(সংক্ষেপিত - এর চেয়ে সংক্ষেপ করলে নষ্ট হয়ে যাবে - পুরোটা পাওয়া যাবে আমার বই ‘‘বাংলার কথা কই’’-তে।) *************************************************** আবুধাবীতে যদি হতে পারে, হতে পারে পৃথিবীর যে কোন জায়গায় যদি চোখে স্বপ্ন থাকে। স্কুল যদি হতে পারে, হতে পারে যে কোন বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান যদি চোখে স্বপ্ন থাকে। তখন যদি হতে পারে, হতে পারে এখনও - এবং সর্বদা সর্বত্র। ************************************************** তিরিশ বছর আগের আবুধাবী। আজকের মত দীপাম্বিতা সৌধশ্রেণী সংকলিতা নয়, ছোট ছোট কুঁড়েঘরে ঢাকা শহরে কয়েকটা মাত্র দালান। দুই কামরার এক ব্যাচেলর মেসে একদিন সান্ধ্য আড্ডা জমেছে তুমুল। ধড়াম করে দরজা খুলে ঢুকল কেউ, ধড়াম করে দরজা বন্ধ করল। রুদ্ধশ্বাসে দু’চোখ তার আতংকে বিস্ফারিত। সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছে সে। সন্ধ্যার আধো-অন্ধকারে রাস্তা পার হতে গিয়ে কানের কাছ দিয়ে সাঁই করে বেরিয়ে গেছে মাইক্রোবাস, একটু এদিক ওদিক হলেই মাথা ফেটে যেত। তারপর আড্ডায় এই রকম কথা হল। ‘‘জাপানী স্কুলের মাইক্রোবাস, নাম লেখা আছে গায়ে। স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে যাচ্ছিল বাসায় পৌঁছে দিতে’’। ‘‘বৃটিশ অ্যামেরিকান সবাই নিজেদের স্কুল বানিয়েছে এখানে, নিজস্ব মাইক্রোবাসে বাচ্চাদের আনা-নেওয়া করে’’। ‘‘কিন্তু আমাদের বাংলাদেশীদের স্কুল নেই’’। ‘‘আমাদের বাংলাদেশীদের স্কুল নেই কেন?’’ ‘‘আমাদেরও স্কুল চাই’’। ‘‘হ্যাঁ হ্যাঁ, - আমাদেরও স্কুল চাই …… ’’। সারা রাত ধরে মরুতামসের আকাশে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হতে থাকল নামহীন কিছু কিশোরের স্বপ্ন- ‘‘আমাদেরও স্কুল চাই’’। সারারাত ধরে গুরুত্বপুর্ণ সভা করল আকাশের গ্রহ-তারা ফিসফিস করে, তারপর অলক্ষ্যে কোথাও কিছু একটা সিদ্ধান্ত হল। পরদিন সেই ছেলেগুলো তাদের স্বপ্ন গিয়ে হাজির জালাল ভাইয়ের বাসায়। সিলেটের সুদর্শন যুবক, পাওয়ার হাউসের ইঞ্জিনিয়ার। কি? না - আমাদেরও স্কুল চাই। মন দিয়ে তিনি শুনলেন কথাগুলো, যেন দিব্যচোখে দেখলেন এবং স্পর্শ করলেন স্বপ্নটা। তার কিছুদিন পর সদলবলে সবাই গিয়ে পড়লেন গোলাম রহমানের অফিসে, স্কুল প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দেবার জন্য। কিছু লোক থাকে যাদের বয়স অনুমান করা অসম্ভব। ছিপছিপে এ বুড়ো এ বয়েসেও রূপবান সরস, যেন আঙ্গুর থেকে কিসমিস হয়েছেন। সিলেটের লোক, পুর্ব পাকিস্তান সরকারের চীফ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। রিটায়ার করতেই বাঙালী ধনকুবের জহুরুল ইসলাম তাঁকে হাইজ্যাক এনে বসিয়ে দিয়েছে তার আবুধাবীর বিখ্যাত কনষ্ট্রাকশন কোম্পানি বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের কর্ণধার হিসেবে। কিন্তু এই কর্ণধার বলতে গেলেতাদের কর্ণ…
আবুধাবীতে যদি হতে পারে, হতে পারে পৃথিবীর যে কোন জায়গায় যদি চোখে স্বপ্ন থাকে। স্কুল যদি হতে পারে, হতে পারে যে কোন বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান যদি চোখে স্বপ্ন থাকে। তখন যদি হতে পারে, হতে পারে এখনও - এবং সর্বদা সর্বত্র [...]

সাম্রাজ্যবাদ ফ্যাসিবাদের রূপ নিচ্ছে। অবশ্যই তা আগের কায়দায় নয়। তবে আগের সঙ্গে এবারের মিল চিরায়ত ফ্যাসিবাদের যে মিল তা-ই: কর্পোরেশনের মদদ, সামরিকায়ন, ঝাঁঝালো সাংষ্কৃতিক চটক, ম্যাস মিডিয়ার ম্যাস কালচারাল ডেসট্রাকশসনের ক্ষমতা, ধর্মীয় রক্ষণশীলতার ব্যবহার ইত্যাদি। হিটলারের লক্ষ্য ছিল রাশিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোসহ আফ্রিকা ও এশিয়ার রিসোর্স দখল, নয়া উপনিবেশায়ন, উন্নত প্রজাতি সৃষ্টি। আর এবারের ফ্যাসিবাদেরও লক্ষ্য সেই একই, মধ্য এশিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার রিসোর্স দখল, মধ্যপ্রাচ্যে নয়াউপনিবেশ স্থাপন এবং শ্বেতাঙ্গ পাশ্চাত্যের সাংষ্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা। হিটলারের ঘৃণার রাজনীতি ইহুদি হলোকস্ট ঘটিয়েছিল। আর পাশ্চাত্যের পুঁজিবাদী শক্তির ঘৃণার শিকার হয়ে বসনিয়া, রুয়ান্ডা, সোমালিয়া, ইরাক. আফগানিস্তান, কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনে মুসলিম হলোকস্ট চালু আছে। কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের আদলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গুয়ানতানামো ও আবু ঘারিব কারাগার। এ নিয়ে যুক্তি-তর্ক-প্রমাণাদি হাজির করা যায়। আপাতত দৃশ্য দিয়ে তা উপস্থাপন করা যাক [...]