এটাই ছিল সোভিয়েতের হতাশা। এবং এই হুমকির মধ্যে বসবাস করতে গিয়ে সোভিয়েত তার সম্পূর্ণ যোগাযোগ হারিয়েছিল এই তিন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে।[...]

টুইট করতে করতে অনেক সময় এমন কিছু গুচ্ছ টুইট হয়ে যায় যেগুলোকে পোস্টের রূপ সহজে দেয়া যায়। সেকাজটাই এখানে করা হল। আগে এরকম প্রচুর টুইট কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। এখন থেকে ভাবছি, এরকম টুইটগুলোকে 'টুইট থেকে পোস্টে' সিরিজে সংগ্রহ করে রাখব। এই পোস্টে সংকলিত টুইটগুলো ক্রমান্বয়ে : এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ, এগারো, বারো, তেরো, চৌদ্দ, পনেরো, ষোলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারত, না পাকিস্তানও স্বাধীন হয়েছিল -- সেদিন অবিভক্ত ভারতের কমুনিস্ট রাজনীতির ভাগটা কিভাবে হয়েছিল? আমেরিকা তখন ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের পর দৃষ্টি দিয়েছিল ভারতের দিকে, আর তখন ভারত = ভারত + পাকিস্তান, কিন্তু আমেরিকার দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হয়েছিল অবিভক্ত ভারতে কমুনিজমের প্রসার ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের অবদানের উপর ভিত্তি করে, তাদের ভাষাভাই ও সাম্রাজ্যের পুরনো গুরু ব্রিটিশরা এঅঞ্চলের ধর্মে মধ্যযুগীয় উপাদানের মধ্যে বিভক্তির বিন্যাস দেখে এবং মোগল আমলের হিন্দুনিগ্রহের পাল্টা মুসলিমনিগ্রহ আসবে স্বাধীন এক ভারতের হিন্দুগরিষ্ঠতার হাত ধরে -- এমন আশঙ্কাকে উসকে দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলমানের হাতে রায়টের রাজনীতি তুলে দিয়েছিল। সেই রায়ট স্বাধীনতা সংগ্রামের রায়তের ঐক্যকে রাতারাতি ফাটল ধরিয়ে দিয়ে বিচ্ছিন্ন বিভক্ত দুটি রাষ্ট্রকে আটপৌরে বাস্তবতার মতো একবারে স্বাভাবিক একটা ঘটনায় রূপ দিয়েছিল। সেই দুটি রাষ্ট্রের একটি ছিল রাষ্ট্র আর আরেকটি ছিল জোড়া ঠেস, পশ্চিমেরটি ঠেস দিয়েছিল ভারত ও পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে এবং পূর্বেরটি ঠেস দিয়েছিল ভারত ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে। এই ব্রিটিশরা যেখানে শেষ করল সেখান থেকেই শুরু করতে আসল তারই ভাষাভাই আমেরিকা। তার মাথার পেছনে কমুনিজমের ভয়, সেই ভয় তাড়াতে সে সামনে নিয়ে এল ব্রিটিশ প্রশাসনের রেকর্ড থেকে ইসলামবাদী উগ্রতা, তাকে যুগোপযোগী করে দিল জঙ্গি রাজনৈতিক রূপ। ভারত পাকিস্তান চলে গেল সোভিয়েত আমেরিকার দ্বন্দ্বের বলয়ে। তখন সেই ১৯৫৪ সালে ভারত পাকিস্তানে কি দুটি কমিউনিস্ট পার্টি ছিল? নাকি ছিল তিনটি : ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, পশ্চিম আর পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পর্টি। এই ত্রিশঙ্কু কমিউনিস্ট অস্তিত্বই ছিল আমেরিকার সুযোগ। আর এটাই ছিল সোভিয়েতের হতাশা। এবং এই হুমকির মধ্যে বসবাস করতে গিয়ে সোভিয়েত তার সম্পূর্ণ যোগাযোগ হারিয়েছিল এই তিন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে। এই করতে করতে ১৯৭১ এলো, সোভিয়েতের হুমকি সুযোগ হতাশা একযোগে জ্বলে উঠল, বাংলাদেশ স্বাধীন হল।…

তিনি যদি ভারতে যাবার সিদ্ধান্ত না নিতেন, তবে হয়তো তাঁর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত। ভারত যাওয়ার সিদ্ধান্ত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহেই নেন। সে সময় মওলানা সায়েব নিজের বাড়ি হারিয়ে (পাকিস্তানি বাহিনী তাঁর সন্তোষের বাড়ি ইতিমধ্যেই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল।) ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকার মধ্যে বাস করতেন। নৌকায় আত্মগোপন কালে নিজ পার্টি ন্যাপ-এর সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না।[...]

সদ্যপ্রয়াত সাংবাদিক ফয়েজ আহমদের 'মধ্যরাতের অশ্বারোহী' বই থেকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশটি এখানে তুলে দিলাম। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও ভারতে মওলানা ভাসানীর অঘোষিত গৃহবন্দিত্ব নিয়ে ফয়েজ আহমদের এই অনবদ্য রচনাটি আমার খুবই প্রিয় -- অসাধারণ গদ্য এবং রাজনৈতিক কাহিনী ও মুহূর্তের প্রকাশের এক অনন্য দলিল এই লেখাটি। মওলানা ভাসানীর ভারত আবিষ্কার ফয়েজ আহমদ মওলানা ভাসানী মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার প্রাক্কালেই সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে মুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে লন্ডনে বিপ্লবী অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরিকল্পিত এই বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই তিনি একাত্তর সালের আটই এপ্রিল লন্ডনের পথে আত্মগোপন করে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন। ভারত থেকে লন্ডন পৌঁছানোর সহজ পথ বেছে নেবার সিদ্ধান্তটি ছিল ভ্রান্ত। এই রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের ফলেই তিনি ভারত সরকার কর্তৃক অঘোষিত গৃহবন্দী হয়ে পড়েন। এবং তাঁর বিপ্লবী সরকার গঠনের পরিকল্পনাটি স্বাভাবিকভাবেই বানচাল হয়ে যায়। জীবনে তাঁর সবচাইতে বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল এই ব্যর্থতা। দেশ স্বাধীন হবার পর তিয়াত্তর সালে সন্তোষে সগৃহে অঘোষিত অবস্থায় বন্দী থাকার পরবর্তীকালে মওলানা ভাসানী একটি দৈনিকের সাক্ষাৎকালে এই বেদনার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন

: তেসরা ডিসেম্বর (১৯৭০) পল্টন ময়দানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আমিই প্রথম দিয়েছিলাম। সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের বাস্তব কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে! আর একবার তিনি মর্মাহতই শুধু হননি, ভবিষ্যতের স্বাধীন বাংলাদেশের কথা ভেবে শঙ্কিত হয়ে উঠেছিলেন। তিনি দেরাদুনে আদর আপ্যায়নের মধ্যে আটকাবস্থায় আগস্ট মাসেই জানতেন যে, ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় সৈন্যবাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। ভারত সরকারের বৈদেশিক দফতরের উচ্চপদস্থ অফিসার মিঃ নাগ্রানী একবার মওলানা সায়েবের সঙ্গে দেরাদুনে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সে সাক্ষাতের সময় মওলানা ভাসানী তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আপনার সরকারের সুস্পষ্ট ভূমিকা কি? মিঃ নাগ্রানী ইঙ্গিতবহ উত্তর দিয়ে বলেন : ডিসেম্বরের দিকে। মওলানা সায়েব পরবর্তীকালে নানা ঘটনার সূত্র ধরে ভারতে আটক অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনটাই ছিল বিদ্রোহ ও অভিযানের। ঐতিহাসিকভাবে এ কথা সত্য যে, পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক ও শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে তিনি প্রথম ছাপ্পান্ন সালে কাগমারী সম্মেলনে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকাশ্য হুমকী দিয়ে বলেছিলেন : শাসন-শোষণের বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে আমরা তোমাদের আচ্ছালামো আলাইকুম বলতে বাধ্য হব। অর্থাৎ পূর্ব…

মোহাম্মদ নাশিদকে তার সংগ্রাম একাই চালিয়ে যেতে হবে[...]

মোহাম্মদ নাশিদকে তার সংগ্রাম একাই চালিয়ে যেতে হবে। আমেরিকা, ভারত, চীন সব একজোট হয়েছে -- প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট যিনি ক্যু-এর পরে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তাকে তারা সমর্থন দিয়েছেন। আমেরিকা ও চীন সুপারপাওয়ার তাদের সুপারপাওয়ারি সমর্থন তারা এভাবেই দেয়। কিন্তু ভারত তো সুপারপাওয়ার নয়, ভারত কেন সবসময় পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে আশেপাশের ছোট নবীন গণতন্ত্রকে বিপদে সহায়তা করে না? কারণ ভারতের বিদেশ নীতি ভারতের স্বদেশ নীতির মতোই বিষণ্ণতায় ভোগে, সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। ভারতের বিদেশ নীতির মূল কূটনীতিটা মধ্যপ্রাচ্য, মধ্যএশিয়া, পাকিস্তান ও দক্ষিণএশিয়াকে ঘিরে -- এই অঞ্চলে সংখ্যগরিষ্ঠরা মুসলমান, আর ভারতের নিজ দেশে বড় সংখ্যালঘুরা মুসলমান, তার আশেপাশের মুসলমানদের অগণতান্ত্রিক অবস্থানটাই তার কাছে বড় আবার নিজ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় মুসলমানদের ভোটটাও তার কাছে বড়। এই অগ্নিমান্দ্য থেকে ভারতের বিষণ্ণতা ভারতের সিদ্ধান্তহীনতা। এজন্যই ভারত আরব বসন্তের নীরব দর্শক, এজন্যই ভারত মোহাম্মদ নাশিদের পাশে দাঁড়াতে পারে না, এজন্যই ভারত হাসিনার বন্ধুত্ব চায় কিন্তু নিজের মন নিজেই খুঁজে পায় না, এজন্যই ভারত সুকির চেয়ে বার্মিজ জেনারেলদের বেশি ভালবাসে, আজো ভালবাসে নেপালের রাজাদের, আর পাকিস্তানকে সে যমের মতো ভয় পায়। তাই মোহাম্মদ নাশিদকে, শেখ হাসিনাকে, সুকিকে তাদের নিজের সংগ্রাম নিজেদেরকেই চালাতে হবে। এরা যদি নিজেদের সংগ্রামে জয়ী হয় তাহলেই দক্ষিণএশিয়ার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, আর যদি তা না হয় তাহলে দক্ষিণএশিয়াও মধ্যএশিয়া মধ্যপ্রাচ্য ও পাকিস্তানের মতো অসহজ ইসলামি দৈন্যতায় নিমজ্জিত হবে -- এবং এই অঞ্চলের নানা ধর্মের নানা বিশ্বাসের মানুষের জীবনে অপরিসীম সন্ত্রাসের নৈরাজ্য ডেকে আনবে।

প্রতি জেলার পুলিশ সুপার যেন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জেলে রাখেন, সময়মতো ওই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে হবে। কার কার নামের আগে ডি-ভোটার তকমাটি জুড়ে দিতে হবে সে ব্যাপারে নির্ণয় নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকারও জেলা পুলিশ সুপারের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে ওই রায়ে।[...]

আমরা বাংলাদেশের মানুষেরা আসামের শুধু উলফা সমস্যার কথাই জানি। কিন্তু আসামের আরো একটি বড় সমস্যা হল ‘ডি-ভোটার’ দাগাঙ্কিত করে কাউকে Detention Camp-এ আটকে রেখে মানুষের নাগরিকতার মানবাধিকারকে চরম অবমাননা করা। এই সমস্যার সাথে দেশভাগ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এসব জড়িত। তাছাড়া এই সমস্যা হিন্দু-মুসলমান উভয়েরই সমস্যা এবং এই সমস্যা দূরীকরণে দুই সম্প্রদায়কেই সমান সক্রিয় হতে হবে। তাছাড়া বাংলাভাষী হিসেবে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বাঙালিদেরও এই সমস্যা সমাধানে আন্তরিক সংহতি প্রকাশ করা উচিত। এই বিষয়ে সুপারিশকৃত লিন্কে প্রথম আলোকপাত করেছিলাম ২৭ এপ্রিল ২০১১ তারিখে। ২২ জুন ২০১১ দৈনিক যুগশঙ্খ-এ প্রকাশিত ধ্রুবকুমার সাহার উত্তরসম্পাদকীয়টি আজ এখানে তুলে দিলাম এবিষয়ে আমরা মোটামুটি একটা ধারণা লাভ করতে পারব এই আশায়। ডি-ভোটার নির্দেশের কোনও আইনি বৈধতা নেই ধ্রুবকুমার সাহা অসমে বসবাসকারী অনসমিয়া ভারতীয়দের নাগরিক জীবনের অন্তর্হিত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হল ‘ডি-ভোটার’ পরিচয় নিয়ে সংকটটি। হাইকোর্টের বিচারপতি বিকে গোস্বামী ২১-০৪-২০১১ তারিখে এক রায়দানে ঘোষণা করেছেন যে সন্দিহান ব্যক্তির নামের আগে 'ডি-ভোটার' শব্দটি সংযোজিত হওয়া সেই ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে ফেলতে হবে এবং তাকে ‘ডিটেনশন ক্যাম্পে’ তথা জেলে পুরে দিতে হবে। প্রতি জেলার পুলিশ সুপার যেন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জেলে রাখেন, সময়মতো ওই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে হবে। কার কার নামের আগে ‘ডি-ভোটার’ তকমাটি জুড়ে দিতে হবে সে ব্যাপারে নির্ণয় নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকারও জেলা পুলিশ সুপারের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে ওই রায়ে। রাজ্যের সর্বত্র তাই সুবিজ্ঞ মহলে এক চাপা ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হতে দেখা যায়। অনেক মহলে এই রায়কে সম্পূর্ণ বেআইনি, অমানবিক এবং পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যায়িত করছে। এ ব্যাপারে ভারতীয় সংবিধান, দেশের সর্বোচ্চ আদালত কিংবা উচ্চ ন্যায়ালয়গুলির অবস্থান কী তা খতিয়ে দেখতেই এ লেখার অবতারণা। ভারতবর্ষের The Govt. of India Act’ 1935, The Registration of Foeigners Act এবং এটির নির্দেশনাবলী অনুধাবন করলে দেখা যায়, এর নীতি-নিয়মগুলি অখণ্ড ভারতের জন্য প্রণীত ছিল। ১৯৪৭-এ স্বাধীনতালাভ ও তৎসহ সাময়িক দেশবিভাগের পর ১৯৪৯ সালে গৃহীত ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬ ও ৭ অনুধাবন করলে আমরা দেখতে পাই যে প্রধানত সদ্য তৈরি ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রদ্বয়ের অগণিত উদ্বাস্তুর কথা মাথায় রেখে এই ধারাগুলি সংযোজিত হয়। এতে আছে যে ১৯৪৮ সালের…

ছোটবেলায় পড়েছি এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু আর শূকরের চর্বি মেশানোর ফলে সেপাইদের ভিতরে দারুণ অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে -- সংনমিত বায়ুতে ফুলকি জ্বেলে দিলে যা হয় তাই হয় এর পর। সিপাহী বিপ্লব শুরু হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লালমুখো সাহেবদের নিয়ে দেখানো যাত্রা দেখতাম বিটিভিতে, সম্ভবতঃ 'নীল দর্পণ' দেখাত 'নিবেদন' নামের একটা অনুষ্ঠানে, সেখানে চরিত্রহীন প্রজাশোষকের ভূমিকায় আরিফুল হক হারমোনিয়াম বাজিয়ে চোখ নাচিয়ে গাইতেন -- "আমি ও-পাড়াতে যাব না লো সই!" আমার স্মৃতিশক্তি আমার সাথে হঠকারিতাও করতে পারে। নাটক দেখতাম সিপাহী বিপ্লবের উপরে -- সেপাইরা দিল্লির সম্রাটকে ভারতেশ্বর ধরে নিয়ে শুকনো রুটির উপরে খোদাই করছে তাদের ইস্তাহার -- "হাল্কে খুদা/ মুলকে বাদশাহ/ হুকুমতে সিপাহী…", এর পরে নিজেকে ধুলি-তস্য ধুলি ভেবে অশ্রুপাত করে করে বাহাদুরশাহ জাফরের নির্বাসন, দিল্লির প্রবেশমুখে তাঁর বংশধরদের হত্যা। ভিক্টোরিয়া পার্কের গাছে গাছে ঝুলিয়ে রাখা সেপাইদের মৃতদেহ। লালবাগ কেল্লার পুকুরে সেপাইদের দেহ ফেলে দেয়া। আমাদের দুইভাইবোনের গলা রোষে-নোনাজলে ফুলে উঠতো। পরে আরেকটু পড়বার পরে জানলাম, ভারতবর্ষ -- যা গভীর মমতার আর দারুণ নিষ্ঠুরতার, যা গাঢ় রঙের (শাড়ি-চুড়ি-ঘুড়ি) আর অজস্র শব্দের (ঝিঁঝি-ব্যাঙ-শেয়াল-গোবাঘা-কর্তাল-খোল-পাখোয়াজ-ঢোল-উলু), তার সকলি চড়া সুরে বাঁধা -- তার মানুষের অপত্যস্নেহ -- তার মানুষের রক্তপিপাসা। কোম্পানি আমলে এ অঞ্চলের মানুষ একে একে দেখতে থাকে সহমরণ ও অনুমরণ রদ -- বিধবাবিবাহ আইনসিদ্ধ করা -- ঠগীদের নরবলি বন্ধ করা -- অপুত্রকের পোষ্যসন্তানের অধিকার বাতিল -- এমনকী তার বিস্ফারিত চক্ষুর সামনে চিরপূজ্য ব্রাহ্মণকেও ফাঁসি দেওয়া গেল সর্বসমক্ষে (মহারাজা নন্দকুমার)। এইসব ভারতবর্ষের মানুষকে বিচলিত করেছে -- তাদের যা নিজস্ব -- যা আপনার, তা পরস্য পর এসে বদলে দেবে একের পর এক, এটা সাধারণ লোকের সয় নাই। সিপাহী বিপ্লব সেই অসহিষ্ণুতার চরম প্রকাশ। আর এইমাত্র জানলাম, কোম্পানি আমলে ভারতীয়দের সাথে জন সাহেবদের যথেষ্ট মাখামাখি ছিল। বিয়ে ছিল। প্রণয় ছিল। এমনকী বর্ণশঙ্কর সন্তানজন্ম উপলক্ষ্যে কোম্পানি অর্থ-উপহারও দিত। সাহেবরা হুঁকাবর্দারদের সেজে দেয়া হুঁকা নিয়েছিল, নাচঘরের বিলাস নিয়েছিল, নিয়েছিল বহুগমন ও জেনানা, উল্কি নিয়েছিল, ভাষা নিয়েছিল, রেজিমেন্টের নানান খেলাধুলায় তারা নেটিভ সেপাইদের সাথে যোগ দিত, তাদের নিয়ে তারা দুর্গম জঙ্গলে শিকারে যেত। বৃষ্টির সময় নেটিভ সৈন্যরা তাদের সাহেবের তাঁবুতে ঢুকে দিব্যি ঘুমিয়ে পড়ত। এই মেলাবে-মিলিবে বন্ধ হবার মূলে ছিলেন…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.