মুক্তাঙ্গন-এ উপরোক্ত শিরোনামের নিয়মিত এই সিরিজটিতে থাকছে দেশী বিদেশী পত্রপত্রিকা, ব্লগ ও গবেষণাপত্র থেকে পাঠক সুপারিশকৃত ওয়েবলিংকের তালিকা। কী ধরণের বিষয়বস্তুর উপর লিংক সুপারিশ করা যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম, মানদণ্ড বা সময়কাল নেই। পুরো ইন্টারনেট থেকে যা কিছু গুরত্বপূর্ণ, জরুরি, মজার বা আগ্রহোদ্দীপক মনে করবেন পাঠকরা, তা-ই তাঁরা মন্তব্য আকারে উল্লেখ করতে পারেন এখানে। ধন্যবাদ।

আমি পশ্চিমের পথে বেরিয়ে পড়েছিলাম, কেননা আমার ঝোঁক ছিল কাউবয় তথা একজন বহিরঙ্গনের মানুষ হওয়ার দিকে। [...]

[হেনরি মিলারের ‘ভাবনাগুচ্ছ’ : ১, হেনরি মিলারের ‘ভাবনাগুচ্ছ’ : ২, হেনরি মিলারের ‘ভাবনাগুচ্ছ’ : ৩] কাউবয় দিনগুলো আমি পশ্চিমের পথে বেরিয়ে পড়েছিলাম, কেননা আমার ঝোঁক ছিল কাউবয় তথা একজন বহিরঙ্গনের মানুষ হওয়ার দিকে। আরেকটা ব্যাপার, আমার দৃষ্টিশক্তি খারাপ ছিল, আমি ভেবেছিলাম খোলা আকাশের নীচে কাজ করার ফলে সেটারও উন্নতি ঘটবে। আমি সান দিয়েগোর ঠিক লাগোয়া একটা খামারে কাজ পাই। আমার কাজ ছিল লেবু গাছ থেকে ছেঁটে ফেলা ডালপালার বিশাল স্তূপকে আগুনে পোড়ানো। আমি গাধায়-টানা একটা গাড়ি চালাতাম আর একটা বিশাল হাতা দিয়ে কাঠকয়লা উল্টেপাল্টে সারাদিন আগুন জ্বালিয়ে রাখতাম। আমার ভুরু জ্বলে গিয়েছিল, আমার ঠোঁট ফেটে গিয়েছিল আর হাতদুটো কঠিন হয়ে এমন জোড়া লেগে গিয়েছিল যে প্রত্যেকদিন সকালে সেগুলোকে টেনে খুলতে হতো। সেখানকার অন্যান্য মানুষগুলোর তুলনায় আমি নেহাতই একজন মেয়েলি স্বভাবের শহুরে বালক ছিলাম। কিন্তু তারা সবাই আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতো। তারা হয়ত একদল সঙ্কীর্ণমনা মানুষই ছিল, কিন্তু আমাকে পছন্দ করতো। আমি তাদেরকে ঘন্টার পর ঘন্টা ন্যুয়র্কের গল্প করে আমোদিত করে রাখতাম। ন্যুয়র্কের পাতালরেল, গগনচুম্বী অট্টালিকা আর নারীদের বিষয়ে আমার অতিরঞ্জনগুলো তাদেরকে বিস্ময়বোধে ভরে তুলতো। তারা আমার ডাকনাম দেয় ইয়র্কি আর আমার সঙ্গে খুবই ভালো আচরণ করতো। সেখানে থাকাকালীনই প্রথম নীৎশের সঙ্গে পরিচয় ঘটে আমার। আর তার জন্য দায়ী ছিলেন এমা গোল্ডম্যান। এক কাউবয়, বিল পার নাম, কোন এক শনিবার রাতে আমার কাছে এসে বলে, "ইয়র্কি, আমি দারুণ এক বেশ্যালয়ের খবর পেয়েছি। চলো আমরা সান দিয়েগো যাই।" কথামতো আমরা ট্রলি করে রওনা দিলাম। সেখানে পৌঁছানোর পর একটা বড় পোস্টার চোখে পড়লো যাতে লেখা: আজ রাতে এমা গোল্ডম্যান নীৎশে, স্ট্রিন্ডবার্গ, ইবসেন ও শ-এর ওপর বক্তৃতা করবেন। এটা দেখামাত্র আমি তাকে বললাম যে আমি তার সঙ্গে যেতে পারবো না। আমাকে এমা গোল্ডম্যানএর বক্তৃতা শুনতে হবে। এমার চমৎকার বক্তৃতার পর বিল রাইটম্যান নামে তার একজন সহযোগী মিলনায়তনের বাইরে বই বিক্রি আরম্ভ করে। আমি তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি নীৎশের অ্যান্টিক্রাইস্ট বইখানা আছে কিনা। একথা শোনামাত্র সে আমাকে জেরা করা শুরু করলো। "তোমার বয়স কত? এর আগে নীৎশের কোন বই পড়েছো?" এই জাতীয় প্রশ্ন। আমি তাকে যথাযথ উত্তর দেওয়ার পর সে আমাকে বইটি কিনতে…

আমি ছিলাম বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অংশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান প্রতিনিধি। তাই আমার রসিকতা ও আমার ক্ষমতা দুয়ে মিলে আমি হয়েছি – বিশ্ববেহায়া।[...]

আমাকে নিয়ে আমার এই রসিকতায় মনে হয় না কেউ খুব একটা আশ্চর্য হবে। সারাজীবন তো নিজেকে নিয়ে রসিকতাই করে গেছি, সেরসিকতা দেশ ও জনগণের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। কিন্তু আমি ছিলাম বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অংশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান প্রতিনিধি। তাই আমার রসিকতা ও আমার ক্ষমতা দুয়ে মিলে আমি হয়েছি – বিশ্ববেহায়া। এখন আমার ক্ষমতা নেই, তাই আমার এখনকার রসিকতা আর দেশ ও জনগণের ক্ষতি করে না। আমার নিজের কই মাছের প্রাণটা আমি উপভোগ করি – এই যে গুরুতর অসুস্থতা থেকেও এই আশি বছর বয়সেও ফিরে এলাম – এ তো উপভোগ করার মতোই ঘটনা। মুজিব মরল, জিয়া মরল – কিন্তু আমি বেঁচে আছি, এরশাদ বেঁচে আছে। এই শব্দটাও আমাকে খুব মানায় – ঠ্যাঁটা, শঠতার চূড়ান্তে পৌঁছতে চেয়েছি আমি – পৌঁছেছি দাবী করব না – কিন্তু বাংলার সেরা শঠদের সেরা সারিতে থাকব, এতে কোনো সন্দেহ নেই আমার। আমার ও রওশনের সন্তান ছিল না, সন্তান দত্তক নিয়েছিলাম, কিন্তু সন্তানসম্ভবা বলে রওশনকে হাসপাতালে ভর্তি করালাম, তার বাচ্চা হল, আমরা বাবা-মা হলাম। সারাদেশকে জোর করে আনন্দে ভাসানো হল, ঘনিষ্ঠরা শুধু জানে, রওশন ছাড়া পৃথিবীতে আর কেউ সম্ভবত রাতারাতি সন্তানসম্ভবা ও সন্তানের মা হয়নি। ১৯৭১ সালে আমি পাকিস্তান আর্মিতে নিশ্চিন্তে কাজ করে গেছি, ছুটি নিয়ে বাবা-মাকে দেখেও গেছি, আর কোনো কিছুর সঙ্গে নিজেকে জড়াইনি, এতো উদাসীন ছিলাম, কোনো কিছুই স্পর্শ করত না, আজো করে না, তাই হয়তো বেঁচে আছি। জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল তিনি বাংলা ভাষাটাই ঠিক মতো জানতেন না। দেশের প্রেসিডেন্ট দেশের ভাষা না জানলে জিন্নার মতো এক বছর চলে যায়, কিন্তু বছরের পর বছর চলা যায় না, আর তাই জিয়া আমাকে আবিষ্কার করলেন – আর আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গুণটাকে আমি, বাংলা ভাষাজ্ঞানের দিকটাকে আমি জিয়ার সেবায় বিলিয়ে দিলাম – দিনে রাতে জিয়ার ড্রাফট লিখতে লিখতে আমার মনে হয়েছিল, আরেকজনের ড্রাফট লেখার জন্য আমার জন্ম হয়নি – এগিয়ে গেলাম – জিয়া মারা গেলেন – আমার কী কপাল! – তারপর তো কত লোক আমার কবিতাগান লেখার জন্য লাইন দিল। রসিকতা আর শঠতা কাকে বলে! একটা কথা না বললে খুব অন্যায় হবে, ইসলামের সাথে আর কেউ…

আমি খুব ছোটবেলাতেই, বয়স হয়ত তখন কয়েক বছর মাত্র, জেনেছি পৃথিবীটা খুবই জঘন্য জায়গা। [...]

[হেনরি মিলারের ‘ভাবনাগুচ্ছ’ : ১, হেনরি মিলারের ‘ভাবনাগুচ্ছ’ : ২] আমার মা আমি খুব ছোটবেলাতেই, বয়স হয়ত তখন কয়েক বছর মাত্র, জেনেছি পৃথিবীটা খুবই জঘন্য জায়গা। আমার বাবা-মার ধরনধারনকে আমার খুবই নির্বোধের মত মনে হত। তাঁদের তাস খেলা, তাঁদের ডিনার পার্টিসমূহ, হাবভাব- যা কিছু তাঁরা করতেন, যা কিছু তাঁরা বিশ্বাস করতেন সবই আমার কাছে ছিল নিদারুণ ঘৃণার বিষয়। তাঁরা ছিলেন নীরস, অনাকর্ষণীয় মানুষ। একথাগুলো বলতে গিয়ে আমি দুঃখ পাচ্ছি কিন্তু এগুলো সত্য। শিশু হিসাবে আমি ছিলাম খুবই কৌতূহলী স্বভাবের, সবসময়ই প্রশ্নরত, সবসময়ই জানার জন্য উদগ্রীব, কিন্তু সে ব্যাপারে তাঁদের কোন আগ্রহই ছিল না। নিজের জ্ঞানতৃষ্ণার নমুনা হিসাবে আমার এই ছবিটাই কেবল মনে আসে যে মায়ের জরায়ু থেকে লাফ দিয়ে নেমেই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আমি দরজা পেরিয়ে এক দৌড়ে গিয়ে হাজির হয়েছি লাইব্রেরিতে! আমার মা ছিলেন একটি প্রথম শ্রেণীর কুক্কুরী, যিনি আমার বোনকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে দিয়েছিলেন তাঁকে বিব্রত করার অপরাধে, আমার গোবেচারা প্রতিবন্ধী বোনটি! একেবারে শিশুকাল থেকেই আমি বুঝেছিলাম আমাকে একজন দানব ও নির্বোধ মা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। আপনারা এমন একজন ব্যক্তির কথা কল্পনা করতে পারেন যে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে পিটিয়ে তার মাথায় কিছু বুদ্ধি ঢোকাতে চাইতে পারে? এটা পুরোপুরি হাস্যকর। আমার মাকে সারাজীবন ঘেন্না করার পেছনে এটা অন্যতম একটা কারণ ছিল। কয়েক বছর আগে দেখা একটি স্বপ্ন নিয়ে আমি ছোট্ট একটা লেখা লিখেছিলাম। স্বপ্নে দেখি আমি মারা গেছি এবং ডেভাচান গিয়েছি। হঠাৎ আমার মা হাজির হন এবং তিনি আমার স্মৃতিতে তাঁর যে রূপ ছিল তা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁকে খুবই চমৎকার, উজ্জ্বল, সংবেদনশীল এমনকি বুদ্ধিমতী দেখাচ্ছিল। সেই লেখাটি লেখার পর তাঁর সম্পর্কে আমার মনোভাব কিছুটা নরম হয়। আমি আমার পছন্দমত একটা আদল গড়ে নিই তাঁর, যাঁকে আমি বুঝতে পারি, এমনকি যাঁকে ভালোবাসতে পারি। আমার মনে হয় আমার মা যদি সেই স্বপ্নে দেখা মায়ের মতই হতেন তাহলে হয়ত আমি কোনদিন লেখক হতে পারতাম না। আমি হয়ত আমার বাবার মত দর্জি হতাম। আমি হয়ত তিনি যেমনটা চাইতেন ঠিক সেরকম সমাজের একটি উন্নত স্তম্ভ হয়ে উঠতাম। কিন্তু তিনি আমাকে উৎসাহ দেবার পরিবর্তে সবসময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন। আমি যত চেষ্টাই করি না কেন…

...[একুশের সেই ভোরের কথা চিন্তা করুন। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে চলে আসছে সেই মেয়েটি, যার অন্তর্গত কণ্ঠে তখন ধ্বনিত হচ্ছে ভাইকে ভুলে না যাওয়ার নিভৃত প্রতিজ্ঞা। সঙ্গে তার ভাই ছিল অথবা ছিল বাবাও। কিংবা তারা কেউ না থাকলেই বা কি? একুশ তো নির্ভয়ে পথচলারই দিন।]...

একুশের সেই ভোরের কথা চিন্তা করুন। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে চলে আসছে সেই মেয়েটি, যার অন্তর্গত কণ্ঠে তখন ধ্বনিত হচ্ছে ভাইকে ভুলে না যাওয়ার নিভৃত প্রতিজ্ঞা। সঙ্গে তার ভাই ছিল অথবা ছিল বাবাও। কিংবা তারা কেউ না থাকলেই বা কি? একুশ তো নির্ভয়ে পথচলারই দিন। আর চিরদিন যেন এভাবে পথচলা যায়, সে আকাঙ্ক্ষাই তো খেলা করে এদিনের আগেপরে। বাবা নয়, ভাই নয়, কেউই নয় মেয়েটি তো ফিরছিলো সেই আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে। কিন্তু তাকে উত্যক্ত করতে শুরু করল কয়েক ছেলে। প্রতিবাদ করায় ক্ষতবিক্ষত হতে হলো ভাইকে। একুশ মানে তো মাথা নত না করা- যে একুশের প্রতি পরম মমত্বে সে একটু আগে মিনারের পাদদেশে শুইয়ে রেখে এসেছে কয়েকটি ফুল- মেয়েটিও তাই প্রতিবাদে জ্বলে উঠল। এবার তাকেও পিটাতে পিটাতে ফুটপাতে ফেলে দিলো বখাটেরা। শহীদ মিনার থেকে অনেকেই ফিরছিল, শহীদ মিনারে অনেকেই যাচ্ছিল। তাদের সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে এই দৃশ্য। কেউই এগিয়ে যায়নি এই বখাটেদের পাল্টা উত্তর দিতে। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো যত সহজ, চেতনা নিয়ে রুখে দাঁড়ানো তত সহজ নয়। মেয়েটিকে তাই একুশের দিন এইভাবে রক্তাক্ত হতে হয়েছে, যে-রক্তের দাগ হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই মুছে যাবে- কিন্তু কিছুতেই সে ভুলতে পারবে না এদিনটিকে। আরও ভুলতে পারবে না একটি সংগঠনকে। সে সংগঠনটির নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ - যে সংগঠনটি দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালন করার। জগন্নাথগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে এক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করেছে এক ছাত্র। ছাত্রীটির অপরাধ, ওই ছাত্রের অনৈতিক প্রস্তাবে সে রাজি হয়নি। প্রতিদিনই ছাত্রীটিকে ওই ছাত্র উত্যক্ত করত। কিন্তু একদিন সে মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, বাসার দিকে রওনা হওয়া ছাত্রীটির পিছু নেয় সে। ছাত্রীটি তার স্বামীর কাছে টেলিফোন করে। তার স্বামী এসে ছাত্রটিকে অনুরোধ করে তাকে উত্যক্ত না করতে। পরদিন ওই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েটিকে তার বিভাগের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। মেয়েটি টিকতে না পেরে বাসার দিকে রওনা হলে বিশ্ববিদ্যালয় গেটে শ শ মানুষের সামনে তার ওড়না কেড়ে নেয় ছেলেটি, চুলের মুঠি ধরে চড়থাপ্পর মারে। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত বছরের শেষ দিকে বাংলা বিভাগের এক ছাত্রীকে কলাভবনে সবার সামনে মারধর করে এক ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে হুশিয়ার করলেও গ্রাহ্য করেনি সে।…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.