প্রথম পর্ব / দ্বিতীয় পর্ব / পূর্ব প্রকাশিতের পর . . . জাতিসংঘের বিশেষ অ্যাজেন্সি বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মতে, পর্যটন খাত কর্তৃক আয়োজিত অথবা এই খাতের বাইরের কারো আয়োজনে পর্যটন খাতের কাঠামো ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গন্তব্যস্থানের বসবাসস্থলে পর্যটক কর্তৃক বাণিজ্যিকভাবে যৌনসম্পর্ক স্থাপনকেই সেক্স ট্যুরিজম বা যৌনপর্যটন বলে। জাতিসংঘ যৌনপর্যটনকে সমর্থন করে না এ কারণে যে, এর মাধ্যমে পর্যটকের নিজের দেশ ও গন্তব্য দেশ উভয়েরই স্বাস্থ্যগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে পর্যটকের নিজের দেশের চেয়ে গন্তব্যদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং পর্যটকের নিজের সাথে ওখানকার মানুষের লৈঙ্গিক-বায়সিক অবস্থার বৈভিন্ন্যই এর জন্য দায়ী [...]

প্রথম পর্ব / দ্বিতীয় পর্ব / পূর্ব প্রকাশিতের পর . . . ১০. উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, সেক্স ট্যুরিজম বা যৌনপর্যটন হলো অর্থের বিনিময়ে যৌনসম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে কোনো বিশেষ স্থানে ভ্রমণ করা। জাতিসংঘের বিশেষ অ্যাজেন্সি বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মতে, পর্যটন খাত কর্তৃক আয়োজিত অথবা এই খাতের বাইরের কারো আয়োজনে পর্যটন খাতের কাঠামো ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গন্তব্যস্থানের বসবাসস্থলে পর্যটক কর্তৃক বাণিজ্যিকভাবে যৌনসম্পর্ক স্থাপনকেই সেক্স ট্যুরিজম বা যৌনপর্যটন বলে। জাতিসংঘ যৌনপর্যটনকে সমর্থন করে না এ কারণে যে, এর মাধ্যমে পর্যটকের নিজের দেশ ও গন্তব্য দেশ উভয়েরই স্বাস্থ্যগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে পর্যটকের নিজের দেশের চেয়ে গন্তব্যদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং পর্যটকের নিজের সাথে ওখানকার মানুষের লৈঙ্গিক-বায়সিক অবস্থার বৈভিন্ন্যই এর জন্য দায়ী। যৌনপর্যটকদের জন্য কখনো কখনো গন্তব্যদেশে স্বল্পমূল্যে যৌনপরিষেবা পাবার আকর্ষণ থাকে। এমনকি সেসব দেশের থাকে যৌনসম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে আইনগত শৈথিল্য এবং শিশু যৌনকর্মী পাবার আকর্ষণও। ((http://en.wikipedia.org/wiki/Sex_tourism)) যৌনপর্যটনের জন্য পর্যটকদের প্রথম বাছাই দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, ডমিনিকান রিপাবলিক, কোস্টারিকা, কিউবা, জার্মানি, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, নেদারল্যান্ডস এবং কম্বোডিয়া। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে যাবার পর রাশিয়া, হাঙ্গেরি, ইউক্রেন, পোলান্ড এবং চেক রিপাবলিকের নামও ওই তালিকায় সংযুক্ত হয়েছে। অবশ্য এসব গন্তব্যের খুব কমসংখ্যক যৌনকর্মীই কেবল যৌনপর্যটকদের সেবা দিয়ে থাকে। ওসব দেশের মোট যৌনকর্মীর সিংগভাগই স্থানীয় পুরুষকুলের চাহিদা মেটায়। নির্দিষ্ট কোনো দেশের কেবল এক বা একাধিক নির্দিষ্ট স্থানই কেবল যৌনপর্যটকদের গন্তব্য হয়। যেমন নেদারল্যান্ডের আমস্টারডাম, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, পাট্টায়া ও পুকেট। আমেরিকায় যেহেতু নেভাদা ছাড়া অন্য সব এলাকায় পতিতাবৃত্তি অবৈধ, তাই ওখানকার স্থানীয়রা নেভাদায় যৌনপর্যটনে যায়। এছাড়া অন্যান্য কিছু শহরে স্থানীয় পর্যটকরা বিশেষ আইনগত অনুমোদন নিয়ে যৌনপর্যটনে বেরোয়। জানা মতে, আমেরিকা ছাড়া তালিকার অন্যান্য দেশগুলির বেশির ভাগেই পতিতাবৃত্তি একটি আইনসম্মত কার্যক্রম। ((http://en.wikipedia.org/wiki/Sex_tourism)) এসব পর্যটকের অধিকাংশেরই ঝোঁক থাকে শিশুর প্রতি, যদিও অধিকাংশ দেশেই শিশুদের যৌনকাজে ব্যবহার করা আইনসম্মত নয়। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা যৌনপর্যটন ও শিশু যৌনপর্যটনকে আলাদা করে দেখে। সংস্থার মতে, যেসব পর্যটক শিশুদেরকে যৌনকাজে ব্যবহার করে তাঁরা কনভেনশন অন দ্য রাইটস অব দ্য চাইল্ড এবং অপশনাল প্রটোকল অন দ্য সেল অব চিলড্রেন, চাইল্ড প্রস্টিটিউশন অ্যান্ড চাইল্ড পর্নোগ্রাফি লংঘন করে। অনেক দেশই ওরস্ট ফর্ম অব চাইল্ড লেবর কনভেনশন, ১৯৯৯-এ…

বিডিআর-এর বর্তমান মহাপরিচালক বিডিআর-এর নাম ও পোষাক পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। এখনো এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির কাছ থেকে কোনো মতামত এখনো জানা যায়নি। মহাপরিচালকের যুক্তি পিলখানার ঘটনায় বিডিআর ও এর পোষাকের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু যে ঘটনাটিকে আমরা অনেক আগেই জঙ্গিহানা বলেছি তার সাথে কেনো বিডিআর-এর ভাবমূর্তি গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে ? হ্যাঁ দৃশ্যমাধ্যমগুলোতে ঘটনার সময়ের বিডিআর-এর ছবি ও দৃশ্য মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, জঙ্গিরা ও বহিরাগতরা এবং বিডিআর-এর আভ্যন্তরীন জঙ্গি অংশ বিডিআর-এর পোষাক পরেই অ্যাকশনে ছিল, সেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দূর করতে বিডিআর-এর পোষাক পরিবর্তনই যথেষ্ট। বিডিআর শুধু পিলখানা হত্যাযজ্ঞেরই প্রতিনিধিত্ব করে না। বিডিআর মুক্তিযুদ্ধের অপরিসীম সাহস ও আত্নত্যাগেরও প্রতীক। সত্যিকার অর্থে তারা মুক্তিযুদ্ধের আনসাংগ হিরো। সামরিক বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর কথা যত বলা হয়েছে আমাদের প্যারামিলিটারি ও পুলিসের কথা কিন্তু সেভাবে কখনো বলা হয়নি। বিডিআর আমাদের সীমান্ত রক্ষায়ও যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে এসেছে স্বাধীনতার পর থেকেই। বিডিআর-কে বিপথে চালিত করার জন্য কাউকে যদি সবচেয়ে বেশি দায়ী করতে হয় তাহলে ২০০১-২০০৬ এর জঙ্গি সরকারকেই দায়ী করতে হয়। ওই সরকারের দায়িত্বহীন নিয়োগ বিডিআর-এর মধ্যে আত্মঘাতী শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল। সেই অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের সশস্ত্র সব বাহিনীতেই হয়েছে। পিলখানার মতো ঘটনা বাংলাদেশের যে কোনো বাহিনীতেই ঘটতে পারে, তাই বলে কি আমরা সে রকম কিছু ঘটলেই অনবরত সব সশস্ত্র বাহিনীর নাম পরিবর্তন করতে থাকব ? বিডিআর-এর নাম পরিবর্তন মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। বড় জোর পোষাকের পরিবর্তন ঘটিয়ে ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা অনেক বেশি প্রতীকী ও কার্যকর হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে পরিবর্তন আনতে হবে সাধারণ জওয়ানদের যথার্থ দাবী-দাওয়াগুলো মিটিয়ে সরকার যে বিডিআর বান্ধব তার সংকেত বিডিআর-এর প্রত্যেকটি সদস্যের কাছে পৌঁছানো। সেনাবহিনীর কর্তৃত্ব এখনই খর্ব করা যাবে না কিন্তু দিনে দিনে খর্ব করা হবে এবং সে লক্ষ্যে এখনই কাজ শুরু করা হবে সেই প্রতিশ্রুতি বিডিআর-কে দেয়া।

অনেকের মতে বিষ্ণুগুপ্ত, চানক্য, কৌটিল্য একই ব্যক্তি। এমনকি কেউ কেউ বলেন কৌটিল্যই বাৎসায়ন। তা যাহোক, এ ব্যাপারে প্রমাণ হাজির করা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। বাৎসায়ন রচিত কামশাস্ত্র বা কামসূত্র গ্রন্থের বৈশিকাখ্যং অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ‘রুচি হইতে যে পুরুষগ্রহণপ্রবৃত্তি তা স্বাভাবিক আর অর্থার্জনার্থ যে প্রবৃত্তি তা কৃত্রিম।’ বাৎসায়ন বর্ণিত অর্থার্জনার্থ এই কৃত্রিম প্রবৃত্তিই নিন্দার্হ। এ প্রবৃত্তিই বর্তমান বিশ্বে এক নম্বরের বাণিজ্যবিষয়, অনেক দেশের রাজকোষের অর্থের এ প্রবৃত্তিই প্রধান উৎস।

প্রথম পর্ব / পূর্ব প্রকাশিতের পর . . . ৫. অনেকের মতে বিষ্ণুগুপ্ত, চানক্য, কৌটিল্য একই ব্যক্তি। এমনকি কেউ কেউ বলেন কৌটিল্যই বাৎসায়ন। তা যাহোক, এ ব্যাপারে প্রমাণ হাজির করা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। বাৎসায়ন রচিত কামশাস্ত্র বা কামসূত্র গ্রন্থের বৈশিকাখ্যং অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ‘রুচি হইতে যে পুরুষগ্রহণপ্রবৃত্তি তা স্বাভাবিক আর অর্থার্জনার্থ যে প্রবৃত্তি তা কৃত্রিম।’ ((বাৎসায়ন-প্রণীত কামসূত্র, পঞ্চানন তর্করত্ন ও মানবেন্দু বন্দোপাধ্যায়, সংস্কৃত পুস্তক ভাণ্ডার, কলকাতা, পরিবর্দ্ধিত সংস্করণ, ১৩৯৮)) বাৎসায়ন বর্ণিত অর্থার্জনার্থ এই কৃত্রিম প্রবৃত্তিই নিন্দার্হ। এ প্রবৃত্তিই বর্তমান বিশ্বে এক নম্বরের বাণিজ্যবিষয়, অনেক দেশের রাজকোষের অর্থের এ প্রবৃত্তিই প্রধান উৎস। তবু বিভিন্ন কারণে দেহব্যবসাকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছিলেন কৌটিল্য। অবৈধ নারীসংসর্গ বোঝাতে তিনি ‘বাহ্যবিহার’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু এই ‘বাহ্যবিহার’-এর পক্ষে বা বিপক্ষে স্পষ্ট করে কিছুই বলেন নি তিনি। বাৎসায়ন বলেছেন, গণিকা অথবা বিধবাদের সঙ্গে যৌনমিলন সমর্থন করা হয় না আবার নিষিদ্ধও নয়। লেকির মতে, গণিকাবৃত্তি হলো সমাজের মাত্রাতিরিক্ত যৌনকামনা বেরিয়ে যাওয়ার একটি সেফটিভালভ। তাঁর মতে, নিজে মূর্তিমতি পাপ হলেও পরিণামে পুণ্যের জিম্মাদার এই গণিকা। সংখ্যাহীন সুখী পরিবারের প্রশ্নাতীত পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যেত এরা না থাকলে-- নানা মত আসে যায় কিন্তু সমাজের বিষ কণ্ঠে ধারণ করে নীলকণ্ঠী হয়ে রয়ে যায় মানবিকতার এই পূজারিণীরা। বার্ট্রান্ড রাসেল লেকির মত সম্পর্কে বলেন, নীতিবাগীশরা লেকির মুণ্ডুপাত করেছেন। লেকি তাদের কেন ক্ষেপিয়ে তুলেছেন তাঁরা নিজেরাই তা জানেন না। আবার লেকি যা বলেছেন সেটা অসত্য বলেও তাঁরা প্রমাণ করতে পারেন নি। ((কৌটিল্য : প্রেম ও নৈতিকতা, প্রাগুক্ত)) যৌনকর্মীদের উচ্ছেদ করা-না-করা প্রশ্নে, পুনর্বাসন প্রশ্নে, নৈতিকতা প্রশ্নে, ধর্মীয় প্রশ্নে, অধিকারের প্রশ্নে আমাদের দেশেও এরকম তর্ক-বিতর্ক আমরা অনেক শুনেছি কয়েকবারের চেষ্টায় কয়েকটি পতিতালয় উচ্ছেদের সময়ে। কিন্তু লক্ষণীয় যে পতিতাবৃত্তি টিকিয়ে রাখবার পক্ষে দেয়া সর্বকালের সকল মতই হলো পুরুষদের। কারণ এ প্রথার ভোক্তা পুরুষরাই। সরাসরি পতিতাবৃত্তির পক্ষে নারীনেত্রীদের সাধারণত মত দিতে দেখা যায় না। তবে এ বিবেচনায় নারীনেত্রীদের মধ্যে দু’টো স্পষ্ট ভাগ আছে। এক ভাগের নেত্রীরা পতিতাবৃত্তিকে পুরোপুরি যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণ হিসেবে দেখেন। তাঁরা চান এ প্রথা চিরতরে বন্ধ হোক। এই ভাগের নারীনেত্রীদের চেষ্টায় ১৯৯৯ সালে সুইডেনে একটি আইন করা হয়েছে, যেখানে যৌনতা বিক্রি কোনো অপরাধ নয়,…

বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার এই বিধ্বস্ত পটভূমিতে এ বারের বিশ্বনাট্য দিবসের বাণী দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান নাট্যকার আগস্তো বোয়াল। লাতিন আমেরিকার কঠিন আবহে বয়সে, ভাবনাবৈচিত্রে ও আপসহীন প্রতিবাদে বিশিষ্ট হয়ে ওঠা ৭৮ বছরের এই তেজি নাট্যকার সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়ান তার ‘নিপীড়িতের থিয়েটার’ বা ‘থিয়েটার অফ দ্য অপ্রেসড’-এর তাত্ত্বিক ভাবনা আর নিত্যনবীন পরীক্ষামূলক নাট্য পদ্ধতির শিক্ষণ নিয়ে। ১৯৬১ সালে ‘দক্ষিণ আমেরিকার বিপ্লব’ নাটকটির সূত্রে রাজনৈতিক প্রতিবাদে থিয়েটারে নতুন এক পদ্ধতির দরজা খুলেছেন বোয়াল। মঞ্চ থেকে মঞ্চের বাইরে থিয়েটারকে নিয়ে এসে অনির্দিষ্ট দর্শককে অনির্দিষ্ট অভিনয়স্থলে অনির্দিষ্ট নাটকীয় দ্বন্দ্ব ও প্রশ্নের সামনে নিয়ে আসে বোয়ালের নাট্যপদ্ধতি। মার্কসবাদে বিশ্বাসী এ বারের বিশ্বনাট্য দিবসের বাণীতে বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দা আর তার পেছনে ধনতন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদের জনবিরোধী ভূমিকাকে চিহ্নিত করে দৃপ্তকণ্ঠে ডাক দিয়েছেন নাট্যকর্মীদের সমাজটাকে বদলে দেয়ার কাজে থিয়েটারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে। বিশ্বনাট্য দিবসের বাণী ২০০৯ দৈনন্দিন জীবনে যা আমাদের এত চেনাজানা তাকেই থিয়েটারে অচেনা-অদেখা মনে হয়। থিয়েটার মানে আমাদের যাপিত জীবনের উপর সঞ্চায়িত আলোকসম্পাত। গত সেপ্টেম্বরেই আমরা একটা গোপন সত্য প্রকাশের নাটকীয়তায় চমকে গিয়েছিলাম। আমরা এতকাল ভেবে আসছি চারিদিকের এত যুদ্ধ সঙ্ঘাত, গণহত্যা, খুন আর অত্যাচার সত্ত্বেও নিজেরা বেশ এক নিরাপদ দুনিয়াতেই বাস করছি, কারণ ওসব ঘটনা ঘটে আমাদের সুখী গৃহকোণের অনেক দূরে আরণ্যক সমাজে। আমরা এতকাল নামী ব্যাঙ্কে টাকা জমিয়েছি, শেয়ার বাজারে টাকা খাটিয়েছি, বিশ্বস্ত এবং সৎ সঞ্চয় কর্মীদের হাতে টাকা জমা দিয়েছি,—সেই আমাদের হঠাৎ বলা হল, তোমাদের এত সাধে ও কষ্টে জমানো অর্থের আর কোনো অস্তিত্ব নেই এবং হঠাৎই অর্থনীতিবিদরা এই ভয়ঙ্কর উদ্ভট সত্যকে আবিষ্কার করলেন। বোঝা গেল, এর পেছনে যারা, তারা আর বিশ্বাসযোগ্য নয়, সম্মানীয়ও নয়, এটা খুবই খারাপ থিয়েটারের মতো ছিল গোটা ব্যাপারটা। এটা ছিল একটা নোংরা নাট্যকাহিনী যে কাহিনীতে কিছু লোকের ভাগ্য চকমক করে হাসিতে। কিন্তু অধিকাংশ লোকের ভাগ্যেই নেমে আসে অন্ধকার। গেল গেল রব তুলে ধনী দেশগুলোর কিছু রাজনীতিবিদ সভা করলেন, শলা করলেন এবং কিছু জাদুকরী টোটকার সন্ধানও পেলেন। আমরা যারা ওদের কাজ আর সিদ্ধান্তের হতভাগ্য শিকার তাদের ব্যালকনির শেষ পংক্তিতে বসে নীরব দর্শক হয়ে সব দেখতে হল। বিশ বছর আগে আমি রাসিনের(Racine) ফেদ্রে (Phedre) মঞ্চস্থ করেছিলাম রিও-ডি-জেনিরোতে। মঞ্চ ছিল দরিদ্র।…

ধারণা করা হয়, নারীজাতি একসময় স্বাধীন ছিল। নারী-পুরুষ উভয়ে তখন জীবিকার জন্য মিলিতভাবে খাদ্যদ্রব্যের সন্ধান করত এবং যথেচ্ছ ভোগ করত। ভোগে-ত্যাগে উভয়ের অধিকারই তখন ছিল সমান। ক্রমে উৎপাদনের উপায়সমূহ ব্যক্তি মালিকানায় (অবশ্যই পুরুষদের হাতে) চলে যাবার মাধ্যমে সামাজিক শ্রম বিভাজন শুরু হয় এবং তখন থেকেই উৎপাদিত দ্রব্য পণ্য বলে বিবেচিত হতে থাকে। আজ অবধি উৎপাদিত দ্রব্য পণ্য বা কমোডিটি বলেই চিহ্নিত হয়ে আসছে। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে পণ্যদ্রব্য কেবল ‘প্রত্যক্ষভাবে সামাজিক প্রয়োজন মেটানো’ হলেও ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেটা মুনাফার দিকে হেলে পড়া। এ অর্থব্যবস্থায় শ্রমশক্তির উৎপাদনই কেবল পণ্যদ্রব্য পদবাচ্য নয়, এমনকি শ্রমশক্তিও সেখানে পণ্যদ্রব্য। এই সংজ্ঞাভাষ্যের সীমাকেও অতিক্রম করে নারী যখন বাধ্য হয়ে বা স্বেচ্ছায় ভোগ্যা হিসেবে নিজের মহিমা থেকে অবনত, তখন গোটা নারীমানুষটিই পরিণত হয় পণ্যে। এখানে সে শ্রম দিয়েও প্রচলিত অর্থে শ্রমশক্তি হিসেবে স্বীকৃত হয় না, হয় ভোগ্যবস্তুরূপে। ((‘নারীপণ্য’: মুজিব মেহদী, জেন্ডারকোষ (১ম খণ্ড), সেলিনা হোসেন ও মাসুদুজ্জামান সম্পাদিত, মাওলা ব্রাদার্স ২০০৬)) এই প্রবন্ধে নারীর এরকম ভোগ্যপণ্য হয়ে ওঠার ইতিহাস এবং ভোগবাণিজ্যের বর্তমান গতি-প্রকৃতি অনুসন্ধানেরই চেষ্টা করা হবে। আমরা জানি, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার এক নবতর সৃষ্টি হলো বিশ্বায়ন ধারণা। কাভালজিৎ সিংয়ের মতে, বিশ্বায়ন এমন এক বিশ্বের ধারণাকে তুলে ধরে যেখানে জটিল সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়াগুলির ক্রিয়াশীলতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সীমান্ত বা জাতীয় সীমারেখার কোনো ভূমিকা থাকবে না। ((বিশ্বায়ন : অমীমাংসিত কিছু প্রশ্ন, কাভালজিৎ সিং (মনোয়ার মোস্তফা অনূদিত), বিএনপিএস ও ইউপিএল, ২০০৫)) বিশ্বায়নের আওতা এত বিশাল হওয়া সত্ত্বেও এ ব্যবস্থার প্রধান মনোযোগের কেন্দ্র অর্থনীতি অর্থাৎ মুনাফা। আর তাই এই ব্যবস্থা সবকিছুকেই পণ্যীকরণের দিকে নিয়ে যেতে চায়-- বস্তুকে তো বটেই, এমনকি মানুষকেও। বস্তুর নিজের ভালোমন্দ কোনো কিছুই ভাববার-বলবার নেই, কিন্তু মানুষের আছে। মানুষ নিজে পণ্য হবার ব্যাপারে আপত্তি জানাতে পারে এবং পণ্যসংস্কৃতি বা পণ্যীকরণ প্রথাকে প্রতিরোধের লক্ষ্যে আন্দোলনও করতে পারে-- কিন্তু কোনো-না-কোনোভাবে পণ্য ব্যবহার ব্যতিরেকে টিকে থাকতে পারে না। মানুষই পণ্যীকরণ প্রথা চালু করেছে ও টিকিয়ে রেখেছে। মানুষই পণ্য সরবরাহকারী এবং মানুষই এর ভোক্তা, যদিও সকল পণ্য সকল মানুষের প্রয়োজনে লাগে না, সকল পণ্যের প্রতি সকলে আকর্ষণ বোধ করে না এবং সকল পণ্যের সুবিধা ভোগে সকলে সক্ষমও হয় না। আমরা দেখতে পাই, এই…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.