এখন অমর একুশে বইমেলা নামে বাংলা একাডেমিতে আমাদের যেবইমেলাটি হয় তাতে পাঠকের কাছে বইবিক্রিটাই সারকথা, এটা একটা পুরনো ধাঁচের বইমেলা যাতে আমার তেমন কোনো উৎসাহ আর নেই [...]

এখন অমর একুশে বইমেলা নামে বাংলা একাডেমিতে আমাদের যেবইমেলাটি হয় তাতে পাঠকের কাছে বইবিক্রিটাই সারকথা, এটা একটা পুরনো ধাঁচের বইমেলা যাতে আমার তেমন কোনো উৎসাহ আর নেই, যদিও আমাদের দেশে মেলা মানেই বিক্রয় উৎসব তারপরও বই নিয়ে আমাদের অন্যরকম মেলার আয়োজন শুরু করার কথা ভাবতে শুরু করা উচিত, মানে এই মেলাটা থাকুক এটার মতো কিন্তু আরেকটি বিক্রয়মুক্ত মেলার ছক এখন থেকেই কষে ফেলা দরকার, আমি চাই বইয়ের প্রকাশক লেখক সম্পাদক পরিবেশক লিটলম্যাগাজিনেরসম্পাদক মিডিয়ারসাহিত্যসম্পাদক ছাপাখানা ডিজাইনার প্রচ্ছদশিল্পী প্রুফ রিডার বাইন্ডার পরিবহনকারী বিক্রেতা এদেরকে নিয়ে একটা মেলা হোক, সেই মেলা হোক এই সবার মধ্যে ভাবনা বিনিময় ও বার্ষিক বা দ্বিবার্ষিক মিলনমেলা। এখানে সবাই তার পসরা সাজাবে বিক্রয়ের জন্য নয় এটা বলার জন্য আমি একাজটা করি এবং একাজটা করতে আমি কতজনের সাথে সম্পৃক্ত হই এবং একাজটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে ও একাজটার উৎকর্ষ সাধন করতে হলে আমাদেরকে নিয়মিত বিরতিতে সম্মিলিত ভাবনা বিনিময়ের একটা ভিত্তিভূমির পত্তন করতে হবে। তেমন একটা মেলা মানে বইমেলার অপেক্ষায় আছি বহুবছর ধরে। আর একটা কথা, এই মেলাটি ঢাকায় হলেও আমি চাইব যেখানেই বাংলা ভাষায় বই উৎপাদনের কাজ হয় [এক ভাষা কয়েকটি সাহিত্য কোথায় কেন্দ্র] তাদের সবাইকে এই মেলার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গ ত্রিপুরা আসাম এই চারটি অবস্থানের বাংলা ভাষা চার রকমের সাহিত্য সৃষ্টির কাজ করে যাচ্ছে [...]

বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গ ত্রিপুরা আসাম এই চারটি অবস্থানের বাংলা ভাষা চার রকমের সাহিত্য সৃষ্টির কাজ করে যাচ্ছে, আরেক রকমের সাহিত্য সৃষ্টি হচ্ছে দিল্লি বোম্বে পুনার মতো ভারতীয় শহরে পশ্চিমবঙ্গ ত্রিপুরা আসাম থেকে যাওয়া বাংলাভাষী বসবাসকারীদের দ্বারা, আরেক রকমের সাহিত্য সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গ ত্রিপুরা আসাম তথা ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি যুক্তরাজ্য অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে অভিবাসী বাংলাভাষী বসবাসকারীদের দ্বারা - এভাবে বলা যায় বাংলা ভাষা বহুজাতিক সাহিত্যের ভাষা না হলেও বহুবিধ সাহিত্যের ভাষা হয়ে উঠেছে। এই বহুবিধতাকে উদযাপন করতে হবে সবাইকে। এবং একটি কেন্দ্র প্রয়োজন হবে এই বহুবিধতাকে বুঝতে, সেই কেন্দ্র জোর করে আরোপিত হলে হবে না, এখন পর্যন্ত কলকাতা ও ঢাকা দুটোই বিচ্ছিন্নভাবে ভগ্নকেন্দ্র হিসেবেই চলছে বলা যায়, আমার মনে হয় শেষ পর্যন্ত ঢাকা অনেক এগিয়ে থাকবে একক কেন্দ্র হওয়ার দিকে - যদিও ঢাকা নিয়ে একটা আশঙ্কা এই থেকে যায় ঢাকা শেষ পর্যন্ত আদৌ মুক্তচিন্তার জায়গা থাকবে কিনা, আর কলকাতা নিয়ে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তো এই বাস্তবতা যে কলকাতায় বাংলা কতটা কর্মচঞ্চল। কিন্তু সংহত পরিপ্রেক্ষিতকে বুঝতে ও বিপণনের সামগ্রিক সুযোগ নিতে এই বহুবিধতার একটি কেন্দ্র খুব প্রয়োজন এবং সময়ও চলে এসেছে একটি কেন্দ্র গড়ে উঠবার, তা যদি শেষ পর্যন্ত গড়ে না ওঠে তাহলে আমার মতে বাংলা ভাষা আরেকটি বিস্তার থেকে থমকে যাবে, আমি এখনো মনে করি বাংলা ভাষার বিস্তারে উপরে উল্লেখিত প্রতিটি সাহিত্যের অবদানকে আমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে, এবং আমি এও বিশ্বাস করি সেই সম্ভাবনা ঢাকার দুয়ারেই আঘাত হানছে, এখন এটা সময়ই বলবে ঢাকার দুয়ার খুলবে কিনা, ঢাকা বাংলা ভাষায় রচিত সব রকমের সাহিত্যের কেন্দ্র হতে পারবে কিনা।

|| ধার-নেয়া শব্দসকল ও নব্যশব্দরাজি || ইংরেজি এবং অন্য সব ইউরোপীয় ভাষায় লাতিন থেকে এবং লাতিন হয়ে গ্রীক থেকে আসা শব্দ বিস্তর। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর   ধার-নেয়া শব্দসকল ও নব্যশব্দরাজি ইংরেজি এবং অন্য সব ইউরোপীয় ভাষায় লাতিন থেকে এবং লাতিন হয়ে গ্রীক থেকে আসা শব্দ বিস্তর। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পথ ধরে প্রবেশ করেছে সেগুলো। হয়ত ভাবছেন এসবের বেশিরভাগই মেলা আগে এসেছে, যখন অনেক বেশি মানুষ লাতিন ভাষায় কথা বলত, কিন্তু এর উল্টোটাই বরং সত্যি। গত একশো বছরে আমরা এই উৎস থেকে যত শব্দ নিয়েছি বিগত অন্যান্য সব বছরগুলোতেও তা নিইনি। আর সত্যি বলতে কি, হারটা বাড়ছে বই কমছে না। আমরা কি স্যাটেলাইট না কেবলভিত্তিক ডিজিটাল চ্যানেল চাই? এটি ২০০৪ সালের একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়। (উল্লেখ্য, ২০০২ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত মূল সুইডিশ বইটির – Latin: Kulturen, historien, språket – ইংরেজি সংস্করণ বের হয়েছিল ২০০৪-এ: অনুবাদক)। বিশ বছর আগে ডিজিটাল সম্প্রচারের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, পঞ্চাশ বছর আগে ছিল না কোনো স্যটেলাইট বা উপগ্রহ, আর, একশ বছর আগে টেলিভিশন (television) শব্দটাই ছিল না। একশ বছর আগে পুরো বিষয়টাই একেবারে ধারণাতীত বলে মনে হতো, কিন্তু যে শব্দগুলো দিয়ে আমরা সেটার কথা বলছি লাতিন-জানা যে কারো কাছে সেটা কিছুটা হলেও বোধগম্য হতো তাতে সন্দেহ নেই। ‘Digital’ এসেছে লাতিন ‘digitus’ বা ‘আঙুল’ থেকে, কালের পরিক্রমায় যেটা দ্বিতীয় একটি অর্থ – ‘digit’ (সংখ্যা) – পরিগ্রহ করেছে, এই সাক্ষ্য দিতে যে ইংরেজি ‘digit’ একটি ধার নেয়া শব্দ এবং সেটা কেবল ওই দ্বিতীয় অর্থেই ব্যবহৃত। এখানে সংযোগটা স্পষ্টতই এই যে, সংখ্যা গোনার জন্য আমরা আমাদের আঙুল ব্যবহার করি। ডিজিটাল সম্প্রচারে নিরন্তর তরঙ্গ পরিবর্তনের বদলে এক আর শূন্য সম্প্রচার করা হয়। ‘television’-এ রয়েছে লাতিন শব্দ ‘visio’ বা ‘sight’-এর শব্দমূল, যার আগে যুক্ত হয়েছে গ্রীক ‘tele’ (দূরবর্তী)। ১৯৫০-এর দশকের আগে একরকম অপরিচিতই ছিল ‘satellite’, যা কিছু কিছু গ্রহ প্রদক্ষিণ-করা উপগ্রহগুলোর ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিদেরা আর কল্প-বিজ্ঞান কাহিনীর অদ্ভুত লেখকরাই কেবল ব্যবহার করতেন। যেহেতু মহাশূন্যে আমরা কিছু বস্তু পাঠিয়ে সেগুলোকে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করার ব্যবস্থা করতে পেরেছি, তাই শব্দটা – যা কিনা এসেছে লাতিন ‘satélles’ (সম্বন্ধপদীয় কারকে বা genitive case-এ ‘satéllitis’) বা, ‘সঙ্গী’, ‘আনুষঙ্গিক’ থেকে – একটি…

|| কিমিয়া, ডাকিনীবিদ্যা ও হ্যারি পটার || যদিও কেবল-ই কয়েকশ বছর আগে রসায়ন তার আধুনিক রূপে আবির্ভূত হয়েছিল, কিন্তু এটার একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরী ছিল, যা উদ্ভূত হয়েছিল সেই প্রাচীনযুগে। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর   কিমিয়া, ডাকিনীবিদ্যা ও হ্যারি পটার যদিও কেবল-ই কয়েকশ বছর আগে রসায়ন তার আধুনিক রূপে আবির্ভূত হয়েছিল, কিন্তু এটার একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরী ছিল, যা উদ্ভূত হয়েছিল সেই প্রাচীনযুগে। প্রাচীন মিশরীয়রা ধাতুর কাজে অত্যন্ত পারদর্শী ছিল এবং গ্রীকরা কখনোই তাদের গোপন পদ্ধতির রহস্যভেদ করতে পারেনি, যদিও অনেকেই সে-চেষ্টা করেছিলেন, আর সম্ভবত তার ফলেই কিমিয়ার সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এর একটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের বস্তু থেকে স্বর্ণ তৈরি, যা কিনা, বলাই বাহুল্য, যথেষ্ট লাভের সম্ভাবনাসম্পন্ন একটি প্রকল্প। মৌলগুলোর সঙ্গে অন্যান্য বস্তুর মৌলিক পার্থক্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে তখনো যেহেতু পরিষ্কার কোনো ধারণা গড়ে ওঠেনি – যেটা ঘটেছিল ১৮০০ খৃষ্টাব্দের দিকে – তাই চিন্তাটা এমন কিছু উদ্ভট ছিল না মোটেই। হেলেনিস্টিক সময়ে গ্রীকরাও বিপুল শক্তি ও সময় খরচা করেছিল বিষয়টা নিয়ে, এবং, স্বভাবত-ই তারা তাদের মোক্ষে পৌঁছুতে পারেনি, কিন্তু সে-চেষ্টা করার পথে বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তু আর সেগুলোর মধ্যে বিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞানলাভ ঘটে তাদের। অবশ্য, এই বিষয়টি নিয়ে যাঁরা কাজ করেছিলেন তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গীর সঙ্গে অন্যান্য গ্রীক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গীর প্রভেদ ছিল বেশ। তাঁরা মনে করতেন তাঁদের শিল্পটি মুসা বা খিওপ্সের ফেরাউনদের মতো দূর অতীতের প্রাচীন দেবতা বা বিখ্যাত চরিত্রদের দ্বারা অনুপ্রাণিত, এবং তাঁরা তাঁদের কাজে জ্যোতির্বিদ্যা, সাধারণ্যে প্রচলিত কুসংস্কার এবং আরো বিচিত্র সব উৎস থেকে পাওয়া ধ্যান-ধারণা অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তার মানে, গোড়া থেকেই কিমিয়া ছিল বরং বিজ্ঞানের এক অশিষ্ট জ্ঞাতি। রোমকরা কিন্তু কিমিয়ার এই ঐতিহ্যর পেছনে ছোটেনি খুব একটা, তবে এরিস্টটলের দর্শন যেমন আরবদের মাধ্যমে ইউরোপে পৌঁছেছিল, কিমিয়া সংক্রান্ত ধারণাগুলো-ও একই পথ ধরে মধ্যযুগের ইউরোপে পৌঁছেছিল। ১২০০ খৃষ্টাব্দের দিকে কিমিয়ার ওপর লাতিনে রচিত বেশ কিছু প্রবন্ধ বের হয়, বিখ্যাত সব আরব বিশেষজ্ঞদের তত্ত্ব আর নীতি ইত্যাদি নিয়ে। সেই থেকে কিমিয়া হয়ে দাঁড়ায় ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। টমাস একুইনাস, রজার বেকন আর আইযাক নিউটনের মতো বিশাল মাপের ব্যক্তিত্বসহ অসংখ্য বিখ্যাত মানুষ এর পেছনে সময় ব্যয় করেছেন, যদিও তাতে কাজের কাজ প্রায় কিছুই হয়নি। মূল উদ্দেশ্যটা ছিল স্বর্ণ…

|| পদার্থবিদ, রসায়নবিদ এবং অন্যান্যরা || মধ্যযুগের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল পাটিগণিত, জ্যামিতি আর জ্যোতির্বিদ্যা, এই তিন artes libereles। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর   পদার্থবিদ, রসায়নবিদ এবং অন্যান্যরা মধ্যযুগের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল পাটিগণিত, জ্যামিতি আর জ্যোতির্বিদ্যা, এই তিন artes libereles। ধ্রুপদী যুগে যে-জ্ঞান অর্জিত হয়েছিল সেই জ্ঞানের একটি অংশ হস্তান্তরের বেশি আর কিছুই ছিল না এটা একটা দীর্ঘ সময় ধরে। সত্যি কথা বলতে কি, ত্রয়োদশ শতকের আগ পর্যন্ত উন্নততর গণিতশাস্ত্র ও পদার্থবিদ্যার প্রতি নতুন করে আর কোনো আগ্রহ জন্মেনি কারো, এবং সেই অর্থে প্রকৃত উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয় কেবল-ই এই সপ্তদশ শতকে। এবং সবচাইতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে জ্যোতির্বিদ্যার ক্ষেত্রে। গ্রীক এবং রোমকগণ মহাজাগতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে অনেক কিছু জানতো, এবং তাঁদের পর্যবেক্ষণলব্ধ নানান কিছুর নাম-ও দিয়েছিল। রোমানরা ‘Mercury’, ‘Venus’, ‘Mars’, ‘Jupiter’ এসব গ্রহের যে নাম দিয়েছিল ঠিক সেই নামগুলোই এখনো ব্যবহার করি আমরা, যেগুলো কিনা সব-ই রোমক দেবতাদের নাম। আধুনিককালে যে তিনটি গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলোর নাম-ও একইভাবে অন্য তিন রোমক দেবতা ‘Uranus’, ‘Neptun’ ও ‘Pluto’-র নামে রাখা হয়েছে। প্রাচীন কালের মানুষজন নক্ষত্রগুলোকে নানান নক্ষত্রপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত করে সেগুলোর নামকরণ-ও করে গেছেন, এবং সেসব নামের অনেকগুলো এখনো ব্যবহার করি আমরা, যেমন ‘Leo’ (সিংহ), ‘Gemini’ (যমজ), ইত্যাদি। প্রাচীনকালে বিশ্বাস করা হতো পৃথিবী হচ্ছে মহাবিশ্বের কেন্দ্র, এবং সূর্য, চন্দ্র, এবং অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র তার পাশে আবর্তিত হয়। সতর্ক পর্যবেক্ষণ ও যথার্থ গাণিতিক হিসেব-নিকেশের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই সিদ্ধান্তে আসা হয় যে আসলে পৃথিবী-ই সূর্যের চারদিকে ঘোরে, এর উল্টোটা নয়। ষোড়শ শতকের গোড়ার দিকে কোপার্নিকাসের জন্ম দেয়া এই ধারণাটিকে জ্যোতির্বিদ গ্যালিলিও গ্যালিলি তথাকথিত ‘ভূকেন্দ্রিক তত্ত্বের’ বিরুদ্ধে দাঁড় করান ১৬৩২ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর “Dialogue Concerning the Two Chief World Systems” বইটিতে। আমাদের জানা আছে, প্রবল উত্তেজনা ও তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল বইটি। গির্জা গ্যালিলিওকে ধর্মদ্বেষী বলে ঘোষণা করে, এবং জীবনের বাকিটা সময়কে বিজ্ঞানী মহাশয়কে গৃহবন্দী হয়েই থাকতে হয়। গির্জার কাছে গ্যালিলিও গ্যালিলি যেসব কারণে বিপজ্জনক ছিলেন তার একটির সঙ্গে কিন্তু ভাষার সম্পর্ক রয়েছে। সে-সময়কার অন্য পণ্ডিতজনেরা যা করতেন, গ্যালিলিও কিন্তু সেরকম সব সময় লাতিন ভাষায় লিখতেন না। তাঁর “Dialogue” ইতালীয় ভাষায় লেখা, আর তাছাড়া, অপেক্ষাকৃত সহজ-সরলভাবে…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.