একটা খামকে কে সুন্দর করে ? -- ডাকটিকেট, আর ডাকটিকেটকে ? -- ডাকঘরের সিলমোহর। সুন্দর যোগাযোগ চিঠির যোগাযোগ। সুন্দরতম সাইট -- ডাকঘর।
সুন্দরতম সাইট -- ডাকঘর।[...]
সুন্দরতম সাইট -- ডাকঘর।[...]
একটা খামকে কে সুন্দর করে ? -- ডাকটিকেট, আর ডাকটিকেটকে ? -- ডাকঘরের সিলমোহর। সুন্দর যোগাযোগ চিঠির যোগাযোগ। সুন্দরতম সাইট -- ডাকঘর।
আমায় তুমি অলস করেছ[...]
বর্ষায় বিহার শীতে নিদ্রা, কাজ করার কোনো ইচ্ছে নেই আমার, হেমন্তে গান গরমে স্নান, শরৎ নৌকায় বসন্ত ভাষায়।
রবীন্দ্রভবনের সেই সন্ধেয় তাঁর একক ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ কোনও দর্শকের পক্ষেই ভোলা সম্ভব নয়, এ জীবনে। বনদেবী থেকে দস্যু থেকে বাল্মীকি হয়ে সরস্বতীতে এসে থামলেন রবীন্দ্রগানের সরস্বতী। একা সুচিত্রা অনেক হয়ে ছড়িয়ে পড়লেন শ্রোতাদের, দর্শকদের হৃদয়ে।[...]
গত রবিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০১১, আজকাল পত্রিকার রবিবাসরে প্রকাশিত হয়েছে এই লেখা। সুচিত্রা মিত্রের আত্মজীবনী ‘মনে রেখো’-র অনুলেখক ও আজকালের সাংবাদিক অলোকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় তিনটি ভাগে তিনটি প্রসঙ্গে সুচিত্রা মিত্রের জীবনের স্মৃতিচারণ করেছেন। সম্রাজ্ঞী ও এক অর্বাচীন মোটামুটি, দূর-দূর করে, হ্যাঁ, তাড়িয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা মিত্র। আমাকে। যে কিনা সুচিত্রা মিত্রর আত্মকথা লেখার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাঁর দুয়ারে হাজির। সাংবাদিকের পেশায় থাকার সুবাদে যে-কয়টা ‘প্রাইজ অ্যাসাইনমেন্ট’ জীবনে পেয়েছি, তার সেরার তালিকায় সুচিত্রা মিত্রর আত্মকথা ‘মনে রেখো’ অনুলিখন করার কাজ। সম্পাদক মশাইয়ের নির্দেশে সটান হাজির সুচিত্রা মিত্রর দোরগোড়ায়। অশোকদা একটা মুখবন্ধ খামে থাকা চিঠি দিয়েছিলেন হাতে, সুচিত্রা মিত্রকে দেওয়র জন্য। চিঠিটা অমিতাভ চৌধুরির লেখা। দরজা খুলে এবং আমাকে ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে উনি চিঠিটা পড়লেন। আমি কম্পমান হৃদয়ে, তবুও, ওঁর অসম্ভব রূপ এবং ব্যক্তিত্বের বর্ণচ্ছটার দিকে তাকিয়ে। চিঠি পড়া শেষ করে উনি স্পষ্টভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আরও স্পষ্ট উচ্চারণে বললেন, কী ভেবেছেন বলুন তো আপনারা? আমি গান গাইব, না আপনাদের সঙ্গে বকবক করব? বকবক করাটা আমার কাজ নয়। আর ঘটা করে আত্মজীবনী লেখার কোনও বাসনাও আমার নেই। আমাকে রেহাই দিন। আমি তখন সত্যিই কম্পমান। সম্পাদকের প্রাইজ অ্যাসাইনমেন্ট। এমন নিদারুণ ব্যর্থতার কথা বলাও পাপ। দাঁড়িয়েই আছি। আমি দরজায় বাইরে। উনি দরজার ভেতরে। এবার ওঁর কণ্ঠ – আমার কথা আপনি শুনতে পেলেন না? আমি এই প্রথম একটা কথা বলার সুযোগ পেলাম যেন। – আমাকে আপনি বলবেন না। – কেন? অপরিচিত মানুষকে তো আপনিই বলতে হয়। – মানে, আপনি কত বড়। আমি অনেক ছোট। – ছোট-বড়র কথা হচ্ছে না। আপনি আমার কথা শুনতে পেয়েছেন? বুঝতে পেরেছেন? আপনি এবার আসুন। আমার অনেক কাজ আছে। প্রচণ্ডভাবে ভেঙ্গে পড়তে পড়তে বলি, আপনি দরজা বন্ধ করুন, আমি ঠিক চলে যাব। – আমি কারও মুখের ওপর দরজা বন্ধ করি না। আপনি আসুন। তারপর আমি দরজা বন্ধ করব। আমি খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার মতো বলি, পরে একদিন আসব? আপনি বোধহয় আমার কথাটা বুঝতে পারেননি। আত্মজীবনী বলার বা লেখার ইচ্ছে বা অবসর, কোনোটাই আমার নেই। ‘সম্পাদকের কাছে আমার মাথাটা কাটা যাবে’ – বলেই ফেলি ভেতরের কথাটা। – আপনার মাথা বাঁচানোটাও আমার কাজ? – একদিন যদি…
তা বেড়েই চলেছে, কোনো ক্ষান্তি নেই, ওই মহাস্থবিরতার আগ পর্যন্ত বয়সের এই নিয়তি।[...]
তা বেড়েই চলেছে, কোনো ক্ষান্তি নেই, ওই মহাস্থবিরতার আগ পর্যন্ত বয়সের এই নিয়তি। প্রথমে বেড়ে উঠছিল মাবাবার আনন্দে, বয়স আমাদের হাতে আসে পরে, হাতে আসার আগে চলে বয়ঃসন্ধির অস্বস্তি, তারপর হাতে আসে – যৌবনের বয়স বাড়ে আমাদেরই হাতে, যখন ৩৫ হয়ে গেল – তারপর থেকেই বয়স আবার হাতছাড়া হয়, ভাটার টানে বেড়ে চলছে আমার বয়স এখন। এই বয়সের টানে আমার ক্ষয় – খুব সচেতনভাবে সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছি। রূপের শেষ নেই জানি, রূপের ভেতর রেখে দিয়েছি নিজের নায়কোচিত জীবন, সেখানে বিতৃষ্ণা বিবমিষা অমঙ্গলবোধ অবক্ষয় সব নিয়ে বয়সের বাড়বাড়ন্তকে মোকাবেলা করব বলে ভাবছি। চল্লিশের পদচারণা এমনভাবে প্ররোচিত করছে এখনই বয়সকে দূর থেকে দেখতে শুরু করেছি। যে আমার হাতছাড়া তাকে আর ধরতে চাই না, এখন থেকে বয়স চলুক ওর ভাটার টানে, বিস্তীর্ণ বেলাভূমি নগ্ন হয়ে পড়ে থাকুক সবার চোখের সামনে, আর আমি দিগন্তের তন্ময়তার দিকে নিজের অবিকল্প বিস্ময় নিয়ে বেঁচে থাকব। শৌর্য দুঃসাহস নয়। শরীরটা ততটুকুই রাখে যতটুকু বাঁধনে অটুট থাকে। বিকৃতির ভয়ে বয়সের ভারে সব জড়িয়ে যাচ্ছে দেখেও শৌর্যই পারে আমার জন্মের বিলয় রুখে দিতে। আঁতকে ওঠার কোনো সুযোগ নেই, বয়স ভয়ঙ্কর হতে পারে, বয়সের টানে সব হারিয়ে যেতে পারে, কুঁচকে শ্বাসকষ্টে হৃদয় ও মস্তিষ্কের প্রতিবন্ধকতায় সবকিছুতে মরচের ছোপ লেগে যেতে পারে, কিন্তু শৌর্যই, বয়স যতই বেড়ে চলুক, আমার জন্য নির্ভরতার নির্বাণ। যৌবন চলে যায়। আমরাও তাকে সারা জীবন চাই না। বয়স আমাদের চেয়ে প্রাজ্ঞ। মানসিক দৃঢ়তায় বৃদ্ধ জর্জর জীবনের মোকাবেলা করতে বয়সের কাঁধে চেপে চলতে চলতে শেষদিন পর্যন্ত পৌঁছে যেতে হয়, প্রতিটি বছরের শেষে বলতে হয়, পাকা চুল নেই – পাকা চুল নেই।
আমি প্রতিদিন দেখতাম আর ভাবতাম কখন আমি পুতুল হব, কখন আমাকে নিয়ে কেউ খেলবে, কখন ওরা আমাকে নিয়ে সময় কাটাবে, শুধু একটা কথা ওরা কখনো টের পাবে না[...]
ছোটবেলায় সবচেয়ে ভাল লাগত পুতুলখেলা দেখতে, পুতুলকে পেতে পুতুলকে নিয়ে খেলতে আমার ভাল লাগত না, আমি প্রতিদিন দেখতাম আর ভাবতাম কখন আমি পুতুল হব, কখন আমাকে নিয়ে কেউ খেলবে, কখন ওরা আমাকে নিয়ে সময় কাটাবে, শুধু একটা কথা ওরা কখনো টের পাবে না, আমি আর সব পুতুলের মতো কখনো হব না – আমি হব জ্ঞানী পুতুল। তেমন করে আমি আছি, চলছি এবং রয়ে গেছি – অনেকে বলে, আবার অনেকে ঠিক বলে না – অনেকে বোঝে, আবার অনেকে ঠিক বোঝে না – অনেকে দেখে, আবার অনেকে ঠিক দেখে না – পুতুল জ্ঞানী হলে কী হতে পারে, অন্যেরা ভাবতেও পারে না – অথচ কতদিন ধরে আমি এদেশের কত বড় সম্পদ, জ্ঞানী পুতুলের কত বড় এক দৃষ্টান্ত। কারো সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, কারো সাথে আমার কোনো আত্মীয়তা নেই, আমি চলি হাতবদলের প্রাপ্তি ও ঝুঁকির গণিতে দিনবদলের হাতের পুতুল হতে। তবে একটা কথা বলি, ম্যাডামকে আমার খুবই পছন্দ – এত ভাল পুতুল খেলতে আমি আর কাউকে দেখিনি – তার সাথে আমার একটাই সমস্যা,
শুধু ভয় হয়, সারাক্ষণ এই সংশয়ে থাকি, তিনি কি আমার চেয়েও উঁচুমানের পুতুল। এই জায়গায়টায় আমি খুব অসহায় : এক পুতুল কি আরেক পুতুল নিয়ে পুতুল খেলতে পারে? এর উত্তর আমার জানা নেই, কিন্তু এই ভয়ের রাজ্যে আমার বসবাস সেদিন থেকে যেদিন থেকে আমি ম্যাডামের পুতুল হতে পেরেছি। তাকে আমার পছন্দ তাকেই আমার ভয়। কিন্তু আমি হয়ত কিছু একটা গুছিয়ে নিয়েছি – আমরা পুতুলেরা তো নিজেরা জানি না কী ঘটতে চলেছে আমাদের কপালে, সে আমরা যতই প্রতিভাবান পুতুল হই না কেন – কিন্তু কয়েকদিন থেকে মনে হচ্ছে আমি হয়ত কিছু একটা গুছিয়ে নিয়েছি – আমি হয়ত আরো উন্নত পুতুল হয়ে উঠছি ম্যাডামের থেকে, ম্যাডামকে ছাড়িয়ে, ওই… না, বলব না।