২০ থেকে ৩০ কোটি সক্ষম মধ্যবিত্তের বাজার। ভারতীয় বা আরো বড় অর্থে দক্ষিণএশীয় এই বাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবী করছেন মনমোহন সিং। নব্বুই-এর দশকের শুরুতে নবুয়তপ্রাপ্ত মনমোহন ২০০৯-১৪ শাসনামলকে তার শ্রেষ্ঠ সময় মনে করছেন এবং বিস্তৃত কর্মপরিধির মধ্যে তার ক্ষমতার সব দিকের সুদৃঢ় বাস্তবায়ন চাইছেন।বিলগ্নীকরণের এক বিশাল কর্মযজ্ঞে নেমেছেন তিনি এবং সফলও হবেন বলেই মনে হচ্ছে। এর মধ্যেই আসিয়ানের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি তিনি সেরে ফেলেছেন, সাফটা হোক না হোক তাতে কিছু যায় আসেনা; বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাথে ভারত ব্রাজিল দক্ষিণআফ্রিকা ও চীনের, ইউরোপ আমেরিকার কৃষি ভর্তুকি নিয়ে যে দ্বন্দ্ব ছিল, তার থেকে মনমোহন এবার সরে আসবেন বলেই মনে হচ্ছে। এই লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দোহা রাউন্ডকে পুনরায় উজ্জীবিত করতে এর মধ্যেই ভারত পূর্ণশক্তিতে বাণিজ্যিক কূটনীতিতে নেমে পড়েছে এবং তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে গেছেন গত জুলাইয়ে ভারত সফরে আসা মিসেস ক্লিন্টন। একই মাসে জি-৮-এর রাষ্ট্রনায়করাও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জি-৮ অতিথি সদস্য ভারতের সঙ্গে পূর্ণসদস্যদের চেয়েও বেশি মর্যাদা দিয়ে মনমোহনের সাথে আলাপ আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। আর এবার জি-৮-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য চীনের রাষ্ট্রনায়ক উরুমচির জাতিগত দাঙ্গার কারণে সম্মেলনের শুরুতেই দেশে ফিরে যাওয়াতে ভারত পুরো সম্মেলন জুড়ে একধরনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। অনেক পর্যবেক্ষক এও ধারনা করছেন, অলিম্পিকের আগে আগে তিব্বতের দাঙ্গার মতোই উরুমকির দাঙ্গার সময়টিও পরিকল্পিতভাবেই ঠিক করা হয়েছে। সবকিছু মিলে এতো খোলা হাওয়া আর কখনো মনমোহনের গায়ে লাগেনি। এবারের মহামন্দার পর যে মহা মূল্যস্ফীতি আসবে তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার সব পরিকল্পনা এর মধ্যেই মনমোহন শেষ করে এনেছেন। খুব দ্রুতই এক অসাধারণ খরা পরিস্থিতির সুযোগে বহু নীচুতলার মানুষ যখন নিঃশেষিত হবেন তখন এক বিভৎস মজার আক্রার বাজার থেকে মুনাফা লুটবেন বৃহৎ বিলগ্নীকারীরা। সবকিছু সামলাবেন খোলা বাজারের শেষ নবি অর্থনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। হ্যাঁ, তিনিই হবেন খোলা বাজারের শেষ নবি; এরপর খোলা বাজার আর থাকবে না সেকথা আমি বলছি না, কিন্তু এরপরে আর নবির দরকার হবে না; খোলা বাজারের ইমাম পুরোহিতরাই তখন সব সামলাতে পারবেন, যেমন এখন ধর্মের ইমাম পুরোহিতরাই ধর্ম সামলাচ্ছেন।

গত বছর অরুণ সোমের কাছ থেকে দূরভাষে জেনেছিলাম, তিনি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত, কেননা তাঁর ছোটভাই বেশ কিছুদিন ধরে তখন রোগশয্যায়। ততদিনে শরীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে দুরারোগ্য কর্কটরোগ। পরে একবার খবর নিয়ে জেনেছি, চিকিৎসা চলছে, কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এরপর গড়িয়ে গেছে অনেকটা সময়। ক’দিন আগে দূরভাষে কুশল জানতে চাইলে অরুণ সোম মাসুদ করিমকে জানান, তল্‌স্তোয়ের ‘যুদ্ধ ও শান্তি’-র অনুবাদের পাণ্ডুলিপি অনেকদিন ধরেই পড়ে আছে সাহিত্য অকাদেমিতে, দস্তইয়েভ্‌স্কি-র ‘কারামাজোভ্ ভাইয়েরা’-র অনুবাদও অনেকটা এগিয়েছে, আর তাঁর ছোটভাই মারা গেছেন জুলাইয়ের ১১ তারিখে। [...]

গত বছর অরুণ সোমের কাছ থেকে দূরভাষে জেনেছিলাম, তিনি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত, কেননা তাঁর ছোটভাই বেশ কিছুদিন ধরে তখন রোগশয্যায়। ততদিনে শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে দুরারোগ্য কর্কটরোগ। পরে একবার খবর নিয়ে জেনেছি, চিকিৎসা চলছে, কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এরপর গড়িয়ে গেছে অনেকটা সময়। ক’দিন আগে দূরভাষে কুশল জানতে চাইলে অরুণ সোম মাসুদ করিমকে জানান, তল্‌স্তোয়ের ‘যুদ্ধ ও শান্তি’-র অনুবাদের পাণ্ডুলিপি অনেকদিন ধরেই পড়ে আছে সাহিত্য অকাদেমিতে, দস্তইয়েভ্‌স্কি-র ‘কারামাজোভ্ ভাইয়েরা’-র অনুবাদও অনেকটা এগিয়েছে, আর তাঁর ছোটভাই মারা গেছেন জুলাইয়ের ১১ তারিখে। ২ ভদ্রলোককে প্রথম দেখি ২০০৬-এর ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে। অরুণ সোম পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আমার ছোট ভাই’। শ্মশ্রুময় মুখ; সৌম্যদর্শন মাঝারি গড়নের একজন মানুষ। অল্পদিন আগে কলেজের অধ্যাপনা থেকে অবসর নিয়েছেন। অগ্রজের গড়িয়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি ফিরে যাবেন পার্ক সার্কাসে; আমি যাব আশুতোষ চৌধুরী এভিনিউর সিমা আর্ট গ্যালারিতে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেছে, যোগেন চৌধুরীর প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়ে গেছে ততক্ষণে। আমাকে তাড়াতাড়ি পৌঁছে দেয়ার জন্য ট্যাক্সি (ক্যাব) নিতে চাইলেন প্রথমে। অনেকটা পথ হেঁটেও পাওয়া গেল না। অগত্যা চেপে বসতে হলো বাসে। পুরো পথ জুড়েই কথা চলল। নিজের কথা কিছুই বললেন না, কিন্তু প্রশ্ন করে করে জেনে নিতে লাগলেন আমাদের খবর, বাংলাদেশের খবর। তাঁর শৈশবের প্রথম কয়েক বছর কি ঢাকায় কেটেছে? কেমন ছিল সেইসব দিন? এসব প্রশ্ন করা হয়নি সেদিন। যদিও দ্বিজেন শর্মার কাছ থেকে আগেই জেনেছিলাম, অরুণ সোমের আদিবাড়ি পূর্ববঙ্গে, তাঁর ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে। পঞ্চাশের দাঙ্গার পর তাঁর বাবা সপরিবারে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বাস থেকে নেমে খানিকটা পথ হাঁটতে হয়। যতদূর মনে পড়ে রাস্তার পাশেই ছিল বড়ো একটা শাদা মন্দির, আর তার অল্প পরেই সিমা আর্ট গ্যালারি। আমার বর্ষীয়ান সঙ্গীকে জানাই, কয়েক দিন আগেই একবার এসেছি, চিনতে অসুবিধে হবে না। আমার আপত্তি সত্ত্বেও সিমা যে-দালানে সেই সানি টাওয়ারের নীচতলা অবধি আমাকে পৌঁছে দিয়ে তবেই বিদায় নিলেন ভদ্রলোক। ৩ ‘তোত্তোচান’-এর সূত্রে বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদ নিয়ে কথা হচ্ছিল বইটির অনুবাদক মৌসুমী ভৌমিকের সঙ্গে, শেষ প্রচ্ছদে যাঁর পরিচয় দেয়া হয়েছে একালের ‘বিশিষ্ট পপশিল্পী’ হিসেবে। কথায় কথায় উঠে পড়ল মস্কোর প্রগতি ও ‘রাদুগা’ প্রকাশনের মনকাড়া অনুবাদ বইগুলোর কথা, সেই সূত্রে…

কোন গ্লাসে পরিবেশিত হচ্ছে হুইস্কি সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্লাসের চেহারা যদি হয় টিউলিপ ফুলের মতো, অথবা বৃন্তযুক্ত সুগোল পাত্রে ঢেলে দেওয়া যায় এই পরম রমনীয় পানীয়টিকে, তবে কোনো কথাই নেই। তাকিয়ে দেখুন এর সৌন্দর্য, ধীরে ধীরে আঙুলের মৃদু আন্দোলনে পানীয়টিকে নাড়ান গ্লাসের মধ্যে। মদের সুবাস ঘন হয়ে উঠুক পাত্রের মধ্যাংশে। সামান্য জল মিশিয়ে নিন, আঘ্রাণ করুন পানীয়টি। এবার হাল্কা চুমুক দিন। মুখের মধ্যে ধরে রাখুন গৃহীত পানীয়টুকু। অনুভব করুন জিহ্বায় চারিয়ে সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম স্বাদ, পাত্রের ঘ্রাণের মতো নিজের ভেতরেও ঘ্রাণের আমেজ টের পাবেন।

হুইস্কি কোন গ্লাসে পরিবেশিত হচ্ছে হুইস্কি সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্লাসের চেহারা যদি হয় টিউলিপ ফুলের মতো, অথবা বৃন্তযুক্ত সুগোল পাত্রে ঢেলে দেওয়া যায় এই পরম রমনীয় পানীয়টিকে, তবে কোনো কথাই নেই। তাকিয়ে দেখুন এর সৌন্দর্য, ধীরে ধীরে আঙুলের মৃদু আন্দোলনে পানীয়টিকে নাড়ান গ্লাসের মধ্যে। মদের সুবাস ঘন হয়ে উঠুক পাত্রের মধ্যাংশে। সামান্য জল মিশিয়ে নিন, আঘ্রাণ করুন পানীয়টি। এবার হাল্কা চুমুক দিন। মুখের মধ্যে ধরে রাখুন গৃহীত পানীয়টুকু। অনুভব করুন জিহ্বায় চারিয়ে সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম স্বাদ, পাত্রের ঘ্রাণের মতো নিজের ভেতরেও ঘ্রাণের আমেজ টের পাবেন। রাম বহু রূপে পাওয়া যায় এ মদ। ‘লাইট’ বা ‘হোয়াইট’ রামে পাবেন মৃদু মিষ্টত্ব, কিন্তু স্বাদে গন্ধে এমন কিছু অনবদ্য নয় এ বস্তু—মূলত, ককটেলে এর ব্যবহার। ‘গোল্ড’ রামে পাবেন এক প্রাচীন সুবাস। অনেক বছর কাঠের পিপেতে রেখে তারপর বোতলে ঢোকানো হয় এই রাম। এর সোনালী রঙের কারণ ওই কাঠের পিপে। গোল্ড রামের চেয়েও এক পরত বেশি গাঢ় রঙের ডার্ক রাম তৈরি হয়ে ওঠে পুড়ে ঝামা হওয়া পিপেতে। স্বাদে গন্ধে অত্যন্ত কড়া—আঘ্রাণ করলে মিলতে পারে ঝোলাগুড় অথবা ক্যারামেলের গন্ধ। রামের বিবিধ মিশ্রণে ডার্ক রাম ব্যবহৃত হয় রঙ আর গন্ধে মিশ্রণটিকে সবল করে তুলতে। টাইপ করছিলাম, নিজেকে সামলাতে পারলাম না, দূর্গাপুজোর নবমীর রাতে প্রচণ্ড উল্লসিত উন্মত্ততার পর বিছানায় এলিয়ে যাবার আগে যদি নিখাদ ‘গোল্ড রাম’ কয়েক ঢোক গলায় ঢেলে দিতে পারেন, আহ! কী মোহনীয় পাতালবাস হয় ভরদুপুর পর্যন্ত।(এটুকু অস্বাস্থ্য)। ওয়াইন দ্রাক্ষাফলের অমোঘ আহ্বান নিয়ে বিরাজমান বহুবর্ণের, বহু স্বাদের, বহুরূপী ওয়াইন। নিস্পিষ্ট আঙুরের রসে ‘ইস্ট’ মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয় ওয়াইন। ওয়াইনের যথার্থ স্বাদগ্রহণ সাধনা ছাড়া সম্ভব নয়। বর্তুলাকার, বড়-পরিধির বৃন্তযুক্ত পাত্রে ঢেলে নিন আপনার পছন্দের ওয়াইন। দেখুন তার রঙ। নাসারন্ধ্রের খুব কাছে নিয়ে এসে গ্লাসের তরলটিকে সামান্য আন্দোলিত করুন গভীর শ্বাসে। মুখে নিন সামান্য ওয়াইন। গিলবেন না, জিভে-টাগরায় অনুভব করুন জটিল, দুরূহ সব স্বাদ-গন্ধের মায়াজাল বিস্তার। এবার গিলে নিন। সাধনায় হয়তো এমনও দিন আসতে পারে, যেদিন এক-চুমুকে বুঝে নেবেন কোন বছরের, কোন বাগানের দ্রাক্ষাজাত ওয়াইন রয়েছে আপনার গ্লাসে। বিয়ার স্টার্চ থেকে প্রস্তুত হয় বিয়ার। ‘মল্টেড বার্লি’ এ পানীয়ের সর্বপ্রধান উৎস। ‘হপ’ গাছের ফুল যোগ করা হয় বিয়ার প্রস্তুতকালে—তার ফলে আসে…

বিশ বছর হয়ে গেল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছেড়ে দিয়ে একদিন বইয়ের আশ্রমে ঢুকে পড়েছিলাম, সেই থেকে আজো, এই বিশ বছর, বইয়ের আশ্রমে আমার আশ্রয়, আমার বইপ্রস্থ। আর মুক্তাঙ্গনে বইপ্রস্থ শিরোনামের পোস্টে আমার পড়া, কেনা বা শোনা বইয়ের বিজ্ঞাপন লিখব। কোনো ধারাবাহিক পোস্ট নয়, একই নামে বিভিন্ন সময়ে লিখব একই পোস্ট। এই প্রথম পোস্টে থাকছে আমার পড়া তিনটি বইয়ের বিজ্ঞাপন [...]

বিশ বছর হয়ে গেল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছেড়ে দিয়ে একদিন বইয়ের আশ্রমে ঢুকে পড়েছিলাম, সেই থেকে আজো, এই বিশ বছর, বইয়ের আশ্রমে আমার আশ্রয়, আমার বইপ্রস্থ। আর মুক্তাঙ্গনে বইপ্রস্থ শিরোনামের পোস্টে আমার পড়া, কেনা বা শোনা বইয়ের বিজ্ঞাপন লিখব। কোনো ধারাবাহিক পোস্ট নয়, একই নামে বিভিন্ন সময়ে লিখব একই পোস্ট। এই প্রথম পোস্টে থাকছে আমার পড়া তিনটি বইয়ের বিজ্ঞাপন। পাকিস্তানের আগের বাংলাদেশ পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু-দর্শন ।।যতীন সরকার।।জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ।।মূল্য ৩৮০ টাকা।।প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০০৫।। ১৯৩৬-এর ১৮ অগাস্ট থেকে ১৯৪৭-এর ১৩ আগস্ট এই এগারো বছর এগারো মাস ২৫দিন যতীন সরকারের জীবনে পাকিস্তানের আগের বাংলাদেশে বসবাস। ময়মনসিংহের নেত্রকোনায় তার বসবাসের স্মৃতিচারণায়—বড়দের মুখে শোনা, শৈশবের চোখে দেখা—এই দার্শনিক সবচেয়ে যত্নে লিখেছেন পাকিস্তানের আগের বাংলাদেশের স্মৃতি।তারপর বইটিতে পাওয়া যায় পরবর্তী দুই যুগের পাকিস্তানি বাংলাদেশের দার্শনিক সময়কাল। বইটি শেষ হয় বাংলাদেশের জন্মের মধ্য দিয়ে যতীন সরকারের ত্রিকালদর্শী দার্শনিক হয়ে ওঠার ভাবনাবেদনায়।পাকিস্তানের আগের বাংলাদেশই পাকিস্তানি ২৪ বছরের বিধ্বস্ত বিকলাঙ্গ বাংলাদেশকে শক্তি যুগিয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের। বইটি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সালে লেখা হয়েছিল, প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৫ সালে, লেখক আমাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন পঁচাত্তর পরবর্তী এই তিরিশ বছরের পাকিস্তানি ভূততাড়িত এক অন্য বাংলাদেশের। ত্রিকালদর্শনের উপন্যাস পাঠের মোহনীয় বই। সংগ্রাম ইতিহাসের নয় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস।।ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ।।ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড।।প্রথম প্রকাশ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭।।দাম ২০০ ভারতীয় টাকা।। এটি ইতিহাসের বই নয়। সেই সুযোগও নেই। কারণ এটি সংগ্রামের বই। আর সংগ্রাম ইতিহাসের নয়। চলমান ভবিষ্যতের। নাম্বুদিরিপাদ এক বড় মাপের ভারতীয় রাজনীতিক। স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরো সময়টা জুড়ে ভারতের সবচেয়ে সক্রিয় নেতাদের একজন। তার লেখা এই বইটি এতই প্রাণবন্ত, ইতিহাস লেখার মানের দিক থেকে তৃতীয় শ্রেণীর হয়েও, রাজনৈতিক গুরুত্বে এক অসাধারণ বই। ভারতের স্বাধীনতা যে শুধু অন্তহীন আলোচনা, সাম্প্রদায়িক বিভেদ, নিষ্ঠুর দাঙ্গার মধ্য দিয়ে মধ্যরাতে অর্জিত স্বাধীনতা নয়; ভারতের স্বাধীনতা এক জটিল বাস্তবতার ভেতর বহুতর মানুষের অবিস্মরণীয় জীবনীশক্তির আন্দোলন সংগ্রামের জয় না পরাজয় এই দ্বিধার মধ্যে দাঁড়িয়ে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় খামখেয়ালি। রায়তের স্বাধীনতা এমন-ই হয়। ভারতের রায়তের স্বাধীনতা সংগ্রাম ইতিহাসের নয়, ভবিষ্যতের, প্রজা থেকে প্রজাতন্ত্রে উত্তরণের, সে সংগ্রাম এখনও চলছে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসই প্রেরণা জোগাচ্ছে। অধিকার পারিবারিক নয় মা।।ম্যাক্সিম গর্কি।।অনুবাদ পুষ্পময়ী বসু।।ন্যাশনাল বুক এজেন্সি…

কবিবন্ধু ফুয়াদ হাসানের ফোন পেলাম রবিবার (৫ জুলাই ২০০৯) দুপুরে, যদিও আগের দিনই খবরটা পেয়েছিলাম সুমন ভাইয়ের (রেজাউল করিম সুমন) কাছে। পত্রিকায় জানলাম, আলাউদ্দিন আল আজাদ (১৯৩২-২০০৯) মারা গেলেন শুক্রবার রাতে। কিন্তু দেরিতে হলেও ফুয়াদের ফোনালাপে প্রচ্ছন্ন ছিল এক স্মৃতিপ্রাসঙ্গিকতা। [...]

কবিবন্ধু ফুয়াদ হাসানের ফোন পেলাম রবিবার (৫ জুলাই ২০০৯) দুপুরে, যদিও আগের দিনই খবরটা পেয়েছিলাম সুমন ভাইয়ের (রেজাউল করিম সুমন) কাছে। পত্রিকায় জানলাম, আলাউদ্দিন আল আজাদ (১৯৩২–২০০৯) মারা গেলেন শুক্রবার রাতে। কিন্তু দেরিতে হলেও ফুয়াদের ফোনালাপে প্রচ্ছন্ন ছিল এক স্মৃতিপ্রাসঙ্গিকতা। বহুদিন আগে, যখন আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্র, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে একসঙ্গে পড়েছিলাম ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। এ-বইয়ের 'দুই আফসোস' কবিতাটি আমাদের দুজনকেই আক্রান্ত করেছিল শরব্যঞ্জনায়। পরে অনেকবার চিরকুট দিয়েও বইটির খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজাদের লেখার সঙ্গে আমি আকৈশোর পরিচিত, বলা যায়, তিনি ছিলেন আমার প্রথম সাহিত্যনায়ক। নবম শ্রেণিতে, ১৯৯২-এ, পাঠ্যবাংলার কবিতাসঙ্কলনে 'আমার মা'কে যখন' নামের একটি সম্মোহক দীর্ঘকবিতা ছিল তাঁর। দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্য এই : কবিতাটি পরীক্ষার পাঠ্যসূচির বাইরেই পড়ে ছিল সারাবছর। আমার এতই প্রিয় ছিল যে পাঠোচ্ছ্বাসে মুখস্থ হতে দেরি হয়নি। প্রথম স্তবক মনে আছে এখনও : আমার মা'কে যখন মনে পড়ে চলতি বাসের ভিড়ে জানালায় তাকাই করুণ আমি, রডধরা সহযাত্রীর হাতের যত ঘাম লাগে গালে ঝাঁকুনির তালে তালে এবং যদিও খুব নিরুপায় গরম নিঃশ্বাসে চাপে দেখি দূরে হলুদ-সবুজ বন, কালোজাম থোকা থোকা ধরে আছে আলগোছে ঠোকর মারে কাকেরা, উড়ে যায় ডাল থেকে ডালে, বসে কি যে খুশি দুপুররোদেও ডাকে অবিশ্রাম। আমি মুগ্ধ শিশু, চোখে এক হ্রদ বিস্ময়ের ঝিকিমিকি, মহাকায় বটগাছ খেলা করে বাতাসের স্রোতে―হাতে পাখি নীলকণ্ঠ নাম তখন ছন্দের কোনও ধারণাই ছিল না; পরে বুঝলাম, কবিতাটির গায়ে বোলানো হয়েছে অক্ষরবৃত্তের সোনারুপোর কাঠি, যা উতল গাঙের বুকেও এনে দিতে পারে নিঝুম অরণ্যের ঘুম। এ-ও দেখলাম, অষ্টাক্ষর পর্বকে মাঝেমধ্যেই ৩+২+৩ মাত্রার বিরলকর্ষিত বিলে চালিয়ে নিয়েছেন কবি অবলীলায়। অন্তর্মিলে ও অন্ত্যমিলে বহমান এক স্মৃতিকাতরতা মুগ্ধ করে রেখেছিল আমার কিশোরহৃদয় এবং এখনও ভিড়েলা বাসে কোথাও যেতে যেতে যেন 'গালে লাগে' 'রডধরা সহযাত্রীর হাতের যত ঘাম'। ২ কিন্তু কবিতা নয়, উপন্যাসের সূত্রেই আজাদের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়, আমার এক খালাতো ভাই দুটি বই নিয়ে এসেছিলেন বাসায়। একটি পারস্য উপন্যাস, অন্যটি আজাদের শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন। বইদুটি ছিল মায়ের দখলে―দূর থেকে দেখতাম বিড়ালের কারুণ্য নিয়ে। আমার অভিশাপে মায়ের চোখে ঘুম নেমে আসত দুপুরে, তখন একটু-একটু পড়ার সুযোগ…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.