পাঠক সুপারিশকৃত এ সপ্তাহের কিছু লিংক বাংলা ব্লগ নিয়ে প্রথম আলো ব্লগে একটি ধারাবাহিক সিরিজ লিখছেন মাহবুব মোর্শেদ। সিরিজের এই পোস্টটি মুক্তাঙ্গন নিয়ে: এখানে দেখুন। পোস্টটিতে লেখক তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুক্তাঙ্গনের কিছু মূল্যায়ন করেছেন। এই চর্চাটি নিঃসন্দেহে গঠনমূলক। অন্যের চোখ দিয়ে দেখলে নিজেদের অনেক সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করা সহজ হয়। সেজন্য লেখককে ধন্যবাদ তাঁর মতামতের জন্য। এই লেখকের সিরিজের অন্য লেখাগুলোও পড়বার জন্য আমাদের পাঠকদের প্রতি বিনীত আহ্বান থাকলো। এতে করে আমাদের ক্ষুদ্র গণ্ডির বাইরে অন্যরাও ব্লগ নিয়ে যে-সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন সে বিষয়ে আমাদের সামষ্টিক সচেতনতা বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস। কিউবার বিপ্লবের সুবর্ণজয়ন্তীতে Antoni Kapcia-র মূল্যায়ন। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ এর পরিবর্তে লিনাক্স ব্যবহার নিয়ে চমৎকার একটি আলোচনা চলছে এখানে। বিনামূল্যের, ওপেন সোর্স, নিরাপদ ও সহজ এই অপারেটিং সিস্টেম অনেকেরই জীবন বদলে দিয়েছে। এটি শুধু অপারেটিং সিস্টেমই না, একটি ভিন্ন ধরণের জীবন পদ্ধতি (যার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ কম্পিউটার) ও বিশ্ব দর্শনের প্রতিফলন। এই বিষয়ে আরো ব্যাপক আলোচনা ও সচেতনতা সৃষ্টি জরুরী। এমনকি বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে লিনাক্সের সপক্ষে সংঘবদ্ধ ক্যাম্পেইন চালানোর সময় এসেছে। এক নজরে: ১) লিনাক্স বিনামূল্যে পাওয়া যায়; উইন্ডোজ কিনতে হয় পয়সা দিয়ে; ২) পয়সা দিয়ে বৈধ উইন্ডোজ এর কপি না কিনলে সেটি ঠিকভাবে সিকিউরিটি আপডেট করা যায়না, ফলে নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি থেকে যায় তাতে; ৩) যেখানে বিনামূল্যে একই কিংবা উন্নত মানের লিনাক্স সংগ্রহ করা যায়, সেখানে লুকিয়ে চুরিয়ে উইন্ডোজের পাইরেটেড কপি ব্যবহারের তো কোন মানে নেই; ৪) তৃতীয় বিশ্বের দেশে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যের লিনাক্স ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক অর্থের সাশ্রয় করতে পারেন; ৫) অনেকে বলেন লিনাক্স ব্যবহার-বান্ধব নয়। কথাটা এখন আর সত্য নয়। এটিও উইন্ডোজের মতোই ব্যবহার করা সহজ। এর ইনটুইটিভ ইন্টারফেসের সাথে পরিচিত হতে যে কোন কম্পিউটার ব্যবহারকারীরই (যিনি উইন্ডোজের সাথে পরিচিত) আধা ঘন্টার বেশী লাগার কথা নয়। এটি ইন্সটল করাও অনেক বেশী সহজ; ৬) অনেকে বলেন উইন্ডোজে প্রচলিত প্রোগ্রামগুলোর (যেমন: এম এস ওয়ার্ড) লিনাক্স বিকল্প নেই। কথাটা ঠিক নয়। প্রায় সব উইন্ডোজ নির্ভর এপ্লিকেশনেরই লিনাক্স বিকল্প রয়েছে বর্তমানে; ৭) লিনাক্স উইন্ডোজের থেকে নিরাপত্তার দিক থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী। ভাইরাস প্রণেতারা তাদের ভাইরাস সাধারণত উইন্ডোজের জন্য…
আমাদের জীবন থেকে আরেকটি বছরের সূর্য বিদায় নিল। ২০০৮ সাল। বছরটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত বছর। এই বছরটিকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি প্রতীক্ষার বছর বললে ভুল হবে না। সে প্রতীক্ষা ছিল, সব দু:শাসন, সব অশান্তি অবসানের। এই প্রতীক্ষা ছিল, একটি নতুন সূর্যের উষ্ণ উন্মেষের। শান্তিময় বিশ্ব নির্মাণের একটি দিগবলয় রচনার জন্যও ছিল সে অপেক্ষা। বছরটিতে বেশ শঙ্কাময় ছিল গোটা বিশ্বের মানুষ। ছিল চরম অর্থনৈতিক মন্দাবস্খা। জঙ্গিবাদী দানবতন্ত্রের হুমকি। সম্পূর্ণ বিনা কারণে বছরে শেষ মাসটিতে আক্রান্ত হয় ভারতের বাণিজ্য নগরী মুম্বাই। প্রায় কয়েকশ’ নাগরিক হতাহত হন। জঙ্গিরা কেন এই অহেতুক আক্রমণটি করল? বিশ্ববাসীকে তাদের অস্তিত্ব জানানোর জন্য? জঙ্গিতন্ত্র কি বিশ্বে কোনভাবে শান্তি এনে দিতে পারবে? তা যে পারবে না এমনটা সন্ত্রাসীরাও জানে। তারপরও তারা চোরাগোপ্তা আক্রমণ করে গোটা বিশ্বকে দু:শ্চিন্তার মুখোমুখি রাখছে প্রতিদিন। এ বছরটিতেই পরিবর্তন এসেছে বিশ্বের রাজনৈতিক নেতৃত্বে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বারাক হোসেন ওবামা। তার পিতা একজন কৃষ্ণাঙ্গ মুসলমান বারাক হোসেন ওবামা সিনিয়র, ভাগ্যান্বেষণের জন্য এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হলেও তার পিতা ছিলেন মুসলিম। এটা জেনেশুনেই তাকে ভোট দিয়েছে কোটি কোটি মার্কিনি। আর এভাবেই হোয়াইট হাউজের দায়িত্ব পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। জয় হয়েছে মানবতার। পরাজিত হয়েছে বর্ণবৈষম্য। যুক্তরাষ্ট্রবাসী কেন এই পরিবর্তন চেয়েছে? তারা পরিবর্তন চেয়েছে শান্তির সপক্ষে। তারা রক্তপাতের অবসান চেয়েছে। চেয়েছে একটি শান্তির আবাস। দেখা গেছে তরুণ প্রজন্ম নিজ সাশ্রয়ের ডলার বিনা দ্বিধায় তুলে দিয়েছে বারাক ওবামার নির্বাচনী তহবিলে। তারপর ভোটের ক্যাম্পেইনে তারা রেখেছে বিশেষ ভমিকা। গোত্র-বর্ণ ভুলে গিয়ে নারী-পুরুষরা সমকণ্ঠে বলেছে ‘উই নিড এ চেঞ্জ’। আর ওবামাও দু’হাত উঁচিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা ভোট দাও। আমি তোমাদের নতুন আমেরিকা উপহার দেব।’ মানুষ কখন পরিবর্তন চায় এবং কেন চায়? যখন বাস্তবতার কঠিন দংশন মানুষকে নির্মমভাবে আক্রান্ত করে তোলে তখন নতুন জীবন, নতুন পথের সান মানুষকে করতেই হয়। বিশ্বে সন্ত্রাস দমনের নামে প্রেসিডেন্ট বুশ যে ত্রাসের পেশিশক্তি কায়েম করেছিলেন তার আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না, কিংবা বিকল্প কোন উপায়ে এই সন্ত্রাস রোধ করা যেত কি না সে প্রশ্নটি এখন পর্যন্ত থেকেই যাচ্ছে। অসম্পূর্ণ এবং অমীমাংসিত থেকে যাচ্ছে এর উত্তরও। ইরাক-আফগান যুদ্ধে প্রতিদিন যে মিলিয়ন…
'অনন্যা' থেকে এ বছরের [২০০৮] ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত শিল্পের নন্দনতত্ত্ব নানা কারণেই একটি উল্লেখযোগ্য বই। নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে বাংলা ভাষায় খুব বেশি বই নেই; আর বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত এ-বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা তো অঙ্গুলিমেয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, শিল্পের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে কোনো লিখিত আলোচনা এখনো পর্যন্ত বেরোয়নি, কিংবা বেরিয়ে থাকলেও আমাদের চোখে পড়েনি।এই বইয়ের লেখক জুলফিকার নিউটনের অন্য কোনো বই আমি আগে পড়িনি। [...]
'অনন্যা' থেকে এ বছরের [২০০৮] ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত শিল্পের নন্দনতত্ত্ব নানা কারণেই একটি উল্লেখযোগ্য বই। নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে বাংলা ভাষায় খুব বেশি বই নেই; আর বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত এ-বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা তো অঙ্গুলিমেয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, শিল্পের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে কোনো লিখিত আলোচনা এখনো পর্যন্ত বেরোয়নি, কিংবা বেরিয়ে থাকলেও আমাদের চোখে পড়েনি। এই বইয়ের লেখক জুলফিকার নিউটনের অন্য কোনো বই আমি আগে পড়িনি। যদিও তাঁর নামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই আমরা পরিচিত। ঢাকা ও চট্টগ্রামের দু-একটি দৈনিকের সাময়িকীতে তাঁর লেখা গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হতে দেখা যায়। শিল্পের নন্দনতত্ত্ব বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে জানা গেল: বাংলা ভাষায় মুষ্টিমেয় যে কজন প্রত্যয়ী লেখক ও গবেষক আছেন, তাদের মধ্যে জুলফিকার নিউটন অন্যতম। তাঁর লেখার সঙ্গে যারা পরিচিত তারা জানেন আমাদের জীবনযাত্রার, সমাজ ব্যবস্থার, ধ্যান ধারণার, ভাষা এবং সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধন জুলফিকার নিউটনের সাহিত্য চর্চার মূল উদ্দেশ্য। এই বইয়ে সংকলিত ‘লেখকের শিল্প সম্পর্কিত এক ডজন প্রবন্ধ’ প্রসঙ্গে ফ্ল্যাপে বলা হয়েছে : তাঁর নিজস্ব চিন্তা, যুক্তি ও সাহিত্য পাঠের অভিজ্ঞতা, রুচি, বিবেক ও বুদ্ধি নির্ভর এই রচনাগুলির অন্তর্লীন গভীরতা যেমন পাঠককে নিয়ত প্রাণিত করে, তেমনই বিস্ময়ের উদ্রেক করে এই বিষয় বৈচিত্র্য। ‘শিল্পের নন্দনতত্ত্ব’ গ্রন্থে নিজস্ব চিন্তা ও মত প্রকাশে জুলফিকার নিউটন কোথাও আপস করেননি। কিন্তু শিল্পের নন্দনতত্ত্ব পড়তে গিয়ে প্রবন্ধগুলোর অন্তর্লীন গভীরতা, বিষয়বৈচিত্র্য কিংবা এসব লেখায় লেখকের নিজস্ব চিন্তা ও মতের দ্বিধাহীন প্রকাশের কারণে নয়, আমার বিস্ময় উদ্রিক্ত হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কারণে। জুলফিকার নিউটনের এই প্রবন্ধগুলো কি ইতিপূর্বে কোনো পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল? অন্তত আমি তো এর আগে সেগুলো পড়িনি। তাহলে কেনই-বা বইয়ের পাতা ওলটাতে গিয়ে জেগে উঠতে শুরু করেছে আমার পূর্বপাঠের স্মৃতি? নিউটনের বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা প্রায় শ-তিনেক। ৫৫ থেকে ২৭১ পৃষ্ঠা জুড়ে যে-আটটি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে সেগুলি দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের রূপ, রস ও সুন্দর : নন্দনতত্ত্বের ভূমিকা বইটির আটটি অধ্যায়ের অনুক্রমে বিন্যস্ত। প্রথমে নিউটনের বই ও বন্ধনীতে দেবীপ্রসাদের বইয়ের প্রবন্ধ/অধ্যায়গুলির শিরোনামের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। শিল্পীসত্তা ও শিল্পবস্তু (শিল্পীসত্তা, শিল্পবস্তু ও সমাজ), শিল্পের স্বাতন্ত্র্য (শিল্প কি অনুকৃতি, না কি বিকৃতি?), শিল্পের রসবিচার (রস), শিল্পের রূপজিজ্ঞাসা (রূপ), শিল্প প্রকাশ ও শিল্পকর্ম (প্রকাশ অপ্রকাশ ও শিল্পকর্ম), সুন্দর ও অসুন্দর (সুন্দর ও…
গত দু'বছর অনেক সংশয় এবং অনিশ্চয়তায় কাটানোর পর দেশ আবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরেছে এখন। ব্যাপক অংশগ্রহণসমৃদ্ধ একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, শপথ নিয়ে নতুন কেবিনেট গঠন করেছে নির্বাচিত দল, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে এনেছে। সংসদে ৮৫% আসনধারী এই সরকারের কাছ থেকে জনগণের অনেক প্রত্যাশা। অনেকগুলো পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ নব-নির্বাচিত সরকারের সামনে, যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য : আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক মুক্তি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, যুব সমাজের কর্ম সংস্থান ইত্যাদি। এসব চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করা যে-কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের বা জোটের পক্ষেই খুব কঠিন। সেই কঠিন কাজটি অসম্ভব হয়ে পড়বে যদি বর্তমান সরকার জবাবদিহিতা প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজিয়ে একে কার্যকর করতে না পারে। সরকারের সব সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ যে ঠিক হবে এমন কোনো কথা নেই। তবে জনগণ সরকারের সিদ্ধান্তগুলোকে অন্তত বোঝার চেষ্টা করবে যদি সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণকেও অন্তর্ভুক্ত করার আন্তরিকতা থাকে। একদিকে জনগণ যেমন জানতে চায় ক্ষমতায় বসে থাকা নেতৃবৃন্দ কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তেমনি কী প্রক্রিয়ায় ও কেন সেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে তাও জনগণ জানতে চায়, বুঝতে চায়। এবং এটি জানা জনগণের অধিকারের মধ্যেই পড়ে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের মানুষ আজ যৌক্তিক কারণেই অনেক সন্দিহান। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মূল্যায়নে এ দেশের মানুষ অবুঝ নয়, আবদারিও নয়; তবে ১৫ কোটি মানুষের সামষ্টিক বুদ্ধিবৃত্তিকে হেয় করে কেউ তাদের চোখে ঠুলি পরিয়ে রাখার চেষ্টা করবে তাও তারা বরদাস্ত করবে না। তাই, জনগণ ও সরকারের মধ্যে বিশ্বাস এবং নির্ভরশীলতার পরস্পরমুখী সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে বিদ্যমান জবাবদিহিতার সংস্কৃতিতে মৌলিক কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। চাই সুষ্ঠু জবাবদিহিতা ও জবাবদিহিতার সরকার। সরকারি নির্বাহী দফতর, তার ওপরে কেবিনেট, তারও ওপরে সংসদ -- সাধারণভাবে এই হল আমাদের দেশের শাসন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার সিঁড়ি। সরকারি নির্বাহী দফতর, তার ওপরে কেবিনেট, তারও ওপরে সংসদ -- সাধারণভাবে এই হল আমাদের দেশের শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতার সিঁড়ি। তিন পর্বের এই পোস্টটিতে এই ধাপগুলোরই আনুষঙ্গিক কিছু বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুরু করা যাক কেবিনেট দিয়ে। কেবিনেট গতকাল নবনিযুক্ত কেবিনেট ঘোষিত হয়েছে; এ পর্যন্ত তা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করেছেন। নতুন কেবিনেটে…
এর আগে মাত্র একবারই ঘটেছিল ইতিহাসের এমন ভূমিধ্বস বিজয়। সেই সত্তরে। ২শ ৯৯টা আসন পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। এবার পেয়েছে একক ভাবে ২শ৩০, আর জোটগত ভাবে ২শ৬২। এরকম বিজয়ের পর কোন রকম প্রশ্ন ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের মত গুরুতর কাজও করা যায়। কোন রকম বাদ-প্রতিবাদ ছাড়াই নতুন নতুন আইন পাশ করা যায়। আমাদের দেশের ট্রাডিশন অনুয়ায়ী যা কিছু নিজেদের জন্য দরকার তার সবই আইন তৈরি করে নেওয়া যায়। আমরা এখন পর্যন্ত যতটুকু জানতে পারছি,তা হলো আওয়ামী লীগ বা মহাজোট এবার সম্ভবত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে চাইছে।এবং এ লক্ষ্যে তারা জাতিসঙ্ঘের সহায়তাও চেয়েছে। মহাজোটের এমন বিজয়ের পর দেশবাসী সমস্বরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীটাও সামনে এনেছে। যাই হোক আমরা সাংসদদের শপথগ্রহণ এবং মহাজোটের সরকার গঠন এর পর কি ঘটবে তার দিকে তাকিয়ে আছি। আওয়ামী লীগ বা মহাজোট তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টতে যা যা লিখেছিল তার সব না হোক কিছু কিছু যে তারা বাস্তবায়ন করবেন সে ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায়। আমরাও নিশ্চিত হতে চাইছি। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, মহাবিক্রমে বিজয় অর্জন করা এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলটি বা জোটটি তাদের কোন কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেবে? আমরা যদ্দুর জানতে পেরেছি,তারা প্রথমেই নজর দেবে দ্রব্যমূল্য কমানোর দিকে। এটাকেই তারা এক নম্বর এজেন্ডা ভাবছে। এটা আসলেই দেশের এই মুহূর্তে এক নম্বর এজন্ডা। তাহলে বাকি এজেন্ডাগুলো কি কি ? আমি এই সরকারের কাছে ঝাঁকে ঝাঁকে দাবীনামা দিতে চাইছি না। জানি মাত্র গোটাকতক কাজ সম্পন্ন করতে পারলে বাকি সমস্যাগুলো আপনাতেই মিটে যাবে। আমি খুব বিনীত ভাবে নতুন সরকারের কাছে মাত্র কয়েকটি মাত্র দাবী পেশ করব। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারটা কোন দাবীর ব্যাপার নয়। এটা এইমুহূর্তে জাতির জন্য, জাতির ভবিষ্যতের জন্য আশু করণীয়। এটা এবার শুধু করতে হবে তাই নয়, যুদ্ধাপরাধীদের যাদের বিচার আগেই সম্পন্ন হয়েছিল তাদের বিচারের রায় কার্যকর করতে হবে। এখান থেকে সরকারের আসলে একচুলও সরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা অতি দ্রুত কাজটা শুরু হয়েছে সেটা দেখতে চাইছি। পাশাপাশি এই কাজগুলোও করতে হবে। এক। র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নামক এই সংস্থাটি প্রত্যাহার করুন। যে কারণে এই সংস্থাটি গড়ে তোলা হয়েছিল সেই কাজগুলো প্রচলিত পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই করতে পারে। দেশে…
