এই বিদঘুটে শিরোনাম কার জন্য দাগা হয়েছে সবাই নিঃসন্দেহে বুঝতে পেরেছেন[...]

এই বিদঘুটে শিরোনাম কার জন্য দাগা হয়েছে সবাই নিঃসন্দেহে বুঝতে পেরেছেন, হ্যাঁ, পদ্মা সেতুর মতো আর কে আছে যার জন্য এমন বিদঘুটে শিরোনাম দাগা যায়? এবার, আমি কেন এরকম বিদঘুটে শিরোনাম দাগলাম? আমি না জানি সংস্কৃত না জানি অর্থনীতি কিন্তু সবসময় অর্থনীতির ধ্রুপদী সংস্কার নিয়ে কথা বলি। তাহলে, আমি ছাড়া আর কে আছে যার মন থেকে এমন বিদঘুটে শিরোনাম বের হবে? কিন্তু এই বিদঘুটে শিরোনামের উদ্দেশ্য কী? এই আরেক আকাশকুসুম কল্পনা – ভাবছি এই বিদঘুটে শিরোনামের মন্ত্রপুত হয়ে সরকার পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্প নিয়ে আরো সাবধানতা অবলম্বন করবে। ভয় পাবেন না, বিচি অনেক বেশি হয়ে গেলেও, কাঁকরোলটা ছোটই হবে।

পদ্মা সেতু এমন কোনো প্রকল্প নয়, যে তা এখনই এই মুহূর্তে যেকোনো উপায়ে করে ফেলতে হবে। পদ্মা সেতু এক সুবিশাল প্রকল্প, এই প্রকল্প সম্পন্ন করতে কোনো একটি কারণে বা কোনো বিবিধ কারণে যদি প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, তাহলে মুদ্রাস্ফীতির ধারায় থাকা বর্তমান অর্থনীতির মুদ্রাস্ফীতির সূচক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তার খেয়াল আছে আমাদের? যদি খেয়াল থাকে তাহলে রোগনির্ণয় তো হয়ে গেল, এবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেই হয়। চিকিৎসা কী? একটাই। যেখান থেকে যেভাবে টাকা আসুক, সেটা আসতে হবে, আর সরকারকে সম্ভব সবগুলো উপায় পর্যালোচনা করে কোন ফাইনান্সিয়াল প্রস্তাবটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করবে ও প্রকল্পের ঋণপ্রবাহের সুদকে সর্বনিম্নে বেঁধে রাখবে এবং শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের প্রান্তিক ভোক্তাদের সবচেয়ে কম সেবামূল্যে সেতুটির সেবা ব্যবহার করার সুযোগ দেবে – এই ভাবনাগুলো সর্বাধিক বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়া। চারিদিক দিক থেকে শুধু শোনা যাবে, পারে নাই – পারবে না। কিন্তু সরকারকে ভাবতে হবে এই প্রকল্প যেন মুদ্রাস্ফীতির বাঁধ ভেঙ্গে না দেয়। এবং এই ভাবনার সফলতায় যখন পদ্মা সেতু হবে তখন ‘পারে নাই – পারবে না’দের মুখ বন্ধ হয়ে যাবে।

মাসুদ করিম

লেখক। যদিও তার মৃত্যু হয়েছে। পাঠক। যেহেতু সে পুনর্জন্ম ঘটাতে পারে। সমালোচক। কারণ জীবন ধারন তাই করে তোলে আমাদের। আমার টুইট অনুসরণ করুন, আমার টুইট আমাকে বুঝতে অবদান রাখে। নিচের আইকনগুলো দিতে পারে আমার সাথে যোগাযোগের, আমাকে পাঠের ও আমাকে অনুসরণের একগুচ্ছ মাধ্যম।

১৩ comments

  1. নুর নবী দুলাল - ৩ মার্চ ২০১২ (১০:১৮ অপরাহ্ণ)

    আপনার মত এত সোজা চিন্তা আমাদের রাজনীতির কর্তা ব্যক্তিরা যদি করতে পারতো, দেশটা আর অভাগা থাকত না।

  2. মাসুদ করিম - ২৪ জুলাই ২০১৩ (১২:৩৪ অপরাহ্ণ)

  3. মাসুদ করিম - ৩০ জুলাই ২০১৩ (১:৫৭ পূর্বাহ্ণ)

  4. মাসুদ করিম - ৬ ডিসেম্বর ২০১৪ (৯:২৭ পূর্বাহ্ণ)

    কোনো দেশ পাশে না থাকলে মরে যাব না: প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির বিরোধিতার পরও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ যদি স্বাধীন হতে পারে, তাহলে কোনো একটি দেশকে পাশে না পেলেও এখন বাংলাদেশের সমস্যা হবে না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    আর কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলেই একটি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে বলেও তিনি মনে করেন না।

    শুক্রবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেসাই বিসওয়ালের সাম্প্রতিক সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের এই প্রতিক্রিয়া।

    স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘দুই আনার মন্ত্রী’ বলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেতে পারে বলে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক।

    শেখ হাসিনা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের যে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন, তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। কেউ যদি কোনো মতামত দিয়ে থাকেন তাহলে সে দায়িত্ব তার। তাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই তা করা হয়েছিল বলেও শোনা গেছে

    “আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সারা বিশ্ব তন্ন তন্ন করে খুঁজেও প্রমাণ পায়নি।”

    কোনো সমস্যা হলেই কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে বলে মনে করেন না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর একটা দেশ পাশে না থাকলে আমরা একেবারে শেষ হয়ে যাব? … একাত্তরেও যুক্তরাষ্ট্র বিরুদ্ধে ছিল বাংলাদেশ শেষ হয়ে যায়নি।”

    গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যাতে না হয় সেজন্য ‘সব রকম চেষ্টা’ যুক্তরাষ্ট্র করেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রেও বাংলাদেশের বন্ধু রয়েছে। তাদের সহযোগিতা বাংলাদেশ সব সময় পেয়েছে।

    “মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি আমরা লড়াই করে টিকে থাকতে পারি তাহলে স্বাধীন দেশ হিসাবে এখনো পারব।”

    “প্রত্যেকটা নাগরিককে বলব, এটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। সে মর্যাদা নিয়ে চলতে হবে। কেউ পাশে থাকলে বাঁচব, না থাকলে মরে যাব, এটা ঠিক না।”

    ভাল থাকলে বন্ধুর অভাব হবে না বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত স্বচ্ছ। এটা পূর্ব না পশ্চিম, উত্তর না দক্ষিণ- তা আমি বিবেচনায় নিতে চাই না।… বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে কারো সাথে সম্পর্ক আরো গভীর করতে হয়, তা করব।”

    কাউকে ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারবে না- এমন চিন্তা ‘না থাকাই ভাল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  5. মাসুদ করিম - ২৯ মার্চ ২০১৫ (১২:০৮ পূর্বাহ্ণ)

    তেলের সাশ্রয়েই হবে পদ্মা: ফরাসউদ্দিন

    জ্বালানি তেলের দাম না কমানোর পরামর্শ দিয়ে সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, এ থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থ দিয়েই পদ্মা সেতু নির্মাণের খরচ হয়ে যাবে।

    শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি এনে দিয়েছে। আমদানি ব্যয় কমেছে। বাড়ছে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ।

    “বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, যে পদ্মা সেতুর খরচ নিয়ে আমাদের যতো চিন্তা ছিল; সেই সেতু নির্মাণের জন্য যে অর্থ খরচ হবে তা জ্বালানি তেল আমদানির সাশ্রয়ের অর্থ দিয়েই হয়ে যাবে।”

    ফরাসউদ্দিন বলেন, “বিশ্বে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোতে অতিকায় বৃহদাকার তেলের মওজুদ এবং এর উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আহরণ ও বিপণনের প্রক্রিয়ায় দশ বৎসর আগের তুলনায় তেলের দাম এখন এক তৃতীয়াংশ। এ প্রবণতা অব্যাহত না থাকলেও তেলের মূল্য আবার বেড়ে যাওয়ার কোন কারণ নেই।
    “ফলে বাংলাদেশে বর্তমান প্রেক্ষিতে আগের তুলনায় বছরে অন্ততঃ ৩০০ কোটি ডলার (৩ বিলিয়ন ডলার; প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসাবে ২৪ হাজার কোটি টাকা) সাশ্রয় হবে পিওএল আমদানি খরচে। যা দিয়ে আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের খরচের পুরোটাই হয়ে যাবে।”

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এ এম বদরুদ্দোজা জ্বালানি তেল আমদানি খরচ নিয়ে বলেছেন, গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানি খাতে মোট ৩৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। বিশ্ববাজারে দাম কমায় এবার (২০১৪-১৫ অর্থবছর) তা ১৬ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসবে।

    বিপিসি চেয়ারম্যানের দেওয়া এ হিসাবে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে জ্বলানি তেল আমদানি খাতে সরকারের ২২ হাজার কোটি টাকা কম খরচ হবে।

    এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা আছে ২৯০ কোটি ডলার (প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসাবে ২৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা)।

  6. মাসুদ করিম - ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ (৩:০৪ অপরাহ্ণ)

    শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি-জামায়াত আর ব্যাংকের এমডি মিলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অনেক চেষ্টা ও অপকর্ম করেছে কিন্তু অগ্রযাত্রা বন্ধ করতে পারেনি। অহেতুক বিনা কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণ বন্ধ করতে চেয়েছিল।

    “কিন্তু তারা সেতু নির্মাণ ঠেকাতে পারেনি, আমরা নিজেরাই এই সেতু নির্মাণ করছি।”

    পদ্মা সেতুর ১৩ ভাগ কাজ হয়েছে: মন্ত্রী

    পদ্মা সেতুর সাড়ে ১৩ ভাগ ভৌত অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    নোয়াখালীর সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে বুধবার জাতীয় সংসদে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

    মন্ত্রী বলেন, “মূল সেতুর ৩টি টেস্ট পাইল, ভায়াডাক্ট এর চারটি টেস্ট পাইল এবং ২৮টি অ্যাঙ্কর পাইল ড্রাইভ সম্পন্ন হয়েছে।”

    সেতুর কাজের জন্য ২৪শত টন ক্ষমতার পাইল ড্রাইভিং হ্যামার জার্মানি থেকে এবং ১ হাজার টন ক্ষমতার ফ্লোটিং ক্রেইন চীন থেকে এসে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

    “পাইল নির্মাণে ১২ হাজার ৪০০ টন স্টিলপ্লেট সাইটে পৌঁছেছে। আরও ৯ হাজার স্টিলপ্লেট চট্টগ্রাম থেকে এবং ৭০০০ টন স্টিলপ্লেট চীন থেকে সাইটের পথে রওনা হয়েছে।”

    এই বর্ণনা দিয়ে মূল সেতুর ভৌত অগ্রগতি সাড়ে ১৩ শতাংশ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী, যে সেতুর উপর দিয়ে ২০১৯ সালের মধ্যে চলাচল শুরুর আশা করছে সরকার।

    মন্ত্রী বলেন, সেতুর জন্য মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর জেলায় গত অগাস্ট পর্যন্ত ১২৩০ দশমিক ৯ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ৫৩৭ দশমিক ১৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত সহায়তা বাবদ ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হয়েছে।

    পুনর্বাসন স্থানে ১৩৩১টি প্লট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬২টি প্লট ভূমিহীন ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

    তিনি জানান, সেতুর জাজিরা সংযোগ সড়কের ভৌত অগ্রগতি সাড়ে ৪৮ শতাংশ, মাওয়া সংযোগ সড়কের ভৌত অগ্রগতি ৫০ শতাংশ, সার্ভিস এরিয়া-২ এর ভৌত অগ্রগতি সাড়ে ৪৬ শতাংশ, নদীশাসন কাজের ভৌত অগ্রগতি সাড়ে ৮ শতাংশ।

    পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তে প্রকল্প এলাকায় ৬৭ হাজার ৫৫০টি গাছ লাগানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    প্রকল্প এলাকায় একটি জাদুঘর স্থাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

  7. মাসুদ করিম - ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ (১১:৪১ পূর্বাহ্ণ)

    Replying to critics, the governor said the government is constructing the Padma Bridge from its own resources. “The Bangladesh Bank will always be there with the government in implementing any infrastructure project if necessary. The BB can easily spend US$ 6-7 billion from its reserve if it serves the interest of people.”

  8. মাসুদ করিম - ৮ অক্টোবর ২০১৫ (১১:০৭ পূর্বাহ্ণ)

    পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি। সৌজন্যেঃ মাছরাঙা টেলিভিশন Work on Padma Bridge Progressing Briskly YouTube Link: https://www.youtube.com/watch?v=81gIRqoysssMassranga Television

    Posted by Bangladesh Awami League on Monday, October 5, 2015

    Work on Padma Bridge Progressing Briskly

    পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি। সৌজন্যেঃ মাছরাঙা টেলিভিশন Work on Padma Bridge Progressing Briskly YouTube Link: https://www.youtube.com/watch?v=81gIRqoysssMassranga Television

    Posted by Bangladesh Awami League on Monday, October 5, 2015

  9. মাসুদ করিম - ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫ (৯:২৯ পূর্বাহ্ণ)

    পদ্মায় স্বপ্নপূরণের ‘আসল যজ্ঞ’ শুরু

    দেশের দক্ষিণ জনপদকে সড়কপথে সরাসরি রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করতে দেড় দশকেরও বেশি সময় আগে পদ্মায় সেতু নির্মাণের যে স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল, এবার তাকে চূড়ান্ত আকৃতি দেওয়ার কাজ শুরু হল।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার জাজিরায় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নদীশাসন এবং পরে মাওয়ায় সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন করেন।

    মাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর এক কিলোমিটার ভেতরে শুরু হয় সাত নম্বর পিলারের মূল পাইলিংয়ের কাজ। এরকম মোট ৪২টি পিলারের ওপর ভর দিয়েই প্রমত্তা নদীর দুই তীরকে যুক্ত করবে পদ্মা সেতু।

    সরকার আশা করছে, ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু আগামী তিন বছরের মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে। সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেনও চলবে।

    জাজিরায় নদীশাসন কাজের উদ্বোধনের পর এক সুধী সমাবেশে নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি চেয়েছিলাম, আমরা পারি- আমরা তা দেখাব।… আজ আমরা সেই দিনটিতে এসে পৌঁছেছি।”

    এই সেতু নির্মাণ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের ‘মিথ্যা অভিযোগ’ এবং নানা বাধা-বিপত্তির কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতি কারও কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না।

    “আমরা সেই জাতি, যে জাতি সম্পর্কে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না’, আজকেও সেটি প্রমাণিত হতে যাচ্ছে।”

    প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই সেতু দিয়ে ঢাকাসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে দক্ষিণ জনপদের ২১ জেলা।

    এ সেতু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে, প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য বিমোচন হবে বলে আশা করছে সরকার।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মাওয়া ও জাজিরার পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে নানা রংয়ের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে ছেয়ে ফেলা হয় পুরো প্রকল্প এলাকা।
    সকাল পৌনে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে করে প্রধানমন্ত্রীর জাজিরায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও কুয়াশার কারণে তা বিলম্বিত হয়। পৌনে এক ঘণ্টা পর নাওডোবা মৌজায় হেলিপ্যাডে নেমে কয়েকশ গজ দূরে নদীশাসন কাজের ফলক উন্মোচন করেন তিনি।

    জাজিরার অনুষ্ঠান শেষে নদীপথে অন্য পাড়ের মাওয়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পথে নদীর মধ্যে সাত নম্বর পিলারের পাইলিং কাজের জায়গাটিও দেখেন তিনি।

    মাওয়ায় এসে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের পাশে নিয়ে বোতাম চেপে পদ্মা মূল সেতু নির্মাণ কাজের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ সময় তিনি সবার কাছে দোয়া চান, যেন ‘সময়মত’ নির্মাণ কাজ শেষ করা যায়।

    সেতুর মূল দুই নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। মূল অনুষ্ঠানস্থলের বহু দুরেও দেখা যায় ভিড়।

    পদ্মা সেতু নির্মাণে যারা ভিটে-মাটি ও জমি দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাদের জীবন-মানের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও প্রতিশ্রুতি দেন।

    বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জাজিরা ও মাওয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
    আরও ছিলেন সেনা প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, পুলিশের আইজি শহীদুল হক, চিফ হুইপ আসম ফিরোজ, স্থানীয় সাংসদ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ও সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, দীপু মনি, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

    ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ই পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তা শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

    ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ফিরে পুনরায় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তার প্রস্তাব নিয়ে আসে বিশ্ব ব্যাংক।

    কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে থাকে। ২০১০ সালের জুলাইয়ে সেতু নির্মাণের জন্য প্রাক-যোগ্যতা দরপত্র মূল্যায়ন করে পাঁচ দরদাতাকে বাছাই করে তা বিশ্ব ব্যাংকের অনাপত্তির জন্য পাঠানো হলেও সংস্থাটি তা ঝুলিয়ে রাখে।

    এরপর পদ্মা সেতুতে ‘সম্ভাব্য’ দুর্নীতির’ অভিযোগ আনে বিশ্ব ব্যাংক। দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংককে ‘না’ বলে দেয়। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন জানায়, দুর্নীতির কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।

    শেষ পর্যন্ত নকশা অপরিবর্তিত রেখে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের জুনে চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানিকে মূল সেতু নির্মাণের কাজ এবং সিনো হাইড্রো করপোরেশনকে নদী শাসনের কাজ দেওয়া হয়।

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রায় ২৭ শতাংশ কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। এই সেতু নির্মাণের পাশাপাশি মাওয়া থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত চার লেইনের সড়ক হবে। রাজধানীর বিজয়নগর থেকে ঢাকা-মাওয়া সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে হবে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার।
    এছাড়া জাজিরা পয়েন্ট থেকে খুলনা, বেনাপোল, কুয়াকাটা পর্যন্ত চার লেইনের সড়ক নির্মণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

  10. মাসুদ করিম - ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ (২:৩০ অপরাহ্ণ)

    In reply to a question, the WB chief economist said the past experience involving the Padma Bridge construction project with the World Bank (WB) has somehow become boon to Bangladesh.

    “Bangladesh is now building the bridge with its own funds. It proves Bangladesh has its own financial strength to implement such a big project,” he said.

    “Forget the (previous) history. Now the message is that Bangladesh can build the largest bridge with its own funds. I am sure it has boosted the confidence of the country,” Mr Basu stated.

    The economist said: “Just think could Bangladesh able to implement such a big project (with its own funds) 10 years ago? Now it can. So, thanks to the history (with the WB), the outcome has brought a good result for Bangladesh.”

    Sketching a better picture of Bangladesh’s macro-economy even after the impact of the global financial meltdown, Dr Basu said its economy has now taken off.

    “The people should know the strength of the economy. They should now be confident of their own country. They should now help their country to grow faster,” he added.

    “Twenty years ago, I visited Bangladesh. This time now I have seen a radical change. The export-GDP (gross domestic product) ratio has increased to 20 per cent from 7.0 per cent that time. The US$ 7-$8 billion foreign exchange reserve in 2009 has now swelled to $ 27 billion.”

    “I have already checked the statistical data of the Bangladesh’s economy. But after the last four-day visit here, now I feel that the country’s economy is much better than the statistics,” he told journalists.

  11. মাসুদ করিম - ২১ মার্চ ২০১৬ (৫:০৫ অপরাহ্ণ)

    মুহিতের বক্তব্যে দলের ভেতরে ক্ষোভ, প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্ট

    একটি বাংলা দৈনিকে পদত্যাগী গভর্নর আতিউর রহমানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এক সভায় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীসহ নেতৃবৃন্দ উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গণভবনে রোববার সন্ধ্যায় দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির পর মন্ত্রী মুহিত গত শুক্রবার বাংলা দৈনিক প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদায়ী গভর্নরের সমালোচনা করেন।

    সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলেন,“সংবাদ সম্মেলনই করেছেন। বাড়িতে করেছেন এবং দুই দফা। একবার পদত্যাগের আগে,আরেকবার পদত্যাগের পর। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি ইনিয়ে-বিনিয়ে অনেক কথা বলেছেন। দুজন ডেপুটি গভর্নরের চাকরি গেছে তার কারণে। বোঝাতে চাইলেন যে তিনি একা দায়ী নন। দুজনের বাইরে আরও কয়েকজনের চাকরি খাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তা আর হয়নি,হবেও না।”

    সাবেক গভর্নরের অবদান ‘প্রায় শূন্য’ মন্তব্য করে মুহিত সাক্ষাৎকারে আরও বলেন,“তিনি (আতিউর রহমান) খালি পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছেন আর লোকজনকে অনুরোধ করেছেন বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তাকে সুযোগ দিতে ও দাওয়াত দিতে। এখন বেরোচ্ছে এগুলো।”

    সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর মন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, তার চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই প্রথম আলো কথাগুলো প্রকাশ করেছে এবং এসব বক্তব্য তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

    প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাসহ সরকারি দলের নানা স্তরের নেতারা প্রায়ই পত্রিকাটির বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে থাকেন।

    রোববার দলের বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা উঠলে প্রধানমন্ত্রীও অশীতিপর মন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতা।

    বিষয়টি নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কোনো নেতা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুহিতের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কোনো সুযোগ ছিল না।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সংসদের বেশ কয়েকজন সদস্য কথা বলেছেন।

    নব্বই পরবর্তী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা দলীয় সভানেত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,“মিটিংয়ে অর্থমন্ত্রীর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুরো হাউজই অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে এক সুরে কথা বলেছেন।”

    কার্যনির্বাহী সংসদের একাধিক সদস্যের বরাতে জানা গেছে বিস্তারিত।

    তারা জানান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন।

    হাছান মাহমুদ এই ঘটনার জন্য আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংককে দায়ী করে বক্তব্য রাখেন।

    এসময় হাছান মাহমুদের বক্তব্যের ভুল ধরে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, “হাছান, তুমি ভুল বলছো।”

    এরপর জাফরউল্যাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও লেনদেনের পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

    অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং দলের কোষাধ্যক্ষ ও মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান এন এইচ আশিকুর রহমানও কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারের বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন,গভর্নরের পদত্যাগের পরও তাকে নিয়ে মন্ত্রীর এইরকম প্রকাশ্য বক্তব্য তার বোধগম্য নয়।

    আতিউর রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর ‘ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের’ বিষয়টি এভাবে পত্রিকায় না নিয়ে এলেই অর্থমন্ত্রী ভালো করতেন বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিদায়ী গভর্নরের প্রশংসাও প্রধানমন্ত্রী করেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকরা জানান।

    “প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, ‘আমি পদ্মা ব্রিজের সময় অর্থমন্ত্রীর কাছে টাকা চেয়েছিলাম। উনি বলেছিলেন, ‘আমি কোথা থেকে টাকা দেবো?’ সেই টাকার ব্যবস্থা আতিউরই করে দিয়েছিল’।”

    বৈঠকে সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মন্ত্রীদের ‘লাগামছাড়া’ বক্তব্যের বিষয়ে কথা বলেন।

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বক্তব্যের সমালোচনা করে নাসিম বলেন,“মন্ত্রীরা এভাবে কথা বললে সরকারের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে।”

    যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের চূড়ান্ত রায়ের আগে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে মীর কাসেমের আপিলের পুনঃশুনানির দাবি তোলেন কামরুল।

    এসব আলোচনার পর আবার গভর্নর নিয়ে আলোচনা উঠে। তাকে নিয়ে ফেইসবুকে দেওয়া দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিনের বক্তব্যের বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

    ফেইসবুকে দেওয়া নিজের স্ট্যাটাস এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে লেনিন বলেন, তার এই স্ট্যাটাস ও বক্তব্য দেওয়া ‘ঠিক হয় নাই’।

    রোববারের এই বৈঠকে ১০ ও ১১ জুলাই হতে যাওয়া আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

    সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে দলের সকল সাংগঠনিক জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

  12. মাসুদ করিম - ১৫ অক্টোবর ২০১৬ (৩:২২ অপরাহ্ণ)

    পদ্মার ‘তিক্ত স্মৃতি ভোলাবে’ বিশ্ব ব‌্যাংক প্রেসিডেন্টের সফর

    পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে বিশ্ব ব‌্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যে তিক্ত স্মৃতি রয়েছে, জিম ইয়ং কিমের সফর তা মুছে দেবে বলে আশা করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

    দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য দেখতে রোববার ঢাকায় আসছেন বিশ্ব সংস্থাটির প্রধান জিম। ‍দুই দিনের এই ‘বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস’ বাংলাদেশে পালনের পাশাপাশি ঢাকায় একটি বক্তৃতাও দেবেন তিনি।

    এক দশক পর বিশ্ব ব‌্যাংকের কোনো প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে করতে এলেও কিমের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে ‘বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস’ পালন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৃষ্টান্ত হিসেবে মেলে ধরবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

    সর্বশেষ ২০০৭ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন বিশ্ব ব‌্যাংকের তখনকার প্রেসিডেন্ট রবার্ট জেলিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সংস্থাটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম‌‌্যাকনামারা এসেছিলেন ঢাকায়, এরপর ঘুরে যান পল উলফোভিৎজ ও জেমস উলফেনসন।

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন শেষ করেই ঢাকায় আসছেন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আসা দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক কিম।

    গত ৭ থেকে ৯ অক্টোবর ওই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থমন্ত্রীরা যোগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীও মুহিত ছিলেন। দেশগুলো থেকে দুটি সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন এই সম্মেলনে।

    ভারতে বিশ্ব ব‌্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি হিসেবে সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশের নাগরিক জুনাইদ কামাল আহমেদ ওয়াশিংটনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে যে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনা ঘটেছিল, তা এই সফরে দূর হবে বলে তিনি আশাবাদী।

    পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব‌্যাংকের অর্থায়নের কথা থাকলেও প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে টানাপড়েনের এক পর্যায়ে তাদের বাদ দিয়েই দেশের বৃহত্তম এই সেতুর কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।

    ওই সময়কার তিক্ত অভিজ্ঞতা দূরে রেখে বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে সংস্থাটিকে উন্নয়ন অংশীদার করতে নতুন উদ্যমে বাংলাদেশ কাজ করবে বলে আশা রাখছেন জুনাইদ।

    কয়েক বছর আগে পদ্মা সেতু নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার পর গত অর্থবছরে বাংলাদেশকে ঋণের অর্থ ছাড় আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি করেছিল বিশ্ব ব‌্যাংক।

    বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশকে ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। এর আগে কখনও সংস্থাটি এক বছরে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ছাড় করেনি।

    ওয়াশিংটনে সদর দপ্তরে বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে কিমকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন জুনাইদ।

    তিনি বলেন, “উনি (কিম) খুবই পজিটিভ মাইন্ডের একজন মানুষ। একজন আশাবাদী মানুষ।”

    বাংলাদেশকে কী চোখে দেখেন কিম- জানতে চাইলে জুনাইদ বলেন, “পাঁচ বছর আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছেন।

    “এই পাঁচ বছর তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর সেই সাফল্য-অর্জন সরেজমিনে দেখতেই বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন।”

    বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের সফর যেহেতু বিশ্ব সংবাদ মাধ‌্যমেও শিরোনাম হবে, সেহেতু তা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলেও মনে করেন জুনাইদ।

    ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূইঞাও বলেন, “বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ভালো কাভারেজ পাওয়া যাবে। এতে বাংলাদেশের সুনাম বাড়বে।”

    কর্মসূচি

    রোববার রাতে ঢাকায় নামার পর র‌্যাডিসন হোটেলে উঠবেন জিম ইয়ং কিম।

    সোমবার সকালে অর্থমন্ত্রী মুহিতের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্বে বাংলাদেশ’ শীর্ষক পাবলিক লেকচারে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেবেন তিনি।

    ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল রোমার। বিশ্ব ব্যাংক সাউথ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানিটি ডিক্সনও বক্তৃতা করবেন।

    বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের ‘এন্ড পোভার্টি’ শীর্ষক গান গাইবেন অনুষ্ঠানে। এ পর্বের শেষে #প্রসপার বাংলাদেশ (#ProsperBangladesh) শিরোনামে একটি প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করা হবে।

    সেখানে ‘এন্ড গ্লোবাল পোভার্টি বাই ২০৩০: শেয়ারিং বাংলাদেশ’স এক্সপেরিয়েন্স’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায়ও বক্তৃতা করবেন বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট।

    মঙ্গলবার সকালে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য বরিশাল যাবেন কিম। ফিরে এসে একান্ত বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। বিকালে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিদায় নেবেন তিনি।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ

    বিশ্ব ব‌্যাংকের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে আসতে চললেও কেন কিমের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ, তার ব‌্যাখ‌্যায় অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, তার উপস্থিতিতে ‘বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস’ পালন করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

    ওয়াশিংটনে বৈঠকের ফাঁকে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দারিদ্র্য বিমোচন এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে (এমডিজি) বাংলাদেশের সাফল্যে বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট অভিভূত।

    “তাই নিজের আগ্রহেই আমাদের দেশ সফর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উপলক্ষ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস। বাংলাদেশে তাই এবার দিবসটি ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত হবে।”

    কিমের আসন্ন ঢাকা সফরকে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল‌্যের ‘স্বীকৃতি’ হিসেবে দেখছেন মুহিত।

    “বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর আমাদের জন্য একটি গর্বের বিষয়। আমরা দারিদ্র্য বিমোচনে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছি, সেটা সরেজমিনে দেখতেই তিনি বাংলাদেশে যাচ্ছেন।”

    বাংলাদেশের অর্জনের প্রশংসা করছেন ঢাকায় বিশ্ব ব‌্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফানও।

    ওয়াশিংটনে সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “‍যেভাবে বাংলাদেশের অগ্রগতি হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।”

    নিজের সংস্থার প্রেসিডেন্টের সফর নিয়েও আশাবাদী বাংলাদেশে বিশ্ব ব‌্যাংকের মিশন প্রধান।

    “বিশ্ব ব্যাংকের আইডিএ-এর খুব ভালো ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ। আর সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে, দেশটির দারিদ্র্য বিমোচনে অভাবনীয় সাফল্য দেখে। সেজন্যই তো বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে সফরের জন্য বেছে নিয়েছেন।”

    বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে অতি দারিদ্র্যের হার মোট জনসংখ্যার ১২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে এ হার ছিল সাড়ে ১৮ শতাংশ।

    জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা শূন‌্য থেকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।

    দ্রুত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর উপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, আমাদের দারিদ্র্য শূন‌্যে নামিয়ে আনতে কোনো মতেই ২০৩০ সাল লাগবে না। তার আগেই আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছে যাব।

  13. মাসুদ করিম - ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (৬:৪০ অপরাহ্ণ)

    Canadian court finds no proof of Padma Bridge bribery conspiracy

Have your say

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.