চিন্তাঝড় ১: বিডিআর বিদ্রোহ — প্রথম প্রহর‌‌ — কী কারণে? কারা? ঠিক এখনই কেন?

পরিকল্পিতভাবে দ্রব্যমূল্যস্ফীতি - বিডিআর নিয়ন্ত্রিত 'অপারেশন ডালভাত' - উঁচু পর্যায়ে অফিসারদের সেখান থেকে আখের গোছানোর অভিযোগ - সেই সাথে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের বেতন ভাতা ইত্যাদি নিয়ে দীর্ঘকালীন বঞ্চনাপ্রসূত ক্ষোভ - পিলখানা ক্যাম্পে গোলাগুলি - ঘটনাস্থলে সেনা বাহিনী মোতায়েন ‌- সেনা বাহিনী বিডিআর মুখোমুখি - জিম্মি উর্ধ্বতন অফিসাররা - হতাহতের সংখ্যা অনিশ্চিত ‌- সমঝোতা আলোচনা‌ - দাবী দাওয়া বিবেচনার এবং তা পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস - অস্ত্র সমর্পনের আহ্বান - সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা - অস্ত্র সমর্পন - আটকে পড়া নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে . . .

[পোস্টের শিরোনাম ঈষৎ বদলে নেয়া হল]
পরিকল্পিতভাবে দ্রব্যমূল্যস্ফীতি – বিডিআর নিয়ন্ত্রিত ‘অপারেশন ডালভাত’ – উঁচু পর্যায়ে অফিসারদের সেখান থেকে আখের গোছানোর অভিযোগ – সেই সাথে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি নিয়ে দীর্ঘকালীন বঞ্চনাপ্রসূত ক্ষোভ – পিলখানা ক্যাম্পে গোলাগুলি – ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী মোতায়েন ‌- সেনাবাহিনী বিডিআর মুখোমুখি – জিম্মি ঊর্ধ্বতন অফিসাররা – হতাহতের সংখ্যা অনিশ্চিত ‌- সমঝোতা আলোচনা‌ – দাবি-দাওয়া বিবেচনার এবং তা পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস – অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান – সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা – অস্ত্র সমর্পণ – আটকে পড়া নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে – পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা পিলখানায় প্রবেশ করে দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন ‌- মৃতদেহের তন্ন তন্ন অনুসন্ধান চলছে . . .

জরুরী: উপরের ঘটনাক্রমের আপডেট ছাড়া এই পোস্টটি মূলতঃ লেখা হয়েছে ঘটনার প্রথম প্রহরে। জরুরী তথ্য-সীমাবদ্ধতা ছিল এটি লেখার সময়। তাই পাঠকের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে সেটি আমলে নেয়ার জন্য।

ঘটনার সাম্প্রতিকতা বিবেচনায় এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। সবাই মিলে এসব প্রশ্নের পাশাপাশি আরও নতুন সব প্রশ্ন তুলে আনার এবং সে সবের উত্তর খোঁজায় মনোনিবেশের সময় এখন।

[কোনো সুনির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করা হয়নি এখানে]

– ব্যারাক এলাকায় যেসব নারী, শিশু এবং বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়েছেন, তাঁদের অবস্থা কী? – আহত এবং অসুস্থরা কি পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন?

– ঘটনার অন্তরালে অন্য কোনো ঘটনা নেই তো? – পরিকল্পিত না স্বতঃস্ফূর্ত? ‌- ঠিক আজই এখনই কেন এই বিদ্রোহ? ‌- তিন বছর বা ছয় মাস আগে নয় কেন? – এটি অন্য কোনো ঘটনা থেকে জনতার মনোযোগ সরানোর প্রয়াস নয় তো (দেশ যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা ভাবছে)?

– ‘৭৫-এ এমনই এক সিপাহি বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাধারণ সিপাহিদের বঞ্চনাকে সামনে তুলে ধরে, যা পরবর্তীকালে জেনারেল জিয়ার উত্থান, কর্নেল তাহের এবং মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল; তেমন কিছুরই পুনরাবৃত্তি হবে না তো?

– যেসব বিডিআর সদস্যকে ঘটনার জন্য ঢালাও সাধারণভাবে ক্ষমা করেছে সরকার, সেটি (সাধারণ ক্ষমা) ভবিষ্যতে ঠিকভাবে মানা হবে তো? নাকি ঘটনা কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলেই তারা সম্মুখীন হবেন প্রতিশোধমূলক হয়রানি এবং নির্যাতনের? – সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা ছাড়া অন্য কি কি বিকল্প পথ খোলা ছিল পরিস্থিতির দ্রুত নিরসন এবং জানমাল রক্ষার স্বার্থে? – সাধারণ ক্ষমার এই ঘোষণা কি দীর্ঘমেয়াদি অর্থে কোনো নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো? – ‘সাধারণ ক্ষমা’র ঘোষণা কি শুরু থেকেই শর্ত সাপেক্ষ (যেমন: নিঃশর্ত ক্ষমা কেবল তখনই করা হবে যদি বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সকল জিম্মিকে মুক্তি দিয়ে আত্মসমর্পন করা হয়) করা উচিত ছিল?

– ইতোমধ্যেই কয়েকজন সামরিক অফিসারের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে; সে পরিপ্রেক্ষিতে সশস্ত্র বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা সাধারণ ক্ষমার এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখছেন? – সরকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই সুবিচার প্রাপ্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। এর ফলে নতুন ক্ষোভের জন্ম হওয়ার আশংকা (কারণ, নিহত, লাঞ্ছিত অনেকেরই বন্ধু ও পরিবারবর্গ রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীতে) রয়েছে। কিভাবে সেই ক্ষোভকে স্বার্থান্বেষী মহল ব্যবহার করতে পারে অদূর ভবিষ্যতে? – ‘৭৫ এ কতিপয় জুনিয়র অফিসার (যেমন: ডালিম) এর বিচার না পাওয়া প্রসূত ক্ষোভকে পূঁজি করেছিল উচ্চাভিলাষী এবং স্বার্থান্বেষী এক মহল। সে ঘটনার জের ধরে পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের জীবন দিতে হয়েছিল; ঘটনার ধারাবাহিকতায় আরও পরে জীবন দিতে হয়েছিল জাতীয় চার নেতাকে। সে ধরণের কোন ঘটনার পনরাবৃত্তিরই পট কি প্রস্তুত হচ্ছে ধীরে ধীরে?

– সরকার ঠিক কীভাবে এই ঘটনার মোকাবিলা করছে? – সব সময় শুধু আওয়ামী লীগ সরকারে থাকা অবস্থায়ই কেন এ ধরণের সিপাহী বিদ্রোহ/অস্থিরতার ঘটনা ঘটে থাকে? – বিরোধী দল (বিএনপি জামাত) সমর্থিত মিডিয়া এ ঘটনায় কাদেরকে এবং তার চেয়েও জরুরি ঠিক কী ভাষায় সমর্থন দিচ্ছে?

– গত আওয়ামী সরকারের সময় বিডিআর সদস্যদের একাংশ অনুমতির বাইরে গিয়ে হঠাৎ করে দানা বাধিয়ে তুলেছিল ভারতের সাথে সীমান্ত সংঘাত, যার পরিণতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল এবং দেশের ভেতরও রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল – সে-ঘটনার নায়কদের কি চিহ্নিত করা গিয়েছিল? কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে?

– বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানদের ভূমিকা বিষয়ে এই বিদ্রোহ নতুন কি সত্য উম্মোচন করে? – সেনা বাহিনী, RAB-এর একাংশ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সরাসরি মদদ ছাড়া কি অভিযোগকৃত এই “অপারেশন ডালভাত” দুর্নীতি আদৌ সম্ভব? – সেসবের তদন্ত কবে হবে? ‌- সকালবেলা হঠাৎ করে বিডিআর ক্যাম্প থেকে সাধারণ পথচারীদের ওপর বিনা উস্কানিতে গুলিবর্ষণ করেছে ঠিক কারা? – বিডিআর সদস্যদের বঞ্চনা নিরসনের যে আশ্বাস সরকার দিয়েছে, তা কি আসলে মানা হবে? – বিডিআর সদস্যরা সশস্ত্র বাহিনীতে বিদ্যমান যে বৈষম্যের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আজ সোচ্চার হলেন, তা কি প্রচলিত ব্যবস্থায় আদৌ পরিবর্তন করা সম্ভব? পরিবর্তনের যে-কোনো চেষ্টাকে সশস্ত্র বাহিনীর কায়েমি অংশ কীভাবে গ্রহণ করবেন বলে মনে হয়? – এতদিনকার বৈষম্য ও নির্যাতনের এই সংস্কৃতিকে সশস্ত্র বাহিনীর যে-অংশটি টিকিয়ে রেখেছিল এবং এর ফল ভোগ করছিল, তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ব্যবস্থা নেয়া হবে? আদৌ হবে কি? আমরা কি কিছু জানতে পারবো?

– স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই বিডিআর প্রতিনিধিদের সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের এক বৈঠকে বিডিআর সদস্যরা আজ যেসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন তারই অনেকগুলো তুলে ধরেছিলেন; সে পরিপ্রেক্ষিতে বিডিআর-এর নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক একদল সেনা কর্মকর্তাকে (যাদের একজন মঈন উ আহমেদ) বিডিআর-এর জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল – সেই পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগের পরবর্তীকালে কী হয়েছে? – বিডিআর ছাড়াও আনসার, পুলিশ, এবং সাধারণ সেনা সদস্যদের মধ্যেও এরকম একই ধরণের বঞ্চনার অভিযোগ রয়েছে কিনা? – যদি থেকে থাকে, তাহলে সেসব অভিযোগ বিদ্যমান “চেইন অব কমান্ডের” বাইরে থেকে রাজনৈতিক সরকারের কাছে তুলে ধরার কোন্র প্রক্রিয়া রয়েছে কি? – না থেকে থাকলে তা কীভাবে তৈরি করা যেতে পারে?

– আজ বিডিআর সদস্যদের বিদ্রোহ, কাল কাদের? – বিভিন্ন অভিযোগ এবং ক্ষোভ অগ্রিমভাবে মোকাবিলায় রাজনৈতিক সরকারের পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত? – পরিস্থিতি স্তিমিত হয়ে এলে সংশ্লিষ্ট পূর্বাপর সমস্ত ঘটনার এবং অভিযোগসমূহের (দুর্নীতি, বঞ্চনা, হত্যাকান্ড, নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর নিপীড়ন) তদন্তের জন্য বহুদলীয় সংসদীয় তদন্ত হওয়া কতটা জরুরি বলে ভাবছি আমরা? –

– হতাহত, নিখোঁজ, নির্যাতিত এবং লাঞ্ছিতদের পূর্ণ তালিকা তৈরী শেষ হবে কখন? সেটি জনগণের সামনে পেশ করা হবে কখন? আদৌ হবে কি?

রায়হান রশিদ

জন্ম চট্টগ্রাম শহরে। পড়াশোনা চট্টগ্রাম, নটিংহ্যাম, এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমান আবাস যুক্তরাজ্য। ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধসমূহের বিচার প্রক্রিয়াকে সহায়তা প্রদান, এবং ১৯৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের দাবীতে সক্রিয় নেটওয়ার্ক 'ইনটারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম' (ICSF) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি।

26
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
অবিশ্রুত
সদস্য

সবশেষ খবর অনুযায়ী, বিডিআর সদস্যরা অস্ত্র সমর্পন করতে শুরু করেছে। কিন্তু এখানেই কি এ ঘটনা শেষ হয়ে যাবে? এই ঘটনা সামরিক বাহিনী ও বিডিআর-এর মধ্যে যে নীরব দ্বন্দ্ব ছিল তাকে আরও সুস্পষ্ট করল। কেউ কেউ একে ক্লাস স্ট্রাগলও ভাবছেন! তবে সাধারণ জওয়ানদের অসন্তোষকে পুঁজি করলেও বিডিআর-এর উচ্চপদগুলিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে নিযুক্ত করাটাও এই বিদ্রোহ-পরিকল্পনার মূল কারণ হতে পারে; অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করাও মূল কারণ হতে পারে,- যাতে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের অসন্তোষকে পুঁজি করা হয়েছে। অবশ্য এটি একটি যুক্তিসঙ্গত দাবি, কেননা বিডিআর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আর সামরিক বাহিনী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তাই পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হলে এ ধরণের প্রেষণ বন্ধ করা দরকার।… বাকিটুকু পড়ুন »

anon
অতিথি
anon

এই রাত অনেক দীর্ঘ হতে যাচ্ছে। কিছু অসমর্থিত খবর: ১) সুশান্ত (আমারব্লগ) বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে সর্বশেষ খবর হলো এই যে রেডক্রিসেন্ট এর গাড়িতে করে সেনা বাহিনীর গোয়েন্দা দল চুপিসারে বিডিআর এর সদর দপ্তর এরিয়া ঘুরে এসেছে। বিডিআর এর সাথে কিছু আর্মি জোয়ান ও যোগ দিয়েছে বিদ্রোহে। বিডিআর একা করে নাই এই বিদ্রোহ। তবে অনেক আর্মি অফিসার ও তাদের পরিবার পরিজন কে মারা হয়েছে। অনেক কেই আগুনে পুড়ে মেরেছে। এমনাবস্থায় আর্মি অফিসার রা কতোটুকু মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সেটাই দেখার বিষয়। ২. ক্যাডেট কলেজ ব্লগ ক. সানাউল্লাহ (৭৪ – ৮০) সানাউল্লাহ (৭৪ – ৮০) বলেছেনঃ ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০০৯ @ ১:৪০… বাকিটুকু পড়ুন »

সৈকত আচার্য
সদস্য

আমার মনে হয় সরকারের পক্ষ থেকে মহাজোটের সাথে এবং জোটের বাইরে প্রগতিশীল অন্যন্য শক্তি ও সংস্থার সাথে এখনই বসে বিষয়টিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে কিছু তড়িৎ পদক্ষেপ নেয়া দরকার। কারন এখন অনেকগুলো বিষয় অষ্পষ্ট ও ধোঁয়াটে। এই সুযোগে গুজব তৈরী হয়। গুজব তৈরী হলে বিডিআরে যারা একতরফা সামরিকায়ন চায় তাদের সুবিধা হয়। তারা ঘোলা পানিতে শিকারটা করে নিতে পারে। কয়েকটা পত্রিকা ইতিমধ্যে সেই উস্কানির পথে পা বাড়িয়েছে। ফলে কিছু বিষয় এই মুহুর্তে জরুরী, যেমনঃ ১। কি হচ্ছে ওখানে এবং সরকারের অবস্থান কি এ বিষয়ে সকাল-বিকাল প্রেসকে অবহিত করা। যাতে করে সাধারন মানুষ বিষয়টির আপডেট জানতে পারে এবং বিষয়টি নিয়ে… বাকিটুকু পড়ুন »

অবিশ্রুত
সদস্য

আজিমপুর সরকারী কলোনী থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর ট্যাংক পিলখানার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাসায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এবং প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণে অস্ত্র সমর্পণ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
এসবই তাৎপর্যপূর্ণ খবর।
ভয়াবহ রক্তপাত দেখার জন্যে অপেক্ষা কী যে ভয়াবহ!

ডোবার ব্যাং
অতিথি
ডোবার ব্যাং

ঔপনিবেশিক ধাচের প্রভু-ভৃত্য আন্তসম্পর্কের সশস্ত্র (বা প্যারা মিলিটারী) বাহিনীর প্রয়োজনহীনতা এবং এর ক্ষতিকর ও গণবিরোধী দিকগুলোর বিরুদ্ধে কর্নেল তাহেরের ধারাবাহিক চিন্তা ও সক্রিয়তাগুলো যে এখনো প্রাসঙ্গিক তাই প্রমাণ করে গেলো প্রায় ঈশ্বরের সমান ক্ষমতা ও স্বেচ্ছাচারীতা ভোগ করতে থাকা উচ্চপদস্থ সামরিক অফিসারদের বিরুদ্ধে সাধারণ জওয়ানদের (যাদের প্রায় সবাই দেশের দরিদ্র কৃষক-শ্রমিক-খেটে খাওয়া মানুষদের সন্তান) এই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া (অসঙ্গঠিত ও অসম) অকুতোভয় প্রতিরোধ…

সিপাহী-জনতা ভাই ভাই…
কর্নেল তাহের লাল সালাম…

tinos
সদস্য

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় এখানকার প্রতিটি মতামত ও তথ্যকে মডারেট এবং সম্পাদনা করা হবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুতে আলোচনায় সংযম ও সুবিবেচনা একান্তই প্রয়োজন।
ধন্যবাদ।

অবিশ্রুত
সদস্য

– ‘৭৫-এ এমনই এক সিপাহি বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাধারণ সিপাহিদের বঞ্চনাকে সামনে তুলে ধরে, যা পরবর্তীকালে চার নেতাকে হত্যা, জেনারেল জিয়ার উত্থান, কর্নেল তাহের এবং মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল

দ্রুততার কারণে রায়হান রশিদের হয়তো একটু ভুল হয়েছে, কেননা তিন নভেম্বরের পর চার নেতা হত্যার ঘটনার ডামাডোলের মধ্যে দিয়ে সাতই নভেম্বরের ঘটনা ঘটেছিল; সিপাহী বিপ্লবের কারণে চার নেতা হত্যার ঘটনা ঘটেনি।

ডোবার ব্যাং
অতিথি
ডোবার ব্যাং

আমি দুঃখিত। আমার কথাটার (সম্ভবত অতি সংক্ষেপে বলার ফলে অন্যভাবে বুঝে নেয়ার বাস্তবতা তৈরি হয়েছে) ব্যাখ্যা এরকম না…আমি বলিনি যে এটা শ্রেণী সংগ্রাম…আমার আঙ্গুলটা পুরো অন্যদিকে…আমি বলেছি ঔপনিবেশিক ধাচের প্রভু-ভৃত্য আন্তসম্পর্কের সশস্ত্র (বা প্যারা মিলিটারী) বাহিনীর প্রয়োজনহীনতা এবং এর ক্ষতিকর ও গণবিরোধী দিকগুলো প্রসঙ্গে… সচরাচর তাহেরকে ৭ নভেম্বর বিষয়ক ঘটনাপঞ্জী দিয়ে দেখা হয়…মূলত তাহের জরুরি হলেন তার সেনাবাহিনী বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি ও তা সফল প্রয়োগের উদাহরণ সৃষ্টির কারণে… সশস্ত্র গণযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেয়া একটা স্বাধীন দেশে সেনাবাহিনীর কাঠামো কিম্বা তাদের কর্মপদ্ধতি কেমন হবে? তাহের যখন কুমিল্লা সেনানিবাসে ছিলেন তখন তিনি গণসম্পৃক্ততা ও উতপাদনমুখীনতার কিছু কিছু চর্চা শুরু করেন…মূলত সেই কারণেই এক… বাকিটুকু পড়ুন »

নীড় সন্ধানী
সদস্য

সবকিছুতে শ্রেনীসংগ্রাম তত্ত্বের লেবেল এটে দেয়ার প্রবনতার সাথে জামাতের ইসলাম বানিজ্যের কোন পার্থক্য পাই না আমি। এটা আমাদের দেশের তাত্ত্বিক বামদের বড় একটা দুর্বলতা এবং দৃষ্টিভঙ্গীর সংকীর্নতা। মানবিক ব্যাপারে কোন লেবেল না লাগিয়ে বললে বক্তব্য বুঝতে সহজ হয়। কমেন্টের শুরুতে এরকম বিরুদ্ধ কথা বলতে হল বলে দুঃখিত। আজ আমরা যে ঘটনার মুখোমুখি, তা কী কোন মহাঝড়ের পূর্বাভাষ নাকি নিজেই ঝড় ছিল, তা ভবিষ্যতই বিচার করবে। সেনাবাহিনী দেশপ্রেমিক বা দুর্নীতিবাজ যাই হোক, তারা দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। তাদেরকে যারা আঘাত করার সাহস করেছে, তাদের কী সাধারন বিপ্লবী মনে হয়? যেসব শ্লোগান আমরা শুনেছি মুখবাধা সৈনিকদের কাছ থেকে টিভি পর্দায়, তাদের ক্ষোভের… বাকিটুকু পড়ুন »

অলকেশ
অতিথি
অলকেশ

নীড় সন্ধানীর এই মন্তব্যটা ভীষন তাৎপর্যপূর্ন মনে হলোঃ কারা কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত? শুধুই বিডিআর জওয়ান? সেনা অফিসারদের কেউ কী জড়িত থাকতে পারে না যারা ভিন্ন বিশ্বাসে লালিত? বাংলাদেশের জন্মে যারা অবিশ্বাস করে, তেমন মোনাফেক সেনা অফিসার কী নেই? কতজন তারা? কারা সেই অফিসার যাদের জন্য বাংলাদেশের কোন সেনানিবাসে সকল প্রগতিশীল প্রত্রিকার প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল? এই চক্রান্তের শিকড় আরো কত গভীরে লুকিয়ে আছে। কারন, সাহসিকতা থাকলেই এত বড় মাপের ঘটনা ঘটনা ঘটিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। এর সাথে যুক্ত আছে নিঃখুত পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়ন করার আর্থিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক ও সামরিক এক্সপার্টিজ। পুরো ঘটনাটা ঘটিয়ে, বাইরের রাজনৈতিক চাপ সামলে… বাকিটুকু পড়ুন »

trackback

[…] বিডিআর বিদ্রোহ — কী কারণে? কারা? ঠিক এখনই কেন?»মন্তব্যে~নীড় সন্ধানী […]

trackback

[…] অন্যান্য পোস্ট: –চিন্তাঝড় ১: বিডিআর বিদ্রোহ — প্রথম প্র… –চিন্তাঝড় ২ : পিলখানা গণহত্যা‌‌ — […]

নিরাভরণ
সদস্য
নিরাভরণ

– ঠিক আজই এখনই কেন এই বিদ্রোহ? ‌- তিন বছর বা ছয় মাস আগে নয় কেন? আমার মতে এই পোস্টের মূল প্রশ্ন এটাই। এটার সাথে আরেকটা প্রশ্ন যোগ করতে চাই। যেটা কিছুদিন আগে কিছুটা ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে মনে এসেছিল। তখন সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ‘মাইনাস টু’ বাস্তবায়নের জন্য নানা ধরনের তৎপরতা চলছে মুলত সামরিক তত্ত্বাবধানে। বেশকিছু ডাকসাইটে নেতাদের স্বিকারোক্তি প্রকাশিত হচ্ছিল পত্রিকায়, ইউটিউবে। স্বভাবতই সহজ আড্ডালাপে এধরনের কঠিন স্বিকারোক্তি (সত্য মিথ্যে যাই হোক) বেরিয়ে আসেনি। মানে কিছু শারিরীক মানসিন নির্যাতনের ছবিও কল্পনা করা কঠিন ছিলোনা। একজন সাধারন নাগরিক হিসাবে একটা আশঙ্কা জাগছিল মনে, যদি মাইনাস টু কাজ না করে… বাকিটুকু পড়ুন »

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.