উৎসের রূপকথা কবে এবং কোথায় মানুষ প্রথম কফিগাছটিকে তার একটি প্রধান পানীয়ের উৎস হিসেবে চিনে নিয়েছিল এ বিষয়ে সঠিক জানাশোনা মানুষের ইতিহাসে নেই। এবং কেউই এখন আর জানে না কে ছিল সে মানুষ, যে এই উদ্ভিজ্জ পদার্থটিকে এক উষ্ণ সমৃদ্ধ সৌরভময় পানীয়ে রূপান্তর ঘটিয়েছিল। তাই এ বিষয়ে রূপকথার প্রচলনটাই বিশেষ। আর আমাদের একালে এর প্রতিটিকেই কমবেশি রম্য মনে হয়। এর মধ্যে যেটি বহুল প্রচলিত, এবং সবগুলোর মধ্যে বেশি সমৃদ্ধ, সেটি আমরা জানতে পেরেছি এক মারোনিৎ সন্ন্যাসীর কাছ থেকে, যখন তিনি সরবনের ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হয়ে এলেন আঠার শতকের গোড়ায়। তিনি প্রচার করলেন যে, এক খ্রিষ্টীয় বিহারের পাদ্রি মৃতসাগরের তীরগুলোর কাছাকাছি থাকা ছোট্ট টিলাগুলোতে বসে অবসর যাপন করতেন, একবার সেখানে তিনি চরে বেড়ানো ছাগলগুলোর মধ্যে আশ্চর্য এক আচরণ খেয়াল করলেন। তিনি দেখলেন এ ছাগলগুলো একজায়গায় বেশিক্ষণ না থেকে খালি ঘুরে বেড়ায় এবং সারা রাত জেগে কাটায়—এভাবে তিনি এও খেয়াল করলেন এ ছাগলগুলো একধরনের ঘন বেঁটে গুল্মের কাছে একত্র হয়, যে গুল্মের পাতা ঘনসবুজ শক্ত এবং উজ্জ্বল আর সমস্ত গুল্ম ভরে থাকে এক

প্রকার দানায় যা দেখতে বেগুনী, খুবই জীবন্ত এবং ছোট্ট চেরিখণ্ডের মতো। তিনি দেখলেন ছাগলগুলো এসবই চিবুচ্ছে। বুড়ো পাদ্রি এই দেখে এই দানাগুলো পানিতে সিদ্ধ করতে লাগলেন ভেবে দেখলেন হয়তো এভাবে পান করে তিনি intoxicated হতে পারবেন। বেশ করে ফুটালেন তিনি, ঐ ফুটন্ত পানীয়ই তিনি যন্ত্রণা নিয়ে পান করলেন, আশ্চর্য! এ তাকে নিয়োজিত করল এক মাতাল অবস্থায়—কিন্তু তার আনন্দের হাবভাব একটুও নষ্ট হলো না—তার চেতনার কিঞ্চিৎ লোপও তিনি অনুভব করলেন না। পক্ষান্তরে তার মানসিক অবস্থান আরো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল আর ভাবগুলোকে দেখতে পেলেন স্বচ্ছতম দশায়—বেশ প্রাণবন্ত আর গতিময়। তিনি উপলব্ধি করলেন সান্দ্রতায় তার চিন্তাগুলোর জট খুলছে কী বিশুদ্ধ একেকটি পদক্ষেপে। আশেপাশের বস্তুজগত আর ভূমিচিত্র যা তাকে ঘিরে আছে হয়ে উঠল চরম প্রেরণাদায়ী। যে জিনিসটির প্রতি তিনি তাকাতেন বা যে চিন্তাটির মধ্যে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করতেন, তা যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন, শেষ মুহূর্তে তিনি তার থেকে আবিষ্কার করতেন এক অপ্রত্যাশিত গুরুত্ব। প্রত্যঙ্গগুলো হতো হালকা, মস্তিষ্ক হতো সকল ভারমুক্ত, ধর্মতত্ত্ব হয়ে উঠত মানসিক মত্ততার এক অভিজ্ঞতা যা তন্দ্রাকে দূরীভূত করত এবং ফিরিয়ে…

আমরা আমাদের প্রতিনিয়তের গ্লানি নিয়ে উৎসবে আক্রান্ত হই। অংশগ্রহণ থেকে অনেক দূরে আমাদের অবস্থান। এতই দূরে যে আর কিছুই আমাদের উৎসবের উদযাপিত দিনের কাছে নিয়ে যেতে পারে না। মৃত, এই মৃত্যু, আমরা আমাদের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছি, কেউই নেই আর আমাদের ফেরাতে পারে। ভুলেও আমরা ফিরব না, ভুলেও আমরা দেখব না, আমাদের যা কিছু, পণ্যতার বিবরণ ছাড়া তাতে আর কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে না। যত বিভৎস হতে পারে লালসাদা, যত কল্পনাহীন হতে পারে সাদাকালো, যত অন্বয়হীন হতে পারে রংবেরং—এই নিয়ে এখন আমাদের উৎসবের দিনযাপন। আমরা নাগরিকতাহীন সব শহুরে বিদঘুটে পরিজন, আমাদের পরিমণ্ডল আমাদের দিনাতিপাতকেই শুধু বহন করে, আমাদের নেই কোনো URBAN CENTRE যা না থাকলে নাগরিক সংষ্কৃতি তার প্রকাশ খুঁজে পায় না, লাইব্রেরি নেই, মিউজিয়াম নেই, সঙ্গীত কেন্দ্র নেই, নৃত্যকেন্দ্র নেই, ওই দিনাতিপাত আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে, উৎসবে তার দগদগে ঘা দেখতে পাচ্ছি। পহেলা বৈশাখ ডিসিহিল সিআরবি দামপাড়া চট্টগ্রাম।

আজ ২৫ চৈত্র ১৪১৫, ০৮ এপ্রিল ২০০৯, রাত ৯-৪১ পূর্ণিমা লেগেছে। চৈতি পূর্ণিমা আমার ব্যক্তিগত বিশেষ রাত। বছরের শেষ পূর্ণিমায় আগামী বছরের উল্লেখযোগ্য কোনো আশঙ্কা বা আশা আমাকে ভাবিত করে। এবছর আশঙ্কা। ভাবছি এই প্রায় একঘণ্টা ধরে। ভাবছি এমন একটি ভাবনা পোস্টে দেব কি না, চন্দ্রাহত ভাবনা কি এটা, বুঝে উঠতে পারছি না। তবে মনে হচ্ছে এই আশঙ্কার কথা সবাইকে বলা যায়, ব্লগ তো এক অর্থে দিনপঞ্জি, তবে বলি : আওয়ামী লীগ ভাঙবে আগামী বছরে, হতে পারে আষাঢ়-শ্রাবণে (জুলাই-অগাস্ট ২০০৯) বা বাংলার রাজনৈতিক ঋতুতে অগ্রহায়ণ-পৌষে (নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০০৯)। নতুন দলের চরিত্র হতে পারে মধ্যপন্থার, ডান নয় বামও নয়। আগের মতো বিছিন্ন দু-একজনের ভাঙন নয়—বড় সফল ভাঙন। শেক্সপিয়রের ‘চৈতালি রাতের স্বপ্ন’ আমার পড়া নেই, কিন্তু জানি এ নাটকের অভিকরণ (performance) লন্ডনে আমেরিকায় সফল মিউজিকাল, নাচে গানে ভরপুর দুর্দান্ত শো। চৈতি পূর্ণিমা এলেই আমার Midsummer Night’s Dream পড়তে ইচ্ছে করে, কিন্তু এতগুলো চৈতি পূর্ণিমা পার হয়ে গেল, কেন যেন আজো পড়া হলো না! চৈতি পূর্ণিমা ১৪১৫ সমুদ্রবন্দরচট্টগ্রাম।

পছন্দ না হলে বলুন[...]

অবশ্যই আছে – এগুলো দেখুন, পছন্দ না হলে বলুন, আমার আরো আছে। “Of course, I have principles – and if you don’t like those, I have others” Groucho Marx.

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.