আমরা আমাদের প্রতিনিয়তের গ্লানি নিয়ে উৎসবে আক্রান্ত হই। অংশগ্রহণ থেকে অনেক দূরে আমাদের অবস্থান। এতই দূরে যে আর কিছুই আমাদের উৎসবের উদযাপিত দিনের কাছে নিয়ে যেতে পারে না। মৃত, এই মৃত্যু, আমরা আমাদের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছি, কেউই নেই আর আমাদের ফেরাতে পারে। ভুলেও আমরা ফিরব না, ভুলেও আমরা দেখব না, আমাদের যা কিছু, পণ্যতার বিবরণ ছাড়া তাতে আর কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে না। যত বিভৎস হতে পারে লালসাদা, যত কল্পনাহীন হতে পারে সাদাকালো, যত অন্বয়হীন হতে পারে রংবেরং—এই নিয়ে এখন আমাদের উৎসবের দিনযাপন। আমরা নাগরিকতাহীন সব শহুরে বিদঘুটে পরিজন, আমাদের পরিমণ্ডল আমাদের দিনাতিপাতকেই শুধু বহন করে, আমাদের নেই কোনো URBAN CENTRE যা না থাকলে নাগরিক সংষ্কৃতি তার প্রকাশ খুঁজে পায় না, লাইব্রেরি নেই, মিউজিয়াম নেই, সঙ্গীত কেন্দ্র নেই, নৃত্যকেন্দ্র নেই, ওই দিনাতিপাত আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে, উৎসবে তার দগদগে ঘা দেখতে পাচ্ছি। পহেলা বৈশাখ ডিসিহিল সিআরবি দামপাড়া চট্টগ্রাম।

শীত গ্রীষ্মের পার্থক্য মোটা দাগে অনুভব করা যায় এই বেইজিং-এ বসে। শীতকালে হিমশীতল পত্রপুষ্পহীন-বৃক্ষময় রুক্ষ এক প্রকৃতি, আবার গ্রীষ্মে পত্রপল্লবে উষ্ণতায় এক অপরূপ সবুজ পৃথিবী -- এই বৈপরীত্য আমাদের কাছে বিস্ময়কর। কারণ আমরা এমন এক দেশ থেকে এসেছি যেখানে শীতের প্রকোপ নেই বললেই চলে। সারা বছর গরমে দগ্ধ হতে হতে ডিসেম্বর জানুয়ারিতে আমরা যতটুকু শীতের পরশ পাই, তা আমাদেরকে একটু স্বস্তিই এনে দেয়। আমাদের দেশে এই শীতটুকু ভীষণ উপভোগ করি। পিঠে-পুলি তৈরির ধুম পড়ে যায়, সর্বত্র উৎসব উৎসব ভাব। শীতের শাক-সবজির স্বাদই যেন আলাদা, শীত মানেই আমাদের দেশে এক ধরনের সতেজতা, কি খাবারদাবার কি জীবনযাপনে যেন এক আরামদায়ক সুখী সুখী ভাব। শীতের সময় সদ্য-ওঠা ফুলকপির সাথে কই মাছের ঝোল যেন অমৃত সমান। অথচ এই বেইজিং-এ যেন সম্পূর্ণ উল্টো, এখানে শীত মানে বিভীষিকা, মাইনাস ডিগ্রি তাপমাত্রায় আর যাই হোক শীতকে উপভোগ করা যায় না। আর প্রকৃতি এত রুক্ষ হয়ে যায় যে মনটা কেমন যেন ভার ভার ঠেকে, গাছের পাতা সব ঝরে যায়, মৃত গাছগুলি দাঁড়িয়ে থাকে সটান। শীতের সাথে সাথে উত্তুরে বাতাস আর ধুলিঝড়, ঝড়ো বাতাসের আঘাতে পত্রপুষ্পহীন গাছগুলি যেন আর্তনাদ করে ওঠে। আর এই বৃক্ষের আর্তনাদ শুনতে শুনতে কাটাতে হয় পুরো শীতকাল। তবে রক্ষা -- হিটিং-এর ব্যবস্থা থাকায় ঘরটা উষ্ণ থাকে; রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে বেইজিংবাসী এই উষ্ণতাটুকু উপভোগ করে। বাইরে শীত, ঘরে উষ্ণতা। আবার ঘর থেকে বাইরে বেরুতে হলে রীতিমতো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে বেরুতে হয়, শীতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। গায়ে গলাতে হয় পরতের পর পরত পোশাক, শীতের ব্রহ্মাস্ত্র পোশাকের ঢাল ভেদ করে হাড়ে যেন কাঁপন ধরাতে না পারে। আবার ঘরে এসে ভারী পোশাকগুলো খুলে রাখতে হয়, তা নাহলে ঘরের উষ্ণতার সাথে সমন্বয় হবে না। সেই তুলনায় আমাদের দেশে আমরা যথেষ্ট আরামে থাকি, গায়ে কোনো রকমে একটি পুলওভার চাপালেই হয়ে যায়, বড়জোর একটি শখের জ্যাকেট। জুতো পরারও কোনো বালাই নেই, শীতের সময়ও আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ জুতো পরে না, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে, দু ফিতার স্যান্ডেলই সম্বল। উত্তরাঞ্চলের মানুষগুলোকে অবশ্য দারিদ্র্য ও শীত দুটোর সাথেই লড়াই করতে হয়। চীনদেশ এ পর্যায় অতিক্রম করে এসেছে অনেক আগেই, তবে এক পর্যায়ে চীনকেও নানান প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে…

(গত পর্বের পর) পদত্যাগের কারণ সংসদীয় কমিটিতে তলব? সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তলবের কারণেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের পদ থেকে লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধূরী পদত্যাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর। সূত্র জানায়, গত এক এপ্রিল অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে আলোচনার জন্য পরবর্তী বৈঠকে হাসান মশহুদ চৌধূরীকে তলব করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে নোটিস দিয়ে তলবের কথা বলা হয়। এ খবর জানার পর এবং সরকারের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনসহ একাধিক কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন হাসান মশহুদ। অসহযোগিতাও অন্যতম কারণ? সরকারের চাপ ও অসহযোগিতার কারণেই চলে যেতে হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরীকে। দুদক-এর দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, ইদানীং সরকারের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতাই করা হচ্ছিল না তাকে। জানা গেছে, এই অসহযোগিতার অংশ হিসেবে দুদক-এর মতামতের তোয়াক্কা না করেই দু’ কর্মকর্তার নিয়োগ আদেশ বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার অন্য দু’জনকে দুদক-এর ঊর্ধ্বতন দু’টি পদে নিয়োগ দেয়। এ কারণে এক কর্মকর্তাকে কোন দায়িত্বও দেয়নি দুদক। এছাড়াও দুদক-এর মতামত না নিয়ে পরিচালক পদে আরও কয়েকটি নিয়োগ দেয় সরকার। সর্বশেষ দুদক-এর সহকারী পরিচালক, উপ-পরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ে পদোন্নতি দেয়ার বিষয়ে গঠিত কমিটির বৈঠক নিয়ে সরকারের সঙ্গে হাসান মশহুদ চৌধুরীর সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। দুদক-এর সচিবের সভাপতিত্বে পদোন্নতি বিষয়ক কমিটির এ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল গত ২৯ মার্চ। পদোন্নতি কমিটির পাঁচ সদস্যের মধ্যে ওই দিন সরকারি এক সদস্য বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় তা স্থগিত করে পরদিন ৩০ মার্চ করার সিদ্ধান্ত হয়। পরের দিনও ওই সদস্যকে পাঠানো হয়নি বৈঠকে। পরে চেয়ারম্যান খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ইঙ্গিতেই তাকে বৈঠকে যেতে বারণ করা হয়। এরপরই পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন হাসান মশহুদ চৌধুরী। এর একদিন পরই তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। এছাড়া আরও কিছু বিষয়েও কেবিনেট থেকে দুদককে অসহযোগিতা করা হয়। যেমন, দুদকের জনবল কাঠামো অনুমোদন করেনি সরকার। মামলা পরিচালনায় এটর্নি জেনারেলের অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছিল…

আজ ২৫ চৈত্র ১৪১৫, ০৮ এপ্রিল ২০০৯, রাত ৯-৪১ পূর্ণিমা লেগেছে। চৈতি পূর্ণিমা আমার ব্যক্তিগত বিশেষ রাত। বছরের শেষ পূর্ণিমায় আগামী বছরের উল্লেখযোগ্য কোনো আশঙ্কা বা আশা আমাকে ভাবিত করে। এবছর আশঙ্কা। ভাবছি এই প্রায় একঘণ্টা ধরে। ভাবছি এমন একটি ভাবনা পোস্টে দেব কি না, চন্দ্রাহত ভাবনা কি এটা, বুঝে উঠতে পারছি না। তবে মনে হচ্ছে এই আশঙ্কার কথা সবাইকে বলা যায়, ব্লগ তো এক অর্থে দিনপঞ্জি, তবে বলি : আওয়ামী লীগ ভাঙবে আগামী বছরে, হতে পারে আষাঢ়-শ্রাবণে (জুলাই-অগাস্ট ২০০৯) বা বাংলার রাজনৈতিক ঋতুতে অগ্রহায়ণ-পৌষে (নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০০৯)। নতুন দলের চরিত্র হতে পারে মধ্যপন্থার, ডান নয় বামও নয়। আগের মতো বিছিন্ন দু-একজনের ভাঙন নয়—বড় সফল ভাঙন। শেক্সপিয়রের ‘চৈতালি রাতের স্বপ্ন’ আমার পড়া নেই, কিন্তু জানি এ নাটকের অভিকরণ (performance) লন্ডনে আমেরিকায় সফল মিউজিকাল, নাচে গানে ভরপুর দুর্দান্ত শো। চৈতি পূর্ণিমা এলেই আমার Midsummer Night’s Dream পড়তে ইচ্ছে করে, কিন্তু এতগুলো চৈতি পূর্ণিমা পার হয়ে গেল, কেন যেন আজো পড়া হলো না! চৈতি পূর্ণিমা ১৪১৫ সমুদ্রবন্দরচট্টগ্রাম।

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.