমাদের বড়ভাই আর বড়বুবুর গ্রাহকসংগ্রহ ‘শাহীন’ আর ‘সেতারা’ ওভাবেই আমাদের কাছে আসে। সবার কথা মনে নেই,- তবে মাহমুদুল হক, আল মাহমুদ এবং শহীদ সাবের যে ওতে বেশ ক’টি উল্লেখযোগ্য ও দাগ কাটার মতো গল্প লিখেছিলেন, তা ভালভাবেই মনে আছে। এর মধ্যে শহীদ সাবের নিহত হয়েছেন একাত্তরে পাকবাহিনীর হাতে, তবে শিশুকিশোরদের জন্যে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। আল মাহমুদ বুদ্ধিজীবীসুলভ ইতরামি থেকে লেখা কলামগুলো বাদ দিলে পুরোপুরি কাব্যচর্চায় নিয়োজিত হয়েছেন…
পথ চললেই পথের হিসাব ‘তুমি বললে ফুল/ আমি বললাম কাগজের নিষ্প্রাণ গন্ধহীন/ তুমি বললে যাই হোক/ তবুও তো ফুল/ মানুষটা তো কাগজ কেটে কেটে/ কামান বন্দুক মারণাস্ত্র বানাতেও পারতো’... (more…)
বছর বিশেক আগের কথা। সকাল সাতটা সাড়ে সাতটা হবে। আমি তাড়াহুড়ো করে বেরুচ্ছিলাম ভার্সিটিতে যাবার জন্য। ট্রেন ৮.১০মিনিটে। আগে বেরুলে সিট পাওয়া সহজ হবে। প্রতিদিনকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমনযুদ্ধ। সিট দখল হল দখলের মতো মারাত্বক আকার ধারন না করলেও, মৃদু হাতাহাতি নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠছিল। তাই সকালটা তাড়াহুড়ো করে বেরুই। (more…)
বার্লিন সীমান্তঘেঁসা স্কাসিন শহরটা পোল্যান্ডের একেবারে পশ্চিমে। সেই শহর থেকে আরো পশ্চিমে ছোট্ট একটা উপশহর। হিটলারের নাজি বাহিনী তখন পোল্যান্ডের পুরোটাই দখল করে নিয়েছে। স্টালিনের রেডগার্ড তখনো স্টালিনগ্রাদ ছেড়ে পশ্চিমে আসেনি। হিটলারের বাহিনী দোর্দন্ড প্রতাপে ইউক্রেনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সময়টাতে পোল্যান্ডের ওই ছোট ছোট শহর আর গ্রামগুলোয় খন্ড খন্ড প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল সাধারণ নাগরিকেরা। (more…)
মাত্র ছ’সপ্তাহ আগে বিডিআর এর সদর দপ্তর পিলখানায় হয়ে গেল এক ব্যতিক্রমধর্মী যৌথ সামরিক মহড়া। কি ছিল এই মহড়ার উদ্দেশ্য? এর সরাসরি উত্তর সাংবিধানিক অস্তিত্বহীন এই সরকার দেবে না। চলুন নিজেরাই এর উত্তর সন্ধান করে ফিরি [..]
মাত্র ছ’সপ্তাহ আগে বিডিআর এর সদর দপ্তর পিলখানায় হয়ে গেল এক ব্যতিক্রমধর্মী যৌথ সামরিক মহড়া। কি ছিল এই মহড়ার উদ্দেশ্য? এর সরাসরি উত্তর সাংবিধানিক অস্তিত্বহীন এই সরকার দেবে না। চলুন নিজেরাই এর উত্তর সন্ধান করে ফিরি। (more…)
