পাকিস্তানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকট এবং পাকিস্তান-আফগানিস্তানে তালেবান উত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত ফারুক চৌধুরীর এ লেখাটি আলোচনার জন্য নির্বাচন করা হল। প্রশ্ন হল, পাকিস্তানে সোয়াত উপত্যকার ঘটনাবলী বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের রাজনৈতিক আকাশে মেঘ জমার কোন আগাম ইঙ্গিত দিচ্ছে কি?
=================

ঝুঁকির মুখে পাকিস্তান: আতঙ্ক-হতাশার নগর ইসলামাবাদ

লাহোর থেকে ফারুক চৌধুরী
ইসলামাবাদে এখন বসন্ত যাই যাই করছে। তবে ভোরের হাওয়ায় শীতের ছোঁয়া এখনো মিলিয়ে যায়নি। সূর্য এখনো হালকা কুয়াশায় ঢাকা মারগালা পাহাড়ের ওপার থেকে সন্তর্পণে উঁকি দেয়−তারপর বেরিয়ে এসে দিনভর আলো ছড়ায়। দুই হাজার ৩০০ বছর আগে সোয়াত উপত্যকাবিজয়ী আলেকজান্ডারের মুখে, বিংশ শতাব্দীর নাট্যকারের বর্ণনায়, ‘দিনে প্রচণ্ড সূর্যের গাঢ় নীল আলো’ এখনো ইসলামাবাদের ‘আকাশ গুঁড়িয়ে দিয়ে’ যায় না। কল্পনা করতে কষ্ট হয় না মোটেও, যে ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে, সোয়াত উপত্যকার নিচ, প্লমি আর এপ্লিকটের উদ্যানরাজিতেও ভোরের মিষ্টি রোদ এখনই ছড়িয়ে পড়ছে। ভাবতে কষ্ট হয় না এই কারণে যে মাত্র ১০ বছর আগে ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে সোয়াতের মিয়াদাম, পাকিস্তান টুরিজম করপোরেশনের অতিথিশালায় ভোরে জেগে অবলোকন করেছিলাম এমনি এক সুন্দর সকাল। তার পুনরাবৃত্তি, এখন কেন, অদূর ভবিষ্যতেও সম্ভব হবে না। সোয়াত, শুধু সোয়াত কেন, মালাখন্দ এজেন্সির প্রায় সব রাস্তাই এখন বন্ধ।
তালেবানরা স্থানে স্থানে মাইন পেতে দিয়েছে, এলাকার বাসিন্দাদের মালাখন্দের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসতে বাধা দিচ্ছে−রণকৌশলেরই অংশ হিসেবে। নিরস্ত্র জনসাধারণকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করা, তাদের ভাবনায়, ধর্মের পরিপন্থী নয় মোটেও। তবু প্রাণভয়ে পালিয়ে আসছে হাজার হাজার বাস্তুহারা। তাদের সংখ্যা এখনই পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দেরিতে হলেও সক্রিয় হচ্ছে। ইসলামাবাদ শহরের উপকণ্ঠে তো বটেই, শহরের অভ্যন্তরে অভিজাত এফ-৭ এলাকায়ও স্থাপিত হয়েছে একটি বাস্তুহারা ক্যাম্প।
গত ষাটের দশকের কথা মনে পড়ে। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান ও আরও অনেকের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গিরিরাজির নিরালায়, আইয়ুব খান স্থাপন করেছিলেন কৃত্রিম, নয়নাভিরাম এই জনপদ। এই যুক্তিতে যে করাচির মতো ব্যস্ত শহরের কোলাহল নতুন রাজধানীর হোমরাচোমরাদের দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটাবে না−মিছিল, ঘেরাও, জনসভার মতো ‘অসহ্য’ সব কর্মকাণ্ডের জ্বালা সহ্য করতে হবে না পাকিস্তানের রাজধানীবাসীর। তারপর ছিল আরও একটি অকাট্য যুক্তি। এটা হলো, প্রতিরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে করাচির মতো প্রান্তিক বন্দরনগর নিরাপদ নয় মোটেও। এদিকে ইসলামাবাদের রয়েছে ‘নিরাপত্তা গভীরতা’ (Depth of Defence)। সোজা কথায়, ইসলামাবাদ করাচির তুলনায় ভারত থেকে দূরে!
সেই ইসলামাবাদ আজ এক আতঙ্ক আর হতাশার নগর। গত তিন দিনে সর্বস্তরের অনেক মানুষের সঙ্গেই কথা হয়েছে। অনিশ্চয়তায় ভরা সবারই মন। হঠাৎ যদি কিছু ঘটে! এক রাতে কজন পাকিস্তানি বন্ধুর সঙ্গে নৈশভোজে বসে মনে হয়েছিল, যদি বিকট শব্দে অদূরের কোনো বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ফাটে, আর কেউ বলে ওঠে যে তালেবানরা এল বলে, দুর্বলচিত্তের সবাই দিগ্বিদিক ছিটকে পড়বে।
আইয়ুব খানের সে কালের শত্রু-ভাবনা বর্তমান ঘটনাবলির রূঢ় বাস্তবতার আলোকে হাস্যকর মনে হয়। ঘরের শত্রু অনেক অবস্থাতেই বাইরের শত্রুর চেয়েও ভয়াবহ হয় এবং ভ্রান্ত নীতি এবং যথাসময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনীহা একটি রাষ্ট্রের সংহতি এবং নিরাপত্তা বিপন্ন করে, যেমন করেছে পাকিস্তানের।
ধারাবাহিক সামরিক ও সেনাবাহিনী প্রভাবিত শাসন পাকিস্তানের রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে যে ক্রমে ক্রমে দুর্বল করে তুলেছে, এ নিয়ে দ্বিমত এখন পাকিস্তানে প্রায় নেই। কিন্তু পাকিস্তানের দুর্ভাগ্য এই যে বহু প্রতীক্ষার পর এ দেশে সাধারণ নির্বাচন বেনজির ভুট্টোর মৃত্যুসৃষ্ট একটি অসাধারণ বিয়োগান্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো। এবং প্রধানত আবেগসৃষ্ট কারণেই জারদারি আজ পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি। না হলে রাষ্ট্রপতি হওয়ার তাঁর যোগ্যতা মোটেই ছিল না। সুনামও তাঁর নেই। তাঁর সততা ও চারিত্রিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ। অতএব বেনজির ভুট্টোর মৃত্যুর আবেগ জাতি যতই কাটিয়ে উঠছে, জারদারি ততোই তাঁর জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন। রাষ্ট্রকর্মে তাঁর আন্তরিকতা সম্পর্কেও মানুষ সন্দেহগ্রস্ত। পাকিস্তানের এই ক্রান্তিকালে তিনি একনাগাড়ে ১৭ দিন পাকিস্তান থেকে অনুপস্থিত, যদিও প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকারপর্বে পাঁচ দিনের বেশি সময় লাগার কথা নয়। সম্রাট নিরোর রোম পোড়া আর বাঁশি বাজানোর গল্পটি ইসলামাবাদে আজ অনেকেরই মুখে। আজ যদি আবার এ দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে মিয়া নওয়াজ শরিফই যে বিজয়ী হবেন, তা এখন অনেকেই মনে করেন। কিন্তু তা তাৎক্ষণিক কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এ কারণে যে পারভেজ মোশাররফ-প্রণীত সংবিধান আজও বহাল আছে। অতএব ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি পদে, সেই অবস্থায়ও জারদারি সমাসীন রইবেন। গণতান্ত্রিক উপায়ে জারদারিকে অপসারণ, একমাত্র অভিশংসনের মাধ্যমেই সম্ভব। কিন্তু পাকিস্তানের সংসদ সেই অবস্থানে এখন নেই। মধ্যমেয়াদি নির্বাচনই সেই অবস্থান সৃষ্টি করতে পারে−কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে নির্বাচন দৃশ্যমান নয়। তবুও প্রশাসনের কাছাকাছি নওয়াজ শরিফকে নিয়ে আসার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছে বলে অনেকেই ভাবেন। ‘জাতীয় সরকারের’ আলোচনা শোনা যায়। কিন্তু ক্ষমতা যখন প্রেসিডেন্টের হাতে, আগামী দিনের কোনো জাতীয় সরকারে নওয়াজ শরিফ স্বয়ং কি সম্পৃক্ত হতে চাইবেন? অথচ তাঁর জনপ্রিয়তা এখন যে তুঙ্গে, তা যুক্তরাষ্ট্রের অজানা নেই।
এদিকে সামরিক শাসন এ দেশের বেসামরিক প্রশাসনকে ক্রমে ক্রমে দুর্বল করছে এবং তার দক্ষতা ও মান এখন আশানুরূপ নয় মোটেও। এ দেশের আতঙ্কিত জনগণের রাজনৈতিক চেতনার মূলেও আঘাত হেনে গেছে আইয়ুব, ইয়াহিয়া, জিয়াউল হক আর পারভেজ মোশারফের সামরিক মদদপুষ্ট শাসন। তাই দেশের এই ক্রান্তিকালেও জনসাধারণের রাজনৈতিক তৎপরতা নজরে আসে না। ভীতি যেন তাদের গ্রাস করে ফেলেছে। নির্বাচিত হয়েও যেন জারদারি আর তাঁর সরকার সত্যিকার অর্থে প্রতিনিধিত্বমূলক নয়। এই সংকটে তাই পাকিস্তানের জনগণ আজ বিহ্বল।
পাশ্চাত্যের ক্ষমতাধর একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের (তাঁর পরিচয় প্রকাশে আমি অপারগ) কথায় আগামী দিনেও সোয়াত, তথা মালাখন্দ অঞ্চলে সংঘাত তীব্রতর হয়ে উঠবে। তাঁর মতে, প্রথাগত রণকৌশলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে তালেবান গেরিলাদের সঙ্গে সংঘাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। সেই অঞ্চলে সংঘাতের কোনো চূড়ান্ত ফলাফল সময়সাপেক্ষ।
যেকোনো যুদ্ধেই প্রথম শিকার হয় সত্য ভাষণ। অতএব রেডিও আর টেলিভিশনে যুদ্ধের যে সামগ্রিক চিত্র আমরা পাই এবং পাব, তা এফএম রেডিও নেটওয়ার্ক মারফত তালেবান যোদ্ধাদের পাওয়া খবরের চেয়ে ভিন্নতরই হবে। তা ছাড়া উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানজুড়ে তালেবানদের নিরাপত্তা-গভীরতা ব্যাপক। এই সংঘাত তাই স্বল্পস্থায়ী হওয়ার নয়।
যুদ্ধে পাকিস্তান বিমানবাহিনীকে আকাশ থেকে হেলিকপ্টার গানশিপ ব্যবহার করতে হচ্ছে, করতে হচ্ছে বোমাবর্ষণ। তাতে সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থাটি রহস্যজনক ড্রোন বিমান আক্রমণ এবং আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের মতো সাধারণ মানুষের মনে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে। তা ছাড়া লাখ লাখ অভ্যন্তরীণ বাস্তুহারার মধ্যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে এবং তা সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবেই।
সোয়াতের ওয়ালি অর্থাৎ শাসনকর্তা মিয়াগুল আওরংজেবের সঙ্গে আমার পরিচয় বহু বছরের। তিনি প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের জামাতা। ১৯৬৯ সাল থেকে সোয়াত পাকিস্তানের ওতপ্রোত অংশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছিল। সোয়াতের ওয়ালি তাঁর সিংহাসন হারিয়ে পাকিস্তান সরকারের অধীনে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ছিলেন বেলুচিস্তানের গভর্নর। তখন নওয়াজ শরিফ ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। এই দায়িত্ব তিনি বছর দুয়েক পালন করেন। তারপর উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের গভর্নরের দায়িত্ব তিনি পালন করেন মাত্র মাস দুয়েকের জন্য। প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের ক্ষমতায় আসার পর তিনি চাকরিচ্যুত হন। তবে সোয়াতে তাঁর যথেষ্ট জায়গাজমি রয়েছে, রয়েছে বসতবাড়ি। ইসলামাবাদে তাঁর আবাস হলেও সোয়াতে তিনি প্রায়ই ফিরে যেতেন। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও তিনি সোয়াত সফর করেছেন। সত্তরের দশকে লন্ডনে তাঁর সঙ্গে পরিচয় ক্রমে বন্ধুত্বে পরিণত হয়। আইয়ুব খানের জামাতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ১৯৭১-এ বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরোচিত আচরণের তীব্র নিন্দা করতেন এবং জুলফিকার আলী ভুট্টোকে দায়ী করতেন ইয়াহিয়া খানকে বিপথে চালিত করার জন্য। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাবোধ ছিল এবং আগস্ট ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তিনি এবং তাঁর প্রয়াত স্ত্রী নাসিম আওরংজেব (আইয়ুব খানের কন্যা) আমাদের কাছে লন্ডনে তাঁদের আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তাঁর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয় ১৯৯৯ সালে আমার সোয়াত ভ্রমণের সময়টিতে। সে অন্য কথা।
ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে, ইসলামাবাদের এফ-৬/৪-এর তাঁর বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করলাম গত ৭ এপ্রিলের ভোরে।
বর্তমান অবস্থার ওপর তাঁর কথা হলো যে ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানে যোগদানের পর থেকেই সোয়াতের জনগণ পাকিস্তানের অদক্ষ, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ব্যয়বহুল বিচারব্যবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল। তারা ফিরে যেতে চাইছিল পুরোনো দিনের পাহাড়ি বিচারব্যবস্থায়, যা ছিল স্থানীয় প্রথা এবং ইসলামিক আইনের একটি গ্রহণযোগ্য সংমিশ্রণ। যার ফলে সোয়াতের জনগণ দ্রুত বিচার পেত এবং তারা বেশ কিছুদিন আগে থেকেই সেই বিচারব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার দাবি তোলে। এই দাবিতে মালাখন্দ অঞ্চলের সাধারণ মানুষও যোগ দেয়। তারা তাদের দাবিকে ‘শরিয়াহ আইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। কিন্তু তাদের দাবির কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল না। মিয়াগুল আওরংজেবের মতে, তাদের দাবির প্রতি সরকারের চরম নির্লিপ্ততার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় মোল্লারা কঠোর ইসলামিক অনুশাসনের দাবি তোলে এবং তাদের দাবিকে সহিংস রূপ দিয়েছে তালেবানরা, তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের ইচ্ছায়।
আওরংজেব আমার প্রশ্নের উত্তরে বললেন, সপ্তাহ, মাস কেন, এমনকি তাঁর জীবদ্দশায়ও তালেবানদের সেই সব অঞ্চল থেকে নিমর্ূল করা যাবে না (তিনি অবশ্য আমার সমবয়সী−অতএব তাঁর জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন না-ও হতে পারে!)। শুধু তাই নয়, এখন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের ভূতপূর্ব ব্রিটিশশাসিত জেলাগুলো, যথা ডেরা ইসমাইল খান, কোহাট, বান্নু ও হাংগু জেলায় তালেবানরা ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, তালেবানরা আফগানিস্তানে আবার ক্ষমতায় ফিরবে−যতই সময় লাগুক না কেন তাতে, এবং তাদের সঙ্গে পাকিস্তানি তালেবানদের রয়েছে নাড়ির সম্পর্ক। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে, যেখানে পাকিস্তানের দুর্নীতিপরায়ণ শাসকেরা সরকারের অর্থ আত্মসাৎ করছেন, সেখানে তালেবানরা সাধারণ মানুষকে অর্থদানে বাধ্য করছে। তালেবানরা মানুষ হত্যা করছে, সরকারও তো নিরীহ মানুষের প্রাণ নিতে কুণ্ঠিত নয়। অতএব তালেবানদের আমরা যে দৃষ্টিতে দেখি, পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষ তাদের ঠিক সেই দৃষ্টিতে দেখে না, যদিও তালেবানদের সামাজিক কড়াকড়ি তারা পছন্দ করে না।
মিয়াগুল আওরংজেব মনে করেন, এই যুদ্ধে, ভূখণ্ডের হাতবদল প্রায়ই ঘটবে এবং কোনো একটি অঞ্চল থেকে তালেবানদের উৎখাত করলে তারা আবার সুযোগমতো সেই স্থানে ফিরে আসবে। সেই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি স্থাপন সময়সাপেক্ষ হবে, বললেন আওরংজেব। সোয়াতে তাঁর বিষয়সম্পত্তি এখন তাঁর কর্মচারীরাই দেখাশোনা করছে, তবে তালেবানরা চাইলে নিমেষেই এ অবস্থা বদলে যাবে−হতাশায় দুই হাত তুলে কথাগুলো বললেন মিয়াগুল আওরংজেব। পাকিস্তান সম্পর্কে তাঁর উক্তি হলো, যে সরকারের দুর্নীতি এবং ব্যয়বহুলতা ব্যাপক, তাকে নিরাপত্তার জন্য বিদেশি প্রভাব মেনে নিতেই হবে। ‘এ কোন ধরনের স্বাধীনতা?’ বললেন মিয়াগুল আওরংজেব।
ইসলামাবদ থেকে মোটরপথে লাহোরের সাড়ে তিন শ কিলোমিটার অনায়াসেই পাঁচ ঘণ্টায় অতিক্রম করা যায়। লাহোরের পথে ঝিলাম আর রাবি নদী পেরোতে পেরোতে মনে হলো, ‘পঞ্চনদীর তীরে’ তালেবানদের মন্ত্রে ‘নির্মম নির্ভীক’ পাঞ্জাবিরা আবার জেগে উঠবে না তো? শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের ওপর আক্রমণ আর তারপর লাহোরের শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ওপর তালেবান আঘাত কি তার অশনিসংকেত নয়? সেই সম্পর্কে ধারণা নিতেই লাহোর আসা।

৭৯ comments

Have your say

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.