দুঃসংবাদে এদেশের খবরের কাগজগুলো ঢাকা থাকে। থাকে টিভি-বেতারের সংবাদেও। আমরা যারা ব্লগ লিখি, আমরা অনেক বেদনার ভিতরেও আশার খবরটা ও সত্যভাষনটা ব্লগানুরাগী পাঠক কূলের কাছে নিয়ে আসি। কিন্ত যেভাবে চাই, সে ভাবে তো দেশ এগোয় না, যে আশা করি, তাতো দুরাশা হয়ে আমার কাছে ফেরত আসে, আর যে স্বপ্ন দেখি, তাতো প্রতিদিনই ভেঙে পড়ে। মুখোমূখি হই ভয়ংকর বাস্তবতার। আমরা কি নিজেরাই এজন্যে দায়ী? এই মাত্র বিডি নিউজের ব্রেকিং নিউজে বড় বড় হেড লাইনে লাল কালিতে ছাপা হয়েছে,আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যে কোন মূহূর্তে একটি সুইসাইড স্কোয়াডের কিলিং এটেম্পটের শিকার হয়ে যেতে পারেন। সুনির্দ্দিষ্ট একটি তথ্যের ভিত্তিতে, তারা এই খবরটি ছাপিয়েছে। ভারতীয় একটি ইন্টেলিজেন্স এজেন্সীর বরাত দিয়ে,খবরে বলা হয়েছে, আমাদের দেশের ভিতরেই সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ নামক একটি স্থানে গত দু'মাস ধরে একটী সন্ত্রাসবাদী ট্রেনিং ক্যাম্প পরিচালিত হয়ে আসছিলো। এই ট্রেনিং ক্যাম্পটি পরিচালনার দায়িত্বে আছে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বা হূজি নামে যারা পরিচিত । এই ট্রেনিং ক্যাম্পটিতে সামরিক প্রশিক্ষন যিনি তদারকি করেছেন তার নাম এহতেশাম। এই এহতেশাম একজন পাকিস্তানী স্পেশাল ফোর্সের সাবেক কর্মকর্তা। তার নেতৃত্বে গত দু'মাসে সেখানে ছয় (৬) সদস্য বিশিষ্ট একটি কিলিং স্কোয়াডকে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। হরকাতুল জিহাদ প্রধান ইমতিয়াজ কুদ্দুস ট্রেনিং শেষে, ঐ ৬ সদস্যের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করে, সব যাবতীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও খবরে প্রকাশ হয়েছে। তাদের উপর স্পেশাল এসাইনমেণ্ট হল, শেখ হাসিনার উপর সফল আত্নঘাতী হামলা চালানো, যে কোন সময়। খবরে জানতে পেরেছি, ভারতীয় ঐ গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে শেখ হাসিনাকে বিষয়টি অবহিত করেছে, এবং সতর্ক করে দিয়েছে। গত দু'মাস ধরে এই তৎপরতা দেশের ভিতরে চললো, আর সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিছুই জানলো না! ঊদিচীর মঞ্চে বোমা হামলা, রমনার বোমা হামলা, পল্টনের বোমা হামলা, একুশে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা, ময়মনসিংহে সিনেমা হলের বোমা হামলা, সারা দেশে একযোগে ৫০০ স্থানে বোমা হামলা এবং চট্রগ্রামে জজ আদালত ভবনে বই বোমা হামলা, এর কোনটাতেই আগাম কোন তথ্য দিতে পারেনি কিংবা দেয়নি, আমাদের দেশের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সী গুলো। কেন পারেনি? সর্ষেতে কি ভুত লুকিয়ে আছে?
‘যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ চাই’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে পালিত হলো ২০০৮-এর বিজয় দিবস। এবারের বিজয় দিবস পালিত হলো এমন এক সময়ে, যখন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র আর ১৩ দিন বাকি। দেশ এখন নির্বাচনমুখী। বড় দুটি দলের দুই শীর্ষ নেত্রী বেরিয়েছেন ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণায়। তারা চষে বেড়াচ্ছেন জেলা থেকে জেলা। নিজ প্রতীক তুলে দিচ্ছেন নিজ নিজ দলের প্রার্থীদের হাতে। আর দেশের জনগণকে বলছেন, ভোট দিতে হবে তাদের প্রার্থীকেই। দুই নেত্রীর জনসমাবেশেই প্রচুর লোক সমাগম হচ্ছে। জনতার ঢেউ একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত। জনসমাগম দেখে বোঝার কোন উপায় নেই, কারা আগামী সংসদ নির্বাচনে পাস করবে। জানার কোন উপায় নেই রাষ্ট্রের জনগণের মনের ইচ্ছা-অনিচ্ছা। একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার চারপাশ ঘিরে রাখছেন সেই নেতারাই যারা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে জেল-হাজতে ছিলেন। জোট সরকারের শাসনামলে তাদের দু:শাসনে ভীষণ আতঙ্কিত ছিলেন দেশের মানুষ। এ নেতাদের অনেকে এবার প্রার্থী হতে পারেননি। কিন্তু তারা মাঠে নেমেছেন, তাদের পছন্দের ছায়া প্রার্থীকে তারা সমর্থন দিচ্ছেন। এটা খুবই স্পষ্ট দুটি প্রধান দলই চাইছে, দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। কারণ নির্বাচিত সরকার এলে এতে রাজনীতিকদের কর্তৃত্ব থাকবে। তারা তাদের ইচ্ছেমতো যা খুশি করতে পারবেন। যেমনটি তারা আগেও করেছেন। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির অভিযোগে কিছু কিছু প্রধান নেতা যে নিজ নিজ দলেই কোণঠাসা হয়ে আছেন তা তো দেশবাসী দেখছে। দেশের মানুষ দেখেছে দুটি প্রধান দলের সম্পাদকদের বর্তমান হাল-অবস্খা। একজন দল থেকে বিদায় নিয়েছেন। অন্যজনের সব ক্ষমতা ও খর্বিত হয়েছে। এখন সেই সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বটি পালন করছেন, একজন ‘মুখপাত্র’, প্রকারান্তরে তিনিই সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। এটাও বুঝতে পারছেন দেশবাসী। দুটি প্রধান দলে একটি নেপথ্য লুটপাট সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, তা দুনেত্রীও জানতেন। তারপরও তারা তা কঠোর হাতে দমন করলেন না কেন? করলে তো আজ এমন দুরবস্খার সৃষ্টি হতো না রাজনীতির ময়দানে। বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। তিনি সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার পক্ষে প্রচারণার জন্য বিএনপিপন্থি দু’জন বুদ্ধিজীবী সিলেটে গিয়েছিলেন। এই দু’জন শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমান। এদের পরিচয় দেশবাসীকে নতুন করে জানানোর দরকার নেই। এ দু’জন সাইফুর রহমানের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নানাভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রয়াস…
না ভোট দেবেন না, এবার নাও ভোট দিন।
বাংলার মুসলিম রাজনীতি ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৫ এর প্রতিরোধ কাটিয়ে অনেকদিন থেকেই ইসলামী রাজনীতির লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে। এই ইসলামী রাজনীতিকে কি আমরা প্রতিরোধ করতে পারব? আপাতত তো এর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু যদি প্রতিরোধ জেগেই ওঠে ধীরে ধীরে, তবে কি আবার যুদ্ধ? যদি তাই হয় তাহলে সে যুদ্ধ কত দূরে? আর যদি যুদ্ধের প্রয়োজন না হয়, তাহলে শুধু প্রতিরোধেই ইসলামী রাজনীতির লক্ষ্যচ্যুতি ঘটবে? নাকি কোনো প্রতিরোধই গড়ে উঠবে না? চলবে শুধু এগিয়ে যাওয়া, ইসলামী রাজনীতির? ভোট এক্ষেত্রে কিছু করতে পারে? আসন্ন ভোটের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। তাকিয়ে আছি সামনের পাঁচটি বছরের দিকে, ওই পাঁচ বছরে ওপরের মৌলিক প্রশ্নটির উত্তর আমরা পেয়ে যাব আশা করি। বাংলার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হোক। ভোটের প্রাক্কালে সবার কাছে রইল এই আহ্বান। জয় বাংলা।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশায় কোন কৃত্রিমতা ছিল না। তারা রক্ত দিয়েই একটি মানচিত্র পাওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিল। তাই প্রাণের বলিদান, আত্মাহুতি কোন মুখ্য বিষয় ছিল না। সে সময় রাজনীতিকরাও স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন একটি স্বাধীন ভূমির। একটি বলীয়ান জাতিসত্তার। মানুষ রাজনীতিকদের কথায় আস্থা রেখেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যুদ্ধে। সে যুদ্ধে তারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। এরপরের দায়িত্বটুকু ছিল জনগণ-রাজনীতিকের সমন্বয় সাধনের। যে কাজটি দ্রুত করতে পারেননি স্বাধীনতা পরবর্তী রাষ্ট্রশাসকরা। করতে পারলে তাৎক্ষণিক বহুধা বিভক্তির জন্ম হতো না। মানুষও বিভ্রান্ত হতো না। একটি স্খিতিশীলতার পথ দেখতো জাতি [...]
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশায় কোন কৃত্রিমতা ছিল না। তারা রক্ত দিয়েই একটি মানচিত্র পাওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিল। তাই প্রাণের বলিদান, আত্মাহুতি কোন মুখ্য বিষয় ছিল না। সে সময় রাজনীতিকরাও স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন একটি স্বাধীন ভূমির। একটি বলীয়ান জাতিসত্তার। মানুষ রাজনীতিকদের কথায় আস্থা রেখেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যুদ্ধে। সে যুদ্ধে তারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। এরপরের দায়িত্বটুকু ছিল জনগণ-রাজনীতিকের সমন্বয় সাধনের। যে কাজটি দ্রুত করতে পারেননি স্বাধীনতা পরবর্তী রাষ্ট্রশাসকরা। করতে পারলে তাৎক্ষণিক বহুধা বিভক্তির জন্ম হতো না। মানুষও বিভ্রান্ত হতো না। একটি স্খিতিশীলতার পথ দেখতো জাতি। রাষ্ট্রের অবকাঠামো নির্মাণে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সবসময়ই জরুরি ভূমিকা রাখে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে পরিকল্পনায় ছিলেন ব্যাপক উদার। তার উদারতা তাৎক্ষণিক মহানুভবতার পরিচয় দিলেও পরাজিত পক্ষ সেটা দেখেছিল দুর্বলতা হিসেবে। যার ফলে এখনও তারা বলে কিংবা বলার সাহস দেখায়, শেখ মুজিব ঘাতক-দালালদের সাধারণ ক্ষমা করে দিয়েছিলেন! বঙ্গবন্ধু তেমন কোন ‘ক্ষমা’ ঘোষণা করেননি। বরং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্খা নেয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তিগত খাতিরের সুযোগ নিয়ে, সামাজিক মুচলেকা দিয়ে তারা পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কেউ কেউ পলায়ন করেছিল পাকিস্তানে। পলাতক মাহমুদ আলী পাকিস্তানে মারা গেলেও, গোলাম আযমরা ফিরে এসেছিল পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এবং পাখনা মেলেছিল সদলবলে। পঁচাত্তরের নির্মম হত্যাযজ্ঞের পর যারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার নেশায় মত্ত ছিল তাদের লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। দেশের মঙ্গল সাধনের চেয়ে, দেশ থেকে মুজিব এবং তার স্বপ্নের নামাবলি মুছে দেয়ার প্রধান ইজারা নিয়েছিল তারা। দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানোর চেয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ লুটপাটকে বেছে নিয়েছিল তারা টিকে থাকার সিঁড়ি হিসেবে। প্রয়োজনীয় গণ উন্নয়ন খাতের বাজেটকে সঙ্কুচিত করে তারা মনগড়া অনুন্নয়নশীল খাতে বরাদ্দ করেছিল বেশি রাষ্ট্রীয় অর্থ। সবচেয়ে বেশি অমনোযোগী ছিল শিক্ষা খাতের প্রতি। ভয় ছিল, মানুষ সুশিক্ষিত হয়ে গেলে লুটপাটের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারে। একটি জাতি ও রাষ্ট্র গঠনে যে প্রত্যয়টির প্রধানত প্রয়োজন ছিল তা হচ্ছে দেশ গঠনে আন্তরিকতা। সেদিকে না এগিয়ে একটি মহল বন্দুক উঁচিয়ে ক্ষমতার স্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে ছিল মরিয়া। শেখ মুজিবকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন নেতা ষ্পষ্ট বলেছিলেন, কাল সাপেরা ছোবল দিতে পারে। হ্যাঁ, সেটাই হয়েছিল। বন্দুকধারীদের সঙ্গে খুব সহজেই যোগ দিয়েছিল পরাজিত রাজাকারচক্র। তাদের মধ্য থেকে শাহ আজিজুর রহমানকে…
