যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত চৌধুরী মুঈন উদ্দীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আশরাফুজ্জামানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন করার পদ্ধতি, সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, জার্মানী, কানাডা, অষ্ট্রিয়াসহ বিশ্বের মোট দশটি দেশ থেকে আলোচক এবং মন্তব্যকারীরা অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আলোচনায় অংশ নেন। [...]

২২ জুন ২০১৩ প্রেস বিজ্ঞপ্তি =========== ২২ জুন ২০১৩ বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) এর আয়োজনে একটি ভিডিও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। “এক্সট্রাটেরিটোরিয়াল জুরিসডিকশন অফ দ্য আইসিটি: ব্রিঙ্গিং অ্যালেজড ওয়ার ক্রিমিনালস ব্যাক হোম” শিরোনামের এই সেমিনারে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ওয়ার ক্রাইমস ফাইলস প্রামাণ্যচিত্রের প্রযোজক এবং সেন্টার ফর সেক্যুলার স্পেস এর গীতা সেহগাল, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম, প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বাউল, এবং এডভোকেট সাইফুল ইসলাম তারেক, সন্ত্রাস এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক জনাব জামাল হাসান। আইসিএসএফ এর পক্ষ থেকে সদস্য ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এক্সট্রাডিশন (extradition) বিষয়ে তার গবেষণা পেশ করেন । মূলতঃ যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত চৌধুরী মুঈন উদ্দীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আশরাফুজ্জামানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন করার পদ্ধতি, সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, জার্মানী, কানাডা, অষ্ট্রিয়াসহ বিশ্বের মোট দশটি দেশ থেকে আলোচক এবং মন্তব্যকারীরা অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আলোচনায় অংশ নেন। সেমিনারটি পাশাপাশি অনলাইনেও সরাসরি সম্প্রচারিত হয় যাতে টুইটারসহ সামাজিক বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন এবং মতামত প্রদান করেন। প্রাণবন্ত এই আলোচনায় সম্ভাব্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও প্রক্রিয়া সমূহ কী হতে পারে, সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের গণহত্যা, মৃত্যুদণ্ড, আইন এবং মানবাধিকার প্রশ্নে অবস্থান ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত সেমিনারগুলোর মধ্যে এটি আইসিএসএফ এর চতুর্থ আয়োজন। আইসিএসএফ মূল পোর্টাল: http://icsforum.org মিডিয়া আর্কাইভ: http://icsforum.org/mediarchive ই-লাইব্রেরি: http://icsforum.org/library ফেসবুক: http://facebook.com/icsforum টুইটার: http://twitter.com/icsforum ইউটিউব: http://youtube.com/icsforum যোগাযোগ: info@icsforum.org

২০১৪এর জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পাকিস্তানকে প্রতিহত করুন, একমাত্র এই পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে। আর কোনো পথের দিশা এই মুহূর্তে খুঁজে বাংলাদেশের কোনো লাভ নেই। [...]

বাংলাদেশি জাতীয়াবাদের ঝাণ্ডা নিয়ে পাকিস্তান কায়েমের লক্ষ্যে বাংলাদেশের একটা বৃহৎ রাজনৈতিক অংশের পদচারণা বাংলাদেশে অক্লান্ত অকপটভাবে চলছে। এই প্রচেষ্টার ৪০ বছর পূর্ণ হবে আগামী ২০১৫ সালের ১৫ই আগস্টে। ২০১৪ সালে এই বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পাকিস্তানকেই কি আবার ক্ষমতায় দেখতে হবে আমাদের? আমরা কি সেভাবেই সবকিছু হতে দেব যেন ২০১৫ সালে তারা তাদের ৪০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান করতে পারে পুরো বাংলাদেশ দাপিয়ে? জাতীয় নির্বাচনের আর ঠিকমতো ছয় মাসও নেই -- আমাদের তো এখনই নির্বাচনের ভাষায় নির্বাচনের প্রচারণাধর্মী কথাবার্তা বলা শুরু করে দেয়া উচিত। এই কাজে আওয়ামী লীগ তো পিছিয়ে পড়েই আছে তাদের অন্তর্কোন্দল আর সাংগঠনিক শৈথিল্যের জগদ্দল পাথর বুকে নিয়ে। কিন্তু আমরা তো বসে থাকতে পারি না। অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের, সাংস্কৃতিক অ্যাকটিভিস্টদের, গণজাগরণমঞ্চের অ্যাকটিভিস্টদের এবং সারা দেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক উদার প্রগতির পথের অ্যাকটিভিস্টদের তো আর এক মুহূর্ত সময়ও নেই বসে থাকার। এবং আওয়ামী লীগকেও এই লক্ষ্যেই পথে নামতে হবে যে তারা বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পাকিস্তান প্রতিহত করবেই। এবং তার নিজের অস্তিত্বের জন্যই তাকে সেটা করতেই হবে। তাকে মনে রাখতে হবে তার সব অপূর্ণতা অসভ্যতা অরাজকতার পরও বাংলাদেশকে বাংলাদেশ রাখার কাজে, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উদার প্রগতির পথ রচনার কাজটা এখনো সামনে থেকে তাকেই করতে হচ্ছে এবং আরো কয়েক দশক করতে হবে। শুধু যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকানো নয় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পাকিস্তান বাংলাদেশের সমাজব্যাবস্থারই আমূল পরিবর্তন অব্যাহত রাখবে যেমন ১৯৭৫এর পর থেকে তারা অনবরত তাই করেছে যা যা করে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পাকিস্তান কায়েম করা যাবে। ২০১৪এর জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পাকিস্তানকে প্রতিহত করুন, একমাত্র এই পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে। আর কোনো পথের দিশা এই মুহূর্তে খুঁজে বাংলাদেশের কোনো লাভ নেই।

পনেরো বছর আগের একটা লেখা খুঁজে পেলাম। লেখাটি এক পশলা পড়েই মনে হল কবিতার ম্যানিফেস্টো। [..]

পনেরো বছর আগের একটা লেখা খুঁজে পেলাম। লেখাটি এক পশলা পড়েই মনে হল কবিতার ম্যানিফেস্টো। পনেরো বছর আগের লেখা মানে পনেরো বছর কম বয়সের লেখা, তরুণতর লেখা, কিন্তু সেরকম মনে হল না – ম্যানিফেস্টো বলেই কি এরকম মনে হচ্ছে? নাকি এরকম মনে হওয়াতে একে ম্যানিফেস্টো মনে হচ্ছে? – বেশ দ্রষ্টা দ্রষ্টা গোছের লেখা – সাতাশ বছরের দ্রষ্টাকে ভাল লেগেছে। তার সৃষ্টিকে দেখা যায় না – কোনো ইন্দ্রিয়ের প্রত্যক্ষ উপভোগের সুযোগ নেই সেখানে। এমনি একটি শিল্পকর্মের সাথে সংযোগের উপাদানটি আবার স্থান ও কালে নির্দিষ্ট মানুষের বহুব্যবহৃত বহুজ্ঞাত কথা বলার ভাষা। মানষের জীবনে এত সহজ কোনো প্রাপ্তি নেই, সেই প্রাথমিক প্রাপ্তিকে মানুষের তীব্র না-জানা ও না-শোনায় পরিণত করাতেই কবিতার সৃষ্টি। কবিকে এমন ভাবে দেখা হল নিজের স্মৃতিই খুব টলমল করে উঠল। কবিকে মহৎ বা নগণ্য সামাজিক ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বা নির্যাতিত করে আমাদের কবিতার পরিসর সমৃদ্ধ বা অন্ধ হয়ে যায় না কিন্তু যদি কবিতার শক্তি সুষমা ও শিল্পকে আমরা আমাদের প্রাণের প্রয়োজনীয় প্রকাশ মনে করি, যদি কবিতাকে পোষাক পরার মতই একটি স্বাভাবিক ব্যাপার ধরে নিই এবং স্বাভাবিক ব্যাপারটির উৎকর্ষ শিল্প ও অভাবনীয়তার প্রতি আমাদের আকর্ষণ জন্ম নেয়, তবেই আমরা কবিতার সাথে আমাদের সম্পর্ক ও সংহতিকে আরো নির্ভার ও আরো যোগাযোগসমৃদ্ধ করতে পারব। অমরতা সমকালীনতা ও স্বল্পকালীনতাকে নাকচ করে দিয়েছে ম্যানিফেস্টো ১৯৯৮। কবিতায় অমর যেমন কিছু নেই তেমনি সমকালীন বা স্বল্পকালীন কবিতা বলেও কিছু নেই। কবিতার মুহূর্ত সৃষ্টি করতে পারে এমন কবিতাই কবিতা অথবা একটি কবিতার এমন অংশটুকুই কবিতা। এর বাইরে সুবিপুল পংক্তির সাম্রাজ্য শুধু বেঁচে থাকার বা ইতিহাস বা প্রত্নতত্ত্বের বিষয় হওয়ার যোগ্য সংগ্রহশালা। কবিতাকে নিজের অস্তিত্বের নিঃস্বনে পরিণত করতে, কবিতার অস্তিত্বের নিঃস্বনে নিজেকে রূপান্তর করতে এই যে নিরন্তর দ্বন্দ্ব এর ভেতর থেকেই সৃষ্টিশীলতার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় কবিতার তীব্র, চিরকালীন ও অক্ষয় সব মুহূর্ত। আমার নিজের সাথেই কবিতা আজ অনেক দূর পাড়ি দিয়েছে আরো অনেক দূর পাড়ি দেয়া তার পড়ে আছে। পনেরো বছর আগের এলেখাটি খুঁজে পেয়ে সেপাড়ি দেয়ার আকাঙ্ক্ষা আরো বেড়ে গেছে আরো বিনিদ্র নিষ্ঠায় সৌন্দর্যসৃষ্টির পরিশ্রমে অক্লান্ত অবয়বটাকে দৃঢ় হাতে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। পাঠককে কী অভিনিবেশেই না দেখা…

কিন্তু সমস্ত সমস্যা দেখতাম ওই সোজা পথ ও আত্মসমর্পণ নিয়ে – দেখতাম মানে আজো দেখছি এবং এই সমস্যা পিছু ছাড়ছে না – এই দিকনির্দেশনার মধ্যেই আছে রাজনৈতিক ইসলাম অথবা ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার। [...]

সোজা পথ। আত্নসমর্পণ। মানুষের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে ইসলামের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনার পাশাপাশি আছে সাক্ষ্য, প্রার্থনা, দান, সংযম, বিসর্জন ও তীর্থ সম্মেলন। ছোটোবেলা থেকেই দেখছি – সাক্ষ্য, প্রার্থনা, দান, সংযম, বিসর্জন ও তীর্থ সম্মেলন নিয়ে তেমন সমস্যার কোনো কিছু নেই। এসব পালনীয় ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট করণকৌশল ও আচরণবিধি আছে এবং হুজুরদের সাথে সাধারণ মুসলমানের এসব নিয়ে তেমন কোনো তুলকালাম ব্যাপারস্যাপার নেই বললেই চলে – বরং এগুলোই সমাজে হুজুর ও সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় সম্পর্কের মূলভিত্তি। কিন্তু সমস্ত সমস্যা দেখতাম ওই সোজা পথ ও আত্মসমর্পণ নিয়ে – দেখতাম মানে আজো দেখছি এবং এই সমস্যা পিছু ছাড়ছে না – এই দিকনির্দেশনার মধ্যেই আছে রাজনৈতিক ইসলাম অথবা ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার। কোনটা সোজা পথ? কিভাবে চলতে হয় এই সোজা পথ ধরে? কার জন্য কোনটা সোজা পথ? আত্মসমর্পণ কার কাছে? কার আত্মসমর্পণ? কতভাবে আত্মসমর্পণ? কত মাত্রার আত্মসমর্পণ? রাজনৈতিক ইসলাম চায় নিজের রাজনৈতিক জয় এবং তার জয়লাভের মাধ্যমই হবে এটি প্রচার করা যে একটি ইসলামি রাষ্ট্র পেলেই সোজা পথ হাসিল হবে এবং একটি ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম হলে সেই রাষ্ট্রের কাছে সবার আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সবার জীবনের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে। অর্থাৎ একটা সর্বব্যাপী অনুশাসন কায়েম হবে – সেই অনুশাসনের রক্ষণাবেক্ষণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম রাজনৈতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু সাধারণ মুসলমানরা কি রাজনৈতিক ইসলামের এই সোজা পথ ও আত্মসমর্পণের সূত্র মানে? রাজনৈতিক ইসলাম বাংলাদেশে এখনো শতকরা ৪ – ৭ ভাগের বেশি ভোট পায় না। কাজেই আমরা তো সহজেই বলতে পারি বাংলাদেশের মুসলামনেরা সাক্ষ্য, প্রার্থনা, দান, সংযম, বিসর্জন ও তীর্থ সম্মেলনে পরিবেষ্টিত (যদিও সেখানে উল্লেখযোগ্য হারে অনাচরণীয় মুসলমান বিদ্যমান) এবং তারা সোজা পথ ও আত্মসমর্পণের রাজনৈতিক ইসলামের সূত্র মানে না। কিন্তু না, ২৬শে মে ২০১৩ আইসিএসএফ আয়োজিত ‘ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইসলাম’ শীর্ষক সেমিনারের প্রথম পর্বের আলোচক হাসান মাহমুদের একটা বাস্তব আর্তি আমরা যারা কোটি কোটি লোক ধর্মে বিশ্বাস করি। আমরা মানুষ হিসাবে দুর্বল। ষড়রিপুর তাড়নায় আমরা তাড়িত, আমরা ভুল করতে পারি শুনে আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমার মনে হল এই কোটি কোটি মানুষ সোজা পথ ও আত্মসমর্পণ নিয়ে তাহলে এভাবেই বিজড়িত। তাহলে এই কোটি কোটি মানুষের শতকরা ৬৫ ভাগ মনে করে…

অতি সাধারণ মা আমাদের এই অসাধারণ জীবনে। মা গল্পের নায়িকা হতে পারেন এমন নন। তাঁকে নিয়ে গান কবিতা কিছুই হয়তো হতে পারে না। হুট করে টক অফ দ্য টাউন হয়ে উঠতে পারেন এমন ক্ষমতা তাঁর নেই। তবু যখন ‘মধুর আমার মায়ের হাসি’ গানটা গুনগুন করি তখন সমস্ত মুখ ছাপিয়ে আমার মায়ের মুখটি ভেসে ওঠে, মনে হয় এ গান আমার মাকে নিয়ে লেখা। [...]

অতি সাধারণ মা আমাদের এই অসাধারণ জীবনে। মা গল্পের নায়িকা হতে পারেন এমন নন। তাঁকে নিয়ে গান কবিতা কিছুই হয়তো হতে পারে না। হুট করে টক অফ দ্য টাউন হয়ে উঠতে পারেন এমন ক্ষমতা তাঁর নেই। তবু যখন ‘মধুর আমার মায়ের হাসি’ গানটা গুনগুন করি তখন সমস্ত মুখ ছাপিয়ে আমার মায়ের মুখটি ভেসে ওঠে, মনে হয় এ গান আমার মাকে নিয়ে লেখা। যখন এই দূর প্রবাসে সন্ধ্যা নামার সময় হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরি আর মনে মনে আউড়ে যাই ‘মাকে আমার পড়ে না মনে’ অথবা ‘মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে/ মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে’, তখন মনে হয় এই যে এই তো আমার মাকে নিয়ে লেখা। মায়ের অনুভব হয়তো সবার জীবনেই এমন সর্বগ্রাসী। তবু দেশ থেকে অনেক দূরে সন্ধ্যা নামার আগে মায়ের কথা মনে হতেই ভাবলাম আমি তো লিখতে পারি মাকে নিয়ে। সে-লেখা সাহিত্য হবে না হয়তো; কী এসে যায়! মোটামুটি একটা উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে আমাদের একেবারে মধ্যবিত্ত জীবনের ভেতর হুট করে ঢুকে, বিশাল জাহাজের মতো যৌথ পরিবারের অর্ধেক কাণ্ডারী হয়ে ওঠা মানুষটি আমাদের মা। আর আমাদের এখনকার ছোট্ট সংসারের একমাত্র বাতিঘর। সমস্ত দিনমান আমাদের পথ দেখাতে দেখাতে কখন যে মা মধ্যবয়স পার করেছেন আমাদের চোখের সামনে দিয়ে আমাদেরই অসর্তকতায়! আজ যখন মাকে নিয়ে লিখছি তখন আমার এই জীবন জুড়ে মা’র নানা মুহূর্তের ছবি। ঠিক কোথা থেকে শুরু করব বুঝে উঠতে পারছি না। একদম ছেলেবেলায় আমাদের কেবল বুলি ফুটতে শুরু করেছে, বাবা তখনও ঢাকায়। মাকে যেসব চিঠি লিখতেন তার সাথে তাঁর সদ্য-পড়া কোনো ছড়াও লিখে পাঠাতেন। মায়ের ছুটি মানে আমাদের ছড়া শেখানোর, শোনানোর সময়। বৃষ্টির দিনে কাগজের নৌকো বানিয়ে সেগুলো ভাসাতে ভাসাতে মা শোনাতেন, ‘কাগজ দিয়ে বানিয়ে ছোট্ট নাও/ নালার জলে ভাসিয়ে বলি — যাও’।এসব চমৎকার ছড়া মা আমাদের জন্যে মুখস্থ করতেন। একটা আপেল ৯ ভাগ করে খেতে দিয়ে বোধহয় পরিবারের ভেতর সাম্যের চর্চা করতেন আমাদের কঠিন মন খারাপ করিয়ে দিয়ে। এই আমাদের ছেলেবেলার মা। বড় হতে হতে বুঝেছি, রবীন্দ্রনাথ মা’র ছোট্ট পলেস্তরা-খসা আধো অন্ধকার ঘরটির জানালা গলিয়ে পড়া একটুকরো আলো। সেই আলো মা নিষ্ঠার সাথে পুরে দিয়েছেন তাঁর সন্তানদের ভেতর।…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.