|| লিনীয়াস ও লাতিন || উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যায় প্রতিটি প্রজাতিরই লাতিন নাম রয়েছে। আজ আমরা ওপরের ওরকম সাদামাটা ইংরেজি টেক্সটে নামগুলো ব্যবহার করি না বললেই চলে, কিন্তু উদ্ভিদ বিজ্ঞানী আর জীববিজ্ঞানীরা যে কোনো পরিস্থিতিতেই পরস্পরের সঙ্গে আলাপ বা যোগাযোগ করুন না কেন তাঁরা এই প্রজাতিগুলোর কথা বলতে গেলে সেগুলোর লাতিন নামই উল্লেখ করেন। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর   লিনীয়াস ও লাতিন বনের মধ্যে ‘Anemóne nemorósa’ ভরা একটা ফাঁকা জায়গা দেখে আপনার হৃদয় উদ্বেলিত হয়ে উঠতে পারে। একটি ‘Motacilla alba’ দেখে আপনি হঠাৎ কেঁপে উঠতে পারেন, কিন্তু একেবারে আচমকা যদি আপনার সামনে একটা ‘Ursus arctos’ এসে উদয় হয়, সেক্ষেত্রে আপনার মানে মানে সরে পড়াই বোধ হয় ভালো হবে। এগুলো হচ্ছে, যথাক্রমে, বায়ু-পরাগী এক ধরনের বিশেষ ফুল, ল্যাজ নাচানে খঞ্জনা পাখি আর বাদামি ভল্লুকের লাতিন নাম। উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যায় প্রতিটি প্রজাতিরই লাতিন নাম রয়েছে। আজ আমরা ওপরের ওরকম সাদামাটা ইংরেজি টেক্সটে নামগুলো ব্যবহার করি না বললেই চলে, কিন্তু উদ্ভিদ বিজ্ঞানী আর জীববিজ্ঞানীরা যে কোনো পরিস্থিতিতেই পরস্পরের সঙ্গে আলাপ বা যোগাযোগ করুন না কেন তাঁরা এই প্রজাতিগুলোর কথা বলতে গেলে সেগুলোর লাতিন নামই উল্লেখ করেন। নামটাই যে কেবল লাতিন, তা নয়; প্রতিটি প্রজাতির আনুষ্ঠানিক বর্ণনাও হতে হবে লাতিনে। কেউ কোনো নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করলে তাঁকে এরকম একটা বর্ণনা লিখে প্রকাশ করতে হবে। এসব বিজ্ঞানে লাতিনের এখনো একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক উপযোগিতা রয়েছে। এই পরিস্থিতির ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার সঙ্গে চিকিৎসাশাস্ত্রের ঐতিহ্যের একটা বড় সম্পর্ক রয়েছে, যা আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। বহু বছর ধরে ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এবং স্বারস্বত জগতের লোকজনের মধ্যে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান সেরকম গুরুত্ব পায়নি। প্রাণী ও উদ্ভিদ নিয়ে চিকিৎসকেরা গবেষণা করতেন আসলে চিকিৎসাশাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সেগুলোর সম্ভাব্য প্রয়োগের জন্য। কাজেই লাতিন ব্যবহারের ঐতিহ্য এসব বিজ্ঞানে ততোটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যতোটা সেটা চিকিৎসাশাস্ত্রে শক্তিশালী হয়েছিল। সে যাই হোক, অষ্টাদশ শতকে, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং চিকিৎসাশাস্ত্র নির্ভরতা কাটিয়ে উঠে আত্মপরিচয় খুঁজে পায়। এক্ষেত্রে যাঁরা পথিকৃৎ ছিলেন তাঁদের অন্যতম হচ্ছেন কার্ল ভন লিনে (Carl von Linné) নামে সুইডেনের এক অধিবাসী, যাঁর নাম গোটা বিশ্বে সাধারণত, এবং অত্যন্ত যথার্থভাবেই, সেটার লাতিন রূপ ‘লিনীয়াস’ (Linnaeus) হিসেবে সুপরিচিত, অন্তত তাঁদের কাছে যাঁরা এই ক্ষেত্রটির ব্যাপারে আগ্রহী। লিনীয়াস ছিলেন দক্ষিণ সুইডেনের স্মালান্ড-এর এক যাজকপুত্র। বিদেশে পা বাড়াবার আগে তিনি লুন্ড এবং উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৭৩৫ খৃষ্টাব্দে তিনি হল্যান্ড যান, এবং…

|| চিকিৎসকবৃন্দ ও তাঁদের ভাষা || বিশেষ করে চিকিৎসকেরা যে গোঁয়ারের মতো লাতিনেই আটকে রইলেন এতোদিন, তার একটা সরল ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা আছে। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর   চিকিৎসকবৃন্দ ও তাঁদের ভাষা আজ অব্দি কতবার আপনাকে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এ-কথা শুনতে হয়েছে যে, ‘ও কিছু না, সামান্য ভাইরাস। দু’চারদিনের মধ্যে না সারলে একবার এসে দেখিয়ে যাবেন আমাকে’, অথবা, কপাল মন্দ হলে চিকিৎসক হয়ত বলেছেন: ‘আপনার এপেন্ডিসাইটিয হয়েছে, খুব দ্রুত অপারেশন করা দরকার।’ অথবা আপনার চিকিৎসক হয়ত কোনো ধরনের নিউরালজিয়া-র নিদান দিয়েছেন, এবং এনালজেসিকের শরণ নিতে বলেছেন? এসব কথায় এবং এরকম শত শত মন্তব্যে – যা কিনা প্রতিদিন হাসপাতালে এবং শল্যচিকিৎসায় শোনা যায় – ধ্রুপদী ভাষাগুলো থেকে নেয়া হাজারো শব্দ নিহিত রয়েছে। ‘Virus’ এসেছে লাতিন থেকে, যেখানে সেটির মানে কোনো প্রাণী যেমন সাপ বা কাঁকড়াবিছের বিষ, বা কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের নিঃসরণ যার ভেতর কোনো জাদুর বা ভেষজ গুণ রয়েছে বলে মনে করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্লিনি বলছেন নেকড়ের শরীর থেকে একটি ‘virus amatorium’ বা ‘প্রেমসুধা’ নিঃসরিত হয়। ‘Appendix’-এর মানে স্রেফ ‘appendage’ বা ‘বাড়তি জিনিস’ বা ‘উপাঙ্গ’, এবং সেটা ক্রিয়া ‘appendo’ বা ‘ঝুলে থাকা’-র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে এখন সেটা বিশেষ করে সেই মূল্যহীন অঙ্গটিকে বোঝায় যেটায় মাঝে মাঝে প্রদাহ হতে পারে, যেটা প্রবল যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে শরীরে এবং শল্যচিকিৎসার সাহায্যে সেটাকে অপসারণ করতে হতে পারে। ‘Neuralgia’, যার মানে ‘nerve pain’ বা, স্নায়ুর যন্ত্রণা, সেটা এসেছে গ্রীক দুই শব্দ ‘neuron’ বা ‘স্নায়ু’ এবং ‘algia’ মানে ‘যন্ত্রণা’ থেকে। আর, গ্রীক ভাষায় উপসর্গ a-/an- নেতিবাচক অর্থ বহন করে, যেমন ‘amoral’; কাজেই একটি ‘analgesic’ তাই যা যন্ত্রণা দূর করে। আসলে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রায় সমস্ত সমস্ত শব্দই এসেছে লাতিন বা গ্রীক থেকে। অবশ্য বিজ্ঞানের আরো অনেক পরিসরের ক্ষেত্রেও কথাটা সত্যি হলেও আমরা দেখবো যে চিকিৎসাশাস্ত্রের বিষয়টা বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে, কারণ সেখানে অগুনতি অপরিবর্তিত লাতিন শব্দ রয়েছে, যেমন ‘appendix’ ও ‘virus’। এই কিছুদিন আগেও ‘deménetia senilis’ বা ‘বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রংশ’ জাতীয় কথা ব্যবহার ক’রে রোগের নিদান লাতিনে লেখা খুব-ই সাধারণ একটি ব্যাপার ছিল চিকিৎসকদের জন্য। লাতিনে ‘senilis’ হচ্ছে স্রেফ বার্ধক্যর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষণ, যা কিনা ইতিবাচক বা…

|| রেনেসাঁ || প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইউরোপের ইতিহাসকে সাধারণত তিনটে কালপর্বের পরম্পরা হিসেবে দেখা হয়: প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আর আধুনিক যুগ। রেনেসাঁ নামে অভিহিত একটি বিষয় দিয়ে আধুনিক যুগের সূচনা হয়। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর   রেনেসাঁ প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইউরোপের ইতিহাসকে সাধারণত তিনটে কালপর্বের পরম্পরা হিসেবে দেখা হয়: প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আর আধুনিক যুগ। রেনেসাঁ নামে অভিহিত একটি বিষয় দিয়ে আধুনিক যুগের সূচনা হয়। একথার সুস্পষ্ট মর্মার্থ হচ্ছে প্রাচীন যুগ ছিল উন্নত সভ্যতার একটি সময়, যেখানে মধ্যযুগ ছিল পতনের বা অবক্ষয়ের একটি কাল যার পরিসমাপ্তি ঘটে শেষ অব্দি রেনেসাঁ অর্থাৎ ধ্রুপদী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পুনর্জন্মের মাধ্যমে। এতে অবাক হবার কিছু নেই যে এই ধারণাটি আবিষ্কার এবং সেটার প্রসার ঘটিয়েছিলেন রেনেসাঁ আন্দোলনের পুরোধা প্রতিনিধিবৃন্দ, যাঁরা ছিলেন চতুর্দশ, পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকের ইতালীয় লেখক শিল্পী এবং অন্যান্য বুদ্ধিজীবী। অবশ্যই, এই কালপর্বে ইতালির সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে যে অসাধারণ সব সাফল্য অর্জিত হয়েছিল তাতে কোনো সন্দেহ নাই: সাহিত্যাঙ্গনে পেত্রার্ক ও বোক্কাচিও, এবং চিত্রকলার ক্ষেত্রে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ও রাফায়েলের নাম উল্লেখ-ই বোধ হয় যথেষ্ট হবে। এই মানুষগুলো ধ্রুপদী প্রাচীনযুগ সম্পর্কে তাঁদের উল্লেখযোগ্য প্রবল আগ্রহের কারণেই এতো বিখ্যাত বা অসাধারণ বা মহৎ হয়ে উঠেছিলেন কিনা সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। এবং সে-প্রশ্নটা আমরা এখানে অনায়াসে একপাশে সরিয়ে রাখতে পারি। এ-সময়ে লাতিন কতটা ব্যবহৃত হয়েছিল সে-প্রসঙ্গে এ-কথা বলতে হয় যে রেনেসাঁ এক্ষেত্রে কোনো বাঁক ফেরানো মুহূর্তের সৃষ্টি করেনি। আমরা দেখেছি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ত্রয়োদশ শতক থেকে একেবারে বিংশ শতক পর্যন্ত সংঘটিত এই পরিবর্তনগুলো ছিল ধীর, দীর্ঘ মেয়াদী এবং লাতিনের জন্য ক্ষতিকারক। যদিও রেনেসাঁর সঙ্গে সঙ্গে যা এলো তা হচ্ছে শুদ্ধতার প্রতি একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। প্রাচীন যুগের পর কেটে যাওয়া বহু শতাব্দীতে লাতিন শব্দ ভাণ্ডার যথেষ্টই সম্প্রসারিত হয়েছিল, এবং গড়ে উঠেছিল ভাষা ব্যবহারের নতুন স্বভাব ও শৈলী। রেনেসাঁ সময়ের অগ্রগণ্য অসংখ্য ব্যক্তিত্বই বিদ্বান মানবতাবাদী ছিলেন; ধ্রুপদী প্রাচীন যুগের সাহিত্যিক টেক্সটগুলো যে সেসবের বিষয়বস্তু ও অনুকরণযোগ্য ভাষা এই দুইয়ের কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সে-বিষয়ে নিঃসন্দেহ ছিলেন তাঁরা। কাজেই অ-ধ্রুপদী শব্দাবলী এবং অভিব্যক্তি অপসারণ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন তাঁরা; মোটের ওপর চেষ্টা করেছিলেন তাঁদের সময়ের লিখিত এবং বাচিক বা কথ্য লাতিনের মানোন্নয়ন করবার। সেটা যে একেবারে নতুন ব্যাপার ছিল তা কিন্তু নয়; আমরা…

|| চিন্তকবৃন্দ || আগেই বলা হয়েছে, এবেলার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করেছেন ইউরোপীয় দর্শনের বিকাশে, আর এই ক্ষেত্রটির অগ্রগতি ভাষাজ্ঞান ও ভাষাব্যবহারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর চিন্তকবৃন্দ আগেই বলা হয়েছে, এবেলার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করেছেন ইউরোপীয় দর্শনের বিকাশে, আর এই ক্ষেত্রটির অগ্রগতি ভাষাজ্ঞান ও ভাষাব্যবহারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। সত্যি বলতে কি, দর্শন হলো – তর্কসাপেক্ষভাবে – একটি ভাষা ব্যবহারের সর্বগ্রাসীতম উপায়। গ্রীক দার্শনিকবৃন্দ আর তাঁদের ধ্যান-ধারণাই রাজত্ব এবং প্রভাব বিস্তার করে ছিল গোটা প্রাচীনকাল জুড়ে, এমনকি রোমকদের মধ্যেও। সর্বসাকুল্যে দুজন লাতিন লেখক পঠিত হতেন বিপুলভাবে – সিসেরো আর সেনেকা, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রীক চিন্তা-ভাবনার জনপ্রিয় বিষয়গুলোর কথাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নতুন করে বলেছেন তাঁরা। খৃষ্টধর্মাবলম্বী কিছু কিছু চিন্তক ছিলেন আরো স্বাধীন, আরো উদ্ভাবনকুশল, বিশেষ করে অগাস্তিন, কিন্তু এমনকি তাঁরও বহু ধ্যান-ধারণা গ্রীক দার্শনিক এবং ধর্মতাত্ত্বিকদের কাছ থেকে নেয়া। গ্রীক জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রাচীনকালের শেষ দিকে এসে বিরল থেকে বিরলতর হতে থাকে এবং ক্যাসিওদোরাসের মতো লেখকেরা ছোট ছোট লাতিন সংক্ষিপ্তসারের মাধ্যমে গ্রীক মনীষার কিয়দংশ সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। ক্যাসিওদোরাসের সমসাময়িক একজন এরিস্টটলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক রচনা আর টীকা-ভাষ্য লাতিনে অনুবাদ করেছিলেন, আর তাঁর এই অবদান অত্যন্ত মূল্যবান বলে বিবেচিত হয়েছিল শত শত বছর ধরে। ভদ্রলোকের নাম বোয়েথিয়াস – মানুষ এবং দার্শনিক দুদিক থেকেই যিনি কিনা ছিলেন অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক ব্যক্তিত্ব। এক প্রাচীন ও বিশিষ্ট রোমক পরিবারে জন্ম হয়েছিল বোয়েথিয়াসের, এবং রাভেনা (Ravenna) থেকে শাসন করা অস্ট্রোগথিক রাজা থিওডোরিকের দরবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরি করতেন তিনি, যদিও বহু বছর কর্মরত থাকার পর ভদ্রলোক রাজানুগ্রহ হারান, এবং ৫২৩ খৃষ্টাব্দে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। পরের বছরের তাঁকে মেরে ফেলা হয়। রায়ের জন্য অপেক্ষারত থাকাকালীন তিনি চমৎকার একটি লেখা লেখেন যার নাম ‘De consolatione philosophiae’ বা ‘দর্শনের সান্ত্বনা’ (‘The Consolation of Philosophy’। নারীরূপী দর্শন তাঁর কারাপ্রকোষ্ঠে হাজির হয়ে তাঁর দুর্ভাগ্য নিয়ে আলাপ করে। তিনি তাকে বলেন কি কি উপায়ে তিনি সারাজীবন যা কিছু শুভ তার জন্য কাজ করে গেছেন এবং দুর্বলদের রক্ষা করেছেন, অথচ কিভাবে ক্ষমতাশালী ও দুষ্ট লোকজন তাঁর ক্ষতি করেছে। নারীরূপী দর্শন জবাবে তাঁকে বলে তাঁর এতো দুঃখ কষ্ট সত্ত্বেও তিনি একটি ভালো জীবন যাপন করেছেন, এবং…

|| এবেলার্ড ও ইলোইযা (শেষার্ধ) || যে ঘটনাগুলোর কথা আমরা এই মাত্র বললাম সেগুলো ঘটেছিল ১১১৭ থেকে ১১১৯ খৃষ্টাব্দের মধ্যে, যখন এবেলার্ডের বয়স আটত্রিশ, ইলোইযার আঠারো কি উনিশ। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর এবেলার্ড ও ইলোইযা (শেষার্ধ) যে ঘটনাগুলোর কথা আমরা এই মাত্র বললাম সেগুলো ঘটেছিল ১১১৭ থেকে ১১১৯ খৃষ্টাব্দের মধ্যে, যখন এবেলার্ডের বয়স আটত্রিশ, ইলোইযার আঠারো কি উনিশ। এর প্রায় পনেরো বছর পর, খুব সম্ভব ১১৩৪ খৃষ্টাব্দে এবেলার্ড তাঁর ‘Historia calamitamum’ রচনা করেন, যখন তাঁর বয়স পঞ্চান্ন। এই বইতে তিনি বিগত পনেরো বছরে তাঁর জীবনের ঘটনাবলীর বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যা কিনা তাঁর সারা জীবনের মতোই ছিল দ্বন্দ্ব-সংঘাতে পরিপূর্ণ। সেসময় তিনি একটি মঠের মোহান্ত বা মহাধ্যক্ষ ছিলেন, আর ইলোইযা একটি কনভেন্টের মঠাধ্যক্ষা। তাঁদের জীবনের সেই সময়ের লেখা বেশ কিছু পত্র আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। সেগুলোর প্রথমটি এবেলার্ডকে লেখা ইলোইযার চিঠি, আর তাতে তিনি বলছেন যে ঘটনাক্রমে তাঁর হাতে এবালার্ডের ‘Historia calamitamum’ এসে পড়ে এবং সেটা পাঠান্তে তিনি তাঁকে চিঠি না লিখে পারেননি। এরপর এবেলার্ড ইলোইযাকে চিঠিটার জবাব দেন, তারপর ইলোইযা এবেলার্ডকে, এইভাবে চলতে থাকে। পৃথিবীর সাহিত্যের ইতিহাসে এই ইলোইযা-এবেলার্ড পত্রাবলী সবচাইতে বহুল পঠিত ও আলোচিতগুলোর অন্যতম, বিশেষ করে প্রথম চিঠি দুটো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিস্মিত ও মুগ্ধ করে রেখেছে পাঠকদের। এই পত্র দুটোর শুরুতে তিনি এবেলার্ডের প্রতি তাঁর প্রেমকে ব্যাখ্যা করেছেন: ‘te semper, ut ómnibus patet, immoderato amóre complexa sum’ – ‘সব সময়ই আমি তোমাকে নিঃসঙ্কোচ প্রেমের সঙ্গে আলিঙ্গন করতে চেয়েছি, যা সবাই জানে।’ বেশিরভাগ সময়েই তিনি এবেলার্ডকে ‘unice’ বা ‘ আমার একমাত্র’ বলে সম্বোধন করেছেন। এবেলার্ড যা কিছু করেন, যা কিছু ভাবেন তা অন্য সব কিছুর চাইতে ভালো; তাঁর প্রতিভা আর জ্ঞান রাজা-বাদশা বা সম্রাটদের চাইতেও ঢের বেশি; তিনি সবার চাইতে সুন্দর, অন্য যে কারো চাইতে ভালো গাইতে আর লিখতে পারেন, বিবাহিত-অবিবাহিত সব নারী তাঁকে পছন্দ করেন। ইলোইযা যা কিছু করেছেন সব এবেলার্ডের প্রতি ভালোবাসার কারণেই করেছেন, অন্য কোনো কারণে নয়। আর সেটা বিশেষ করে প্রযোজ্য কনভেন্টে তাঁর যোগ দেবার ক্ষেত্রে। ‘Tua me ad religiónis hábitum iússio, non divina traxit diléctio’ – ‘তোমার আদেশ ছিল তাই আমি কনভেন্টে যোগ দিয়েছিলাম, ঈশ্বরকে ভালোবেসে যোগ দিইনি।’ ফলে, তিনি আরো…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.